আমার প্রিয় পোস্ট

আলুর বড়া খাইয়া নন্দ নাচিতে লাগিলো

৩০ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:০১

শেয়ার করুন:                   Facebook

নন্দ এক ফিচেল বালক। অনেকটা রবী ঠাকুরের ফটিকের মতোন। কথা নাই, বার্তা নাই জগতের জটিল সব বিষয়-আশয় যখন তখন তাহার ক্ষুদ্র মস্তিকে ভর করিয়া বসে। শেষে কী না আবার ইহার ভূত নামাইতে আমার দ্বারস্থ হইতে হয় তাহাকে। আর নানান রকম আব্দারও তাহার আমারই কাছে। আমি অবশ্য স্নেহ-বশতঃ তাহাকে বেশ খানিকটা প্রশ্রয় দেই।

এক ছুটির বেলা আলস্য করিয়া একটু দেরীতে ঘুম হইতে উঠিয়াছি। দেখি বেড়াল শাবকের মতো বিছানার পাশ ঘেষিয়া নন্দ বসিয়া আছে। একখানা থালায় আমার জন্য বল্যাক কফির কাপ, টোস্ট বিস্কুট ইত্যাদি সাজানো। বুঝিলাম, তাহার কোনো নিবেদন আছে। এই সব নৈবেদ্য ইহারই ভূমিকা মাত্র।

আমি হাত-মুখ ধুইয়া তাহাকে বলিলাম, কী বলিবি, এই বেলা বল দেখি।

নন্দ কহিলো, না মানে কাকা বাবু, খুব তালের বড়া খাইতে ইচ্ছে করিতেছে।

আমি মনে মনে কহিলাম, মারিয়াছে আর কী!

মুখে কহিলাম, এই বর্ষায় পাকা তালই বা পাইবো কোথা যে বড়া খাইবি?

-কাকাবাবু, তুমি সাংবাদিক মানুষ, আমি জানি, তোমার অনেক ক্ষমতা। সকাল -বিকাল তুমি নামি-দামি কতো লোকে সঙ্গে মোবাইলে ফোনে কথা বলো! আমি তাহা অনেকদিন আড়াল হইতে খানিকটা শুনিয়াছি। ...একবার টেলিভিশনে তাহাদের চেহারা দেখাইবার জন্য সকাল-বিকাল কতরকম অনুরোধ, অনুনয়-বিনয় তোমাইকে শুনিতে হয়! আর কি মস্তো একখানা গাড়ি তোমাকে অফিসে লইয়া যায়, আবার অফিস হইতে বাসায় নামাইয়া দেয়! উরি বাপ্পস! তা তুমি পারো না, সামান্য খান কতোক তালের বড়া জোগাড় করিতে?

আমি হাসিয়া কহিলাম, ধূর পাগোল! ইহা আমার মতো সাংবাদিক কোন ছাড়, স্বয়ং ঈশ্বরও এই অবেলায় তালের বড়া জোগাড় করিতে পারিবেন কী না সন্দেহ!

-কাকা তুমি কিছু জানো না ছাই! মুখেই তুমি কেবল বিশ্ব মারিয়া বেড়াও! নির্ঘাৎ প্রধান সেনাপতি এই বিষয়ে কোনো হিল্লে করিতে পারিবে! তুমি আমার পক্ষ হইতে তাহাকে একটা এসএমএস ঠুকিয়া দেখো না একবার! ...কাকা, এইটা একটা প্লিইইইজ...

-আরে বোকা, তিনি তো মহান মানুষ, মহামন্য বলিলেও অতুক্তি হয় না। তাহাকে এসএমএস করিয়া জেলের ভাত খাইবো না কী? আর তাহারই বা এতো সময় কোথায় এই এসএমএস পড়িবার?

-তুমি জানো না ছাই কিছুই! জানো, তাহারা আইটিতে এখন কতশত উন্নতি করিয়াছে? সেই মার্কিন মুলুক হইতে এফবিআই-এর কর্তারা আসিয়া সেনা নিবাস ঘুরিয়া তাহাদের প্রশিক্ষণ দিয়াছে। এই দেখো না, তুমি মাঝে মাঝে কী এক আন্তর্জালীয় লেখক-সমাবেশে মাঝে মাঝে উঁকি মারো, উহা হঠাৎ করিয়া অচল হইয়া গেলো! তাহা কী এমনি এমনি? আর তুমি কহিতেছো, তাহারা এসএমএস পড়িবে না? তবে যে সেদিন কাগজে দেখিলাম, এসএমএস করিয়া কিছুদিন আগে সরকার বাহাদুর রাজনৈতিক সংলাপ করিলো!

-আমি ইঁচড়ে পাকা নন্দকে খানিকটা সায় দিয়া কহিলাম, তা বটে। তবে তাই বলিয়া এই বর্ষায় তালের বড়া?

-আরে কাকা, তুমি সুযোগ পাইলেই শুনাইয়া দাও, তুমি না কী নকশালাইট পিতার ঘরে জন্মিয়াছো! তাহা হইলে বন্দুকের মাহাত্ন আর বুঝিলে কোথায়? এই যে সব জিনিষ-পত্রের দাম হু হু করিয়া চড়িতেছে, কই, আনু মুহাম্মদ কী নূরুল কবির গং সুশীল সমাজ টিভির গভীর রাতের অনুষ্ঠানে এই লইয়া সামান্য চিঁচিঁ করিতেছেন, ইহার বাইরে আর কোথাও কিছু শোনা যায় না কেনো? সামনে রমজান আসিতেছে, ইহার আগেই নির্ঘাৎ আরেক দফা দ্রব্যমূল্যের দাম চড়িবে...তাহা হইলে কোথাও কোনো শব্দ নাই কেনো?

এই বার আমি পুঁচকের কথায় সত্যিই ভাবিত হইলাম। জানি, শিশু-কিশোরদের জন্য ধূমপান অধিক ক্ষতিকর। কিন্তু উত্তেজনা বশত ফশ করিয়া একখানা সিগারেট ধরাইলাম।...

-হুমম..সত্যিই চিন্তার কথা। কিন্তু প্রতিবাদ করিবে কাহারা? যাহাদের প্রতিবাদ করিবার কথা, তাহারা তো এখন দুর্নীতির দায়ে জেরের ঘানি টানিতেছে...অনেকে আবার দেশে-বিদেশে চিকিৎসা লইবার জন্য বুটের তলা চাটিয়া পরিস্কার করিয়া ফেলিতেছে। আর আছে নির্বাচন!...

এইবার নন্দ মুখের কথা কারিয়া লইয়া কহিলো, আমিও তো তাই বলি। পেটে ভাত নাই, নির্বাচন নামক গণতন্ত্রের বাতাসা খাইয়া দেখো না, সারাদেশ কী খুশী! প্রায়ই টিভির সংবাদে দেখি, একখানা ভুল-ভাল প্লাস্টিক কার্ড পাইয়া মুচি অলা হইতে শুরু করিয়া সমাজের রথিমহারথিদের আনন্দ আর ধরে না!

তো সেনাপতি পাইক-বরকান্দাজ লোক-লস্কর দিয়া ঘোলা পানিতে বন্দুক দিয়া মাছ মারিতে পারেন, আর আমার জন্য খান কতোক তালের বড়া আনিয়া দিতে পারেন না?

...এই বালক গাল ফুলাইলো। তাহাকে বলিতে চাহিলাম, জাতীয় পরিচয় পত্রের মাহাত্ন। আর নির্বাচন না হইলে এই সিন্দবাদের ভুত পালাইবে কোন পথে--ইত্যাদি অনেক কিছু।

কিন্তু এমন সময় আমার দিদি আসিয়া কহিলো, আরে তোমরা এই খানে বসিয়া ব্লগর ব্লগর করিতেছো? আমি সেই কোন সকাল হইতে নন্দর জন্য আলুর চপ ভাজিয়া বসিয়া আছি! আয় রে নন্দ এই বেলা গরম-গরম খাবি!

সে বেচারা কী বুঝিয়া মুচকি হাসিয়া উঠিলো। খাবার ঘর হইতে তাহার উল্লিসত ধ্বনি পাইলাম। কাছে গেলে নন্দ কহিলো, আমার তালের বড়া না হোক কাকা, এই বাজারে হাটুরা যখন মমতাজ বাজাইয়া আর মাঠ বক্তৃতায় আলুর দম চড়াইছে, তখন আলুর বড়াই বা মন্দ কী!

আমি মনে মনে কহিলাম, এই না হ্ইলে বাঙালি, আল্পেই তুষ্ট। তাহারা গদি বোঝে না, প্রধানমন্ত্রী, উজির, বাদশা বোঝে না...শুধু পেট পুরিয়া সামান্য আহার আর সুনিন্দা চায় মাত্র!

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এলোমেলো ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ০ টি মন্তব্য
  • ৭৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি

 

 


পাহাড়, ঘাস, ফুল, নদী খুব প্রিয়। পেশা সাংবাদিকতা। লিখতে ও পড়তে ভালবাসি। টোটেম গৌতম বুদ্ধ। biplobr@gmail.com
*কপিরাইট ©: লেখক কর্তৃক...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩৫৬৯৮