somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিবা স্বপ্ন ...

৩১ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিলে চমকানো ব্জ্রপাতে নিদ্রা ভঙ্গ হইলে হৃদযন্ত্র ধর্‌ফড়্‌ করিতে থাকিলে ঘড়ির কাঁটা ক্ষনিকের লাগি থমকাইয়া যায়, আর চোখের পাতা কচ্‌লান খান্ত হইলে, সবার আগে মনের কিনারে যাহা ভাবোদয় হয় তাহা হইল, স্বপ্ন ভঙ্গ। কিঞ্চিত বাড়াইয়া বলায় আবেগ সমেত দুঃখ প্রকাশ করিলুম। বস্তুত, স্বপ্ন ভঙ্গের লাগি বজ্রপতন আবশ্যক নহে!! পিপিলীকার দংশনেও স্বপ্ন ভঙ্গ হইতে পারে। এমনকি ভুতের হাটাহাটিতেও অনেকের লাল-নীল স্বপ্ন ভঙ্গ হইয়া থাকে।

একদা বৈকালন্যে বাদাম চিবাইতে চিবাইতে উদাস ভাবখানা লোকজনকে দেখাইতে লাগিলাম... বিনিময়ে তাহাদের মুখমন্ডলের ভাবগুলিও পর্যালোচনা করছিলুম। এই ক্ষনে ত্রিচক্রযান হইতে নামিলো এক রমনী। সৈয়দ মুজ্‌তবা আলীর পুস্তকে পড়িয়াছিলাম, দূর মালঞ্ছ দেশের গল্প, যেখানে পর্বতের সীমানা হইল আস্‌মানের শুরু। এমন রমনীকে নীলাঞ্জনা ভাবিতে আমি কর্পণ্য করিলামনা। আমি এক কোনায় খাড়াইলাম, আর ওই রমনীর আঁখীতে সেই আস্‌মান খুজিতে প্রস্তুত হইলাম।

মার্টিনা হিঙ্গিস এক প্রকার গোলাকার বস্তু লইয়া মাঠের মাঝে চৌকশ কশ্‌রত প্রদর্শণ করিয়া ক্রিড়াংগনে খ্যাতিমান হইয়াছিলেন। রমনী আমার দিকে ঘুরিয়া দাড়াইতেই দেখি, তাহার নাকের ডগায় সেই গোলাকার বস্তু আকৃতির এক খানা কালো চশ্‌মা সোভা পাইতেছে!! নীলাঞ্জনার আঁখিতে কি হারাইবো, মার্টিনা হিঙ্গিসের কথা মনে পড়িয়া গেলো। পবিত্র গাভী!!! প্রাথমিক স্বপ্ন ভঙ্গ হইল। ব্যাপার নাহ, পুনারায় স্বপ্ন জোড়াতালি দিয়া অন্য কোন এক লেখকের উক্তি আউড়াইতে লাগিলাম মনে মনে।

আমার পাশেই এক শিশু খাড়াইয়া ছিলো। আমার বিজ্ঞ পোকা কইয়াছিলো এইরুপ শিশুকে নিরাশ করিতে নাই, বাদাম কিনার দরুন, এক টাকার একখানা খুচ্‌রা পয়সা ছিলো, যেইটা এক্ষনে ওই শিশুর তেল চিট্‌চিট্‌ ময়লা থলেতে শোভা পাইতেছিলো। রমনীকে আমি দেখিতেছিলাম কাব্যিক চাহনিতে, আমার বিজ্ঞ পোকা এখনো তাহার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করিলনা, কারণ, সেও আমার মতই ওই রমনীর দিবা স্বপ্নতে বিভোর! গুটি গুটি পায়ে শিশুটি দিবা স্বপ্নের জননীর নিকট গিয়া, তাহার একান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করিলো। আহা, আমিও যদি আমার একান্ত ইচ্ছা তাহার নিকট প্রকাশ করিতে পার্‌তুম!!

রমনীর হাতে বাদামের পোট্‌লা ছিলনা, তাই হয়তো নাবালকটিকে সে হতাশ করিলো। কোথায় জানি পড়িয়াছিলাম, সাফল্য হইল ইচ্ছা শক্তির আকার, যাহার ইচ্ছাশক্তির আকার যত বড়, তাহার তত বড় সাফল্য। সরু কথায়, আঠার মত লাগিয়া থাকাই সাফল্যের বাহক। শিশুটি আঠার মতই রমনীর পিছু লাগিয়া রইলো। শিশুর এমন আচরনে আমার আর বিজ্ঞ পোকার দিবা স্বপ্নে কিঞ্চিত ব্যাঘাত ঘটিলো, ভুরু কুঞ্চিতো হইলো। মনের কোনায় ওই শিশুটির জন্যে যাহা জন্মাইলো, তাহা প্রকাশ করিলাম না, তবে কেউ কাউকে সুঁচ্‌ ফুটাইয়া দিলে মনে যেরুপ ভাবের উদয় হয়, ব্যাপারটা এইরুপ!! শিশুটার উত্‌পাত্‌ ক্রমশ বাড়িতে থাকিলো! রমনীর করুন দশায় আমি আহত হইলাম!

রমনী এহেন সময়ে অভাবনীয় এক কান্ড ঘটাইলো! মাঝারী আকারের এক খানা ধাক্কা!!! এটা সামলাইতে না পারিয়া শিশুটি লুটাইলো মাটিতে। আমার দেয়া সেই পয়সা খানা থলে হইতে গড়াইয়া আমার পাদ দেশে আসিয়া থামিলো। রমনীর চশ্‌মা এতক্ষনে নাকের ডগা হইতে হাতে নামিলো। তাহার আঁখি দর্শণ হইলো। আহা! নীলাঞ্জণার নীল আস্‌মানে হারানোর কথা ছিলো, কিন্তু হারাইলাম লুটাইয়া পড়া আহত পাখিটির কাতর চোখে, শিশুটি খাড়াইয়া দাড়াইলো। কুড়াইয়া লইলো তাহার ছুটিয়া যাওয়া পয়সা খানি! শিশুটির ইচ্ছাশক্তির পতন হইলো, আর আমার ভাঙ্গিলো দিবা স্বপ্ন! গুটি গুটি পায়ে সে প্রস্থাণ করিলো! রমনীও তাহার আপন পথে আগ্রসর হইলো। আমার চাহনী এখন গমনরত আহত প্রাণটির মেরুদন্ডের দিকে। বিজ্ঞ পোকা কইলো, এই মেরুদন্ড বাস্তবতার দন্ড, এটা বাস্তবতা। আমি কইলাম, "তাহা হইলে সেই রমানী??" পোকা কইলো, "ওইটা দিবা স্বপ্ন"।

এই দিবা স্বপ্ন ভঙ্গের লাগি ব্জ্রপাত হয়নাই! আমার বাদামের থলে তখন বিষের গোটার থলে হইয়া গেলো। পোকা কইলো, "থলেটা ফালাইয়া দাও"। এই প্রথম পোকার কথাটা আমার মনে ধরিলো, থলেটা ছুড়িয়া ফালাইয়া দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×