৭১ দেখি নি । শুনেছি, পড়েছি - সংগ্রামের দুঃসাহসী এক অগ্নিলতা, এক শীতল শোষক বৃক্ষের শরীর বেয়ে তরতর করে ৯ মাসের মধ্যেই বেড়ে উঠে বৃক্ষটিকে প্রায় পুরোটাই পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেই অদ্ভুত অগ্নি সময়ে গাছটির কিছু ডালপালা গজিয়ে যায় - অদ্ভুতভাবে ডালপালাগুলো সেই পবিত্র অগ্নিলতারই জাতিগত । পুড়ে যাওয়া গাছটির ছাইকনা বাংলার সুনীল আকাশে উড়ছিল ১৬ ই ডিসেম্বরে বিজয় বেলুন হিসেবে ।
দুর্ভাগ্যবশত, ভষ্মীভূত গাছটির কিছু আধপোড়া ডাল পালা থেকে যায় বাংলারই মাটিতে । জানি না, সেই আধপোড়া ডালগুলো প্রকৃতির কোন খেয়ালে আবার চমতকার অভিযোজনে বেড়ে উঠেছে ৩৬ বছরে আবারো গাছ হিসেবে - না, তারা কিন্তু এবার আর শোষকের সেই কন্টক গাছটি নেই, এখন তারা ধর্মীয় ত্বক গায়ে এটে নিয়ে ভিতরে কন্টক কাঠ অতি গোপন গভীরে রেখেছে ।
আমি গাছটির কাছে গেলাম, বোধ ও বুদ্ধির সম্মিলনে ত্বক ফুড়ে কাটার আঘাত গায়ে লাগলো বলে অনুভব করলাম । অনেকেই অনুভব করেছেন । অনেকেই প্রকাশ করেছেন । আমিও প্রকাশ করতে গেলাম আমার অনুধাবন । ধর্মীয় ফুলেল ত্বকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কন্টক কাঠের কথা বলতে গেলাম । বলেও দিলাম । এবার ত্বক ফুড়ে বেরিয়ে এল সেই কন্টক হূল । আমাকে রক্তাক্ত করলো ! আমার হৃদয় রক্তাক্ত করলো !
জ্বী ! আমি বিবিসির কাছে দেয়া জামাতের প্রক্তন আমীর গোলাম আযমের একটি সাক্ষাতকার পোষ্ট করেছিলামআমার ব্লগে । সেই পোষ্টের কমেন্টে জামাত শিবির সমর্থক এক ব্লগার আমাকে বল্লেন আমার নাগরিকত্ব না কী প্রমাণ সাপেক্ষ ! গোলাম আযম না কী দেশের সার্টিফাইড নাগরিক !
বন্ধুগন, মন্তব্যটি দেখুনঃ
জাহান্নামের ইমামের ফাল ফলানির কি হইলো??
তুমি বাংলাদেশের নাগরিক প্রমাণ করতে হইবো।
কিন্তু গোলাম আযম সুপ্রিম কোর্ট কতৃক সার্টিফিকেটধারী বাংলাদেশী নাগরিক।বিচার চাই বিচার চাই... মামলা করতে পারুম না.... মামলা করলে প্রমান কই?... স্লোগান দাও ।
হাহ ! আমার চেয়ে গোলাম আযমের নাগরিকত্বের সুনির্দিষ্টতা !! তিনি তাহলে আমার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক ? মনে হয় ঠিকই বলেছেন শ্রদ্ধেয় সুশীল ব্লগারটি । গোলাম আযমের দেশপ্রেমের প্রমাণ আমরা তো পেয়েছি ৭১ এ, ৭১ এর পরেও । চলুন আবার দেখি গোলাম আযমের দেশপ্রেমঃ
১) স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে রিয়াদে মুসলিম যুব সংস্থা আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামী যুব সম্মেলনের প্রথম অধবেশনে যোগ দেন গোলাম আযম । সম্মেলনে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার' জন্য ঝাপিয়ে পড়তে সারা মুসলিম জাহান কে আহবান জানান ।
২) ১৯৭২ এই গোলাম আযম লন্ডনে গঠন করেন 'পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি' ।
৩) ১৯৭৩ সালের মার্চে লিবিয়ার বেনগাজীতে অনুষ্ঠিত ইসলামী পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনে কোন রকম আমন্ত্রন ছাড়া উপস্থিত হন এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়ার জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানান ।
৪) ১৯৭৩ সালের জুলাইতে গোলাম আযম লিবিয়াতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে 'গোলামীর জিঞ্জির' বলে উল্লেখ করেন ।
হাহ ! আমার প্রমাণ দেয়া লাগবে ! গোলাম আযমের লাগবে না !!
অতি দীঘল কৃষ্ণপক্ষ, জোছনার পাত্র দাও মা কান্না জমাবো অনেক ফোঁটা !!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


