somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শঙ্খ নদী: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

০৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা ধারায় নয়নাভিরাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ৫,০৯৩ বর্গমাইল। বাংলাদেশের এক কোনো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠা পার্বত্যঞ্চালে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস করেন।

আর দুর্গম বান্দরবান জেলার আয়তন ৪,৪৭০ বর্গ কি.মি.। মায়ানমার সীমান্তবর্তী এ জেলায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বত তাজিংডং (১২৮০ মি.), মদক (১০৫২ মি.) ও ক্রেওক্রাডং (১২৩০ মি.)। জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ।

মায়নমার সীমান্তের দুর্গম মদক পাহাড়ে শঙ্খ নদীর উৎপত্তি। উত্তরে আরাকান পর্বত্য থেকে এর ভৌগলিক অবস্থান ২১.১৩ ডিগ্রি উত্তর ও ৯২.৩৭ ডিগ্রি পূর্বে। এর মোট দৈর্ঘ ২৭০ কি.মি.। শঙ্খ নদী অনেক উঁচু উঁচু দুর্গম পাহাড়, গহিন বনাঞ্চল, ও অসংখ্য পাহাড়ি জনপদ ছুঁয়ে এঁকেবেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম জেলার সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত হয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।

বান্দরবানে শঙ্খ নদীর দুপাড়ে বসবাসকারী ৯০ শতাংশই মারমা নৃ গোষ্ঠির আদিবাসী। তাদের অধিকাংশের পেশা জুম চাষ (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরণের চাষাবাদ)।

নদীটির নাম বাংলায় ’শঙ্খ’ কেনো, তার কোনো ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। ধারণা করা যায়, ব্রিটিশ আমলে বাঙালি আমলারা গেজেটিয়ার করার সময় এটিকে ‘শঙ্খ নদী’ হিসেবে নথিভূক্ত করে। যদিও ’শঙ্খ’ বলতে যে ধরণের সামূদ্রিক শামুকের কথা বোঝায়, নদীর দুপাড়ে যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় বসবাসকারী আদিবাসী পাহাড়িরা জানিয়েছেন, এ নদীতে আদৌ সে ধরণের শঙ্খের অস্তিত্ব কখনো ছিলো না।

সম্ভবত ১৮৬০ সালে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম গেজেটিয়ার প্রকাশকালে ব্রিটিশ শাসকেরা ইংরেজীতে একে ’সাঙ্গু’ (Sangu) নদী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে মামরা আদিবাসীরা তাদের ভাষায় শঙ্খ নদীটিকে ‘রিগ্রাই খিয়াং’ অর্থাৎ ’স্বচ্ছ নদী’ নামে আদিকাল থেকে ডেকে আসছেন।

পাহাড়ি এলাকার প্রকৃতি অনুযায়ী অসংখ্য ছোটবড় ঝর্ণা থেকে সৃষ্টি হওয়া ছোট ছোট পাহাড়ি নদী বা ছড়া এসে মিশেছে শঙ্খ নদীতে। এরমধ্যে থানচি উপজেলার দুলুছড়ি, পানছড়ি, লিককে, ছোট মদক, বড় মদক, সিংকাফা, থানচি ও রুমা উপজেলার রেমাক্রি ছড়া, তিনদু, পরদা, সোনাখাল, চেমাছড়া, পানতলা ছড়া, রুমা খাল, পলি ছড়া, মুরুগু ছড়া, রোয়াংছড়ি উপজেলার ঘেরাও ছড়া, পালং ছড়া, বেতছড়া, তারাছা ছড়া, বান্দরবান সদরের পাইন ছড়া, সুয়ালক ছড়া এবং বান্দরবান-চন্দনাইশ সীমান্তের দুপাছড়ি অন্যতম।

*

চার দশক আগেও শঙ্খ নদীর দুপাশে ছিলো প্রচুর ঘন প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। এর মধ্যে নাম না জানা কয়েক ধরণের অসংখ্য বড় বড় গাছপালা এবং বাঁশ ও বেতের নিবিড় ঘনবন ছিলো অন্যতম। এই বনে বড় বড় হাতি, বাঘ, কালো ও লালচে ভালুক, বন্য শুকর, সাম্বার হরিণ, দেশি লাল হরিণ, জংলি গয়াল, বন মোরগ, মথুরা, ময়ুর, হনুমান, উল্লুক, কয়েক প্রজাতির বানর, কয়েক ধরণের বন বেড়াল, অজগর সাপসহ প্রচুর পরিমান বন্য প্রাণীর প্রচুর্য ছিলো।

বর্ষাকালে শঙ্খ নদীর রূপ ছিলো ভয়ংকর। প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি নদীটি উঠতো ফুলে ফেঁপে; তখন এর স্রোতধারা হতো তীব্র। কোথাও কোথাও দেখা দিতো পাহাড়ি ঢল। অনেক উঁচু থেকে এর পানি গড়িয়ে বিনা বাধায় নীচের দিকে প্রবাহিত হতো। সে সময় দুপাশের জনবসতি ও বনাঞ্চলের তেমন কোনো তি হতো না। আবার বিস্ময়করভাবে বৃষ্টিপাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে স্বাভাবিক হয়ে আসতো এর স্রোতধারা।

আর সে সময় পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর দুকূলে পড়তো প্রচুর পরিমানে পলিমাটি। কোনো ধরণের সার প্রয়োগ ছাড়াই, সেখানে অনায়াসে চাষ করা যেতো মৌসুমের ধান, ডাল, শাক-সব্জি, বাদাম ও দেশি তামাক পাতা।

আবার শুকনো মৌসুমে হ্রাস পেতো শঙ্খ নদীর গভীরতা। তখন কোথাও গলা পানি, আবার কোথাও কোমড় বা হাঁটু পানি থাকতো এ নদীতে। নদীর তলদেশে বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক পাথুরে কূপের দেখা মিলতো। এ কূপগুলোর গভীরতা ২০ থেকে ৫০ ফুট হওয়া বিচিত্র নয়। সেখানে পাওয়া যেতো ছোট-বড় বিভিন্ন ধরণের মাছ। এছাড়া শুকনো মৌসুমে নদীতে অনায়াসে শিকার করা যেতো রুই-কাতল, কালি ঘোইন্না, বেলে, গলদা চিংড়ি, শোল, মাগুর, সিং, মৃগেল ইত্যাদি।

বরাবরই শঙ্খ নদীতে চলাচল ছোট-বড় ইঞ্জিন বিহীন দেশি কাঠের নৌকা। এই নৌ যোগাযোগই ছিলো পুরো বান্দরবানের যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম। অন্যদিকে এ নদীতে দিনে বা রাতে চলাচলের েেত্র আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিলো খুবই শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময়।

*.কিন্তু চার দশকে শঙ্খ নদী যেমন তার রূপ পাল্টেছে, তেমনি আমূল বদলে গেছে এর চারপাশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ। একই সঙ্গে বদলে গেছে জন জীবন যাত্রা।

৮০ দশকে বান্দরবান একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এদিকে বন বিভাগ স্বাভাবিক ক্রিয়াকর্মের পাশাপাশি বান্দরবান সদরে দুটি ও লামা উপজেলায় একটি ‘পাল্প উড ডিভিশন’ নামে তিনটি বিশেষ শাখা সম্প্রসারণ করে। এর পর বন বিভাগের নেতৃত্বে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস করে কৃত্রিম বনাঞ্চল সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পাহাড়িদের লক্ষাধিক একর জমি বন বিভাগ দখল করতে শুরু করে। সংকুচিত হয় জুম চাষের জায়গা। ফলে একই পাহাড়ে স্বল্প সময়ে বার বার জুম চাষ করায় হ্রাস পায় প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সৃষ্টি; পাহাড়ের ভূমিক্ষয়ও বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বন বিভাগের নেতৃত্বে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস করে কৃত্রিম বনাঞ্চল সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়। বন বিভাগের সহায়তায় অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে বনজ সম্পদ লুটপাঠ করতে থাকে। এদিকে বনায়নের নামে পরিবেশবান্ধব নয়, বন বিভাগ পুরো বান্দরবানের লাধিক একর জমিতে এমন গাছপালার বাগান গড়ে তুলতে শুরু করে। এর মধ্যে ইউক্যালিপটাস, আকাশিয়া, পাইন, সেগুন ইত্যাদি গাছ অন্যতম।

এছড়া বান্দরবানকে জেলা হিসেবে ঘোষণার পর সড়ক ও জনপদ বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় ও বনাঞ্চল কেটে দূরদূরাঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ করতে শুরু করে।

এদিকে ফেলা পাহাড়গুলোর মাটি প্রতিনিয়তই বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে ধর্ণা ও ছড়ার মাধ্যমে মিশছে শঙ্খ নদীতে। ফলে বছরের পর বছর মাটি শঙ্খ নদীতে জমা হওয়ায় দিন দিন কমছে এর নাব্যতা। ভরাট হতে বসেছে নদীটি। বর্ষাকালে তাই এ নদীর গতি প্রবাহ এখন বাধাগ্রস্থ হয়। এর দুকূলে দেখা দেয় প্লাবন।

৮০র দশক থেকে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা ও নির্বাচারে বনাঞ্চল ধ্বংস, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, রাজনৈতিকভাবে ছিন্নমূল বাঙালিদের পাহাড়ে অভিবাসন, পাহাড় ও ভূমি ধ্বসের ফলে নদীতে নাব্যতা বৃদ্ধি--ইত্যাদি কারণে এখন পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম--কক্সবাজার মহাসড়ক নির্মাণের ফলে বর্ষাকালে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হচ্ছে বাধাগ্রস্থ। এ জন্য এখন সামান্য বৃষ্টিতে দুর্গম পাহাড়ে তো বটেই, এমন কি বান্দরবান জেলা সদরেও দেখা দেয় জলাবন্ধতা। বৃষ্টির পানি এখন আগের মতো সহজেই গড়িয়ে নেমে যায় না। শঙ্খ নদীতে নাব্যতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রাণ-বৈচিত্রের স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে মারাতœক বিপর্যয়।

অন্যদিকে বন বিভাগ ও অসংখ্য নিরাপত্তা বাহিনীর ছাউনি নির্মাণের ফলে মাইলের পর মাইল এলাকার বন কেটে পরিস্কার করা হয়েছে। আর এসব অতিরিক্ত জনসংখ্যার বাড়তি জ্বালানি কাঠের যোগান দিতে পুড়ছে বনাঞ্চল।

এমনি করে নির্বিচারে বন ধ্বংস করায় পাহাড়ে বাড়ছে ভূমিক্ষয়; যা শেষ পর্যন্ত নাব্যতা সৃষ্টি করছে শঙ্খ নদীতে।

*

নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির কারণে এখন আর আগের মতো দুকূলে পলিমাটি জমে না। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে নদীর দুপাশে চাষাবাদর প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার জমির উর্বরতার ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। সব মিলিয়ে শঙ্খ নদীর দুপাড়ে এখন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেও আগের মতো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে নাব্যতা সৃষ্টি ও সড়ক যোগাযোগ বৃদ্ধির কারণে মাঝি-মাল্লারা হয়ে পড়েছে কর্মহীন। আবার বর্ষা মৌসুমে ইঞ্জিন-বোটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইঞ্চিনের শব্দ দূষণে কমছে স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন। নাব্যতার কারণে বিপন্ন প্রাণ-বৈচিত্রের তালিকায় রয়েছে কয়েক ধরণের মাছ তো বটেই, এমন কি শামুক-ঝিনুক, কাঁকড়া, পানির সাপ, পরিবেশের জন্য উপকারী পোকা-মাকড়, কয়েক ধরণের প্রাকৃতিক শাক-সব্জি।

বিচিত্র খাদ্যাভাসের কারণে আগে পাহাড়িরা এসব প্রাণ-বৈচিত্র থেকেই নিত্য দিনের আহার সংগ্রহ করতে পারতেন। কিন্তু এখন খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় রুমা ও থানচির মতো দুর্গম পাহাড়ি জনপদে সমতল ভূমি থেকে শাক-সব্জি আমদানী করে জনসাধারণের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

আগে শুস্ক মৌসুমে মাঝি-মাল্লারা বিনা পরিশ্রমে নৌ যোগাযোগ রা করতে পারতেন। কিন্তু শঙ্খ নদীতে নাব্যতা বৃদ্ধি ও সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এখন আগের এ পরিস্থিতি আর নেই। এখন যাত্রীরা কম সময়ে দূর-দূরাঞ্চল সহজে সড়ক পথেই যোগাযোগ করতে পারছেন।

দশক চারেক আগেও শঙ্খ নদীতে বর্ষার পানি সহজেই গড়িয়ে নেমে যেতো। তাই নদীর পানি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে পেতো তার স্বাভাবিক স্বচ্ছতা। এ নদী ছিলো বর্ষা ও শুস্ক মৌসুমে পানীয় জল ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের অন্যতম উৎস। আগে বর্ষাকালে খাওয়ার জন্য এ নদীর পানি শুধু ছেঁকে নিলেই চলতো। কিন্তু এখন বর্ষা বা শুস্ক মৌসুমে এ নদীর পানি আগের মতো আর নিরাপদ নয়। কিন্তু এখন নদীতে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা, পানি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক স্বচ্ছতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ইঞ্জিন-বোটের সংখ্যা বাড়ায় নদীতে বাড়ছে দূষণ।

এছাড়া ব্রিটিশ--আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী এক দশক আগে শঙ্খ নদীর অববাহিকায় জুম চাষীদের তামাক চাষে উৎসাহিত করায় জুমের বদলে বেড়েছে তামাক চাষ। উৎপাদিত তামাক পাতা নদীতের ধোয়ার ফলে মাইলের পর মাইল নদীর পানি হচ্ছে দূষিত। আর বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে এসব তামাক চাষের জমির রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বিষ মিশছে শঙ্খ নদীতে। এছাড়া পানিতে বিষ মিশিয়ে মাছ শিকারের ফলেও বাড়ছে নদী-দূষণ।

*

এমন বৈরি পরিস্থিতিতে এ নদীকে ঘিরে গড়ে উঠা হাজার বছরের পাহাড়ি জনপদ বর্ষা ও শুস্ক মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ নদীর পানি ব্যবহার করছেন। এর ফলে কতো মাইল এলাকা জুড়ে কতো জনসংখ্যা এখন স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে কাটাচ্ছেন, প্রাণ-বৈচিত্রের ওপরেই বা এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া কি মাত্রায় পড়ছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যানও নেই।

বান্দরবান জেলা সদর ছাড়া পুরো জেলায় স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের কোনো ধারণাই গড়ে ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্ট পরিবেশকর্মীদের অভিমত। সরকারি বিভাগগুলোও সঠিকভাবে সদিচ্ছার অভাবে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি সেভাবে প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পারেনি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও রয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব। বেশিরভাগ অঞ্চলেই এখনো ঝুঁকিপূর্ণ শঙ্খ নদীসহ অন্যান্য ছড়ার পানি পান ও ঘর-গৃহস্থালির কাছে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে থানচি উপজেলা সদর, রুমা উপজেলা সদর এবং বলিপাড়া বাজার এলাকায় স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি আগের চেয়ে এখন বেশকিছুটা সম্প্রসারিত হয়েছে। সেখানে স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের েেত্র সৃষ্টি হয়েছে জনসচেতনতা।

সম্প্রতি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি, জাতীয় ও স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওগুলো স্যানিটেশন বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার ও স্থাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা করছে। জেলা ও উপজেলা সদরের বাইরে শিা ও জনসচেতনতার অভাবে দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী পাহাড়ি ও বাঙালিরা কাঁচা পায়খানা ব্যবহার, আবার অনেকে ঝোপ-ঝাঁড়ে যত্র-তত্র মলমূত্র ত্যাগ করে অভ্যস্ত।
---
তথ্যসূত্র:
১.ইউকেপিডিয়া।
২.জুয়াম লিয়ান আমলাই, পরিবেশকর্মী, বান্দরবান-এর সরেজমিন অনুসন্ধান,
৩.কেওচিং কারবারি, বান্দরবান,
এবং
৪.এল. দৌলিয়ান বম, রুমা, বান্দরবান।
---
ছবি:

শঙ্খ নদী, বান্দরবান, লেখক।।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:০০
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×