নিউ ইয়র্ক!
৩০ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:১৭
১। যন্ত্রণা
ঘড়িতে অ্যালার্ম দেওয়া থাকে পৌনে সাতটায়। জীবনে কখনো কোনো দরকার ছাড়া এতো সকালে উঠেছি বলে মনে পড়ে না। অথচ এখন রোজ নিয়ম করে এই কাক ডাকা ভোরে (!) উঠতে হয়। উঠে বাথরুম সেরে, ব্রাশ করে, শেইভ করে, গোসল করে, ইস্ত্রি করা সাদা বা নীল রঙের স্ট্রাইপের ফর্মাল শার্ট আর কালো বা অন্য কোনো গাঢ় রঙের প্যান্ট চাপিয়ে টপাটপ একটু সিরিয়াল বা চা-বিস্কুট খেতে খেতে বেজে যায় আটটা। এরপর রীতিমতো দৌড় দিয়ে বের হই ট্রেন স্টেশন এর উদ্দেশ্যে। পাক্কা বারো মিনিটের হাঁটা পথ। ভাগ্য দেবতা সহায় থাকলে কখনো কখনো বের হয়ে বাস পাওয়া যায়। বাস ধরে বা পায়ে হেঁটে পৌঁছাই ট্রেন স্টেশন। এরপর কিউ বা এন ট্রেন ধরে লেক্সিংটন এভিনিউতে যেয়ে ট্রেন পরিবর্তন। ব্রঙ্কস থেকে ছেড়ে আসা চার বা পাঁচ নম্বর ট্রেন ধরে এরপর ডাউনটাউন এর ফুলটন স্ট্রিট স্টেশন। ওখান থেকে দশ মিনিটের মতো হেঁটে এরপর অফিস। বাসা থেকে বের হবার পর নিজের ডেস্কএ পৌঁছাতে পাক্কা এক ঘন্টা চলে যায়। ট্রেনে বেশির ভাগ সময়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ডেস্কে বসার সময় দেখতে পাই আমার ম্যানেজার, তার ম্যানেজার, তার ম্যানেজার সবাই অনেক আগে অফিসে এসে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। নিজে দেরীতে আসার লজ্জায় মনে মনে বলি, ধরণী দ্বিধা হও। ধরণী দ্বিধা হয়না কোনোদিন, আমাকে বিরস মুখে আমার দিনের কাজ শুরু করতে হয়!
অফিস করতে হয় দশ/এগারো ঘন্টার মতো। আবার এক ঘন্টার যুদ্ধ করে বাসায় ফেরা। সব মিলিয়ে দিনের তেরো/চৌদ্দ ঘন্টার মতো চলে যায় অফিস এর পেছনে!
এই হোলো আমার ইদানিংকার কর্মজীবনের অবস্থা।
২। সুখ
দুই মাস আগেও ব্যাপারটা এরকম ছিলো না। ঘুম থেকে উঠতাম ইচ্ছেমতো। বাসার সামনে থাকতো গাড়ি। ড্রাইভ করে অফিসে যেতে লাগতো ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট। অফিসে যেয়ে ঢুকতাম নিজের অফিস রুমে। আমি কখন এসেছি কেউই সেটা খবর রাখতোনা। বারোটা বাজতে না বাজতেই লাঞ্চ টাইম। প্রায়ই বাইরে চলে যেতাম বন্ধুদের সাথে কিংবা টিমমেটদের সাথে। আরাম করে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ধীরেসুস্থে এসে অফিসে ঢুকতাম। চারটা সাড়ে চারটার দিকে এক টিম মেট এর সাথে ফুজবল (বোর্ড এ প্লাস্টিক এর প্লেয়ার আর বল দিয়ে ফুটবল) খেলতে বের হয়ে যেতাম। পাঁচটা সাড়ে পাঁচটার দিকে মনে হোতো অনেক কাজ হয়ে গেছে এবার বাসায় চলে যাইঃ)
বাসা ছিলো লেকের পাড়ে চমৎকার এক এপার্টমেন্টে। গাছগাছালিতে ভরা চারদিক, প্রায়ই পাখি এসে বসতো পেছনের গাছগুলোয়। লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে দূরে সব উঁচু উঁচু পাহাড় দেখা যেতো।
৩। নিউ ইয়র্ক
প্রায় দুই মাস আগে আমি আমেরিকার পশ্চিম উপকুলের সিয়াটল শহর থেকে প্রায় তিন হাজার মাইল দূরে পুর্ব উপকুলের শহর নিউ ইয়র্কে চলে আসি। সিয়াটল এলাকা সম্ভবত আমারিকার সবচেয়ে সুন্দর এলাকা। বরফে ঢাকা পাহাড়, লেক, পার্ক, চারদিকে চিরসবুজ গাছের ছড়াছড়ি ইত্যাদি মিলে সিয়াটল এক অপূর্ব সুন্দর জায়গা। সেই তুলনায় নিউ ইয়র্ক অনেক বৈচিত্রহীন। নিউ ইয়র্ক পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহরগুলোর একটি, যেদিকে চোখ যায় খালি ইট পাথরের বিল্ডিং। ব্রুকলিন কুইন্স এক্সপ্রেসওয়ে থেকে রাতের নিউ ইয়র্ক শহর এর দিকে তাকালে পুরো শহরটাকে এক জীবন্ত প্রাণী মনে হয়। শত শত আকাশ ছোঁয়া বিল্ডিং ম্যানহাটান এর এক প্রান্ত থেকে থেকে আরেক প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রাতের ঝলমলো আলোতে পুরো শহরটাকে মানুষের তৈরি একটা বিশাল জীব মনে হয়।
রাতের নিউ ইয়র্ক শহর
৪। মানুষ
সিয়াটল এর সাথে নিউ ইয়র্ক এর সবচেয়ে বড় পার্থক্য আসলে অন্য জায়গায়। সিয়াটল এতো সুন্দর হয়েও কেমন যেনো খালি খালি। নিউ ইয়র্ক মানুষের শহর। চারদিকে খালি মানুষ আর মানুষ। সাদা-কালো-বাদামী, আমেরিকান-ইউরোপিয়ান-এশিয়ান, ওয়াল স্ট্রিট এর মিলিওনেয়ার, মেক্সিকো থেকে সাগর-নদী-জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসী, সারা পৃথিবী থেকে আসা টুরিস্ট - সব মিলিয়ে পুরো নিউ ইয়র্ক শহর সারাক্ষন থাকে সরগরম। নিউ ইয়র্ক এক অর্থে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক শহর বলা যায়। শহরের প্রান-কেন্দ্রে টাইমস স্কয়ার বলে একটা জায়গা আছে যেখানে দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা টুরিস্টদের আনাগোনা। রাত তিনটার সময় যেয়েও লাইন ধরে রাস্তার পাশে কার্টে বিক্রি করা মজাদার মধ্যপ্রাচ্যীয় খাবার "ফালাফাল" খাওয়া যায়। টাইমস স্কয়ারে কিছুক্ষণ দাঁড়ালে সারা পৃথিবীর সব ভাষা শোনা যাবে নিশ্চিত!
বাংলাদেশের সবচেয়ে সক্রিয় মানুষগুলো থাকে নিউ ইয়র্কে। এখানে সব সময় কোনা না কোনো প্রোগ্রাম লেগেই থাকে। গান, নাচ, কিংবা রাস্তাঘাট বন্ধ করে মেলা, একটা না একটা কিছু সব সময় চলতে থাকে। আছে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দলাদলিও!
৫। জ্যাকসন হাইটস
নিউ ইয়র্ক এর কথা সম্পূর্ণ হবেনা যদি না জ্যাকসন হাইটস জায়গাটার কথা না বলি। জ্যাকসন হাইটস হচ্ছে নিউ ইয়র্ক এর বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা। জ্যাকসন হাইটস এ আসলে যে কারো মনে হতে পারে সে আসলে এখন ঢাকার কোনো এলাকায় চলে এসেছে। চারদিকে বাংলা ভাষায় সাইনবোর্ড, লুঙ্গি-পাঞ্জাবী পরা চাচা, বোরকা পরা ধার্মিক মহিলা - এসব দেখে জ্যাকসন হাইটসকে আমেরিকার একটা জায়গা মনেই হয়না।
জ্যাকসন হাইটসএ আছে অসংখ্য বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট। বেশিরভাগই গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। উইকএন্ডএ বন্ধুবান্ধবের সাথে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টএ বসে চা-সিঙ্গারা খেতে খেতে রাজনীতি কিংবা অন্য কোনো রসালো বিষয় নিয়ে গল্প করার মজাই সেরকম!
৬। টুইন টাওয়ার এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টি
সারা জীবন নিউ ইয়র্ক এর ছবি দেখলেই দু'টো জিনিস দেখতাম - টুইন টাওয়ার আর স্ট্যাচু অব লিবার্টি। সবসময় ভাবতাম, আহা যদি একবার নিউ ইয়র্ক যেয়ে স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে পারতাম! লাদেন মামার কল্যানে টুইন টাওয়ার আর দেখা হোলো না, কিন্তু ভাগ্যের কারসাজিতে আজ আমার অফিস টুইন টাওয়ার এর পাশে, এবং আমার অফিস থেকে পরিস্কার স্ট্যাচু অব লিবারটি দেখা যায়! অফিস থেকে দেখে যেনো সাধ মিটে না, মাঝে মধ্যে বিকেলবেলা অফিস থেকে বের হয়ে হাডসন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে স্ট্যাচু অব লিবার্ট দেখি।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থেকে দেখি কিছুক্ষণ পরপর ফেরী ছেড়ে যাচ্ছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি এর উদ্দেশ্যে, একেবারে স্ট্যাচু এর উপরে উঠা যায় নিচ থেকে। আমার আর কখনো স্ট্যাচু অব লিবার্টি এর উপরে ওঠা হোলো না। যে জিনিস চোখে দেখা যায় প্রতিদিন সেটা ফেরী করে যেয়ে দেখার দরকারটা কী? ওই যে বলে না, মক্কার লোকে হজ পায় না!
স্ট্যাচু অব লিবার্টি, পেছনে লম্বা নীল বিল্ডিংটি আমার অফিস!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে!
ভুডুল বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে!
আরো ছবিত জন্যে এখানে দেখুনঃ
http://metroscenes.com/cities/new-york-city/
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে!
লেখক বলেছেন: হা হা!
আমার ধারণা নিউ ইয়র্ক যে পরিমাণ কারেন্ট ব্যবহার করে পুরো বাংলাদেশ কয়েক বছরেও সেটা ব্যবহার করেনা/পায় না।
পানকৌড়ি বলেছেন:
আহারে রাইতের বেলাও বাত্তিগুলা এমনে জলতাছে..........অপচয় বেহুদাই অপচয় ।
লেখক বলেছেন: আন্ধার হইলে চোখ জুড়াবে ক্যামনে?
আমি মদন বলেছেন:
নিউ ইয়ার্কি
লেখক বলেছেন: ![]()
মোঃ নূর-উস-সালাম চপল বলেছেন:
আমারো একি কতা, অরা অতো কারেন পায় কনে ? আমাগো কইলে চারটে লইয়াইতাম ।
লেখক বলেছেন: ![]()
মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন:
আমিও এখন সকাল ৯ টায় অফিসে যাই- কাজকাম নাই- বসে বসে ব্লগ (http://kuashaonline.com) লিখি- যেটা কেউ পড়ে না- নিউ ইয়র্ক যাইতে মন চায়-
লেখক বলেছেন: চলে আসো - বেড়াতে, এবং একেবারের জন্যেঃ)
ইউ উইল নট রিগ্রেট!
জটিল বলেছেন:
ভাল লাগল ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে...
![]()
িসজার বলেছেন:
হুমম।এজন্যে তো নিউইয়র্ক সিটি কে বলা হয়: City That Never Sleeps
লেখক বলেছেন: ঠিক! দিস সিটি নেভার স্লিপস!
লেখক বলেছেন: আমি ভালো করেই জানি তুমি কিসের কথা বলছো মাহমুদ। আমি আমার জীবন কাটিয়েছি ঢাকা শহরে!
মতলববাজ বলেছেন:
ভাল লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্যে!
সায়েম মুন বলেছেন:
আপনার লেখা বেশ ভাল লাগলো। অনেক জায়গা যেন জীবন্ত হয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠেছে।
লেখক বলেছেন: আপনার ভালো লাগলো জেনে আমারো ভালো লাগলো![]()
রাগিব বলেছেন:
বিলাস, তোমরা কি কুইন্সে থাকো এখন? সাবওয়ের নম্বর দেখে তাই মনে হচ্ছে। আমরা মে মাসের শুরুতে কুইন্সে ছিলাম ৩ দিন, প্রতিদিন আর/ভি ধরে গিয়ে তার পর ৪/৫ ধরে ব্রডওয়েতে যেতাম, তোমার স্টেশনের ঠিক পরেরটা। টু-বডি প্রব্লেমের কারণেই কি এদিকে চলে আসলে?
দুই চাকুরির তুলনাটা কেমন? তোমার বর্ণনাতেই অনেক উঠে এসেছে -- টেক কোম্পানির ইনফর্মাল বনাম ফিনান্স কোম্পানির ফর্মাল সব নিয়ম। আমার আবার টাই-পরতে নিতান্তই অনিচ্ছা, জীবনে খুব অল্প কয়বার মাত্র পরে শিক্ষা হয়ে গেছে।
ওয়েস্ট কোস্টের সাথে ইস্ট কোস্টের পার্থক্যের ব্যাপারে আমিও একমত। ঐদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চমৎকার। কিন্তু পূর্ব উপকূল অনেক বেশি প্রাণচঞ্চল। বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক। জ্যাকসন হাইটসের দোকানে চা খেতে গিয়ে পাশের টেবিলে আওয়ামী-বিএনপির ঝগড়া ও মারামারি দেখে মনে হয়, আহ, দেশের কোন চায়ের দোকান বোধহয়।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, আমরা কুইন্স এর অ্যাস্টোরিয়াতে থাকি। তোমরা মনে হয় জ্যাকসন হাইটস/জ্যামেইকা এলাকাতে ছিলে।
টু-বডি প্রব্লেম মূল কারণ ছিলো, তবে নিউ ইয়র্কে থাকার ইচ্ছে ছিলো সবসময়, সেজন্যেই চলে আসা।
হার্ডকোর টেক কম্পানী আর ফাইনান্সিয়াল কম্পানীর টেক অনেক পার্থক্য! সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে ফাইনান্সে কোনো ফিজিকাল প্রডাক্ট নাই, সবকিছু জাস্ট কিছু নাম্বার!
আগের জবে আমার প্রডাক্ট ছিলো উইন্ডোজ, যার শিপিং/রিলিজ সাইকল ছিলো প্রায় প্রতি তিন বছর। আর এখন আমাদের প্রতিদিন নাম্বার প্রডিউস করতে হয়, টাকার অঙ্কে যেটা থাকে ট্রিলিয়ন এর উপরেঃ) বলাই বাহুল্য, এগুলো সব রিয়াল ওয়ার্ল্ড টাকার হাতবদল হওয়া!
আরো অনেক পার্থক্য আছে আসলে। এখানে কাজ করতে হয় সারাক্ষণ ফেডারাল সরকারের চোখের সামনে যাতে আরেকটা অর্থনৈতিক মন্দা আর না আসে! অফিসে সব ধরণের ওয়েব ইমেইল, মেসেঞ্জার, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদি বন্ধ। কোনো অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করতে হলে হেল্প ডেস্কে ফোন করতে হয়। মাইক্রোসফট এর ঠিক বিপরীত!
ওয়েস্ট কোস্ট এর সৌন্দর্যের কারণে ওখানে মাঝে মাঝে বেড়াতে যাওয়া যায়, কিন্তু আমি প্রতিদিন থাকতে মানুষের মাঝে। আমেরিকাতে এটা সম্ভবত একমাত্র নিউ ইয়র্কেই সম্ভব!
ডেইফ বলেছেন:
সহজ ভাষায় সুন্দর বর্ণনা। ভালো লাগলো পড়ে। আপনার ব্যস্তময় জীবন সুন্দর হোক। ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্যে এবং উইশের জন্যে! আপনিও ভালো থাকবেন অনেক!
শোভন এক্স বলেছেন:
দুপুর বেলা ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়া যাবে এমন একটা জব আমার স্বপ্ন। প্রতিদিন আমার অফিসে লেট হয়। তারপরও কিভাবে যেন চাকরিটা টিকে আছে। কেন অফিস সাত-সকালে শুরু করা লাগবে আমি বুঝিনা। বাসে চড়াও আমার কাছে ভয়াবহ একটা ব্যাপার। যেকোন মূল্যে আমি বাস বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলি। আপনি সকালে দু'বার ট্রেনে চড়েন শুনে মনে খুবই কস্ট পেলাম আপনার জন্য। আপনার লেখাটা খুবই ভাল লাগলো। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: বড় শহরে যেখানে ট্রাফিক জ্যাম আর পার্কিং এর অভাব, সেখানে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের বিকল্প নাইঃ(
আমারও স্বপ্ন ইচ্ছেমতো অফিসে যাওয়া। চাকরী ছেড়ে নিজে কিছু একটা না করা পর্যন্ত মনে হয় সেটা সম্ভব হবেনা!
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
ভালো লাগলো। আপনার অফিসের বাঁ পাশে একটু দূরে আমার অফিস, তবে ছবিতে বিল্ডিংটা দেখা যাচ্ছেনা। অফিসের কয়েকটা মিটিং রুম থেকে লিবার্টি লেডীকে দেখা যায়।
"আমার আর কখনো স্ট্যাচু অব লিবার্টি এর উপরে ওঠা হোলো না। যে জিনিস চোখে দেখা যায় প্রতিদিন সেটা ফেরী করে যেয়ে দেখার দরকারটা কী?"
- আমারও একি অবস্থা :-)
লেখক বলেছেন: মজা পেলাম অফিস প্রতিবেশী একজনকে এখানে পেয়েঃ)
আমার মূল অফিস আসলে নদীর এই পাড়ে, ব্যাটারি পার্ক সিটিতে।
ভালো থাকবেন।
রাগিব বলেছেন:
হ্যাঁ, আমরা জ্যাকসন হাইটসের কাছেই ছিলাম, কুইন্স বুলভার্ডের উপরে।সময় পেলে আমাদের এই দিকে ঘুরে যেও।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, অনেকদিন ডিসি এর দিকে যাওয়া হয় না। গেলে অবশ্যই দেখা চেষ্টা কোরবো!
এদিকে আসলেও আওয়াজ দিওঃ)
সুবিদ্ বলেছেন:
চমৎকার লাগলো
দীপান্বিতা বলেছেন:
কি খবর, কেমন আছেন! খুব কাজে ব্যাস্ত! সময় করে যদি স্টিফেন হকিং আর তার ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ নিয়ে কিছু জানান খুব ভাল লাগবে...
শারদীয়া শুভেচ্ছা
কোর আই সেভেন বলেছেন:
আপনি মাইক্রোসফট ছেড়ে দিয়েছেন বুঝতেই পারিনি
কার্নেল বলেছেন:
নিউইয়র্কে ছিলাম ৪-৫ দিন। রাতের বেলা টাইমস স্কয়ারে ঘুরাঘুরি, ব্রডওয়ে শো দেখে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া, স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে ঘটানো পাগলামি,এনবিসি চ্যানেলের স্টুডিও,লিটল ইটালির ডিনার, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর ১০২ তলায় উঠে ছবি তোলা, হোটেল পেনসিলভানিয়ার লবিতে রাতের আড্ডা, জাপানিজ ইয়োগার্ট ইয়োগিতা, মেটশেয়ার মিউজিয়ামের পিকাসোর অরিজিনাল আর্ট ....... সবকিছু মনে পড়ে গেল। মিস করি দিনগুলো......
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















প্লাস+