somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলুর বড়া খাইয়া নন্দ নাচিতে লাগিলো

৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নন্দ এক ফিচেল বালক। অনেকটা রবী ঠাকুরের ফটিকের মতোন। কথা নাই, বার্তা নাই জগতের জটিল সব বিষয়-আশয় যখন তখন তাহার ক্ষুদ্র মস্তিকে ভর করিয়া বসে। শেষে কী না আবার ইহার ভূত নামাইতে আমার দ্বারস্থ হইতে হয় তাহাকে। আর নানান রকম আব্দারও তাহার আমারই কাছে। আমি অবশ্য স্নেহ-বশতঃ তাহাকে বেশ খানিকটা প্রশ্রয় দেই।

এক ছুটির বেলা আলস্য করিয়া একটু দেরীতে ঘুম হইতে উঠিয়াছি। দেখি বেড়াল শাবকের মতো বিছানার পাশ ঘেষিয়া নন্দ বসিয়া আছে। একখানা থালায় আমার জন্য বল্যাক কফির কাপ, টোস্ট বিস্কুট ইত্যাদি সাজানো। বুঝিলাম, তাহার কোনো নিবেদন আছে। এই সব নৈবেদ্য ইহারই ভূমিকা মাত্র।

আমি হাত-মুখ ধুইয়া তাহাকে বলিলাম, কী বলিবি, এই বেলা বল দেখি।

নন্দ কহিলো, না মানে কাকা বাবু, খুব তালের বড়া খাইতে ইচ্ছে করিতেছে।

আমি মনে মনে কহিলাম, মারিয়াছে আর কী!

মুখে কহিলাম, এই বর্ষায় পাকা তালই বা পাইবো কোথা যে বড়া খাইবি?

-কাকাবাবু, তুমি সাংবাদিক মানুষ, আমি জানি, তোমার অনেক ক্ষমতা। সকাল -বিকাল তুমি নামি-দামি কতো লোকে সঙ্গে মোবাইলে ফোনে কথা বলো! আমি তাহা অনেকদিন আড়াল হইতে খানিকটা শুনিয়াছি। ...একবার টেলিভিশনে তাহাদের চেহারা দেখাইবার জন্য সকাল-বিকাল কতরকম অনুরোধ, অনুনয়-বিনয় তোমাইকে শুনিতে হয়! আর কি মস্তো একখানা গাড়ি তোমাকে অফিসে লইয়া যায়, আবার অফিস হইতে বাসায় নামাইয়া দেয়! উরি বাপ্পস! তা তুমি পারো না, সামান্য খান কতোক তালের বড়া জোগাড় করিতে?

আমি হাসিয়া কহিলাম, ধূর পাগোল! ইহা আমার মতো সাংবাদিক কোন ছাড়, স্বয়ং ঈশ্বরও এই অবেলায় তালের বড়া জোগাড় করিতে পারিবেন কী না সন্দেহ!

-কাকা তুমি কিছু জানো না ছাই! মুখেই তুমি কেবল বিশ্ব মারিয়া বেড়াও! নির্ঘাৎ প্রধান সেনাপতি এই বিষয়ে কোনো হিল্লে করিতে পারিবে! তুমি আমার পক্ষ হইতে তাহাকে একটা এসএমএস ঠুকিয়া দেখো না একবার! ...কাকা, এইটা একটা প্লিইইইজ...

-আরে বোকা, তিনি তো মহান মানুষ, মহামন্য বলিলেও অতুক্তি হয় না। তাহাকে এসএমএস করিয়া জেলের ভাত খাইবো না কী? আর তাহারই বা এতো সময় কোথায় এই এসএমএস পড়িবার?

-তুমি জানো না ছাই কিছুই! জানো, তাহারা আইটিতে এখন কতশত উন্নতি করিয়াছে? সেই মার্কিন মুলুক হইতে এফবিআই-এর কর্তারা আসিয়া সেনা নিবাস ঘুরিয়া তাহাদের প্রশিক্ষণ দিয়াছে। এই দেখো না, তুমি মাঝে মাঝে কী এক আন্তর্জালীয় লেখক-সমাবেশে মাঝে মাঝে উঁকি মারো, উহা হঠাৎ করিয়া অচল হইয়া গেলো! তাহা কী এমনি এমনি? আর তুমি কহিতেছো, তাহারা এসএমএস পড়িবে না? তবে যে সেদিন কাগজে দেখিলাম, এসএমএস করিয়া কিছুদিন আগে সরকার বাহাদুর রাজনৈতিক সংলাপ করিলো!

-আমি ইঁচড়ে পাকা নন্দকে খানিকটা সায় দিয়া কহিলাম, তা বটে। তবে তাই বলিয়া এই বর্ষায় তালের বড়া?

-আরে কাকা, তুমি সুযোগ পাইলেই শুনাইয়া দাও, তুমি না কী নকশালাইট পিতার ঘরে জন্মিয়াছো! তাহা হইলে বন্দুকের মাহাত্ন আর বুঝিলে কোথায়? এই যে সব জিনিষ-পত্রের দাম হু হু করিয়া চড়িতেছে, কই, আনু মুহাম্মদ কী নূরুল কবির গং সুশীল সমাজ টিভির গভীর রাতের অনুষ্ঠানে এই লইয়া সামান্য চিঁচিঁ করিতেছেন, ইহার বাইরে আর কোথাও কিছু শোনা যায় না কেনো? সামনে রমজান আসিতেছে, ইহার আগেই নির্ঘাৎ আরেক দফা দ্রব্যমূল্যের দাম চড়িবে...তাহা হইলে কোথাও কোনো শব্দ নাই কেনো?

এই বার আমি পুঁচকের কথায় সত্যিই ভাবিত হইলাম। জানি, শিশু-কিশোরদের জন্য ধূমপান অধিক ক্ষতিকর। কিন্তু উত্তেজনা বশত ফশ করিয়া একখানা সিগারেট ধরাইলাম।...

-হুমম..সত্যিই চিন্তার কথা। কিন্তু প্রতিবাদ করিবে কাহারা? যাহাদের প্রতিবাদ করিবার কথা, তাহারা তো এখন দুর্নীতির দায়ে জেরের ঘানি টানিতেছে...অনেকে আবার দেশে-বিদেশে চিকিৎসা লইবার জন্য বুটের তলা চাটিয়া পরিস্কার করিয়া ফেলিতেছে। আর আছে নির্বাচন!...

এইবার নন্দ মুখের কথা কারিয়া লইয়া কহিলো, আমিও তো তাই বলি। পেটে ভাত নাই, নির্বাচন নামক গণতন্ত্রের বাতাসা খাইয়া দেখো না, সারাদেশ কী খুশী! প্রায়ই টিভির সংবাদে দেখি, একখানা ভুল-ভাল প্লাস্টিক কার্ড পাইয়া মুচি অলা হইতে শুরু করিয়া সমাজের রথিমহারথিদের আনন্দ আর ধরে না!

তো সেনাপতি পাইক-বরকান্দাজ লোক-লস্কর দিয়া ঘোলা পানিতে বন্দুক দিয়া মাছ মারিতে পারেন, আর আমার জন্য খান কতোক তালের বড়া আনিয়া দিতে পারেন না?

...এই বালক গাল ফুলাইলো। তাহাকে বলিতে চাহিলাম, জাতীয় পরিচয় পত্রের মাহাত্ন। আর নির্বাচন না হইলে এই সিন্দবাদের ভুত পালাইবে কোন পথে--ইত্যাদি অনেক কিছু।

কিন্তু এমন সময় আমার দিদি আসিয়া কহিলো, আরে তোমরা এই খানে বসিয়া ব্লগর ব্লগর করিতেছো? আমি সেই কোন সকাল হইতে নন্দর জন্য আলুর চপ ভাজিয়া বসিয়া আছি! আয় রে নন্দ এই বেলা গরম-গরম খাবি!

সে বেচারা কী বুঝিয়া মুচকি হাসিয়া উঠিলো। খাবার ঘর হইতে তাহার উল্লিসত ধ্বনি পাইলাম। কাছে গেলে নন্দ কহিলো, আমার তালের বড়া না হোক কাকা, এই বাজারে হাটুরা যখন মমতাজ বাজাইয়া আর মাঠ বক্তৃতায় আলুর দম চড়াইছে, তখন আলুর বড়াই বা মন্দ কী!

আমি মনে মনে কহিলাম, এই না হ্ইলে বাঙালি, আল্পেই তুষ্ট। তাহারা গদি বোঝে না, প্রধানমন্ত্রী, উজির, বাদশা বোঝে না...শুধু পেট পুরিয়া সামান্য আহার আর সুনিন্দা চায় মাত্র!
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×