মাইক্রোসফট এর সাতকাহন - পর্ব ১ (ইন্টার্ণশীপ ইন্টারভিউ)

২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:০১

শেয়ারঃ
0 8 0

ওহাইও স্টেইট বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ক্লাশ শুরু হয় ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ক্লাস শুরুর সপ্তাহ দুএকের মধ্যে একদিন ইমেইল পেলাম যে আগামী মাসে (অক্টোবর) কোনো এক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্যারিয়ার ফেয়ার অনুষ্টিত হবে। আমেরিকার সব নামকরা কম্পানী সেখানে আসবে এবং তাদের কাছে সরাসরি সিভি (CV) জমা দেওয়া যাবে। কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমি খুঁজছিলাম কম্পিউটার জায়ান্ট কম্পানীগুলোকে। মেলাটি হচ্ছিলো বিশাল এলাকা জুড়ে, একশ'র বেশি স্টল ছিলো ওখানে। সবার সামনে পেলাম আইবিএম এর স্টল। সোজা গিয়ে বললাম আমি আইবিএমএ কাজ করতে আগ্রহীঃ-) ওরা বললো ওরা সি++ জানা লোক খুঁজছে, তাই আমি মনের আনন্দে আমার সিভি জমা দিলাম। এরপর আরো অনেক কম্পানী দেখলাম কিন্তু গুগল বা মাইক্রোসফটকে কোথাও দেখলাম না। হতাশ হয়ে ফিরে আসছিলাম। ফিরে আসার পথে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম গুগল বা মাইক্রোসফট এই মেলায় এসেছে কিনা। সে বললো সে গুগলের কথা জানেনা কিন্তু মাইক্রোসফট এসেছে এবং তারা অমুক সারির অতো নাম্বার স্টলে আছে। আমি সাথে সাথে লোকটিকে ধন্যবাদ দিয়ে মাইক্রোসফটএর স্টল এর দিকে রওয়ানা দিলাম।

মাইক্রোসফট এর স্টল খুঁজে পেতে একটু সময় লাগলো। মাইক্রোসফট থেকে আসা কয়েকজন সেখানে ছিলো যারা সিভি ড্রপ করতে আসা বিভিন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলছিলো। তো একসময় আমার পালা আসলো। ইন্ডিয়ান একটা ছেলে আমার দিকে এগিয়ে এসে হাত বাড়ালো। আমিও হাত বাড়িয়ে হাত মেলালাম। আমি তখনো ছাত্র, মাত্র আমার মাস্টার্স শুরু করেছি, বললাম আমি সামনের গ্রীষ্মের ছুটিতে মাইক্রোসফটএ ইন্টার্ণশীপ করতে আগ্রহী। সে আমার সিভিটি নিলো। ভালো করে দেখলো সেটি। এরপর আমার কিসে আগ্রহ, কী ধরণের কাজ ভালো পারি এসব জিজ্ঞেস করলো। আমিও আমার মতো করে উত্তর দিয়ে গেলাম। এরপর সে বললো সে আমার সিভি সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিবে এবং আমার যোগ্যতার সাথে ম্যাচ করে এমন পজিশন খালি থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবে। বিদায় নেবার সময় আমার হাতে একটা সুডকু (একধরণের পাজল গেইম) বই ধরিয়ে দিয়ে বললো - "তুমি যেহেতু প্রব্লেম সল্ভিং পছন্দ করো, তাই তোমাকে এই পাজল এর বইটি দিচ্ছি। আমার ধারণা তুমি এটা উপভোগ করবে"।

সেদিন ল্যাবে ফিরে এসে আমি মোটামুটি এই ক্যারিয়ার ফেয়ার এর কথা ভুলেই গেলাম। নতুন পরিবেশে পড়ালেখার চাপে আমার তখন ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। এরমধ্যে একদিন ইমেইল পেলাম মাইক্রোসফট থেকে। "নভেমবর মাসের অমুক তারিখে আমাদের ক্যাম্পাস ইন্টারভিয়ার এর সাথে তোমার একটা ইন্টারভিউ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের জানাও তুমি সেসময় এটায় উপস্থিত থাকতে পারবে কিনা"। আমি মনে মনে বললাম, "আবার জিগায়!"। সাথে সাথে ইমেইল এর উত্তর দিলাম - "ধন্যবাদ আমাকে ইন্টারভিউএ আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। আমি ওইদিন যথাসময়ে জায়গামতো উপস্থিত থাকবো"। এরপর ওরা জায়গা ও সময় কনফার্ম করে আরেকটা এমেইল দিয়েছিলো। আমি মনে মনে দিন গুনতে লাগলাম।

ইন্টারভিউ এর দিন ঘনিয়ে আসতে থাকায় আমি ইন্টারনেট ঘেঁটে প্রাথমিক ইন্টারভিউয়ে আসতে পারে এমন প্রশ্ন ডাউনলোড করে পড়া শুরু করলাম। টুকটাক প্রোগ্রাম লিখে ভুলে যাওয়া প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর সিনট্যাক্স ঝালাই করে নিলাম। ইন্টারভিউ এর জায়গাটি ছিলো আমাদের কম্পিউটার সায়েন্স বিজ্ঞান বিভাগের উলটা দিকের বিল্ডিং, তাই সেটি খুঁজে পাওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হলো না। ইন্টারভিউ এর দিন আমি যথাসময়ে ইন্টারভিউ এর নির্ধারিত ভবনে যেয়ে পৌঁছালাম। ওখানে ডেস্কে থাকা মেয়েটিকে বললাম আমি কেনো এসেছি। ও কম্পিউটারে আমার নাম দেখে নিশ্চিত হয়ে নিয়ে আমাকে একটা ফর্ম ধরিয়ে দিলো। ফর্মটি পূরণ করে আমি সোফায় বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম আমার ইন্টারভিউয়ার এর জন্য।

একসময় আমার ইন্টারভিউয়ার আসলো। লম্বা মতোন এক আমেরিকান ভদ্রলোক এসে হাত বাড়িয়ে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো আর নিজের পরিচয় দিলো? ও জানালো ও ভিজুয়াল স্টুডিও গ্রুপ এর একজন ম্যানেজার। আমি ওকে অনুসরণ করে ছোট একটি কক্ষে প্রবেশ করলাম। এখানেই আমার ইন্টারভিউ হবে। ও আমার সিভি বের করলো। আমার সিভি দেখে আমাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলো। সিভিতে যেসব স্কিলস এর কথা লিখেছি ওগুলো নিয়ে কয়েক মিনিট আলোচনা করলো। এরপর আমাকে স্ট্রিং সম্পর্কিত একটা প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধান করতে বললো। আমি কাগজে সেটির কোড লিখলাম। আমার কোড নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করলো। কিভাবে আমার এই কোড আমি ব্রেক করবো সেটা জিজ্ঞেস করলো। এই কোডকে টেস্ট করার জন্য টেস্ট কেইস লিখতে বললো। এরপর আরো কিছু টুকটাক প্রোগ্রামিং প্রশ্ন করে আমার ইন্টারভিউ শেষ করলো। শেষ করার আগে এখানে যা নিয়ম, আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা তার জন্য। আমি প্রস্তুত ছিলাম। তাকে মাইক্রোসফট এর সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে দুএকটা প্রশ্ন করলাম। ও আমাকে সেগুলোর ব্যাখ্যা দিলো। এভাবে শেষ হলো সেদিনের ইন্টারভিউ পর্ব।

ইন্টারভিউ শেষে আবার আমার ব্যস্ত পড়ালেখার জীবনে ফিরে গেলাম। কিন্তু মনে মনে ভীষণ অপেক্ষা করতে থাকলাম একটা ইমেইল এর জন্য! ওরা যদি আমাকে পছন্দ করে থাকে তাহলে আমাকে ওরা মাইক্রোসফট এর প্রধান অফিস ওয়াশিংটন স্টেইট এর রেডমন্ড নামক শহরে নিয়ে যাবে একদিন সারাদিন ইন্টারভিউ এর জন্য। আমার ইন্টারভিউ মোটামুটি ভালোই হয়েছিলো, কিন্তু সবাই নিশ্চয়ই এখানে ভালো ইন্টারভিউ দেয়! সবাই বলছিলো সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে ওরা রেজাল্ট জানিয়ে দেয়, কিন্তু ২ সপ্তাহ চলে গেলেও ওদের ইমেইল এর কোনো দেখা মিললো না। এ পর্যায়ে আমি সব আশা ছেড়ে দিলাম। অবশেষে তিন সপ্তাহ পর আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার মেইলবক্সে মাইক্রোসফট থেকে একটা ইমেইল আসলো যে আমাকে মাইক্রোসফট এর প্রধান কার্যালয়ে একদিন সারাদিন ইন্টারভিউ এর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই ইমেইল পেয়ে আমার খুশি আর দেখে কে। ইন্টার্ণশীপ না পাই, নিদেনপক্ষে মাইক্রোসফট এর খরচে ওদের প্রধান কার্যালয় দেখে ঘুরে তো আসা যাবে!

সামনে ক্রিসমাসের ছুটি থাকায় আমার ইন্টারভিউ ওরা ঠিক করে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। রেডমন্ড যাওয়া-আসার প্লেইন টিকেট, হোটেল এর বিল, থাকা-খাওয়া সবই মাইক্রোসফট বহন করবেঃ-) আমার ফ্লাইট এর দিন ঠিক করি ইন্টারভিউ এর আগেরদিন। কিন্তু ফ্লাইট এর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই ভয়েস মেইল পাই এয়ারলাইন্স থেকে যে মত্রারিরিক্ত তুষারপাতের ফলে আমার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর নামই মনে হয় কপাল। আরেকটু বেলা গড়ানোর পর আমি যোগাযোগ করি মাইক্রোসফটএ আমার রিক্রুটার এর সাথে। সে তখন একটু সময় নিয়ে দুই সপ্তাহ পর আমার ইন্টারভিউ এর দিন পুননির্ধারণ করে। আমার অনুরোধে ওরা আমেরিকার তুষারপাতপ্রবণ এলাকা (মিড-ওয়েস্ট এলাকা) এড়িয়ে অন্য শহরের মধ্য দিয়ে কানেক্টিং ফ্লাইট ঠিক করে দেয়।

সৌভাগ্যক্রমে আমার নতুন ইন্টারভিউ এর দিন কোনো ঝামেলা ছাড়াই সিয়াটল এয়ারপোর্ট এসে পৌঁছাই। সিয়াটল এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সোজা রেডমন্ডে আমার হোটলে চলে আসি। বিকেলে মাইক্রোসফট এর সাইদ ভাই আমাকে মাইক্রোসফট ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে নিয়ে আসেন। মাইক্রোসফট ক্যাম্পাস একটা বিশাল এলাকা। একশ'র মতো বিল্ডিং আছে এখানে। উইন্ডোজ আর অফিস (ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি) এর সবচেয়ে বড় দুটি প্রডাক্ট হলেও সার্চ, এমএসএন, এক্সবক্স, জুন মিউজিক প্লেয়ার, উইন্ডোজ সার্ভার, এসকিএল সার্ভার, ভিজুয়াল স্টুডিও - ইত্যাদি অসংখ্য গ্রুপ এর অফিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো এলাকা জুড়ে। সে যাক, মাইক্রোসফট এর অফিস এবং সফটওয়্যার ব্যবসা নিয়ে আরেকদিন লিখবো। আজ আমার ইন্টারভিউ নিয়ে লেখা যাক।

তো পরদিন আমি সকাল দশটার সময় বিল্ডিং ১৯ এ চলে যাই। বিল্ডিং ১৯ হচ্ছে মাইক্রোসফট এর রিক্রুটিং বিল্ডিং। সকল নতুন চাকুরীপ্রার্থীকে সবার আগে এখানে চেকইন করতে হয়। তো রিসেপশনে যেয়ে নাম বলতেই আমাকে বলা হলো আমার রিক্রুটার একটু পরে এসেই আমাকে নিয়ে যাবে। আমি লবিতে সোফায় বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম। একটু পরই আমার রিক্রুটার ডেভিড এসে নিজের পরিচয় দিলো এবং আমাকে নিয়ে ওর অফিসএ নিয়ে গেলো। সেখানে আমার নন-টেকনিকাল ইন্টারভিউ হলো। আমি কেনো মাইক্রোসফটএ কাজ করতে চাই, আর কোন কোন কম্পানীতে এপ্লাই করছি, আমার স্যালারি এক্সপেক্টেশন কেমন, কী ধরণের কাজ আমার পছন্দ এই সব। ঘন্টা খানেক ওর সাথে থেকে ও আমাকে আমার প্রথম টেকনিকাল ইন্টারভিউয়ার এর কাছে পাঠিয়ে দেয়। মাইক্রোসফটএ বিভিন্ন বিল্ডিং এর মধ্যে সারাক্ষণ অনেক শাটল কার চলাচল করে। ও আমাকে সেরকম একটা কারে করে বিল্ডিং ৪০ এ আমার প্রথম ইন্টারভিউয়ার এর কাছে পাঠিয়ে দেয়।

বর্ণনা অনেক লম্বা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার প্রথম ইন্টারভিউয়ার এর গল্প না বললেই নয়। যেহেতূ তখন লাঞ্চ এর সময় হয়ে গিয়েছেলো, তাই আমার প্রথম ইন্টারভিউটি ছিলো একটা লাঞ্চ ইন্টারভিউ। লাঞ্চ ইন্টারভিউ মানে হচ্ছে ইন্টারভিউয়ার চাকরীপ্রার্থীকে লাঞ্চএ নিয়ে যাবে এবং খাবার খেতে খেতে বিভিন্ন প্রশ্ন করবে। আমার প্রথম ইন্টারভিউয়ারের নাম ছিলো আ্যলেক্স। ও একজন চাইনিজ-আমেরিকান। গতো প্রায় বিশ-পঁচিশ বছর ধরে আমেরিকাতে আছে। তো ও আমাকে ক্যাফেটারিয়ার দিকে নিয়ে যেতে যেতে জিজ্ঞেস করলো আমার কী ধরণের খাবার পছন্দ। আমি মাছে ভাতে বাঙ্গালী। ওকে বললাম ঝাল মশলা দেওয়া ইন্ডিয়ান (বাংলাদেশী খাবার বললে ওরা চিনেনা, আমাদের টাইপের খাবারকে ওরা ইন্ডিয়ান খাবার বলে) খাবার আমি পছন্দ করি, আমেরিকান খাবার তখনো আমার মুখে রচে না। ও আমাকে অবাক করে দিয়ে বললো, "চলো আমার সাথে"। আমাকে নিয়ে সোজা পার্কিং গারাজে যেয়ে ওর বিশাল জীপ গাড়িতে উঠলো। এরপর আমাকে নিয়ে গেলো মায়ুরি নামের এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টএ! মায়ুরিতে ভাত আর মশলা দেওয়া মুরগীর তরকারী খেতে খেতে দিলাম আমার মাইক্রোসফট এর প্রথম ইন্টারভিউ!

এরপর একে একে আরো তিনটি ইন্টারভিউ দিই। প্রত্যেক ইন্টারভিউয়ার তার ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ইন্টারভিউয়ার এর কাছে পাঠিয়ে দেয়। চার ইন্টারভিউয়ারের প্রথম দুইজন ছিলো উইন্ডোজ নেটওয়ার্কিং গ্রুপ এর, আর শেষের দুজন ছিলো উইন্ডোজ ফান্ডামেন্টালস গ্রুপ এর। শেষ ইন্টারভিউ নেন উইন্ডোজ গ্রুপ এর একজন ডিরেক্টর। তাঁর সাথে কথা বলার সময়ই মনে হয়েছিলো আমার ইন্টারভিউ মনে হয় খারাপ হয়নি। ইন্টারভিউ এর শেষে তিনি যে কথাগুলি বলেছিলেন সেটা এখনো আমার মনে আছে - "ঠিক আছে তুমি তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাও আর মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করো। দেখি আমি তোমার জন্য কী করতে পারি"। তাঁর এ ধরণের কথা আমার কাছে খুব পজিটিভ মনে হয়েছিলো!

এর এক সপ্তাহ পরেই আমার সেমেস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় আমি ওইদিন রাতেই ওহাইও ফিরে আসি। পরেরদিন সকালবেলা আমার দাঁতের ডাক্তার এর সাথে এপয়েন্টমেন্ট ছিলো। সকালে আমি আমার দাঁতের স্কেলিং করাচ্ছিলাম। আমার ফোন বন্ধ ছিলো। দাঁতের ক্লিনিক থেকে বের হয়ে মোবাইল অন করতেই দেখি একটা ভয়েস মেইল। মাইক্রোসফট থেকে আমার রিক্রুটার ডেভিড ফোন করেছে। ভয়েস মেইলএ ও জানালো আমার ইন্টারভিউ এর রেজাল্ট রেডি ওর কাছে, আমি যেনো ওকে কল ব্যাক করি। আমারতো তখন বুকের ভেতর ড্রামের বাড়ি হচ্ছে। আমি সাথে সাথেই ওকে কল করি। আর তখনি ও আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো খবরগুলির একটি জানালোঃ মাইক্রোসফট এর দুটি গ্রুপ - উইন্ডোজ ফান্ডামেন্টালস আর উইন্ডোজ নেটওয়ার্কিং - আমাকে সামনের সামারের জন্য একটি ইন্টার্ণশীপ অফার করছে!! গ্রুপ দুইটির ডিরেক্টর দুজন আমাকে ফোন করে তাঁদের গ্রুপ সম্পর্কে বলবেন, এরপর আমি যে গ্রুপ পছন্দ করি সেটিতেই জয়েন করতে পারবো।

এটা ছিলো আমার জীবনের একটা শ্রেষ্ঠ সময়। নেটওয়ার্কিং এর প্রতি আমার আগ্রহ থাকায় আমি নেটওয়ার্কিং গ্রুপকেই সিলেক্ট করি। অবশ্য ফান্ডামেন্টালস গ্রুপ আমাকে ঘুষ হিসেবে এক্সবক্স গেমস, ওয়েব ক্যাম, বিভিন্ন ধরণের মাক্রোসফট কম্পানী স্যুভেনীর পাঠিয়েছিলো ওদের গ্রুপ এর দিকে আকৃষ্ট করার জন্য! কিন্তু ঘুষ দিয়ে কি আর সবকিছু হয়ঃ-)

২০০৭ এর জুন মাসের ১২ তারিখে আমি মাইক্রোসফটএ উইন্ডোজ নেটওয়ার্কিং গ্রুপ এর ওয়েব ক্লায়েন্ট টিম (যারা http প্রটোকল implement করে) এর একজন ইন্টার্ণ হিসেবে জয়েন করি। শুরু হয় আরেক বিচিত্র আনন্দ যাত্রা। সে যাত্রার খবর আগামী পর্বে। এইবেলা এখানেই ইতি টানি!

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:১৩
সেতূ বলেছেন: ভালো লাগলো ..
আগামী পর্বের অপেক্ষায় ...
২. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:১৯
আরজু বলেছেন: ধন্যবাদ বিলাশ ভাই,programming এর সমস্যাগুলি (যদি মনে থাকে) শেয়ার করলে খুশী হব।
আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪

লেখক বলেছেন: সব প্রশ্ন মনে নাই, আমার ইমেইলএ যোগাযোগ করো। ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন পাবলিকলি বলাটা মনে হয় বেআইনি।

৩. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:২১
ভবঘুরে ছেলেটি বলেছেন: আগামী পর্বের অপেক্ষায় আছি...
৪. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:২৮
হরিপদ দে বলেছেন: বিলাশ ভাই, কেমন আছেন? খুব ভাল লাগে আমাদের sust এর কেউ সাফল্য পেলে ।
আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ...
৫. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: দারুণ লাগল। আগামী পর্ব চাই তাড়াতাড়ি।
৬. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫
অলস ছেলে বলেছেন: ভালো লেগেছে। সুন্দর বর্ণনা।
৭. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩৫
পারভেজ বলেছেন: আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। চমৎকার অভিজ্ঞতা। আমাদেরও জানা হলো অনেক কিছু।
৮. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৪৬
আহমেদ রাকিব বলেছেন: দারুন অভিজ্ঞতা। খুব ভালো লাগলো পড়তে। ধন্যবাদ বিলাশ ভাই।
৯. ২৯ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৫১
চাঙ্কু বলেছেন: চমৎকার আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। পরের পর্বের অপেক্ষার রইলাম ।
১১. ২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:০৮
রাজু গুহ বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার কামিয়াবি দেখে।এখন কোথায় আছেন?
২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬

লেখক বলেছেন: এখন একই জায়গাতেই আছি।

১২. ২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬
সহীদুল হক মাণইক বলেছেন: আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। চমৎকার অভিজ্ঞতা। আমাদেরও জানা হলো অনেক কিছু। পরের পর্বের অপেক্ষার রইলাম ।
১৩. ২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬
বিলাশ বিডি বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ।

পরবর্তী পর্ব লেখায় হাত দিতে হবে এখনঃ-)
১৪. ২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:০৭
কুয়াশায় ডাকা বলেছেন: আগামী পর্বের অপেক্ষায় ...
১৬. ২৯ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৪
জানজাবিদ বলেছেন: ভাল লেগেছে, পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দিন।
১৭. ২৯ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৬
ধূসর মানচিত্র বলেছেন: আগামী প'বের অপেক্ষায় রইলাম। ভাল লেগেছে এই প'ব পড়ে।
১৯. ৩০ শে জুন, ২০০৯ রাত ১:৩৬
দীপান্বিতা বলেছেন: পড়তে পড়তে রোমাঞ্চিত হচ্ছি...আমাদের পক্ষে ওখানে যাওয়া হয়ত সম্ভব নয় কিন্তু আশা রাখি আপনি এমন আরো অভিজ্ঞতা অবশ্যই শেয়ার করবেন .........
২০. ৩০ শে জুন, ২০০৯ রাত ১:৪৮
ইরতেজা বলেছেন: অসাধারণ ঝরঝরে লেখা। কি সুন্দর করে লিখেছেন। এর পড়ে কি হল জানতে ইচ্ছা করতে খুব। চলুক
২১. ৩০ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১০:০৭
আরজু বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ boss.
২২. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭
শ।মসীর বলেছেন: অপেক্ষায়.................
২৩. ০৬ ই জুলাই, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: পরের পর্ব কই ??


আমি অবশ্য গুগল পছন্দ করি । তারপরেও মাইক্রোসফটে কাজ করা দারুন ব্যাপার । :)
০৬ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:০৫

লেখক বলেছেন: পরের পর্ব শীঘ্রই আসিতেছে... :)

গুগল একটি দারুণ কম্পানী। তবে ওরা ওয়েব সার্চ এ যতোটা সফল অন্য কোথাও অতোটা না :)

২৪. ০৬ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৫৫
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: একমত না ।

গুগল সার্চ দিয়ে এত উপরে উঠলেও এখন ওদের সার্চটাই সবচে ফালতু লাগে । (গারবেজ ভর্তি)
অবশ্য ওয়েবেই গারবেজ অনেক এখন ।

জিমেইল ছাড়া তো একদিনও চলে না ।
গুগল ম্যাপ প্র্যাকটিক্যালি অনেক কাজে লাগে । মানে ওদেরটাই ব্যবহার করি ।

ক্রোম , এ্যান্ডরয়েডের নিয়মিত ব্যবহারকারী আমি ।

মার্কেটে অন্য যত প্রডাক্টই থাক গুগলের প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেই বোঝা যায় ।

তাছাড়া ওদের সার্চ ইন্জিনে এ্যাড বেচেই তো চলছে । অন্যসব প্রডাক্ট করার উদ্দেশ্য হচ্ছে যেন বেশী লোক গুগল সার্চ ব্যবহার করে ।
যত সার্চ তত পয়সা।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~`

গুগলের প্রতিদ্বন্ধী হিসাবে ফেসবুক উঠে আসছে ।
সে যাই হোক এই নিয়ে পরে আবার আলাপ করা যাবে ।
০৭ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:০২

লেখক বলেছেন: গুগল নিয়ে আরেকদিন একটা পোস্ট দিবো না হয়;)

২৫. ১১ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৩৮
নহর বলেছেন: ভালো লাগে অনেক ভালো লাগে যখন কেউ সাফল্যের শিখায় আহরোণ করতে পারে।

ভালো লাগল আপনার সাফল্য দেখে........
২৬. ২৭ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৪৯
মাহমুদ সিএসই বলেছেন: ভাইয়া.... আপনি কি SUST এর স্টুডেন্ট ছিলেন? সেক্ষেত্রে কত তম ব্যাচ?
২৭. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:০২
ইন্ঞ্জিনিয়ার বলেছেন: "অবশ্য ফান্ডামেন্টালস গ্রুপ আমাকে ঘুষ হিসেবে এক্সবক্স গেমস, ওয়েব ক্যাম, বিভিন্ন ধরণের মাক্রোসফট কম্পানী স্যুভেনীর পাঠিয়েছিলো ওদের গ্রুপ এর দিকে আকৃষ্ট করার জন্য! কিন্তু ঘুষ দিয়ে কি আর সবকিছু হয়ঃ-)"

হাসতে হাসতে পইড়া গেলাম :P
২৮. ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭
মুরুববী বলেছেন: ভালো লেগেছে
২৯. ২৮ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪৪
শরীফ উদ্দীন বলেছেন: কেমন কেমন জানি সব সপ্নের মত মনে হয়। কারো সাকসেসের কথা শুনলে বেশ ভাল লাগে। আবার হিংসা হয় ইস আমি তো কিছুই হতে পারলাম না.........বেশ পড়ালেখার বেশ উদ্যম পাই। ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য। ও আশা করছি অতি তাড়াতাড়িই মাইক্রোসফটের সেই সপ্নের ভবনের কথা লিখবেন। অপেক্ষায় রইলাম.........
৩০. ২৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০২
এক্স বলেছেন: আহারেহ... আপনার মত পাবলিকদের প্রপার সুযোগ দিলে দেশেই আপনারা বিল গেটস হতেন. কিন্তু আমাদের গনতান্ত্রিক বিষবাষ্প কখনই ছোট ছোট গাছকে বড় গাছের নীচে বাঁচতে দেয় না.

মাইক্রোসফটে যান বা আরো বড় হন এই দেশের যখন ভাগ্য ফিরবে তখন দেশই আপনাকে ফিরিয়ে আনবে. আপাতত মেধার উতকর্ষ আর অভিজ্ঞতা সন্চয় করতে থাকুন. ইনশা-আল্লাহ একদিন এটা এদেশের জন্য কাজে দিবে.
৩১. ০৫ ই অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫
আতিকুর রহমান সুমন বলেছেন: চাকরি দেয়ার জন্য ঘুষ। জীবনের প্রথম শুনলাম এবং আনন্দ পাইলাম।
৩২. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:১১
প্লাবন সাহা বলেছেন: আপনার সাথে যোগাযোগ করার লিঙ্ক টা যদি দিতেন তাহলে খুব উপকৃত হতাম .।.।.।.।.।.।।.।.।.।.।.।.।.।.।.।..।।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৪৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
Twenty years from now you will be more disappointed by the things you did not do than by the things...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই