somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ্যানথ্রাক্স নিয়ে এইসব বাড়াবাড়ির জন্য দায়ী কে? এদের কঠিন সাজা হবে কি?

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ ভোর ৫:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অ্যানথ্রাক্স অথবা তড়কায় আক্রান্ত রোগী অতি সাধারণ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে যায়। সারাদেশে এই রোগ নিয়ে আতংক দেখা দিয়েছে। গরুর মাংস বেচাকেনা প্রায় বন্ধ। অথচ অ্যানথ্রাক্স এদেশে নতুন কোন রোগ নয়। মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিজ্ঞানীরা বলেন, এদেশে যুগ যুগ ধরে অ্যানথ্রাক্স রোগ হয়ে আসছে। এই রোগে মানুষ মারা যাওয়ার কোন রেকর্ড বিশ্বে নেই। অ্যানথ্রাক্স নিয়ে যেভাবে আতংক ছড়ানো হচ্ছে, কিন্তু এই সহজ রোগ-প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার তেমন কোন কার্যক্রম নেই। আতংক ছড়ানোর জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মিডিয়াকে বেশিরভাগ দায়ী করেছে। তবে অতীতে অ্যানথ্রাক্স হলেও এই বছর প্রাণিসম্পদ অধিদফতর অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এই ব্যর্থতার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অ্যানথ্রাক্স রোগ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ছে। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে কিনা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা অ্যানথ্রাক্স নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা কিংবা কোন মহল জনগণের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র করছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য মাঠে নামছে।

আক্রান্ত উপজেলা এবং আশপাশের উপজেলার সকল গবাদিপশুকে দ্রুত ভ্যাক্সিন দেয়া হলে অ্যানথ্রাক্স এভাবে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে তা না বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিমত ব্যক্ত করেন। অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, আক্রান্ত রোগীরা সাত থেকে ১০ দিন নির্ধারিত ওষুধ খেলে এই রোগ দ্রুত নিরাময় হয়ে যায়। এর চিকিৎসা ডাক্তার ছাড়াও নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারী পর্যন্ত দিতে পারেন। এই মুহূর্তে উৎসস্থলকে সনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলে উক্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মতামত দিয়েছেন।

আইইডিসিআর-এর সূত্রে বলা হয়, ২০০৯ সালে দেশে অ্যানথ্রাক্সে মাত্র ৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর আগের বছর অনুরূপ সংখ্যক লোক সারাদেশে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। ৩০ বছরের রেকর্ড এবার ভঙ্গ হয়েছে। অতীতে কোন বছরে এত সংখ্যক লোক মাত্র এক মাসে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়নি। এ বছর ১৮ আগস্ট থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০টি জেলায় ৫০৮ জন লোক অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়। নতুন নতুন জেলা ও উপজেলা অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হচ্ছে। এ কারণে দেশব্যাপী আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। বেসরকারি সূত্রে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। আক্রান্ত ১০টি জেলা হচ্ছে: পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, সাতক্ষীরা, লালমনিরহাট, রাজশাহী ও নারায়ণগঞ্জ। আক্রান্ত উপজেলা ১৬টি বলে আইইডিসিআর সূত্রে বলা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, অ্যানথ্রাক্স বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগের এবং এটা স্বাস্থ্য বিভাগের নয়। মানুষ ভাবছে অ্যানথ্রাক্স মানেই স্বাস্থ্য সার্ভিস। তবে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের চিকিৎসাসেবা দেয়ার দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগের এবং স্বাস্থ্য বিভাগ তা দিয়ে আসছে। অ্যানথ্রাক্সের উৎসস্থলকে নির্মূল করলে এটা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে এ বছর হঠাৎ করে অ্যানথ্রাক্স এভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয় ভাবিয়ে তুলছে। এই রোগ নিয়ে আতংকিত হওয়ার কারণ নেই এবং সহজে প্রতিরোধযোগ্য। ওষুধের কোন অভাব নেই। দেশে এই রোগের ওষুধ পর্যাপ্ত তৈরি হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান।

ভ্যাক্সিন ব্যবহার নিয়েবিজ্ঞানীদের দ্বিমত

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় কিংবা মরা গবাদিপশুকে ভ্যাক্সিন দেয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের দুই গ্রুপ দুই ধরনের মত দিয়েছেন। এই নিয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ পড়েছে বিপাকে। এই পরিস্থিতি নিরসনের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার উক্ত দুই গ্রুপ বিজ্ঞানী নিয়ে (পশু রোগ বিশেষজ্ঞ) বৈঠক হবে। এই বৈঠকে ভ্যাক্সিন দেয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফুল আলম বলেন, উক্ত বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর সারাদেশে একযোগে সকল গবাদিপশুকে কিংবা আক্রান্ত এলাকা ও এর আশপাশের এলাকায় গবাদিপশুকে ভ্যাক্সিন দেয়া শুরু হবে। তবে বর্তমানে আক্রান্ত এলাকা ও আশপাশের এলাকার গবাদিপশুকে ভ্যাক্সিন দেয়া হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে গবাদিপশু থেকে অ্যানথ্রাক্সে লোকজন আক্রান্ত হওয়া শুরু হলে সারাদেশে একযোগে সকল গবাদিপশুকে ভ্যাক্সিন দেয়া হয়। এইভাবে কয়েক বছর দেয়ার পর ঐ সকল দেশে অ্যানথ্রাক্স সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়ে যায়। এতে গবাদিপশুর কোন ধরনের ক্ষতি হয় না। এই মতামত দিয়েছেন এক গ্রুপ বিজ্ঞানী। অপর গ্রুপের বিজ্ঞানিরা বলেছেন, শুধু আক্রান্ত এলাকার গবাদিপশুকে ভ্যাক্সিন দেয়া যেতে পারে। একযোগে সারাদেশে দিলে ভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গবাদিপশুর ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। বর্তমানে ৯ লাখ ভ্যাক্সিন মজুদ রয়েছে বলে সচিব জানান।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মানুষ সুস্থ দেহে ভ্যাক্সিন নিয়ে থাকে। এতে কোন ধরনের সমস্যা হয় না। গবাদিপশুকে ভ্যাক্সিন দিলে ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বরং সারাদেশের সুস্থ গবাদিপশু আর অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কোন ধরনের ঝুঁকি থাকবে না বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মতামত দিয়েছেন।

অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়

অ্যানথ্রাক্স পশু থেকে মানুষ এবং মানুষ থেকে পশুতে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর বলেন, অ্যানথ্রাক্স থেকে সহজে রক্ষা পাওয়ার উপায় হলো, অসুস্থ গরু ও ছাগল জবাই না করা এবং মারা গেলে ছয় ফুট মাটির নীচে পুঁতে ফেলতে হবে। অসুস্থ গরু ও ছাগলের সংস্পর্শে থাকা লোককে গ্লাভস না থাকলে পলিথিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। মরা গরু ও ছাগল পানিতে ভাসিয়ে দিলে কিংবা জঙ্গলে ফেলে দিলে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার আশংকা একশত ভাগ। পাবনা ও সিরাজগঞ্জে মরা গরু ও ছাগল পানিতে ভাসিয়ে দেয়া এবং অসুস্থ গরু ও ছাগল জবাই করে মাংস বেচাকেনা করা অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। অসুস্থ গরু ও ছাগল জবাই করলে এবং এর মাংস ধরলে, চামড়া খোলার সঙ্গে জড়িতরা, বিক্রেতারা, ঐ সময় উপস্থিত সকলের অ্যানথ্রাক্স হওয়ার ঝুঁকি একশত ভাগ। একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বেচাকেনার কারণে অর্ধশতাধিক লোক এক সঙ্গে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি। এভাবে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব বেড়ে চলেছে। অ্যানথ্রাক্স সাধারণ রোগ এবং একজন অনভিজ্ঞ লোককে ওষুধের নাম ও ব্যবহার করার নিয়ম বলে দিলে তিনি এই চিকিৎসা ঘরে বসেই নিতে পারেন। এই রোগ নিয়ে আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই শুধু সচেতন থাকা দরকার বলে পরিচালক জানান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে একই মতামত পোষণ করে বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উৎসস্থল নির্মূল করলে এই রোগের আর প্রাদুর্ভাব হবে না।

সাভার থেকে আমাদের রিপোর্টার জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে শীঘ্রই টাস্কফোর্স গঠন করবে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতর, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়েই এ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় প্রাণিম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. মোসাদ্দেক হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার ধামরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা নাজনীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকুমার সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানসহ প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, গত শুক্রবার ধামরাইয়ের কায়েতপাড়ায় জবাইকৃত গরুর রক্ত খেয়ে কুকুর, বিড়াল ও পশু পাখির মৃত্যুর ঘটনা অ্যানথ্রাক্স নয়। তবে রক্তে বিষক্রিয়ার ফলে এ মৃত্যু হয়েছে। তিনি অহেতুক জনসাধারণকে আতংকিত না হয়ে পরীক্ষাকৃত গরুর মাংস খাবার পরামর্শ দেন।

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেছেন, অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসার পর্যাপ্ত ওষুধ সরকারের কাছে মজুদ রয়েছে, তাই এই রোগ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউজ সভা কক্ষে অ্যানথ্রাক্স রোগ সম্পর্কে মত বিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. নূরুল ইসলাম তালুকদার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লাপাড়া সংবাদদাতা জানান, উল্লাপাড়ায় গতকাল মঙ্গলবার আরো ২ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন উপজেলার বানিয়াকৈড় গ্রামের মোছাঃ বেগম (৪৫) এবং তার মেয়ে হ্যাপি (১২)। এদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার বানিয়াকৈড় গ্রামের আব্দুল হান্নান নামের আরো ১ ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দে ভর্তি হয়েছে। এই নিয়ে এক সপ্তাহে উল্লাপাড়ায় অ্যানথ্রাক্স রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৮।

উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুকুমার সুর রায় জানান, ঈদের আগের দিন একটি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু কমমূল্যে কিনে গ্রামের ২৩টি পরিবারের সদস্য তা খেয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। এই গ্রামের ৩ জন ইতোমধ্যেই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

আদিতমারী (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা জানান, স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ছাড়াই গরু জবাই করার অপরাধে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জবাই করা ওই গরুটি উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচার হাটে।

এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কিসামত হারাটি গ্রামে অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে ৫৬ জন অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত এলাকায় ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। মেডিক্যাল টিম প্রধান সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সেখানে মেডিক্যাল টিম কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ রোগে আতংকিত না হবারও পরামর্শ দেন তিনি।

গোপালদীবাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী রঘুনাথপুর গ্রামে সোমবার ৯ জন অ্যানথ্রাক্স্র রোগী সনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দে র একটি মেডিক্যাল টিম কল্যান্দী গ্রাম পরিদর্শন করে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইসমাইল জানান, আমরা রোগীদের খবর নিতে কল্যান্দী গিয়েছি। অবস্থা স¤পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৫ শতাধিক অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সব এলাকাতে ভ্যাকসিন দিয়ে পরিন্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।

রাজশাহী সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত ২টি গরুর মৃত্যুর খবরে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, গত সোমবার উপজেলার হাবাসপুর গ্রামে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত দুইটি গরুর মৃত্যু হলে লোকজন তা গর্তে পুঁতে ফেলে। ওই মরা গরু পুঁতে ফেলার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কের খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নাজিবুল ইসলাম মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, গরু দুইটি অ্যানথ্রাক্স না অন্য রোগে মারা গেছে তা পরীক্ষা না করে নিশ্চিত বলা যাবে না।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা খাইরুল আলম মিয়া গতকাল মঙ্গলবার গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠ পর্যায়ে গিয়ে অ্যানথ্রাক্স সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নির্দেশ দেন।

( ডাইরেক্ট কপি ইত্তেফাক থেকে)
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×