আমার প্রিয় পোস্ট

বৃষ্টি রাতে ... ভাবনা গুলো মেঘের সাথে উড়ে ...

দাঁতাল নকশা ও অন্য কোন বিভ্রান্তি

২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৩০

শেয়ার করুন:                   Facebook

যখন খুব অল্প পরিচিত রুয়া ঊঠা নেড়ী কুকুরটা তার পাশে বসলো, কুকুরেরা যেভাবে বসে সেইভাবে, মনসুরের মনে হলো তার পাশে একজন মানুষ চাই । ঘন্টাখানেক একইভাবে ঝিম মেরে, ডিম প্রহরী উষ্ণতাদায়িনী মুরগীর মত সে উত্তপ্ত করছিল বা পাহারা দিচ্ছিল ব্যাস্ততাহীন মাটি আর তার নিতম্বের মধ্যেকার বায়বীয় শূন্যতা । আকাশ একটু মেঘলা, কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছেনা । সাত সকালে, আসমা কাজে বেরুবার ঠিক আগে বিছানায় মৃদু আলস্যের সাথে সংগ্রামরত মনসুরকে বলে গিয়েছিল, চালের ফুটার নিচে কাসেম মিয়ার ভাংগারীর দোকান থেকে কেনা জং ধরা বালতি টা যেন পেতে দেয়, নতুন লেপা ঘরের যেন শ্রী হত্যা না হয়ে যায় । সে এখনো তা দেয়নি । পুরোপুরি মিউয়ে যাওয়া মুড়ি দিয়ে সকালের খাওয়া টা সারার পর থেকেই তার ঘরের পিছনের দিকে এসে তার এই ঝিম অবস্থান । ঝিম অবস্থাটা কাটানোর জন্য , মানুষ চাই ।

কুকুরটা লেজ নাড়ছে এমনভাবে, যেন কোন নৈকট্যের সন্ধান পেয়েছে । বস্তির এই নির্জন পেছনের দিকটা মনে হয়, নৈকট্য তৈরীর জন্যই স্বাভাবিক । গেল হপ্তায় মনসুরের দোস্ত উসমানের ছেনাল বউটা, পাশের ঘরের ছোট লস্করের সাথে এখানে এসেছিল । বস্তি মালিকের অনেক দিন গরিমসি করার পরে অবির্ভূত বস্তির এই সীমানা দেয়াল ও তার ঘরের পেছনের জায়গাটুকু, যাকে অধো অন্ধকার করে রেখেছে তিনটি অফলা নারিকেল গাছ, সেই আধো অন্ধকারে দুজন আধানেংটা আলুথালু মানুষকে সুউচ্চ বিকারের সাথে তার ঘরের বেড়ার ফুটা দিয়ে দেখে ফেলেছিল । আজন্তে হাত চলে গিয়েছিল লুংগির নিচে, দু উরোর ফাঁকে এবং ব্যাথার কুকড়ে উঠেছিল । উত্তেজনায় ভুলে গিয়েছিল, নিভৃত, অনেক দিনের ক্ষুদার্থ অংগে বিষফোড়ার কথা । তার যন্ত্রনার অস্ফুট শব্দে ভীত হয়ে পরেছিল দুটি উত্তেজিত বিভ্রান্ত শরীর , তৎক্ষনাৎ আদিমতা মেরামত করে , শরীর ঢেকেঢুকে পালাল দুজন ।

প্রায় তিনমাস আগে, যে রাতে আসমার সাথে , বিছানায় স্বরনাতীতকালের সবচেয়ে বেশী হুলুস্থুলু হয়েছিল, তার পরের দিন সকালে জলবিয়োগের সময় মনসুর অনাহূতভাবে আবিষ্কার করে, তার অন্ডকোষে ব্যাথ্যা আর লালা চাকা চাকা দাগ । একটু পরেই তার রিকশা নিয়ে বের হয়ে যাবার কথা ছিল , কিন্তু ব্যাথার জন্য বের হতে পারে নি । আসমা চলে গিয়েছিল কাজে, সে যে বাসায় কাজ করে, সেই বাসার খালা, খালু আর ভাইয়া ৮ টার মধ্যে বের হয়ে যান । তাই অনেক ভোরেই বের হতে হয় তাকে । সারা সকাল দুপুর ব্যাথায় কাতরানোর পরে আসমা এসে, তাকে ধরে ধরে দক্ষিণ বাজারের বুড়া ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল । কয়েকটা ঔষুধ আর মলম লিখে দিয়ে ডাক্তার বলেছিল সাপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে । সেই সাপ্তাহ আজো পার হলো না ।

তাই সে ঘরে বসে থাকে, সকাল দুপুর । দুপুরে আসমা খাবার নিয়ে আসে, সে সেগুলো গোগ্রাসে গিলে, একই ব্যবস্থা রাতেও, তার আগে আসমা আবার কাজে চলে যায় । পশুর মত খাটে মেয়েটা সারাদিন আর সে সময়টা ঢের ঢের অবসর । ঘরের পেছন দিকটায় এসে বসে শূন্যতাকে উষ্ণতা দেয়, পড়শীদের নিত্য দিনের ঝগড়া, অশ্লীল খিস্তি খেঊর শোনে । আসমা ভালো মেয়ে, তাকে তার সাম্প্রতিক অকর্মন্যতা নিয়ে কথা শোনায় না ।

এই মাত্র বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল । মনসুর উঠে গিয়ে বালতি টা পেতে দিল । এখন ঘরে বসে বসে আসমার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কাজ নেই । বালতি পাতা মাত্রই যখন অসমার জন্য অপেক্ষা করা শুরু করতে যাবে, তখনই আসমা দৌড়াতে দৌড়াতে ঘরে এসে ঢুকল । তার হাতে দুটো খাবারের প্যাকেট । মনসুর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলোঃ

- এতো তারাতারি চইল্ল্যা আইলি যে!
- খালা বাসায় নাই, দ্যাশে গ্যাছে, ভাইয়াও নাই, খালু একলা বাসায়, কাজ নাই, তাই চইল্যা আইসি । দ্যাখো, তুমার জইন্য কি আনছি !
- কি? কি আনছোছ ?
- বিরানি, বিরানি আনছি । ছাগলের। লও, খাইয়া লও ।
- কই পাইলি বিরানি?
- খালু কিন্না দিছে ।
- বিরানি কিন্না দিলো কেন? কি জইন্নে দিসে ?
- দিতে ইচ্চা হইসে, দিসে । আর কথা কইয়ো না তো! লও খাইয়া লও ।

মনসুর কথা বাড়ালো না । বড়লোকদের খেয়ালগুলো সে বুঝতে পারে না, তেমন । হাত ধুরে খেতে বসলো । প্রথম লোকমা দিল মুখে । আহা কি স্বাদ ! ............

দুজনে খাওয়ার পরে একটু শুল । আসমা এমনিতে শোয় না । ফুসরৎ পায় না । আজকে আর কাজে যাওয়া লাগবে না । খালু নাকী বলে দিয়েছে ।

হঠাৎ মনসুর একহাত রাখলো আসমার পুষ্ট বাম বুকে । আসমা কেঁপে উঠল একটু , এভাবে সে কাঁপে না , এরকম সময় । কাল সন্ধ্যায় তো এই রকম আধাখেচরা করেছিল, তখন এমন করেনি । মনসুর ব্লাউজের হুক খুলতে লাগল । আসমা নিথর । বেরিয়ে গেল, কালো তুলতুলে ।

ঠিক ডান স্তনের বোটার বাম পাশে পরিস্কার দাতের ছাপের মত দেখতে পেলো । কাল সন্ধ্যাও তো এটা ছিল না?

চকিতে খালুকে সে দেখতে পেল আসমার বুকে দাঁত গুজেছেন । বসিয়ে দিয়েছেন দাঁত । আসমা কি সুখ পাচ্ছে ? আসমার মুখটা দেখার চেষ্টা করলো । না , আসমা সুখ পাচ্ছে । কিন্তু মুখটা বিব্রত , বিভ্রান্ত ও সুখী । ঠিক যেন উসমানের ছেনাল বউটার মতো ।

ধ্যাত্ত্যেরি ! কি ভাবছে এসব ! এটা সেই হয়তো দিয়েছিল, কাল রাতে, ঘুমের ঘোরে !!

আসমা মনসুর চোখের বিভ্রান্তিকে দেখতে পেল । মনসুর ভেতরের সন্দেহের দোলাটা টের পেল !

হঠাৎ বলে উঠলো আসমাঃ
- আজকে বিরানি টা অনেক স্বোয়াদের হইছে না আজকে?

 

 

  • ১২ টি মন্তব্য
  • ১৭২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৮ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:৫৫
comment by: শফিউল আলম ইমন বলেছেন: ভিন্নধর্মী গল্প। যথারীতি চমৎকার লেখনি।
ভালো লাগল খুব।

কি ব্যাপার প্লাস দিচ্ছি কিন্তু দেখাচ্ছে না???:(
২. ২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৫০
comment by: মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: কুর্চীমুরগী।


পইড়া ভালা লাগছে।
৩. ২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:০০
comment by: মুকুল বলেছেন: হু ম ম
৪. ২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:০১
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: ওয়াও!!!!!!

+++++++
৫. ২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:০১
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: ওয়াও!!!!!!

+++++++
২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:০৭

লেখক বলেছেন:
আকাশ চুরি ভাই, আপনাকে কখনো সমালোচনা করতে দেখি না । গল্পটার একটু সমালোচনা করেন তো !

৬. ২০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১১:৩২
comment by: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: কাহিনী মোটামুটি ব্যতিক্রম, ভাষা তো শৈল্পিক যথারীতি; আর গল্পের গতিময়তাটি বিষম (এটাকে নেতিবাচক বলছিনা), প্রথম দুই অনুচ্ছেদের গতি বেশ ধীর, পরবর্তীতে গল্প তরতরিয়ে এগিয়েছে।

ধন্যবাদ; ভালো থাকুন, ভালো লিখুন।
৭. ২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ২:২৩
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: প্লট টা একদম অভিনব কিছু বলতে পারলাম না,কিন্তু লেখার গুণেই উৎরে গেছে (এখানে বলে রাখা ভাল,প্রত্যাশা বেশি বলেই এইটুকু সমালোচনা,নইলে অন্য কারো লেখা হলে নির্দ্বিধায় অসাধারণ বলে চালিয়ে দিতাম)
৮. ২১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ২:২৯
comment by: রাতিফ বলেছেন: আমার কাছে লেখাটা দারুন লাগছে..........একটা সাধারণ গল্প যে একটা অসাধারণ লেখনীর কারণে কতোটুকু অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে, তার প্রমান এই গল্প।


ভালো থাকুন।
৯. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: সিহাব ভাই, আমি সমালোচনা করতে পারিনা! :D

তাছাড়া শব্দ আর বাক্যের পোক্ত গাঁথুনি, গল্পের ভাঁজে-ভাঁজে মানিক ব্যানার্জির স্বাদ!!
১০. ২৩ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫১
comment by: আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন: আকাশ চুরি ভাই যদিও মানিকের গন্ধ পাচ্ছেন আমি পাচ্ছি আখতারউজ্জামান ইলিয়াসের.......

অসাধারন,,,,,,অসাধারন,,,,,,,

হ্যাটস অফ টু ইউ।
১১. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: এটা একখান বলার মত ক্রিয়েশন !!!!

 



 


পড়াশোনার পাট্‌ আপাতত স্থগিত । বি এস সি পাস করেছি , ক্‌ম্পিউটার কৌশল , আই ইউ টি - গাজীপুর থেকে,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২২৮৪৮