somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদিবাসী সম্পর্কে ভুলে ভরা বাংলাপিডিয়া (এক)

০৩ রা এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়েছে 'উপজাতি' হিসাবে। তাদের খাদ্যাভাস, জীবন প্রণালী, ভাষা, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য --সব কিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে।

এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আদিবাসী সম্পর্কে অসংখ্য বিকৃিত এবং ভুল তথ্যের সমাবেশ ধরা পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে। আদিবাসী নেতারা বলছেন, এই জ্ঞানকোষ পড়লে যে কেউ আদিবাসী সম্পর্কে বিকৃত ও ভুল ধারণা পাবে।

জ্ঞানকোষটির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এসব ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেছেন, পরবর্তী সংস্করেণেই আদিবাসী সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য প্রত্যাহার করে তা নতুন করে প্রকাশ করা হবে। এ কাজের দায়িত্বও দেওয়া হবে আদিবাসী গবেষকদেরই।

বাংলাপিডিয়ায় দেওয়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্যের বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কবিহীন।

আদিবাসীরা স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হলেও বাংলাপিডিয়ায় তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে 'উপজাতি' হিসাবে। সেখানে এমন অনেক তথ্য আছে যা 100 বছরের পুরনো, বর্তমান সময়ের আদিবাসী জীবনাচারের সঙ্গে যার কোনোই মিল নেই।

এতে মারমা ও রাখাইনদের 'মগ', টিপরা বা ত্রিপুরাদের 'তিপরা', ম্রোদের 'মুরং' -- ইত্যাদি বিকৃত অভিধায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, ত্রিপুরাসহ অনেক আদিবাসী নিজেদের ভাষা ভুলে গিয়ে এখন বাংলায় কথা বলে। যা আদৌ সঠিক নয়।

এতে 'উপজাতি' সম্পর্কে বলা হচ্ছে, "বাংলাদেশের বেশকিছু উপজাতি এখন নিজস্ব ভাষা বিস্মৃত হয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলে। যেমন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের তিপরাদের (?) অনেকের ভাষা বাংলা।... অনেক উপজাতি আছে বহুভাষী। গারো ও খাসিয়ারা দ্বিভাষী। বাংলা ও নিজেদের ভাষায় যুগপৎ কথা বলতে পারে। .... দু'একটি ছাড়া সব উপজাতীয় ভাষাই অলিখিত, অর্থাৎ সে সবের কোনো লিখিত রূপ নেই। চাকমা ও মগ (?) ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষার নিজস্ব বর্ণমালাও নেই।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 9)

''খ্রিস্টান মিশনারিরা গারো ভাষায় রোমান অর প্রচলন করেন। পরে তারা চীনা চিত্রলিপির ন্যায় এক ধরনের লিপিমালাও আবিষ্কার ও প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনটাই স্থায়ী হয়নি। বাংলা হরফে গারো ভাষা স্বচ্ছন্দে লেখা যায়। বর্তমানে গারোদের পারিবারিক ভাষা গারো, কিন্তু পোষাকী ভাষা বাংলা।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 10)

"উপজাতীয়রা তাদের টোটেম ছাড়া সবই খায়। বিড়াল গারোদের টোটেম। তাই তারা বিড়াল খায় না। মগ, চাকমা ও খাসিয়ারা গোমাংস ও গারোরা গোদুদ্ধ খায় না। মগ ও চাকমা নরনারী ধূমপানে অভ্যস্ত। টক ও পঁচা চিংড়ির প্রস্তুত খাদ্য তাদের প্রিয়। ওঁরাওরা ইঁদুর, বাইনমাছ, আলু, খেসারীর ডাল ইত্যাদি খায়। ভাত পচাঁনো মদ সব উপজাতিরই প্রিয় পানীয়।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 15)

''মগরা বাড়ি করে সমতলে।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 16)

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া বলছে,"পাহাড়ি ভূমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত। তবে প্রাকৃতিক উদ্ভিদাদি প্রচুর জন্মে। পাহাড়ি ঢালে জুম চাষের প্রয়াস চলছে। দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপতক্যার সমতল ভূমিতে তুলা, ধান, চা ও তৈলবীজের চাষ হচ্ছে।" (পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা 371)

"কাপ্তাই হ্রদের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ যে বিপুল তির সম্মুখীন হয়, তা তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। এই হ্রদের জন্য তাদের মূল ভূখণ্ডের 40 ভাগ ভূমি হারাতে হয়। ফলে প্রায় এক লাখ লোক গৃহহারা হয়ে পড়ে। এদের অনেকে ভারতের অরুনাচলে গিয়ে বসতি স্থাপন করে বলে শোনা যায়।....1997 সালের 2 ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি স্বারের মাধ্যেমে প্রায় দুই দশকে সশস্ত্র বিদ্রোহের অবসান হয়।" (পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা 376)

বাংলাপিডিয়ার ইন্টারনেট সংস্করণে বলা হচ্ছে, "গারোদের প্রধান আয়ের উৎস হলো পাহাড়ের ঢালে জুম চাষ, পশু পালন ও শিকার। হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প এখন তাদের আয়ের আরেকটি উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

"স্বামী নপুংসক হলে খাসিয়া মেয়েরা একাধিক স্বামী রাখতে পারে।"

''চাকমা বর্ণমালার সাথে ত্রিপুরা বর্ণমালার মিল রয়েছে; তবে দুই ভাষার উচ্চারণ ভিন্ন।"

''মুরংদের (?) অধিকাংশই খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। অধুনা ক্রামা ধর্মের প্রচলন হয়েছে।"

আদিবাসী নেতা ও গবেষকরা বাংলাপিডিয়ার বিভিন্ন অধ্যায় পাঠ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, বাংলাপিডিয়া পাঠ করলে যে কারো ধারণা হতে পারে, এ দেশের আদিবাসীরা আদিম, জংলী ও নরমাংসভোজী, বাংলাদেশে বাস করলেও তারা সবাই বহিরাগত। ...

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×