somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ছবি.. http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28752258 http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28752258 2007-12-18 15:14:33 শুনেছি সুখেই বেশ আছো
তুমি প্রতি বিকেলে আমার অফিস ছুটির অপেক্ষা করতে ওই ছোট্ট রেস্তোরাতে। পাঁচটা বাজা মাত্রই তাড়াতাড়ি পি.সি. বন্ধ করে আমিও এক দৌড়ে দুটো রাস্তা পরে তোমার কাছে। এক কাপ চা খেয়ে চলে যেতাম ওই কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে। ছোট দেয়ালটার উপরে পা ঝুলিয়ে দুজনে খুব নিবিড় হয়ে বসতাম।
তুমি আমার বাম হাতটা দুহাতে জড়িয়ে ধরে আমার কাধে মাথারেখে লেকের পানিতে আকাশের ছায়ায় ভাসতে। বাচ্চাদের মত পা দুলাতে দুলাতে টুকটুক করে কত সব আবোল তাবোল গল্প হত আমাদের।

তোমার একটা অদ্ভুত অভ্যস ছিল! আমার কাধে মাথারেখে কুট কুট করে কাধে কামড় দেয়া! আমি মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে বলতাম –“এই কি কর?”। তুমি প্রশ্ন শুনে খিলখিল করে হেসে উঠে বলতে-“তোমাকে আমার একে বারে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে !”। আমি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তোমার চোখে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করতাম এর অর্থ। তুমি তার পাত্তা না দিয়ে বর্ননা করতে বসতে কি ভাবে আমাকে খাবে -“ তোমাকে ব্লেন্ডারে ভরে.. বেশী করে চিনি দিয়ে গুলে... ”। আমি বাধা বলতাম-“থামো.. থামো.. একটু ওন্য ভাবে খাওয়া যায় না...?”। তুমি ভুরু কুচকে আমার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেস্টা করতে কিছুক্ষন। তার পর অর্থটা বোঝা মাত্র কপট রাগের ভঙিতে দাত কিটমিট করে বলতে –“শয়তান....তুমি একটা আস্ত শয়তান....”। বলতে বলতে আমার হাতে এক খামচি। চারটা নখের দাগ বসে গেল গভীরে। “ আর তুমি একটা ডাইনী”।

এই ১১,১২,১৩ নম্বর রোড ধরে কত সন্ধ্যা কেটেছে তোমার হাত ধরে হেটে হেটে। আমরা খুব ছেলে মানুষ ছিলাম। আমাদের খুব মজার একটা খেলা ছিল - রাস্তায় জমে থাকা বৃস্টির পানিতে দুজন দুজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবার চেস্টা । রাস্তার লোক জন কেউ বিরক্তি ভরে, কেউ বা কৌতুহল ভরে তাকিয়ে দেখত এত বড় বড় দুটো ছেলে মেয়ে বাচ্চাদের মত কি সব করে! আমরা সে সবে উদাসীন – দুজনে দুজন বিভোর । কে কি মনে করে তাতে আমাদের কি আসে যায়! আমরা আমাদের নিয়েই ছিলাম খুব সুখী।

তোমাকে অনেক যন্ত্রনা করেছি। যখন তখন জোরে তোমার কানটা মলে দেয়া, কথা না শুনলে হাত মুচড়ে ধরা, আর একটু আড়াল পেলেই তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চুলের মধ্যে মুখ গুজে দিয়ে বুক ভরে নিতাম তোমর চুলের গন্ধ। মাঝে মাঝে এত জোরে বুকের মদ্ধে চেপে ধরতাম যে তুমি হাস ফাস করতে করতে বলতে -“ ছাড় শয়তান...রাক্ষস কোথাকার..”। কি করতাম আর বল , তোমাকে কাছে পেলেই যে আমার বড় উত্তাল হতে ইচ্ছে হত। তোমাকে কাছে পেলেই যে আমার থাকতোনা নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রন। একটা তুলতুলে বিড়াল ছানার মত তোমাকে খুব আদর করতে ইচ্ছে করত।

....

তোমার বিয়ের খবর পেয়েছি। এটাও জেনেছি যে সংবাদটা যেন আমার কানে পৌছায় সে জন্য তোমার সুর্নিদিস্ট নির্দেশ ছিল।

আমার কোন অভিযোগ নেই – না তোমার প্রতি, না তোমার পরিবারের কারো প্রতি। আর অভিমান....? জানি না..। আমি ভাল আছি। খুব ভাল আছি।

আছি নাকি!

....................................................

শুনেছি সুখেই বেশ আছো, কিছু ভাঙচুর আর
তোলপাড় নিয়ে আজ আমিও স্বচ্ছল টলমল
অনেক কষ্টের দামে জীবন গিয়েছে জেনে
মুলতই ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্বল।

এ আমার মোহ বল ,খেলা বল
অবৈধ মুদ্রার মত অচল আকাক্ষা, কিংবা
যা খুশী তা বল
সে আমার সোনালী গৌরব
নরী, সে আমার অনুপম প্রেম।

তুমি জানো পাড়া প্রতিবেশী জানে পাইনি তোমাকে
অথচ রয়েছ তুমি এই কবি সন্ন্যাসীর ভোগে আর ত্যাগে।
-হেলাল হাফিজ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28750829 http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28750829 2007-12-11 09:00:03
ইসলাম নিয়ে যত তর্ক
আর দ্বিতীয় কথা হল- বিজ্ঞানের যে কোন বিষয় নিয়ে দুই একটা বই পড়ে কেউ কিন্তু নিজেকে মহা জ্ঞানী মনে করে তর্কে জড়ায় না। কিন্তু ইসলামের ব্যাপারে দুই একটা বই পড়েই আমরা নিজেদের কে যথেস্ট জ্ঞানী মনে করে অযথাই পক্ষে-বিপক্ষে তর্কে জড়িয়ে পড়ছি।

যেকোন সিস্টেমের ই ভাল মন্দ দুই দিক দিয়ে বিচার করা সম্ভব। কিস্তু বিচার করার আগে তো পুরো সিস্টেম সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানতে হবে। আংশিক জ্ঞান নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোন দিকেই তর্ক করা ঠিক নয়।

“কোরান একটা বই, লেখক মোহাম্মদ নামের এক লোক প্রায় ১৪০০ বছর আগে। আরবীতে লেখা। বাংলা এবং ইংরেজী অনুবাদ দুইটাই পড়া আছে।”

আরিফুর রহমান এর এই উক্তি নিয়ে যারা ক্ষুব্ধ তারা কিন্তু এটা ভুলে যাচ্ছেন যে কথাটা মোটেও নতুন নয়। শত শত বছরের পুরাতন। আর এত দীর্ঘ সময়েও এর ফলে ইসলামের মোটেও কোন ক্ষতি হয় নি। আর এ কথার কি জবাব দিতে হবে তাও কুরআনেই দেওয়া আছে। কিন্তু ক্ষুব্ধ ব্যাক্তিরা কেউই যেহেতু জবাবটা দিতে পারেন নাই তাই আপনাদের নিজেদের ইসলামের জ্ঞান নিয়ে যথেস্ট চিন্তার অবকাশ আছে। আর এভাবে না জেনে তর্ক করার ফলে ইসলামের ইমেজ নস্ট করার কারনে আপনাদের নিজেদের গুনাহ হতে পারে কি না সে ব্যাপারে একটু চিন্তা করতে পারেন।

অন্যদিকে, কিছু লোক যদি মনে করেন যে কোন ধর্ম বিশ্বাস ছাড়াই তাদের জীবন চলবে তবে তা একান্তই ব্যাক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু যারা ধর্মে বিশ্বাস করতে চায় তাদেরকে বেহুদা আঘাত করে এরাইবা কোন উদার মনবৃত্তির পুরিচয় দিচ্ছে। দুই একটা ধর্মের বই পড়ে যেমন ধর্মে পক্ষে তর্ক করা ঠিক নয়, ঠিক তেমনি দুই একটা এথিইস্ট এর বই পড়েই ধর্মে বিপক্ষে তর্ক করাটাও ঠিক নয়। তর্ক করতে হলে দুই দিকেই পুর্ন জ্ঞান থাকা বাঞ্চনীয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28749706 http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28749706 2007-12-06 10:31:32
দৈনন্দিন প্রেম

প্রেমের স্থায়িত্ত কত কাল?প্রেম কি ক্ষন স্থায়ী? নাকি সে চিরন্তন? প্রেমকে কবিতা, গল্প, উপন্যাসে সব সময়ই একটি স্বর্গীয় মহিমায় আবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আসলেইকি প্রেম এতটাই স্বর্গীয়?




এর জবাব পেতে আমাদের আগে জানতে হবে প্রেম কি? একটি ছেলে ও একটি মেয়ের পস্পরকে চাওয়াটাই কি প্রেম? প্রেমের সঙ্গা হিসেবে যদি আমরা মেনে নেই যে - একটি ছেলে ও একটি মেয়ের দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানের উদ্দেশ্যে পস্পরকে চাওয়াটাই প্রেম তবে আরো কিছু প্রশ্ন চলে আসে। এই চাওয়াটা দৈহিক নাকি মানষিক? এই চাওয়াতে কি ভবিষ্যতে সংসার গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকা বাঞ্চনীয়?




প্রেমের শ্রেনী বিভাগ করতে যেয়ে সাধারন ভাবে একে দু ভাগে ভাগ করা হয় - দৈহিক প্রেম ও মানষিক প্রেম। কিন্তু প্রেম কি শুধু মাত্র দৈহিক বা শুধু মাত্র মানষিক আকর্ষনে হতে পারে? না কি এ দুটোরই প্রয়োজন আছে এবং কতটুকু দৈহিক আর কতটুকুইবা মানষিক?




যে প্রেমে শুধুমাত্র দেহ স্বাদ অনুভব করে অখবা দেহের আকর্ষনে যে প্রেম তাকে আমরা পূর্ন দৈহিক প্রেম হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। এবং তা শুধুমাত্র হাতের স্পর্শ থেকে শুরু করে পূর্ন দৈহিক মিলন পর্যন্ত য়েকোনো কিছুই হতে পারে। শুধুমাত্র প্রেমিক/প্রেমিকার হাত ধরে বসে থাকাটাও দৈহিক প্রেমের অন্তর্গত বলে বিবেচিত হবে। এমনকি প্রেমিক/প্রেমিকার চোখের দিকে তাকিয়ে পুলক অনুভব করাটাও দৈহিক প্রেম। এক্ষেত্রে মানষিক অবস্থা বিবেচ্য নয়।




অন্যদিকে প্রেমিক/প্রেমিকার শুধু মাত্র যেকোন মানবীয় গুনাবলীতে আকৃষ্ট হয়ে যে প্রেম তাকে পূর্ন মানষিক প্রেম বলা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রেমিক/প্রেমিকার আচার-আচরন, স্বভাব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ঠের জন্য আকৃষ্ট হয়ে এ ধরনের প্রেম হয়। কিন্তু যে সম্পর্কে দৈহিক আকর্ষন অনুপস্থিত তা প্রকৃত পক্ষে বন্ধুত্তেরই নামান্তর মাত্র।




কি জন্য একটি ছেলে ও মেয়ে পস্পরের প্রেমে পড়ে? শরীর নাকি মন? অনেকেই তর্ক করবেন যে মানষিক একটা বিশাল প্রভাব এখানে রয়েছে। কিন্তু আসলেইকি তাই? কার মনে কি আছে সেটা বাইরে থেকে বোঝা মুশকিল। তাই মনের যেটুকু বাইরে প্রকাশ হয় তা নিয়ে বিশ্লেষন করলেই আমরা বুঝতে পারব মনের ভিতরে কি আছে। মনের সবচেয়ে ভাল প্রকাশ করেন কবি, সাহিত্তিকেরা। তাদের লেখায় কিসের ছাপ দেখি? দেশ কাল পাত্র নির্বিশেষে কবিতা ও গল্পে প্রেমিক প্রেমিকার দৈহিক রুপ সৌন্দর্যের প্রশংসাই খুজে পাই। কয়টা কবিতা বের করা যাবে যাতে প্রেমিক প্রেমিকার মানষিক সৌন্দর্যের প্রশংসা বর্ননা করা হয়েছে?




"যে কামনা নিয়ে মধু মাছি ফেরে বুকে মোর সেই তৃষা!
খুজে মরি রুপ, ছায়াধুপ জুড়ি
রঙের মাঝারে হেরি রঙডুরি!"
--জীবনান্দ দাশ



সুতরাং মানষিক আকর্ষন ছাড়া প্রেম হলেও হতে পারে কিন্তু দৈহিক আকর্ষন ছাড়া প্রেম হয় না।



প্রেমের উদ্দেশ্য কি? প্রেমের উদ্দেশ্য দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানের উদ্দেশ্যে সঙি নির্বাচন। প্রেম একটি গন্তব্য নয়, বরং এটি সঙি নির্বাচন এবং ধরে রাখার একটি প্রক্রিয়া মাত্র। প্রেমের জন্য দীর্ঘ স্থায়ী সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি জরুরী। তা বিয়ে হোক অথবা দীর্ঘ স্থায়ী সহঅবস্থান যাইহোক না কেন। যেহেতু পশ্চিমা বিশ্বে বিয়ে ছাড়াও সংসার গঠন করা হয় তাই এক্ষেত্রে “দীর্ঘস্থায়ী সহ অবস্থান” শব্দটিই ব্যাবহার করা উচিত। দীর্ঘস্থায়ী সহ অবস্থানের প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রেম হতে পারে না বা তাকে প্রেম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। পরবর্তীতে সে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানে পরিনত হোক বা নাহোক সম্পর্ক গঠনের সময় দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানের উদ্দেশ্য থাকা জরুরী। প্রেমের সর্বজন গ্রায্য পরিনতি হল দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থান। সাধারন ভাবে যে প্রেমের পরিনতি দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানে পরিনত হয় না তাকে সফল প্রেম হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে একে আরো সঠিক ভাবে বলা যায় যে, যে প্রেমের পরিনতি দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানে পরিনত হয় না তা হয়তো প্রেম হিসেবে বিবেচিত তবে পরিনতির বিবেচনায় তা সফল নয়। এই দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানের ফলে মুলত লাভবান হয় প্রকৃতি- প্রজননের ফলে, যা এই সকল প্রেমেরই প্রকৃত উদ্দেশ্য। এই দীর্ঘস্থায়ী সহঅবস্থানের মুলেও দেহ। মন নয়।




সুতরাং প্রেমের সুচনা দৈহিক, বিচরন দৈহিক এবং সমাপ্তি –সেও দৈহিক। প্রেম কোন অজর অমর স্বর্গীয় বিষয় নয়। বরং তা নিতান্তই দৈনন্দিন, দৈহিক এবং জাগতিক। যার শুরু আছে, বৃদ্ধি আছে, ক্ষয় আছে এবং আছে ধংস।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28749501 http://www.somewhereinblog.net/blog/bijonbethablog/28749501 2007-12-05 08:50:21