somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ূস্বপ্নের আসন স্বপ্নের আসন

অনুবাদ : মোবারক হোসেন খান

ইন্টারভিউতে বানের মতো ছুঁড়ে মারা প্রশ্নের পর প্রশ্নের জবাব দিয়েও আমি যে চাকরি পাচ্ছি না বুঝে গেলাম। প্রথম দিকে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি না পাবার জন্য আমি নিজেকেই দায়ী করতাম। আমার গায়ের জ্যাকেটটা ছিল ছেড়া, টাইটাতে ছিল দাগ।

আমি তো একবার প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের মাঝে দু’দুবার বাধা দিয়ে ফেলেছিলাম। আমার দোষ-ত্রুটিগুলো সংশোধন করার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করতাম। ময়লা কাপড়-চোপড় পরে যেতাম না। বোর্ডের সামনে ইন্টারভিউতে বসে অতিরিক্ত গ্রাহক আগ্রহ প্রকাশ করতাম না।

এই যেমন, চাকরি আমার দরকার ঠিকই, কিন্তু তা’বলে না হলেও যে চলবে না অমন একটা ভাব দেখাতাম। তা সত্ত্বেও ইন্টারভিউর ফলাফল সেই একই। কোথাও আমার ভাগ্যে চাকরি জোটে না। না, এভাবে আর চলে না।

এবার পদ্ধতি বদলাতে হবে। দেখি, কিছুটা ঔদ্ধত্যভাব নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডের মুখোমুখি হলে চাকরি পাই কিনা। আমার চুল না আঁচড়ে, জুতোর ফিতে না বেঁধে, প্যান্টের জিপার অর্ধেক খোলা রেখে ইন্টারভিউ দিতে গেলাম। আমার প্রশ্নকর্তার ভাবলেশহীন মুখের দিকে তাকিয়ে আমি মুখ খিঁচিয়ে প্রশ্নের জবাব দিলাম।

এমনকি তার কারখানার দোষ-ত্রুটি কোথায় সেটাও দেখিয়ে দিলাম এবং আমি যে দু’দিনে সব ঠিকঠাক করে দিতে পারি সে কথাও বলতে ভুললাম না। কথার মাঝখানে তার চোখের সামনে একবার আমার আঙুলও মটকালাম। কিন্তু আমার ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হল না। এরপর আমি কপটতার আশ্রয় নিলাম।

মালামাল বিপণনের ব্যাপারে যত প্রকার কপটতার আশ্রয় নেয়া যেতে পারে সব আমি তোতা পাখির মতো বলে গেলাম। আমার চোখের দৃষ্টিতে কথার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তরিকতা ফুটিয়ে তুললাম। আমাকে এ ধরনের কাজে আমার দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ দেবার জন্য বারবার অনুরোধ করলাম।

কিন্তু কোন সুযোগ কোথাও আমাকে দেয়া হল না। অবশেষে আমি হতাশ হয়ে পড়লাম। না, চাকরি পাবার জন্য নয়, আমি যে বেঁচে আছি, শুধু একটুকু প্রমাণ করার জন্য এরপরও আমি ইন্টারভিউতে যেতে লাগলাম। একদিন আমার শেষ প্রশ্নকর্তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম। কি অমায়িক আর স্নিগ্ধ চেহারা!

কতবার এ ধরনের চেহারা আমি দেখেছি আমি মনে করতে পারলাম না। হাজারবার হতে পারে, হতে পারে তারও বেশি। একইভাবে টেবিলের ওপাশে বসে আমাকে প্রশ্ন করেছে। আমি জবাব দিয়েছি। আমাকে মার্জিত কণ্ঠে বিদায় দেয়া হয়েছে।

এবারও আমি যে ইন্টারভিউতে অকৃতকার্য হব তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর ঠিক সে মুহূর্তে আমার সব অকৃতকার্যকারিতার কারণটা হঠাৎই আমি বুঝতে পারলাম। অথচ এত সহজ কথাটা এতদিন আমার মনে আসেনি কেন ভেবে আমার মেজাজটা দারুণ খিঁচড়ে গেল।

হ্যাঁ, সেই একই চেহারা। সব ইন্টারভিউতেই সেই শান্ত, অমায়িক আর স্নিগ্ধ চেহারা। কিন্তু না, তা হতে পারে না- অথচ এটাই সত্য। আমার মনে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। শেষ পর্যন্ত আমার মনের ভেতর বিজয়ের যে আনন্দ খেলা করছিল তাকে আর রোধ করে রাখতে পারলাম না। আমি বলেই ফেললাম, ‘আপনিও সেই একই ব্যক্তি, তাই না?’

‘কি বললে?’ হিমশীতল কণ্ঠের প্রশ্ন কিন্তু আমি তাকে বড়শিতে গেঁথে ফেলেছি। সুতরাং তাকে ছাড়তে রাজি নই।

তাই আমি জোর দিয়েই বললাম, ‘সব সময় আমি আপনাকেই দেখেছি। হ্যাঁ, আমি ঠিকই বলছি। আমি জানি আমার কথা সত্য।’
তার চেহারার আদল বদলে গেল। ধূর্তের মতো অবজ্ঞাসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে স্বীকার করল, ‘হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছ। কিন্তু তোমাদের মতো নির্বোধরা বুঝতে পারে না।’ তার কথার মধ্যে অপ্রতিভ হওয়ার লেশমাত্র নেই।

‘কিন্তু কেন?’ আমার প্রশ্ন।

আমার প্রশ্নে তিনি কান দিলেন না। চিন্তামগ্ন কণ্ঠে বললেন, ‘তোমাকে বলছি, তোমরা সবসময় আমাকে ব্যস্ত রাখো। অনেকে অবশ্য বেশ সহজভাবেই জবাব দিয়ে ফেলে। তখন সেটা আমার কাছে একটা চ্যালেঞ্জের মতো মনে হয়। আর যে কোন চ্যালেঞ্জই আমার খুব পছন্দ।

আমার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখো না, তোমরা কি বলবে আমাকে আগেই আন্দাজ করে নিতে হয়। তার মানে, আমাকে সব সময় এক ধাপ সামনে থাকতে হয়। কারণ এ টেবিলের এ পাশের চেয়ারে বসার জন্য আমাকে সব রকমভাবে প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রাখতে হয়, যাতে তোমরা ঢুকেই সদাপ্রস্তুত আমাকে চেয়ারে উপবিষ্ট দেখতে পাও।

জানো, এ জন্য অনেক রাত আমার অনিদ্রায় কেটে যায়। সত্যি বলছি। আমাকে তার জন্য বাহবা দেয়া উচিত।’ আমার জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল, আগে থেকেই কেমন করে সব রকমের প্রস্তুতির কাজ তিনি সম্পন্ন করে রাখেন। তবে আমি জানতাম তিনি তার জবাব দেবেন না।

তার বদলে আমি বললাম, ‘এখন তো আমি আপনার আসল স্বরূপ উদ্ঘাটন করে ফেলেছি। নিশ্চয় আপনি আর আসবেন না এবং আমাদেরও অকৃতকার্য হতে হবে না।’
‘না, ওটা তোমার ভুল ধারণা।’ তিনি চট্ করে বললেন, ‘আমি আসি কিনা আসি তাতে কিছু যায় আসে না।’

‘কিন্তু আপনি তো হেরে গেছেন।’ আমি শেষ কণ্ঠে বললাম,’ আপনি চাকরি হারাবেন। আপনারও আমার মতোই অবস্থা হবে। হয়তো এখন আপনার যোগ্যতা পরীক্ষার জন্য কোন ইন্টারভিউয়ার নিয়োগ করা হয়।’

‘তোমার ইন্টারভিউ শেষ হয়ে গেছে,’ তিনি বললেন। তার চেহারায় আবার শান্তভাব ফিরে এলো এবং ভাবলেশহীন রূপ ধারণ করল। তিনি বললেন, ‘আর হ্যাঁ, এখানে তোমার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া, তুমি এখানে চাকরি পেলে খুশি হবে বলেও মনে করি না। আচ্ছা, তুমি আসতে পার, কি জানি তোমার নামটা।

‘আচ্ছা চলি।’ আমি সোজা উত্তর দিলাম। তার পরাজয় দেখে আমার মনটা অদ্ভুত একধরনের উলাসে নাচতে লাগল। আরেকদিন আরেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে গেলাম। তখন আমার মন আনন্দ ও গর্বে পূর্ণ। আমি বেশ পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে এসেছি (আমার কৌশল আবার কিছুটা পাল্টে নিয়েছি)।

লিফটে চড়ে শিষ দিতে লাগলাম। লিফট্ উপরে উঠতে লাগল। আরেকটু পরেই উপরতলার কোন একটা কে চাকরির জন্য আমি যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছি। আমি কে প্রবেশ করা মাত্রই আমার মনে হল কে যেন নাক বরাবর বিরাশি সিবকার এক ঘুষি মারল।

‘তারপর।’ ‘আধ-খোলা দরজার ফাঁক দিয়ে কণ্ঠস্বরটা ভেসে এলো। আমি বুঝলাম, আমার হয়ে গেছে। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসবার সৌজন্যও দেখালেন না। তার প্রতিটি কথা মাপাজোখা। তিনি আমার জীবন-বৃত্তান্তের খুঁটিনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে লাগলেন। আর ঠিক তখনই তাকে হত্যা করার ইচ্ছাটা আমার মনে বাসা বেঁধে গেল। হ্যাঁ, তাকে হত্যা করে ইন্টারভিউতে আমার পরাজয়ের আক্রোশ মেটাতেই হবে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে হত্যার পরিকল্পনা মনে মনে আঁটতে লাগলাম। মাঝে আরও চারবার ইন্টারভিউ দিয়েছি। কিন্তু প্রতিপরে নির্দয় প্রশ্নকর্তাকে কিছুতেই পরাভূত করে সিদ্ধি অর্জন করতে পারিনি। হত্যার পরিকল্পনা তো মনে মনে ঠিকই আঁটলাম, কিন্তু কাজ সেরে পালাবার পথ খুঁজে বের করতে পারছিলাম না।

সবাই তো জানবে ঘরের ভেতর কে ইন্টারভিউ দিচ্ছিল। তাকে হত্যা করে পালিয়ে গিয়েও আমার পরিত্রাণ নেই। ধরা পড়ে যাবই। মাঝে মাঝে আমার পরিকল্পনাটা পরিত্যাগ করার কথাও ভাবতে লাগলাম। কিন্তু সে চিন্তাটা বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকত না।

তবে আমি জানতাম যে, হত্যা না করতে পারলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আমাকেই তাহলে আত্নহত্যা করতে হবে। অথচ আমি বেঁচে থাকতে চাই।

অবশেষে সব চিন্তা-ভাবনা ঝেড়ে ঝুড়ে ফেলে পকেটের ভেতর একটা ছুরি লুকিয়ে নিয়ে একদিন আবার ইন্টারভিউ দিতে গেলাম। ‘তারপর।’ ভেতর থেকে ডাক এলো। আমি ঘরে ঢুকলাম এবং পকেট থেকে ছুরি বের করে একটানে তার কণ্ঠনালী কেটে ফেললাম।

ফিন্কি দিয়ে রক্ত বের হয়ে চারদিকে ছিটকে পড়ল। তার গলার গড়গড় আওয়াজ শুনে রিসেপশনিস্ট ছুটে এসে দরজা আগলে দাঁড়াল। আমার পালাবার পথ বন্ধ। আমি তখন ওকেও খুন করব কিনা ভাবতে লাগলাম।

এমন সময় ইন্টারভিউয়ারের টেবিলের পেছন দিকে একটা দরজা খুলে গেল। এর আগে অনেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে গেছি, কিন্তু কোথাও ও ধরনের দরজা কোন ঘরে ছিল বলে আমার নজরে পড়েনি। সাদা দেয়ালে একটা সাদা দরজা আটকানো।

হয়তো এ ধরনের দরজা সব ঘরেই ছিল। নইলে আজই এবং এই ঘরেই যে আমি হত্যা করতে আসব কারও তো জানার কথা নয়। আমারই দোষ, আমি একটা উজবুক, ইন্টারভিউ দিতেই শুধু এসেছি, অন্য কোনদিকে নজর দেয়ার কথা কোনদিন ভাবিনি।

লোকটা মেঝেতে পড়েছিল। তার কণ্ঠনালীতে ছুরিটা গেঁথে আছে। তার কণ্ঠ থেকে গড়গড় আওয়াজ বের হচ্ছিল। আর মুখের ফস্ বেয়ে ফেনা বেরুচ্ছিল। পেছনের দরজা দিয়ে সদ্য আবির্ভূত লোকটা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে থাকা লাশটা ডিঙিয়ে আমার কাছে এসে তার ডান তাটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। আমি অভিভূতের মতো তার হাতটা আমার হাতে নিলাম। আমার সারা শরীর রক্তাক্ত। কিম্ভুতকিমাকার দৃশ্য একটা!

লোকটা বলল, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আপনি চাইলে, আপনাকে আমরা একটা চাকরি দিতে পারি।’
চাপরাশি এসে লাশটাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেল। দু’জন মহিলা এসে মেঝে থেকে ঘসে মেজের রক্তের দাগ মুছে ফেলল। কোথাও রক্তের চিহ্নও রইল না। আমার নতুন বন্ধু টেবিলের একটা ড্রয়ার খুলে আমাকে একপ্রস্থ পরিপাটি পোশাক পরতে দিল।

‘কিসের চাকরি?’ আমি অনেক কষ্টে শেষপর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।
‘এইমাত্র একটা চাকরি খালি হল।’ তার কণ্ঠে আপে থাকলেও বেশ শান্ত। তিনি বললেন, ‘খুব ভালো বেতনের চাকরি।’

আমি ধীর-স্থিরভাবে চেয়ারে আসন গ্রহণ করলাম। আমার চেহারাতে ফুটে উঠল একটা স্নিগ্ধতা, একটা শান্ত আর ভাবলেশহীন ভাব। আমি ভাবতে লাগলাম, অস্তিনের তলায় ছুরি লুকিয়ে নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য কোন ব্যক্তির আসতে কত সময় লাগতে পারে।

(লেখক পরিচিতি : সালমান রুশদী বোম্বে শহরে ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ভারতে ছিলেন। তারপর তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং সাহিত্য-চর্চা শুরু করেন। তিনি বেশ কয়েকটি উঁচুমানের গ্রন্থ লিখে ইতিমধ্যে অনেক পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

এবং অতি সম্প্রতি বুকার সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের সর্বসেরা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সাহিত্যে বুকার পুরস্কার তো সেই ১৯৮১ সালে পেয়েছেন ‘মিডনাইট চিলড্রেন’: বই লিখে। আর ঠিক একই গ্রন্থের জন্য ২০০৮ সালে সেরাদের সেরা হয়ে এক ইতিহাস রচনা করলেন। স্বপ্নের আসন তার লেখা ‘দি গোডেন বাউ’ প্রতীকী গল্পের অনুবাদ।)

সংগ্রহকৃতঃ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28846433 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28846433 2008-09-22 12:50:25
কালোজিরাঃ রোগ প্রতিরোধে
প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রায় ১৪শ’ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছিলেন, ‘কালোজিরা রোগ নিরাময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তোমরা কালোজিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই প্রায় সব রোগের নিরাময় ক্ষমতা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।’ সে জন্য যুগ যুগ ধরে পয়গম্বরীয় ওষুধ হিসেবে সুনাম অর্জন করে আসছে।

তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ক্যানন অব মেডিসিন’-এ বলেছেন, ‘কালোজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে।’ কালোজিরা তে প্রায় শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে প্রোটিন ২১ শতাংশ, শর্করা ৩৮ শতাংশ, স্নেহ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। প্রতি গ্রাম কালজিরায় যেসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা নিন্মরূপ­-

* প্রোটিন ২০৮ মাইক্রোগ্রাম,
* ভিটামিন-বি ১.১৫ মাইক্রোগ্রাম
* নিয়াসিন ৫৭ মাইক্রোগ্রাম
* ক্যালসিয়াম ১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম
* আয়রণ ১০৫ মাইক্রোগ্রাম
* ফসফরাস ৫.

২৬ মিলিগ্রাম
* কপার ১৮ মাইক্রোগ্রাম
* জিংক ৬০ মাইক্রোগ্রাম
* ফোলাসিন ৬১০ আইউ

কালোজিরার গুণের শেষ নেই। প্রতিদিন সকালে এক চিমটি কালজিরা এক গ্লাস পানির সাথে খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ভেষজবিদরা কালোজিরা কে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে অভিহিত করেছেন­ হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন কালোজিরা সেবনে উপকার পাওয়া যায়। কালোজিরা হরমোন সমৃদ্ধ হওয়ায় পুরুষত্বহীনতায় বা নারী-পুরুষের যৌন অক্ষমতায় নিয়মিত কালোজিরা সেবনে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়। কালোজিরায় রয়েছে ১৫টি অ্যামাইনো এসিড। আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজন ৯টি অ্যাসেনসিয়াল অ্যামাইনো এসিড­ যা দেহে তৈরি হয় না, অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে এর অভাব পূরণ করতে হয়। আর কালোজিরায় রয়েছে আটটি অ্যাসেনসিয়াল অ্যামাইনো এসিড। সর্দি কাশি সারাতে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কালাজিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসূতি মাতাদের দুগ্ধ বাড়াতে ও নারী দেহের মাসিক নিয়মিতকরণে এবং মাসিকের ব্যথা নিবারণে কালোজিরার ভূমিকা রয়েছে।

নিয়মিত কালোজিরা সেবনে চুলের গোড়ায় পুষ্টি ঠিকমতো পায়, ফলে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। নিয়মিত অল্প পরিমাণ কালোজিরা খেলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

**************************
লেখকঃ ডা. মোঃ সাদেকুর রহমান

দৈনিক নয়াদিগন্ত, ২১ অক্টোবর ২০০৭ এ প্রকাশিত


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28830459 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28830459 2008-08-13 16:07:41
শাকিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র


সময়ের ওয়ান অ্যান্ড অনলি হিরো শাকিব খানের বিরুদ্ধে একটি মহল নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অশ্লীল ছবির ধারক-বাহক পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে দুএকজন সাংবাদিক নামধারী রয়েছে যারা শাকিব খানের উত্থানকে সহ্য করতে পারছে না। তারা শাকিব অভিনীত প্রায় প্রতিটি ছবিকেই নকল বলে প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এই চক্রটি শাকিব খান অভিনীত প্রতিটি ছবির বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে খোঁজ খবর রাখছে এবং অন্যায় দাবি তুলছে। দাবি পূরণ না হলে সেন্সর বোর্ডে পাঠিয়ে দিচ্ছে বেনামে কোন উড়ো চিঠি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ছবির সিডি। সেন্সর বোর্ড অভিযোগকারীদের নাম-পরিচয় এবং উদ্দেশ্য না জেনেই অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং নকলের অভিযোগে সনদপত্র প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছে।

ক্ষেত্র বিশেষে সনদপত্র প্রদান করার পরও পরবর্তীতে তা স্থগিত করছে। ইতিমধ্যে যে ৪টি ছবির সেন্সর সনদপত্র দিতে আপত্তি কিংবা সনদপত্র দেয়ার পর স্থগিত করা হয়েছে তার মধ্যে তিনটি ছবি শাকিব খান অভিনীত। এর মধ্যে বদিউল আলম খোকন পরিচালিত প্রিয়া আমার প্রিয়া ছবিটিকে সেন্সর সনদপত্র প্রদান করে পরবর্তীতে নকলের অভিযোগে স্থগিত করা হলে ছবির প্রযোজক আদালতের শরণাপন্ন হন।

আদালতের রায়ে প্রিয়া আমার প্রিয়া মুক্তি পেয়ে সুপার হিট হলে শাকিব বিরোধী শিবির আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা এখন শাকিব অভিনীত প্রতিটি ছবিকেই টার্গেট করেছে। ইতিমধ্যেই শাকিব অভিনীত দুটি ছবি সেন্সর বোর্ডে নকলের অভিযোগে আটকে রয়েছে। ছবি দুটো হচ্ছে শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত মিয়া বাড়ীর চাকর এবং সাফি ইকবাল পরিচারিত প্রেম মানে না বাধা । দুটি ছবিই পরিচ্ছন্ন এবং সুস্থ ধারার।

ছবিগুলো মুক্তি পেলে সুপারহিট হবে এমনটি নিশ্চিত হয়েই ওই চক্রটি তৎপর রয়েছে যাতে কোন মতেই এই দুটোসহ শাকিবের অন্যান্য ছবি যাতে সহজেই মুক্তি পেতে না পারে। এতে করে চলচ্চিত্র ব্যবসার ক্ষতি তো হবেই। ক্ষতি হবে শাকিব খানেরও। এখন শাকিব ছাড়া কারো ছবি চলে না।

ফলে শাকিবের ছবি মুক্তি না পেলে অশ্লীল ছবির নির্মাণ আবার শুরু হবে অথবা মুম্বইয়ের ছবি চলে আসবে এমন লক্ষ নিয়ে ব্যস্ত ওই চক্রটি। এই লক্ষ পূরণে ব্যস্ত কিছু অশ্লীল ছবি থেকে সুবিধা পাওয়া সাংবাদিক নামধারীও। তারা শাকিব খান অভিনীত ছবিগুলো নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আগাম সংবাদ পরিবেশন করছে যা নিয়ে বিরক্ত শাকিব খান নিজেও।

এই চক্রকে প্রতিহত করার জন্য শাকিব নিজেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নিজের ক্যারিয়ার এবং চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রার জন্য শাকিব নতুন একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। অচিরেই এই পরিকল্পনা নিয়ে তিনি নিজের ছবির প্রযোজক, পরিচালক এবং শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28818567 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28818567 2008-07-09 17:48:01
আলোচনায় রুমা


তিনি প্রথমে মডেল, পরে অভিনেত্রী আর এখন আবির্ভূত হয়েছেন উপস্থাপক হিসেবে। তিন অধ্যায়ে তিনি নিজেকে সফলভাবে পেশ করেছেন সময়ের তালে লয়ে মিলিয়ে। এর জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক লম্বা এবং বন্ধুহীন বন্ধুর পথ। পিছলে পড়া যাবে না, লেগে থাকতে হবে- এই প্রত্যয় নিয়ে প্রায় ১০ বছরের পদচারণা লাবণ্যপ্রভা ফারাহ্ রুমার।

সম্প্রতি তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এনটিভির একটি নিয়মিত অনুষ্ঠানে সাবলীল এবং গ্ল্যামারাস উপস্থাপনা শৈলীর দৌলতে। নাজমুল হুদা শাপলার প্রযোজনায় আমারও গাইতে ইচ্ছে করে শিরোনামের ভিন্ন মাত্রার এই সংগীতানুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর অনেকেরই মন্তব্য ছিল এটা কি করে সম্ভব। মেয়েটিতো দারুণ মার খাবে। এমন অনুষ্ঠান কেন উপস্থাপনা করতে গেল।

সমালোচকদের এমন তিতকুটে মন্তব্যের পেছনে বেশ জোরালো কারণও ছিল। কারণটা হলো এমন- প্রথমত এর আগে রুমার কোন উপস্থাপনা অভিজ্ঞতা নেই। দ্বিতীয়ত এটি একটি নিখাঁদ গানের অনুষ্ঠান, যে অনুষ্ঠানে এমনসব শিল্পী আসবে যারা এক কথায় গান বিষয়ে অলরাউন্ডার। মানে গান গাইতে, লিখতে, সুর করতে, বাজাতে- সবই জানে। সেই তাদের সঙ্গে গানের গও না জানা ফারাহ্ রুমা কি করে নিজেকে চালিয়ে নিবেন?

রুমা বলেন, সমালোচকদের কথা বাদ দিন, আমি নিজেও নিজেকে নিয়ে দারুণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। একদিকে উপস্থাপনা করিনি অন্যদিকে একটানা নাটক-শুটিং ব্যস্ততা, আরেকদিকে গান সম্পর্কে তেমন একটা জানি নাম, শুনাও হয় না। তবুও করতে এলাম এই কারণে, উপস্থাপনার প্রতি আমার প্রাচীন দুর্বলতার কারণে। ছোট বেলা থেকে এখনও আমি এই একটি বিষয়ে অনেক বেশি দুর্বল।

হয়তো আজকের উপস্থাপনার সফলতা সেই দুর্বলতারই ফসল। না হলে সফল হওয়ার আর কোন কারণ দিখি না। তবে এটা ঠিক, আমাকে দিয়ে এর কিছুই হতো না, যদি প্রযোজক আমার পেছনে সময় এবং শ্রম ব্যয় না করতেন। আমারও গাইতে ইচ্ছে করে শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের সফলতার সূত্র ধরে ফারাহ্ রুমা আরও একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন।

এটি হলো রান্না বিষয়ক প্রতিযোগিতা। দুই উপস্থাপনার সঙ্গে এখন প্রতিনিয়ত উপস্থাপনার অফার আসছে রুমার ঘরে। বিনীতভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বলছেন, ভাই আমি মূলত অভিনয়টা করতে চাই। উপস্থাপনাটা করছি প্রাচীন দুর্বলতার কবলে পড়ে। এখানে আমি নিজেকে স্থায়ী করতে চাই না। উপস্থাপনা করার মতো এত মেধা আমার নেই।

এদিকে উপস্থাপনার উষ্ণতা বুকে নিয়ে অভিনেত্রী ফারাহ রুমা দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন টিভি নাটকেও। নিয়মিত অভিনয় করছেন চ্যানেল আইর সরাসরি ধারাবাহিক আস্তে আস্তে আস্তে, ইটিভির ধারাবাহিক আজিজ মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, চ্যানেল ওয়ানের চার বায়োস্কোপ এবং এনটিভির আমার বউ সব জানে ধারাবাহিকে।

এ ধারাবাহিকের নিয়মিত শুটিং-এর সঙ্গে আরও কাজ করছেন মোমিনুল ইসলামের রচনায় তাহের শিপনের ঈদের নাটক অন্য এক সুখ, মেজবাউর রহমান সুমনের রেল স্টেশনে শোনা গল্প, ধারাবাহিক জলছবি প্রভৃতিতে। নাটকের খবর এখানেই শেষ নয়, আসন্ন ঈদের ব্যস্ততা চুকিয়ে শিগগিরই দুটি মেগা ধারাবাহিকে অভিনয় করার কথা হয়েছে ফারাহ রুমার।

দুটোতেই তার বিপরীতে থাকছেন ছোট পর্দার চকোলেট হিরো অপূর্ব। এর একটি হলো আরিফ খানের পরিচালনায় জল কন্যা এবং অন্যটি নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ১৪ই মে । কথা চলছে আরও কিছুর। ঠিক না হলে বলা ঠিক নয়। ওদিকে ছোট পর্দার অন্য অনেকের মতো ফারাহ্ রুমার মনটাও বেশ আঁকু-পাঁকু করছে বড় পর্দায় নাম লিখাবার জন্য।

চুপি চুপি অনেক আগে সে রাস্তাটাও পরিষ্কার করেছিলেন। চেয়েছিলেন বাণিজ্যিক ধারার একটি স্বচ্ছ ছবিতে অভিনয় করে সবার চোখ ধাঁধিয়ে দিবেন। জয় করে নিবেন বাণিজ্যিক ছবিতে ব্যস্ত হওয়ার পথটাকেও, প্রমাণ করবেন ছোট পর্দা থেকেও বড় পর্দায় সফল হওয়া যায়, যদি লক্ষ অটুট থাকে। রুমার সেই নীরব যাত্রা সফল হয়নি। থমকে গেছে অনাকাঙ্খিতভাবে।

কথা ছিল নায়ক মান্নার ব্যানার কৃতাঞ্জলি থেকে একটি ছবির হিরোইন হওয়ার। এ নিয়ে ছবির চিত্রনাট্য এবং মৌখিক আলাপ সবই সম্পন্ন করে সবার চোখ ধাঁধিয়ে প্রস্থানে গেলেন মান্না। থেমে গেল রুমার নীরব যাত্রা। রুমা বলেন, ইচ্ছে ছিল মান্না ভাইর মাধ্যমে চলচ্চিত্র নামের অথৈ সমুদ্রে নিজের ছোট্ট ডিঙ্গিখানা ভাসাবো। সে হিসেবে সব কথা চূড়ান্তও হয়েছিল।

হিন্দু ও মুসলমান পরিবারের দুটি পরিবারের ঘটনা নিয়ে ছবিটির স্ক্রিপ্টও তৈরি হচ্ছিল। তার কিছুই হলো না। এতে ধাক্কা খেয়েছি বটে, তবে থেমে যেতে চাই না। অফারতো কত রকমই থাকে। চলচ্চিত্রটা একটু হিসাব করে করতে চাই। এমন কিছু করতে চাই না, যাতে মানুষ মুখ টিপে টিপে হাসতে পারে। অন্তত চলচ্চিত্রে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28818036 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28818036 2008-07-08 11:54:44
আবার বিয়ে সুবর্ণার


যা রটে তা বটে-এ সত্য আবারও প্রমাণ করলেন সুবর্ণা। বিয়ে করলেন আরও একবার। বর তরুণ নাট্য পরিচালক বদরুল আনাম সৌদ। বেশ কমাস ধরেই মিডিয়ার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল তাদের সম্পর্কের খবর। তবে দুজনে বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন তা। গতকাল সকাল ১০টায় বরের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর উত্তরার বাসায় সম্পন্ন হয় দুজনের বিয়ে অনুষ্ঠান। দশ লাখ এক টাকা দেনমোহরে বদরুল আনাম সৌদের সঙ্গে বিয়ে হয় সুবর্ণা মুস্তাফার।

দুই পরিবারের সদস্য আর বর-কনের ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বন্ধু-বান্ধব ছাড়া আর কেউ বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন না। বিয়েতে উকিল ছিলেন সুবর্ণার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাহবুব। সাক্ষী ছিলেন (বর পক্ষ) সৌদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিপিন এবং (কনে পক্ষ) সুবর্ণার ঘনিষ্ঠ এক নাট্যকার ও নির্মাতা।
গতকাল রাতেই সৌদের এক বন্ধুর বাসায় ফুলশয্যা হয় নবদম্পতির।

আগামী দশ দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে সুবর্ণাকে নিজের ফ্ল্যাটে তুলে নেবেন সৌদ। এ কদিন তারা তাদের বন্ধুর বাসায়ই থাকবেন। গত ১৮ই মার্চ হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে ডিভোর্সের মাধ্যমে সুবর্ণার ২৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। এর মাস কয়েক আগে থেকেই সৌদের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।

এ রকম গুজব-গুঞ্জনে জড়ানো দীর্ঘ প্রণয়ের পর এক কন্যার পিতা হুমায়ুন ফরীদিকে সুবর্ণা বিয়ে করেছিলেন ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে। কিন্তু বিয়ের এক দশক না পেরোতেই তাদের সংসারে দেখা দেয় অশনি সঙ্কেত। পরবর্তী দশ বছর এক ছাদের নিচে বসবাস করলেও তারা আলাদা ঘরে থাকতেন বলে একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে সুবর্ণা অনেকবার ফরীদিকে সতর্ক করে দিলেও কোন কাজ হয়নি। তাই এক পর্যায়ে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। কিন্তু বাইরে এ ব্যাপারটি কখনও তারা বুঝতেই দেননি। অভিনেত্রী আফসানা মিমি ও বদরুল আনাম সৌদের যৌথ পরিচালনায় ডেইলি সোপ ?ডলস হাউস-এর শুটিং করার সময় সৌদের মাঝেই সুবর্ণা খুঁজে পান তার অতৃপ্ত ভালবাসাকে ভরিয়ে দেয়ার মানুষটিকে।

আড়ালে-আবডালে তখনই গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। বয়সে বিস্তর ব্যবধান সত্ত্বেও। জানা যায়, এ সম্পর্ক পড়ে তোলার নেপথ্যে ছিলেন ছোট পর্দার এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী। আর ওই সম্পর্কের টানেই এক সময় ফরীদির ধানমন্ডির ১০/এ বাসা ছেড়ে উত্তরায় মায়ের বাসায় ওঠেন সুবর্ণা। প্রথমে কিছুদিন কেবলমাত্র আলাদা থাকার কথা বললেও সুবর্ণা গত ১৮ই মার্চ ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়ে দেন ফরীদিকে। ওই সঙ্গে অবসান ঘটে ফরীদি-সুবর্ণার দুই যুগের দাম্পত্য জীবনের।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28818034 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28818034 2008-07-08 11:52:10
ছবি-মিতা
রবীন্দ্রনাথের বিজয়িনী হলেন ফারজানা ছবি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প প্রতিহিংসা অবলম্বনে নির্মিত বিজয়িনী নাটকে নাম ভূমিকায় অর্থাৎ বিজয়িনী চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারজানা রহমান ছবি। গল্প থেকে নাট্যরূপ দিয়েছেন রহিমা তাসনুম অনু। নির্দেশকও দিয়েছেন তিনি। এ নাটকেই ফারজানা রহমান ছবির বিপরীতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করেছেন এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা শোয়েব।

বিজয়িনী চরিত্রে অভিনয় করা প্রসঙ্গে ফারজানা রহমান ছবি বলেন, আমার ছরিত্রটি জমিদারের স্ত্রীর একটি চরিত্র। সে বেশ অহংকারী নারী। ভাল লেগেছে সাহিত্যনির্ভর এই কাজটি করে। ফারজানা রহমান ছবি আরও বলেন, সত্যিকথা বলতে সাহিত্যনির্ভর নাটকের প্রতি আমার আগ্রহ সবসময়ই একটু বেশি। তার ওপর আবার রবীন্দ্র সাহিত্যের প্রতি আমি একটু বেশি দুর্বল।

চরিত্রটিতে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে নিজের চাওয়ার অংশটুকু পূরণ হতে চলেছে। বিজয়িনী ছাড়া অন্য নাটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি কাগজের ফুল নামে ভিন্ন ধরনের গল্পনির্ভর একটি নাটকে অভিনয় করেছি। গ্রামীণ গল্পনির্ভর ওই নাটকটিতে আমাকে দেখা যাবে হতদরিদ্র একজন মেয়ের চরিত্রে।

উল্লেখ্য, ফারজানা রহমান ছবি অভিনীত এক এ শূন্য দশ সহ আরও কয়েকটি নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার চলতি রয়েছে। অন্যদিকে নাটকের বাইরে প্রথমবারের মতো একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। বর্তমানে চলচ্চিত্রটির শুটিং চলছে।

মিতা নূরের ফ্রেম কাব্য

ব্যস্ত অভিনেত্রী মিতা নূর সম্প্রতি একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করছেন। নাম ফ্রেম কাব্য । আনজীর লিটনের রচনা ও পরিচালনায় এই টেলিফিল্মে তিনি প্রথমবারের মতো অভিনয় করছেন এই সময়ের আর এক ব্যস্ত অভিনেতা কবি রিফাত চৌধুরীর সঙ্গে। সর্বদা হাসিমুখের মানুষ রিফাত চৌধুরী পর্দায় নিজের সাবলীল উপস্থাপনের মাধ্যমে দর্শকদের মনমন্দিরে একটা স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছেন।

বন মানুষ, বাইসাইকেল, ৪২০, ক্যারাম, মুড়ির টিন, সেন্ট্রাল মেন্টাল হাসপাতাল রিফাত চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর অন্যতম। রিফাত চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে মিতানুর বলেন, খুব বেশি দিন না হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই রিফাত ভাইয়ের অভিনয় দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে।

অনেক ভাল মনের মানুষ তিনি। আশা করছি তার সঙ্গে কাজ করতে ভাল লাগবে। টেলিফিল্মটিতে আমি তার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করছি। অন্যান্য ব্যস্ততা? সাইফুল ইসলাম মান্নুর ২৬ পর্বের ধারাবাহিক কারও কোন নীতি নাই, জীবন তো একটাই, কায়সার আহমেদের টমটম, আবু আল সাইদের একক নাটক বাবার বাবা-এর শুটিং নিয়ে দারুণ ব্যস্ততায় সময় পার হচ্ছে। এছাড়া সাংসারিক কাজ তো থাকছেই।

অন্যদিকে রিফাত চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, টেলিফিল্মটিতে আমি একজন পেইন্টারের চরিত্রে অভিনয় করছি। খুব দৈন্যদশার মধ্য দিয়ে চলে আমার জীবন। মিতা নূর সম্পর্কে তিনি বলেন, খুব মেধাবী অভিনেত্রী। আগে কখনও তার সঙ্গে কাজ করা হয়নি।
আমার মনে হয় দর্শকরা টেলিফিল্মটি দেখে খুব মজা পাবেন।

এছাড়া অন্যান্য ব্যস্ততা? রিয়াজ রহমানের আদর্শলিপি, ইফতেখার ফাহমীর ১০০ পর্বের নাটক ধারাবাহিক হাউসফুল শরাফত জীবনের নাম ঠিক না হওয়া একটি ধারাবাহিক এবং মাসুদ সেজানের এইম ইন লাইফ-এর শুটিং নিয়ে ব্যস্ততায় সময় কাটছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817621 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817621 2008-07-07 10:44:23
তুষ্টির নতুন মিশন
শামীমা ইসলাম তুষ্টি মিডিয়ার অনেক শাখায় পথ চলছেন। একাধারে তিনি মডেল, মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। আবার নাচের ওপরও কাজ করেন। সেই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশা তো রয়েছেই। একসঙ্গে এত কাজ? সামলান কি করে? তুষ্টি বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শাখায় জড়িত থাকলেও এবং শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিলেও আমি কিন্তু প্রচুর কাজ করি না।

তাই যদি করতাম তাহলে হয়তো আমাকে অনেক নাটকে দেখা যেত। আমি নাটক করলেও খুব কম করি। কারণ, শিক্ষকতা পেশার জন্য আমাকে অনেক বেশি সময় দিতে হয়। আবার মঞ্চের সঙ্গে জড়িত। সেখানেও সময় দিই। অন্যদিকে কিছুদিন আগে আমার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সে কারণে খুব বেশি কাজ আমি করতে পারিনি।

পড়াশোনার জন্য অনেক সময় আমাকে দিতে হয়েছে। তাহলে কোন ধরনের মিশন নিয়ে পথ চলছেন? তুষ্টি জানান, নতুন একটি মিশন নিয়ে এগুচ্ছি আমি। নতুন মিশনটি হচ্ছে নাচের জন্য একটি স্কুল খুলতে চাই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে। আমার নিজের মনের মতো হবে স্কুলটি। যেহেতু ছোটবেলা থেকে আমি নাচের সঙ্গে জড়িত, তাই নাচ নিয়ে অনেক স্বপ্ন আমার। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই আমি নাচের স্কুল করতে চাই।

এখনকার ব্যস্ততা কি নিয়ে? তুষ্টি বলেন, একুশে টেলিভিশনে আমার অভিনীত নতুন ধারাবাহিক একে শূন্য দশ প্রচার হচ্ছে। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন কায়সার আহমেদ। গ্রামীণ গল্পনির্ভর নাটকটিতে আমি সম্পূর্ণ বতিক্রমী একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। খুব শিগগিরই কায়সার আহমেদের আরেকটি নতুন ধারাবাহিকে কাজ করার সম্ভাবনা আছে।

কিছুদিন আগে আবু আল সাঈদের নির্দেশনায় বাবার বাবা নামে একটি টেলিফিল্মে গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। বেশ মজার ছিল আমার চরিত্রটি। ফিল্মের প্রসঙ্গে তুষ্টি বলেন, মাঝখানে কিছু ফিল্মের প্রস্তাব আমি পেয়েছি। কিন্তু সময়ের অভাবে করতে পারিনি। ফিল্ম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমার অভিনীত স্বপ্নডানায় ফিল্মটি এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য নমিনেশন পেয়েছে। এজন্য আমি অনেক বেশি আনন্দিত।

উল্লেখ্য, শামীমা ইসলাম তুষ্টি লোকনাট্য দলের সঙ্গে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এই দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন কঞ্জুস, সিদ্ধিদাতা, তপস্বী ও তরাদিনীসহ বেশ কয়েকটি নাটকে। মঞ্চের হয়ে দেশের বাইরেও নাটক করেছেন। আর নাচ শিখেছেন শিশু একাডেমী এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে। নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিটিভিতেও তালিকাভুক্ত হয়েছেন বেশ আগেই।

শিমু নায়িকা হতে চান

মেয়েটি বড় হয় রাজধানী শহরের একেবারে নিম্নবিত্ত ঘরে। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন বড় হয়ে ফিল্মের নায়িকা হবে। আজন্ম এই ইচ্ছে আর স্বপ্নের ডালপালা নিয়ে সামনে এগোতে থাকে সে। কিন্তু সত্যি সত্যি সে নয়িকা হতে পারে না। এক সময় একজন উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তার।

বিয়ের পর শুরু হয় অন্য জীবন। যে জীবনের কথা মেয়েটি কখনও কল্পনাই করেনি। স্বামীর নির্যাতন মেয়েটির ওপর দিন দিন বাড়তে থাকে। দিন যত যায় স্বামী ব্যবসা-বাণিজ্যে তত লোকসান দিতে থাকে। ফলে নির্যাতনের ভারটা মেয়েটির ওপর বেশি মাত্রায় পড়ে। এভাবেই এগিয়ে যাবে একটি ধারাবাহিক নাটকের কাহিনী। নাটকের নাম ললিতা। মূলত ললিতাকে কেন্দ্র করেই ঘটবে যত নাটকীয় ঘটনা।

ললিতা চরিত্রে অভিনয় করবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু। তার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করবেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। একুশে টেলিভিশনের জন্য নাটকটি নির্মাণ করছেন জুয়েল মাহমুদ। নাট্যকার তিনি নিজেই। এ মাসেই শুরু হবে ললিতার শুটিং। উল্লেখ্য, এ নাটকে ললিতা চরিত্রে প্রথমে অভিনয় করার কথা ছিল তিশার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পরিবর্তে শিমুকে নেয়া হয়।

এদিকে নতুন এই ধারাবাহিক নাটক ছাড়াও চলতি সময়ে সুমাইয়া শিমু ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বেশ কিছু একক নাটক, টেলিফিল্ম এবং ধারাবাহিক নাটকে শুটিং করে। তার অভিনীত প্রচার চলতি নাটকেও নিয়মিত শুটিং করছেন। প্রচার চলতি নাটকগুলো হচ্ছে- স্বপ্নচূড়া, ময়ূর বাহন । উল্লেখ্য, ললিতা চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল অভিনেত্রী তিশার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817617 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817617 2008-07-07 10:34:57
তুষ্টির নতুন মিশন
শামীমা ইসলাম তুষ্টি মিডিয়ার অনেক শাখায় পথ চলছেন। একাধারে তিনি মডেল, মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। আবার নাচের ওপরও কাজ করেন। সেই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশা তো রয়েছেই। একসঙ্গে এত কাজ? সামলান কি করে? তুষ্টি বলেন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শাখায় জড়িত থাকলেও এবং শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিলেও আমি কিন্তু প্রচুর কাজ করি না।

তাই যদি করতাম তাহলে হয়তো আমাকে অনেক নাটকে দেখা যেত। আমি নাটক করলেও খুব কম করি। কারণ, শিক্ষকতা পেশার জন্য আমাকে অনেক বেশি সময় দিতে হয়। আবার মঞ্চের সঙ্গে জড়িত। সেখানেও সময় দিই। অন্যদিকে কিছুদিন আগে আমার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সে কারণে খুব বেশি কাজ আমি করতে পারিনি।

পড়াশোনার জন্য অনেক সময় আমাকে দিতে হয়েছে। তাহলে কোন ধরনের মিশন নিয়ে পথ চলছেন? তুষ্টি জানান, নতুন একটি মিশন নিয়ে এগুচ্ছি আমি। নতুন মিশনটি হচ্ছে নাচের জন্য একটি স্কুল খুলতে চাই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে। আমার নিজের মনের মতো হবে স্কুলটি। যেহেতু ছোটবেলা থেকে আমি নাচের সঙ্গে জড়িত, তাই নাচ নিয়ে অনেক স্বপ্ন আমার। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই আমি নাচের স্কুল করতে চাই।

এখনকার ব্যস্ততা কি নিয়ে? তুষ্টি বলেন, একুশে টেলিভিশনে আমার অভিনীত নতুন ধারাবাহিক একে শূন্য দশ প্রচার হচ্ছে। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন কায়সার আহমেদ। গ্রামীণ গল্পনির্ভর নাটকটিতে আমি সম্পূর্ণ বতিক্রমী একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। খুব শিগগিরই কায়সার আহমেদের আরেকটি নতুন ধারাবাহিকে কাজ করার সম্ভাবনা আছে।

কিছুদিন আগে আবু আল সাঈদের নির্দেশনায় বাবার বাবা নামে একটি টেলিফিল্মে গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। বেশ মজার ছিল আমার চরিত্রটি। ফিল্মের প্রসঙ্গে তুষ্টি বলেন, মাঝখানে কিছু ফিল্মের প্রস্তাব আমি পেয়েছি। কিন্তু সময়ের অভাবে করতে পারিনি। ফিল্ম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমার অভিনীত স্বপ্নডানায় ফিল্মটি এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য নমিনেশন পেয়েছে। এজন্য আমি অনেক বেশি আনন্দিত।

উল্লেখ্য, শামীমা ইসলাম তুষ্টি লোকনাট্য দলের সঙ্গে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এই দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন কঞ্জুস, সিদ্ধিদাতা, তপস্বী ও তরাদিনীসহ বেশ কয়েকটি নাটকে। মঞ্চের হয়ে দেশের বাইরেও নাটক করেছেন। আর নাচ শিখেছেন শিশু একাডেমী এবং বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে। নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিটিভিতেও তালিকাভুক্ত হয়েছেন বেশ আগেই।

শিমু নায়িকা হতে চান

মেয়েটি বড় হয় রাজধানী শহরের একেবারে নিম্নবিত্ত ঘরে। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন বড় হয়ে ফিল্মের নায়িকা হবে। আজন্ম এই ইচ্ছে আর স্বপ্নের ডালপালা নিয়ে সামনে এগোতে থাকে সে। কিন্তু সত্যি সত্যি সে নয়িকা হতে পারে না। এক সময় একজন উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তার।

বিয়ের পর শুরু হয় অন্য জীবন। যে জীবনের কথা মেয়েটি কখনও কল্পনাই করেনি। স্বামীর নির্যাতন মেয়েটির ওপর দিন দিন বাড়তে থাকে। দিন যত যায় স্বামী ব্যবসা-বাণিজ্যে তত লোকসান দিতে থাকে। ফলে নির্যাতনের ভারটা মেয়েটির ওপর বেশি মাত্রায় পড়ে। এভাবেই এগিয়ে যাবে একটি ধারাবাহিক নাটকের কাহিনী। নাটকের নাম ললিতা। মূলত ললিতাকে কেন্দ্র করেই ঘটবে যত নাটকীয় ঘটনা।

ললিতা চরিত্রে অভিনয় করবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু। তার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করবেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। একুশে টেলিভিশনের জন্য নাটকটি নির্মাণ করছেন জুয়েল মাহমুদ। নাট্যকার তিনি নিজেই। এ মাসেই শুরু হবে ললিতার শুটিং। উল্লেখ্য, এ নাটকে ললিতা চরিত্রে প্রথমে অভিনয় করার কথা ছিল তিশার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পরিবর্তে শিমুকে নেয়া হয়।

এদিকে নতুন এই ধারাবাহিক নাটক ছাড়াও চলতি সময়ে সুমাইয়া শিমু ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বেশ কিছু একক নাটক, টেলিফিল্ম এবং ধারাবাহিক নাটকে শুটিং করে। তার অভিনীত প্রচার চলতি নাটকেও নিয়মিত শুটিং করছেন। প্রচার চলতি নাটকগুলো হচ্ছে- স্বপ্নচূড়া, ময়ূর বাহন । উল্লেখ্য, ললিতা চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল অভিনেত্রী তিশার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817616 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817616 2008-07-07 10:34:51
নতুন পরিচয়ে তানিয়া


নতুন পরিচয়ে দর্শকদের সামনে আসছেন অভিনেত্রী তানিয়া হোসাইন। এবার নাট্যকার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন তিনি। এক ঘণ্টার একটি নাটক লিখেছেন কিছুদিন আগে। নাটকের নাম কাঁচঘর । শুটিংও সম্পন্ন হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ বিশ্বাস। এতে তানিয়া হোসাইনের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সজল। নতুন পরিচয় সম্পর্কে তানিয়া হোসাইন বলেন, কাঁচঘর আমার লেখা তৃতীয় এক ঘণ্টার নাটক।

আরও দুটি এক ঘণ্টার নাটক আমি লিখেছি। সেগুলোর শুটিং এখনও হয়নি। কাঁচঘর নাটকের গল্প জানতে চাইলে বলেন, খুব মজার গল্প নিয়ে এর কাহিনী এগিয়ে যাবে। দর্শকদের জন্য চমক রাখতে চাই। সে কারণে গল্প এখন বলছি না। কারণ বললে সব চমক শেষ হয়ে যাবে।
হঠাৎ নাট্যকার হিসেবে আবির্ভূত হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, শখের বশে লিখছি।

আপাতত শখ হিসেবেই থাকবে। ভবিষ্যতে পুরোদমে লিখবো কিনা তা এখনই বলতে পারছি না। এটুকু বলতে পারি, মাঝে মাঝে নাটক লিখব। এখন পর্যন্ত লেখালেখি নিয়ে এটুকুই টার্গেট। তানিয়া হোসাইন আরও বলেন, আমার মূল জায়গা অভিনয়। অভিনেত্রী পরিচয় নিয়েই প্রতিষ্ঠা পেতে চাই। তাহলে উপস্থাপনা? একটু হেসে বলেন, উপস্থাপনা করবো।

এখন তো নতুন একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। অনুষ্ঠানের নাম ইয়াংক্রেজ। চ্যানেল ওয়ানে প্রচার হচ্ছে অনুষ্ঠানটি। এটি প্রত্যেক সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় প্রচার হচ্ছে। ইয়াংক্রেজ উপস্থাপনা করা প্রসঙ্গে বলেন, অনুষ্ঠানটি ভালই জমে উঠেছে। বেশ সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই প্রশংসা করছেন। যারা ইয়াং স্টার তারা অতিথি হয়ে আসছেন এই অনুষ্ঠানে। এ পর্যন্ত অতিথি হয়ে এসেছেন মোনালিসা, অপূর্ব, চাঁদনী, ইরেশ।

উপস্থাপনা প্রসঙ্গে তানিয়া হোসাইন আরও বলেন, অনুষ্ঠান উপস্থাপনার আরও প্রস্তাব পাচ্ছি। কিন্তু এখনই নতুন কোন অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় হাত দিচ্ছি না। কারণ এখন অভিনয়ে প্রচুর সময় দিচ্ছি। সে কারণে এখন নতুন কোন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করা হবে না। বেশি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে গেলে অন্য কাজের ক্ষতি হবে। একটির ক্ষতি করে আরেকটি করতে চাইনি কখনও। আগামী দিনেও হয়তো করবো না।

অভিনয় প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে আমার অভিনীত আটটি নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। একসঙ্গে এত নাটক প্রচার হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, সত্যিই আমি এতগুলো নাটক প্রচার হওয়াতে বিরক্ত। চ্যানেল ঘুরালেই দেখি আমার নাটক। অবশ্য এত নাটক কিন্তু একসঙ্গে করিনি। বিভিন্ন সময়ে করেছি। কোনটি আবার নতুন করছি।

উল্লেখ্য, যেসব নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে সেগুলো হলো- ঘরকুটুম, চার বায়োস্কোপ, সমুদ্র জল, চোরকুঠরী, সোয়া পাঁচ আড়াইলেন, অর্কিড, ব্যস্ত ডাক্তার, মহানগর । নতুন বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে বলেন, এশিয়াটিকের সঙ্গে কথা হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে সবাইকে জানাবো। উল্লেখ্য, এখন তানিয়া হোসাইন কাজ করেছেন আমজাদ হোসেনের নতুন মেগাসিরিয়াল রক্তের ডালপালা এবং মাসুমের বিন্দু থেকে বৃত্ত ধারাবাহিকে। এছাড়া দেবাশীষ বিশ্বাসের দুটি একক নাটকেও কাজ করেছেন। খুব শিগগিরই আরও কিছু নতুন ধারাবাহিকে কাজ শুরু করবেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817307 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817307 2008-07-06 12:04:38
জ্যোৎস্নাকালের অপেক্ষায় তৌকীর


আমি কখনোই শুধুমাত্র টিভি নাটকের রোমান্টিক নায়ক হিসাবে থাকতে চাইনি। এ কাজে তৃপ্ত হইনি । আমি চেয়েছি আরো কঠিন কিছু করতে। আমার লক্ষ একটু কঠিন দিকেই এগিয়েছে। বললেন তৌকীর আহমেদ। এটা কোনো রূপকথার গল্প নয়। মানসম্পন্ন বেশ কিছু কাজ দিয়ে তৌকীর আহমেদ তার জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

অভিনেতা ও পরিচালক দুমাধ্যমেই সফলতাকে মুঠোবন্দি করে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সাফল্যের দারুচিনি দ্বীপে। তবে তার এ সফলতা একদিনে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে অনেক কাঠখড় পোড়ানোর গল্প। মঞ্চ ও টিভি নাটকে দীর্ঘবছর নিজের অভিনয় দক্ষতা ও পরিচালকের সফল ভূমিকা প্রদর্শনের মাধ্যমেই তিনি আজকের খ্যাতিমান অভিনেতা পরিচালক তৌকীর আহমেদ।

তার কাজ নিয়ে একটু ভিন্নরকম ভাবনার কথা এভাবেই বললেন তৌকীর আহমেদ, আমি কখনোই শুধুমাত্র টিভি নাটকের রোমান্টিক নায়ক হিসাবে থাকতে চাইনি। এ কাজে তৃপ্ত হইনি । আমি চেয়েছি আরো কঠিন কিছু করতে। আর সেরকম একটি জায়গা থেকে মঞ্চ পরিকল্পনা, মঞ্চ নাটক নির্দেশনা, মঞ্চ নাটক রচনা-এই কাজগুলো আমি করে আসছিলাম। সব মিলিয়ে আমার লক্ষ একটু কঠিন দিকেই এগিয়েছে।

এখন যেমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি, আমি জানি এটা খুব কঠিন কাজ। এর চেয়ে টিভি নাটকে অভিনয় করলে অনেক টাকা, সুনাম পাওয়া যায়। অনেক কষ্ট করে একটি ছবি বানানোর পর সেটা যেহেতু বেশিরভাগ দর্শককে তৃপ্ত করেনা, সুতরাং এ কাজ দিয়ে বেশিরভাগ দর্শকের কাছে পৌঁছানো খুব কঠিন।

জয়যাত্রা, রূপকথার গল্প, ছবির নাম হয়তো অনেকেই জানেন না। আবার দারুচিনি দ্বীপ নিয়ে যখন এক্সপেরিমেন্ট করলাম, ছবিটি একটু সহজ করে বানালাম, তখন দেখেছি সেটা একদল দর্শককে মুগ্ধ করল। রেকর্ড পরিমাণ ভিসিডি, ডিভিডি বিক্রি হলো। এখন আমার মনে হয় দারুচিনি দ্বীপ যদি টিভিতে প্রিমিয়ার না হয়ে শুধু সিনেমা হলে রিলিজ হতো তাহলে তা আরো দর্শক টানতে পারতো।

আঁতুর ঘরে ফেরা

পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে আবার নিজের অভিনয়ের আঁতুর ঘরে ফিরছেন তৌকীর আহমেদ। প্রতিসরণ নাটকটি আবার মঞ্চে আনছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তৌকীর আহমেদ জানালেন, এটা যখন প্রথম মঞ্চে এনেছিলাম, তার পর পরই আমি জয়যাত্রা ছবির কাজে হাত দিই। জয়যাত্রা নির্মাণ করতে আমার ১০ মাস সময় লাগে।

তারপর আরো জটিলতা তৈরি হয়, আর্থিক সংকটে পড়ি। এটাকে বলা যায় জয়যাত্রার আর্থিক অসফলতা। তবে ছবিটি এক শ্রেণীর দর্শকে মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। এরপর কয়েক বছর মঞ্চে কাজ করা হয়নি। এই মুহূর্তে দলের (নাট্যকেন্দ্র) একটা প্রযোজনার প্রয়োজন ছিল। দলের সিদ্ধান্তেই আবার প্রতিসরণ মঞ্চে আনছি। মূলত নিজেকে ঋদ্ধ করতেই আমার এ মঞ্চে ফেরা।

আর মঞ্চ আমার অনুশীলনের জায়গা। সৃষ্টির জায়গা। এখান থেকেই আমি তৈরি হয়েছি। সেই দায়বদ্ধতা যেমন আছে তেমনি সেখান থেকে এখনো শেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সুতরাং নিজের প্রয়োজনেই মঞ্চে ফিরেছি। কোন কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নয়।

তৌকীরের কড়া আলাপ

তৌকীর আহমেদ, মোরশেদুল ইসলাম, আবু সাইয়ীদ যখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, তখন সেটাকে অনেকেই বিকল্পধারার চলচ্চিত্র বলে থাকেন। এখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়ার যে প্রস্তুতি চলছে সেখানেও শ্রেষ্ঠ বিকল্পধারার চলচ্চিত্রের ক্যাটাগরি রয়েছে বলে জানা গেছে। আচ্ছা, চলচ্চিত্রে কী বিকল্পধারা বলে কিছু আছে? কিছুটা ধীর এবং দৃঢ়লয়ে তৌকীর আহমেদ বলেন, চলচ্চিত্রে বিকল্প বা সকল্পধারা বলে কিছু নাই।

যদি মান বিচার করতে হয়, তবে চলচ্চিত্র দেখেই তা করতে হবে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিকল্পধারার চলচ্চিত্র ধরে বিবেচনা করা হলে তা ভুল হবে। চলচ্চিত্র ভিন্ন অবজেকটিভ থেকে তৈরি হতে পারে। কারো লক্ষ থাকবে বাণিজ্য, কেউ চ্যানেলের সুনামের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারেন, কেউ নিজেকে প্রকাশের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এক্ষেত্রে বিভাজনে যাওয়া উচিত নয়।

বিভাজন হতে পারে কে কোন লক্ষে চলচ্চিত্র নির্মাণ করল তা নিয়ে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো কিন্তু বাণিজ্যিক ধারা থেকে বের হয়ে আসেনা। সেটা মানবিকতা, মানুষের মূল্যবোধ, জীবন, সংগ্রাম, মানুষের বিশ্বাসের জায়গা থেকে উঠে আসে। সারাবিশ্বের ভাল ছবি বলতে সেগুলোকেই বোঝায়।

বাণিজ্যিক ছবিও ভাল হতে পারে। যিনি বাণিজ্যের কথা চিন্তা না করে ভাল ছবি বানানোর চেষ্টা করেন, তাকে কেউ বিকল্পধারায় ফেলে দিবেন সেটা হতে পারেনা। কারণ তিনিও চলচ্চিত্র বানানোরই চেষ্টা করেছেন। হয়তো দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ধরণের চলচ্চিত্র দেখার জন্য অনেক দর্শক তৈরি হয়নি এ দেশে। হয়তো মানুষের রুচি, শিক্ষা, বোধ সেই জায়গায় এখনো যায়নি। সেখানে কিন্তু দর্শকদেরও দুর্বলতা আছে। তাদেরও প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। তবে আমি আশাবাদী এ ধরণের চলচ্চিত্রের দর্শকের সংখ্যাও বাড়বে। আমি আছি সেই জ্যোৎস্নাকালের অপেক্ষায়।

শঙ্খবাস-এর পর জ্যোৎস্নাকাল

বিপাশা হায়াতের রচনায় তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় শঙ্খবাস ধারাবাহিকটি ইতোপূর্বে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। আবার বিপাশা হায়াত রচিত জ্যোৎস্নাকাল নামের একটি ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন তৌকীর আহমেদ। নতুন এ ধারাবাহিকটি নিয়ে তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তৌকীর আহমেদ বলেন, এর মধ্যে এ ধারাবাহিকের ২৬ পর্বের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

আগামী ২৯ জুলাই থেকে এটি এটিএন বাংলায় প্রচার হবে। দর্শকদের যদি সিরিয়ালটি ভাল লাগে তাহলে এর পর্ব সংখ্যা বাড়বে। আমি যত্ন সহকারে সিরিয়ালটি নির্মাণের চেষ্টা করেছি। বিপাশার রচিত শঙ্খবাস ধারাবাহিকটির মতো এটিও দর্শকদের ভাল লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। নাট্যকার হিসেবে বিপাশার মূল্যায়ন করতে গিয়ে তৌকীর আহমেদ আরো বলেন, বিপাশা নিশ্চয়ই ভাল লেখে।

আর যদি সে ভাল না লিখতো তাহলে আমি ওর স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করতাম না। ও ভাল লিখেছে বলেই আমি ওর স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করতে উৎসাহী হয়েছি। ও যখন নাটক রচনা করে তখন বাসায় তা নিয়ে আমাদের মাঝে আলোচনা হয়। কখনো কখনো মতপার্থক্যও দেখা দেয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে তার সমাধানও মেলে।

বিপাশার স্ক্রিপ্টই আমার জন্য সুবিধাজনক। ভাল স্ক্রিপ্টের অভাব তো রয়েছেই। আর এমতাবস্থায় আমার বাসায়ই ভাল একজন নাট্যকার রয়েছে- এটাতো আমার জন্য বাড়তি পাওয়া। বিপাশার লেখা নাটকের চরিত্র নির্মাণ, গল্পের গভীরতা, গল্পের মোচড় খুব সুন্দর।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817306 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817306 2008-07-06 12:03:15
মর্ত্যের শশী


শশীর অভিনয় জীবনের ধারাপাতটি খুব বেশি দিনের নয়। তবে এ স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই তিনি ভার্সেটাইল অভিনেত্রীর বৈশিষ্ট্য নিজের ভেতর ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিভাবান এ অভিনেত্রীর গল্প তুলে ধরা হলো।

গ্রামের এবড়ো-থেবড়ো পথ ধরে মেয়েটি হেঁটে যাচ্ছে। সাদা ফিতা দিয়ে আঁট করে বেণী করা গ্রাম্য বালিকার পরনে স্কুল ড্রেস। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে চলা এ স্কুল যাত্রীর পথ হঠাৎ করেই যেন থমকে যায়। মেঠোপথ দিয়ে উদাস পথে হেঁটে যাওয়া গরুর গাড়ি পথ আগলালে, ঠায় দাঁড়িয়ে পড়ে সে। গরুর গাড়িতে বসা গাড়িয়ালের চোখে চোখ পড়তেই হৃদয়ের কোণে অজানা এক সুর বেজে ওঠে।

কিন্তু মনের গভীরে সৃষ্টি হওয়া তরঙ্গকে ধামা-চাপা দিতেই দুষ্টুমি খেলে যায় তার সমস্ত অবয়বে। ঠিক ঐ মুহূর্তেই ওকে কাট, ওয়েল ডান শব্দগুলো শুনতে পান শশী। স্কুল পড়ুয়া গ্রাম্য মেয়ে থেকে ক্ষণিকের জন্য সম্ভিত ফিরে তার। চরিত্রের গভীরে আচ্ছাদিত হওয়া অভিনেত্রীর বলয় থেকে বের হয়ে আবারো ডুব দেবার পরিকল্পনা আঁটেন। এভাবেই চরিত্রের ভাঁজে ভাঁজে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার নিয়ত লড়াইয়ে এখন ব্যস্ত শশী।

গল্পের নাম হাজার বছর ধরে
২০০৩ সালের ঘটনা। লাক্স ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অনেকটা শখ করেই ছবি পাঠান শশী। এ শখই তাকে ঠেলে দেয় প্রাপ্তি সংযোজনের তালিকায়। রাজশাহী বিভাগে প্রথম ও লাক্সের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশ এ পৌঁছানোর সুযোগ ঘটে তার। এ সুবাদে পত্রিকার পাতা জুড়ে স্থান পায় মায়াবী শশীর মুখ।

কোন এক পত্রিকায় শশীর ছবি দেখেই বাসায় ফোন করেন চিত্র নায়িকা সুচন্দা। জহির রায়হানের গল্প অবলম্বনে নির্মিতব্য হাজার বছর ধরে ছবির জন্য শশীকে প্রাথমিকভাবে পছন্দ করেন। তবে এখানেই শেষ নয় এ ছবিতে টুনি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য রীতিমত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় তাকে। পরীক্ষায় পাশ করার পরই শশীর অভিষেক ঘটে চলচ্চিত্রে।

শশীর সখ্যতা
অভিষেক যদিও বড় পর্দা দিয়ে কিন্তু নাটকের সঙ্গেও শশীর সখ্যতা গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে। আশরাফী মিঠুর এমন একটি দিন, আব্দুল্লাহ রানার চৌকিদার, আনিসুল হকের দৈনিক তোলপাড়, গোলাম সোহরাব দোদুলের শান্তকুটির, সালাহউদ্দিন লাভলুর ঘর কুটুম, বিক্রম খানের রূপালী ইলিশ, রাশেদ অপুর লেফটরাইটসহ বেশ কিছু নাটকে নিজের অভিনয়শৈলী তুলে ধররেছেন তিনি। ডেইলিসোপ দহন -এ শহুরে মেয়ের ভূমিকায় যেমন প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে দর্শক মাতিয়েছেন তেমনি ঘরকুটুম-এ গ্রাম্য মেয়ের চরিত্রটিতেও তিনি সরব।

অভিনয়ের মঞ্চ থেকে
অভিনয়ের বাসিন্দা শশীর বর্তমান ব্যস্ততার ঝুলি কানায় কানায় পূর্ণ অভিনয় নিয়েই। ডেইলিসোপ গুলশান এভিনিউ ও ধারাবাহিক নাটক ঘটক এবং আমরা নিয়ে দারুণ ব্যস্ত এখন তিনি। কারণ দুটি নাটকেই অঢেল সময় দিতে হচ্ছে তাকে। বিশেষ করে গুলশান এভিনিউতে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি যা শশীর বাস্তব চরিত্রের চেয়ে সম্পূর্ণই আলাদা।

স্বভাবে অনেকটাই উচ্ছল ও চটপটে শশীকে এখানে নম্র-ভদ্র, সাত চড়েও রা নেই এমন একজন নববধূর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যতক্ষণ শশী ক্যামেরার সামনে থাকেন ততক্ষণই লক্ষ্মী বউ হয়ে থাকতে পছন্দ করেন। ক্যামেরার পেছনে যাওয়া মাত্রই চঞ্চলা হরিণীর মত ছুটতে শুরু করেন।

বাস্তবের শশীর খোলস ছেড়ে অভিনেত্রী শশী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে শশী বলেন, আসলে আমি কখনোই টাইপড চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে চেষ্টা করছি যাতে যে কোন চরিত্রেই সাবলীল অভিনয় করতে পারি। আমি মনে করি চেষ্টা আর ইচ্ছা শক্তি থাকলে সব সম্ভব। সেই সম্ভবের দিকেই নিজেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গ চলচ্চিত্র
মোর্শেদুল ইসলামের বৃষ্টির দিন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন শশী। হাজার বছর ধরে ও অস্তিত্বে আমার দেশ এরপর এ ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। এখানে শশীর বিপরীতে অভিনয় করবেন অপূর্ব। খুব শীঘ্রই এর শুটিং শুরু হবে। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে শশীর ভাষ্য হচ্ছে, বৃষ্টির দিন গল্পটি আমি আগেই পড়েছি। একই কলোনীতে বসবাসকারী দুজন মানুষকে নিয়ে এগিয়ে গেছে কাহিনী। গল্প বেশ পছন্দ হয়েছে।

আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে মোর্শেদুল ইসলামের মত বড় মাপের নির্মাতার ছবিতে কাজ করারও প্রবল ইচ্ছা ছিল আমার। ফলে চলচ্চিত্রে আবারো অভিনয় করতে দেখা যাবে আমাকে। অভিনয় নিয়ে স্বপ্নে বিভোর শশীর এ মাধ্যমটির প্রতি রয়েছে আমোঘ আকর্ষণ। সেই আকর্ষণের ফসল স্বরূপই অফট্র্যাকের কাজগুলোকে তালিকাভুক্ত করেছেন।

ব্যক্তি শশী
অভিনয়ের খাতিরে কখনো শান্ত, কখনো চঞ্চল কখনোবা রাশ-ভারি চরিত্রে উপস্থাপিত হন। কিন্তু ব্যক্তি শশী নাটকের চরিত্রের থেকে একেবারেই আলাদা। কাজের মেঘ গলে অবসরের সূর্য উঁকি দিলেই শশী হয়ে ওঠেন স্বাধীনচেতা। বন্ধুদের সঙ্গে জম্পেশ আড্ডা আর নস্টালজিয়ার নদীতে ডুব দিতে পছন্দ করেন। অভিনয়ের সঙ্গে পথ চলতে অভ্যস্ত শশী ভবিষ্যতে নিজেকে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখতে চান।

তবে অভিনয়ের মঞ্চে নয় শশীর এ স্বপ্ন সাধ বাস্তবের আঙিনায়। যুক্তির পিঠে যুক্তি সাজানোর এ বাসনায় ইতোমধ্যে এলএলবিতে পড়াশোনাও করছেন। এক ঘন্ড অবসরে ধনু রাশির জাতিকা শশী আপন-আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তা আমাকে সব ঠিকঠাক মতোই দিয়েছেন। এখন ঠিকমত পড়াশোনা আর ভাল কাজ দিয়ে সামনের দিকে দিকে এগিয়ে যেতে হবে আমাকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817068 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28817068 2008-07-05 18:44:33
জীবনে একদা মূল: ঝুম্পা লাহিড়ী
অনুবাদ: মিলটন মোললা

আগেও তোমার সঙ্গে দেখা হয়েছে আমার, অগণিতবার। কিন্তু ইনম্যান স্কোয়ারে আমাদের বাড়িতে তোমাদের বিদায় উপলক্ষে দেয়া ফেয়ারওয়েল পার্টির দিন থেকেই মূলত আমার জীবনে তোমার উপস্থিতিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ করতে শুরু করি আমি। ওই সময় কেমব্রিজ ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন তোমার বাবা-মা।

অন্যান্য বাঙালির মতো আটলান্টা কিংবা অ্যারিজোনা না গিয়ে তারা ঠিক করলেন, গোটা পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে যাবেন ভারত। নতুন দেশে টিকে থাকার যে লড়াই সদ্য শুরু করেছিলেন আমার বাবা-মা আর তাদের বন্ধুরা, সেই সমস্ত কিছু ত্যাগ করে চলে যাবেন নিজের মাটিতে। সময়টা ছিল ১৯৭৪ সাল।

আমার বয়স ছয়। তোমার নয়। ওইদিনের পার্টি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি করে আমার যা মনে পড়ে তা হচ্ছে পার্টি শুরুর আগের মুহূর্তগুলোর কথা। অতিথিরা এসে পৌঁছানোর আগে শেষ মুহূর্তে মায়ের তাড়াহুড়ো : নতুন করে পালিশ করা হয়েছে ঘরের সমস্ত আসবাব, টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাগজের প্লেট আর ন্যাপকিন।

গোটা ঘর জুড়ে ম ম করছে সুপাচ্য ভেড়ার মাংস, পুলাও আর বিশেষ দিনে ব্যবহারের জন্য তুলে রাখা এল এয়ার দ্যু টেম্পস এর সৌরভ। মা এটা প্রথমে ছড়িয়ে নিলেন তার সারা গায়ে, এরপর দিলেন আমার গায়ে। কড়া এক ডোজ। জামার ওপর পড়ামাত্র স্বল্পণের জন্য গাঢ় বর্ণ ধারণ করল জায়গাটা।

ওই সন্ধ্যায় যে পোশাকটি আমি পরেছিলাম সেটা কলকাতা থেকে পাঠিয়েছিলেন আমার নানুমনি : চোঙা পায়ের সাদা পাজামা, কোমরটা এতোই চওড়া যে আমার মত দুটো আমি-কে পাশাপাশি অনায়াসে ঢুকিয়ে দেয়া যেতো তার ভেতর। সঙ্গে নীল কুর্তা আর প্লাস্টিকের মুক্তো সাজিয়ে এমব্রয়ডারি করা কালো ভেলভেটের গেঞ্জি। পোশাকের তিনটি অংশই পাশাপাশি সাজিয়ে রাখা হল বাবা-মায়ের বিছানার ওপর।

স্নান সেরে ফিরে এলাম আমি। হি হি করে কাঁপছিলাম ঠাঁন্ডায়। আঙুলের ডগাগুলো চুপসে শাদা। সরু একটা পুরু ফিতা একটা সেফটিপিনের সাহায্যে পাজামার কোমরের কাছে এক মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে কুঁচি কুঁচি ভাঁজ ঠেলে অন্য মুখ দিয়ে ফিতেটা বের করে আনলেন মা। এরপর শক্ত করে বেঁধে দিলেন আমার পেটের ওপর।

পাজামার সেলাইয়ের ভেতরের অংশ থেকে বেরিয়ে এল বাদামি সিলমোহরে টেক্সটাইল কোম্পানির নাম। এটা চোখে পড়ার পর, আমার মনে পড়ে, অন্য যে কোনো কিছু পরার জন্য বিস্তর কান্নাকাটি করেছিলাম আমি। কিন্তু আমাকে আশ্বস্ত করে মা জানালেন, একবার ধোয়ার পরই মিলিয়ে যাবে সিলমোহর।

তাছাড়া, কুর্তাটা এতোই লম্বা যে ঘটনাটা কারো চোখে পড়ার আদৌ কোনো আশঙ্কা নেই। মাথা ঘামানোর মতো আরো নানা সমস্যায় ডুবে ছিলেন মা। অতিথিদের জন্য খাবারের গুণগত এবং পরিমাণগত বিবেচনা ছাড়াও তার দুশ্চিন্তা ছিল আবহাওয়া নিয়ে। এটা ছিল সেই সময় যখন আমার বাবা-মা কিংবা তাদের বন্ধুদের কোনো গাড়ি ছিল না।

তোমরাসহ অধিকাংশ অতিথির বাড়ি ছিল আমাদের বাসা থেকে পনের মিনিটের হাঁটাপথ। হার্ভার্ড কিংবা এমআইটির পেছনে, কিংবা এভিনিউ ব্রিজের ওপার। যদিও কেউ কেউ আসতেন আরো দূর থেকে- বাস কিংবা অন্য মাধ্যমে- মলডেন অথবা মেডফোর্ড অথবা ওয়ালথাম থেকে।

‘আমার মনে হয় গাড়ি করে সবাইকে যার যার বাড়ি পৌঁছে দিতে পারবেন মি. চৌধুরী,’ আমার মাথার চুল এলোমেলো করে দিতে দিতে বললেন মা। এদেশে থাকার মেয়াদে তোমার বাবামা ছিলেন কিছুটা বয়োজ্যেষ্ঠ- পাকাপোক্ত অভিবাসী। আমাদের কারো বাবামাই তখনো তেমনটি হয়ে ওঠেননি।

ওনারা ভারত ছেড়েছিলেন ১৯৬২ সালে- বিদেশি ছাত্র বিষয়ক আইন বদলানোর আগেই। যে সময়ে আমার বাবা এবং অন্যান্যরা এটা-ওটা পরীক্ষা দিয়ে চলেছেন, ততদিনে পিএইচডি করা শেষ করা হয়েছে তোমার বাবার।

আন্দোভারে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে চাকুরির সুবাদে জুটে গেছে বাকেট সিটঅলা চমৎকার একটা রূপালি সাব। অনেক অনেক রাতে ওই গাড়িতে করেই আমাকে পৌঁছে দেয়া হতো বাড়িতে- যেসব পার্টিতে রাত গভীর হলে আমি হয়তো ঘুমিয়ে পড়তাম অচেনা কোনো বিছানায়, কিংবা অন্য কোথাও।

আমাদের মায়েদের যেদিন প্রথম দেখা, সেদিন আমার মা ছিলেন সন্তানসম্ভবা। যদিও ঘটনাটা তার নিজেরই তখন জানা ছিল না। একদিন ছোট্ট একটা পার্কে একটা বেঞ্চের ওপর বসেছিলেন মা- মাথাটা ঘোরাচ্ছিল সামান্য। অল্পদূরে একটা দোলনায় বসে আগুপিছু মৃদু দুলছিলেন তোমার মা- তুমি ছিলে ঠিক তার পেছনে দাঁড়িয়ে।

এই সময় তার চোখে পড়ে শাড়ি পরা এক বাঙালি তরুণী- চুলের মাঝখানে উজ্জ্বল সিঁদুরের রেখা। ‘তুমি কি ঠিক আছে?’ এগিয়ে এসে বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাইলেন তিনি। দোলনা ছেড়ে নেমে আসতে বললেন তোমাকে। পরে তোমরা দুজনেই সারথী হয়ে মাকে পৌঁছে দিল বাসায়।

আসার পথে মাকে তার গর্ভাবস্থার কথা জানিয়েছিলেন তোমার মা। আর ওই মুহূর্ত থেকে পরস্পর বন্ধু হয়ে গেলেন তারা দুজন। যে সময়টাতে আমাদের বাবারা চলে যেতেন কাজে, সে সময়টুকু একসঙ্গেই কাটিয়ে দিতেন তারা।

আলাপ করতেন কলকাতায় যে জীবন তারা ফেলে এসেছেন তা নিয়ে: যোধপুর পার্কে তোমার মায়ের চমৎকার বাড়ি, ছাদের ওপর প্রস্ফুটিত জবা আর গোলাপের ঝাড়। কিংবা মাণিকতলায় ঘিঞ্জি একটা পাঞ্জাবি রেস্টুরেন্টের ওপর আমার মায়ের ছোট্ট ফ্যাট। সংকীর্ণ ছোট্ট একটা ঘরে গাদাগাদি করে থাকে সাতজন মানুষ।

কলকাতায় তাদের মধ্যে দেখা হবার সম্ভাবনা ছিল অতি ক্ষীণ। তোমার মা ছিলেন কলকাতার স্যাটারডে কাবের সদস্য পাইপ মুখে ধরা প্রসিদ্ধ আইনজীবীর সন্তান- পড়াশুনা করেছেন একটা কনভেন্ট স্কুলে। আমার মায়ের বাবা ছিলেন জেনারেল পোস্ট অফিসের সামান্য কেরানি।

আমেরিকাতে আসার আগে জীবনে কখনো তিনি টেবিলে বসে খাননি কিংবা কমোড ব্যবহার করেননি। কিন্তু কেমব্রিজের বাস্তবতায় এসব বৈষম্যের কোন বালাই ছিল না। এখানে তারা দুজনই ছিলেন চূড়ান্তই নিঃসঙ্গ।

তারা কাঁচা বাজার করতে যেতেন একসঙ্গে, অভিযোগ করতেন যার যার স্বামীর নামে, রান্না হত আমাদের কিংবা তোমাদের যে কারো চূলোয়। তারপর ভাগ করা হত যার যার পরিবারের অংশ। কখনো একসঙ্গে উল বুনতে বসতেন, একঘেঁয়ে মনে হলে বদলে নিতেন হাতের কাজ।

যেদিন আমার জন্ম হয়, সেদিন হাসপাতালে একমাত্র তোমার বাবা-মাই দেখতে এসেছিলেন আমাকে। তোমার ব্যবহৃত হাই চেয়ারে বসিয়ে খাওয়ানো হতো আমাকে, রাচ্চায় ঘুরিয়ে বেড়ানো হতো তোমার পুরনো প্র্যামে চড়িয়ে।

পার্টি শুরু হবার পর আবহাওয়া বার্তার আশংকা সত্যি প্রমাণ করে তুমুল বরফ পড়তে শুরু করল। ভিজে কাক হয়ে একে একে আসতে শুরু করলেন অভ্যাগতরা। শুকানোর জন্য ঘরের পর্দার রডের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিলাম কোটগুলো।

পরবর্তী বহু বছর ধরে ওই দিনের কথা উঠলেই মা বলতেন, পার্টি শেষ হবার পর কীভাবে সবগুলো মানুষকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন তোমার বাবা। এক দম্পতিকে এমন কি নামিয়ে দিয়ে এলেন দূর ব্রেইনট্রিতে।

কিছু বলতে গেলে বলতেন, এটা কোনো সমস্যাই নয়। তাছাড়া, এটাই হয়তো এদেশে তার ড্রাইভ করার শেষ সুযোগ। তোমাদের চলে যাবার আগের দিনগুলোয় আরো অনেক বার আমাদের বাসায় এলেন তোমার বাবা-মা।

সঙ্গে নিয়ে এলেন নানা রকম পট আর প্যান, ছোট ছোট গেরস্থালি সামগ্রী, কম্বল, বেডশিট, আধাব্যবহৃত চিনি আর ময়দার ব্যাগ, শ্যাম্পুর বোতল। প্রতিবারই এসব সামগ্রী ব্যবহার করার সময় অবধারিতভাবে আমরা তোমাদের কথা উল্লেখ করতাম। ‘পারুলের ফ্রাইং প্যানটা দাও তো আমাকে,’ বলতেন মা।

কিংবা ‘আমার মনে হয় পারুলের টোস্টারটা এবার আমাদের কাজে লাগানো দরকার।’ ওনারা আরো এনেছিলেন কাপড়চোপড় ভর্তি একটা শপিং ব্যাগ। এসব আমি ব্যবহার করতে পারি বলে ভেবেছিলেন উনি। মূলত এগুলো সবই ছিল তোমার পোশাক।

ব্যাগগুলো নিয়ে একদিকে রেখে দিলেন মা। কয়েক বছর পর, যখন ইনম্যান স্কোয়ার থেকে আমরা উঠে এলাম শ্যারনের একটা বাড়িতে, ওই ব্যাগগুলোও এলো আমাদের সঙ্গে। কাপড়চোপড়গুলোর ঠাঁই হল আমার ওয়ারড্রোবে। ওদের সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে উঠতে লাগলাম আমি। বেশিরভাগই ছিল শীতের পোশাক।

ভারতে এসবের কোনো প্রয়োজন ছিল না তোমার। এর মধ্যে ছিল পুরু টি-শার্ট আর বাদামী-নীল গোলগলা সোয়েটার। এসব জামাকাপড় আমার নিজের কাছে মনে হতো নিতান্ত কুৎসিত। এসব এড়িয়ে যাওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করতাম আমি। কিন্তু কোনোভাবেই রাজি ছিলেন না মা।

সুতরাং জবরদস্তি আমাকে পরতে হত ওইসব পোশাক- বর্ষার দিনে তোমার রাবার বুট। এক শীতে আমাকে পরতে হল তোমার কোট। সেটাকে এতোই ঘৃণা করতাম আমি যে একপর্যায়ে সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল তোমার ওপর। এটার রঙ ছিল নীল আর কালো, গোলাপি লাইনিং, মাথার দিকে ছোপ ছোপ ধূসর বাদামী। ঠিকভাবে ওটার জিপার লাগানোর কাজটুকুও কোনোদিনই শেখা হয়ে ওঠেনি আমার।

ক্লাসরুমে গোলাপি আর বাদামী রঙা ফোলা জ্যাকেট পরা মেয়েদের মাঝে এই পোশাকে নিজেকে কখনো মানিয়ে নিতে পারিনি আমি। একদিন যখন বাবামাকে বললাম, আমাকে নতুন একটা কোট কিনে দেওয়া যায় কিনা, সরাসরি অস্বীকার করলেন তারা। কোট হচ্ছে কোট, তায় আবার এতো কী।

জিনিসটার হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলাম আমি। মনে মনে চাইতাম হারিয়ে যাক ওটা। কিংবা দিনের শেষে ছোট্ট পরিসরে যেখানে আমাদের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতাম, সেখানে ভুল করে কাসের কোনো ছেলে নিজের মনে করে নিয়ে যাক ওটা।

কিন্তু মা আমার এতোটাই অগ্রণী যে, তিনি আমার নাম একটা লেবেলে লিখে সেটাই সেঁটে দিলেন আমার কোটের ভিতর, যাতে ওটা হারিয়ে যাবার কোনো আশঙ্কা না থাকে। বুদ্ধিটা তিনি পেয়েছিলেন ‘নিপুণ ঘরকন্না’ নামে একাট পত্রিকার নিয়মিত গ্রাহক হবার সুবাদে।

লেখক পরিচিতি: ঝুম্পা লাহিড়ীর জন্ম ১১ জুলাই ১৯৬৭। ভারতীয় বংশোদ্ভুত যেসব লেখক ইংরেজি ভাষায় লিখে খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাদের একজন ঝুম্পা। তিনি ২০০০ সালে মাত্র ৩৩ বয়সে কথাসাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে গল্পগ্রন্থ ‘ইন্টারপ্রেটার অব মেলেডিস’ এবং উপন্যাস ‘দ্য নেমসেক’।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28816945 http://www.somewhereinblog.net/blog/binodhon/28816945 2008-07-05 11:15:07
রেসীকে নিয়ে আলোচনা


সুপার হিরো সুপার হিরোইন কার্যক্রমের উদ্বোধনী দিনে সুদর্শন নায়ক আমিন খানের সঙ্গে মঞ্চে পারফরমেন্স করে নতুন আলোচনায় চলে এসেছেন চলচ্চিত্রের নতুন সম্ভাবনা রেসী। যারা রেসীকে চিনতেন কিংবা যারা ভালমতো চেনেন না তারা সবাই মুগ্ধ হয়েছেন রেসীর জড়তাহীন নাচ আর পারফরমেন্স দেখে। রেসী যে মূলত নাচ জানা শিল্পী এটাও সবাই সেদিনই প্রথম জেনেছেন।

ওই অনুষ্ঠানে আমিন-রেসীর পারফরমেন্স ছিল সেরা এটা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন। আর এই কারণে র