somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কয়েকটি অপার্থিব প্রহরে ছায়াসমূহের কান্নার হামাগুড়ি

১৫ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাশাপাশি তিনটে ছায়া পরেছিল , জোছনায় । মেঘের টুপি পরা খোলা চাঁদের তৈরী তিনটি আল্পনার চেয়ে বহুদূরে, তিনটি চন্দ্রপীড়িত উদ্ভ্রান্ত আত্মার আবদ্ধ হাঁসফাঁস । বিবর্ণ চাঁদকে ঐ মুহূর্তে শ্বাশত মনে হয়নি । মেঘ আর চাঁদের বিবাদ, জোছনার কণায় ভর দিয়ে অলৌকিক পরিবেশে তিনটি আত্মার অবচেতনে এক ঘূর্ণন তৈরী করেছিল বোধহয় । তাই বোধহয় সকলেই নিঃশব্দ থেকেছিল, আর আমি শুনেছিলাম স্ব্‌র্গ যেন নিতান্তই অপার্থিব প্রতুলতা , আর এই রাত, এই জোছনার হলদে কবিতা অবশ্যই পার্থিব অপ্রতুলতা ।

তিনটি ছায়া নড়েচড়ে উঠেছিল, তারপর । কন্ঠে যেন বহু দিনের মাতাল শরীর বেজে উঠেছিল কার-


একটা মাগী ও তো দেখিনা, হাশিম্যা !
ওই দিকটা আইনধার আছিল, ভালা ই বড় আছিল বেঞ্চিটা, এরম রাইত আর পামু না ।
রাস্তার বাতিগুলান কি নষ্ট না কি কারেন্ট বড়লোকের বারিত বাইজী নাচে ? খানকীর পোলা, মেয়রের মায়েরে ............

এই বলে রশিদ মাতালের আটপৌরে হিক তুলে তার বাক্যটা অসমাপ্ত রেখেই শুনতে লাগল হাশিমের খিস্তি -


এই বাঞ্চোত,হারামীর বাচ্চা রশিদ্যা, তর মাতায় খালি মাগী লাগানোর চিন্তা ! শুয়ারের আওলাদ হালা । দেখ, ঐ চানটারে দেখ, কী সুন্দুর , ক্যাম যেন নেশা লাগে । কালা কালা মেঘগুলান চান্দের পসর দিয়া আমারে যেন্‌ ডাকতাছে । হালার পুত - মদ্যামি করস - মাগী ছাড়া কিছু বুঝস না ?

রশিদের চেতনায় খেলে যায় - যে তাকে মাতাল বলে গালি দিল, সেও ঝাড়ি মাতাল । কিন্তু মদের নেশা রশিদের চেতনার খেলাকে বাতাসে কোন সহজ কম্পন তুলতে দিলনা ।

হাশিম বাজিয়ে চলে, মদ্যপ বিষন্নতা ।

ভিত্‌রে কিয়ের যেন কান্দন জাগেরে রশিদ্যা । মনে হইতাসে আমি কোনদিন মরুম না ।এমুন সুন্দর যে দেখছে, সে কি মরতে পারে কুনু দিন?

রশিদের টলটলে মন্তব্য, হাশিমের বধির মহাবিশ্বে প্রবেশ করে, কিন্তু কোন আলোড়ন তোলে না ।
ঃ তোর নেশা জমছে, হারামীর পুত !

অনেকক্ষণ আলোর ঔজ্জল্যের মত শাব্দিক থাকার পরে গাঢ় দাম্ভিক নৈঃশব্দ ফিরে এলে, দাম্ভিক নৈঃশব্দ যেমন গাঢ় অন্ধকার জাগায়, তেমন নৈঃশব্দ জনিত অন্ধকার চন্দ্রালোকিত হয়ে ভাসছিল , তিনটি ফাঁপা আত্বার ভেতরে, অনেকক্ষণ । আর শুধু বাস্তবিক নিয়মে চরাচরের স্তব্ধতা ভেংগে দিয়ে যাচ্ছিল রাতগাড়ি গুলো । বিপন্ন আত্মাগুলোকে যেন স্পর্শ করছিল না সেইসব শব্দ ।

হঠাৎ বেঞ্ছটার রাস্তার ওপারে বিলক্ষণ মৃতের মত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে থাকা, দাড়ানো বন্ধ থাকা বাতিটা জ্বলে উঠল । অমনি ই চাঁদের আলো চপলতার সাথে ঐ বাতিকে সন্দেহ করে, কোথায় যেন উদাসীন ভাবে হারিয়ে গেল ।

বেজে উঠল, হাশিমের তীক্ষ্ণ, আর্ত কন্ঠ -
ঃ ওরে, আন্ধারই তো ভাল আসিল । চান্দের আলোর আন্ধাইর ! ওরে আন্ধাইর, তুই কই পালাইলি ?

তারপর রশিদের দিকে, সোডিয়াম আলো পরা মুখের দিকে তাকিয়ে আচ্ছন্নের মত শাপন্ত করল ।
ঃ কি দরকার আসিল বাতি নিয়া কতা কবার ? দিলি তো বাত্তিটা আইন্না !

রশিদ, হাশিমের প্রত্যুত্তরে কিছু না বলে ডান হাত দিয়ে হাওয়ায় আবর্তন করল কয়েক বার, তারপর বিড়বিড় করল, যেন সবার অলখে । আবার নৈঃশব্দ, চরাচর জুড়ে বাজতে লাগল রাতগাড়ির শব্দ ছাপিয়ে । ঐ দূরে ফ্ল্যাটবাড়িগুলোতে সমস্ত আলো নভেনি । কি করে ঐ গার্হস্থ্য মানুষের দল ? মধ্যরাত পেরিয়ে যাবার পরে এইসব অবান্তর লাগছিল যুবকদের । সবকিছু ছাপিয়ে একটা কষ্ট বাজছিল তাদের হৃদয়ে । কিসের কষ্ট ? কেউ কি জানে ?

দুঃখগুলোর আশেপাশে, তিনটি ছায়ার পাশে, যখন আরো একটি ছায়া জাগে , নারীর ছায়া - ঈশ্বরীর ছায়া, তখন রাস্তার বাতিটি আবারো নিভে গেল । উদাসীন চাঁদ যেন নিঃসন্দেহে পরম নির্ভরতায় ফিরে এল তিনটি ছায়ার মধ্যে । মানুষীর ছায়াটি - অপার্থিবতা নিয়ে এগিয়ে আসছে, আরো তিনটি অপার্থিব ছায়ার দিকে । যুবকদের মনে হ্ল, এইসব তাদের কল্পনা, স্বাপ্নিক নিয়মের যথার্থ বাস্তবতা । মানুষীর কি মনে হয়েছিল , আমি সেটা জানি না ।

তিনটি পুরুষ আত্মার ছায়া, সে মানুষীর ছায়ায় দেখতে পেল একটা পুরো শরীর, নারীর শরীর । তারা তখন বোধের মিলনে দেখেছিল, এক রাত উদ্দীপনা ছায়াসমেত শরীর নিয়ে হাজির হয়েছে । তার ঠোঁটের কোনে হাসি, চোখে কান্নাসহ আদিম আহবান । অথবা কান্না ছিল না । আমি ভুল দেখেছি - যেমন আজ রাতে ঈশ্বরীর স্বপ্ন আজ রাতে বদলে যায় ।

আমার মনে হয়েছিল - চারটি বিপন্ন আত্মা চাঁদের কষ্টের নিচে দোদুল্যমান আলো আঁধারিতে একা একা রাতভর কাঁদছে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩৪
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×