somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সিংহ প্রাণ বাংগালীদের একজন অন্ত:ত ভাবিয়া দেখুন! পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা করি।
এটা যদি আমি মানিয়া থাকি, তাহা হইলে, একাত্তুরের পাপীদের পাপকে নাকি পাপীদের ঘৃণা করিয়া থাকি?

আমার যদি কোনো নিকট আত্বীয় একাত্তুরে শহীদ হোত কোনো দেশদ্রোহীর হাতে, তাহা হইলে, আমি কি করিতাম?

আমার সামনে দুই প্রকারের উত্তর আছে ইহার।
এক: তাহাদের ঘৃণা করিব, তাহাদের বংশধরদের মুলোতপাটন আন্দোলোনে অংশ নিবো। ইহার উপকারীতা, প্রতিশোধ গ্রহণ। অপকারীতা: বিশৃংখলা।

দুই: পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা করিতে পারি। উপকারীতা: মানুষ মানুষের জন্য, সত্যখানা প্রমাণ করা। তদুপরি, নিজেকে সমসাময়ীক আর ক্ষমাশীল করিয়া প্রস্তুত করা। গোবরে যদি পদ্মফুল ফুটিতে পারে, তাহা হইলে, পাপীর ঘরে সু-সন্তানও হইতে পারে।

আমি, দ্বিতীয় উত্তর নিজের মাঝে লালন করিতেছি। আমি শান্তিকামী। এবং অতি সাধারণ ঘরের অতি সাধারণ একজন মানুষ!

পাপকে জয় করিতে হইলে, পাপীকে ভালবাসিতে হইবে, ইহা আমার দূর্বলতা নয় বরং আমার শক্তি।

বিচার করিয়া দেখিয়াছি, ঘাতক আর কেউ নয়, আমার দেশের আর আমার নিজের ঘাতক আমি নিজেই। অপসংস্কৃতি লালন, পর-চর্চার বৃত্তে পরিক্রমণ, পাপীকে না ভালবেসে ঘৃণা করিতে করিতে আমার মজ্জাগত পরিবর্তনের শেষ সীমানায় আমি, নিজেই নিজের ঘাতক। পরিবর্তনের ধারক হইতে চাহিলে, সমাজসেবক এবং সংযমী হতে হয়।

একাত্তরের পাপী একবার পাপ করিয়া থাকিলে, তাহাদেরকে সমাজ সেবার সুযোগ দেয়া যাইতে পারে, যদি তাহারা তা করিয়া থাকে। আমি যদি অন্যায় না ভাবিয়া থাকি, তাহা হইলে, সিংহ প্রাণ বাংগালীদের একজন অন্ত:ত ভাবিয়া দেখুন!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28882333 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28882333 2008-12-14 18:22:16
Blackberry 8820 এর জন্য আনলক ফ্রী কোড অথবা ফ্রী আনলকিং সফ্টয়্যার দরকার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28847027 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28847027 2008-09-23 19:25:24
পিপড়ার কোলে বাঘ!!
আমার প্রয়াত মামার বাসায় একটা মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠানে অনেকের মধ্যে আমিও ছিলাম।

একটা ৬-৭ বছরের ছোট কিন্তু দুষ্টু ছেলে যাকে তাকে পিছন থেকে অতর্কিতে দুষ্টুমির ছলে আক্রমন করছিল। পরিবেশটা ছিল থমতমে, শোকাহত সবাই। এদিকে তার উপদ্রব ক্রমেই বাড়ছে। আমি নিজেও তার শিকার হলাম বার তিনেকের উপর!! ভয়ানক অবস্থা।

তাকে পাকড়াও করে বল্লাম, "খোকা, কি নাম তোমার??"
"টাইগার, আমার নাম বাঘ..!!" সগর্বে তার উত্তর।
অন্য সময় হলে, তার এমন উত্তরে তাকে উতসাহ দেয়া যেত। কিন্তু পরিস্থিতি দিতে হবে সামাল। কি করি। হুট করে তাকে আমার কোলে নিয়ে নিলাম।

বিরক্তি নিয়ে দুস্টুটা বল্ল, "তোমার নাম কি???" [আজকালকার পিচ্চিরা আবার ছোট-বড় সবাইকে ইংরেজী স্টাইলে সম্মান করে, যাই হোক...]

মোটামুটি ব্যাথা পায় মত করে চেপে ধরে নরম স্বরে বল্লাম, "আমার নাম পিপড়া!" <img src=" style="border:0;" />

বলেই তাকে ছেড়ে দিলাম। ৬-৭ বছরের ছেলে, কিছুটা হলেও বুঝে। আমাকে পুনরায় আক্রমন করতে গিয়েও থেমে গেলো। এক ছুটে বাবার কাছে গিয়া কিছু একটা চিন্তা করতে লাগলো। তার বাবাকে প্রশ্ন করতে শুনলাম, "আব্বু, পিপড়ারা কি খায়??" পরে তার উপস্থিতিটাকে আর ততটা উপদ্রব মনে হয়নি।






...
কিছুদিন আগের কার্ফিউ চলাকালিন, কাঠালবাগানের ওখানে কিছু আর্মিকে আমি এরকম বোকা বানিয়ে খানিক বেচে গিয়েছিলাম। সে কাহিনী অন্য একদিন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28822645 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28822645 2008-07-21 16:37:46
মানুষকে মনুষ্যত্ব্ দিয়ে বিচার করুন।
আমার মধ্যে এ নিয়া সচেতনতা আসার কারন আমি নিজেও নোয়াখালীর মানুষ। আমিও এরকম অকারণ কিছু বিভ্রান্তির শিকার, যেগুলা নিতান্তই অনৈতিক আর উষ্কানীমুলক এবং অবশ্যই আমার নিজের বেলায় প্রযোজ্য নয়।

বহির্বিশ্বে যখন কোনো বাংগালী অকারনে অপমানিত হয় তখন একজন বাংগালী হিসেবে আপনার কেমন লাগে? ঠিক একিভাবে, কোনো বাংগালী যখন অকারনে তার কোনো বাংগালী ভাইকে এলাকার কারনে বিভ্রান্তিতে ফেলে, তখন ঐ এলাকার একজন নাগরিক হয়ে আমার বা ঐ এলাকার অণ্যান্যদের কেমন লাগবে??

এই এলাকার লোকজন কি এমন ক্ষতি করলো যে তাদের নিয়ে এমন করতে হবে!!?? কেন এত ঘেন্না? এইসব এলাকার মানুষরা কি অন্যদের তুলনায় নিচু প্রজাতির কিছু! আসুন আমরা সকলে আমাদের সুন্দর মনের পরিচয় দেই। নিজেদের গঠনমূলক সমালোচনা করি আর সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে কাজ করি।

ধণ্যবাদ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28822274 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28822274 2008-07-20 17:11:07
ক্ষেমতাধর আবর্জনা
কারন অনুসন্ধান করিলাম। জনৈক ক্ষেমতাধর ঐ কলেজে পদধূলি দান করিতে আসিবেন, তাহারই পূর্ব প্রস্তুতি হইতেছে। পয়-পরিষ্কারের কাজের ভার যাহার উপর নেস্ত, তাহার সাথে ক্ষানিক বক-বকাইয়া এই তথ্যক্ষানি পাইলাম। মনে মনে ভাবিলাম, আহা যদি ঐ রূপ মানি গুনি লোক হইতুম!!!!!

যাহাই হউক, ঐস্থাণ হইতে ফিরিবার কালে, আরেক খানি তথ্য কণিকা পাইলাম, সেটি হইলো, উক্ত ক্ষেমতাধর আসিয়া ফিরিয়া গেলে, সমগ্র কলেজ নাকি পুনরায় পরিষ্কার করানো হইবে। কইলাম, "সেকি!! আপনি তো একবার একই কর্ম করিতেছেন, সপ্তাহ না ঘুরিতে আবার একই কর্ম কেন করিয়া কষ্ট পাইবেন??"

লোকটি কইলো, "আরে ভাই!! ঐ ক্ষেমতাধর এর ক্ষেমতার লাগি তাহার আগমনের পূর্বে এই কাজ করিতেছি! কারন, তাহাকে খুশি করাইতে হইবে। আবার তাহার প্রস্থানের পর, আমাদের নিজ নিজ মনের খুশির লাগিয়া, পুনরায় একই কর্ম আবশ্যক!!"

হা হইয়া থাকিয়া কইলাম, "বুঝিলাম না"।

লোকটি বিরক্তিতে কইলো, "আপনি দেকি খোজ খবর রাখেন না, উক্ত ক্ষেমতাধর আপনা হইতেই একখানা আবর্জনা স্বরূপ, বুঝিয়াছেন??? "

কইলাম, "হম বুঝিয়াছি...."। ইহাও বুঝিলাম যে, এইরূপ মনের আশাটি এই লোকের একান্তই তাহার আপন ব্যাপার!


অনেকদিন পর, আজ আমাদের গোটা আপিস জুড়িয়া ঐরূপ সাজ সাজ রব আর ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহন করা হইতেছে। আমার বিজ্ঞ পোকার তাই আপাতত মন খারাপ। আমি তাহাকে কইলাম, "আগমেয় ক্ষেমতাধর আসিয়া চলিয়া যাইবার ক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরিতে..."। আমার আবার সেই কলেজের লোকটির কথা বেশি করিয়া মনে পড়িতেছে!!!








]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28820261 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28820261 2008-07-14 18:21:00
আউটসোর্সিং এর ব্যাবহার আর গ্রাম্য মেধা-১ আউটসোর্সিং এর ব্যাপারে বলছি তবে একটু অন্যভাবে। আমরা মেধা রপ্তানি করি, সেক্ষেত্রে মেধা একপ্রকার পাচার হয়ে যায়। কিন্তু চিন্তা করেন, আপনার মেধা আছে আর আপনার মেধার ব্যাবহারটা অনেক প্রসারিত। আপনি চাচ্ছেন ধরি মাছ না ছুই পানি। আপনি করলেন কি, আপনার মেধাকে ভাড়া খাটালেন। এতে করে আপনার মেধা আপনার এলাকাতেই থাকলো, আপনার মেধারও যোগ্য ব্যাবহারো হলো আর বৈদেশিক মূদ্রাও আসলো ঘরে। এটাই আউটসোর্সিং, পোষ্টের নিচে কিছু লিংক দেয়া হয়েছে এব্যাপারে।

আগের পোষ্টটি পড়ার জণ্যে নিচের লিংকটা দেখুন:
গ্রাম্য মেধা আর টেকনোলজী। দেশ ও দশের জন্য - একটা উপায়

গ্রামের ছেলেদের কেউ কেউ নিজ গুণে একদিন এসে বুয়েটের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ছে। সন্দেহের অবকাশ নাই যে আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামে মেধা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আমি কিন্তু জন্ম থেকেই শহরের আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছি। আর আমি তাদের মত মেধাবিও না।

শহরের স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারা আজকাল প্রোগ্রামিং শিখছে। গ্রামের মেধাবীদেরও শিখানো সম্ভব। প্রয়োজন সৎ-সাহসী মানুষের। আমার সাহস, সহযোগীতার মনোভাব আছে, আইডিয়া আছে, কিন্তু সামর্থ নাই। আমার আইডিয়া শেয়ার করছি। আর আমি একলা চলো নীতিতে বিশ্বাসী, এখানে লিখার উদ্দেশ্য, কেউ যদি আমাকে পরামর্শ অথবা সহযোগিতা দেয়, এই আশায়া।

আমি গ্রাম্য মেধাগুলি কাজে লাগিয়ে আইটি আউটসোর্সিং এর কথা চিন্তা করছি। এটা সম্ভব হতে পারে বর্তমানে।

সংক্ষেপে পরিকল্পনাটা এমন হতে পারে:
প্রথমে আমাদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। ভালো কিছুর জণ্য জনমত সবসময় দরকার হয়না, আর এটা স্বল্প পরিসরে চিন্তা করতে হবে। তারপর, সেচ্ছাসেবক ট্রেনার দের দ্বারা কিছু গ্রামের টেলেন্ট খুজতে হবে। এরপর প্রশিক্ষণ। এই পর্যন্ত প্রাথমিক পরিকল্পনা। এই পর্যন্ত হচ্ছে উঠান, এই উঠান পেরুতে পারলেই অর্ধেন মুশকিল আশান!! তারপর প্রশিক্ষণ শেষে ছোট্ট একটা সেটআপ। তারপর এগিয়ে চলা।

প্রাথমিক অনুভুতি: বলতে যত সহস করতে তত কঠিন।
তাই পরামর্শ চাই। কেউ আমার সাথে আসলে তাকে সাদর আমন্ত্রণ।

আউটসোর্সিং এর লিংকস
উইকিপেডিয়াতে আউটসোর্সিং

ফ্রিলেন্সিং সাইট্স
আইটি/প্রোগ্রামিং আউটসোর্সিং এরকম আরো অনেক সাইট আছে।


চলবে..........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28803699 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28803699 2008-05-28 10:29:44
গ্রাম্য মেধা আর টেকনোলজী। দেশ ও দশের জন্য - একটা উপায়
শহরের স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারা আজকাল প্রোগ্রামিং শিখছে। গ্রামের মেধাবীদেরও শিখানো সম্ভব। প্রয়োজন সৎ-সাহসী মানুষের। আমার সাহস, সহযোগীতার মনোভাব আছে, আইডিয়া আছে, কিন্তু সামর্থ নাই।

আইডিয়া: আমরা গ্রাম ভিত্তিক আউটসোর্সিং প্রোগ্রাম চালু করতে পারি। যেমনটা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমি নিজেও করে থাকি, আমার মতো শহরের অনেকেই করেন। গ্রামের মেধাগুলিকে আমরা সেই প্রযুক্তির ছোয়া এনে দিতে পারি। এতে করে তারা স্ববলম্বী হবে, দেশের মেরুদন্ড মজবুত হবে।

যাদের সামর্থ আছে তারা চাইলে একত্রে আমরা সামনে অগ্রসর হতে পারি। অপর দেশকে আর নিজের ভাগ্যকে গাল না দিয়ে, টেকনিকালি আমরা নিজেদেরকে আগে গড়ে তুলি, তারপর আমাদের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী সব দোষীদের কড়া জবাব দেয়া যাবে..। আগে জবাব দেয়ার মত নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে হবে।

এইখানের পুরো চিন্তাধারা আমার নিজের, বেশী কথা বলার লোক না তাই সংক্ষেপে বল্লাম কথাগুলি....প্রয়োজনে বিস্তারিত হবে..

অন্ত:ত পক্ষে আমাকে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করূন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28803368 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28803368 2008-05-27 15:03:30
তা তোমাকে বলা যাইবেনা!! আমার বিজ্ঞ পোকা পাঠাগারের সমস্ত পুস্তক চুষিয়া বেড়াইতেছে,
ভালোবাসার মর্মার্থ উদ্ধার করিবার নিমিত্তে।
তবু সে কুল কিনারা করিতে পারিতেছেনা।
তাই, খাড়াইয়া রইয়াছি, এই খিড়কি ধরিয়া,
ভালোবাসার দরজারো এই পাশে....


আর সইতে না পাইয়া বার কয়েক উঁকি দিয়াছি,
পর্বতসম এলোমেলো পুস্তকের কোন এক ভাঁজে, বিজ্ঞ পোকাটি হারাইয়াছে।
অক্ষি আবরণ কচলাইয়া পুনরায় অপেক্ষায়, খিড়কি ধরা মোর হাতখানি!
ভালোবাসার মর্মার্থ বুঝিলে নাকি যুদ্ধে যাইতে হইবে...
তাই, নিস্চুপ পাঠাগার আর জমে যাওয়া সময়গুলি।


অবশেষে, বুক ধড়ফঢ় করিয়া উঠিলো মোর বিজ্ঞ পোকাটির আনন্দ চিৎকারে।
সেই উৎফুল্লতা পাঠাগারের সমস্ত দরজা দিয়া ঠিকরাইয়া পড়িলো।
অধীর আমি, তাহাকে কইলাম, আমায় কও কি সেই ভালোবাসার মর্মার্থ?
আমার চোখে চোখ রাখিয়া সে কহিলো, "আমি তা বুঝিয়াছি!! বুঝিয়াছি!!!!"
আমি কইলাম, তবে বলো!! বলিয়া শেষ করিয়া দাও এই অপেক্ষা!
যুদ্ধে যাওয়ার সেই ঝান্ডা তাহার হাতে শোভা পাইতেছিলো।
আমায় কহিলো, "তা আমি বুঝিয়াছি বৈকি! তবে তা তোমাকে বলা যাইবেনা!!"

<img src=" style="border:0;" /> /<img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28772005 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28772005 2008-02-19 16:00:29
জরুরী: এ নেগেটিভ ( A- ) রক্তের গ্রুপের জন্য আকুল আবেদন সামহোয়্যেরইন এর সকল সুহৃদ এর উদ্দেশ্যে আকুল আবেদন।
মাতৃত্বকলীন জটিলতার কারনে ( A- ) গ্রুপের রক্তের বিশেষ প্রয়োজন। কারো সন্ধানে ( A- ) গ্রুপের রক্তদাতার খোঁজ থাকলে অতিসত্বর যোগাযোগ করে সাহায্য করেন।

যোগাযোগ: ০১৭১৭-৬১৯৯৯৬
ইমেইল:


- ধণ্যবাদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28763160 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28763160 2008-01-22 11:30:53
মেঘমালা-আমার তরে না.... দল মত নির্বিশেষে একত্রিত হইয়া জলপাই মার্কায় ভোটের আবেদনে বেতনভুক্ত দলীয় লোকেদের লইয়া যেই মিছিলখানা আমার সামনে দিয়া চলিয়া যাইতেছে তাহা আমি ভুরু কুন্চাইয়া দেখিতে লাগিলাম। পাশের পান-বিড়ি-কাঠি দোকানী সন্দিহাতষূ হইয়া এইদিক ঐদিক চাহিতেছে... তারে কইলাম এক কাপ লাল চা লাগাও। সে আমারে হতাশ করিয়া কইলো, লাল চা হইবেক না। কইলাম কেনো হইবেক না? তাহার কেটলিতে নাকি কড়া চা, তাহা কেবল দুধ চা এর লাগি। কেন হইবেকনা জিগ্গেস করায় বুঝা গেলো তাহার মেজাজ খিটখিটে হইলো আমার উপর...। তাই তাহাকে পুনরায় ঘাটাইলাম না।

"ওমুক ভাইয়ের সালাম নিন... জলপাই মার্কায় ভোট দিন..." এইরূপ সোরগোল শুনিতেছিলাম। এমতাবস্থায় কেউ একজন মিছিলের মধ্য হইতে আমায় লক্ষ্য করিয়া তারস্বরে ডাকিলো!! ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া ভালো করিয়া চাইতেই দেখি, একজন আমার দিকে উত্ফুল্ল্য নয়নে চিল্লাইয়া যাইতেছে। যাহা কইলো তাহার মানে আমাকে মিছিলে যোগদানের আহবান! উপররে পাটির সর্বাধিক সংখ্যক দন্ত দেখাইয়া তাহাকে ভাবে ভংগিতে বুঝাইলাম আমার গলায় প্রদাহ আছে! তাহাকে হস্ত নাড়াইয়া শুভ কামনা জানইলাম... যে আমায় ডাকিলো, সেই ছেলেটি আমার মামতুত ভাই!! সে আপন মনে হাত পা ছুড়িয়া আপনার আপন পিতাকে ভাই বলিয়া যাইতেছে!! আমার মনে লইলো, সে তো নিজের পিতার ঢোল নিজে পিটাইতেছে, কিন্তু বাকিদের মতন বেতনভুক্ত নয়, যাহাই হউক, তাহার সেকি জোরালো কন্ঠ!! বোধ করি সে প্রাতবেলাতে দার্জিলিং হইতে চা আনিয়া খাইয়াছিলো, তাহা না হইলে ঐরূপ চিল্লায় কি করিয়া!! ভাবিতে ভাবিতে দোকানীর সহিত চোখাচুখি হইলো। আমাকে পার্টির লোক ভাবিয়া সে অপ্রস্তুত হইয়া কইলো, "আলাদা করিয়া লাল চা বানাইয়া দিলে খাইবেন?" মনের কোথায় জানি মৃদু চালাকি জাগিলো, কইলাম, "তোমার চা পাতা কি দার্জিলিং হইতে আনিয়াছো?" মাথা নাড়াইয়া কইলো, "জ্বী না!" এইবারে তাহাকে হতাশ করিয়া ধমকের সুরে কইলাম, "দার্জিলিং এর চা পাতা না তো কি ..... এর চা পাতা!!! যাহাই হউক বানাইতে পারো...."

তড়িঘড়ি করিয়া সে চা বানাইতে লাগিলো। বোধ করি তাহার কর্মজীবনের সেরা চা সে বানাইতেছে এই ভাব তাহার। আমি কিন্চিত বাঁকা হাসিতে এইদিক সেইদিক চাইলাম। অবশেষে কেউ একজন লাল চা এর কাপ আমার হাতে ধরাইয়া দিয়া আবার দোকানের ঐপাশে চলিয়া গেলো। দোকানীর চোখে মুখে সন্দেহের ভাবখানা আরো প্রবল হইলো। আমার বাঁকা হাসি হইলো আরো রহস্যময়!

বিড়াল জাতিয় পশু যখন খুব আহত হয় এবং অসহায় হইয়া পড়ে, তখন তাহাদের চক্ষু কেমন গোল গোল হইয়া একপ্রকার অদ্ভুত মায়াবী আবহ তৈরি করিয়া থাকে। এই ব্যাপারে আমার দেখার বা ধারনার ভুলও হইতে পারে। যাহাই হউক, আমার পার্শ্বে এতক্ষন একজোড়া সেইরকম চক্ষু আমাকে আর আমার আশে পাশের পরিবেশ লক্ষ্য করিতেছিলো। এহেন চক্ষুর মালকিন এক ছোট্ট শিশু। তাহার গত্রের উপরিভাগ হইতে একখানা মলিন বস্ত্র হাটুর নিচ অবধি বিস্তৃত। আমি তবু তাহাকে গুরুত্ব দিলাম না। এইরূপ অনেক শিশু আমি রোজ দেখিয়া থাকি। আমার চা খাওয়া শেষ হইলে শিশুটি হাত বাড়াইয়া কাপ খানি নিতে চাইলে আমি প্রথম তাহার চেহারার অবয়ব লক্ষ্য করিলাম। তাহাকে খুটিয়া দেখার প্রয়োজন হইলো না, এই শিশুর জনক এই দোকানী ব্যাটার, সেটা তাহার অবয়ব দেখিয়াই কওয়া যায়।

মিছিলখানা অপর দিক হইতে প্রদক্ষিন করিয়া আসিলো। আমার মামতুত ভাইটি এইবারে আমার নিকট আসিয়া দুই চারখানা কথা পাড়িলো। দোকানের পাশে বসিলাম। আরেকটা ছোট্ট শিশু আমাদের বসার জায়গা ঝাড়িয়া পরিষ্কার করিয়া গেলো। চকিতে খেয়াল করিলাম, এই নয়া শিশু মনে লয় ঐ বিড়ালচোখা শিশুটির ছোট ভ্রাতা হইবক। আমাদের আলোচনায় আবার আমার ঘরের খোজ-খবরও ছিলো! এই এলাকায় কে জিতেবে, তাহা সকলেই জানে। তাহার পরেও এই বেতনভূক্ত লোকেদের নিয়া লম্ফ-ঝম্ফের কমতি নাই। নয়া শিশুটার হাতে ধরা পানি ভর্তি একখানা গ্লাস, তাহা আমায় দিতে কইয়া, মামতুত ভাইকে কহিলাম, "জলপাই মার্কা জিতিবে, ইহা সকলেই জানে, তো বাসায় নাকে তৈল দিয়া ঘুমাও না কেন??"

"হে হে হে, হা হা হা... আমার ভাই, নির্ঘুম রাত কাটাইতে পারিলে, তাহার ছেলে হইয়া আমি ঘুমাই কি করিয়া....!! আর পার্টির লোকজনকে চান্গা না রাখিলে যে অন্য দলে ভিড় করিবে। জয় লাভ করিলে, আর এই ভয় থাকেনা। কারন ক্ষেমতা আমার!!!!.... ", একনাগাড়ে ভাষন সমাপ্ত করিয়া সে চা শেষ করিয়া তামাক লাঠিখানা আগুন কাঠি দিয়া ধরাইবে, এহেন সময়, তাহার এহেন কথা শুনিয়া কিনা জানিনা, এই নয়া শিশুটির হাত ফসকাইয়া, অনেকখানি পানি আমার গত্রস্থ হইলো। আমার একখানা হাত চায়ের কাপ ধরা আর বাকি হাতে সামলাইবার চেষ্টা। ছোট মানুষ, ইহাতে আমি বিচলিত হইলাম না, কিন্তু আমি বিচলিত হইলাম অন্য দিকে, মামতুতকে কইলাম, "ক্ষেমতা তোমার মাইনে কি???"

আমার কথায় কর্ণপাত না করিয়া, শিশুটির উপর ক্রোধানল নিক্ষেপ করিলো! আমি তাহাকে শান্ত থাকিতে কইলাম। কিন্তু শিশুটির পিতা, এই দোকানী তাহার উপর চড়াও হইলো। কষিয়া একখানা চড় বসাইলো। শিশুটি পড়িতে পড়িতে সামলাইয়া খাড়াইলো। তাহার লক্ষ্য হাতে ধরা গ্লাস যাহাতে ছিটকাইয়া না পড়িয়া যায়! আবার তাহার উপর হানা দিবে, অমনি কোথা হইতে বিড়ালচোখা শিশুটি আসিয়া হাজির। সূর্যের প্রখরতায় জমিন ফাটিতে থাকিলে, মেঘের ছায়া তাহাতে পড়িলে যেমন তপ্ত জমিন বুকে জল পায়... তেমনি করে মেঘমালার মতন বিড়ালচোখা তাহার ভ্রাতাকে আগলাইয়া লইলো! আর তাহাদের পিতার রূক্ষতা মুহুর্তেই মেঘের আড়ালে লুকাইলো। আমার এক হাতে চায়ের কাপ, সামনে অপূর্ব দৃশ্য, পাশে ক্ষিপ্ত মামতুত ভাই... আমি হারাইলাম অন্য চিন্তায়, আমি বসিয়া ভাবিতে লাগিলাম, আমার যদি এইরূপ বিড়াল চোখা কোন ভগ্নি থাকিতো!! মামতুত ভাই চলিয়া গেলো, আমি ভাবিলাম, আমার দেশেরওকি আমার মত দশা? প্রখর তাপে কে আমার দেশকে আগলাইবে?? আমার বুক যখন রুদ্র তপ্ত হইয়া চৌচির হইয়া যায়, কে তখন আমায় আগলাইবে?? হাসিলাম মনে মনে, ভাবিলাম, মেঘমালা-আমার তরে না...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28735844 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28735844 2007-10-06 15:35:06
বাঁশের জন্য... [আবোল-তাবোল] উমমম, কত বড় পাবা?
এই ধরেন, ঠিক নাই...
এক মানুষ লম্বা?
ঠিক নাই স্যার!!
একটা টেবলের মত লম্বা?
হইতে পারে, সিউর না স্যার!
এক হাত লম্বা?
এটা মনে হয় পাবো! তো স্যার, মোটা কেমন?
যেমন তেমন, কিন্তু কচি বাঁশের মত চিকন হইলে হবেনা আবার!
এই ধরো, এমন হতে হবে যেন কাউকে বাড়ি মারলে
মাথা ফাটতে পারে, কিন্তু মারা যাবেনা....
ওমা স্যার!! কার মাথা ফাটাইবেন???
আরে ধুর না, মাথা আমি ফাটাবোন...
তো কে ফাটাইবে?
সে তোমার জেনে কাজ নাই, তুমি জোগাড় করতে পারবে কিনা তাই বলো!
হমম, পারবো স্যার, কিন্তু....
কিন্তু কি! ওহ আচ্ছা, হমম বুঝেছি।
এই নাও, কিছু রাখো, পরে আরো পাবা...
ঠিক আছে স্যার, আজকেই এনে রাখবো!
হমম ভালো!!
স্যার একটা কথা!!
আবার কি?
স্যার, মাথা ফাটবে কিন্তু মরবেনা, এইরকম তো?
হমম সেইরকমি তো বোল্লাম!!
কি ব্যাপার মাথা চুলাকাও কেনো?
স্যার!!
কি বলো!!
স্যার কার মাথা ফাটানো হবে?
আরে মাথা টাথা না!!
তো??
আসলে আমি আমার খাট ঠিক করবো!!
খাট ঠিক করার সাথে মাথা ফাটানোর কি আছে, স্যার!!
মানে খাটের যে অংশ নষ্ট হইছে, শুইলে, ঐ অংশ আমার মাথা থাকে...

ওহ আচ্ছা, বুযছি!! আর বলা লাগবেনা.. মজার ব্যাপার!!
তাই নাকি! তুমিতো বেশি কথা বলো ছেলে!!
আর বোলবোনা স্যার!! স্যার আমি যাই তাহলে...
হমম আবার দেখা হলে যাতে হাতে বাঁশ দেখি!!
জ্বী স্যার....

মনে মনে ভাবলাম....
বাঁশ পাবো কিনা জানিনা, পাইলে কথা হবে, মাথা ফাটবে!!
আর কি কিছু হবে??? জানিনা!! বড়ই অদ্ভূত আর রহস্যময়!!
যাই হোক, আমি বাঁশটা ঠিকই আনবো!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28731519 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28731519 2007-09-16 12:45:52
পাকা পেপে
সময় আর স্রোত নাকি কাহারো লাগি থামিয়া থাকে না। কথা সইত্য, বাস আমাকে নামাইয়া দিয়া আপন পথে ছুটিয়া চলিল। বাসের দোলাদুলিতে এইরূপ অবস্থা হইলো যে পথ হাটিতেও সব দুলিয়া উঠিলো। আমি রোমাণ্চিত অনুভব করিলাম। ক্ষানিক পরই সামনে বিশাল জনসমগম আবিষ্কার করিলাম। আজ বোধ হয় এই গ্রামে হাট বসিয়াছে। এই জনসমূদ্র ভেদ করিয়া গন্তব্যে যাইব কি করিয়া ভাবিতেই দোলাদুলি উধাও হইয়া গেলো। কানে বাধিলো খদ্দের আর দোকানীর দর কষা-কষি।

প্রথমেই মাছের বাজার, তারপর কাচা বাজার আর এরপর যা দেখিলাম, তাহাতে আমি খাড়াইয়া দাড়াইলাম। ছোট্ট একখান কালবর্টের পাশে এক বৃদ্ব বসিয়া আছে। দেখিলাম, তাহার সম্মুখে দুইখানা পাকনা পেপে। পাকিয়া সেইগুলি কেমন লালাভ আকার ধারন করিয়াছে। বড়ই লোভ হইতেছিলো। আমার আবার পাকা পেপের বড়ই সখ। তদুপরি, আমার বাবাজান, দাদাজান এর প্রিয় ফল এই পেপে। ভাবিলাম একখানা আমার আরেক খানা তাহাদের লাগি লইবো। না না, দেড়খানা আমার আর আর্ধেকখানা তাহাদের। না না... দুইখানাই আমার। ধুর... কি ভাবিতেছি! সাতপাচ ভাবিতে ভাবিতে বৃদ্বের নিকট আগাইয়া গেলাম।

কইলাম, "চাচাজান, পেপে কি দর??" এই প্রথম বৃদ্ব আমার পানে চাহিলো। কুচকাইয়া যাওয়া গালের চামড়া, সেই মাঝে চিকন চিকন দুইখানা ঠোট, হালকা সাদা দাড়ি প্রসারিত তাহার বক্ষ অবধি। চোখা সরু নাসিকা, কপালে শতাধিক ভাজ, তাহারি ঠিক নিচে একজোড়া চক্ষু বৃদ্বের যৌবন ধরিয়া রাখিয়াছে। সেই চক্ষুতে জ্যোতি ঠিকরাইয়া পড়িতেছে। চোখাচোখি হইতেই সেই জ্যোতিতে আমার বিজ্ঞ পোকা শিহরিত হইলো।

বৃদ্ব কহিলো, "বাবা, কিনিলে দুইখানা একত্রে কিনিতে হইবে, দুইখানার দাম দুইশত টাকা।"

শান্ত আদুরে কন্ঠে আমার বিজ্ঞ পোকা আমারে কহিলো, "এই লোকেরে তো চারশত টাকা দেয়া যায়।" আমি পোকারে কইলাম, "আমার পকেটে যে মোটে আশি টাকা রহিয়াছে!" বৃদ্বের কথায় আমি হতাশ হইলাম। কিন্তু জায়গায় খাড়াইয়া রইলাম। মুখে কইলাম, "ও আইচ্ছা...।"

"চাচাজান, একখানা বেচিলে কি হইবে?", গলা নামাইয়া আরজির স্বরে কইলাম।
"এক খানা বেচিলে আরেক খানা লইয়া বিপদে পড়িব, বেলা পড়িয়া যাইতেছে, লোকে এক খানা পেপে লইতেও চাহে না। লইলে দুইটাই লইয়া থাকে। বাবা তুমি কি শ্বশুরালয়ে যাইতেছ?"

বৃদ্বের একটানা কথা শেষে অপ্রস্তুত হইয়া কইলাম, "শ্বশুরালয়!!?? জ্বি না। আমি আমার দাদুর বাড়ী যাইতেছি। দাদু পেপে পছন্দ করেন তাই পেপে দেখিয়া কিনিবার লাগি খাড়াইলাম।" মনে মনে ভাবিলাম, শ্বশুরালয়ে জোড়া পাকা পেপে!! মন্দ হইবেনা। কিন্তু আশি টাকা পকেটে, তক্ষনা বিবাহ করিতেও মন চাহিলোনা...।

"কোন গ্রামে যাইবা?"
"জ্বী, রমায়েরখীল গ্রাম, মিয়াজী বাড়ি যাইবো।"
"মঈনউদ্দিন মিয়াজী বাড়ি? তোমার দাদু কি করেন?"
সম্মতি সূচক মাথা নাড়াইয়া কইলাম, "জ্বী! দাদু এই বাজার মসজিদের মুয়াজ্বিন আছিলেন, আপনি চিনেন?
"চিনি বইকি!! আপনার দাদু আর আমি পরম বন্ধু ছিলাম!!", বলিতে বলিতে উনি খাড়াইয়া দাঁড়ইলেন। আবারও বৃদ্বের সহিত চোখাচোখি হইলো, বিজ্ঞ পোকা আবারও শিহরিত হইলো।
আমি কইলাম আজকে বিক্রি রাখেন, "আমার সহিত বাড়ি চলেন।" এক কথায় বৃদ্ব রাজি হইয়া গেলো। তক্ষনা গামছা গলায় জড়াইয়া তিনি আমার সহিত রওয়ানা হইলেন। এতকাল উনি কোথায় আছিলেন, কি করিয়াছিলেন, কাহার উষ্ঠা খাইয়া এতকাল পরে আবার এইখানে পথে বসিয়াছেন, সেই কাহিনি পাড়িলেন। আবার ইহাও কইলেন যে তাহার একমাত্র ইয়াতিম নাতনির স্কুলের ভর্তির পয়সা যোগাড় করিবার লাগিয়াই ঐ পেপে বিক্রয়! তিন কিলো কাচা রাস্তায় রিকশা চালক আর আমি বৃদ্বের সেই কাহিনী শুনিলাম, অবশেষে বাড়ি আসিলাম।

দুই বন্ধুর পুনর্মিলন হইলো। কথা যেন তাহাদের আর পুরায়না। রাতে আয়েশি ভোজন পর্ব শেষে খোলা উঠানে মাদুর পাতিয়া গল্পের আসর বসিলো। হালকা ভোজন পরবর্তী খাদ্যাদি, নারিকেল পিঠা, আরো কি কি জানি আনা হইলো। চন্দ্রের আলো-অন্ধকারে সেইগুলি খাইতে খাইতে ইতোপূর্বে খাওয়া ভাত হজম করিতেছিলাম। এক খানা পেপে মুখে লইলাম, আহা কি স্বাদ। ধণ্য ধণ্য..। চন্দ্রের আলোয় ভাবিতে লাগিলাম, আমি যেন শ্বশুরালয়ে আছি। অনেক রাত অবধি আসর চলিয়াছিলো বোধ করি, নিজেকে আবিষ্কার করিলাম কোনো এক চৌকিতে। আমি নাকি উঠোন হইতে টলিতে টলিতে গিয়া সেই চৌকিতে ধপাস করিয়া পড়িয়াছিলাম।

ঐ অবস্থায় দন্ত মাজিতে পুকুর ঘাটে গিয়া দেখি দুই দাদুর গোপন আলাপন চলিতেছে। কচিত পরে বিদায় পর্বে আমি খেয়াল করিলাম মেহমান দাদুর দুইখানা পেপে তাহার হস্তে নাই। আমার পিলে চমকাইয়া উঠিলো, তাহা হইলে গতকল্য রাইতে আমি ঐ পেপে গুলাই খাইলাম, যেইগুলি এই দাদু তাহার নাতনির স্কুলে ভর্তির খরচা যোগাড়ের লাগি আনিয়াছিলো!! আমার চোখে মুখে হতবাক ভাব উদয় হইলো। মেহমান দাদুর দিকে তাকাইতেই দেখি তিনি আমার দিকেই তাকাইয়া আছেন। উনি মনে হ্য় আমার অবস্থা ধরিতে পারিয়াছিলেন। মুখে কিছুই কইলেন না, অদ্ভূত হাসি খেলা করিতেছে তাহার মুখে। শুধু তাহার সেই জোড়া চক্ষু আরেকবার ঝিলিক দিয়া জ্যোতি ছড়াইলো। আমার বিজ্ঞ পোকা আবারও শিহরিত হইলো। আমি তাকাইয়া রইলাম তাহার চলিয়া যাওয়ার পথে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28730394 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28730394 2007-09-10 11:59:00
ইন্টারেক্টিভ কুরআন শুনুন http://www.quranexplorer.com/quran/
আরো অনেক ভালো ভালো সাইট আছে এইরূপ। তবে ইহা আমার ভালো লাগিয়াছে।

রমযান মাসে, মুসলিম কম্পিউটার প্রফেশনাল দের জণ্য ইহা উপকারী হইবে আশা করিতেছ।

এইখানে ৫ জন বিখ্যাত তেলওয়াতকারীর কন্ঠ দেওয়া আছে।

পূর্বে এই লিন্ক এইখানে দেওয়া হইয়া থাকিলে দুখি:ত।

ভালো থাকুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28730078 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28730078 2007-09-08 15:55:36
ওয়েবসাইটে ইসলামকে অবমাননা - বন্ধ করিতে সাহায্য করুন .....
এই পোস্টে দুইখানা লিন্ক ছিলো।

সংখাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে, এই সিদ্বান্তে উপনীত হইলাম যে, এই লিন্কগুলো একপ্রকার প্রহসন অথবা ব্যাক্তিগত সিদ্ধিসাধন। তাই লিন্কগুলো মুছিয়া দেয়া হইলো। সকলকে ধণ্যবাদ, আপন আপন মতামত প্রকাশের জন্য।

@ কণা: দুখিত, তোমার সহিত হয়ত কটু বাক্য ব্যবহার করিয়াছিলাম।

- বিজ্ঞ পোকা ( )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28730071 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28730071 2007-09-08 15:34:20
নিদ্রা ঘুম চোখের অভদ্র কুন্চন।
শয়ন কিনারে শূণ্য পানির পাত্র,
কন্ঠ যে পিপাসায় কাতর।
এ যেন আমার রোদেলা ভোর।

ব্যস্ত সকাল ব্যস্ত আমি,
ব্যস্ত সবি, ব্যস্ত সবি...
চলছে গাড়ি চলছে ঘোড়া, চলছি আমি।
চাই এক কণা অবসর আর এক কণা জীবন।
সূর্য মাথায় অসীম দুপুর আর এক কণা ঘুম।
এক কণা ভালোবাসা আর অসীম কষ্ট।

ক্ষীপ্ত দুপুর, ক্লান্ত বিকেল
ক্লান্ত ঘোড়া, ক্লান্ত পথ আর
পরাজিত পথিক, অসীম শূণ্যতায় সাঁঝের প্রহর গুনে।

স্বপ্ন ভরা স্বপ্নিল মেঘের দল বাতাসে প্রবাহমান।
স্বপ্ন ভন্গে সৈনিকের পরাজয়, দিনের আলেয়া পতিত হয়।
সূর্য নামে সাঝেঁ, ব্যাথার ঘোরে, রাত্রি নামে চোখে।
এ যেন আমার এক পলক অসীম নিদ্রা।

আমি তবু অপেক্ষমান।
আমার রোদেলা ভোর,
আমার ক্ষিপ্ত দুপুর
আর ক্লান্ত পরাজিত সৈনিকের মৃত স্বপ্নের পাশে।
আরেকটি নিদ্রার আশায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28729918 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28729918 2007-09-07 17:15:29
এক ফালি হাসিতে ভরেছিলো মা এর মুখ্ খানি।
এক জনমে মিটাইতে পারিবোনা গো মা,
তোমার হাসি এতই দামী!

বল্লে তুমি আনিয়া দিবো পাহাড় চুড়ার ঐ ফুলখানি।
সাগর-নদী পার না হইতে পারি, মরবো ডুবি বলো যদি!
উপোস বেলা কাটাইতে পারি, তোমায় যখন উদাস দেখি।
লুকায়ে কোথাও কাঁদতে পরি, বুঝলে আমায় ভূল যদি!

আহার তোমার কমায়ে নিলে, বাঁচাইলে কি পয়সা খানি?
বাবা আমায় দূর দেশেতে, চাইতো তোমায় আকাশ দূরী!
টিনের দুধের খরচাটা বেশী, এই চিন্তায় উদাস দেখি।
আঁখিতে তোমার পলক ছিলনা, অশ্রু ঢলে বাঁধ ছিলো কি?

বল্লে আমায় ডেকে তুমি, হইবি যেদিন বড়!
ভূলিসনা তোর বাবার কামাই, ভূলিসনা তোর বংশ!
বল্লেনাতো নিজের কথা, অণ্যের ভাল দেখলে!
এইনা বলে আমি কলূর বলদ, মানুষ বেশে,
ঘুরি দুনিয়া চষে?

পাপ-পূন্যে ভরেছি জীবন, আর বাকি আছে কত!
পাপের ভাগিদার তারে করোনা যেন খোদা, এই কথাটি রাখো!
আমার যখন ছিলনা কেউ, তুমি ছাড়া অসহায়!
এখন আমি কত্ত বড়, একলা একা, তুমিই সকল উপায়!

বলি কি আমি, মা তোমায় ডেকে, ভাবো কেনো এত?
দুনিয়াটা মথায় করে ক্লান্ত যেদিন হবো,
তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমটা আমি যাবো।
একটু এখন দাওনা হতে, তোমার চোখের আড়াল!
মাগো আমি দিলাম কথা, ফিরবো সকাল সকাল!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28729578 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28729578 2007-09-05 17:30:09
সম্ভাব্যতার গণিতের খেইল
বাসা হইতে রিকশা দূরত্ব পার হইয়া বাসে উঠিতে হয়। বরষার দিন বলিয়া রিকশা চালকের দাবী, "আরো দুই টাকা দিতে অইবো..." তাহার ত্রিচক্রযানে উঠিবার প্রাক্কালে লক্ষ করিয়াছিলাম, সে কিন্চিত্ রগচটা টাইপের চালক। তাহার দাবীতে কর্ণপাত না করিয়া দুই হস্তে দু্ই পাদুকা লইয়া রাস্তায় জমিয়া থাকা পানির উপর লম্ফ ঝম্ফ দিয়া টক্কর দিতে উদ্দত হইলাম। এমতাবস্থায় কর্নকূহরে ত্রিচক্রযানের রগচটা চালকের কিছু খিস্তি কাহিনী প্রবেশ করিলো। মেজাজ গেলো বিগড়াইয়া!! ততক্ষনে দুই চারখানা লম্ফ ঝম্ফ দিয়া ফালাইয়াছিলাম বলিয়া ফিরিয়া গিয়া তাহার খিস্তি খাউড়ের জবাব দিতে মন চাহিলো না। তবে আপন মনে তাহার জন্য বিড়বিড় করিয়া ক্ষোভ চাপাইয়া রাস্তা টক্কর দিতে লাগিলাম। কচিত্ পরেই লক্ষ করিলাম,রাস্তার এক কোনায় কতিপয় লোক জড়ো হইয়া চেঁচামেচি করিতেছে!

অনুসণ্ধান করিয়া বুঝিলাম, ছেঁচো চোর পাকড়াও করা হইয়াছে। অগ্রসর হইয়া তাহার ছিন্ন জামার ত্যানা হইয়া যাওয়া কলার চাপিয়া ধরিলাম। পাশের একজন লোক ৯০ মাত্রার গালিগালাজ করিয়া যাইতেছে। তাহার মধ্য হইতে যে কয়খানা গালিগালাজ আমার বোধগম্য হইতেছে, তাহা মৃদু স্বরে আউড়াইয়া যাইতে মন্দ লাগিতেছিলোনা! অপর এক লোক এক কাঠি বাড়িয়া চোর ব্যটার তলপেটে সর্বশক্তি দিয়া এক খানা মুঠা ঘুষি হাঁকাইলো। তাহার কতবড় সাহস!!! আমিও লম্বা একখান দম লইয়া জোর ঘুষি চালাইয়া এইপাস ওইপাস আপন প্রসংসা শুনিতে কর্ণ খাড়া করিলাম এবং শুনিলামও। রিকশাওয়ালা ব্যাটারে পাইলে আলবাত্ এইরূপ শিক্ষা দিয়া দিতুম!! ইতোমধ্যে চোর বাবাজী মাটিতে লুটিয়া পড়িয়াছে। আমার বুক আধা হস্ত ফুলিয়া উঠিলো। জীবনে চোর পিটাইনাই। আপিসে গিয়া এইরূপ কাহিনী সকলের সামনে উপস্থাপন করিলে, মহিলা সহকর্মিনীদের লাজুক হাসি আর পুরুষ সহকর্মিদের বাহবা শুনিতে পাইবো। এই চিন্তাও মনের কোনায় ঘুরিয়া গেলো একবার। এহেন বিরত্বপূর্ণ কর্মের মাঝে এহেন ভাবনা আমায় দোলা দিয়া গেলো। আর ততক্ষণে অন্যান্য বীর পুরুষগন তাহার এক খানা হস্ত ভান্গিলো আর চোয়াল থেঁতলাইয়া দিয়াছে। ব্যাথায় কুঁকাইয়া কুঁকাইয়া সে যখন অজ্ঞান হইয়া পড়িলো নিশ্চিত হইলাম, তক্ষনে আমরা সকল বীর পুরুষগন মমতা অনুভব করিলাম। মাইনে, তাহাকে এই যাত্রায় ছাড়িয়া দিলাম। অন্যথায় তাহার হ্য়ত অপর পাড়ে পাড়ি জমাইতে হইতে পারিত। রাস্তার চোর রাসতায় পড়িয়া রইলো।

আমি বাসে চড়িলাম। জনৈক ভদ্রলোক আমায় ডাকিয়া কইলো, চোর ব্যাটার চুরিটা ছিলো কি?? আমি কইলাম, "চুরিত চুরিই!!" বস্তুত আমি জানিতাম না, সে কি চুরি করিয়াছিলো। আপিসে বীরত্ব গাথা রচনাখানি সবাইকে শুনাইলাম। ইহাতে আশাতীত ফল পাইয়াছি। সুন্দর চোখা সহকর্মিনীটি আমায় কেমন জানি দেখিতেছিল। চোর পিটাইলে রমনীর দৃষ্টি কাড়া যায় আগে জানিতাম না।

রাশি রাশি ভাবনা ভাবিতে ভাবিতে ঘর ফিরিবার পথে সকালের দাপাদাপির স্থানের পাশের দোকানীর হাতের এক খানা চা খাইতে গেলুম। ভাবখানা এমন যেন কিছুই হয়নাই। দোকানী যাহা কহিলো, তাহা এইরূপ, "এইডা নতুন মাল, তাই পাক্কা হ্য়নাই, আর যেই মাইর খাইলো, জীবনেও চুরির নাম মুখে লইবো না!! আমার চা এর পয়সা না দিয়া পালাইতেই এমন ধোলাই, চায়ের কাপখানা লইতে গেলে তো মারাই পড়তো!! হা হা হা... আপনি জবর মাইর দিচেন সার!!!!!! " আমি এক খানা অতিরক্ত টাকা তাহার হস্তে গুঁজিয়া দিয়া প্রস্থাণ করিলাম। আমার বুক ততক্ষনে গর্বে এক হস্ত ফুলিয়া উথিয়াছে। বাসায় ফিরিয়া ফ্রেশ হইয়া, রাখিয়া যাওয়া বিজ্ঞ পোকারে সেই কাহিনী কইলাম......

সমস্ত নিশীতে ঘুমের বিস্তর ব্যাঘাত ঘটিয়াছে। এইপাশ ঐপাশ করিয়াছি। কোনো লাভ হয়নাই!! পোকা বারংবার কহিতে লাগিলো, "ইহা তুমি কি করিলা?? ইহা তুমি কি করিলা?? কিছু না জানিয়া, না শুনিয়া ইহা তুমি কি করিলা??"

এত এত বীর একইসাথে একইদিনে একই ক্ষনে আপন আপন বিজ্ঞ পোকা শয়ন কক্ষে রাখিয়া দিন চরিতে গেলো কি করিয়া, তাহা ভাবিয়া কূল পাইনাই। কৈশরে সম্ভাব্যতার গণিত কষিয়াছিলাম। আমার মনে লয়, ইহা সেইরূপ কোন এক গণিতের খেইল। সকল বীর পুরুষ একত্রে আপন আপন বিজ্ঞ পোকা মনের ভুলে একইসাথে একইদিনে একই ক্ষনে শয়ন কক্ষে রাখিয়া গিয়াছিলো ঠিক আমারই মতন। এইরূপতো হয়না!! ইহা গণিতের খেইল নয়তি কি!! আশা করিতেছি এইরূপ মনের ভূল রোজ রোজ সকলের হইবেনা! আর রোজ রোজ এমন অনাকানক্ষিত ঘটনাও ঘটিবেনা। কিন্তু লাভ হয়নাই, আমার বিজ্ঞ পোকা আমার মাথা কুড়িয়া খাইতে লাগিলো, নিদ্ আসে নাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28729385 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28729385 2007-09-04 14:59:31
দিবা স্বপ্ন ...
একদা বৈকালন্যে বাদাম চিবাইতে চিবাইতে উদাস ভাবখানা লোকজনকে দেখাইতে লাগিলাম... বিনিময়ে তাহাদের মুখমন্ডলের ভাবগুলিও পর্যালোচনা করছিলুম। এই ক্ষনে ত্রিচক্রযান হইতে নামিলো এক রমনী। সৈয়দ মুজ্‌তবা আলীর পুস্তকে পড়িয়াছিলাম, দূর মালঞ্ছ দেশের গল্প, যেখানে পর্বতের সীমানা হইল আস্‌মানের শুরু। এমন রমনীকে নীলাঞ্জনা ভাবিতে আমি কর্পণ্য করিলামনা। আমি এক কোনায় খাড়াইলাম, আর ওই রমনীর আঁখীতে সেই আস্‌মান খুজিতে প্রস্তুত হইলাম।

মার্টিনা হিঙ্গিস এক প্রকার গোলাকার বস্তু লইয়া মাঠের মাঝে চৌকশ কশ্‌রত প্রদর্শণ করিয়া ক্রিড়াংগনে খ্যাতিমান হইয়াছিলেন। রমনী আমার দিকে ঘুরিয়া দাড়াইতেই দেখি, তাহার নাকের ডগায় সেই গোলাকার বস্তু আকৃতির এক খানা কালো চশ্‌মা সোভা পাইতেছে!! নীলাঞ্জনার আঁখিতে কি হারাইবো, মার্টিনা হিঙ্গিসের কথা মনে পড়িয়া গেলো। পবিত্র গাভী!!! প্রাথমিক স্বপ্ন ভঙ্গ হইল। ব্যাপার নাহ, পুনারায় স্বপ্ন জোড়াতালি দিয়া অন্য কোন এক লেখকের উক্তি আউড়াইতে লাগিলাম মনে মনে।

আমার পাশেই এক শিশু খাড়াইয়া ছিলো। আমার বিজ্ঞ পোকা কইয়াছিলো এইরুপ শিশুকে নিরাশ করিতে নাই, বাদাম কিনার দরুন, এক টাকার একখানা খুচ্‌রা পয়সা ছিলো, যেইটা এক্ষনে ওই শিশুর তেল চিট্‌চিট্‌ ময়লা থলেতে শোভা পাইতেছিলো। রমনীকে আমি দেখিতেছিলাম কাব্যিক চাহনিতে, আমার বিজ্ঞ পোকা এখনো তাহার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করিলনা, কারণ, সেও আমার মতই ওই রমনীর দিবা স্বপ্নতে বিভোর! গুটি গুটি পায়ে শিশুটি দিবা স্বপ্নের জননীর নিকট গিয়া, তাহার একান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করিলো। আহা, আমিও যদি আমার একান্ত ইচ্ছা তাহার নিকট প্রকাশ করিতে পার্‌তুম!!

রমনীর হাতে বাদামের পোট্‌লা ছিলনা, তাই হয়তো নাবালকটিকে সে হতাশ করিলো। কোথায় জানি পড়িয়াছিলাম, সাফল্য হইল ইচ্ছা শক্তির আকার, যাহার ইচ্ছাশক্তির আকার যত বড়, তাহার তত বড় সাফল্য। সরু কথায়, আঠার মত লাগিয়া থাকাই সাফল্যের বাহক। শিশুটি আঠার মতই রমনীর পিছু লাগিয়া রইলো। শিশুর এমন আচরনে আমার আর বিজ্ঞ পোকার দিবা স্বপ্নে কিঞ্চিত ব্যাঘাত ঘটিলো, ভুরু কুঞ্চিতো হইলো। মনের কোনায় ওই শিশুটির জন্যে যাহা জন্মাইলো, তাহা প্রকাশ করিলাম না, তবে কেউ কাউকে সুঁচ্‌ ফুটাইয়া দিলে মনে যেরুপ ভাবের উদয় হয়, ব্যাপারটা এইরুপ!! শিশুটার উত্‌পাত্‌ ক্রমশ বাড়িতে থাকিলো! রমনীর করুন দশায় আমি আহত হইলাম!

রমনী এহেন সময়ে অভাবনীয় এক কান্ড ঘটাইলো! মাঝারী আকারের এক খানা ধাক্কা!!! এটা সামলাইতে না পারিয়া শিশুটি লুটাইলো মাটিতে। আমার দেয়া সেই পয়সা খানা থলে হইতে গড়াইয়া আমার পাদ দেশে আসিয়া থামিলো। রমনীর চশ্‌মা এতক্ষনে নাকের ডগা হইতে হাতে নামিলো। তাহার আঁখি দর্শণ হইলো। আহা! নীলাঞ্জণার নীল আস্‌মানে হারানোর কথা ছিলো, কিন্তু হারাইলাম লুটাইয়া পড়া আহত পাখিটির কাতর চোখে, শিশুটি খাড়াইয়া দাড়াইলো। কুড়াইয়া লইলো তাহার ছুটিয়া যাওয়া পয়সা খানি! শিশুটির ইচ্ছাশক্তির পতন হইলো, আর আমার ভাঙ্গিলো দিবা স্বপ্ন! গুটি গুটি পায়ে সে প্রস্থাণ করিলো! রমনীও তাহার আপন পথে আগ্রসর হইলো। আমার চাহনী এখন গমনরত আহত প্রাণটির মেরুদন্ডের দিকে। বিজ্ঞ পোকা কইলো, এই মেরুদন্ড বাস্তবতার দন্ড, এটা বাস্তবতা। আমি কইলাম, "তাহা হইলে সেই রমানী??" পোকা কইলো, "ওইটা দিবা স্বপ্ন"।

এই দিবা স্বপ্ন ভঙ্গের লাগি ব্জ্রপাত হয়নাই! আমার বাদামের থলে তখন বিষের গোটার থলে হইয়া গেলো। পোকা কইলো, "থলেটা ফালাইয়া দাও"। এই প্রথম পোকার কথাটা আমার মনে ধরিলো, থলেটা ছুড়িয়া ফালাইয়া দিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28728628 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28728628 2007-08-31 01:23:13
বিজ্ঞ পোকার নিদ নাই ....

খালাশি ততক্ষণে আমাদের মালামাল বুঝাইয়া দিলো। আমার কিছু নিত্ত প্রয়োজনীয় বস্তু আর কিছু শুকনা খাবার সঙ্গে ছিলো, আর বিজ্ঞ পোকার ছিলো কিছু মুঘল আমলের ভারী ভারী পুস্তক!


বিজ্ঞ পোকা আমারে কইলো, "বই গুলো তোমার কান্ধে লও!!" আমি তাই লইলাম, কিঞ্ঝিত বুদ্ধি আমারও আছে হয়ত, তাই আমার মালামাল আমি পোকার কান্ধে চড়াইবার কথা অন্তরেও ঠাঁই দিলাম না! কিন্তু, অল্প দূর হাঁটিতেই আমার পদযুগল চলিতে চাইলোনা যেনো আর!! আমার এহেন অবস্থা দেখিয়া বিজ্ঞ পোকার মায়া হইলো, খেলুয়া এক বালককে কাছে ডাকিয়া কইলো, "তোমার সমস্ত মালামাল আর আমার পুস্তক গুলান এই বালকের ঘাড়ে চাপাইয়া দাও" কিঞ্চিত ইতস্তত হইয়া তাহাই করিলাম । দেখিলাম, বালক আনন্দচিত্তে, হাঁটিতে লাগিলো এক পাহাড় মালামাল আর এক জাহাজ বিদ্যা লইয়া!! স্মিত হাসিয়া পোকা কইলো, "ইহারা কুলি, পরের মালামাল ঘারে লইয়া গন্তব্যে পৌছাইয়া দেয়, বিনিময় এ পেট আর পিঠ দুইটিই বাঁচায়..."


যে মাটিতে নামিলাম, তাহার বাহারি রূপ আর কি কইবো, কিন্তু, মরুর দেশের উট গুলি বালক বেশে কি সুন্দর পথে চলিতেছে!!! আমিও আমার বিজ্ঞ পোকাটিকে, আপনার আপন ঘাড়ে চাপাইলাম । বালক পথে চলিলো, আমিও চলিলাম । বালক নিজের পিঠ আর পেট সামলায় আর আমি করি পোকার তর্‌যমা সরু বাংলায়, বিজ্ঞ পোকার মরুর উট!! বালক নাকি নিজের গতর খাটায় আর আমি???


একেক দেশের আথিতেয়তা একেক রকম । এই খানে আমায় কেহ আমন্ত্রণ জানাইলোনা, অথচ বড়ই নাম ডাক শুনিয়া তবেইনা এই খানে আসিলুম!! যাহাই হউক, আমি আপাতত এই জাহাজ বন্দরে ঘাঁটি গাড়িলাম । হাতে বিস্তর সময়, খানিক্ষণ ঘুমাইয়া লই । বিজ্ঞ পোকা তাহার ভারী ভারী পুস্তকের মাঝে হারাইলো । তাহার একান্ত ইচ্ছা, সে নাকি আমার মত গাধা পিটাইয়া মানুষ করিবে । ইহা আমার কাছে ফুটা ফানুষের মহাকাশ ভ্রমনের শামিল!! ইহা ভাবিতেই আমার অন্তরে হাসির উদ্রেক হয় । কিঞ্চিত বাঁকা হাসিতে আমার নিদ্রা আসিলো, আর নিদ্রা ভাঙ্গিলো পেঁচার মত মুখ করিয়া!! সে কথা আরেকদিন কইব... শুধু এখন এইটুকু জানেন যে, আমি এখনো গাধাই রইয়া গিয়াছি!! বিজ্ঞ পোকার নিদ নাই ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28728350 http://www.somewhereinblog.net/blog/biggopokablog/28728350 2007-08-29 04:04:13