আমার প্রিয় পোস্ট
- কাঁকন বিবিঃ খাসিয়া মুক্তি বেটি - ইফতেখার.আমিন
- ভিন্ন ভাবনা : বাংলাদেশে বাংলা ভিন্ন অপরাপর ভাষা সমূহের প্রতি উদাসীনতা বজায় রেখে কী ভাষা শহীদদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব? - জুয়েল বিন জহির
- জীবনের কথা-শেষ পর্ব (একটি অধ্যায় শেষ হলো) - নীল মুদ্রা
- পাহাড়ি নিপীড়িত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসন দাবীর প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের রঙ বে রঙের জোড়াতালি তত্ত্বের বিপরীতে একটি বিশ্লেষণ। - মনজুরুল হক
- পার্বত্য চট্টগ্রাম: কান্না যেমন করে রক্তের রূপ পরিগ্রহ করে - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- করপোরেট বেনিয়াদের হাতে বন্দী দ্রোহ আর প্রতিবাদের প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি এখন একুশ উৎসব! - মনজুরুল হক
- এক পাহাড়ির শৈশবকাল (পর্ব-৩) - জেনন
- আপোকপা - কুঙ্গ থাঙ
- এক পাহাড়ির শৈশবকাল (পর্ব-১) - জেনন
- নাক উঁচুদের বিত্ত সচেতনতা বিড়ম্বনা - মাসকাওয়াথ আহসান
- কেন গনতন্ত্র চাই,কেন হাসজারু শাষন চাই না - হোসেইন-দ্য এ টিম
- বাবা বলেছিলেন বড় হও- - ডাক্তার আইজউদ্দিন
- ইভটিজার ডারউইনশিশু সমীপে - মাসকাওয়াথ আহসান
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- যেই কোয়াল (কপাল), হেই মাথা, ঘুরি ঘুরি কোয়াল হাতা [যে কপাল সেই মাথা ঘুরে ঘুরে কপাল খুঁজো, লাভ নেই] - মেঘ
- বঙ্গে শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ প্রসংগে কিছু তথ্য - কুঙ্গ থাঙ
- ছবি ব্লগ : যে যুদ্ধটা একাত্তরে শেষ হয়নি - অমি রহমান পিয়াল
- নিউজউইকে সেক্টর কমান্ডার নাজমুল হকের দুষ্প্রাপ্য সেই সাক্ষাৎকার - ফিউশন ফাইভ
- বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের পক্ষে একহাত - মারুফ ব্লগ
- ভাবছেন নির্লজ্জ, কিচ্ছু যায়-আসে না ( আমার এটম বোম
) - মেঘ
- মণিপুরী মুসলিম আদিবাসীদের ঈদ উদযাপন এবং জীবনযাত্রা নিয়ে কিছু তথ্য - কুঙ্গ থাঙ
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো...২ - অমি রহমান পিয়াল
- সেই কালোরাতে ইথারে খুনীরা যা বলেছিলো.... - অমি রহমান পিয়াল
- শিবনারায়ণ দাশ - বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার প্রথম নকশা-প্রণেতা - রাগিব
- ডেথ অব আ জিনিয়াস : জহির রায়হান - অমি রহমান পিয়াল
- ম্যারিয়েটা, জ্যাক এবং অতঃপর ভ্যালেরী - সৈয়দ দেলগীর
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শ্লোগান - অমি রহমান পিয়াল
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
- মুক্তিযুদ্ধের কবিতা : বুদ্ধদেব বসু - অমি রহমান পিয়াল
আদিবাসী সম্পর্কে ভুলে ভরা বাংলাপিডিয়া (এক)
০৩ রা এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৭:১৪
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়েছে 'উপজাতি' হিসাবে। তাদের খাদ্যাভাস, জীবন প্রণালী, ভাষা, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য --সব কিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে।
এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আদিবাসী সম্পর্কে অসংখ্য বিকৃিত এবং ভুল তথ্যের সমাবেশ ধরা পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে। আদিবাসী নেতারা বলছেন, এই জ্ঞানকোষ পড়লে যে কেউ আদিবাসী সম্পর্কে বিকৃত ও ভুল ধারণা পাবে।
জ্ঞানকোষটির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এসব ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেছেন, পরবর্তী সংস্করেণেই আদিবাসী সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য প্রত্যাহার করে তা নতুন করে প্রকাশ করা হবে। এ কাজের দায়িত্বও দেওয়া হবে আদিবাসী গবেষকদেরই।
বাংলাপিডিয়ায় দেওয়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্যের বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কবিহীন।
আদিবাসীরা স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হলেও বাংলাপিডিয়ায় তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে 'উপজাতি' হিসাবে। সেখানে এমন অনেক তথ্য আছে যা 100 বছরের পুরনো, বর্তমান সময়ের আদিবাসী জীবনাচারের সঙ্গে যার কোনোই মিল নেই।
এতে মারমা ও রাখাইনদের 'মগ', টিপরা বা ত্রিপুরাদের 'তিপরা', ম্রোদের 'মুরং' -- ইত্যাদি বিকৃত অভিধায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, ত্রিপুরাসহ অনেক আদিবাসী নিজেদের ভাষা ভুলে গিয়ে এখন বাংলায় কথা বলে। যা আদৌ সঠিক নয়।
এতে 'উপজাতি' সম্পর্কে বলা হচ্ছে, "বাংলাদেশের বেশকিছু উপজাতি এখন নিজস্ব ভাষা বিস্মৃত হয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলে। যেমন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের তিপরাদের (?) অনেকের ভাষা বাংলা।... অনেক উপজাতি আছে বহুভাষী। গারো ও খাসিয়ারা দ্বিভাষী। বাংলা ও নিজেদের ভাষায় যুগপৎ কথা বলতে পারে। .... দু'একটি ছাড়া সব উপজাতীয় ভাষাই অলিখিত, অর্থাৎ সে সবের কোনো লিখিত রূপ নেই। চাকমা ও মগ (?) ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষার নিজস্ব বর্ণমালাও নেই।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 9)
''খ্রিস্টান মিশনারিরা গারো ভাষায় রোমান অর প্রচলন করেন। পরে তারা চীনা চিত্রলিপির ন্যায় এক ধরনের লিপিমালাও আবিষ্কার ও প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনটাই স্থায়ী হয়নি। বাংলা হরফে গারো ভাষা স্বচ্ছন্দে লেখা যায়। বর্তমানে গারোদের পারিবারিক ভাষা গারো, কিন্তু পোষাকী ভাষা বাংলা।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 10)
"উপজাতীয়রা তাদের টোটেম ছাড়া সবই খায়। বিড়াল গারোদের টোটেম। তাই তারা বিড়াল খায় না। মগ, চাকমা ও খাসিয়ারা গোমাংস ও গারোরা গোদুদ্ধ খায় না। মগ ও চাকমা নরনারী ধূমপানে অভ্যস্ত। টক ও পঁচা চিংড়ির প্রস্তুত খাদ্য তাদের প্রিয়। ওঁরাওরা ইঁদুর, বাইনমাছ, আলু, খেসারীর ডাল ইত্যাদি খায়। ভাত পচাঁনো মদ সব উপজাতিরই প্রিয় পানীয়।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 15)
''মগরা বাড়ি করে সমতলে।" (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা 16)
পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া বলছে,"পাহাড়ি ভূমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত। তবে প্রাকৃতিক উদ্ভিদাদি প্রচুর জন্মে। পাহাড়ি ঢালে জুম চাষের প্রয়াস চলছে। দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপতক্যার সমতল ভূমিতে তুলা, ধান, চা ও তৈলবীজের চাষ হচ্ছে।" (পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা 371)
"কাপ্তাই হ্রদের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ যে বিপুল তির সম্মুখীন হয়, তা তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। এই হ্রদের জন্য তাদের মূল ভূখণ্ডের 40 ভাগ ভূমি হারাতে হয়। ফলে প্রায় এক লাখ লোক গৃহহারা হয়ে পড়ে। এদের অনেকে ভারতের অরুনাচলে গিয়ে বসতি স্থাপন করে বলে শোনা যায়।....1997 সালের 2 ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি স্বারের মাধ্যেমে প্রায় দুই দশকে সশস্ত্র বিদ্রোহের অবসান হয়।" (পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা 376)
বাংলাপিডিয়ার ইন্টারনেট সংস্করণে বলা হচ্ছে, "গারোদের প্রধান আয়ের উৎস হলো পাহাড়ের ঢালে জুম চাষ, পশু পালন ও শিকার। হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প এখন তাদের আয়ের আরেকটি উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
"স্বামী নপুংসক হলে খাসিয়া মেয়েরা একাধিক স্বামী রাখতে পারে।"
''চাকমা বর্ণমালার সাথে ত্রিপুরা বর্ণমালার মিল রয়েছে; তবে দুই ভাষার উচ্চারণ ভিন্ন।"
''মুরংদের (?) অধিকাংশই খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। অধুনা ক্রামা ধর্মের প্রচলন হয়েছে।"
আদিবাসী নেতা ও গবেষকরা বাংলাপিডিয়ার বিভিন্ন অধ্যায় পাঠ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, বাংলাপিডিয়া পাঠ করলে যে কারো ধারণা হতে পারে, এ দেশের আদিবাসীরা আদিম, জংলী ও নরমাংসভোজী, বাংলাদেশে বাস করলেও তারা সবাই বহিরাগত। ...
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অতিথি বলেছেন:
পরবতর্ী সংস্করণ কবে প্রকাশ তার কি কোন আর ঠিক আছে! এখনই ইন্টানেট এডিশন ঠিক করা উচিত।
অতিথি বলেছেন:
আমারও তাই মত। পিডিয়া কর্তৃপক্ষ বলছেন, সংশোধন হবে আগামী বছর নাগাদ।
অতিথি বলেছেন:
পড়লাম ।বাংলাপিডিয়ার সংশোধনের থেকে
আগে প্রাইমারি র বাচ্চাদের সমাজ বইয়ে অদ্ভুত যেসব তথ্য দেয়া দেয়া আছে , সেইগুলান শোধরানো জরুরি ..
অতিথি বলেছেন:
ঠিক তাই। এর ওপরেও কাজ করা দরকার। আসলে গলদের শুরু গোড়ায়।...
আরশাদ রহমান বলেছেন:
এই ধরণের ভুল মোটেও কাম্য নয় এবং কোন অযুহাত দেয়াও ঠিক নয়। এতে তাঁদেরকে চরম ভাবে অসম্মান করা হয়। আমাদের বাংলাদেশে শুধু আদিবাসী না অনেক কিছুতেই ইতিহাস বিকৃতির প্রবনতা আছে। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি আদিবাসিদের সম্পর্কে ভুল তথ্যগুলো সংশোধন করা হবে। ধন্যবাদ আপনার পোস্টের জন্য।
অতিথি বলেছেন:
আমিও আপনার সঙ্গে একমত। আচ্ছা, এসব বিকৃতি কী একেবারেই অনিচ্ছাকৃত?...মন্তব্যের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
আমি যতটা জানি, বাংলাপিডিয়ার আদিবাসী সংক্রান্ত তথ্যের জন্য মূলত যিনি কাজ করছিলেন, তার বেশ কিছু অনিয়মের কারণে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এবার আশা করা যায় যে পরের বার শুদ্ধ তথ্য দিয়ে সাজানো হবে বাংলাপিডিয়ার নতুন সংস্করণ। তবে এই বিশাল গবেষণাধর্মী কাজে আবার বেশ কিছুটা সময় তো লাগবেই।
রাগিব বলেছেন:
দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সম্পর্কে এরকম অপমানজনক তথ্য দেয়াটা দুঃখজনক। বাংলাপিডিয়ার এই ব্যাপারটা বছরখানেক আগেই পড়েছি পত্রিকাতে, কিন্তু এখনো এশিয়াটিক সোসাইটি কিছুই করেনি, সেটা খুব খারাপ। অন্তত ওদের ওয়েবসাইটে পরিবর্তন আনতে পারতো।আমাদের !@@!390154 !@@!390155 !@@!390156 তাই এই ব্যাপারে শুরু থেকেই সচেতন থাকা হচ্ছে। ছাপা বিশ্বকোষ আপডেট হতে বাংলাপিডিয়ার মতোই বছর বছর সময় লাগে। সেই তুলনায় উইকিপ্রযুক্তিতে তৈরী বাংলা উইকিপিডিয়াকে আপডেট করতে লাগবে কয়েক সেকেন্ড মাত্র। আর কয়েক কোটি টাকায় তৈরী বাংলাপিডিয়ার চাইতে স্বেচ্ছাশ্রমে বিনা খরচে তৈরী বাংলা উইকিপিডিয়ার গুণগত মান মোটেও কম না, বরং অনেক বেশি তথ্য এখানে স্থান পাচ্ছে।
দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছবি ও কথা তুলে ধরা আমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। সময় পেলে, বাংলা উইকিপিডিয়া দেখুন, এবং তথ্য যোগ করার এই মহাপ্রয়াসে শামিল হন। ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














