একদা বৈকালন্যে বাদাম চিবাইতে চিবাইতে উদাস ভাবখানা লোকজনকে দেখাইতে লাগিলাম... বিনিময়ে তাহাদের মুখমন্ডলের ভাবগুলিও পর্যালোচনা করছিলুম। এই ক্ষনে ত্রিচক্রযান হইতে নামিলো এক রমনী। সৈয়দ মুজ্তবা আলীর পুস্তকে পড়িয়াছিলাম, দূর মালঞ্ছ দেশের গল্প, যেখানে পর্বতের সীমানা হইল আস্মানের শুরু। এমন রমনীকে নীলাঞ্জনা ভাবিতে আমি কর্পণ্য করিলামনা। আমি এক কোনায় খাড়াইলাম, আর ওই রমনীর আঁখীতে সেই আস্মান খুজিতে প্রস্তুত হইলাম।
মার্টিনা হিঙ্গিস এক প্রকার গোলাকার বস্তু লইয়া মাঠের মাঝে চৌকশ কশ্রত প্রদর্শণ করিয়া ক্রিড়াংগনে খ্যাতিমান হইয়াছিলেন। রমনী আমার দিকে ঘুরিয়া দাড়াইতেই দেখি, তাহার নাকের ডগায় সেই গোলাকার বস্তু আকৃতির এক খানা কালো চশ্মা সোভা পাইতেছে!! নীলাঞ্জনার আঁখিতে কি হারাইবো, মার্টিনা হিঙ্গিসের কথা মনে পড়িয়া গেলো। পবিত্র গাভী!!! প্রাথমিক স্বপ্ন ভঙ্গ হইল। ব্যাপার নাহ, পুনারায় স্বপ্ন জোড়াতালি দিয়া অন্য কোন এক লেখকের উক্তি আউড়াইতে লাগিলাম মনে মনে।
আমার পাশেই এক শিশু খাড়াইয়া ছিলো। আমার বিজ্ঞ পোকা কইয়াছিলো এইরুপ শিশুকে নিরাশ করিতে নাই, বাদাম কিনার দরুন, এক টাকার একখানা খুচ্রা পয়সা ছিলো, যেইটা এক্ষনে ওই শিশুর তেল চিট্চিট্ ময়লা থলেতে শোভা পাইতেছিলো। রমনীকে আমি দেখিতেছিলাম কাব্যিক চাহনিতে, আমার বিজ্ঞ পোকা এখনো তাহার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করিলনা, কারণ, সেও আমার মতই ওই রমনীর দিবা স্বপ্নতে বিভোর! গুটি গুটি পায়ে শিশুটি দিবা স্বপ্নের জননীর নিকট গিয়া, তাহার একান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করিলো। আহা, আমিও যদি আমার একান্ত ইচ্ছা তাহার নিকট প্রকাশ করিতে পার্তুম!!
রমনীর হাতে বাদামের পোট্লা ছিলনা, তাই হয়তো নাবালকটিকে সে হতাশ করিলো। কোথায় জানি পড়িয়াছিলাম, সাফল্য হইল ইচ্ছা শক্তির আকার, যাহার ইচ্ছাশক্তির আকার যত বড়, তাহার তত বড় সাফল্য। সরু কথায়, আঠার মত লাগিয়া থাকাই সাফল্যের বাহক। শিশুটি আঠার মতই রমনীর পিছু লাগিয়া রইলো। শিশুর এমন আচরনে আমার আর বিজ্ঞ পোকার দিবা স্বপ্নে কিঞ্চিত ব্যাঘাত ঘটিলো, ভুরু কুঞ্চিতো হইলো। মনের কোনায় ওই শিশুটির জন্যে যাহা জন্মাইলো, তাহা প্রকাশ করিলাম না, তবে কেউ কাউকে সুঁচ্ ফুটাইয়া দিলে মনে যেরুপ ভাবের উদয় হয়, ব্যাপারটা এইরুপ!! শিশুটার উত্পাত্ ক্রমশ বাড়িতে থাকিলো! রমনীর করুন দশায় আমি আহত হইলাম!
রমনী এহেন সময়ে অভাবনীয় এক কান্ড ঘটাইলো! মাঝারী আকারের এক খানা ধাক্কা!!! এটা সামলাইতে না পারিয়া শিশুটি লুটাইলো মাটিতে। আমার দেয়া সেই পয়সা খানা থলে হইতে গড়াইয়া আমার পাদ দেশে আসিয়া থামিলো। রমনীর চশ্মা এতক্ষনে নাকের ডগা হইতে হাতে নামিলো। তাহার আঁখি দর্শণ হইলো। আহা! নীলাঞ্জণার নীল আস্মানে হারানোর কথা ছিলো, কিন্তু হারাইলাম লুটাইয়া পড়া আহত পাখিটির কাতর চোখে, শিশুটি খাড়াইয়া দাড়াইলো। কুড়াইয়া লইলো তাহার ছুটিয়া যাওয়া পয়সা খানি! শিশুটির ইচ্ছাশক্তির পতন হইলো, আর আমার ভাঙ্গিলো দিবা স্বপ্ন! গুটি গুটি পায়ে সে প্রস্থাণ করিলো! রমনীও তাহার আপন পথে আগ্রসর হইলো। আমার চাহনী এখন গমনরত আহত প্রাণটির মেরুদন্ডের দিকে। বিজ্ঞ পোকা কইলো, এই মেরুদন্ড বাস্তবতার দন্ড, এটা বাস্তবতা। আমি কইলাম, "তাহা হইলে সেই রমানী??" পোকা কইলো, "ওইটা দিবা স্বপ্ন"।
এই দিবা স্বপ্ন ভঙ্গের লাগি ব্জ্রপাত হয়নাই! আমার বাদামের থলে তখন বিষের গোটার থলে হইয়া গেলো। পোকা কইলো, "থলেটা ফালাইয়া দাও"। এই প্রথম পোকার কথাটা আমার মনে ধরিলো, থলেটা ছুড়িয়া ফালাইয়া দিলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

