ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি: মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির হত্যা মামলার রহস্য উম্মোচন করেছে তদন্তকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার দুপুরে এই রহস্য গণমাধ্যমকে জানাতে পারেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুনি শনাক্ত করার ব্যাপারে আশাবাদী তদন্ত কর্মকর্তারা। তারা এই হত্যার সম্ভাব্য তিনটি কারণ বিশ্লেষণ করে এবং বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা শেষে তদন্তকারীরা সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। খুনের রহস্য গণমাধ্যমে কী উপায়ে উপস্থাপন করা হবে তা নিয়ে রোববার রাতে আলোচনা করেছেন শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোবাবার বিকেলে শেরে বাংলানগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জোরালোভাবেই জানিয়েছেন, এরই মধ্যে খুনি শনাক্ত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
অসমর্থিত সূত্রের খবর, হত্যাকারীরাও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট এবং তারা ইতিমধ্যেই আটক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধারের পর গত শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন সংস্থার পাঁচটি দল রহস্য উদ্ঘাটনে একযোগে কাজ করছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি ও র্যাবের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতির কথা দাবি করা হলেও এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলতে রাজি হননি কর্মকর্তারা। তবে সোমবার দুপুর ১টায় পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার। তিনি সেখানে এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তিন কারণে খুন
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোনো দস্যুতা বা ডাকাতি নয়। পরিচিতজনরাই তাদের খুন করেছে। রুনি ও সাগর কিছু সময়ের ব্যবধানে আগে ও পরে খুন হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক বিরোধ ও পেশাগত বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করছে থানার পুলিশ ও গোয়েন্দারা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত বিষয়, পারিবারিক বিরোধ ও পেশাগত বিরোধ-এ তিনটি বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে।
খুনি রুনির ঘনিষ্ঠ
মামলা এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, হত্যাকারীরা রুনি বা তার পরিবারের পক্ষের পরিচিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই বাসায় রুনি তাদের খেতে দিয়েছেন বলে শিশু মেঘের বর্ণনায় তথ্য পাওয়া গেছে। রাত ২টার দিকে সাগর বাসায় ঢোকার আগে থেকেই এক বা একাধিক ব্যক্তি তাদের বাসায় ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ব্যক্তি রুনির পরিচিত হতে পারে।
পারিবারিক পর্যায়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আবার খুনিদের সঙ্গে রুনি বা সাগরের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া পেশাগত বিরোধের বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
সাগরকে খুনের সময় বাধা দেয় রুনি
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, একই সঙ্গেই খুন করা হয় রুনি ও সাগরকে। পরে আলামত দেখে মনে হয়েছে, সাগরকে খুন করার সময় রুনি এগিয়ে গেলে তার পেটে দুটি আঘাত করে ঘাতকরা।
সাগরের হাত-পা বাঁধা এবং শরীরে ২৫টি জখম থাকলেও রুনির রয়েছে মাত্র দুটি। তবে প্রাথমিক তদন্তে রুনি আগে খুন হয়েছেন বলেও ধারণা করা হয়েছিল। কারণ লাশ উদ্ধারের সময় রুনির শরীর (ঘাড়) শক্ত ছিল। রক্তও জমাট বাঁধা ছিল। আর সাগরের শরীর তুলনামূলক নরম ও রক্ত পাতলা ছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগভাবে সাগরের শত্রু নেই বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাই ঘটনাটি তদন্তে বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ খুনিরা সাগরের ওপরই বেশি ক্ষুব্ধ ছিল বলে মনে হয়েছে। তাকে বেঁধে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই বিরোধ কোনো একটি তাৎক্ষণিক ঘটনা নিয়ে সৃষ্টি হতে পারে।
দিনের আলো ফোটার পর বের হয় খুনিরা
হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই সাগরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হতে পারে। সাগরের পিঠে আটটি বড় জখম ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পালাতে চেয়েছিলেন প্রথমে। পরে তাকে বাঁধা হয়। অনেক সময় ধরে হত্যা করা হয় সাগরকে। হত্যাকারী বা বাইরে থেকে আগত ব্যক্তিরা ফজরের আজান শেষে আলো ফোটার পর বাসা থেকে বের হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তিন পিকনিকের ভিডিও
মেঘের দেয়া তথ্যমতে খুনিদেরকে পিকনিকে সে দেখেছিল। খুনের দিন শুক্রবার নিজের স্কুলের একটি পিকনিকে যায় সে। কিন্তু এর আগে সাংবাদিকদের দুটি পিকনিকেও সে গিয়েছিল। এ কারণে ওই তিন পিকনিকেরই ভিডিও তাকে দেখানো হয়েছে।
অসুস্থ হয়ে পড়ে মেঘ
রোববার সকালে পুলিশ কর্মকর্তারা পশ্চিম রাজাবাজারের নিজস্ব বাসা থেকে রুনির স্বজনদের সাগর ও রুনির বাসায় নিয়ে যান। সেখানে সকাল ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত প্রত্যেককে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রুনি ও সাগরের ছয় বছরের শিশুপুত্র মাহির সরওয়ার মেঘ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্বজনদের সঙ্গে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে
রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান রোববার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি রেকর্ড করেন। মামলার বাদী রোমান একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা বিভাগের প্রযোজক হিসেবে কর্মরত। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৩। এই মামলায় আসামির নাম এবং সংখ্যার বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। এ ছাড়া সন্দেহজনক বলেও কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এজাহারে বাদী নিজের ও নিহতদের পরিচয় দিয়ে উল্লেখ করেছেন, “গত ১১ তারিখ সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় আমার ছোট ভাই নওয়াজিশ আলম রিপন (২১) মোবাইল সংযোগ নম্বর ০১৭৩১৪০২৮০৮-এর মাধ্যমে আমার মোবাইল সংযোগ নম্বর ০১৭৩০৭০১৩৯৮-তে ফোন করিয়া জানায় যে, আমার বোন মেহেরুন রুনি (৩৩) ও আমার ভগ্নিপতি সাগর সরওয়ার (৩৬) তাহাদের উক্ত ভাড়াটিয়া বাসায় খুন হইয়াছে। সংবাদপ্রাপ্ত হইয়া আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া তাহাদের বেডরুমে আমার বোন ও ভগ্নিপতির মৃতদেহ মেঝেতে দেখিতে পাই। আমার মাতা নূরুন্নাহার মির্জাসহ আমার ছোট ভাই নওয়াজিশ আলম রিপনের মাধ্যমে জানিতে পারি যে, আমাদের ভাগিনা মাহির সরওয়ার মেঘ (৫) সকাল অনুমান ৭টা ৩০ ঘটিকার সময় মোবাইল সংযোগ নম্বর ০১৭৫৪৫৪৪০৬৫ হইতে আমার মাতার মোবাইল সংযোগ নম্বর…-এ ফোন করিয়া বলে, আমার মিম্মি ও বাবা মারা গেছে। সংবাদ পাইয়া আমার মা ও ছোট ভাই অনুমান সকাল ৭টা ৪০ ঘটিকায় উক্ত বাসায় আসিয়া ঘটনা প্রত্যক্ষ করিয়া আমাকে ফোন দেয়। আমার ভগ্নিপতির প্রতিষ্ঠানের ড্রাইভার ও অ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ানের মাধ্যমে জানিতে পারি, আমার ভগ্নিপতি ১০-২-২০১২ দিবাগত রাত্র অর্থাৎ ১১-২-২০১২ রাত্র ১টা ৩০ ঘটিকায় তাহার অফিসের কার্যক্রম শেষ করিয়া প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে করিয়া রাত্র ২ ঘটিকায় উক্ত ভাড়াটিয়া বাসায় যায়। ১১-২-২০১২ তারিখ রাত্র অনুমানিক ২ ঘটিকা হইতে সকাল ৭টা ৩০ ঘটিকার মধ্যে যেকোনো সময় আমার বোন ও ভগ্নিপতিকে হত্যা করা হইয়াছে বলিয়া আমরা ধারণা করিতেছি। আমার বোনের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত, ভগ্নিপতিকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অসংখ্য ছুরিকাঘাত দেখিতে পাওয়া যায়। আমাদের ধারণা হইতেছে, অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীরা আমার বোন ও ভগ্নিপতিকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করিয়া হত্যা করিয়া পালাইয়া গিয়াছে। ঘটনার আকস্মিকতায় বিহ্বল, এ নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্ত ও আমার বোন এবং ভগ্নিপতির দাফনকার্য নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এজাহার দাখিল করতে বিলম্ব হইল।”
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।