শুনেছি সুখেই বেশ আছো

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:০০

শেয়ার করুন:                   Facebook

আজ অফিস থেকে ফেরার সময় আবার সব উলট পালট হয়ে গেল। অফিসের বাস সেই লেকের পাশ দিয়ে ফিরছিল। লেকের ওপারে সূর্য ডুবছে। এ পারে সেই কৃষ্ণচূড়া গাছ। যার নিচে বসে তুমি আর আমি কত সুর্যস্ত দেখেছি।

তুমি প্রতি বিকেলে আমার অফিস ছুটির অপেক্ষা করতে ওই ছোট্ট রেস্তোরাতে। পাঁচটা বাজা মাত্রই তাড়াতাড়ি পি.সি. বন্ধ করে আমিও এক দৌড়ে দুটো রাস্তা পরে তোমার কাছে। এক কাপ চা খেয়ে চলে যেতাম ওই কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে। ছোট দেয়ালটার উপরে পা ঝুলিয়ে দুজনে খুব নিবিড় হয়ে বসতাম।
তুমি আমার বাম হাতটা দুহাতে জড়িয়ে ধরে আমার কাধে মাথারেখে লেকের পানিতে আকাশের ছায়ায় ভাসতে। বাচ্চাদের মত পা দুলাতে দুলাতে টুকটুক করে কত সব আবোল তাবোল গল্প হত আমাদের।

তোমার একটা অদ্ভুত অভ্যস ছিল! আমার কাধে মাথারেখে কুট কুট করে কাধে কামড় দেয়া! আমি মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে বলতাম –“এই কি কর?”। তুমি প্রশ্ন শুনে খিলখিল করে হেসে উঠে বলতে-“তোমাকে আমার একে বারে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে !”। আমি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তোমার চোখে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করতাম এর অর্থ। তুমি তার পাত্তা না দিয়ে বর্ননা করতে বসতে কি ভাবে আমাকে খাবে -“ তোমাকে ব্লেন্ডারে ভরে.. বেশী করে চিনি দিয়ে গুলে... ”। আমি বাধা বলতাম-“থামো.. থামো.. একটু ওন্য ভাবে খাওয়া যায় না...?”। তুমি ভুরু কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেস্টা করতে কিছুক্ষন। তার পর অর্থটা বোঝা মাত্র কপট রাগের ভঙিতে দাত কিটমিট করে বলতে –“শয়তান....তুমি একটা আস্ত শয়তান....”। বলতে বলতে আমার হাতে এক খামচি। চারটা নখের দাগ বসে গেল গভীরে। “ আর তুমি একটা ডাইনী”।

এই ১১,১২,১৩ নম্বর রোড ধরে কত সন্ধ্যা কেটেছে তোমার হাত ধরে হেটে হেটে। আমরা খুব ছেলে মানুষ ছিলাম। আমাদের খুব মজার একটা খেলা ছিল - রাস্তায় জমে থাকা বৃস্টির পানিতে দুজন দুজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবার চেস্টা । রাস্তার লোক জন কেউ বিরক্তি ভরে, কেউ বা কৌতুহল ভরে তাকিয়ে দেখত এত বড় বড় দুটো ছেলে মেয়ে বাচ্চাদের মত কি সব করে! আমরা সে সবে উদাসীন – দুজনে দুজন বিভোর । কে কি মনে করে তাতে আমাদের কি আসে যায়! আমরা আমাদের নিয়েই ছিলাম খুব সুখী।

তোমাকে অনেক যন্ত্রনা করেছি। যখন তখন জোরে তোমার কানটা মলে দেয়া, কথা না শুনলে হাত মুচড়ে ধরা, আর একটু আড়াল পেলেই তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চুলের মধ্যে মুখ গুজে দিয়ে বুক ভরে নিতাম তোমর চুলের গন্ধ। মাঝে মাঝে এত জোরে বুকের মদ্ধে চেপে ধরতাম যে তুমি হাস ফাস করতে করতে বলতে -“ ছাড় শয়তান...রাক্ষস কোথাকার..”। কি করতাম আর বল , তোমাকে কাছে পেলেই যে আমার বড় উত্তাল হতে ইচ্ছে হত। তোমাকে কাছে পেলেই যে আমার থাকতোনা নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রন। একটা তুলতুলে বিড়াল ছানার মত তোমাকে খুব আদর করতে ইচ্ছে করত।

....

তোমার বিয়ের খবর পেয়েছি। এটাও জেনেছি যে সংবাদটা যেন আমার কানে পৌছায় সে জন্য তোমার সুর্নিদিস্ট নির্দেশ ছিল।

আমার কোন অভিযোগ নেই – না তোমার প্রতি, না তোমার পরিবারের কারো প্রতি। আর অভিমান....? জানি না..। আমি ভাল আছি। খুব ভাল আছি।

আছি নাকি!

....................................................

শুনেছি সুখেই বেশ আছো, কিছু ভাঙচুর আর
তোলপাড় নিয়ে আজ আমিও স্বচ্ছল টলমল
অনেক কষ্টের দামে জীবন গিয়েছে জেনে
মুলতই ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্বল।

এ আমার মোহ বল ,খেলা বল
অবৈধ মুদ্রার মত অচল আকাক্ষা, কিংবা
যা খুশী তা বল
সে আমার সোনালী গৌরব
নরী, সে আমার অনুপম প্রেম।

তুমি জানো পাড়া প্রতিবেশী জানে পাইনি তোমাকে
অথচ রয়েছ তুমি এই কবি সন্ন্যাসীর ভোগে আর ত্যাগে।
-হেলাল হাফিজ

 

 

  • ৪ টি মন্তব্য
  • ১৬৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৩৮
comment by: মুকুট বলেছেন: ভাই সকাল বেলাই এমন একটা শকিং নিউজ দিলেন?? মনটা খারাপ হয়ে গেলো!! স্যরি আপনার জন্য! কি করবেন বলুন মেয়েরা (সবাই না) এখন SO MUCH COMERTIAL বিয়ের ব্যাপারে! ভুলে যাবার চেষ্টা করুন নতুন ভাবে নিজেকে সাজান, যে যাবার বা চলে যেতে চায় তাকে যেতে দেওয়া উচিত! যাকে থামাবার নয় তাকে বাধনে জড়ায়ে লাভ নাই, একসময় না একসময় উড়াল দেবে!! কষ্ত করে কি লাভ বলুন! নিজেকে আরও যোগ্যতর স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রমাণ করুন তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল!

অনেক শুভকামনা আপনার জন্য!!!
২. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৫১
comment by: আগুন পাখি বলেছেন: অতীত অনেক নিষ্ঠুর। মাঝে মাঝে অনেক বিরক্ত করে। ভুলতে দেয়না। সময়-অসময় হানা দেয়। সত্যি ভালবেসে ছিলেন বলেই ভুলতে পারছেন না।
৩. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১:০৮
comment by: ধুসর গোধূলি বলেছেন: কামঅন ম্যান।
আপনে নিজেও একটা বিয়া কইরা কাউরে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন যাতে খবরটা জায়গামতো যায়। হেরপর আপনে আপনের বউরে লইয়া, আর আপনের প্রাক্তন প্রেমিকা তার সোয়ামীরে লইয়া সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন।

মুখ চ্যাংডাইল্যা বানাইয়া এইরম লেখা লেইখা কোন ফায়দা নাই মিয়া ভাই।
৪. ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:০২
comment by: বিহংগ বলেছেন: "শুনেছি সুখেই বেশ আছো, কিছু ভাঙচুর আর
তোলপাড় নিয়ে আজ আমিও স্বচ্ছল টলমল
অনেক কষ্টের দামে জীবন গিয়েছে জেনে
মুলতই ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্বল।

এ আমার মোহ বল ,খেলা বল
অবৈধ মুদ্রার মত অচল আকাক্ষা, কিংবা
যা খুশী তা বল
সে আমার সোনালী গৌরব
নরী, সে আমার অনুপম প্রেম।

তুমি জানো পাড়া প্রতিবেশী জানে পাইনি তোমাকে
অথচ রয়েছ তুমি এই কবি সন্ন্যাসীর ভোগে আর ত্যাগে।
-হেলাল হাফিজ ৫


 

 


প্রিয়তম পাতা গুলি ঝরে যাবে মনেও রাখবে না/আমি কে ছিলাম, কি ছিলাম - কেন আমি/
সংসারী না হয়ে খুব রাগ করে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৪১২