somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মরিয়ম মুরমুর ধর্ষিত লাশ অথবা প্রশ্নবিদ্ধ আদিবাসীর মানবতা সমর মাইকেল সরেন ও বিপ্লব রহমান *


বিশিষ্ট সান্তাল আদিবাসী লেখক মিথুশিলাক মুরমু’র বিধবা স্কুল শিক্ষক বোন মরিয়ম মুরমুকে (৫৫) গত রোববার সন্ত্রাসীরা রাজশাহীর গ্রামের বাড়িতে গণধর্ষন ও বিভৎস শাররীক নির্যাতনের পর হত্যা করেছে। পৈশাচিক ঘটনাটি এখান্ই শেষ নয়, হত্যার পর সন্ত্রীরা আদিবাসী বোনটির নগ্ন লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখে প্রতিহিংসাও মিটিয়েছে। একই জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় মাত্র চার মাস আগেই গণধর্ষনের পর বিচার না পেয়ে কিশোরী শেরাপিনা মার্ডি (১৫) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্নহত্যা করে। আদিবাসী সমাজ শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই মরিয়ম মুরমুর এই নৃশংস হত্যার ঘটনা। এ ঘটনায় উত্তরবঙ্গের সান্তাল আদিবাসী সমাজ চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন।...

'খুনের পর আদিবাসী নারীর লাশ গাছে বেঁধে রাখা হলো' শিরোনামে গত ১১ জুলাই সংবাদপত্রের খবরে বলা হয় :

'রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সিমলা দীঘিপাড়া গ্রাম থেকে গতকাল রোববার সকালে বিবস্ত্র অবস্থায় গাছে বেঁধে রাখা আদিবাসী নারী মরিয়ম মুর্মুর (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর হত্যা করে দুর্বৃত্তরা তাঁর লাশ গাছে বেঁধে রাখে।

মরিয়ম মুর্মু গোদাগাড়ীর সিমলা দীঘিপাড়া গ্রামের একটি বয়স্ক শিক্ষা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। এ ছাড়া আদিবাসী পরিচালিত একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বামীর বাড়ি তানোর উপজেলার কমলা ইউনিয়নের চৈতপুর গ্রামে। ২০০৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে গোদাগাড়ীতে বাবা রাজেন মুর্মুর বাড়িতেই ছিলেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, রাজেন মুর্মুর বাড়ির সামনে বাঁশঝাড়ের ভেতরে থাকা একটি বরইগাছের সঙ্গে মরিয়মের লাশ গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝোলানো ছিল। লাশটি ছিল বিবস্ত্র। শরীর থেকে ঝরছিল রক্ত। গতকাল ভোর ছয়টার দিকে গ্রামের অঞ্জলী মুর্মু প্রথমে লাশটি দেখতে পান। পরে তাঁর চিৎ কারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে লাশটি কাপড়ে ঢেকে থানায় খবর দেন।

স্থানীয়রা বলেন, রাজেন মুর্মুর মাটির তৈরি দোতলা বাড়ির প্রধান দুটি দরজা সকালে খোলা পাওয়া গেছে। বাড়ির আলমারি ও ট্রাঙ্ক ছিল খোলা। এর মধ্যে থাকা কাগজপত্র, জামা-কাপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী বলেন, রাজেন মুর্মু একজন সাবেক জরিপকারী (সার্ভেয়ার)। তিনি তাঁর বৃদ্ধ স্ত্রী ও বিধবা মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। তাঁর অন্য চার মেয়ে ও এক ছেলে থাকেন বাইরে। মরিয়মের একমাত্র ছেলেও চাকরির সুবাদে বাইরে থাকেন। মেয়ের বিয়ে হয়েছে নওগাঁর নজিপুরে।

প্রতিবেশীরা বলেন, রাজেন মুর্মু খুবই অসুস্থ। ঠিকমতো চোখে দেখতে পান না। কানেও কম শোনেন। তাঁর স্ত্রীর অবস্থাও ভালো নয়। তাই তাঁরা বাড়িতে থাকলেও ঘটনার কিছুই টের পাননি।

মরিয়মের খালাতো ভাই আন্দ্রিয়াস মুর্মু বলেন, প্রতিদিনের মতো মরিয়ম শনিবার রাতেও বাড়ির বারান্দাতেই ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু রাতে দুষ্কৃতকারীরা তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।

মরিয়মের ছেলে উইলসন (৩২) বলেন, তাঁর মাকে কে বা কারা আগে থেকেই মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। কিন্তু তাঁর মা কারও নাম বলতেন না। তবে তিনি বলেন, জমি নিয়ে চাচার সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া চলছে। এর বাইরে কারও সঙ্গে তাঁদের শত্রুতা নেই।

গতকাল রাজেন মুর্মুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় পড়ে তিনি কাঁদছেন। তিনি এতটাই অসুস্থ যে উঠে মেয়ের লাশের কাছেও যেতে পারছেন না। তাঁর স্ত্রী মেয়ের লাশের পাশে বসে কাঁদছেন।'...

এভাবে এক টুকরো জমি বা সামান্য শেষ সস্বলের জন্য আর কতো আদিবাসী নারীকে ধর্ষিত হতে হবে? প্রাণ দিতে হবে? আদিবাসী পর্যবেক্ষক মাত্রই জানেন, পাহাড় ও সমতলে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, সংখ্যাগুরু বাঙালি জনগোষ্ঠি, কি সামাজিক সন্ত্রাসের কাছে সাধারণ আদিবাসী মানুষ কতো অসহায়!

আমরা দেখেছি, কিশোরী শেরাপিনাকে গত বছর ৪ এপ্রিল চার জন বখাটে যুবক ধর্ষন করার পরেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। আসামীরা মাত্র দেড় লাখ টাকায় ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইলে ১০ মাস ধরে আপমানের জ্বালা সয়ে শেরাপিনা এ বছর ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্নহত্যা করে। সে সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ উত্তরবঙ্গের আদিবাসীদের সম্মিলিত তীব্র আন্দোলনের মুখে পুলিশ এজাহারভূক্ত আসামীদের গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। আত্নহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে মোট ১৩জনকে আসামীও করা হয়। আজও এ ঘটনার বিচার হয়নি।

স্মরণ করা যেতে পারে, দখলদারদের থাবা থেকে খাস জমি, তথা আদিবাসী গ্রাম রক্ষা আন্দোলনের শহীদ উত্তবঙ্গের সান্তাল নেতা আলফ্রেড সরেনের কথা। ২০০০ সালের ১৮ আগষ্ট নওগাঁর ভীমপুরে নিহত আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচারের দাবিতে আদিবাসী ও প্রগতিমনা বাঙালিরা যৌথ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। জাতীয় পর্যায়ে অনেক সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ, সাংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি পেশ, মানববন্ধন হয়েছে। আলফ্রেড সরেন পরিনত হয়েছেন আন্তর্জাতিক সংবাদে। কিন্তু গত ১০ বছরেও এ হত্যা মামলাটি উচ্চ আদালতের চৌকাঠ পেরুতে পারেনি। আলফ্রেড সরেনের বোন রেবেকা সরেন ভাইয়ের বিচার চাইতে গিয়ে সংসার ভেঙেছেন, ভীমপুর আদিবাসী গ্রাম জনশূন্য হয়েছে, স্বপ্ন ভেঙেছে শত শত আদিবাসী নারী-পুরুষের। এর দায়ভার কে নেবে? এখনো আলফ্রেড সরেন হত্যার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বছর দশেক আগে ধর্ষিতা ও অপহৃত ছোট বোনের লাঞ্ছনার বিচার চাইতে গিয়ে টাঙ্গাইলে খুন হয়েছেন গারো আদিবাসী মেয়ে গিদিতা রেমা, অরণ্যের অধিকার রক্ষা তথা ইকো-পার্ক ঠেকাও আন্দোলনে বন রক্ষীর গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন মধুপুরে পিরেন স্নাল, এক-এগারোর সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধয়ক সরকারের সময় যৌথ বাহিনী পিটিয়ে খুন করে একই আন্দোলনের নেতা চলেশ রিছিলকে । আদালতের মহফেজখানায় থেকে এ হত্যা মামলাটিরও বন্দিদশা ঘোচেনি।


অন্যদিকে, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক সহিংস সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেই চলেছে। সেনা বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে পাহাড়ে অভিবাসিত বাঙালি সেটেলাররা গত বছর ১৯-২০ ফেব্রুয়ারিতে খাগড়াছড়ি ও বাঘাইছড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অন্তত চার জন আদিবাসী পাহাড়িকে খুন করে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় শত শত আদিবাসীর ঘরবাড়ি, স্কুল, বৌদ্ধ বিহার। এ বছর ১১ এপ্রিল খাগড়াছড়ির রামগড়ে সেটেলার অধ্যুষিত এলাকায় আবারো পাহাড়িদের গ্রামে আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় দশক আগে স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তিটির মৌলিক শর্তসমূহ বাস্তবায়ন তথা পার্বত্য সমস্যা সমাধানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি -- উভয় সরকারই সীমাহীন উদাসিনতা দেখিয়ে চলেছে। সম্প্রতি সংশোধিত সংবিধানে উপেক্ষিত হয়েছে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দানের প্রাণের দাবি।

এমনই নানান নিস্পেষনের জাঁতাকলে পিষ্ট ও শ্বাসরূদ্ধকর পরিস্থিতিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আদিবাসী লেখক মিথুশিলাক মুরমু’র বয়স্ক বিধবা বোন মরিয়ম মুরমুকে নিষ্ঠুর নির্যাতন, ধর্ষন ও খুন করা হলো। এ ঘটনা আদিবাসী সমাজকে আবারো নিরাপত্তাহীন এবং বিপন্ন করে তুলেছে। এ নিয়ে আমরা যাদের সঙ্গেই কথা বলেছি, তারাই এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক আদিবাসী সাধারণ মানুষ বলেছেন, এ দেশে কোনো সরকারই আদিবাসীদের পক্ষে নয়। আবার অনেকে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, মরিয়ম মুরমু আদিবাসী বলে, নারী বলে, সামান্য স্কুল শিক্ষক বলে -- এ হত্যার বিচার হয়তো আর হবে না!

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা হতাশও নই। তাই আমরা চাই, এর নেপথ্যে যারাই থাকুক না কেন তাদের যেনো উপযুক্ত বিচার এবং শাস্তি হয়। আমাদের দাবি অবিলম্বে যেনো হত্যাকাণ্ডটির সুরাহা হয়, এই মামলাটি যেনো দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে যতদ্রুত সম্ভব মরিয়ম মুরমুর খুনিদের বিচার করা হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া গেছে, মরিয়ম মুরমুকে হত্যার প্রতিবাদে আদিবাসী সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা একই দাবিতে লাগাতার রাজপথের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আমরা মিথুশিলাক মুরমুকে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নিহত আদিবাসী বোনটিকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। আদিবাসী ভাই-বোনদের আহ্বান জানাই, শোককে শক্তিতে পরিনত করে আগামী দিনের মুক্তি-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার। জয় হোক মুক্তিকামী মানুষের!
----

মরিয়ম মুর্মুর এপিটাফঃ

চয়ন খায়রুল হাবিব

শব্দের
সম্ভ্রম
না
ভেঙ্গে
শব্দের সম্ভ্রম পুরাপুরি চুরমার

ব্রিটানির বিষদে হঠাত পশলা পশলা
বাংলদেশি বর্ষার মুন্ডুকাটা ধড়

জিন্দাফরাশ সময়ের গরম বাকড়

দিঘিপাড়ায় নতজানু রংধনুর সোয়াদ পুড়ায়ে পুড়ায়ে
আপাত দুরান্তের গোধুলিতে ফুরালো আইসক্রিমওয়ালার ঘন্টা

শব্দের
সম্ভ্রম
না
ভেঙ্গে
শব্দের সম্ভ্রম পুরাপুরি চুরমার


---
* আদিবাসী বাংলা ব্লগ ও ফেসবুক গ্রুপ ‘পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice’- এর পক্ষে প্রকাশিত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29412994 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29412994 2011-07-14 19:49:37
।। ব্রেকিং নিউজ : : নিরাপত্তা বাহিনীর রোষানলে আদিবাসী ব্লগ ।।
নিরাপত্তা বাহিনীর রোষানলে পড়ে বন্ধ হয়ে গেলো আদিবাসী ব্লগ বিডি ডটকম [http://www.adibasiblogbd.com/]।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাহাড়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (১৭ মে) নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্লগ সাইটের সঞ্চালকদের জানান, তারা এই ব্লগটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন; একই সঙ্গে তারা সঞ্চালকদের কাছে ব্লগ লেখকদের সর্ম্পকেও বিস্তারিত জানতে চান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত আদিবাসী বিষয়ক বিভিন্ন ব্লগ ও ফেইসবুক গ্রুপ সর্ম্পকেও খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

এ অবস্থায় আদিবাসী ব্লগ বিডি ডটকম [http://www.adibasiblogbd.com/] কর্তৃপক্ষ তাদের সাইটটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

আমরা 'আদিবাসী বাংলা ব্লগ' [http://w4study.com/] এবং ফেইসবুক গ্রুপ 'পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice' এর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর এই খবরদারীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

আমরা মনে করি, ব্লগ ও ফেইসবুকের ওপর এ হেন খবরদারী মুক্তচিন্তার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপেরই বহিঃপ্রকাশ, এটি কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চলতে পারে না। পাশাপাশি আমরা পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পাহাড় থেকে সেনা-সেটেলার প্রত্যাহারেরও জোর দাবি জানাই।

আদিবাসী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের জয় হোক!
---
ছবি: এক-এগারোর সময় ঢাবিতে ছাত্র বিক্ষোভ, ডেইলি স্টার, ফাইল ফটো।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29382773 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29382773 2011-05-17 16:51:05
পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ

ন’ সাঙ যেবার এই জাগান ছাড়ি/ইদু আগং মুই জনমান ধরি/এই জাগান রইয়েদে মর মনান জুড়ি…চাকমা গান…এই জায়গা ছেড়ে আমি যাব না/এখানেই জন্ম-জন্মান্তর থেকে আমি আছি/এই জায়গা আমার মন জুড়ে রয়েছে।…


পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত বছর ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি সহিংস ঘটনার দগদগে স্মৃতি বিস্তৃত হওয়ার আগেই সম্প্রতি লংগদুতে ২০টিরও বেশী আদিবাসী পাহাড়ি ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

এবার চৈত্র সংক্রান্তির উৎসব বিঝু, বৈসুক, সাংগ্রাং, বৈষুর আনন্দ ফুরাতে না ফুরাতেই হামলা চালানো হয়েছে খাগড়াছড়ির রামগড়ে। জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৭ এপ্রিল সেখানে নিহত হয়েছেন তিনজন বাঙালি, পাহাড়ি-বাঙালি উভয় পক্ষের হতাহত হয়েছেন অনেক, প্রায় দেড়শ’ ঘর-বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে হিংসার লেলিহান শিখায়। …

সংবাদপত্রের পাতায়, টেলিভিশনে, ইন্টারনেটে ছবি ও ভিডিও ক্লিপিং দেখে চোখের পানি সত্যিই ধরে রাখা যায় না! একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দাউ দাউ করে জ্বলছে সোনা রঙা ধানের গোলা…
যারাই একটু নিজ উদ্যোগে খোঁজ খবর নিয়েছেন, তারাই জেনেছেন, রামগড় সহিংসতায় যদিও নিহত হয়েছেন বাঙালিরাই, কিন্তু তারাই সেখানের মূল হামলাকারী। সেখানে আদিবাসীরা সীমিত শক্তি নিয়ে হামলা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছেন মাত্র। শুধু তাই নয়, জমি-জমার বিরোধকে কেন্দ্র যে সহিংসতার সূত্রপাত, এই বাঙালি জনগোষ্ঠিই সেখানকার আদিবাসী মারমাদের জমির জবরদখলকারী।

বলা ভালো, এই বাঙালিরা কোনো সাধারণ বাঙালি নন–- তারা হচ্ছেন সেনা সমর্থিত সেটেলার বাঙালি। আরো স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, এই সেনা-সেটেলাররাই পাহাড়ের হর্তা-কর্তা-অধিকর্তা। তারাই সেখানের প্রধান প্রশাসন, রাষ্ট্রের ভেতর আরেক তালেবান রাষ্ট্র। …
সেনা-সেটেলার শাসনকর্তারা এর আগে পাহাড়ে একই রকমভাবে মহালছড়ি, মাইচ্ছড়ি, গুইমারায় সহিংসতার জন্ম দিয়েছন।

শান্তিচুক্তির আগে ‘নারায়ে তাকবির’ ধ্বনী দিয়ে কসাইয়ের মতো দা দিয়ে কুপিয়ে, মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝড়া করা হয়েছে শত শত নিরীহ আদিবাসী পাহাড়ি।…লোগাং, লংগদু, ন্যান্যাচর, বরকল, কাউখালি, দীঘিনাল, পানছড়িসহ একের পর এক গণহত্যায় নিভে গেছে শত শত আদিবাসীর তাজা প্রাণ। সহায় সম্বল সব কিছু ফেলে জীবন বাঁচাতে প্রায় ৭০ হাজার পাহাড়িকে একযুগ শরণার্থীর গ্লানিময় জীবন বেছে নিতে হয়েছিল ত্রিপুরার আশ্রয় শিবিরে।

ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭৫ সালের পরে পাহাড়ে গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। ওই সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার বিদ্রোহ দমনে ব্যবস্থা নেয়। পাশাপাশি পাহাড়ে আদিবাসী ও বাঙালি জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। সে লক্ষ্যে সমতলের অনেক সেটেলার পরিবারকে দুই একর আবাদি জমি ও পাঁচ একর পাহাড়ি জমি দেওয়ার কথা বলে সরকারি উদ্যোগে তিন পার্বত্য জেলায় পুনর্বাসন করা হয়।

সাতের দশকের শেষ ও আটের দশকের প্রথম দিকে বহু সেটেলার পরিবারকে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বন্দোবস্তের নিয়ম ভেঙে সেটেলারদের জমির কবুলিয়ত দেয়। এ কারণে ভূমি বিরোধ সৃষ্টি হয়। লিংক-১

...লিংক-২

আটের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জেনারেল জিয়া সামরিকায়ন করা এবং পাহাড়ে সেটেলার বাঙালি বসিয়ে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করার যে সূচনা ঘটিয়েছিলেন, সেই একই প্রক্রিয়া জেনারেল এরশাদ, খালেদা জিয়ার সরকার হয়ে শান্তিচুক্তির পর শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া হয়ে আবারো শেখ হাসিনার সরকার এখনো বহাল রেখেছে। এটি হচ্ছে সেনা কর্তাদের খুশী রেখে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার বা ক্ষমতায় যাওয়ার ভোটবাজীর এক বিচিত্র রাজনীতি। গণতন্ত্রের খোলসে পাহাড়ে তালেবানী বন্দুকের শাসন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা।…

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির দেড় বছর পর ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাটে আদিবাসী ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল রামগড় উপজেলার গুইমারা থানার বড়পিলাক এলাকায় সহিংস ঘটনা ঘটে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক যুগে ভূমির বিরোধ নিয়ে অসংখ্য ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৩টি বড় সংঘর্ষে সাতজন আদিবাসী ও চারজন বাঙালি মারা গেছেন। এর মধ্যে দীঘিনালার বাবুছড়ায় ১৯৯৯ সালের ১৬ অক্টোবর তিনজন, মহালছড়িতে ২০০৩ সালের ২৬ আগস্ট দুইজন, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাটে দুইজন, খাগড়াছড়ি জেলা সদরে একই ঘটনার জের ধরে সংঘটিত ঘটনায় একজন মারা যান। সর্বশেষ গত রোববার রামগড় উপজেলার গুইমারায় তিনজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৭৫০ জন। দেড় হাজারের বেশি বাড়িঘরে আগুন লাগানো হয়েছে।


লক্ষনীয়, বরাবরই এসব সহিংসতায় সেনা বাহিনী হয় নেতৃত্বর ভূমিকায়, না হয় সেটেলারদের পক্ষে নেপথ্য মদদদাতার ভূমিকায় থাকে। এর প্রমান তারা আবারো দিয়েছে রামগড় সহিংসতায়ও –
পাহাড়ে সংঘর্ষ সেনা সদরের বক্তব্য

হলুদ চাষ নিয়ে গত রোববার খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার বড়প্লাক এলাকার ছনখোলাপাড়ায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন বাঙালি নিহত এবং অপর দু’জন মারাত্মক আহত হন। এ ছাড়া অনেক ঘর-বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটে। একটি জমিতে হলুদ চাষকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত। ওই চাষের জমি নিয়ে বাঙালি-পাহাড়ি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে মালিকানা বিষয়ক বিরোধ চলছিল। তবে ভুল বোঝাবুঝির অবসানকল্পে সিন্দুকছড়ি সেনাজোন কমান্ডার গত ১৬ এপ্রিল জমির মালিক, হলুদচাষিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা ডাকে। সভায় সব ধরনের বিরোধ এড়িয়ে চলার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সব পক্ষ। এ ছাড়া ১৭ এপ্রিল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি সেনাটিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময়ও তারা কোনো ধরনের উত্তেজনা লক্ষ্য করেনি। হঠাৎ গত ১৭ এপ্রিল পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের একটি দল ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালি হলুদচাষিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার পর অনতিবিলম্বে খাগড়াছড়ি পুলিশ প্রশাসনের টহলের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে ১৭টি টহল পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করে। গত রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, এসপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় জিওসি তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। -আইএসপিআর।


এ অবস্থায় পাহাড় থেকে যতদিন সেনা-সেটেলার প্রত্যাহার, যথাযথভাবে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন, আইন সংশোধন করে ভূমি কমিশনের মাধ্যমে জমির বিরোধ নিস্পত্তি না হবে, ততদিন পাহাড়ে একের পর এক বাঘাইছড়ি, লংগদু বা রামগড়ের মতো সহিংস ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সর্ম্পকে সরকারগুলোর সীমাহীন অবহেলার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে সেখানের পাহাড়ি-বাঙালি উভয়কেই, একদিন এই মাশুল দিতে হবে পুরো বাংলাদেশকেই।…

এই অন্তর্দশনের বাইরে ইউএন শান্তি মিশনে গৌরব কুড়ানো ‘দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনী’র জন্য সাধারণের গর্বে বুক ফুলে উঠবে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মতো বড়মাপের অনুষ্ঠানগুলোতে আদিবাসী নাচ-গান দেখে দেশি-বিদেশী দর্শকদের মনে হবে, এদেশের আদিবাসীরা তো ভালোই আছেন!
পুনর্লিখিত।।

ছবি: রামগড় সহিংসতায় সর্বস্ব হারানো একজন মারমা আদিবাসী নারী, সহিংসতায় আহত একজন পাহাড়ি কিশোরি, সংগৃহিত, ফেসবুক।

আরো দেখুন: ফেসবুক গ্রুপ ‘পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice’ [link|https://www.facebook.com/home.php?sk=group_150002018385535|[লিংক]] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29376271 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29376271 2011-05-06 13:18:25
তোরা সব জয়োধ্বনী কর! ... পেশাগত কারণে তথ্য-সাংবাদিকতার কাজে বহু বছর ধরে পাহাড়ে, বনে-বাদাড়ে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঘুরতে ঘুরতে অজান্তেই চিন্তা-ভাবনার একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়ায় ভাষাগত সংখ্যালঘু পাহাড় ও অরণ্যচারি জনপদ, আদিবাসী মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না।...

সংবাদপত্রে ছককাটা খবর লেখার বাইরে পাহাড়ের ছোট কাগজ ‘মাওরুম’ ও ‘জুম’সহ অন্যান্য আদিবাসী সাময়িকী (বেশীর ভাগই নতুন বর্ষ বরণ উৎসব — বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু উপলে প্রকাশিত; আয়ুস্কালও খুব স্বল্প) পত্রে লিখেও কিছু সাড়া পাই।

তবে বছর চারেক আগে আন্তর্জালে আদিবাসী বিষয়ক লেখালেখি শুরু করে সাড়া পাই বেশ। আদিবাসী সমস্যার কথা লিখতে লিখতে, আদিবাসী বা অ-আদিবাসী পাঠকের জবাব দিতে দিতে একের পর এক তৈরি হয় পোস্ট। সামহোরিন, সচলায়তন, আমারব্লগ, মুক্তমনায...। পাশাপাশি ফেসবুক-নোট তো আছেই।

এই করতে করতে ফেসবুকে খুঁজে পাই প্রচুর সংখ্যক আদিবাসী বন্ধু। এক-এগারোর সেনা সমর্থিত মইন-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকার কাজের কাজ বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় আড়াই দশক পর মোবাইল ফোনের নেট ওয়ার্ক চালু করে। এই সুবাদে প্রচুর সংখ্যক আদিবাসী সদস্য হন ফেসবুকে। আন্তর্জালে চলে যোগাযোগ, কথোপকথন: কখনো সিধু-কানহু, কখনো এমএন লারমা, কল্পনা চাকমা বা চলেশ রিছিল।…তাদের বেশীর ভাগই ছাত্র-ছাত্রী। কেউ বা আবার প্রবাসী। …বিভিন্ন বাংলা ব্লগেও খুঁজে পাই অল্প কয়েকজন আদিবাসী লেখক। …
তো ফেসবুকে বিভিন্ন আদিবাসী বিষয়ক গ্রুপে ঘুরতে ঘুরতে নিজেই একদিন ’পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice’ নামে একটি গ্রুপ খুলে ফেলি। গ্রুপ ঘোষণায় এরকম কিছু কথা যোগ করি: পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের আদিবাসীদের কথা লিখুন, পড়ুন, ছবি দেখুন, ছবি দিন। আদিবাসী মানুষের অধিকারের কথা বলুন। জয় হোক! — ইত্যাদি।

সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী বন্ধু সঞ্চয় চাকমা সাড়া দেন। উৎসাহ দেন তন্দ্রা চাকমা দিদি। আমরা তিনজন গ্রুপের সঞ্চালক হিসেবে একের পর এক আদিবাসী-আদিবাসী বন্ধুদের গ্রুপের সদস্য হওয়া আমন্ত্রণ জানাতে থাকি। সেটি গত ডিসেম্বরের ঘটনা; আর এর মধ্যেই গ্রুপে সদস্য সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই সেখানে পড়ছে আদিবাসীদের অসংখ্য পোস্ট ও মন্তব্য।…

চলতে থাকে ডেস্টটপ, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন টিপে আমাদের গ্রুপের লেখালেখি…মতামত প্রদান, তর্ক-বিতর্ক, এমন কি ব্যক্তিগত আক্রমনও। কিছু ফেক আইডিধারী গ্রুপে এসে ব্লগের মতোই ক্যাচাল বাধায়। গালাগালি থেকে শুরু করে ব্যক্তি কুৎসা রটনা, সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক মন্তব্য ও পোস্ট দেওয়া, পাহাড়ের একটি বিতর্কিত দলের পক্ষে দলবাজী — ইত্যাদির অপচেষ্টা চালায়। বাধ্য হয়ে গ্রুপ ঘোষণার সঙ্গে যোগ করা হয় মৌলিক কিছু নিয়ম নীতি। আমরা বেশ কিছু পোস্ট ও মন্তব্য মুছে দেই, কয়েকজনকে ব্লক করে গ্রুপের পরিবেশ ফিরিয়ে আনি।…

একদিন ব্লগার ষষ্ঠ পাণ্ডব দা ওই গ্রুপেই এসে বলেন, কমরেড, এই চমৎকার গ্রুপের লেখা, ছবি ও অন্যান্য লেখার লিংক যদি কেউ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তাকে একটু বিপদেই পড়তে হবে, কারণ প্রয়োজনীয় তথ্যটি চট করে এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই আপনারা একটি আদিবাসী ব্লগের কথা চিন্তা করুন।…

তার প্রস্তাবটি আমাকে ভাবায়। কিন্তু আমি নিজে টোকনো-কানা, তাছাড়া পেশাগত ব্যস্ততাও আছে। তাই একটি ব্লগ খুলে ফেলে সেটিকে এগিয়ে নেওয়া আমার একার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। …তাহলে উপায়? আমি আন্তর্জালে খোঁজ চালাই। …

আমি দেখি, ফেসবুকে অন্যান্য আদিবাসী গ্রুপগুলোর যে সমস্যা, আদিবাসী বিষয়ক ব্লগগুলোতেও প্রায় একই সমস্যা– এগুলো মোটেই প্রাণবন্ত নয়। এর কারণ, এগুলোর সৃষ্টা ও সঞ্চালকরা অধিকাংশই ছাত্র। তাই পড়াশুনা, পরীক্ষা ইত্যাদির ফাঁকে ব্লগ সাইটকে হালনাগাদ করাসহ এগুলোকে জনপ্রিয় করার জন্য তাদের হাতে যথেষ্ষ্ট সময় নেই।…

এ পর্যায়ে এগিয়ে আসেন উত্তরবঙ্গের সান্তাল ছাত্র ও ব্লগার সমর মাইকেল সরেণ। ওই গ্রুপেই তিনি টোকা দিয়ে জানান, তিনি নিজেই একটি ব্লগ খুলেছেন w4study.com ঠিকানায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, এটি ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা বিষয়ক ব্লগ হবে। পরে মত পরিবর্তন করে একে বানানো হয় ‘আদিবাসী বাংলা ব্লগ’

সমর জানান, এই ব্লগ সাইটটি খোলার ক্ষেত্রে মুক্তমনা ডটকম দেখে তিনি খুবই উৎসাহিত হয়েছেন। তার আহ্বানে আমি সাড়া দেই। আমরা যৌথভাবে ব্লগটিকে এগিয়ে নিতে থাকি। তবে এখনো মূল কাজটি সমর একাই করে চলেছেন।

এ পর্যায়ে আবারো সুহদ সহ ব্লগার ষষ্ঠ পাণ্ডবকে আমাদের ফেসবুক গ্রুপ ’পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice’ ঠোকা দেই, পাণ্ডব দা, আমাদের ব্লগটি দেখুন, মতামত দিন। উনি একনজরে চোখ বুলিয়ে বলেন, ব্লগটিতে আরো অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথম পাতা থেকে হাবিজাবি পোস্ট সরিয়ে তথ্যবহুল লেখা দিয়ে সাইটটিকে সাজান। ফেসবুক গ্রুপ থেকে প্রয়োজনীয় লেখাগুলো ব্লগ সাইটে নিয়ে আর্কাইভ তৈরি করুন — ইত্যাদি। আমি তার সঙ্গে একমত হই। আমাদের যেতে হবে অনেক দূর। …

সঙ্গে সঙ্গে প্রধান ব্লগ সঞ্চালক সমরকে পাণ্ডব দা’র ভাবনাগুলো জানাই। সঙ্গে যোগ করি আমার মতামতও। ইমেইল, টেলিফোন, এসএমএস-এ আলাপচারিতা চলতেই থাকে।…

অল্পদিনের মধ্যেই ব্যপক পরিবর্তন আনা হয় ব্লগ সাইটটির সাজ-সজ্জায়। সবচেয়ে সহজ এর লগইন পদ্ধতি। একজন ব্লগার ইচ্ছে করলে নতুন করে লগইন নেইম ও পাসওয়ার্ড নিয়ে সেখানে ব্লগ লিখতে পারেন। আবার ব্লগার ইচ্ছে করলে গুগুল বা ইয়াহু বা ফেসবুকসহ অন্যান্য অ্যাকাউন্ট দিয়েও লগইন করতে পারেন। এতোদিন নীতিমালার বালাই ছিলো না; সমরের সঙ্গে আলাপক্রমে আমরা ছোট্ট একটি নীতিমালাও তৈরি করি। ব্লগটির সাউট বা আলাপ-আলোচনা বিভাগটি একেবারে লাইফ এসএমএস-এর মতো। ব্লগাররা ইচ্ছে করলে এখানে ইমোকটিনসহ ছোট ছোট বাক্যে বাতচিত সারতে পারেন। …

সমর ও ব্লগের টেকি বন্ধুরা এখন কাজ করছেন ‘আদিবাসী শব্দকোষ’ নিয়ে। এছাড়া আদিবাসী বিষয়ক সার্চ ইঞ্জিনও এরই মধ্যে উন্মুক্ত হয়েছে। ব্লগের নেপথ্য কারিগররা এখন কাজ করছেন আদিবাসী ইউকিপিডিয়া নিয়ে।

ব্লগযাত্রার অল্পদিনের মধ্যেই ‘আদিবাসী বাংলা ব্লগ’ ডয়েচে ভেলের ব্লগ প্রতিযোগিতায় মানবাধিকার বিভাগে সবচেয়ে বেশী ভোট পেয়ে অবশেষে নির্বাচিত হয়েছে ।

এ বিজয় শুধু আদিবাসী বাংলা ব্লগের নয়, এ বিজয় দেশের ৪৫টি ভাষাভাষী ২৫ লাখেরও বেশী আদিবাসী মানুষের। কামনা করি এই ব্লগ সাইটটি হয়ে উঠুক পাহাড় ও সমতলের অধিকার বন্চিত আদিবাসী মানুষের কণ্ঠস্বর, এমএন লারমা, সিধু-কানহু, কল্পনা চাকমা, চলেশ রিছিলের উত্তোরাধিকার!

সমর, পাভেলসহ ব্লগের নেপথ্য কারিগর, ব্লগার, পাঠক, ভোটদাতা সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। জয় হোক! <img src=" style="border:0;" />
---
ছবি: ‌১। ম্রো, বান্দরবান, লেখক, ২। আদিবাসী বাংলা ব্লগের স্ক্রিন শট, লেখক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29362036 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29362036 2011-04-13 14:44:15
সিরাজ সিকদার: অন্য আলোয় দেখা- শেষ পর্ব

[সিরাজ সিকদারকে নিয়ে এ পর্যন্ত কম লেখা হয়নি। বেশীরভাগ লেখাই মনে হয়েছে, কোনো দলীয় স্বার্থ পূরণের জন্য। আবার ব্যক্তি সিরাজের জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করে অনেকে তার বিপ্লবীত্বকে খাটো করেছেন। তারা আসলে তার আত্নত্যাগকেই কটাক্ষ করেছেন। প্রচলিত এই সব দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে বলে ধারাবাহিকের শিরোনামে 'অন্য আলোয় দেখা' কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। আর এটি মোটেই সিরাজ সিকদারের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা তার কর্মকাণ্ডের সামগ্রীক মূল্যায়ন নয়। বরং এটি ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে নির্মোহভাবে এই শহীদ দেশপ্রেমিক বিপ্লবীকে দেখার একটি ছোট্ট প্রয়াস।]


তৃতীয় পর্ব

কোনো কোনো মৃত্যু আছে তাই পাহাড়ের ওজনের চেয়েও ভাড়ি; কোনো কোনো মৃত্যু আছে বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হালকা...মাওসেতুং।

কোথায় আজ সিরাজ সিকদার?

সাতের দশকের নকশাল নেতা আজিজ মেহের বলছেন, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে সর্বহারা পার্টি সারাদেশে হরতালর ডাক দেয়। পার্টির মুখপত্র 'স্ফুলিঙ্গ' ও প্রচারপত্রে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী শক্তির কাছে মুজিব সরকারের আত্ন সমর্পণ দিবস। একমাত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমেই জনগণের বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করে প্রকৃত বিজয় আসতে পারে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে মুজিব সরকারের ব্যপক দমন-পীড়ন, হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে সর্বহারা পার্টি ঢাকায় হরতাল আহ্বান করলে সন্তোষ থেকে মওলানা ভাসানী বিবৃতি দিয়ে একে সমর্থণ করেন। হরতাল সফল হয়।...সশস্ত্র কার্যক্রমের মুখে মুজিব সরকার নকশাল ও সর্বহারা পার্টি নিধনে ব্যপক তৎপর হয়। সর্বহারা নেতা সিরাজ সিকদার পার্টির অন্তর্দ্বন্দ্বে ধরা পড়েন। মুজিব সরকার তাকে বন্দী অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেন। ...এটি ছিলো ১৯৭২-৭৫ এ মাওপন্থী নিধনযজ্ঞের একটি ধারাবাহিকতা মাত্র।

এদিকে বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনী মাসকেরেনহাস ১৯৮৬ সালে 'বাংলাদেশ: আ লিগেসি অব ব্লাড' নামক প্রামান্য গ্রন্থে তুলে ধরেন সিরাজ সিকদার হত্যার বিস্তারিত দিক। এর আগে মুজিব সরকারের পতনের পর ১৯৭৬ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় এ সংক্রান্ত কিছু সাক্ষাতকারভিত্তিক তথ্য প্রকাশিত হয়।

বলা ভালো, মাসকেরেনহাসই প্রথম সাংবাদিক যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়ে লন্ডনের দি সানডে টাইমস পত্রিকায় তখনকার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাক-বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরে ধরেন। তার সেই নিবন্ধ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামান্যগ্রন্থ 'দ্যা রেইপ অব বাংলাদেশ' সারা বিশ্বে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে জনমত তৈরিতে গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই সাংবাদিকের ছিলো একে ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দীন, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমানসহ শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ।

'বাংলাদেশ: আ লিগেসি অব ব্লাড' গ্রন্থে মাসকেরেনহাস মুজিব হত্যা, তিন জাতীয় নেতা হত্যা, জিয়উর রহমান হত্যাসহ যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের নানা নাটকীয় ঘটনা নিজস্ব অনুসন্ধান থেকে বর্ণনা করেন। এ জন্য তিনি শাতাধিক সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন।

মাসকেরেনহাস বলছেন: ঘটনাচক্রে মাওপন্থী সিরাজ সিকদার ১৯৭৪ সালে ডিসেম্বরের শেষ দিকে চট্টগ্রামের কাছাকাছি এক এলাকা থেকে (টেকনাফ) শেষ পর্যন্ত পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হলেন।

জাকারিয়া চৌধুরির (সিরাজ সিকদারের ছোটবোন, ভাস্কর শামীম সিকদারের স্বামী) মতে, তাকে পাহারা দিয়ে ঢাকায় আনা হলো শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করানো জন্য। শেখ মুজিব তাকে তার আয়ত্বে আনতে চাইলেন। কিন্তু সিকদার কোনো রকম আপোষ রফায় রাজী না হলে মুজিব পুলিশকে 'প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা' গ্রহণ করতে বলে দিলেন।

জাকারিয়া বললো, সিরাজ সিকদারকে হাতকড়া লাগিয়ে চোখ-বাঁধা অবস্থায় রমনা রেস কোর্সের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে নিয়ে আসা হয়। তারপর (২ জানুয়ারি ১৯৭৫) গভীর রাতে এক নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই সময় সরকারি প্রেসনোটে বলা হয় যে, 'পালানোর চেষ্টাকালে সিরাজ সিকদারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

সিকদারের বোন, জাকারিয়ার স্ত্রী শামীম জানায়, সিরাজের দেহের গুলির চিহ্ন পরিস্কার প্রমাণ করে যে, স্টেনগান দিয়ে তার বুকে ছয়টি গুলি করে তাকে মারা হয়েছিলো।

সিরাজ সিকদারকে, শেখ মুজিবের নির্দেশেই হত্যা করা হয়েছে বলে সারাদেশে রটে গেলো।

১৯ বছরের যুবতী শামীম তার ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।

সে আমাকে বলেছিলো, আমি সর্বহারা পার্টির কাছ থেকে একটা রিভলবার পেয়েছিলাম এবং এই হত্যাকারীকে হত্যা করার সুযোগের সন্ধান করছিলাম।

শামীম বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভাস্করদের একজন। গত বছরই কেবল সে তার ভাস্কর্যের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ করে। তার ধারণা, সে নিশ্চয়ই মুজিবকে গুলি করার দূরত্বে পেয়ে যাবে।

শামীম মুজিবের সঙ্গে দেখা করার জন্য বহুবার আর্জি পেশ করেছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। প্রতিবারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে সে। তারপর সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের কলা বিভাগে তার এক প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবকে আমন্ত্রণ জানালো। মুজিব আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলেন।

সে স্মৃতিচারণ করে বললো, আমি ভায়নক বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলাম। আমি শত চেষ্টা করেও তাঁকে (শেখ মুজিব) আমার গুলির আয়ত্বে আনতে পারলাম না।

ভাগ্যই মুজিবকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলো। শামীম জাকারিয়ার প্রেমে পড়ে যায়। শেষে তাদের বিয়ে হলে স্বামীর সঙ্গে শামীম বিদেশে চলে যায়।

এদিকে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন বসে। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করানোর পর তার দ্বিতীয় বিপ্লব, বাকশাল প্রসঙ্গে শেখ মুজিব অধিবেশনে বলেন , স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর যারা এর বিরোধীতা করেছে, যারা শত্রুর দালালী করেছে, কোনো দেশেই তাদের ক্ষমা করা হয় নাই। কিন্তু আমরা করেছি। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেছি, দেশকে ভালোবাসো। দেশের স্বাধীনতা মেনে নাও। দেশের কাজ করো। কিন্তু তারপরও এদের অনেকে শোধরায়নি। এরা এমনকি বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে বিদেশ থেকে টাকা নিচ্ছে। ওরা ভেবেছে, আমি ওদের কথা জানি না! একজন রাতের আঁধারে মানুষ মেরে যাচ্ছে, আর ভাবছে তাকে কেউ ধরতে পারবে না। কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? তাকে যখন ধরা গেছে, তখন তার সহযোগীরাও ধরা পড়বে।...

এরপর মুজিব, জিয়া ও এরশাদ সরকারের দমননীতির ভেতর সর্বাহারা পার্টি বহু ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর বেশীরভাগ উপদলই আদর্শহীন সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিনত হয় মাত্র-- সে ইতিহাস সবার জানা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফজতে মৃত্যু/বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড/ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার প্রশ্নে সিরাজ সিকদারই প্রথম রাজনৈতিক নেতা কি না, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম এমন রাষ্ট্রীয় খুনের শিকার হলেন--এ বিষয়টিও এসে যায়।

তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বাংদেশের সঠিক ইতিহাস রচনায় শুধু শেখ মুজিব, চার জাতীয় নেতা বা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারই শুধু যথেষ্ট নয়, শহীদ দেশ প্রেমিক বিপ্লবী সিরাজ সিকদার, কর্নেল তাহের, চলেশ রিছিলসহ সব রাজনৈতিক হত্যার বিচার হওয়া জরুরি।

অ্যান্থনী মাসকেরেনহাস তার ওই বইটির শেষ বাক্যে যেমন বলেন, দুরাভিসন্ধী আর হত্যা, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই চলে আসছে। এক হত্যা আরেক হত্যাকে তরান্বিত করেছে, দেশকে আবদ্ধ করেছে এক রক্তের ঋণে।...

আর সবার আগে চাই '৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, এর আবশ্যিকতা সব প্রশ্নের উর্দ্ধে।।

(শেষ)
--- তথ্যসূত্র: স্মৃতি শুধু স্মৃতি নয়, আজিজ মেহের, শোভা প্রকাশ, ২০০৪। বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ, অ্যান্থনী মাসকেরেনহাস, অনুবাদ- মোহাম্মাদ শাজাহান, হাক্কানী পাবলিশার্স, চতুর্থ মূদ্রণ-জুলাই ২০০৬। --- ছবি: সিরাজ সিকদার, আন্তর্জাল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29335767 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29335767 2011-02-28 18:34:59
সিরাজ সিকদার: অন্য আলোয় দেখা-তৃতীয় পর্ব

[সিরাজ সিকদারকে নিয়ে এ পর্যন্ত কম লেখা হয়নি। বেশীরভাগ লেখাই মনে হয়েছে, কোনো দলীয় স্বার্থ পূরণের জন্য। আবার ব্যক্তি সিরাজের জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করে অনেকে তার বিপ্লবীত্বকে খাটো করেছেন। তারা আসলে তার আত্নত্যাগকেই কটাক্ষ করেছেন। প্রচলিত এই সব দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে বলে ধারাবাহিকের শিরোনামে 'অন্য আলোয় দেখা' কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। আর এটি মোটেই সিরাজ সিকদারের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা তার কর্মকাণ্ডের সামগ্রীক মূল্যায়ন নয়। বরং এটি ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে নির্মোহভাবে এই শহীদ দেশপ্রেমিক বিপ্লবীকে দেখার একটি ছোট্ট প্রয়াস।]

দ্বিতীয় পর্ব



আমাদের নীতি হচ্ছে, পার্টি বন্দুককে কমান্ড করবে, বন্দুক পার্টিকে কখনোই নয়।...মাওসেতুং।

তোমার নাম! আমার নাম! ভিয়েতনাম! ভিয়েতনাম!

সাতের দশকের শুরুতে ওপারে ভারতে চারু মজুমদারের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট) বা সিপিআই (এম-এল) জলপাইগুড়ির নকশালবাড়িতে সফলভাবে সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত করে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র একে 'বসন্তের বজ্র নির্ঘোষ' হিসেবে চিহ্নিত করলে চারু মজুমদার পার্টিতে ঘোষণা করেন: নকশালবাড়ির পথ ধরেই ভারতে কৃষক বিপ্লব বিদ্রোহ হবে, মাওসেতুং-এর দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের পথই আমাদের পথ, জনযুদ্ধই মুক্তির সদন -- ইত্যাদি। কলকাতার দেয়ালে লেখা হয়: নকশালবাড়ি লাল সেলাম! চীনের চেয়ারম্যান, আমাদের চেয়ারম্যান! বন্দুকের নল থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতা বেরিয়ে আসে! ৭০এর দশককে মুক্তির দশকে পরিনত করুন! --ইত্যাদি।

হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী চার মজুমদারের উদাত্ত আহ্বানে বিপ্লবের আগুনে ঝাঁপ দেয়।

সে সময় নকশালরা সাইকেলের পাইপ কেটে ছড়ড়ার বুলেট ব্যবহার করে হাতে তৈরি সিঙ্গেল শট বন্দুক 'পাইপগান' বানায়। আর পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া থ্রি নট থ্রি রাইফেলের নল ও কুঁদো ছেটে ছোট আকৃতি দিয়ে তৈরি করা হয় সহজে বহনযোগ্য কাটা-রাইফেল। এছাড়া কাঁচের বোতলের ভেতর আলকাতরা ও পেট্রোলের মিশ্রনে তৈরি হয় মলটোভ বোমা। নকশালবাদী আন্দোলনে গ্রাম ও শহরে 'শ্রেনী শত্রু খতমের লাইনে' বিপ্লব করতে এই অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে। সঙ্গে রাম দা তো ছিলোই।

নকশালবাদী আন্দোলনের ঢেউ এপারে মাওপন্থী বাম দলগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, এ কথা আগেই বলা হয়েছে। সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি সরাসরি চারু মজুমদারের খতমের লাইন গ্রহণ না করলেও নকশালী কায়দায় জনবিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী লাইন, তথা জোতদার নিধন কর্মসূচি চালায়। এপারেও নকশালাইট ও সর্বহারাদের মধ্যে পাইপ গান ও কাটা রাইফল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

নকশালবাড়ি আন্দোলনের পটভূমিতে কবি সুবিমল মিশ্র লিখলেন: আবার পাইপ গান এতো বেশী গরম হয়ে আসে যে, ক্রমশ এর ব্যবহার কমে আসছে। ...অর্থাৎ মাওবাদী গ্রুপগুলো সাতের দশকে 'শ্রেণী শত্রু খতমের' নামে যখন পাইপগানের যথেচ্ছ ও ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে, এমন কী তা দলীয় কোন্দল মেটাতেও ব্যবহার হতে থাকে, তখন তারা আদর্শচ্যূত হয়ে পড়ে। জনযুদ্ধের অস্ত্রের বিপ্লবী ব্যবহার না হয়ে, তা ব্যবহত হতে থাকে গোষ্ঠি বিপ্লবের নামে, কখনো ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষাতেও। ...

পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) কেন্দীয় নেতা, নকশালপন্থী আজিজ মেহের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, চারু মজুমদারের মতো এপাড়েও শিক্ষিত তরুণ সমাজ সহজেই সিরাজ সিকদারের বিপ্লবের থিসিসে আকৃষ্ট হয়।

সরকার বিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধের সময় আজিজ মেহেরকে আটক করে ব্যপক নির্যাতন করে এবং তাকে সশস্ত্র কারাদন্ড দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। নতুন রাজনৈতিক বন্দী এবং কয়েকজন বাঙালি জেল পুলিশের বরাতে তিনি তখন দেশের সব খবরাখবরই পেতেন। এমন কী পার্টির নেতাদের সঙ্গেও তার গোপন চিঠিপত্রের লেন দেন চলছিলো।

আজিজ মেহের বলেন, ...ওদিকে কিন্তু ভারতে নকশাল দমনের নামে হাজার হাজার তরুনকে হত্যা করা হচ্ছে; গ্রেফতার করে বিনা বিচারে আটক করে রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের বামেরা কখনো ডানে, কখনো বামে হেলছেন। কিন্তু তারা প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, শ্রেণী শত্রু খতম করছেন, কখনো মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন। আমরা সব খবরই জেলে বসে বিশেষ চ্যানেলে পেতাম।


এই সময় কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ট্রো-চে গুয়েভারার বিপ্লবী আন্দোলন এবং ভিয়েতনামে হো চি মিনের কৃষক বিপ্লব ওপার বাংলা-ওপার বাংলায় তরুনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো। সারাদেশে শ্লোগান ওঠে: তোমার নাম, আমার নাম/ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম!

এদিকে ১৯৭২-৭৪ মাওবাদী বা পিকিংপন্থী গ্রুপগুলোর মধ্যে সশস্ত্রপন্থার রণোনীতি নিয়ে বিভেদ দেখা দেয়। শিগগিরই শুরু হয়ে যায় পরস্পরকে বহিস্কার ও মৃত্যূদণ্ড ঘোষণা। সিরাজ সিকদার সর্বহারা পার্টিকে নিস্কন্টক রাখতে 'নিপাত চক্র' নামে পার্টির ভেতরে একটি অনুগত গ্রুপ করেছিলেন। এদের মূল কাজ ছিলো, পার্টির ভেতরের প্রতিক্রিয়াশীলদের হত্যা করা।

আজিজ মেহের জেল খানার জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, ...আমাকে নিউ ২০ সেলে স্থানান্তর করা হলো। পাশের সেলে ছিলো বৃহত্তর বরিশালের কাকচিরা গ্রামের ও বরিশাল কলেজের ছাত্র কমরেড সেলিম শাহনেওয়াজ। সে ছিলো সিরাজ সিকদারের পার্টির সদস্য। ১৯৭১ এর পরে ১৯৭৩ এ পার্টির সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় সিরাজ সিকদারের নির্দেশে এই আত্নত্যাগী তরুণকে হত্যা করা হয়। যেমন হত্যা করা হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবিরকে।...

যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে শেখ মুজিবের প্রধান রাজনৈতিক শত্রুতে পরিনত হয় মাওপন্থীরা। আজিজ মেহের বলছেন, (১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর জেল থেকে বেরিয়ে ) আমি দ্রুত পার্টি লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম এবং (আত্ন-গোপনের জন্য) ঢাকায় কয়েকটি শেল্টার ঠিক করে ফেললাম। ১৯৭১ সালে আমাদের পার্টি বিশেষ এক অধিবেশনে চারু মজুমদারের নকশালী লাইন গ্রহণ করে। সে সময় তারা শ্রেণীশত্রু খতমের পাশাপাশি পাক-বাহিনীকেও মোকাবিলা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তোয়াহা ও সিরাজ সিকদারের পার্টি একই রকম কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সরকার ও মুজিব বাহিনীর প্রধান টার্গেট ছিলো এই সব গ্রুপ। সারাদেশে 'ধরো আর মারো' শুরু হয়ে গেলো। শেখ মুজিব এক জনসভায় ঘোষণা করলেন: নকশাল দেখা মাত্র গুলি করা হবে। মওলানা ভাসানী প্রতিবাদ করে বিবৃতি দিলেন: নকশাল কারো গায়ে লেখা থাকে না। বিনা বিচারে কাউকে হত্যার অধিকার সরকারের নেই।...

এদিকে ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে সর্বহারা পার্টি সারাদেশে হরতালর ডাক দেয়। পার্টির মুখপত্র 'স্ফুলিঙ্গ' ও প্রচারপত্রে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী শক্তির কাছে মুজিব সরকারের আত্ন সমর্পণ দিবস। একমাত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমেই জনগণের বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করে প্রকৃত বিজয় আসতে পারে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে মুজিব সরকারের ব্যপক দমন-পীড়ন, হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে সর্বহারা পার্টি ঢাকায় হরতাল আহ্বান করলে সন্তোষ থেকে মওলানা ভাসানী বিবৃতি দিয়ে একে সমর্থণ করেন। হরতাল সফল হয়।...

---
তথ্যসূত্র: ১। স্মৃতি শুধু স্মৃতি নয়, আজিজ মেহের, শোভা প্রকাশ, ২০০৪। ২। বাংলাদেশে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও মুনতাসির মামুন সম্পাদিত। --- ছবি: সিরাজ সিকদার, আন্তর্জাল। (চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29335315 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29335315 2011-02-27 20:15:42
সিরাজ সিকদার: অন্য আলোয় দেখা-দ্বিতীয় পর্ব

[সিরাজ সিকদারকে নিয়ে এ পর্যন্ত কম লেখা হয়নি। বেশীরভাগ লেখাই মনে হয়েছে, কোনো দলীয় স্বার্থ পূরণের জন্য। আবার ব্যক্তি সিরাজের জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করে অনেকে তার বিপ্লবীত্বকে খাটো করেছেন। তারা আসলে তার আত্নত্যাগকেই কটাক্ষ করেছেন। প্রচলিত এই সব দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে বলে ধারাবাহিকের শিরোনামে 'অন্য আলোয় দেখা' কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। আর এটি মোটেই সিরাজ সিকদারের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা তার কর্মকাণ্ডের সামগ্রীক মূল্যায়ন নয়। বরং এটি ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে নির্মোহভাবে এই শহীদ দেশপ্রেমিক বিপ্লবীকে দেখার একটি ছোট্ট প্রয়াস।]

প্রথম পর্ব



আবার পাইপ গান এতো বেশী গরম হয়ে আসে যে/ ক্রমশ এর ব্যবহার কমে আসছে...সুবিমল মিশ্র।


নকশালী মূল্যায়ন: আই অ্যাম দা পার্টি!

১৯৬৬ সালের চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একটি বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে দুই বাংলায়। 'গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও' মাওসেতুং এর এই দীর্ঘস্থায়ী গেরিলা যুদ্ধ, তথা সশস্ত্র কৃষক বিপ্লবের রনোনীতি গ্রহণ করে যুদ্ধপূর্ব সময়ের বামপন্থী দলগুলোর একাংশ। সাধারণভাবে এসব বামদলগুলো পিকিংপন্থী (পরে নকশাল) হিসেবে চিহ্নিত হয়। এরই একটি পূর্ব বাংলার কমিউন্স্টি পার্টি; এই পার্টির নেতৃত্বে ছিলো আবার দুটি ভাগ। একটি অংশ টিপু বিশ্বাস ও দেবেন সিকদার মুক্তিযুদ্ধকে 'জাতীয় মুক্তি আন্দোলন' হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা ১৯৭১ সালে রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে তোলেন পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ। তবে স্পষ্টতই এর বেশীরভাগ প্রতিরোধ যুদ্ধই পরিচালিত হয় মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে।

এর আগে অগ্নিগর্ভ যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশে ১৯৬৯-৭০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর ন্যাপের নেতৃত্বে লাল টুপির সম্মেলন এবং সন্তোষ কৃষক সম্মেলনেও পিকিংপন্থী নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তো পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (দেবেন সিকদার) কেন্দ্রীয় নেতা আজিজ মেহের ১৯৬৯ সালে সার্বক্ষনিক কর্মী হিসেবে পার্টির ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল আঞ্চল তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। এরই মধ্যে ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের নয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে সারাদেশে সামরিক আইন জারী করেছেন।

প্রকাশ্য রাজনীতি ছেড়ে আত্নগোপনে থেকেই পার্টির নেতারা চেষ্টা করলেন মাওবাদী ছোট ছোট গ্রুপগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার। মূল দায়িত্ব দেয়া হলো আজিজ মেহেরকে। বরিশালে একজন অ্যাডভোকেটের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের সঙ্গে আজিজ মেহেরের প্রথম দফা বৈঠক অসফল হয়। পরে মাওপন্থী ছাত্রদের একটি গ্রুপ তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্নতা প্রকাশ করে পার্টিতে যোগ দেয়। এর পর ঐক্যের ডাক নিয়ে আজিজ মেহের সাক্ষাৎ করেন সর্বহারা পার্টির প্রধান সিরাজ সিকদারের সঙ্গে।

বাকী কথা আজিজ মেহেরের ভাষ্যে:

...একটি গ্রুপ কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে তখন বিকশিত হচ্ছে ঢাকায় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। যদিও তার সম্পর্কে বামপন্থী-বুদ্ধিজীবী মহলে নানা বিভ্রান্তি। কেউ মনে করতেন, এরা অ্যাডভেঞ্চারিস্ট, সন্ত্রাসবাদী; কেউ মনে করতেন, সিরাজ সিকদার হচ্ছেন সিআইএ'র এজেন্ট। তবে আমাদের পার্টি এ বিষয়টি এমন একপেশে, যান্ত্রিকভাবে দেখতো না।

আমি মনে করি, কমরেড সিরাজ সিকদারের একটি বিপ্লবী আকাঙ্খা ছিলো। কথাবার্তা, চলাফেরা-- সবকিছুর মধ্যে ছিলো একটা আকর্ষণীয় ব্যপার। তরুণ ছাত্রকর্মী, যারা বিপ্লবের জন্য ছিলো ব্যাকুল, তারা সহজেই আকৃষ্ট হয়েছিলো। তারা কয়েকটা গেরিলা গ্রুপ করে, কয়েকটি সরকারি অফিসে বোমাবাজী করে, দেয়াল লিখনে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলো। বিশেষ করে সিরাজ সিকদারের থিসিস আকৃষ্ট করেছিলো ছাত্র-তরুণদের।

কিন্তু আমরা মনে করতাম, এদের কর্মকাণ্ডে যতটা রোমান্টিক বিপ্লবী উপদান আছে, ততটা মার্কসীয় উপাদান নেই।

তবু অনেক চেস্টার পর ১৯৬৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় কমরেড সিরাজ সিকদারের সঙ্গে আমার দেখা হলো। উনি আমাদের পার্টির দলিলই পড়েননি! তার ব্যাগে দলিল ভড়ে দিলাম। সব শুনে উনি বললেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কোনো ইচ্ছা 'তার বা তার পার্টির' নেই। কথা শুনে মনে হলো: উনিই পার্টি!

কথাবার্তার সময় সিরাজ সিকদার বার বার তার কোটের পকেট থেকে মাওসেতুং এর লাল বই (কোটেশন ফ্রম মাওসেতুং, রেড বুক হিসেবে সারা বিশ্বে বহুল প্রচারিত) বের করে দু-এক পাতা দেখে নিচ্ছিলেন। ওনার শোল্ডার হোল্ডারে একটা রিভলবার দেখতে পেলাম। সব কিছুই যেনো একটা 'শো' বলে মনে হচ্ছিলো।

মনে হলো, উনি একজন উচ্চাকাঙ্খী বামপন্থী নেতা। রোমান্টিক কর্মকাণ্ডের জন্য তার গ্রুপের কিছুটা বিকাশ হয়তো হবে; তার কোনো ভবিষ্যত নেই। আমাদের পার্টির ঐক্য হলো না।...
---
তথ্যসূত্র: ১। স্মৃতি শুধু স্মৃতি নয়, আজিজ মেহের, শোভা প্রকাশ, একুশে বইমেলা, ২০০৪। ২। বাংলাদেশে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও মুনতাসির মামুন সম্পাদিত। --- ছবি: সিরাজ সিকদার, আন্তর্জাল। --- (চলবে) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29334637 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29334637 2011-02-26 17:44:09
সিরাজ সিকদার: অন্য আলোয় দেখা- প্রথম পর্ব

[সিরাজ সিকদারকে নিয়ে এ পর্যন্ত কম লেখা হয়নি। বেশীরভাগ লেখাই মনে হয়েছে, কোনো দলীয় স্বার্থ পূরণের জন্য। আবার ব্যক্তি সিরাজের জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করে অনেকে তার বিপ্লবীত্বকে খাটো করেছেন। তারা আসলে তার আত্নত্যাগকেই কটাক্ষ করেছেন। প্রচলিত এই সব দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে বলে ধারাবাহিকের শিরোনামে 'অন্য আলোয় দেখা' কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। আর এটি মোটেই সিরাজ সিকদারের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা তার কর্মকাণ্ডের সামগ্রীক মূল্যায়ন নয়। বরং এটি ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে নির্মোহভাবে এই শহীদ দেশপ্রেমিক বিপ্লবীকে দেখার একটি ছোট্ট প্রয়াস।]


আর কয়েকটা শত্রু খতম হলেই তো গ্রামগুলো আমাদের/ জনগণ যেনো জল, গেরিলারা মাছের মতো সাঁতরায়...সিরাজ সিকদার। অস্ত্র কোনো নির্ধারক শক্তিনয়, নির্ধারক শক্তি হচ্ছে মানুষ। সংগঠিত জনগণ অ্যাটম বোমার চেয়েও শক্তিশালী।...মাওসেতুং।

সর্বহারা পার্টি গঠন, ১৯৭১

গেরিলা যুদ্ধের মহানায়ক মাওসেতুং-এর নেতৃত্বে চীনের বিপ্লব ও চীনের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছয়ের দশকের শেষভাগে সারা বিশ্বের মতো ছড়িয়ে পড়েছিলো যুদ্ধোপূর্ব বাংলাদেশেও। পাকিস্তানী শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট, অগ্নিগর্ভ পূর্ব বাংলাকে বেশ কয়েকটি বামপন্থী গ্রুপ সশস্ত্র পন্থায় মুক্ত করতে চেয়েছিলো। মাওসেতুং-এর গেরিলা যুদ্ধ অনুসরণ করে সে সময় যে সব গ্রুপ এদেশে সশস্ত্র কৃষক বিপ্লব করতে চেয়েছিলো, সাধারণভাবে তারা পরিচিতি লাভ করে পিকিংপন্থী (পরে নকশাল) হিসেবে। আর ছিলো আওয়ামী লীগ-ঘেঁষা, ভোটপন্থায় ক্ষমতা দখলে বিশ্বাসী মনি সিং-এর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি, যারা চিহ্নিত হয় মস্স্কোপন্থী হিসেবে।

ছয়-দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

অন্যদিকে পিকিংপন্থী পূর্ব বাংলার কমিউন্স্টি পার্টির নেতৃত্বে ছিলো দুটি ভাগ। একটি অংশ টিপু বিশ্বাস ও দেবেন সিকদার মুক্তিযুদ্ধকে 'জাতীয় মুক্তি আন্দোলন' হিসেবে চিহ্নিত করেন। অন্যদিকে মতিন-আলাউদ্দীনের দল 'দুই শ্রেণী শত্রু' মুক্তিবাহিনী ও পাক-বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করার পক্ষপাতি ছিলো। এ পার্টির নেতারা রাজশাহীর আত্রাই অঞ্চলে ছিলো বেশ তৎপর।

এর আগে তরুন বিপ্লবী সিরাজ সিকদার প্রথমে মাওসেতুং গবেষণা কেন্দ্র নামে একটি পাঠচক্রের মাধ্যমে শিক্ষিত ও বিপ্লব আকাঙ্খী যুবকদের সংগঠিত করেন। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি গঠন করেন পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন। প্রতিষ্ঠার পরেই এ গ্রুপটির মূল থিসিস ছিলো: পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি উপনিবেশ এবং 'জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের' মাধ্যমে এ উপনিবেশের অবসান ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্যে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ এই বিপ্লবী পরিষদ শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখে, যা লিফলেট আকারে সারাদেশে প্রচার করা হয়। এতে স্পষ্ট লেখা হয়, আপনার ও আপনার পার্টির ছয়-দফা সংগ্রামের ইতিহাস প্রমান করেছে যে, চয়-দফা অর্থনৈতিক দাবিসমূহ বাস্তবায়ন সম্ভব সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে, পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন, মুক্তি ও স্বাধীন করে।...

এতে সিরাজ সিকদার গ্রুপ যে সব প্রস্তাব দেয়, তার ৪ নম্বর দফাটি ছিলো: ...পূর্ব বাংলার দেশ প্রেমিক রাজনৈতিক পার্টি ও ব্যক্তিদের প্রতিনিধি সমন্বয়ে 'জাতীয় মুক্তিপরিষদ' বা 'জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট' গঠন করুন।

কিন্তু আওয়ামী নেতারা সিরাজ সিকদারের এই আহ্বান উপেক্ষা করেন, যা পরে গড়ায় দুই পার্টির এক রক্তাক্ত ইতিহাসে।



১৯৭০ সালে সিরাজ সিকদারের বিপ্লবী পরিষদ বিভিন্ন জেলায় পাকিস্তানী প্রশাসন ও শ্রেনী শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা অপারেশন চালায়। ওই বছরের ৮ জানুয়ারি তারা ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও ময়মনসিংহে ওড়ায় স্বাধীন পূর্ব বাংলার পতাকা।

পাকিস্তানী বাহিনীর আকস্মিক হামলার পর সিরাজ সিকদার বরিশালের পেয়ারা বাগানে গড়ে তোলেন প্রতিরোধ যুদ্ধ। ৩০ এপ্রিল জন্ম নেয় জাতীয় মুক্তিবাহিনী। রণকৌশল নির্ধারণ ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সিরাজ সিকদারের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠা হয় 'সর্বোচ্চ সামরিক পরিচালনা কমিটি'। ৩ জুন পার্টির নতুন নাম দেয়া হয়: পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি।

বরিশাল থেকে শুরু করে দেশের কয়েকটি উপকূলীয় অঞ্চল--বিক্রমপুর, মানিকগঞ্জ, পাবনা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় সর্বহারা পর্টির গেরিলারা পাক-বাহিনীর সঙ্গে বীরত্বপূর্ণ লড়াই করে।


সে সময় সর্বহারা পার্টি শত্রুমুক্ত এলাকায় (মুক্তাঞ্চল) বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য বেশ কিছু পর্ষদ গঠন করে।

কিন্তু এই সময় সিরাজ সিকদার ত্রি-মুখী লড়াইয়ের রণ কৌশল ঘোষণা করেন, যাতে সর্বহারা পার্টি ব্যপক লোকবল হারায়।

আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে মুজিব বাহিনী ও সর্বহারা পার্টির মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।

এমনই পরিস্থিতিতে অক্টোবরে সর্বহারা পার্টি দলের গেরিলাদের নির্দেশ দেয় পাক-বাহিনী, ভারতীয় বাহিনী ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করতে। কারণ সিরাজ সিকদার পাকিস্তানকে উপনিবেশবাদী , ভারতকে অধিপত্যবাদী এবং আওয়ামী লীগকে ভারতপন্থী আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

নভেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সর্বহারা পার্টির বহু সদস্য নিহত হয়েছিলো।

(চলবে)
---
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ও মুনতাসির মামুন সম্পাদিত। --- ছবি: সিরাজ সিকদার, পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের লিফলেট, আন্তর্জাল। --- পড়ুন: মাওইজম ইন বাংলাদেশ : দ্য কেস অব পূর্ববাংলা সর্বহারা পার্টি Click This Link কোটেশন ফ্রম মাওসেতুং, রেড বুক Click This Link ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29333350 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29333350 2011-02-24 20:25:03
আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে?

স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও বাংলাদেশে ভাষাগত সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমহ তথা আদিবাসীদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের দাবি উপেক্ষিত হয়েই আসছে। ফলে দেশের ৪৫টি আদিবাসী গোষ্ঠির ২০ লাখেরও বেশী মানুষ বংশপরম্পরায় ভুলতে বসেছেন নিজেস্ব ভাষার ঐতিহ্য, লোককথা, প্রবাদ-প্রবচন, সাহিত্যকীর্তি। এমন কি আদিবাসী শিশুর নিজ মাতৃভাষায় অক্ষরজ্ঞান না থাকায় তাদের সংস্কৃতিও হচ্ছে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্থ।

প্রয়োগিক ভাষা হিসেবে বাংলা ও ইংরেজী ভাষার আগ্রাসী থাবায় ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে আদিবাসীর নিজ নিজ ভাষার গৌরব।

দীর্ঘদিন পাহাড়ে, বনে-বাদাড়ে, আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো ঘুরে জেনেছি, এ দেশে সাধারণভাবে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা হত-দরিদ্র প্রধান প্রধান আদিবাসী গোষ্ঠিগুলোর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, মনিপুরী, গারো, সাঁওতাল ও খাসিয়া) প্রত্যেকেই নিজেস্ব ভাষা ও নিজ ভাষার বর্ণলিপি অনেক সমৃদ্ধ । আবার কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠির নিজেস্ব বর্ণমালা না থাকলেও তাদের রয়েছে রোমান বর্ণমালায় ভাষা চর্চার ঐতিহ্য। কিন্তু চর্চার অভাবে এ সব বর্ণমালার সবই এখন বিলুপ্ত প্রায়।

এরফলে নতুন প্রজন্মের আদিবাসীরা নিজ ভাষায় কথা বলতে পারলেও নিজেস্ব ভাষায় তারা একেবারে প্রায় অজ্ঞ। অথচ মাত্র চার দশক আগেও পরিস্থিতি এতোটা বিপন্ন ছিলো না। তখন নিজ মাতৃভাষা লিখিত চর্চার পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে শিশুশিক্ষায় ভাষাটির বর্ণপরচিয়ও চলতো।

চাকমা রাজা ব্যরিস্টার দেবাশীষ রায় আলাপকালে বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সারাদেশের শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে আদিবাসী শিশুর ঝরে পড়ার হার অনেক বেশী। এর একটি কারণ– ভাষাগত বাধা। আদিবাসী শিশু বাসায় যে ভাষায় কথা বলছে, স্কুলে সে ভাষায় লেখাপড়া করছে না। বাংলা বুঝতে না পারার কারণে শিশুমনে পাঠ্যবই কোনো দাগ কাটছে না, স্কুলের পাঠ গ্রহণ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। …তাই আমরা অন্তত প্রাথমিক শিক্ষায় আদিবাসী শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা চাই, মাতৃভাষায় বর্ণপরিচয়, ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট-খাট অংক, নিজ জাতির ও বাংলাদেশের ইতিহাস শিক্ষার পাশাপাশি যেনো আদিবাসী শিশু বাংলাতেও অন্যান্য পাঠগ্রহণ করতে পারে। এটি শিশুর মনোস্তাত্ত্বিক বিকাশের জন্যও জরুরি।

দেবাশীষ রায় খানিকটা দুঃখ করেই বলেন, চার-পাঁচ দশক আগেও আদিবাসী ভাষা চর্চার এতোটা বেহাল দশা ছিলো না।…আমি ছোট-বেলায় দেখেছি, পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক গুরুজনই চাকমা ভাষায় নিজেদের মধ্যে চিঠিপত্র লেখালেখি করতেন। মারমা ভাষাতেও সে সময় লিখিতভাবে ব্যক্তিগত ভাববিনিময় ও লেখালেখি চলতো। কিন্তু প্রতিযোগিতার যুগে এখন ওই চর্চাটুকুর সবই হারিয়ে গেছে।…

বলা ভালো, আদিবাসীদের মধ্যে চাকমারা একটি বড় অংশ। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ চাকমা বাস করে। চাকমাদের মধ্যে শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষ নিজেদের ভাষা ও বর্ণমালা তেমন একটা ব্যবহার করেন না। এমনকি চাকমা ভাষায় যারা সাহিত্য চর্চা করেন, তারাও চাকমা বর্ণমালা ব্যবহার না করে কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক বাংলা বর্ণে লেখেন।…

পাহাড়ে চাকমা ভাষায় দুটি পত্রিকা বের হয়। একটি মাসিক, নাম আবাংপাঙ। মাঝেমধ্যে জুনিপহ্র নামে একটি সাহিত্য পত্রিকাও বের হয়। কিন্তু পত্রিকা দুটি বাংলা বর্ণমালায় ছাপা হয়। আবাংপাঙ-এর সম্পাদক শুভাশীষ চাকমা বলেন, চাকমা বর্ণমালায় পত্রিকা বের করলে পড়ার কেউ নেই।

১৯৯৭ সালে সরকারের সঙ্গে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে জনসংহতি সমিতি। আঞ্চলিক দলটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, ব্যবহারিক ক্ষেত্র যদি তৈরি করা না যায়, তাহলে সে ভাষা মানুষ শিখবে কেন? এর জন্য দরকার সরকারি উদ্যোগে আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা।…

এ অবস্থায় আদিবাসীরা বিপন্ন নিজ মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে তুলেছেন বর্ণমালা শিক্ষার স্কুল। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ সব স্কুলে আদিবাসী ভাষার সঙ্গে পরিচিতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেস্ব সংস্কৃতি ও জীবনাচারও শিক্ষা দেওয়া হয়।

আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেণ জানান, উত্তরবঙ্গে সাঁওতালরা বছর দশেক আগে কয়েকটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার উদ্যোগে নিজেরাই খুলেছেন পাঁচটি ভাষা শিক্ষার স্কুল। কোনোরকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই এসব স্কুলে তারা তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত সাঁওতাল ভাষায় পাঠদান করেন। রাজশাহীর পবা ও তানোরে শিক্ষিত সাঁওতাল যুবকরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে প্রথমে খোলেন এ রকম দুটি স্কুল। বই-পত্রের অভাবে তারা নিজেরাই লেখেন বর্নপরিচয় মূলক পাঠ্যবই। …পরে কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা– এনজিও এই কাজে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে।

পাহাড়ের ছোট কাগজ ‘মাওরুম’ এর সম্পাদক দীপায়ন খীসা জানান, ১৩ টি পাহাড়ি জাতিসত্তার নিস্বর্গভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিসহ কয়েকটি অঞ্চলেও রয়েছে এ রকম বেসরকারি উদ্যোগ। সেখানে অবশ্য বৌদ্ধ মন্দিরে (কিয়াং) বৌদ্ধ পুরহিতরাই (ভান্তে) নিজ উদ্যোগে প্রধাণত চাকমা ও মারমা বর্ণমালা শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তবে বর্ণমালার বইয়ের দুস্প্রাপ্যতা¯এ ক্ষেত্রে একটি প্রধান বাধা।

এই বাধা কাটিয়ে উঠতে কিছুদিন আগে ‘শিপচরণ সাহিত্য কেন্দ্র’ প্রকাশ করেছে চাকমা বর্ণমালার বই ‘ফুজি পর’ বা ভোরের আলো। এই বইয়ে পাহাড়ের প্রকৃতি ও পাহাড়িদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত রঙিন হাতে আঁকা ছবি এবং বর্ণমালা সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি খাগড়াছড়ির দিঘীনালার আমতলীর শান্তিপ্রিয় দেওয়ানসহ আরো কয়েকজনের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে চাকমা ভাষার বর্ণমালার পরিচিতিমূলক পোস্টারও প্রকাশিত হয়েছে। সীমিত আকারে হলেও উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্রাক’ আদিবাসীদের প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিশু শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রাকের প্রতিষ্ঠিত স্কুলে তাদের লেখা আদিবাসী বর্ণপরিচয়ের বইপত্র পড়ানো হচ্ছে।

পাহাড়িদের চৈত্র সংক্রান্তি এবং বর্ষবরণ উৎসব বৈসুক, সাংগ্রাই, বিঝু ও বিষুর আগে প্রতিবছর জুম এস্থেটিক কাউন্সিল– জাকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অনেক বছর ধরে সংকলন, সাময়ীকি, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি প্রকাশ করে আসছে। এসব প্রকাশনায় আদিবাসী বর্ণমালা ঠাঁই না পেলেও বাংলা বর্ণমালাতেই চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার সাহিত্য স্থান করে নেয়।

অন্যদিকে রাখাইন স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ– আরএসওবি’র সাবেক সভানেত্রী কচিন ঠে জানান, আটের দশকে সরকারি উদ্যোগে কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালি ও বরগুনার রাখাইন অধ্যুষিত অঞ্চলে ১৭ টি রাখাইন ভাষা শিক্ষার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা হলেও এখন মাত্র ছয়-সাতটি বিদ্যালয় কোনো রকমে টিকে আছে।

তিনি জানান, সে সব বিদ্যালয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত রাখাইন ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান ও শিক্ষকের বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করা হলেও অল্প কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি উদাসীনতায় পুরো উদ্যোগটিই প্রায় ভেস্তে যায়।…
[পুনর্লিখিত]

ছবি: ১। চাকমা বর্ণমালা, লেখক, ইউকিপিডিয়া।
২। পাহাড়ে আদিবাসী স্কুল, মেঘনা গুহ ঠাকুরতা।

আরো পড়ুন: ফেসবুক গ্রুপ ‘পাহাড়ের রূদ্ধকণ্ঠ CHT Voice’ এর নোটসমূহ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29332660 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29332660 2011-02-23 18:30:28
জহির রায়হান : অন্য আলোয় দেখা... শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের আলোচনা: জহির রায়হানের নিখোজ হওয়ার জন্য যারা সংশ্লিষ্ট তারাই ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য দায়ী -আজহার স্টাফ রিপোর্টার : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সভায় জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর যে সব বুদ্ধিজীবী শহীদ হয়েছিলেন, তারা ভারতে যাওয়া নিরাপদ মনে করেননি। ভারতের মাটিতে যুদ্ধ করাও পছন্দ করেন নি। স্বাধীনতার পর তাদের তাঁবেদারী মেনে নিতে পারতো না, মনে করেই হয়তো বৃহৎ শক্তি তাদের হত্যা করতে পারে। তিনি বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের মুখোশ উন্মোচন করার দাবী জানিয়ে বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচারের নামে ব্যক্তি বা দল বিশেষ নিয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইতিহাসকে ধামাচাপ দিয়ে রাখা যাবে না। সত্য একদিন প্রকাশ পাবেই। তিনি বলেন, জহির রায়হানের নিখোঁজ হওয়ার জন্য যারা দায়ী, তারাই ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য দায়ী। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, এই হত্যাকান্ডের পিছনে যারা জড়িত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করুন। মুখস্থ দোষারোপ করে পার পাওয়া যাবে না। দৈনিক সংগ্রাম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১০। Click This Link


জহির রায়হানের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় সেই বালক বেলায় 'স্টপ জেনোসাইড' নামক অসামান্য প্রামান্যচিত্র দেখার মধ্যে দিয়ে। আমার নকশালাইট বাবা আজিজ মেহের সঙ্গে তার বন্ধু ও প্রয়াত চলচ্চিত্রকার আলমগীর হোসেনের শ্যামলীর বাসায় ছোট্ট প্রজেক্টরে ছবিটি প্রথম দেখি। তখন আমি স্কুলের একেবারে নীচের ক্লাসের ছাত্র।

এরপর ওই একই বাসায় দেখি 'ধীরে বহে মেঘনা'সহ মুক্তিযুদ্ধের ওপর আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর সব কয়েকটির নির্মাতা আলগীর হোসেন ও খান আতাউর রহমান (সংক্ষেপে, খান আতা)।

তো সেই সময় বাবার কাছে শুনেছি, পাকিস্তান আমলে আমার বাবা, তার রাজনৈতিক বন্ধু জহির রায়হান ও বিখ্যাত আলোকচিত্রী এমএ বেগ --এই তিনজন একই সঙ্গে পুনা ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে স্টিল ফটোগ্রাফীর ওপর ট্রেনিং কোর্স করেছিলেন। আর বাবা জেল খেটেছিলেন তার আরেক বন্ধু শহিদুল্লাহ কায়সারের সঙ্গে।

বাবার অনেক দিনের স্মৃতি বিজড়িত একটি বক্স ক্যামেরা আমার শৈশব স্মৃতিতে এখনো উজ্জল। আর তার তোলা সাদা-কালো ল্যান্ড স্কেপ, কক্সবাজারের সমূদ্র সৈকত, জেলে পড়া, রাখাইন নারী-ইত্যাদি ছবির কথাও মনে আছে। অনেক অযত্নে সেইসব ছবির বেশ কিছু পরে নোনা ধরে নষ্ট হয়ে যায়। এখনো প্রায়-অন্ধ বাবা সেই ছবির অ্যালবামটি তার লকারে যত্ন করে রেখেছেন। তার সেই বক্স ক্যামেরা, টিসট গোল্ড কোটেড হাত ঘড়ি --এখনো বুঝি সেই লকার বন্দী।...

*

প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরুনোর পর আমি পড়ি জহির রায়হানের উপন্যাস 'হাজার বছর ধরে'। তখনই টের পাই এই মহান শিল্পীর ধারালো মেধা। আর এরও পরে একর পর এক পড়তে থাকি তার অন্যান্য লেখা 'বরফ গলা নদী', 'আরেক ফাল্গুন'...সে সময় তার দু-একটি গল্প বিটিভিতে নাট্যরূপ আকারে দেখানো হয়েছিলো। আমাদের হাই স্কুলের পাঠ্যবইয়ে জহির রায়হানের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা একটি গল্পও সংযোজিত হয়েছিলো।

সে সময় যখন তার লেখা গল্প, উপন্যাস, এমন কী চিত্রনাট্য খুব মন দিয়ে পড়ছি, তখন বাবা বলেছিলেন, জহিরের আসল পরিচয় সে চলচ্চিত্রকার। এ কারণে তার সব সাহিত্যই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের মতো কাট-ছাঁট বুননে লেখা। হয়তো তার ইচ্ছে ছিলো, এ সব লেখাকে পড়ে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার। ...জহির রায়হান পড়তে পড়তে বুঝতে পারি, এ সবই সত্যি।

আরো পরে হাই স্কুলে জহির রায়হানের ছোট ছেলে অনল রায়হান আমার ক্লাস মেট হয়। সে অবশ্য অন্য সেকশনে পড়তো। আমাদের ডি-সেকশনের ছেলেদের মধ্যে এক ধরণের অংহ কাজ করতো বলে তার সঙ্গে মোটেও সখ্যতা গড়ে ওঠেনি।

স্কুল ম্যাগাজিনে একুশে ফেব্রুয়ারির ওপর আমার একটি ছোট লেখা ছাপা হয় একবার। আর ওই ম্যাগাজিনেই অনল রায়হান ছাপেন তার একটি রহস্য গল্প।

ততদিনে আমি শার্লক হোমস, জেমস বন্ড, জেমস হেডলি চেজ, আর দস্যু বনহুর, দস্যু বারহাম, কিরিটি রায়, ব্যোমকেশ, মাসুদ রানা, ফেলুদা তো বটেই--পড়ে পড়ে অকাল পক্ক। তাই অনলের লেখা আমাকে টানেনি মোটেও।

আমি যখন কলেজে পড়ি তখন একদিন জহির রায়হানের বড় ছেলে বিপুল রায়হান বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেন আমাদের আজিমপুরের বাসায়। সে একটি ১৬ মি.মি স্বল্প দৈর্ঘ ছবি বানাতে চায়। এ নিয়েই তারা দুজন বন্ধুর মতো গভীর আলোচনায় মাতেন।

সত্যি কথা বলতে, সে সময় ওই ছবিটিও দেখে আমার মনে হয়, নাহ্, এ-ও তার বাবার নাম রাখতে পারে নি!

*

'হাজার বছর ধরে' প্রসঙ্গে আবারো বলছি, কলেজে পড়ার সময় দৈনিক সংবাদে মোনাজাত উদ্দীনের একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেখে চমকে উঠি। ওই উপন্যাসেরই যেনো সার্থক রূপায়ন ছিলো সে প্রতিবেদনে। রংপুরের এক অভাগা চাষী হালের বলদের অভাবে নিজের দুই স্ত্রীর কাঁধে জোয়াল তুলে দিয়েছেন--এমনই নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয় এতে।

আমি নিজে যখন এরশাদ বিরোধী ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে রাত জেগে জেগে পোস্টার লিখতে থাকি, তখনও আমার মনে পড়ে জহির রায়হান। মনে পড়ে তার সেই পাক-শাসন বিরোধী গল্প। ...

ওই গল্পটিতে বলা হয়, এক সদ্য চাকরিচ্যূত কেরানী বাসায় ফিরছেন। বাসায় ঢোকার মুখেই তিনি দেখলেন তার বাসার দরজায় কোন বেক্কেল যেনো সেঁটে রেখেছে হাতে লেখা এক পোস্টার। তিরিক্ষি মেজাজে পোস্টারটি ছিঁড়ে ফেলতে গিয়ে তার হাত আটকে যায়। তিনি দেখেন, এতে লেখা: ছাঁটাই করা চলবে না!

*

আরো পরে সাংবাদিকতায় এসে জহির রায়হানকে আমি প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। সেই সময় ভোরের কাগজে আমার সহকর্মী জুলফিকার আলি মানিক (এখন ডেইলি স্টারে) করেন একটি অসাধরণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জহির রায়হান আদৌ নিখোঁজ হননি। মুক্তিযুদ্ধের শেষ রনাঙ্গণ মিরপুরে বীরের মতো যুদ্ধ করতে শহীদ হয়েছিলেন তিনি।

কী আশ্চর্য! মানিকের ওই প্রতিবেদনটি সে সময় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অনুসন্ধানী বিভাগে পুরস্কৃত হয়নি। আর এখনও সামাজিকভাবে, কী রাষ্ট্রীয় ভাবেও জহির রায়হান অন্তর্ধানই রয়ে গেলেন!...

কিছুদিন আগে এক ব্লগে জহির রায়হান নিয়ে তিন বাহু গং বিতর্ক তোলে। সেই পুরনো কাসুন্দি: জহির রায়হান না কী বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে চাপ দেওয়ায় মুজিব সরকারই তাকে গুম করেছিলো। জানি না, এর স্বপক্ষে যুক্তি-প্রমান তত্ব-তালাশ কতটুকু।

এই সব দেখে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাবেক সহকর্মী, সহব্লগার অমি রহমান পিয়াল ক্ষিপ্ত হন। তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসি আমি। ছোট্ট সহকর্মী রনিকে কাজে লাগাই আমরা। মানিককে ফোন করে তার প্রতিবেদন প্রকাশের দিনক্ষণ জেনে নেই। রনি প্রেস ইন্সটিটিউট লাইব্রেরি ঘেঁটে ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ফটোকপি জোগাড় করে আনেন। পিয়াল ভাই রাতের পর রাত জেগে আরো কিছু তথ্যসহ তৈরি করেন ওই ব্লগটির কাউন্টার ব্লগ। সমৃদ্ধ হয় অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ...

কিছুদিন আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাতায় যখন আবারো পড়ি জহির রায়হান সংবাদ, তাকে নিয়ে সহোদরার চলচ্চিত্র বানানোর উদ্যোগ...খবরটি প্রথমেই টেলিফোনে আমি জানাই বাবাকে। আর নিউজের ব্যস্ততার পরে এই রাতে লিখে ফেলি ব্লগরব্লগর এই লেখাটি। তবু কী জহির রায়হান পিছু ছাড়েন?...

*

ওদের জানিয়ে দাও/ ওরা আমার মা-বাবাকে হত্যা করেছে/ কুকুর বেড়ালের মতো/ ওদের স্টিম রোলারের নীচে/ ওরা দেখেও যদি না দেখে/ বুঝেও যদি না বোঝে/ গরম লোহার শলকা দুচোখ দিয়ে/ ওদের জানিয়ে দাও/ মরা লাশগুলোতে কেমন জীবন এসেছে।...জহির রায়হান।।
---

দেখুন: ১. গ্রুপব্লগ, জন্মযুদ্ধ Click This Link

২. গ্লিডসডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম Click This Link
---
পুনর্লিখিত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29290760 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29290760 2010-12-16 14:07:30
বাংলা ব্লগের অপশব্দসমূহ…(১৮+) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" />
বলা ভালো, এটি মোটেই কোনো গূঢ় গবেষণাকর্ম নয়। নিছকই ব্লগরব্লগর মাত্র। তবে রীতিমত প্রাপ্তমনস্কদের জন্য লেখা।

আশাকরি সহব্লগারদের সহায়তায় লেখাটি আরো সমৃদ্ধ হবে। সকলের সহযোগিতা কাম্য। হ্যাপি ব্লগিং।। <img src=" style="border:0;" />


---

১। ছাগু = ছাগলের সংক্ষিপ্ত রূপ। একটি বিশেষ গোষ্ঠিকে (যেমন তিন বাহু গং) বোঝায়। মগবাজারকে মক্কা শরীফ মনে করে তারা আমোদিত হয়।

২। হিতা = হিযবুত তাহরীর। মডারেট জঙ্গি ইসলাম; অধুনা নিষিদ্ধ। তবে নানান ছদ্মবেশে ব্লগে তাদের আনাগোনা আছে।

৩। গদাম! = পশ্চাদে পদাঘাত। সাধারণত ছাগু তাড়াতে প্রযোজ্য।

৪। লাদি = ছাগুর পোস্ট বা মন্তব্য।

৫। ম্যাৎকার = ছাগুদের একক বা সম্মিলিত রব।

৬। কাঁঠাল পাতা = ছাগুকে আপ্যায়নের (?) ভাষা বিশেষ। ইদানিং আমারব্লগ ডটকম-এ দাবি উঠেছে, কাঁঠাল পাতার ইমোকটিন যোগ করার।

৭। ধনে পাতা = ধন্যবাদ। মতান্তরে, ধইন্যা।

৮। হা হা প গে = হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম। মতান্তরে, হা হা ম গে = হাসতে হাসতে মরে গেলাম।

৯। রেসিডেন্ট ভাঁড় = রাজ-রাজরার আমলের ভাঁড়দের মতো ব্লগের স্থায়ী বিনোদন হিসেবে পরিচিত বিশেষ প্রজাতির ব্লগার । যেমন, ছরব।।

১০। মাইনাস = বাজে লেখা বা মন্তব্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন, ডা. আইজু বলেন, বা-ছা পোস্টে ডাবল মাইনাস! লেখায় এক তাঁরকা চিহ্ন দিলেও মাইনাসই বোঝায়।

১১। তাঁরাইলাম = উত্তম লেখা বা প্রসংশাসূচক মন্তব্য। পাঁচ তাঁরা বা প্লাস চিহ্ন দিয়ে লেখাটিকে সর্বোচ্চ রেটিং করা হয়।

১২। হ = ঠিক তাই।

১৩। ঞঁ! = বলে কি রে! মতান্তরে, কস্কী মমিন?

১৪। উঁ = যখন আর কিছুই বলা যাচ্ছে না। সহব্লগার আরিফ জেবতিক এর প্রবক্তা।

১৫। ছিক! = ছিঃ কথাটির ভিন্নরূপ। দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

১৬। অশ্লিষ = অশ্লিল লেখা বা মন্তব্য। দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

১৭। কাফি = ব্লগারের অন্তিম পরিনতির উদাহরণ বিশেষ।

১৮। বিপ্লব = লেখায় পাঁচ তাঁরা। মতান্তরে, আপনাকে বিপ্লব।

১৯। চুলকাইতে মুঞ্চায়? = অন্যকে উত্যাক্ত করতে ইচ্ছে করছে কী না, তা বোঝাতে।

২০। আছছালামু আলাইকুম = কহিনুল্লাহ। মতান্তরে, বঙ্গদেশ, সকলে ছহি ছালামতে থাকবেন - ইত্যাদি।

২১। পপকর্ন নিয়ে গ্যালারিতে বসলাম = ব্লগ বিতর্ক উপভোগ করছি, মতান্তরে, মজা দেখছি।

২২। জাঁঝা = উত্তম, লেখা বা মন্তব্য ভালো হয়েছে বোঝাতে।

২৩। সুশীল = অতিশয় আঁতেল অর্থে। যেমন, এই ধেনু যাহ, নইলে ফুল ছুঁড়ে মারবো কিন্তু। অখবা, সুশীল ব্লগ = সাহেব বাবুর বৈঠকখানা বিশেষ।

২৪। লুল বা লুল পুরুষ = বালিকা, নাবালিকা দেখলেই লালা ঝড়ে, এমন ব্লগার। উদাহরণ, এক মহারথী ব্লগার তার প্রোফাইলে ঘোষণা দেন, সুন্দরী বালিকা পেলে যত্ন করে কামড়ে দেই! ইদানিং ব্লগে 'লুল পুরুষ' ইমোকটিন যোগ করার দাবি উঠেছে।

২৫। সিটিএন = ইয়ের টাইম নাই, কোনো ব্লগারের সঙ্গে বাদানুবাদে না জড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশে তীব্র ঘৃণায় এটি বলা হচ্ছে।

২৬। পিটিএন = পোছার টাইম নাই, কোনো ব্লগারের সঙ্গে বাদানুবাদে না জড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশে তীব্র ঘৃণায় এটি বলা হচ্ছে।

২৭। ডিজিএম =দূরে গিয়া মর।

২৮। মফিজ = এলেবেলে ধরণের সাধারণ জন।

২৯। ভাঁজ খুইল্যা গেছে = আসল রূপ ধরা পড়েছে।

৩০। বাঁচাও কালা কুদ্দুস = ছেঁড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি -- এমন অর্থে। সাধারণতা উল্টো-পাল্টা মন্তব্য দেখলে এটি ব্যবহার করা হয়। সহব্লগার কারিমাট এর প্রবক্তা।

৩১। বুথে আয় বায়তুল = আবেগ সামাল দিন। লেখা বা মন্তব্যে মাত্রাতিরিক্ত আবেগের রাশ টেনে ধরতে বলা হচ্ছে।

৩২। চ্রম = চরম শব্দটির অপভ্রংশ। যেমন, চ্রম হৈছে -- বলতে লেখা বা মন্তব্যটি অসাধারণ হয়েছে বোঝায়।

৩৩। জটিল = খুব ভালো, মতান্তরে জট্টিল বা জটিলস্ = খুব ভালো লেখা বা মন্তব্য, এমন বোঝাতে।

৩৪। খ্যাক খ্যাক = হাসি, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

৩৫। খিকজ = হাসি, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

৩৬। অহম = গলা খাক্কারী, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

৩৭। বিয়াফক = ব্যাপক, বেশ হয়েছে -- এমন বোঝাতে।

৩৮। মুঞ্চায় = মন চায়, মন চাইছে -- অর্থে। মতান্তরে, মন্চায়।

৩৯। কোবতে = কবিতা, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

৪০। ভাদা = ভারতের দালাল।

৪১। পৈতা টেষ্ট = ভারতের দালাল সনাক্তের ব্লগীয় পরীক্ষা।

৪২। পাদা = পাকিস্তানী দালাল।

৪৩। কিপিটাপ = কিপ ইট আপ, চলুক -- এমন বোঝাতে।

৪৪। কস্কী মমিন? = বলে কি রে!

৪৫। আলু পোড়া = মজা দেখতে আসা, যেমন, এই পোস্টে কী আলু পোড়া খাইতে আইছেন?

৪৬। ব্লগাইতাছি = ব্লগিং করছি।

৪৭। কট = ধরা খাওয়া।

৪৮। জোশিলা হৈছে = খুব ভাল হয়েছে, এমন বোঝাতে।

৪৯। মডু = মডারেটর।

৫০। সঞ্জু = সঞ্চালক।

৫১। আমু = আমারব্লগ ডটকম।

৫২। সামু = সামহোয়ার ইনব্লগ ডটনেট।

৫৩। সচু = সচলায়তন ডটকম।

৫৪। টেকি = টেকনোলজি।

৫৫। টেকি কানা = প্রযুক্তি বিষয়ক অজ্ঞ।

৫৬। ফেকি = ফেক নিক বা ভূয়া নামের ব্লগার।

৫৭। গিলমান = নির্লজ্জ জামাতি সমর্থক।

৫৮। খুব খিয়াল কৈরা = ভাল করে পড়ুন বা লক্ষ্য করুন -- এমন বোঝাতে।

৫৯। সেরাম হৈছে = সেই রকম হয়েছে, খুব ভালো হয়েছে -- এমন অর্থে।

৬০। খুদাপেজ = খোদা হাফেজ, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।


---
(চলবে?) <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29275960 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29275960 2010-11-22 18:48:29
কার্টুনিস্ট আরিফ আর একা নন...
তার এই অসহায়ত্বর খবরে মুক্তমনা ডটকম, আমারব্লগ ডটকম, সামহোয়ার ইনব্লগ ডটনেটসহ বিভিন্ন বাংলা ব্লগ এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের কার্টুনিস্ট রাইট নেটওয়ার্ক কার্টুন বিক্রি করে এর অর্থ আরিফের মা’র চিকিত্সা তহবিলে দান করার উদ্যোগ নিয়েছে।

পে প্যালের মাধ্যমে শুধুমাত্র মুক্তমনা'তেই এ পর্যন্ত ১৪৬৫.৭৬ $ USD সংগৃহীত হয়ছে (সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১০)।

বলা ভাল, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর ব্যাঙ্গাত্নক ম্যাগাজিন ‘আলপিন’ এ আরিফের আঁকা একটি কার্টুনের বিরুদ্ধে ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠি হযরত মোহাম্মাদকে (দ . ) অবমাননার অভিযোগ এনে আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের মুখে প্রথম আলো গোষ্ঠি ঐ ম্যাগাজিনটিকে বন্ধ ঘোষণা ও কার্টুনিস্ট আরিফ ও বিভাগীয় সম্পাদককে চাকরীচ্যুত করে এবং পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান
বায়তুল মোকাররমের খতিব ওবায়দুল হকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। সে সময় মৌরবাদী গোষ্ঠির মামলায় আরিফকে কারাভোগও করতে হয়।

এক ভাই ও এক বোনের সংসারে আরিফ বড়। শৈশবেই তাদের বাবা অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছেন। ফ্রি ল্যান্স কার্টুন ও ছবি আঁকাই আরিফের একমাত্র আয়।

প্রিয় পাঠক, এ অবস্থায় যারা আরিফকে সাহায্য করতে চান, তাদের নীচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মানুষ বড় অসহায় ; আসুন, আমরা মানুষ হয়ে তার পাশে এসে দাঁড়াই।

Arifur Rahman
Dutch Bangla Bank
Shazadpur Branch , Bangladesh.
Savings Account No - 157 - 101 - 8319
ই-মেল:

Kishore
Affiliate leader Cartoonists Rights Network , Bangladesh


+ 8802 - 01819186724


দ্র. ঘটনার গুরুত্বানুসারে লেখাটিকে ব্লগে পুনঃপ্রকাশ করা হলো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29246129 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29246129 2010-09-27 17:47:16
কার্টুনিস্ট আরিফ একা নন...
তার এই অসহায়ত্বর খবরে মুক্তমনা ডটকম, আমারব্লগ ডটকম, সামহোয়ার ইনব্লগ ডটনেটসহ বিভিন্ন বাংলা ব্লগ এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের কার্টুনিস্ট রাইট নেটওয়ার্ক কার্টুন বিক্রি করে এর অর্থ আরিফের মা’র চিকিত্সা তহবিলে দান করার উদ্যোগ নিয়েছে।

পে প্যালের মাধ্যমে শুধুমাত্র মুক্তমনা'তেই এ পর্যন্ত ১৪৬৫.৭৬ $ USD সংগৃহীত হয়ছে (সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১০)।

বলা ভাল, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর ব্যাঙ্গাত্নক ম্যাগাজিন ‘আলপিন’ এ আরিফের আঁকা একটি কার্টুনের বিরুদ্ধে ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠি হযরত মোহাম্মাদকে (দ . ) অবমাননার অভিযোগ এনে আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের মুখে প্রথম আলো গোষ্ঠি ঐ ম্যাগাজিনটিকে বন্ধ ঘোষণা ও কার্টুনিস্ট আরিফ ও বিভাগীয় সম্পাদককে চাকরীচ্যুত করে এবং পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান
বায়তুল মোকাররমের খতিব ওবায়দুল হকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। সে সময় মৌরবাদী গোষ্ঠির মামলায় আরিফকে কারাভোগও করতে হয়।

এক ভাই ও এক বোনের সংসারে আরিফ বড়। শৈশবেই তাদের বাবা অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছেন। ফ্রি ল্যান্স কার্টুন ও ছবি আঁকাই আরিফের একমাত্র আয়।

প্রিয় পাঠক, এ অবস্থায় যারা আরিফকে সাহায্য করতে চান, তাদের নীচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মানুষ বড় অসহায় ; আসুন, আমরা মানুষ হয়ে তার পাশে এসে দাঁড়াই।

Arifur Rahman
Dutch Bangla Bank
Shazadpur Branch , Bangladesh.
Savings Account No - 157 - 101 - 8319
ই-মেল:

Kishore
Affiliate leader Cartoonists Rights Network , Bangladesh


+ 8802 - 01819186724
–]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29245833 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29245833 2010-09-27 01:11:32
বাংলা ব্লগের পরিভাষা (১৮+) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" /> বাংলা ব্লগের ভাষা ও দিকদর্শন বিষয়ক লেখাটি লেখার সময় মনে হয়েছে, ব্লগে অনেক সময়ই যে সব সাংকেতিক ভাষা আমরা ব্যবহার করি, তা নতুন ব্লগার বা সাধারণের কাছে পরিচিত নয়। এই চিন্তা থেকে বাংলা ব্লগের পরিভাষা লেখার কাজে হাত দিয়েছি।

বলা ভালো, এটি মোটেই কোনো গূঢ় গবেষণাকর্ম নয়। নিছকই ব্লগরব্লগর মাত্র। তবে রীতিমত প্রাপ্তমনস্কদের জন্য লেখা।

সকলের সহযোগিতা কাম্য। হ্যাপি ব্লগিং।

---

১। ছাগু = ছাগলের সংক্ষিপ্ত রূপ। একটি বিশেষ গোষ্ঠিকে (যেমন তিন বাহু গং) বোঝায়। মগবাজারকে মক্কা শরীফ মনে করে তারা আমোদিত হয়।

২। হিতা = হিযবুত তাহরীর। মডারেট জঙ্গি ইসলাম; অধুনা নিষিদ্ধ। তবে নানান ছদ্মবেশে ব্লগে তাদের আনাগোনা আছে।

৩। গদাম! = পশ্চাদে পদাঘাত। সাধারণত ছাগু তাড়াতে প্রযোজ্য।

৪। লাদি = ছাগুর পোস্ট বা মন্তব্য।

৫। ম্যাৎকার = ছাগুদের একক বা সম্মিলিত রব।

৬। কাঁঠাল পাতা = ছাগুকে আপ্যায়নের (?) ভাষা বিশেষ। ইদানিং আমারব্লগ ডটকম-এ দাবি উঠেছে, কাঁঠাল পাতার ইমোকটিন যোগ করার।

৭। ধনে পাতা = ধন্যবাদ। মতান্তরে, ধইন্যা।

৮। হা হা প গে = হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম। মতান্তরে, হা হা ম গে = হাসতে হাসতে মরে গেলাম।

৯। রেসিডেন্ট ভাঁড় = রাজ-রাজরার আমলের ভাঁড়দের মতো ব্লগের স্থায়ী বিনোদন হিসেবে পরিচিত বিশেষ প্রজাতির ব্লগার । যেমন, ছরব।।

১০। মাইনাস = বাজে লেখা বা মন্তব্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন, ডা. আইজু বলেন, বা-ছা পোস্টে ডাবল মাইনাস! লেখায় এক তাঁরকা চিহ্ন দিলেও মাইনাসই বোঝায়।

১১। তাঁরাইলাম = উত্তম লেখা বা প্রসংশাসূচক মন্তব্য। পাঁচ তাঁরা বা প্লাস চিহ্ন দিয়ে লেখাটিকে সর্বোচ্চ রেটিং করা হয়।

১২। হ = ঠিক তাই।

১৩। ঞঁ! = বলে কী রে! মতান্তরে, কস্কী মমিন!

১৪। উঁ = যখন আর কিছুই বলা যাচ্ছে না। সহব্লগার আরিফ জেবতিক এর প্রবক্তা।

১৫। ছিক! = ছিঃ কথাটির ভিন্নরূপ। দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

১৬। অশ্লিষ = অশ্লিল লেখা বা মন্তব্য। দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

১৭। কাফি = ব্লগারের অন্তিম পরিনতির উদাহরণ বিশেষ।

১৮। বিপ্লব = লেখায় পাঁচ তাঁরা। মতান্তরে, আপনাকে বিপ্লব।

১৯। চুলকাইতে মুঞ্চায়? = অন্যকে উত্যাক্ত করতে ইচ্ছে করছে কী না, তা বোঝাতে।

২০। আছছালামু আলাইকুম = কহিনুল্লাহ। মতান্তরে, বঙ্গদেশ, সকলে ছহি ছালামতে থাকবেন - ইত্যাদি।

২১। পপকর্ন নিয়ে গ্যালারিতে বসলাম = ব্লগ বিতর্ক উপভোগ করছি, মতান্তরে, মজা দেখছি।

২২। জাঁঝা = উত্তম, লেখা বা মন্তব্য ভালো হয়েছে বোঝাতে।

২৩। সুশীল = অতিশয় আঁতেল অর্থে। যেমন, এই ধেনু যাহ, নইলে ফুল ছুঁড়ে মারবো কিন্তু। অখবা, সুশীল ব্লগ = সাহেব বাবুর বৈঠকখানা বিশেষ।

২৪। লুল বা লুল পুরুষ = বালিকা, নাবালিকা দেখলেই লালা ঝড়ে, এমন ব্লগার। উদাহরণ, এক মহারথী ব্লগার তার প্রোফাইলে ঘোষণা দেন, সুন্দরী বালিকা পেলে যত্ন করে কামড়ে দেই! ইদানিং ব্লগে 'লুল পুরুষ' ইমোকটিন যোগ করার দাবি উঠেছে।

২৫। সিটিএন = ইয়ের টাইম নাই, কোনো ব্লগারের সঙ্গে বাদানুবাদে না জড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশে তীব্র ঘৃণায় এটি বলা হচ্ছে।

২৬। পিটিএন = পোছার টাইম নাই, কোনো ব্লগারের সঙ্গে বাদানুবাদে না জড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশে তীব্র ঘৃণায় এটি বলা হচ্ছে।

২৭। ডিজিএম =দূরে গিয়া মর।

২৮। মফিজ = এলেবেলে ধরণের সাধারণ জন।

২৯। ভাঁজ খুইল্যা গেছে = আসল রূপ ধরা পড়েছে।

৩০। বাঁচাও কালা কুদ্দুস = ছেঁড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি -- এমন অর্থে। সাধারণতা উল্টো-পাল্টা মন্তব্য দেখলে এটি ব্যবহার করা হয়। সহব্লগার কারিমাট এর প্রবক্তা।

৩১। বুথে আয় বায়তুল = আবেগ সামাল দিন। লেখা বা মন্তব্যে মাত্রাতিরিক্ত আবেগের রাশ টেনে ধরতে বলা হচ্ছে।

৩২। চ্রম = চরম শব্দটির অপভ্রংশ। যেমন, চ্রম হৈছে -- বলতে লেখা বা মন্তব্যটি অসাধারণ হয়েছে বোঝায়।

৩৩। জটিল = খুব ভালো, মতান্তরে জট্টিল বা জটিলস্ = খুব ভালো লেখা বা মন্তব্য, এমন বোঝাতে।

৩৪। খ্যাক খ্যাক = হাসি, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

৩৫। মুঞ্চায় = মন চায়, মন চাইছে -- অর্থে। মতান্তরে, মন্চায়।

৩৬। কোবতে = কবিতা, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।

৩৭। ভাদা = ভারতের দালাল।

৩৮। পৈতা টেষ্ট = ভারতের দালাল সনাক্তের ব্লগীয় পরীক্ষা।

৩৯। পাদা = পাকিস্তানী দালাল।

৪০। খুদাপেজ = খোদা হাফেজ, দুষ্টুমী করে বলা হচ্ছে।


---
(চলবে?) <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29091902 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29091902 2010-02-05 20:51:15
ব্লগাইটিস মানেই সাড়ে সর্বনাশ! <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" /> প্রথম যৌবনে আমারও মাথায় চেপেছিলো কবিতা আর লিটল ম্যাগাজিনের ভূত। ...ওই বয়সে যা হয় আর কি। .... <img src=" style="border:0;" />

'৯০ এর ছাত্র-গণ আন্দোলনের পর, কবিতা ও লিটল ম্যাগের ভুত আমায় ছেড়ে যাওয়ার পর শুরু করি পেশাদার সাংবাদিকতা। আমার কাজের একটি বড়ো অংশ জুড়ে থাকে পাহাড়। ভেবেছিলাম, আরো বুড়িয়ে গেলে, পঞ্চাশে পা দিলে পাহাড়ের ওপর একটি মোটাসোটা বই লিখবো। সেখানে থাকবে তথ্য-সাংবাদিকতার বাইরে অনেক নেপথ্য-কথন।

তো সাংবাদিকতার বাইরে, নিউজ-স্টোরি লেখা ছাড়াও মাঝে মাঝে পাহাড়ি বন্ধুদের অনুরোধে পার্বত্য চট্টগ্রাম, তথা আদিবাসীদের ওপর কিছু সংবাদ নেপথ্য কথা লিখতে হতো। মাঝে টরেন্টা প্রবাসী সাংবাদিক বন্ধু সেরীন ফেরদৌসের অনুরোধে প্রবাসী বাঙালিদের ট্যাবুলয়েড়ের জন্যও কিছু লেখা-লেখি করতে হয়েছে। পরে তাদের অনলাইন সাপ্তাহিক নতুনদেশ ডটকম-এর জন্য লিখতে হয়। আমার লেখালেখির দৌড় ছিলো ওই পর্যন্ত। ...

২০০৪-এর আগস্টে দৈনিক যুগান্তর ছেড়ে যোগ দেই দেশের প্রথম অনলাইন দৈনিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ। বছর দুয়েক পরে সেখানে যোগ দেন অমি রহমান পিয়াল। কথায় কথায় অরপি, পিয়াল ভাইয়ের সঙ্গে চমৎকার বন্ধুত্ব জমে ওঠে। লেট-নাইট ডিউটির সময় কাজ শেষে রাত জেগে লিটল ম্যাগ ও সেরীনের ট্যাবুলয়েডের জন্য কম্পিউটার ঠুকে ঠুকে লেখা তৈরি করতাম। ...

একদিন পিয়াল ভাই আমার কিছু লেখা পড়ে আমাকে একটি ব্লগ সাইটে দেখান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তার কিছু লেখা। সেটি ছিলো সামহোরিনব্লগ ডটনেট। আমাকে উৎসাহিত করেন ব্লগিং-এ। সামুতে খুঁজে পাই বেশ কিছু শক্তিশালী লেখক। ব্লগ পড়তে পড়তে এক সময় নিজেও সেখানে লিখতে শুরু করি। সামুর সংস্কার-পর্ব শেষে এর কারিগরি দিক বুঝতে কোনো অসুবিধা হলেই পিয়াল ভাইকে ফোন করে বসতাম। উনি অসীম ধৈর্য ধরে আমাকে একে একে সব বুঝিয়ে দেন, আমি আস্তে আস্তে ব্লগাসক্ত হয়ে পড়ি। ...নিবন্ধন করে লিখতে শুরু করি আরো দু-একটা বাংলা ব্লগে...এমন কি ফেসবুকেও। ...

ব্লগেরই কিছু লেখা দেখে সাবেক তাঁরকা-সাংবাদিক, 'পাঠসূত্র'র প্রকাশক বন্ধু রাজিব নূর ধরে বসেন পাহাড়ের ওপর তাকে একটি বই করে দেওয়ার। আমি কিছুতেই রাজী হচ্ছিলাম না, 'আরে বই লেখার মতো বয়স আগে হোক তো!' ...রাজিবের এক কথা, 'নাহ্, আপনি এখনই বই করুন। পঞ্চাশ বছর বয়সে না হয় এই বইটিই আবার রি-রাইট করবেন।'

অনেকটা নিম রাজী হয়ে আমি তাকে দেই ১০টি লেখা। রাজিব আরো তিনটি লেখা যোগ করে গত বইমেলায় বের করে ছোট্ট একটি পেপার ব্যাক 'রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে'। বইটি নিয়ে আমার পাহাড়ি বন্ধু মহল খুবই আগ্রহ প্রকাশ করে।...প্রবাসী বন্ধুদের অনেকেই বইটি পেতে চান সেরীন তো বটেই। ...

আমারব্লগ ডটকম কর্তৃপক্ষকে ছো্ট্ট একটি ইমেইল দিতেই তারা তড়িৎ দ্রুততায় ফিরতি জবাব দিয়ে এটি ই-বুক প্রকাশে রাজী হয়। প্রকাশক বন্ধু রাজিব নূরের অনুমোতি ক্রমে প্রচ্ছদ ও পুরো বইয়ের পাণ্ডলিপি আমু কর্তৃপক্ষকে মেইল করে দিতেই এটি ই-বুক হিসেবে প্রকাশ হয়ে যায়। স্কীকার করি, নিজের কীর্তি দেখে নিজেই খানিকটা লজ্জিত হই। ... <img src=" style="border:0;" />

তো আবারো লেখালেখি চলে-- নিউজ-স্টোরি ও ব্লগিং। ব্লগবাড়িতে নিরস লেখালেখির বাইরে দম ফাটানো কিছু হাসির লেখা পড়ে আমিও লিখতে শুরু করি গণমাধ্যমের কষ্টকর পেশা-জীবনের কিছু মজার লেখা। ‌'প্রেস জোকস' নামের ওই ধারাবাহিক লেখায় সাড়াও পাই বেশ। এরই মধ্যে সাংবাদিক ও ব্লগার শওকত হোসেন মাসুম ভাই ধরে বসেন, 'বিপ্লব, আপনি এটি বই করেন, পাবলিক খুব খাবে।' আমি পিছলে যাওয়ার চেষ্টা করি, 'বলেন কি স্যার? পাবলিককে এই সব অখাদ্য খাইয়ে আইসিডিডিআরবি'র ওপর চাপ সৃষ্টি করে লাভ কি? তাছাড়া প্রেস ক্লাব-রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গেলে সাংবাদিকদের ধোলাই খাব না কি!'... <img src=" style="border:0;" />

একদিন ফোন করে বসেন, সহব্লগার ও 'শুদ্ধস্বর'এর আহমেদুর রশিদ, টুটুল ভাই। 'বিপ্লব, অনেক ব্লগিং হয়েছে। আপনি প্রেস জোকস বন্ধ করুন। আমি এটি বই করতে চাই।'...

আমার তখন ভিমড়ি খাওয়ার দশা! :-* আবারো ফোনাফুনি চলে, যে শোনেন সে-ই হইহই করে ওঠেন, 'আরে প্রেস জোকস? হু...হু...ওটা দারুন চলবে।'

টুটুল ভাইয়ের উপর্যুপরি (সরি, এরচেয়ে যুৎসই শব্দ খুঁজে পেলাম না) হুমকি-ধামকিতে শেষে 'প্রেস জোকস' পর্বটি আপাত বন্ধ রাখি। আরো অসংখ্য জোকস সংগ্রহ করে একটু একটু করে লিখে তাকে মেইল করতে থাকি। তবে বই বলে কথা। তাই অনেক জোকসের হাস্যরসটুকু ঠিক রেখে নাম-ধাম ও স্থান-কাল-পাত্র বদলে দিতে হয়।... <img src=" style="border:0;" />

'প্রেস জোকস' নামের বইটি বেরুচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে একুশে বই মেলায়। এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন সহকর্মী সুমন। বইটিতে থাকছে তার আঁকা মজার মজার কার্টুন-ইলাস্ট্রেশনও। প্রাথমিকভাবে এর দাম ধরা হয়েছে একশ টাকা।

তো ব্লগাইটিস আমাকে লেখক বানিয়ে ছাড়বে নাকী, অ্যাঁ? <img src=" style="border:0;" />

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29088553 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29088553 2010-01-30 21:17:49
তব যাত্রা হোক শুভ...
কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা জনিত কারণে আমাদের যে কেউ, যখন-তখন সাময়ীক বা স্থায়ী প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে পারেন!
--এই যখন নির্মম বাস্তবতা, তখন প্রতিবন্ধী মানুষ সর্ম্পকে আমাদের ভাবনার অবকাশ রয়েছে বৈকি।...

এই ভাবনা থেকেই প্রতিবন্ধীদের স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন বি-স্ক্যান (বাংলাদেশী-সিস্টেমস চেঞ্জ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক) প্রতিবন্ধী মানুষ সর্ম্পকে জনসচেতনা বাড়ানো, প্রতিবন্ধীদের অধিকার জানানো, তাদের সাফল্য, এমন কী সুখ-দু:খের ব্যক্তিগত কথা থাকছে এই ব্লগে। এর অধিকাংশ লেখা বাংলাতে হলেও ইংরেজীতেও কয়েকটি ফিচার এবং স্থির ও স্লাইড চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বি-স্ক্যান সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনাও থাকছে।

এই সাইটে অধিকাংশ ফিচার-স্টোরি লিখেছেন বি-স্ক্যানের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ব্লগ সঞ্চালক সালমা মাহবুব এবং সাবরিনা চৌধুরি। বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে তারা এতে প্রকাশ করেছেন জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইংরেজী লেখার অনুবাদ, কখনো সরাসরি ইংরেজী মূল লেখা ও সাইটের লিংক।

প্রিয় পাঠক, প্রতিবন্ধী মানুষ নিয়ে আপনার কী রয়েছে কোনো নিজস্ব ভাবনা বা পর্যবেক্ষণ? আপনি কোনো দেশি-বিদেশী পত্রিকায়/ সাইটে এ সর্ম্পকে পড়া কোনো লেখা শেয়ার করতে চান? আপনি এ সম্পর্কিত উদ্যোগ সর্ম্পকে আরো জানতে চান? অথবা আপনি নিজেও যোগ দিতে চান বি-স্ক্যান সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে?

আপনার লেখা বা যে কোনো সহযোগিতার হাত বাড়াতে যোগাযোগ করুন:

Email:

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। মুক্ত হোক চিন্তার প্রতিবন্ধকতাসমূহ। তব যাত্রা হোক শুভ।। <img src=" style="border:0;" />

---
ফেসবুক গ্রুপ: বি-স্ক্যান ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29071061 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29071061 2010-01-03 16:36:05
'৭১ এর গণহত্যার একটি প্রামাণ্য দলিল...
এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর দেশে-বিদেশে প্রতিবছর কোনো না কোনো গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ হয়, যা সমৃদ্ধ করে আমাদের জাতিগত ইতিহাসকেই। কিন্তু একজন সাংবাদিক যখন সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে লিখে ফেলেন একটি গবেষণাগ্রন্থ, তখন তা ভিন্ন মাত্রা পায় বৈকি। আর গবেষণাকর্মটি যদি হয় স্থানীয় পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ, বলা ভালো মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত অধ্যায় গণহত্যা নিয়ে, তাহলে নিঃসন্দেহে তা উন্মোচিত করে অনেক অজানা অধ্যায়। বলা ভালো, এ সব স্থানীয় পর্যায়ের নিবিড় অনুসন্ধান মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রীক ইতিহাসটিকেই সমৃদ্ধ করে।

এই দুঃসাহসিক অনুসন্ধানী গবেষণাকর্মটি করেছেন তরুন সাংবাদিক সহকর্মী, ব্লগার আজিজুল পারভেজ । আর এ জন্য তিনি পরিশ্রম করেছেন প্রায় এক দশক।


একাত্তরের গণহত্যা : রাজধানী থেকে বিয়ানীবাজার

২। সিলেটের ঐহিত্যবাহী বিয়ানীবাজার থানাটির রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাস। সাংবাদিক পারভেজের জন্মস্থান এই বিয়ানীবাজারেই। 'একাত্তরের গণহত্যা : রাজধানী থেকে বিয়ানীবাজার' নামক তার গবেষণাগ্রণ্থে স্থান পেয়েছে বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীক গণহত্যার তদন্ত প্রতিবেদন, অনুসন্ধান ও গবেষণা তো বটেই, এমনকি '৭১ এ কর্মসূত্রে যেসব বিয়ানীবাজারবাসী তৎকালীন পূর্ববাংলার রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে গণহত্যার নির্মম শিকার হন, তাদের তথ্যও।

এই দূরহ কাজটি করতে গিয়ে পারভেজকে অসংখ্য গ্রাম ও শহরের প্রত্যক্ষদর্শী, শহীদ পরিবারের সদস্যদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে হয়েছে। অধ্যায়ন করতে হয়েছে এ সংক্রান্ত সহায়ক গ্রন্থ, '৭১ সালের পত্র-পত্রিকা, যাচাই-বাছাই করতে হয়েছে প্রাপ্ত তথ্য, নিজস্ব অনুসন্ধানও।

স্থানীয় পর্যায়ের ইতিহাস, সামগ্রিক ইতিহাসটিকে কীভাবে সমৃদ্ধ করে, তার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। বিয়ানীবাজারে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মারা গিয়েছিলেন, সেই সব শহীদদের একটি তালিকা তৈরি করা হয় ১৯৮৪-৮৫ সালে। এই তালিকায় ১১২ জন শহীদের বিবরণ দেওয়া হয়। এক যুগ পর গবেষক তাজুল মোহাম্মদ আরো একটি তালিকা তৈরি করেন, যাতে স্থান পায় প্রায় ২০০ জনের নাম। পারভেজের মতে, দুটি তালিকাই ত্রুটিপূর্ণ। কারণ বাড়ি বাড়ি ঘুরে সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে তিনি যে শহীদদের তালিকাটি তৈরি করেন, শুদ্ধরূপে তার সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৮ জনে। এর মধ্যে ৩০ জন শহীদের নাম এই প্রথম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এ ভাবে তথ্যানুসন্ধান ও শুদ্ধকরণের মাধ্যমে স্থানীয় তথা জাতীয় ইতিহাসটি নির্ভুল হয়ে উঠবে।

৩। আগেই বলা হয়েছে, পারভেজের বইটিতে জরিপ আছে বিয়ানীবাজারের শহীদদের নিয়ে। এই জরিপে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ, ছাত্র-কৃষক-দিনমজুর সব শ্রেণী-পেশার, ধর্ম-বর্ণের শহীদরা স্থান পেয়েছে। এতে যুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝা যায়। ইতিহাস স্বাক্ষী, দেশের অধিকাংশ শহীদ স্মৃতি বিলুপ্তের পথে। তাঁদের সন্ধান দেওয়ার মতো অনেকে এখন আর বেঁচেও নেই।

১৯৭১ এ বাংলাদেশের অনেক নদী তীরে (বিশেষ করে যেখানে ব্রিজ-কালভার্ট ছিলো) পাকিস্তানী সেনা বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসরা অনেক মানুষকে হত্যা করে ভাসিয়ে দেয়, যার কোনো হিসেব নেই। প্রায় এক হাজার বধ্যভূমি ও গণকবর আবিস্কৃত হয়েছে। এ সব বধ্যভূমি ও গণকবরে কতো শহীদ ঘুমিয়ে আছেন, তারও সঠিক কোনো হিসেব নেই। তাই ৩০ লাখ শহীদের বিষয়টি একেবারে অবাস্তব নয়। কিন্তু এই সংখ্যাটি নিয়ে যখন বির্তক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তখন অজানা শহীদ স্মৃতির প্রতি অশ্রদ্ধাই প্রকাশ করা হয়, যে অধিকার আমাদের কেউ দেয়নি। ...

৪। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আজিজুল পারভেজের বইটির সূচিপত্র। ক্রমানুসারে:

একাত্তরের গণহত্যা: একটি মাঠ জরিপ। বিয়ানী বাজারের অবস্থান, পরিচিতি ও প্রারম্ভিক তথ্য। অপারেশন সার্চ লাইটে হত্যার শিকার যারা। সৈনিক জওয়ান কর্মকর্তারা প্রাণ দিলেন সারা দেশে। বিয়ানীবাজারে গণহত্যা: ইউনিয়নভিত্তিক বিবরণ। রণাঙ্গণে শহীদ যারা। দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যার শিকার যারা। প্রকাশিত শহীদ তালিকাগুলোর অসঙ্গতি ও আরো কয়েকটি নাম। এবং...মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা।

একেবারে ইন্ভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং স্টাইলে লেখা বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে পারভেজ নির্মোহভাবে তুলে ধরেন গণহত্যার সব ভয়ংকর তথ্য, তদন্ত-সাক্ষ্য ও বর্ণণা। সেখানে নেই লেখকের নিজস্ব কোনো অভিমত, ব্যক্তিগত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।

তবু এ সব তথ্যচিত্র এতোটাই বাস্তব যে সিনেমার স্লাইডের মতো এক একটি দৃশ্যপট আমাদের নিয়ে যায় '৭১ এর সেই উত্তাল দিনগুলোতে। আমরা শুনি অসহ্য মেশিনগানের গুলির শব্দ... বেয়নেটে খুঁচিয়ে বুক ফেড়ে বের করে দেওয়া কলজে কাঁপানো আর্ত-চিৎকার! আমাদের চোখ ভিজে যায় অজান্তেই। বার বার আমাদের পাঠক মন সংগঠিত হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের গণদাবিতে। ...
মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের কারণে শিশুসহ দুইজনকে হত্যা

মাথিউরা দুধবক্সী-দিঘিরপাড়ের সমজিদ আলীর জ্যোষ্ঠপুত্র আব্দুল আজিজ মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কারণে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর অনুজ দুই ভাইকে। রমজান মাসের রাতে ধরে নিয়ে এসে ৫ নভেম্বর তাদের হত্যা করা হয় কাঁঠালতলা বধ্যভূমিতে। স্থানীয় মুসলিম লীগার বোরকা হাজি তাদের ধরিয়ে দেন বলে জানা যায়। তাঁদের পরিবারের রেডিওটি ওই রাজাকার ওইদিন নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়। এই দুই ভাই হচ্ছেন-- আবদুল হাসিব : বয়স ছিলো ২৩ বছর। তিনি ছিলেন কৃষক। একমাত্র কন্যা সন্তান আয়েশার জনক ছিলেন। বিধবা স্ত্রী ফাতেমা বেগমের পরে বিয়ে হয়েছে দেবরের সঙ্গে। আবদুল লতিফ: বয়স মাত্র ১৩-১৪ বছর। মাথিউরা ঈদগাহ সিনিয়র মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। (একাত্তরের গণহত্যা : রাজধানী থেকে বিয়ানীবাজার, পৃ. ৬৯।)


৫। পারভেজের বইটি পাঠের সবচেয়ে বড় সুবিধা এর প্রতিটি অধ্যায়ে যে সব উপঅধ্যায়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সে সব তথ্যের নীচেই ফুটনোটে তুলে দেওয়া হয়েছে এর তথ্যসূত্র। আর এ সব তথ্যসূত্র কখনো সহায়ক একাধিক গ্রন্থ, পত্র-পত্রিকার ক্লিপিং, কখনো বা তদন্ত সাক্ষ্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ। তাই পাঠক সহজেই তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকেন, আরো নিজস্ব অনুসন্ধানের জন্য তথ্যসূত্রের জের ধরে সহায়ক গ্রন্থ বা পত্রিকাসমূহ পাঠ করে নিতে পারেন, এমন কী প্রতক্ষদর্শীর সঙ্গে কথাও বলে নিতে পারেন। আর এসব তথ্যসূত্রের জন্য পাঠককে পুরো বইটি হাতড়ে বেড়াতে হয় না।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী বাহিনী প্রথম সর্বশক্তি নিয়ে বড় ধরণের আঘাত হানে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর। 'অপারেশন সার্চ লাইট' নামক সেই বিভৎস গণহত্যায় তারা স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলো এ দেশের মুক্তিকামী জনতার স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে।

এই গণহত্যায় যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারি। এছাড়া পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনেও চলে সেনা অভিযান। ট্যাঙ্ক, মর্টার, মেশিনগানসহ ভাড়ি অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সেখানে চালানো হয় সর্বাত্নক হামলা। বাঙালি ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস) জওয়ান ও পুলিশ সদস্যরা হালকা বন্দুক নিয়ে পাক-সেনাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। অধিকাংশই মারা পড়েন এই প্রস্তুতিবিহীন প্রতিরোধ যুদ্ধে।

ওই রাতে পাক-সেনারা নির্বিচার গণহত্যা চালিয়েছিলো নীলক্ষেত, বাবুপুরাসহ ঢাকার আরো কয়েকটি এলাকায়। অগ্নিসংযোগ ও গণধর্ষণও চলেছিলো ব্যাপক।

এই পর্বটি তুলে ধরা হয়েছে পারভেজের 'অপারেশন সার্চ লাইটে হত্যার শিকার যারা' নামক অধ্যায়ে। এর দুটি উপ-অধ্যায়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক ড. জিসি দেবকে হত্যা এবং প্রতিরোধ যুদ্ধ : পিলখানা আক্রমণে শহীদ যারা। প্রথম উপ-অধ্যায়ে শহীদ শিক্ষক ড. গোবিন্দ্র চন্দ্র দেবের সংক্ষিপ্ত জীবনীর বয়ান তুলে ধরা হয়েছে কয়েকটি বই ও সংবাদপত্রের তথ্যসূত্র থেকে। আর দ্বিতীয় উপ-অধ্যায়ে শহীদ তিনজন ইপিআর সদস্যর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হয়েছে শহীদ পরিবারের সাক্ষ্যে। বলা ভালো, জিসি দেবসহ মোট চারজন শহীদেরই জন্মস্থান বিয়ানীবাজার। এ কারণেই তারা কথা বলা হয়েছে বইটিতে।

কিন্তু এই অধ্যায়টি পড়লে ২৫ মার্চের গণহত্যার কোনো ভয়াবহ চিত্রই পাওয়া যায় না। এ সংক্রান্ত তেমন কোনো তথ্যই দেওয়া হয়নি বইটিতে। এমন কী ড. জিসি দেবকে কিভাবে ট্যাঙ্ক চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো, কিভাবে জগন্নাথ ও ইকবাল হলসহ অন্যান্য ছাত্রবাসে ছাত্র-শিক্ষকদের মেশিনগান ও বেয়নেট দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছিলো, তারও কোনো বর্ণনা নেই এই বইয়ে।

অথচ সাংবাদিক পারভেজ এই কাজটি সহজেই করতে পারতেন ওই গণহত্যার অন্তত দুজন প্রত্যক্ষদর্শী ডাকসুর গোপাল এবং কার্টুনিস্ট নজরুলের সাক্ষ্য গ্রহণে। মুক্তিযোদ্ধা-আলোকচিত্রী রশিদ তালুকদারও জীবন্ত বর্ণনা দিতে পারতেন পুরো ঢাকার গণহত্যার।

এছাড়া সায়মন ড্রিং-এর দি ওয়াশিনটন পোস্ট -এ পাঠানো সাড়া জাগানো প্রতিবেদনটিও উদ্ধৃত করা যেতো। কারণ এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক মহলে সে সময় সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছিলো, এর মাধ্যমে বিশ্ব জেনেছিলো, পূর্ব বাংলায় গণহত্যা শুরু হয়েছে।...

বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের ফ্ল্যাপে ব্যবহৃত গণহত্যার আলোকচিত্রের সূত্র উল্লেখ না করা আরেকটি মারাত্নক ঘাটতি।

৬। এর পরেও বিয়ানীবাজার উপজেলাকে কেন্দ্র করে দেশের গণহত্যার ওপর এমন তথ্যসমৃদ্ধ বইয়ের বিকল্প নেই। আর এর স্বীকৃতি স্বরূপ কিছুদিন আগে এ বইটিতে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রবর্তিত 'বজলুর রহমান স্মৃতি পদক' পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদক প্রদান করেন। বইটির পরবর্তী সংস্করণ সমস্ত ভুল-ত্রুটি কাটিয়ে আরো বর্ধিত কলেবরে প্রকাশ হবে, এটি গবেষণা সহায়ক গ্রন্থ বহুল পঠিত -- এমনটাই কাম্য।

একাত্তরের গণহত্যা : রাজধানী থেকে বিয়ানীবাজার প্রকাশক: ঐতিহ্য প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০০৯ প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ দাম: ১৪০ টাকা।
---
ছবি: প্রচ্ছদ, একাত্তরের গণহত্যা : রাজধানী থেকে বিয়ানীবাজার, রিকশা পেন্টিং, ন্যাট জিও ম্যাগাজিন, ১৯৭২, গণ কবর ও মুক্তিযোদ্ধা, ন্যাট জিও ম্যাগাজিন, ১৯৭২।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29058059 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29058059 2009-12-13 13:50:48
পাহাড়ে শান্তি হবে কবে?

১। ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তির যুগ পূর্তি আজ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর, এই দিনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পক্ষে চুক্তিতে সাক্ষর করেন সে সময়ের সংসদের চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুলাহ এবং শান্তিবাহিনী তথা জনসংহতি সমিতি প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা।

শান্তিচুক্তির এক যুগ পূর্তিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি নেতারা চান চুক্তির মৌলিক শর্তসমূহ তথা এর পূর্ণ বাস্তবায়ন। এই লেখকের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা এ জন্য সরকারের কাছে রোডম্যাপ বা সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা দাবি করেন।
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে যথেষ্ট আন্তরিক। এ সরকার তার মেয়াদ কালেই চুক্তি বাদবাকী শর্তগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২। চুক্তি সাক্ষরের মধ্যে দিয়ে শান্তিবাহিনীর প্রায় দুহাজার সদস্য অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। বিলুপ্তি ঘটে গেরিলা গ্র“পটির। অবসান হয় পাহাড়ে প্রায় দুই দশকের শান্তিবাহিনী--সেনা বাহিনীর রক্তয়ী বন্দুক যুদ্ধের। চুক্তি সাক্ষরের সুযোগে ত্রিপুরা থেকে শরণার্থীর গানিময় জীবনের অবসান ঘুচিয়ে দেশে ফেরেন প্রায় ৭০ হাজার পাহাড়ি মানুষ। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সন্তু লারমাকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ। পুনর্গঠিত হয় উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান--এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, গঠন করা হয় ভূমি কমিশন, শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স, চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি।

তবে চুক্তি সাক্ষরের সময়েই বিএনপি, জামাতসহ পাহাড়ে অভিবাসিত বাঙালিদের (সেটেলার) কয়েকটি সংগঠন এ চুক্তিকে ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে চুক্তি বাতিলের দাবিতে লং মার্চ, হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। অবশ্য বিএনপি সরকার মতায় গিয়ে দৃশ্যত চুক্তি বাতিল, সংশোধন বা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই নেয়নি। পাহাড়িদের আরেকটি ছোট গ্র“প--ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টও (ইউপিডিএফ) চুক্তির বিরোধীতা করে আসছে।

৩। সরকারের সঙ্গে চুক্তি সারকারী জনসংহতি সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও চুক্তি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা দাবি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিসংখ্যান তুলে ধরে আরো বলা হয়, ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ৪০ জন খুন ও ২০ নারী ধর্ষণসহ মোট তিন হাজার ৮৮২ জন নিরীহ পাহাড়ি (জুম্ম) নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া জুম্মদের জায়গা-জমি জবরদখল পূর্বক বহিরাগত বাঙালি পরিবার বসতি প্রদানের উদ্দেশ্যে গত ১২ বছরে জুম্মদের ওপর নয়টি বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে। কেবলমাত্র এসব হামলায় জুম্মদের ৬২৫টি বাড়ী সম্পূর্ণরূপে ভস্মিভূত, ৬৯৮টি বাড়ী লুটপাট ও তছনছ, পাঁচজনকে নৃসংশভাবে খুন, ৩১১ জনকে জখম এবং ১৬ জন জুম্ম নারীকে ধর্ষণ বা যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উলেখ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়, চুক্তি স্বারের পর গত ১২ বছরে উগ্র সাম্প্রদায়িক ও উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তিকে মদদদান, বহিরাগত অনুপ্রবেশ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, সর্বোপরি জুম্মদের মধ্যে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা মদদদানের কার্যক্রম জোরদার হয়ে ওঠে। নিজেদের ‘হীন কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করার ল্েয একটি প্রভাবশালী কায়েমী গোষ্ঠী’ কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অস্থিতিশীল অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব অপতৎপরতা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এতে অভিযোগ করা হয়, এই ল্েয একদিকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন’ নামে সেটেলার বাঙালিদের উগ্র সাম্প্রদায়িক ও উগ্র জাতীয়তাবাদী সংগঠনের মাধ্যমে জুম্মদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা, জমি জবরদখলসহ চুক্তি বিরোধী অপতরতায় ইন্ধন যোগানো হয়; অন্যদিকে ইউপিডিএফ নামধারী পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যা ইত্যাদি সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মদদ দেওয়া হয়। গত বছরগুলোতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের হাতে ৮২ জন জনসংহতি সমিতির সদস্য, সমর্থক ও গ্রামবাসী খুন এবং তিন শতাধিক নিরীহ লোক অপহরণ ও শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়।

৪। লক্ষ্যনীয়, চুক্তির পর গত ১২ বছরেও পাহাড়ে ভূমি সমস্যা সমাধানে পার্বত্য ভূমি কমিশন সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। পাহাড়ের স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদকে পূর্ণ মতা দেওয়া হয়নি--এই এক যুগেও। আরেক স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ সেই ১৯৮৯ সালে গঠন হওয়ার পরেও আজো পরিষদগুলোর নির্বাচন হয়নি। এ পর্যন্ত দলীয় নিয়োগের ভিত্তিতে পরিষদগুলো শুধু টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন ও পুনর্গঠন হওয়ার পর ভারত প্রত্যাগত শরণাথী পুনর্বাসনে উদ্যোগ নিলেও ছয়ের দশকের কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ ও দুদশকের অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের কারণে পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাবসনে এখনো কোনো ভূমিকাই রাখেনি।

এছাড়া পাহাড়ে ’অপারেশন দাবানলের’ পর এখন চলছে সেনা বাহিনীর ’অপারেশন দাবানল’। ছয়টি স্থায়ী সেনা নিবাস ছাড়াও সেখানে রয়েছে পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী সেনা ছাউনি। অর্থাৎ সেখানে এক ধরণের সেনা শাসন রয়েই গেছে। অথচ চুক্তির শর্ত মেনে গত ১২ বছরেও এ সেনা ছাউনিগুলো সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়নি। প্রায় ৫০ টি সেনা ছাউনি অপসারণে বিগত সরকারগুলো সময় নিয়েছে ১২টি বছর। উপরন্তু সেখানে রয়েছে বিডিআর, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি ও বন রীদের অসংখ্য ছাউনি।

৫। এ অবস্থায় দৃশ্যত পার্বত্য সমস্যা প্রতিনিয়ত জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। প্রশ্ন পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে কবে? কবে প্রতিষ্ঠা হবে সেখানে কাঙ্খিত শান্তি??
---
ছবি: শান্তিচুক্তি সাক্ষর, ফাইল ছবি, লেখক। পড়ুন: লেখকের ই-বুক, 'রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে', আমারব্লগ.ডটকম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29052504 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29052504 2009-12-02 16:33:19
একটি মানবিক আহ্বান: সুবর্ণ নাগরিককে ‘না’ বলুন!
সরকার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, এখন থেকে প্রতিবন্ধীদের 'সুবর্ণ নাগরিক' হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিশেষ পরিচয়পত্র দেবে। এই পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা পাবেন বিশেষ সেবামূলক নাগরিক সুবিধা।
কিন্তু প্রতিবন্ধীদের কয়েকটি সচেতন সংগঠনের পক্ষে আমরা সরকারি এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

আমরা মনে করি:

১। প্রতিবন্ধীদের গাঁয়ে 'সুবর্ণ নাগরিক' নামে একটি বিশেষ তকমা সেঁটে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এটি একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত; এতে প্রতিবন্ধীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিনত করা হবে। আমরা মনে করি, প্রতিবন্ধিদের একমাত্র পরিচয় এ দেশের নাগরিক, জন্মসূত্রে বাংলাদেশী।

২। দেশের প্রতিবন্ধিরা ওই রকম কোন বিশেষণে চিহ্নিত হতে চান কি না, সে বিষয়ে সরকার সর্ব সম্মত কোনো মতামত নেওয়ারই প্রয়োজন করে নি।

৩। 'সুবর্ণ নাগরিক' পরিচয় পত্র দেখিয়ে কেনো বিশেষ সেবামূলক সুবিধা নিতে হবে? এ জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি।

৪। জাতীয় পরিচয় পত্রে 'সুবর্ণ নাগরিক' কথাটি না লিখে সারা বিশ্বে প্রতিবন্ধি মানুষের জন্যে যে লোগো বা মনোগ্রাম ব্যবহৃত হচ্ছে, তা ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া জাতীয় পরিচয় পত্রে প্রতিবন্ধীর প্রতিবন্ধকতাটুকু 'সন্মানজনকভাবে' উল্লেখ করতে হবে।

এ পর্যায়ে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই:

প্রতিবন্ধীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরন পরিহার করুন! তাদের 'সুবর্ণ নাগরিক' হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগটি বাতিল করুন!!

এ মুহূর্তে আমরা যা করতে পরি:

ক.ব্লগ ও ফেসবুকে নিজস্ব প্রোফাইল ছবি পরির্তন করে 'সুবর্ণ নাগরিককে না বলুন' এমন একটি ছবিটি ধারণ (অন্তত ৩ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে),




খ. ব্লগ, ফেসবুক, পত্র-পত্রিকা ও ইমেলে লিখে জনমত তৈরি,

গ. ফেসবুকে এই কজটিতে যোগ দিয়ে আমাদের চিন্তা অন্তর্জালে ছড়িয়ে দেওয়া,

ঘ. অন্তর্জালে বা হাতে লিখে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ,

ঙ. প্রতিবন্ধী সংগঠন এবং দেশি-বিদেশী মানবাধীকার সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করা এবং

চ. সরকারকে বিষয়টি অবহিত করা ও গণস্বাক্ষর সমূহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহে পৌঁছে দেওয়া -- ইত্যাদি।

মানুষ বড় অসহায়। আসুন মানুষ হয়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই!...

---
দ্র. ১। সাবরিনার ব্লগ, , ২। সালমা মাহবুবের ব্লগ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29050023 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/29050023 2009-11-26 15:42:01
ন্যাট জিও ১৯৭২: ইতিহাসের ধূসর পাঠ আটাশ পৃষ্ঠার ওই প্রচ্ছদ কাহিনীর সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের আলোকচিত্রী ডিক ডুরেন্স এর দুর্দান্ত চার রঙা সাতচল্লিশটি সংযুক্ত করা হয়।

ন্যাট জিও’র ওই প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি বছর ছয়েক আগে আমি প্রয়াত একজন ব্যবসায়ী আহমেদ উল্লাহ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে সিডি আকারে সংগ্রহ করি। এতোদিন এই সিডিটি আমার জিম্মায় বাক্স বন্দী ছিলো।

নিজে ইংরোজিতে প্রায় গোমূর্খ, তাই এটি অনুবাদের সাহস করিনি। …ইত্যাদি।

এরপর অনেক সহকর্মী এই লেখাটি ভাবানুবাদের কাজ হাতে নিয়েও তা শেষ করতে পারেন নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর গভীর শ্রদ্ধা থেকেই প্রয়াত সহব্লগার মুহাম্মাদ জুবায়ের ভাইও চেয়েছিলেন এটি ভাবানুবাদ করে দিতে। কিন্তু…হায় রে নিষ্ঠুর সময়!

এছাড়া কয়েকজন সহব্লগার লেখাটি ইংরেজীতেই পাঠের আগ্রহ দেখিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট গবেষক, শ্রদ্ধেয় এমএমআর জালাল ভাই এ কাজে আমাকে বরাবরই প্রেরণা যুগিয়েছেন।

সে সময় সব কিছু বিবেচনা করে লেখাটি ইংরেজীতেই ব্লগে ধারাবাহিকভাবে তুলে দেই। আর এটি ‘বাংলাদেশ: আশায় নতুন জীবনের বসতি’ নামে প্রথমে ধারাবাহিক এবং পরে অখড আকারে ভাবানুবাদ করেন আরেক সহব্লগার শিক্ষানবিস। তার সেই অসামান্য ভাবানুবাদটি পড়া যাবে View this link এখানে।

আসুন, আমরা ফিরে দেখি একাত্তর, ঘুরে দাঁড়াক বাংলাদেশ। জয় বাংলা!

ছবি: রিকশা পেইন্টিং, ন্যাট জিও-১৯৭২
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28994724 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28994724 2009-08-16 12:41:13
একজন মুমূর্ষু রোগিকে বাঁচান, রক্তের প্রয়োজন ‍‍~
পাঠসূত্রের নির্বাহী প্রকাশক ও কথাসাহিত্যিক রাজীব নূরের স্ত্রী তনুজা আকবরের প্লাটিলেট ৫০০০-এ নেমে এসেছে। ছোট্ট এক কন্যা সন্তানের জননী তনুজা তিনদিন ধরে পান্থপথের 'হেলথ অ্যান্ড হোপ ক্লিনিকে' চিকিৎসাধীন। তার জন্য প্রতিদিনই পর্যাপ্ত রক্ত লাগছে।

তাঁর রক্তের গ্রুপ O+। এই গ্রুপের রক্ত দিতে সক্ষমগণ ইমন অঞ্জন-০১৭১২৮৮৭৭১৭ অথবা ফাহমী-০১৯১১৪৯৪৫৪৭ এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন প্রিজ।

মানুষ বড় অসহায়, আসুন, আমরা মানুষ হয়ে তার পাশে এসে দাঁড়াই!...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28978565 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28978565 2009-07-15 12:20:36
ফিরে দেখুন একাত্তর, ঘুরে দাঁড়াক বাংলাদেশ... ওই সকল ব্যক্তিকে খতম করতে হবে, যারা সশস্ত্র অবস্থায় পাকিস্তান ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে--মতিউর রহমান নিজামী, রাজাকার সদর দফতর, যশোর; দৈনিক সংগ্রাম, ১৫ সেপ্টম্বর, ১৯৭১।

নব্বইয়ের ছাত্রগণআন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে পড়েছিলাম নিউজপ্রিন্টের একটি পেপারব্যাক বই একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়? এই বইটি সে সময় সদ্য কৈশোর পেরিয়ে আসা তরুণমনে দোলা দিয়েছিলো দারুনভাবে। একাত্তরের ঘাতকদের চিনিয়ে দিতে এটিই সম্ভবত ছিলো একটি প্রথম সম্যক প্রয়াস।

আর সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক আজাদুর রহমান চন্দনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ 'একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা'। এটি হচ্ছে একই সঙ্গে ১৯৭১-এর একটি অসামান্য প্রামাণ্য দলিল।

ক্রমানুসারে এতে যে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে:

শান্তি কমিটি : অশান্তির আগুনে পুড়িয়েছে বাংলাদেশকে, বাংলার যম গোলাম আযম, বদরবাহিনী গঠনের নির্দেশদাতা নিজামী, বদরবাহিনী গঠনের আরেক হোতা মুজাহিদ, রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মওলানা ইউসুফ, ঘাতকের ভূমিকায় ছিলো রাজাকার-আলবদররা (তালিকাসহ), জামায়াতি নৃশংসতায় সায় ছিলো না অন্য দালালদেরও এবং পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীরা।

'শান্তি কমিটি : অশান্তির আগুনে পুড়িয়েছে বাংলাদেশকে' বিষয়টিতে তুলে ধরা হয়েছে কেন্দ্রীয় ও জেলা শান্তি কমিটির একটি দীর্ঘ তালিকা, যা লেখকের নিজস্ব গবেষণার ফসল। এই তালিকার সমর্থণে লেখক একই সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন '৭১ এ প্রকাশিত বিভিন্ন পেপার-ক্লিপিং।

প্রতিটি বিষয় উপস্থাপনায় লেখক ঘাতকদের যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংসতার প্রমাণ হিসেবে হাজির করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি, ১৯৭১-এ প্রকাশিত দেশি-বিদেশি সংবাদপত্রের ক্লিপিং, '৭১ এ পূর্ব পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পিন্ডিতে পাঠানো গোপন প্রতিবেদন, ঢাকা গেজেট ইত্যাদি।

'ঘাতকের ভূমিকায় ছিলো রাজাকার-আলবদররা' -- বিষয়ে লেখক যে তালিকাটি হাজির করেছেন, সেটিতে আমরা পাই রাজাকার হাই কমান্ড এবং জেলা ভিত্তিক রাজাকারদের একটি দীর্ঘ তালিকা। ' পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীরা' শিরোনামের বিষয়ে লেখক যুক্ত করেছেন ২৫১ জন পাক-সামরিক কর্মকর্তার আরেকটি তালিকা-- যা আরো সমৃদ্ধ করেছে, এই বইকে।

'জামায়াতি নৃশংসতায় সায় ছিলো না অন্য দালালদেরও' বিষয়টিতে লেখক তুলে ধরেছেন একটি দুর্লভ প্রামাণ্য দলিল। '৭১ এ পূর্ব পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা প্রদেশের তখনকার পরিস্থিতি নিয়ে ইয়াহিয়ার সামরিক সরকারের কাছে পাক্ষিক গোপন প্রতিবেদন পাঠাতো। এ সব প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো 'ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান'।

এরই একটিতে [৬৮৬ (১৭২) পল/এস (আই)] বলা হয়, An extended meeting (50) of Executive Committee of East Pakistan Regional PDP was held on 3-10-71 at the Dacca residence of Mr. Nurul Amin with himself in the chair. The meeting discuss the present political situation and deteriorating economic condition of the country and favoured participation in the ensuing by-elections. Some of the speakers mentioned about the atrocities committed by the enemies as well as by the Jamat-e-Islami workers and Razakars on innocent people in the rural areas. (পৃ. ১০৯)।

আরেকটি গোপন প্রতিবেদনে [নম্বর ৫৪৯ (১৫৯)পল/এস আই)] উল্লেখ আছে আগষ্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সম্মেলনে গোলাম আযম বলেন, 'হিন্দুরা মুসলমানদের শত্রু। তারা সবসময় পাকিস্তানকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।' ওই সম্মেলনে গোলাম আযম প্রতি গ্রামে শান্তি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের দুস্কৃতকারী আখ্যা দিয়ে তাদের নির্মূল করার নির্দেশও দেন তিনি। গোলাম আযম বলেন, খুব শিগগিরই রাজাকার, মুজাহিদ ও পুলিশ মিলে দুস্কৃতকারীদের মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।

সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধের প্রতিবেদনে [নম্বর ৬০৯ (১৬৯) পল/ এস (আই)] বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জামায়াতের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে গোলাম আযমসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তাদের নির্মূল করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ...A discussion meeting of the JI workers was held on 3-9-71 in Dacca and was addressed, among others, by Prof. Ghulam Azam. The meeting emphasised the need for restoration of normalcy by eliminating the rebels and antisocial elements. (বাংলার যম গোলাম আযম, পৃ. ৩০)।

'একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা' নামের বইটি এমনই সব তথ্যবহুল দালিলিক প্রমানপত্রে ঠাসা।

কিন্তু বার বার এই বইটি পাঠ করতে গিয়ে যে সব বিষয়ের ঘাটতি অনুভূত হয়েছে, তা হচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও ঘাতক-রাজাকারদের ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধের দিনপঞ্জির অভাব। এছাড়া কয়েকটি পেপার-ক্লিপিং ও আলোকচিত্রের দিনক্ষণ উল্লেখ করা হয়নি। তথ্যসূত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা না থাকায় কোনো গবেষক বইটি ধরে যদি আরো গবেষণা চালাতে চান, তবে তাকে খানিকটা ঝামেলায় পড়তে হবে। আশা করা যায় লেখক এ সব ঘাটতি বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে দূর করবেন।
---
বই: একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা লেখক: আজাদুর রহমান চন্দন প্রচ্ছদ: সুমন প্রকাশক: জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ দাম: ১৪০ টাকা প্রাপ্তিস্থান: কনকর্ড এম্পোরিয়াম, কাঁটাবন, ঢাকা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28973426 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28973426 2009-07-04 13:19:11
প্রেস জোকস-৪ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" /> Click This Link
প্রেস জোকস-২ Click This Link
প্রেস জোকস-৩ Click This Link
গণমাধ্যমে প্রায়ই মজার মজার কিছু সত্যি ঘটনা ঘটে। এ সব কখনো কখনো প্রচলিত হাস্য কৌতুককে হার মানিয়ে দেয়। আবার এসব প্রেস জোকসের নেপথ্যে থাকে কষ্টকর সাংবাদিকতা পেশাটির অনেক অব্যক্ত কথা। এমনই কিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে এই 'প্রেস জোকস' পর্ব।

ইত্তেফাকীয় সমাচার

পাকিস্তান আমলের কথা। পুনর্গঠিত দৈনিক ইত্তেফাকের দায়িত্ব নিয়েছেন ডাকসাঁইটের সাংবাদিক মানিক মিয়া। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর পরিবর্তে কাগজটির মাস্ট হেডের নীচে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর নামই ছাপা হচ্ছে।

তো মানিক মিয়া ছিলেন খুব রাশভাড়ি লোক। সে সময় তো সাংবাদপত্রে এতো নিয়োগনীতির বালাই ছিলো না। আর মানিক মিয়া কারো ওপর ক্ষেপে গেলে কথায় কথায় তার চাকরী নট করে দিতেন।

একদিন সকালে তিনি ইত্তেফাকের অফিসে মন দিয়ে একটি গুরুতর সম্পাদকীয় দেখছেন। খুবই স্পর্শকাতর লেখা...একটু এদিক-সেদিক হলে আইয়ুব খানের রোষানলে পড়তে হবে--এমন অবস্থা।

এ সময় তার খাস পিয়ন ছালাম মিয়া তাকে চা দিতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়লো টেবিলের ওপর। মানিক মিয়ার লেখা-টেখা সব চায়ে সয়লাব; তার দামী স্যুটেও লেগেছে চায়ের দাগ।

তিনি ঠাণ্ডা গলায় বললেন, ছালাম! তোর চাকরী নট!..

সে দিন পিয়ন ছালাম মিয়া মন খারাপ করে বাড়ি ফেরে। পরে বউয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে এক ফন্দী আঁটে।

পরদিন সকালে মানিক মিয়া ইত্তেফাক অফিসে ঢুকতে গিয়ে দেখেন সিঁড়ির ওপর পিয়ন ছালাম মিয়া, তার বউ-পোলাপানসহ বসে আছে।

মানিক মিয়া আবারো ঠাণ্ডা গলায় বলেন, ছালাম! এসব কী?

ছালাম একটু মাথা চুলকে বলে, স্যার, আপনি ইত্তেফাকে চাকরী দিসেন, সেই বেতনের টাকায় বিয়া করছি, বউ-পুলাপান হইছে। এখন আপনি চাকরী 'নট' কইরা দিছেন। আমি না হয় আর ইত্তেফাকে নাই, কিন্তু আমার বউ-পুলাপান--এরা তো ইত্তেফাকের সম্পত্তি। আপনি এদের বুইঝা লন, এহন থেইকা আপনিই এদের খাওয়াইবেন, পরাইবেন, পালবেন!

মানিক মিয়া একটু থমকে যান। পরে মুচকি হেসে ছালামকে বলেন, শিগগির একটা রিকশা ডেকে এদের তোর বাসায় পাঠিয়ে দে। আর এখন থেকে আবার কাজে লেগে যা!

চিত্তেফাক

১৯৭৩-৭৪ সালে কথা। বঙ্গবন্ধু সর্বহারা পার্টির উৎপাতে অতিষ্ট। এমন সময় ইত্তেফাকে একটি নিউজ ছাপা হলো, 'সর্বহারা প্রধান সিরাজ সিকদার দলীয় কোন্দলে নিহত।'

সিরাজ সিকদার পার্টির মুখপত্র 'স্ফুলিঙ্গে' ছড়া লিখে নিজেই এর জবাব দিলেন--

সব খবরের মাঝে থাকে
একটি করে মিথ্যে-ফাঁক,
সিআইএ গুজব রটায়
খবর ছাপে ইত্তেফাক!

খোমাখাতা

মিডিয়া পাড়ায় 'আবুল কিসিমের' সাংবাদিক নেহাত কম নেই। এদেরই একজন বাসস-এর (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) সাংবাদিক সাজ্জাদ সাহেব। কনফার্ম ব্যাচেলর সাজ্জাদ ভাই আবার প্রযুক্তি-প্রতিবন্ধীও বটে।

তো সম্প্রতি এক ক্ষুদে সাংবাদিক তাকে কম্পিউটার-ইন্টারনেট সম্পর্কে জ্ঞান দিয়েছে। আর ফেসবুকে খুলে দিয়েছে সাজ্জাদ ভাইয়ের একটি অ্যাকাউন্ট।

সাজ্জাদ ভাইয়ের ধারণা, ফেসবুক ওনার নিজেস্ব সম্পত্তি; এখানে উনি কী করলেন, কেউ বোধহয় তা টের পাবে না!

একদিন তার খোমা খাতায় আমরা কয়েকজন ক্ষুদে সাংবাদিক উঁকি মেরে দেখি, তার বন্ধু তালিকায় যোগ হয়েছে ১১ জন। এদের মধ্যে মেয়ের সংখ্যা ১০ জন, আর মাত্র একজন ছেলে সাংবাদিক রয়েছেন। বালিকাদের মধ্যে আবার কয়েকজন নারী-সাংবাদিকও আছেন।

আরো কিছুদিন পরে আমরা আবার তার খোমা খাতায় উঁকি মারি। দেখি সাজ্জাদ ভাই সাহসী হয়ে উঠেছেন। এক বালিকা সাংবাদিকের দেয়ালে 'চিকা' মেরেছেন:

ওগো সুইটি, তুমি কখন অনলাইনে থাকো? আমি তোমার সঙ্গে চ্যাট করতে চাই!

কিছুদিন পরে দেখা গেলো, সাজ্জাদ ভাইয়ের দেয়ালে তার একমাত্র ছেলে সাংবাদিক বন্ধু পাল্টা 'চিকা' মেরেছে:

সাজ্জাদ ভাই, আপনি দেখি আমার মতোই ভোদাই!

নাটকের 'পাট' প্রসঙ্গে

২০০০-২০০১ সালের কথা। আরেক আবুল সাংবাদিক সোহেল সানি একেবারে কাঠ-বেকার। তার সারাদিনের রুটিন ওয়ার্ক-- সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্যান্টিনে বসে গুলতানি মারা, আর ক্যান্টিনে বাকীতে চা-সিগারেট, দুপুরের ভাত, বিকালের নাস্তা সারা।

সে সময় জসিম আহমেদ নামে আরেক সাংবাদিক পেশা পরিবর্তন করে ইটিভি ও বিটিভির জন্য প্যাকেজ নাটক বানানো শুরু করলো। আর রাতারাতি ওর নাটকগুলোও খুব হিট করলো; জসিম হয়ে উঠলো শো-বিজ অঙ্গণের একটি দামী নক্ষত্র।

তো রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বসে আড্ডাবাজী করতে করতে আর টিভিতে জসিমের নাটকগুলো দেখে সানির ধারণা হলো, সে-ও নাটকে নাম লেখাবে। অভিনয় করে রাতারাতি বিখ্যাত হবে; আর তখন শো-বিজই হবে তার পেশা।

তো এক সকালে সে জসিমকে মোবাইলে ফোন করলো, দোস্ত, আমারে তুমার নাটকে একটা 'পাট' (পার্ট বা রোল) দেও। আমি একটু নিজেরে টিবিতে দেখাইয়া বিখ্যাত হইতে চাই।

জসিম যতোই তাকে বোঝায় যে, অভিনয় একটি শিল্প, এর জন্য রীতিমত প্রশিক্ষণ থাকা চাই; থাকা চাই চর্চ্চা ও মেধা, সানি ততোই নাছোড়বান্দা, না দোস্ত, আমারে যে কোনো একটা 'পাট' দেও...ডায়লাগ না থাকলেও চইলবো, যে কোনো একটা ছোট-খাট 'পাট'।

এরপর তার চললো প্রতিদিনই তার টেলিফোনে ঘ্যানঘ্যান...জসিম তো সানির অত্যাচারে একেবারে অতিষ্ট। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ালো, সানির নম্বর দেখলে জসিম আর টেলিফোন ধরে না। শেষে সানি জসিমের শ্যুটিং স্পটে গিয়ে হাজির হতে লাগলো।

অনেক ভেবেচিন্তে জসিম নিজেই একদিন সানিকে টেলিফোন করলো, দোস্ত তুমার জন্য একটা 'পাট' রাখছি। তুমি রাজি থাকলে বলো।

সানি তো খুশিতে আটখানা, কী 'পাট' দোস্ত?

-তেমন কঠিন কিছু না। এই নায়িকার বান্ধবীর একটা 'পাট'। ডায়লগ নাই। তুমারে ক্যামেরায় দুই-তিনবার ভালো কইরা দেখাইবো।

--তাই বইলা মাইয়ার 'পাট'?

- দেখো দোস্ত, পড়শু দিনই সকালে আমার গাজিপুরে শ্যুটিং। যে মাইয়াটার নায়িকার বান্ধবীর 'পাট' করার কথা ছিলো, সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আর অভিনয়টা এমন কিছু না, নায়িকার হঠাৎ মন খুব খারাপ। সে শালবনের ভেতর লেকের পাড়ে উদাস হইয়া বইসা আছে। পাশে তার বান্ধবী, মানে শাড়ি-চুরি-উইগ-লিপস্টিক পইরা তুমি। ...

সানি একটু আমতা আমতা করতে শুরু করলে জসিম তাকে বুঝিয়ে বলে, দেখো দোস্ত, তুমার ফিগার ভালো, এমন চমৎকার মেকাপ দিমু যে কেউ ধরতেই পারবো না, তুমি পোলা না মাইয়া। আর তাছাড়া আগের দিনে তো যাত্রা-নাটক-সিনেমায় ছেলেরাই মেয়েদের 'পাট' করতো। এতে এতো লজ্জার কিছু নাই। ... তুমি চিন্তা কইরা দেখো, নাটক তো হিট হইবোই; তারপর তুমি হইলা নায়িকার বান্ধবী। একবার যদি তুমারে নায়িকার মনে ধরে...। অবশ্য তুমি রাজী না হইলে অন্য কথা; আমারে বিকল্প খুঁজতে হইবো।

এ পর্যায়ে সানি চিৎকার দিয়ে ওঠে, দোস্ত, আমি রাজী! পড়শু সকালে আমি তুমার শ্যুটিং স্পটে আইতাছি!

এরপর সানি আর নিজেকে সামলাতে পারে না। রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের আড্ডায় জনে জনে বলে বেড়ায় তার এই 'সুখবর'। আমরা যারাই খবরটি শুনি, তারাই মুচকি হাসি, কিন্তু কেউ তাকে গোমর ফাঁস করি না।

রিপোর্টার্স ইউনিটিতে 'সুখবর'টি প্রচার শেষে সানি প্রেসক্লাবে গিয়ে জনে জনে একই খবর প্রচার করে বেড়ায়। এক বেরসিক সিনিয়র সাংবাদিক তাকে গোমরটি ফাঁস করে দিলে সানি তো রেগে একেবারে আগুন।

সে তখনই ফোন করে জসিমকে। কিন্তু কিছুতেই তাকে আর টেলিফোনে পায় না। কারণ জসিম ততক্ষণে মোবাইল ফোনের সিম পাল্টে ফেলেছে।...

আমাদের সালেহ ভাই

বিএনপি সরকারের আমল। বর্ষিয়ান ছড়াকার-সাংবাদিক আবু সালেহ ভাই কখোনো বিদেশে যাননি।

বিএনপি সরকারের সঙ্গে তার সখ্যতার সুযোগে সালেহ ভাই একদিন তখনকার সাংস্কৃতিক মন্ত্রী সেলিমা রহমানের কাছে গিয়ে বললেন, ম্যাডাম, শুনেছি আপনি নাকী একটি সাংস্কৃতিক দলকে জাপান পাঠাচ্ছেন। এই দলে আমাকেও নেন। আমি একটু জাপান ঘুরে দেখতে চাই।

সেলিমা রহমান বললেন, কিন্তু সালেহ সাহেব এই টিমে সবাই তো মেয়ে; আমি তো আপনাকে এই টিমে বিদেশে পাঠাতে পারি না।

সালেহ ভাই মাথা চুলকে বলেন, ম্যাডাম, অভয় দিলে বলি, আসলে ৬০ বছর বয়স হলে ছেলে-আর মেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না!

আবারো সালেহ ভাই

বিএনপি সরকারের সময়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হলেন পুরনো সাংবাদিক মোজাম্মেল হক। মোজাম্মেল ভাই আবার পান-প্রিয়তার জন্য বিখ্যাত।

তো সালেহ ভাই একদিন মোজাম্মেল ভাইকে নিয়ে একটি ছড়া লিখলেন, সেখানে আবার এরকম একটি পংতি আছে:

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাকী এখন মাতাল মোজাম্মেল!

তো মোজাম্মেল ভাই এ কথা শুনে মহাক্ষিপ্ত। সালেহ ভাইকে এক চোট দেখে নেয়ার জন্য প্রায়ই তিনি প্রেস ক্লাবে ফোন করে জানতে চান, সালেহ ভাই সেখানে এসেছেন কী না। কিন্তু অনেকদিন সালেহ ভাইয়ের কোনো খবর নেই।

একদিন সকালে মোজাম্মেল ভাই প্রেসক্লাবে ফোন করে জানলেন, সালেহ ভাই সেখানে এসেছেন। তরিঘরি করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে গাড়ি নিয়ে এলেন প্রেসক্লাবে। দেখেন সালেহ ভাই এক জমাট আড্ডায় ব্যস্ত।

মোজাম্মেল ভাই সবার সামনে ওনাকে ধরে বসলেন, আপনি নাকী আমকে নিয়ে ছড়া লিখেছন?

সালেহ ভাই নির্লিপ্ত গলায় বললেন, হুমম...লিখেছি, তো কী হয়েছে? তাছাড়া এটা লেখকের ব্যক্তি স্বাধীনতা। আমি কী নিয়ে ছড়া লিখবো, না লিখবো, সে কৈফিয়ত আমি কাউকে দেবো না!

--দেখুন, আমিও কিন্তু আপনাকে নিয়ে এ রকম ছড়া লিখতে পারি।

-আপনি পারলে লিখুন না; আপনাকে বাধা দিচ্ছে কে?

--আমি এই মুহূর্তেই আপনাকে নিয়ে ছড়া লিখতে পারি।

-আচ্ছা লিখুন তো দেখি!

--শোনেন তাহলে:

ওরে আমার সালেহ
বিএনপি হলি হালে,
তোরে পোঁছে কোন ?ালে!...

---

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28969438 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28969438 2009-06-25 16:55:01
প্রেস জোকস-৩ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" /> Click This Link
প্রেস জোকস-২ Click This Link
গণমাধ্যমে প্রায়ই মজার মজার কিছু সত্যি ঘটনা ঘটে। এ সব কখনো কখনো প্রচলিত হাস্য কৌতুককে হার মানিয়ে দেয়। আবার এসব প্রেস জোকসের নেপথ্যে থাকে কষ্টকর সাংবাদিকতা পেশাটির অনেক অব্যক্ত কথা। এমনই কিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে এই 'প্রেস জোকস' পর্ব।

আমি বাংলার, বাংলা আমার

১৯৯৩-৯৪ সালের কথা। দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার চিত্রশিল্পী সেনবাবু পান-প্রিয়তার জন্য বিখ্যাত। পকেটে ৫০ টাকা থাকলে উনি বাংলা, ৫০০ টাকা থাকলে কেরু আর ৫,০০০ টাকা থাকলে ফরেন লিকার টানতেন। আমাদের এই দাদাটি অবশ্য প্রতিদিন পান করতেন না; সপ্তাহে শুধু দুদিন তিনি মদ খেতেন; যেদিন বৃষ্টি হতো, আর যেদিন বৃষ্টি না হতো।

আর খুব মুডে থাকলে উনি গুনগুন করে গান করতেন, আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতোপ্রোত মেশামেশি, আমি বাংলা ভালবাসি।...

আমরা ক্ষুদে সাংবাদিকরা তখন একটু মুচকি হেসে বলতাম, হ’ দাদা, কবিয়াল রমেশ শীল এই গানটি আপনার জন্যেই লিখেছিলেন!

সে সময় মোবাইল টেলিফোনের এতো চল হয়নি; অ্যানালগ ল্যান্ড ফোনই ভরসা। একদিন সন্ধ্যার পর কী কাজে যেনো ফোন করেছি, বাংলাবাজার পত্রিকায়। বন্ধু-বান্ধব কাউকে না পেয়ে সেনবাবুকে খুঁজলাম।

ওপাশে ফোন কে ধরেছিলেন, জানি না। রসিকজন বললেন, দাদা তো এখন ‘বাংলাবাজারে’ নেই। ওনাকে এখন পাওয়া যাবে ‘বাংলার বাজারে’!

আবারো সেনবাবু সমাচার

এক গ্রীষ্মে আমরা কয়েকজন ক্ষুদে সাংবাদিক সেনবাবুর সঙ্গে পান করতে বসেছি। ফরেন লিকার, পান-অনুপান, কোনোটারই অভাব নেই।

তো মদ গিলতে গিলতে অনেক রাত হলো। দাদাবাবু এক সময় মাতাল হয়ে পড়লেন। হঠাৎ শুরু হলো তার অঝোর ধারায় কান্না। আমরা কিছুতেই তার কান্না থামাতে পারি না।

আমরা সেনবাবুর চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে আদুরে গলায় জানতে চাই, কী হয়েছে দাদা, আমাদের বলুন।

দাদা ভেউ ভেউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আর বলিস না, কাল রাতে আমি কাঁঠাল খাইসিলাম।....এইটুকু বলে আবার তার ভ্যাঁএএএএএ শুরু হলো।....

--তারপর? কাঁঠাল খেয়েছেন তো কী হয়েছে? এ নিয়ে কান্নার কী হলো?
দাদা আবারো কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আর বলিস না, কাঁঠাল একটা জাতীয় ফল; আর আমি কী না এইটা বইসা বইসা খাইলাম!...

প্রিজন্স সমীপে

এক-এগারোর পরে রাজনৈতিক রথি-মহারথিরা গণহারে গ্রেফতার হতে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে দুই নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা-খালেদাও আছেন। আর এই দুই নেত্রীকে রাখা হয়েছে শেরে বাংলা নগরের বিশেষ কারাগারে।

তো প্রায় প্রতিদিনই তাদের মামলা ও জেলখানার বন্দি জীবনের নানা দিক নিয়ে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন্স) মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

সেদিনও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ২০-২৫ জন সাংবাদিক মেজর সিদ্দিকীকে ঘিরে ধরেছেন। ব্রিফিং চলছে...সবাই মন দিয়ে নোট নিচ্ছেন, বক্তব্য রেকর্ড করছেন। ব্রিফিং শেষে ২৪ ঘন্টার টিভি চ্যানেল সিএসবি-নিউজের (আধুনা লুপ্ত) এক ক্ষুদে সাংবাদিক হঠাৎ মেজর সিদ্দিকীর পুরো নাম জানতে চাইলেন।

উনি একটু থতমত খেলেন। কারণ ততদিনে তিনি মিডিয়ায় খুব পরিচিত একটি নাম। তবু অমায়িক একটি হাসি দিয়ে তিনি বলেলেন, আমি মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী, ডিআইজি-প্রিজন্স।

ওই সাংবাদিকের পরের প্রশ্ন, মেজর শামসুল হায়দার সিদ্দিকী তো আপনার নাম; তো ‘প্রিজন্স’ কী আপনার ডাক নাম?

বুঝুন অবস্থা!

আমি সাংবাদিক!

কয়েক বছর আগের কথা। কাওরান বাজারের একটি শীর্ষ দৈনিক পত্রিকার একজন সিনিয়র রিপোর্টার। খুব খ্যাতনামা সাংবাদিক হলেও চালচলনে উনি খুব সাদাসিদে।
একদিন অফিস যাওয়ার জন্য তিনি প্রেসক্লাব থেকে লোকাল বাসে উঠলেন। সামনের কয়েকটি আসন ফাঁকা থাকলেও তিনি একেবারে পেছনের একটি সিটে গিয়ে বসলেন।

একটু পরে ওই একই অফিসের পিয়ন কালাম মিয়াও উঠলো একই বাসে; সে-ও অফিসে যাচ্ছে। কালাম মিয়া বসেছে সামনের দিকের একটি সিটে। সে অবশ্য ওই রিপোর্টারকে খেয়াল করেনি।

একটু পরে বাস ছাড়তে না ছাড়তেই ওপাশ থেকে আসতে শুরু করলো একটি বিশাল মিছিল। তো কালাম মিয়া লাফিয়ে উঠে ড্রাইভারকে বললো, এই ড্রাইভার, জলদি গাড়ি থামাও। আমি অমুক পত্রিকার সাংবাদিক। এটা কিসের মিছিল, তা আমাকে জানতে হবে!

ড্রাইভার বাস থামালেন। শীর্ষ পত্রিকার নাম শুনে ভরা-বাসের যাত্রীরা সকলে সশ্রদ্ধায় উঁকি-ঝুঁকি মেরে দেখতে শুরু করলেন পিয়ন কালামকে। আর কালামও খুব স্মার্টলি পকেট থেকে একটি নোট প্যাড ও বল পয়েন্ট বের করে জানালা দিয়ে মিছিলটি দেখে নিয়ে কী যেনো টোকাটুকি করলো। এর পর সে বেশ ডাঁটের সঙ্গে বললো, এই ড্রাউভার! গাড়ি চালাও!

এদিকে ওই সিনিয়র রিপোর্টার তো লজ্জায় পারলে সিটের নীচে মাথা লুকান।...

সাংবাদিক না ছাই!

১৯৭২-৭৩ সালের কথা। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশে দৈনিক 'পাকিস্তান অবজার্ভার’ নাম বদলে হয়েছে ‘বাংলাদেশ অবজার্ভার’। সে সময় এটি খুবই নামকরা একটি ইংরেজী কাগজ। আর ভাষাশৈলীও ছিলো চমৎকার। মদ্যবিত্ত বাবা-মা বাসায় অবজার্ভার রাখতেন, যেনো ছেলে-মেয়েরা পত্রিকাটি পড়ে কিছু ইংরেজী শেখে।

সে সময় অফিস-আদালতে কম্পিউটার চালু হয়নি। কাজ-কর্মে টাইপরাইটারই ছিলো ভরসা। দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিকরাও সংবাদটি প্রথমে টাইপরাইটারে লিখতেন। পরে এটি সম্পাদনার পর ছাপা হতো প্রেসে।

তো অবজার্ভারের এক সাংবাদিক বিয়ে করবেন; পাত্রী পক্ষ এক সন্ধ্যায় গোপনে অবজার্ভার অফিসে গিয়ে সাংবাদিকের কাজ-কর্ম দেখেও গেলেন। তারপর তারা আর বিয়েতে কোনোভাবেই রাজী নয়।

পাত্র কাম সাংবাদিক দেখা করলেন মেয়ের বাবার সঙ্গে। মেয়ের বাবা তো মুখ খিঁচিয়ে উঠলেন, আমরা তোমার অফিসে গোপনে খোঁজ নিয়েছি। তুমি সাংবাদিক না ছাই; তুমি তো সেখানে টাইপিস্ট!

সাংবাদিকের বিয়ের তিন বছর

সংবাদিকদের প্রায়ই কাজ সেরে বাসায় ফিরতে ফিরতে গভীর রাত হয়ে যায়। কখনো কখনো ভোররাত।

তো মিডিয়া পাড়ায় সদ্য বিবাহিত সাংবাদিকদের নিয়ে একটি গল্প খুব চালু আছে। গল্পটি এ রকম:

বিবাহিত সাংবাদিক নাকী বিয়ের প্রথম বছরে অনেক রাতে বাসায় ফিরে দেখে টেবিলে ঢাকা দেয়া ভাত গরম; আর বউও গরম।

বিয়ের দ্বিতীয় বছরে তারা অনেক রাতে বাসায় ফিরে দেখে টেবিলের ভাত গরম; কিন্তু বউ ঠাণ্ডা।

বিয়ের তৃতীয় বছরে সাংবাদিক গভীর রাতে বাসায় ফিরে দেখে টেবিলের ভাত ঠাণ্ডা; আর বউও ঠাণ্ডা!!

(চলবে)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28966724 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28966724 2009-06-19 16:07:27
গুডবাই মি. জেনারেল
মি. জেনারেল, আপনি ছিলেন একই সঙ্গে এক-এগারোর প্রধান সেনা নায়ক (নাকী স্বপ্নদ্রষ্টা?)। ইয়াজউদ্দিন-আজিজ-খালেদা আর লগি-বৈঠার অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে জরুরী আইন জারী করার পর আপনারই নেতৃত্বে আমরা এদেশে প্রথমবারের মতো পেয়েছি সেনা শাসনের ছদ্মবেশে ‘সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার’! আম জনতাকে কাঁঠালের এই আমস্বত্ত্ব উপহার দেয়ার জন্য পুরো কৃতীত্ব আপনার না হলেও এর প্রধান কৃতীত্ব আমি আপনাকেই দিতে চাই।

আপনিই দেশের একমাত্র সেনা প্রধান, যার শাসন মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে আরো এক বছরের জন্য এই মেয়াদ শুধু বাড়ানোই হয়নি, কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহে সৌর্য্য-বীর্য ছাড়াই লেফটেনেন্ট জেনারেলের পদ থেকে আপনি পেয়েছেন সরাসরি জেনারেলের উঁচু পদটি। অবশ্য আপনি শেষ পর্যন্ত ফিল্ড মার্শাল পদটিও পেলে আমরা আম জনতা ‘হুজুরের মতে অমত কার’ই হয়তো করতাম!

মি. জেনারেল, এরশাদ সামরিক জান্তার পতনের পর আপনিই প্রথম সেনা উর্দি পরে রাজনীতির ঘোড়া শুধু দেশে-বিদেশে নয়, এমন কী সাফল্যের সঙ্গে আকাশেও উড়িয়েছিলেন। খালেদা-হাসিনাসহ শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দি, মাইনাস টু ফর্মূলা, রাজনৈতিক সংস্কারের ধুঁয়া, জলিলের জেল খানার চিঠি ও সিডি, মঞ্জুসহ শাতাধিক নেতার পলায়ন, চেয়ারম্যানদের পুকুর থেকে ত্রাণের টিন উদ্ধার, আরেক সাবেক সেনা প্রধান মশহুদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা এবং সামরিক দুর্নীতিবাজদের সর্ম্পকে আশ্চর্য নিরবতায় সামান্য হলেও অবদান নিশ্চয়ই আপনার আছে।

রাতারাতি চালের দাম ২৫-২৬ টাকা থেকে ৪০+ টাকায় দাঁড়ালে আপনি নিয়ে আসেন আলু-তত্ব (বাংলাদেশে আলু হইলো খোদার আশির্বাদ-মমতাজ)। খালেদা জিয়ার পরিত্যাক্ত ডাল-ভাত কর্মসূচি (পরে বিডিআর-বিদ্রোহে আমাদের আবারো মনে পড়বে এর কথা) আপনিই সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সাফল্যের সঙ্গে। সীমান্তের অতন্ত্র প্রহরীরা প্রখর রোদে চাল মেপে দিচ্ছে, আর তা সংগ্রহ করতে ভোর বেলা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছে মুটে-মজুর-- এমন শীর্ষ ছবি তখন সংবাদপত্রে ফলাও করে কতোই না ছাপা হয়েছে!

আপনিই আমাদের দিয়েছেন, ‘ওন ব্র্যান্ড অব ডেমোক্র্যাসি’ বা নিজস্ব ধাঁচের গণতন্ত্রের এক নতুন ধারণা। চাকরী বিধি লংঘন করে কী না জানি না, আপনি লিখেছেন, একাধিক জ্ঞানতাত্বিক গ্রন্থ। আমরা টিভিতে দেখেছি, বই মেলায় আপনাকে উচ্ছিসিত অবস্থায় এই সব বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে। শীর্ষ রাজনীতিবিদ, সম্পাদক-সাংবাদিক থেকে শুরু করে রথি-মহা রথিরাও হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন আপনার অটোগ্রাফের জন্য!

মি. জেনারেল, অবশ্য ২০ আগস্ট ২০০৭ এর ছাত্র-বিক্ষোভের সময় আপনার বীর সেনানীরা পশ্চাদে পদাঘাত খেয়েছিলো, আর সেটিও এখানে না বললেই নয়। শিথিল জরুরি অবস্থার সুযোগে প্রথমে ঢাকা, পরে দেশের আরো কয়েকটি এলাকায় শুরু হলো ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ। আপনার হুকুমে ‘দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনী’ ভিডিওর ছবি দেখে ছাত্র-শিক্ষক গ্রেফতারই করে ক্ষান্ত হলো না; পাক সেনার কায়দায় গভীর রাতে ঢাবি ও রাবি শিক্ষকদের বাসায় হানা দিয়ে চোখ বেঁধে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হলো।

পরে বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিষয়টি ফাঁস হলে আবার রাষ্ট্রপতি রাতারাতি তাদের মামলা প্রত্যাহার করে ক্ষমাও ঘোষণা করেন! সত্যিই এমন উদারপনা সুমহানদেরই মানায় বটে।

আপনি ভারতের সেনা প্রধানের কাছ থেকে লাল গালিচা সম্বর্ধনা নিয়েছিলেন; সেটি তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আমরা চমকিত হয়েছি তাঁর দেয়া ছয়টি ঘোড়াসহ আপনার গর্বিত মুখ দেখে। তখন অবশ্য চায়ের আড্ডায় নিন্দুকেরা বলেছিলো, আপনি নাকী ‘সিক্স হর্স পাওয়ার’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিলেন।

‘ওন ব্র্যান্ড অব ডেমোক্র্যাসির’ প্রবক্তা মি. জেনারেল, ‘সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ সময় গণমাধ্যম ভোগ করেছে ‘ফ্রিডম অব ডিপ্রেশন’। টিভি চ্যানেলগুলোর টক-শোগুলোর সরাসরি সম্প্রচার ছিলো বন্ধ। এমন কী শুনতে পাই, কোন টক শো'তে কোন কোন অতিথি কী বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন, তা-ও নাকী উত্তর পাড়া থেকে নির্ধারণ করা হতো। আর পত্রিকাগুলোতে সামান্য হুমকি-ধামকি দিয়ে পাঠানো হতো আদুরে সব শাহী ফরমান! তাসনিম খলিল, কার্টুনিস্ট আরিফ -- এরা তো এ সবেরই বাই-প্রডাক্ট, তাই না?

আদিবাসী নেতা চলেশ রিছিল নিরাপত্তা হেফাজতে পিটুনি খেয়ে মরেছিলেন। সেদিক থেকে এক-এগারো পর গ্রেফতার হওয়া পাহাড়ি নেতা রাংলাই ম্রো বা সত্যবীর দেওয়ান অনেক সৌভাগ্যবান বটে। তাঁরা মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার হয়ে সেনা পিটুনিতে হাত-পা ভাঙলেও অন্তত প্রাণে তো বেঁচে আছেন!

অন্যদিকে, ছবিসহ নির্ভুল ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন, বিডিআর বিদ্রোহের যৌক্তিক অবসান, এই বিদ্রোহকে ঘিরে সেনা কর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আংশিক তথ্য-চিত্র ইউটিউবে ফাঁস হওয়ার দায়ে এ দেশে ইউটিউব সাময়িকভাবে ব্যান করা, দুর্নীতি বিরোধী দেশব্যাপী রোড-শো এবং ‌'সাদা মানুষের' সন্ধানলাভ -- ইত্যাদির সাফল্য আমি আপনাকেই দিতে চাই।

মি. জেনারেল, এই সব বহুবিধ কারণে বিদায় বেলায় আমি আপনার করমর্দন করতে চাই। আপনি এক সামান্য অক্ষরজীবী ব্লাডি সিভিলিয়ানের উষ্ণ অভিনন্দন গ্রহণ করুন!

---
ছবি : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28964936 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28964936 2009-06-15 15:13:53
কল্পনা চাকমা অপরহরণের ১৩ বছর: একটি প্রচারপত্র

আজ কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৩ তম বার্ষিকী।

১৯৯৬ সালের এই দিনে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদিকা কল্পনা চাকমা রাঙামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ির নিউ লাইল্যাঘোনা গ্রামের বাড়ি থেকে অপহৃত হন। কল্পনার মা ও দুই ভাই, যারা এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শি, তারা এই অপহরণের জন্য স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের লেফটেনেন্ট ফেরদৌসকে দায়ী করেছিলেন।

এই ঘটনা সে সময় দেশি-বিদেশী মিডিয়ায় ঝড় তোলে। পাহাড় ও সমতলে গড়ে উঠে যুগপদ আন্দোলন।...

এরপর সরকারের পর সরকার বদল হয়। কাচালং, চেঙ্গী, মাইনী, শঙ্খ, মাতামুহুরি, কাপ্তাই ও কর্ণফুলিতে গড়িয়ে যায় অনেক ঘোলা জল। ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয়ে তা কাগুজে চুক্তিতেও পরিনত হয়। ...

কিন্তু পাহাড়ি মেয়েটির আর সন্ধান মেলে না। সুরাহা হয় না বাঘাইছড়ি থানায় দায়ের করা অপহরণ মামলাটি। হিমাগারের অতল গহব্বরে হারিয়ে যায় সরকারি তদন্ত রিপোর্ট। স্তিমিত হয়ে আসে তাকে উদ্ধারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন।

আর এই ১৩ বছর ধরে কল্পনা চাকমা অপহরণের মতো এতো বড় একটি মানবাধিকার লংঘনের দায় বাংলাদেশ নামক কথিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বহন করে চলে। ...কল্পনার পাহাড়ি বন্ধুরা তাদের সহকর্মী হারানো বেদনা বহন করে চলেন ওই ১৩ বছর ধরেই।...

আর আমরা যারা নিজেদের শুভ বুদ্ধির মানুষ বলে দাবি করি, সেই সব সংখ্যাগুরু বাঙালিদের মনের গহিনে কী ১৩ বছরের পুরনো এই কাঁটা কী ক্ষত সৃষ্টি করে না?

*

আজ কল্পনার অপহরণ দিবসে সকাল ১০টায় 'পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন' ঢাকার শাহবাগের জাদুঘরের সামনে আয়োজন করে এক মানববন্ধন কর্মসূচির। পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষক, নারী নেত্রী, রাজনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মীসহ বুদ্ধিজীবী মহল।

মানববন্ধনের কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিশিষ্ট কলামিস্ট আবুল মোমেন, লেখক শাহরিয়ার কবির, আদিবাসী নেতা ও লেখক সঞ্জিব দ্রং, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, ঢাবির শিক্ষক রুবাইয়াৎ ফেরদৌস, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা হায়দার আকবার খান, নারী নেত্রী ফরিদা আখতার, অ্যাডভোকেট খালেদা খাতুন, সাঁওতাল আদিবাসী নেতা রবীন্দ্র নাথ সরেন, পাহাড়ি নেতা দীপায়ন খীসা প্রমুখ।

তো এই মানববন্ধনের কর্মসূচিতে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন' যে প্রচারপত্র বিলি করে, তার নির্বাচিত অংশ অনেকটা এরকম:

কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৩ বছর: রাষ্ট্র আর কতকাল মূক ও বধির হয়ে থাকবে?? তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

সংগ্রামী দেশবাসী,

কল্পনা চাকমা শাসকশ্রেণীর জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামের আগুয়ান সৈনিক। তিনি লড়াইয়ের ময়দানে সরাসরি অংশ গ্রহণ করে জুম্ম (পাহাড়ি) জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রামকে সংগঠিত করেছেন। তিনি ছিলেন নারী-পুরুষের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার। শ্রমজীবী জনতার মুক্তি-সংগ্রামের দর্শনকে আত্মস্থ করেছিলেন তিনি।

কল্পনা অপহরণের পর জুম্ম জনগণ যেভাবে প্রতিরোধে গর্জে উঠেছিলো, ১৯৯৬ সালের ২৭ জুন কাচালং জনপদে রূপম, সুকেশ, মনতোষদের বীরত্বপূর্ণ আত্নবলিদানের সেই সুমহান পথে জুম্ম জনগণ এখনো সমভাবে আগুয়ান। হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি কল্পনা চাকমার প্রদর্শিত পথে আপোষহীন ধারার জুম্ম জনতার আত্ন-নিয়ন্ত্রাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা পালনের সাহসী শপথ নিতে চায়।

আসুন, আমাদের সাথে সোচ্চার হয়ে আওয়াজ তুলুন:

১. অবিলম্বে অপহরণ রিপোর্ট প্রকাশ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

২. পার্বত্য অঞ্চলে সংগঠিত নারী ধর্ষণ, অপহরণ ও গণহত্যাসহ মানবাধিকার লংঘনের সকল ঘটনার শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

৩. সকল অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প ও 'অপারেশন উত্তরণ' প্রত্যাহারপূর্বক সেনা বাহিনীকে স্থায়ী সেনা নিবাসে ফিরিয়ে আনতে হবে।

এবং

৪. অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে হবে।।

---
ছবি: ১. শুভাশীষ চাকমা, ২, ৩ ও ৪. লেখক। আরো পড়ুন, ১. কল্পনা চাকমা: একটি আহ্বান http://www.sachalayatan.com/biplobr/24938, ২. কল্পনা চাকমা এখন কোথায়? Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28963636 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28963636 2009-06-12 14:04:17
প্রেস জোকস-২ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" /> গণমাধ্যমে প্রায়ই মজার মজার কিছু সত্যি ঘটনা ঘটে। এ সব কখনো কখনো প্রচলিত হাস্য কৌতুককে হার মানিয়ে দেয়। আবার এসব প্রেস জোকসের নেপথ্যে থাকে কষ্টকর সাংবাদিকতা পেশাটির অনেক অব্যক্ত কথা। এমনই কিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে এই 'প্রেস জোকস' পর্ব।

আবারো রাজু ভাই বৃত্তান্ত
--------------------
দৈনিক সংবাদের স্টার রিপোর্টার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মহিদুল ইসলাম রাজু ভাই (এখন এটিএন বাংলায়) একদিন হুট করে সংবাদ ছেড়ে দিলেন। যোগ দিলেন 'মাতৃভূমি' নামে একটি নতুন দৈনিকে চিফ রিপোর্টার হিসেবে। ২০০০-২০০১ সালের ঘটনা। সংবাদের মতো এটি প্রাচীন দৈনিকে চাকরি ছেড়ে স্বল্প পুঁজির কাগজে যোগ দেয়ার ঘটনায় আমরা ক্ষুদে সাংবাদিকরা বেশ অবাক হই।

তো একদিন রাজু ভাইকে আমি রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিসে ধরে বসি, আপনি হুট করে সংবাদ ছেড়ে দিলেন কেনো? সেখানে তো আপনি বেশ ভালো অবস্থানেই ছিলেন!

রাজু ভাই দাঁত খিঁচিয়ে বললেন, শোন বিপ্লব, আহমেদুল কবির একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সিলেটে তার খুব সুন্দর চা বাগান আছে। সেখানে আরো সুন্দর একটি বাংলো আছে। সেই বাংলোতে একটি অ্যালসেশিয়ান কুত্তা আছে। আবার আহমেদুল কবিরের সংবাদ নামে একটি পত্রিকাও আছে। সেখানেও তার আরেকটি অ্যালসেশিয়ান কুত্তা আছে। সেটি হচ্ছে চিফ রিপোর্টার অমুক। এই কুত্তার সঙ্গে আর যা-ই হোক সাংবাদিকতা করা যায় না; বড় জোর ঘেউ ঘেউ করা যায়!!

মতি চৌ কাণ্ড
-----------
১৯৯৩-৯৪ সালের কথা সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী দৈনিক বাংলা বাজারের সম্পাদক হলেন ( এখন দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক)। তখন সংবাদপত্রে বানানরীতি নিয়ে নানা পরীক্ষা-নীরিক্ষা চলছে। একেক বাংলা দৈনিক একেক ধরণের বানানরীতি দিয়ে নিজেদের স্বকীয়তা ঘোষণা করতে চাইছে। এইসব নিয়ে চলছে, যাচ্ছে-তাই কাণ্ড।

মতি চৌধুরী ভাই একদিন বার্তা বিভাগে ঘোষণা দিলেন, এখন থেকে দৈনিক বাংলাবাজারে কোনো দীঘ-ঈ (ী) চলবে না। সব বানান হ্রস্ব-ই (ি) দিয়ে লিখতে হবে। এটিই নাকী আধুনিক বানানরীতি।

তো সাংবাদিকরা ওইদিন বিদ্যাসাগর-রবীন্দ্রনাথ/সংসদ-বাংলা একাডেমী ভুলে যেতে বাধ্য হলেন। সবাই দীর্ঘদিনের অভ্যাস দীর্ঘ-ঈ বাদ দিয়ে সব বানানে হ্রস্ব-ই দিতে থাকলেন। এমনকী সেদিন প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদকের নাম মতিউর রহমান 'চৌধুরী'র বদলে ছাপা হলো মতিউর রহমান 'চৌধুরি'!!

পরদিন সকালে মতি চৌধুরী ভাই কাগজ দেখে ছুটে এলেন অফিসে। জরুরী বৈঠক ডাকলেন সব বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে বললেন, ইয়ে মানে, আমার মনে হয়, প্রচলিত বাংলা বানানরীতি এখনই বদলানো ঠিক হবে না। এ নিয়ে আমাদের আরো ভাবনার অবকাশ আছে--ইত্যাদি।...

আমাদের তাজ ভাই
---------------
দুর্ধর্ষ ক্রাইম রিপোর্টার আমিনুর রহমান তাজ ভাইকে চেনেন না, এমন সাংবাদিক বুঝি কমই আছেন। চাকরী জীবনের শুরুতে ক্ষুদে ক্রাইম রিপের্টার হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজে তাজ ভাইয়ের কাছে রিপোর্টিং শেখার সুযোগ হয়েছিলো (তাজ ভাই এখন দৈনিক আমাদের সময়ে)। তাজ ভাইয়ের মজার মজার অনেক ঘটনা নিয়ে অনেকদিন আগে একবার সচলে লিখেছিলাম। যারা সেটি পড়েননি, তাদের জন্য চুম্বক-অংশটি আবারো বয়ান করছি।

১৯৯৪-৯৫ সালের কথা। বিএনপি সরকারের সময় আওয়ামী লীগ প্রায় ২৪/৪৮/৭২ ঘন্টার, এমন কী লাগাতার হরতাল ডাকতো। আর হরতাল হলেই আমরা যারা ক্রাইম-রিপোর্টার তাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাস্ততা বাড়তো। এই হয়তো খবর পেলাম, অমুকখানে বোমা ফেটেছে, কী অমুক জায়গায় গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাজা খবর সংগ্রহ করার জন্য 'সংবাদপত্র' ব্যানার লাগানো বেবী ট্যাক্সি নিয়ে ছুটতাম সেখানে। আর বরাবরই তাজ ভাইয়ের সঙ্গে হরতালের ডিউটি আমার খুব পছন্দ ছিলো। এর কারণ হচ্ছে: তার সঙ্গে থাকলে হাতে-কলমে কাজ শেখা যাবে; তাছাড়া তাজ ভাইয়ের সান্নিধ্যে থাকলে চা-সিগারেট, এমন কী দুপুরের খাবার, বিকালের নাস্তা --ইত্যাদি ছিলো ফ্রি। সিনিয়র হওয়ার সুবাদে সব খরচ উনি একাই বহন করতেন।

তো এক হরতালের ভোরে অফিসের বেবী ট্যাক্সি নিয়ে তাজ ভাইয়ের বাসায় গিয়াছি। ওনাকে বাসা থেকে তুলে এক সঙ্গে ডিউটিতে বের হবো।

একতলার বাসার নীচে এসে অনেকক্ষণ কলিং বেল বাজালাম, ‘তাজ ভাই, তাজ ভাই’ বলে ডাকাডাকি করলাম; কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নাই।

খেয়াল করে দেখি, সদর দরজা সামান্য খোলা। উঁকি মেরেই সরে আসি, খাটের ওপর ভাবী খোলা পিঠে পেছন ফিরে শুয়ে আছেন, পরনে শুধু পেটিকোট।

এদিকে ডিউডিতে যাওয়ার দেরি হচ্ছে দেখে কিছুক্ষণ পরে আবার হাঁকডাক শুরু করলাম। এইবার চোখ ডলতে ডলতে তাজ ভাই নিজেই বের হলেন। খালি গা, পরনে পেটিকোট!

--তাজ ভাই, এ কী অবস্থা?
-- আর বলিস না। কাল অফিস থেকে অনেক রাতে বাসায় ফিরেছি। বৌ - বাচ্চা সবাই গভীর ঘুমে দেখে কাউকে আর ডাকিনি। কিন্তু কিছুতেই লুঙ্গি খুঁজে পেলাম না। শেষে তোর ভাবীর একটা পেটিকোট পরে শুয়ে পড়েছি!...

রাশান কৌতুকভ
-------------
এবার একটি রুশ দেশীয় প্রেস জোকস। সোভিয়েত বিপ্লবের পর 'প্রাভদা' রাতারাতি বিশ্বের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকগুলোর মধ্যে একটি হয়ে দাঁড়ালো। স্ট্যালিন শাসনের অবসান হওয়ার পর ক্রশ্চেভের শাসন চলছে। তো ক্রশ্চেভ একদিন একটি শুয়োরের খামার পরিদর্শন করলেন।

ওইদিন রাতে প্রাভদার বার্তা সম্পাদক এ বিষয়ক একটি লিড ছবির ক্যাপশন নিয়ে পড়লেন বিপাকে। একেকবার একটি ক্যাপশন দিচ্ছেন, কোনোটিই মন মতো হচ্ছে না। কেউ একজন ক্যাপশন প্রস্তাব করলেন, শুয়োরের খামারে কমরেড ক্রশ্চেভ। নাহ ...হলো না। এটি বাদ পড়লো। আরেকজন প্রস্তাব করলেন, শুয়োরদের সঙ্গে হাস্যজ্জল কমরেড ক্রশ্চেভ। নাহ্...এটিও বাদ গেলো।

যা-ই হোক। অনেক গবেষণার পর বার্তা সম্পাদক ওই ছবির একটি যুতসই ক্যাপশন দিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করলেন। আর সেই ক্যাপশনটি ছিলো:

কমরেড ক্রশ্চেভ, বাম দিক থেকে তৃতীয় (ক্রস চিহ্নিত)।।

---
প্রেস জোকস-১ Click This Link

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28963251 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28963251 2009-06-11 16:38:28
প্রেস জোকস-১ <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_73.gif" width="23" height="22" alt="=p~" style="border:0;" /> গণমাধ্যমে প্রায়ই মজার মজার কিছু সত্যি ঘটনা ঘটে। এ সব কখনো কখনো প্রচলিত হাস্য কৌতুককে হার মানিয়ে দেয়। আবার এসব প্রেস জোকসের নেপথ্যে থাকে কষ্টকর সাংবাদিকতা পেশাটির অনেক অব্যক্ত কথা। এমনই কিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে এই 'প্রেস জোকস' পর্ব।
ট্যাক্স ফ্রি
--------
বিখ্যাত ফটো সাংবাদিক মোহাম্মাদ আলম (কিছুদিন আগে প্রয়াত) ভাইয়ের ঘটনা। ১৯৭২-৭৩ সালে আলম ভাই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী। পানপ্রিয় আলম ভাই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সাথে মস্কো সফর শেষে দেশে ফেরার সময় সাথে নিয়ে এসেছেন এক বোতল রাশান ভোদকা। তো তেজগাঁ বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা কিছুতেই তাকে ছাড়বেন না। তারা ভোদকার জন্য ট্যাক্স দাবি করে বসলেন। এদিকে আলম ভাই কর্পদশুন্য।

তিনি যতই মুক্তিযোদ্ধা ফটোসাংবাদিক হন বা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ফটোসাংবাদিক হন, কাস্টমস কর্মকর্তারা নাছোড় বান্দা। আলম ভাই কিছুতেই তার কোনো ক্ষমতা ফলাতে না পেরে শেষে সবার সামনে বিমানবন্দরের লাউঞ্জেই ভোদকার বোতলে মুখ দিয়ে একটানে বোতল খালি করে ফেললেন। তারপর ঢেঁকুর তুলে ঢাকাইয়া উচ্চারণে বললেন, এইবার কী যাইতে পারমু? পেটের ভিতর ভুদকা থাকলে তো আর ট্যাক্স দেওন লাগবো না, না কী?

চট্টগ্রামে কেজি অচল
----------------
এরশাদ আমলের কথা। দৈনিক সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার জাফর ওয়াজেদ ভাইকে সম্পাদক কেজি মুস্তফা ঢাকা থেকে হঠাৎ করেই বদলী করলেন চট্টগ্রাম অফিসে।

জাফর ভাই তো মহা বিরক্ত। তিনি এটিকে পানিশমেন্ট পোস্টিং হিসেবে মনে করলেন। একে তার সব নিউজ-সোর্স ঢাকায়; তার ওপর তিনি চট্টগ্রাম শহরটিকে ভালো করে চেনেন না, চাটগাঁইয়া ভাষাও বোঝেন না। যা-ই হোক, তিনি খবর নিয়ে জানলেন, কেজি ভাই রোববারে সাপ্তাহিক ছুটি কাটান। আর ওইদিনই তিনি চট্টগ্রাম থেকে একটি বিশেষ রিপোর্ট পাঠালেন, শিরোনাম 'চট্টগ্রামে কেজি অচল'।

ঘটনা হচ্ছে, মন-সের মাপের পরিবর্তে এরশাদ সরকার তখন সারাদেশে মেট্রিক পদ্ধতির কেজি-লিটার ইত্যাদি চালু করলেও চট্টগ্রামের হাট-বাজারে তখনো প্রাচীন পরিমাপ পদ্ধতি চলছে। এই নিয়ে ছিলো সেই খবর।

বার্তা সম্পাদক সেটি সরল মনে প্রথম পাতায় ছেপে দিলেন। পরদিন সকালে সম্পাদক কেজি ভাই কাগজ দেখে অফিসে এসে হাজির। গম্ভীর ভাবে এখানে-সেখানে পায়চারী করছেন। রাগে-দু:খে কিছু বলতেও পারছেন না। পরে বার্তা সম্পাদকের টেবিলে এসে ওই খবরটি আঙুল দিয়ে চিহ্নিত করে বললেন, এহ! এটা কোনো খবর হলো? এটি প্রথম পাতায় না দিলেও তো চলতো!

একটি অভিনব পদত্যাগ
------------------
গণমাধ্যম কর্মী মাত্রই জানেন, কর্মস্থল বদল করলে আগের অফিস বকেয়া বেতন-ভাতা দিতে চায় না। এমন কী বকেয়া টাকা আদায়ে মামলা করে বছরের পর বছর ঘুরেও পাওনা টাকা আদায় করা যায় না।

তো ১৯৯৯-২০০০ সালের ঘটনা। দৈনিক সংবাদের একেবারে পড়তি অবস্থা। ইত্তেফাক, জনকন্ঠ, ভোরের কাগজ, প্রথম আলোর তখন বাজার ভালো। আর সংবাদে চার-পাঁচ মাস করে সাংবাদিকদের বেতন বকেয়া পড়েছে; ওভার টাইমসহ অন্যান্য বিল তো আছেই।

এই সময় দৈনিক যুগান্তর প্রকাশ হবে। সংবাদের চট্টগ্রামের সাংবাদিক জসিম চৌধুরী সবুজ ভাই যুগান্তরে ভালো বেতনে কাজ পেয়েছেন (এখন তিনি যুগান্তরের চট্টগ্রাম অফিসের বুরো চিফ ও বিশেষ সংবাদদাতা)। তো তিনি জানতেন, সংবাদ থেকে পদত্যাগ করলে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ চার-পাঁচ লাখ টাকা তার লোকসান হবে। তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন, কী করা যায়?

সবুজ ভাই পরামর্শ করার জন্য ফোন করলেন ওনার সেকশন চিফ, মফস্বল সম্পদক কার্তীক চক্রবর্তীকে। কার্তীকদা তাকে বললেন, সবুজ, তুমি নতুন কাগজে ভাল বেতনে কাজ পেয়েছো, এটি তো খুবই খুশীর খবর। তোমাকে আন্তরিক অভিনন্দন। কিন্তু হুট করে চাকরি ছাড়লে তো তুমি সংবাদ থেকে বকেয়া টাকা-পয়সা কিছুই পাবে না। তাই আমি যেভাবে বলি, সেভাবে পদত্যাগপত্র জমা দাও।

সবুজ ভাই কার্তীকদার পরামর্শে একটি অভিনব পদত্যাগ পত্র ঢাকার অফিসে এক কপি ফ্যাক্সে পাঠালেন; আরেক কপি দিলেন কুরিয়ারে।

তিনি যা লিখেছিলেন, তা অনেকটা এ রকম:

বরাবর, সম্পাদক, দৈনিক সংবাদ, ঢাকা। বিষয়: পদত্যাগ পত্র। জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, ব্যক্তিগত কারণে আমি সংবাদ থেকে পদত্যাগ করছি। যেদিন থেকে আমার যাবতীয় পাওনা-দেওনা মিটিয়ে দেয়া হবে, সেদিন থেকে আমার পদত্যাগ পত্র কার্যকর হবে। নিবেদক...ইত্যাদি।

এরপর তিনি সংবাদে চট্টগ্রাম থেকে নিউজ পাঠানো বন্ধ রাখলেন। একের পর এক সংবাদে চট্টগ্রামের নিউজ মিস হতে থাকলো। বার্তা সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ভাই (এখন এটিএন বাংলায়) উপায় না দেখে ঢাকা থেকে টেলিফোনে ধরলেন সবুজ ভাইকে, কী সবুজ, চট্টগ্রাম থেকে নিউজ পাঠাচ্ছো না কেনো?

সবুজ ভাইয়ের সরল উত্তর, বুলবুল ভাই, আমি তো পদত্যাগ করেছি; তাই এখন নিউজ দিচ্ছি না। এখন আমার পদত্যাগপত্র আপনারা কী ভাবে কার্যকর করবেন, সেটি আপনাদের বিষয়।

বুলবুল ভাই সবুজ ভাইয়ের পদত্যাগপত্র নিয়ে সম্পাদক-প্রকাশকের টেবিলে দৌড়ালেন। এর পর প্রকাশক আহমেদুল কবির ভাই (প্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক) ফোন করলেন সবুজ ভাইকে, বাবা, তুমি আজ রাতের ট্রেনেই ঢাকায় এসো। তোমার গাড়ি ভাড়া আমরা দেবো। তোমার সঙ্গে সামনা-সামনি কথা আছে।

বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ-সাংবাদিকের কথায় সবুজ ভাই ঢাকা এলে, কবির ভাই তাকে বুঝিয়ে বললেন, বাবা, এভাবে পদত্যাগ করলে তো আমাদের বিপদ; তুমি এটি ফিরিয়ে নিয়ে একটি সাধারণ পদত্যাগ পত্র জমা দাও। আমরা তোমার টাকা একবারে না হোক, কয়েক দফায় পরিশোধ করবো।

সবুজ ভাই, তা-ই করলে সংবাদ কর্তপক্ষ আস্তে আস্তে তার সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করে।

রাজু ভাই বৃত্তান্ত
--------------
মহিদুল ইসলাম রাজু ভাই (এখন এটিএন বাংলায়) তখন সংবাদের স্টার রিপের্টার। একই সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি। তার মাথা একটু গরম হলেও তিনি লোক ভালো, আর সাংবাদিক হিসেবে তুখোড় তো বটেই।

রাজু ভাইয়ের একটি বদ অভ্যাস হলো, যেখানে-সেখানে মুখের মধ্যে গুল নেয়া (আমরা বলি, গুল মারা)। একদিন আমরা তখনকার ক্ষুদে সাংবাদিক কয়েকজন রাজু ভাইকে ধরলাম; তাকে বুঝিয়ে বললাম, রাজু ভাই, আপনি এখন সাংবাদিক নেতা। পাঁচতাঁরা হোটেল বা মন্ত্রীর এয়ারকুলার লাগানো ঝাঁ চকচকে অফিসে বসে আপনার গুল মারা এখন বেমানান। আপনাকে এই রিকশা-ওয়ালাদের নেশা ছাড়তে হবে।

রাজু ভাই পড়লেন বিপদে। বললেন, কী করি তোরা বলতো? অনেক বছরের পুরনো নেশা।...

আমি বুদ্ধি দিলাম, আপনি বেনসন সিগারেট খাওয়া ধরুন। দুটাই তো তামাক, আপনার নিকোটিনের চাহিদাও মিটবে, আবার স্মার্ট-নেসও থাকবে।

রাজু ভাই চা খাওয়ার পর সিগারেট খাওয়া অভ্যাস করলেন।

অনেকদিন পর রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিসে গিয়ে দেখি রাজু ভাই, চা খেয়ে একটা পান মুখে দিলেন। এরপর আয়েশ করে একটা সিগারেট ধরালেন। আমি তো অবাক, রাজু ভাই, আপনি পান খাওয়া ধরলেন কবে?

আর বলিস না, সিগারেট ধরার পর দেখলাম চা খেয়ে একটা পান মুখে দিয়ে সিগারেট ধরালে দারুন লাগে। সেই থেকে পান খাওয়াটাও শুরু করলাম।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আর আপনার গুল মারা?

রাজু ভাই মাথা চুলকে বললেন, হেঁ হেঁ....সেটাও ছাড়তে পারিনি রে।

অর্থাৎ রাজু ভাই তখন গুল মারা, চা, পান ও সিগারেট--এই চারটি নেশাই সমান তালে চালাচ্ছেন!...

(চলবে)

১৮.০৫.০৯ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28962702 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28962702 2009-06-10 13:48:10
ব্রেকিং নিউজ: দাবার গুটি কী তাহলে উল্টে গেলো?
তাহলে দাবার গুটি কী উল্টে গেলো?? <img src=" style="border:0;" />

বাংলায় সংবাদটি পড়া যাবে এখানে Click This Link

আর ইংরেজীতে সংবাদটি পড়া যাবে এখানে Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28962302 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28962302 2009-06-09 16:26:23
জুম চাষ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা...
এদেশের পাহাড় ও বনাঞ্চল হচ্ছে সরকারি খাস জমি। যুগ যুগ ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাসরত পাহাড় ও অরণ্যচারী মানুষের এ সব জমির বন্দোবস্ত কোনো সরকারের আমলেই দেওয়া হয়নি। তাই পাহাড় ও বনাঞ্চলের ওপর আদিবাসী মানুষের এখনো কার্যত জন্মেনি কোনো অধিকার।

এক সময় নেত্রকোনা ও শেরপুর অঞ্চলের গারো পাহাড়ে মান্দি (গারো) ও হাজং এবং শ্রীপুর, কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার সীমান্তের খাসিয়া পাহাড়ে খাসি বা খাসিয়ারাও জুম চাষ করতেন। কিন্তু প্রায় একশ বছর আগে বৃটিশ আমলে বন বিভাগ গারো পাহাড় এবং মধুপুর-গাজীপুর ভাওয়াল গড় এলাকার প্রাকৃতিক বনাঞ্চলকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল (রিজার্ভ ফরেস্ট) হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে তারা বন ও পরিবেশ সংরক্ষণের নামে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জুম চাষ ও শিকার।

এ কারণে গারো পাহাড়ে জুম চাষ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। খাসিয়া পাহাড়েও সাধারণ জুম চাষ অনেক আগেই বিলুপ্ত। তবে নানা প্রতিকূলতার ভেতরেও খাসিয়ারা পানজুম চাষ করছেন।

এদিকে ১৯৬২ সালে বন বিভাগ রাঙামাটিতে সদর দফতর করে কৃষি প্রধান অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামে 'জুম নিয়ন্ত্রন প্রকল্প' চালু করে। এর উদ্দেশ্য ছিলো, জুমিয়াদের জুম চাষে নিরুৎসাহিত করে সমতলের জমিতে বনজ ও ফলজ চাষে তাদের উৎসাহিত করা। এক দশক আগেও বন বিভাগের এই প্রকল্প খাতে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হতো। কিন্তু বাস্তবতার কারণেই এই প্রকল্প কখনোই সফল হয়নি। এখন এই প্রকল্পখাতে সরকারি অর্থ বরাদ্দও নেই।

*
..
জুম চাষের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরনো। পার্বত্য চট্টগ্রাম, গারো ও খাসিয়া পাহাড়ের বাইরে ভারতের অরুণাচল, আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা--'সেভেন সিস্টার্স' খ্যাত এই সাতটি রাজ্যে জুম চাষ ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এছাড়া চীন, নেপাল, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন মঙ্গোলিয় জনগোষ্ঠির পাহাড়ি অঞ্চলে জুম চাষের প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের নিজস্ব শাসনরীতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী কার্বারি (গ্রাম প্রধান) ও হেডম্যান (মৌজা প্রধান) নির্ধারণ করেন কোন পাহাড়ে কোন কোন জুমিয়া পরিবার কখন জুম চাষ করবেন। এ কারণে এ চাষাবাদ নিয়ে বিরোধ হয় না।

পাহাড়ের এই চাষ পদ্ধতি বেশ কষ্টসাধ্য। জুম চাষে একটি পরিবারের পাহাড়ি নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সকলেই অংশ নেন। আবার কোনো একটি বড় পাহাড়ে কয়েকটি গ্রামের জুমিয়ারা ঐক্যবদ্ধভাবে জুম চাষ করে থাকেন।

চাষের মৌসুমে প্রথমে নির্বাচিত পাহাড়টির জঙ্গল ও আগাছা বিশেষ কৌশলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কৌশলে আগুন ধরানো হয় বলে বনাঞ্চলে এই আগুন যেমন ছড়িয়ে পড়ে না, তেমনি টিকে থাকার স্বার্থেই পাহাড়িরা জুম চাষ করতে গিয়ে বন ও চাষ এলাকার কোনো বড় বা দামি গাছের ক্ষতি করেন না।

বৃষ্টির পর নির্বাচিত জুমের জমিতে পুড়ে যাওয়া জঙ্গল ও আগাছার ছাই সারের কাজ করে। এর পর বিশেষ ধরণের ছোট দা'এর মাধ্যমে ছোট্ট ছোট্ট গর্ত করে একই সঙ্গে কয়েক ধরণের ফসল বোনা হয়। ধান, গম, ভূট্টা, আলু, কলা, তরমুজসহ জুমের জমিতে প্রায় সব ধরণের খাদ্য শষ্য ও শাক-সব্জি চাষ করা হয়। জুমের ফসলের বীজ সমতলের চেয়ে ভিন্ন। এসব ফসল উৎপাদনে কোনো ধরণের সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয়না। আর জুমের শষ্য, ফল-মূল ও তরি-তরকারির আকার-আকৃতি সমতলের উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের চেয়ে ভিন্ন; এগুলো খেতে খুবই সুস্বাদু।

জুমের ফসল পরিচর্যার জন্য চাষাবাদের পাহাড়ে জুমিয়ারা গড়ে তোলেন অস্থায়ী মাচাং ঘর (চাকমা ভাষায়, মোনঘর)। এই মনঘরে চাষাবাদের মৌসুমে জুমিয়ারা একই সঙ্গে যেমন ফসলের দেখভাল করেন, তেমনি বুনো শুকর বা অন্য জীব-জন্তু ও পাখ-পাখালি যেনো ফসলের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকেও তারা লক্ষ্য রাখেন। জুমের জমি ঘিরে এ জন্য 'কাবুক'সহ নানা ধরণের ফাঁদ পাতা হয়। তঞ্চঙ্গা জুমিয়াদের আবার এসব ফাঁদ পাতার সুখ্যাতি রয়েছে।

জুম চাষ নিয়ে পাহাড়ি লোকগাঁথা, গান ও ছড়া গান, প্রবাদ-প্রবচনও খুব সমৃদ্ধ। মোনঘর নিয়েও চাকমাদের নানা স্মৃতিকথা জড়িয়ে আছে জীবন-যাপনে।...

*
..
পাঁচ-ছয় দশক আগেও একবার কোনো পাহাড়ে জুম চাষ করার পর অন্তত ১৫-২০ বছর সেখানে আর জুম করা হতো না। সেখানে এই দীর্ঘ সময়ে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল গড়ে ওঠার সুযোগ দেয়া হতো; রক্ষা পেতো পাহাড়ি জমির উর্বরতা।

কিন্তু ৬০ দশকে কাপ্তাই বাঁধের কারণে বিপুল সংখ্যক পাহাড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সংকুচিত হয় জুমের জমি। আর ৮০ র দশক থেকে এখনো পাহাড়ে সমতল অঞ্চল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের অভিবাসন গড়ে উঠছে।

এছাড়া পাহাড়ে ছয়টি সেনা নিবাস ও প্রায় সাড়ে চারশ অস্থায়ী সেনা ছাউনি এবং বিডিআর, ড়্যাব, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, বন বিভাগসহ নিরাপত্তা বাহিনীর অসংখ্য স্থায়ী এবং অস্থায়ী ছাউনির কারণেও বিপুল সংখ্যক পাহাড় ও বনাঞ্চল অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

এমনিভাবে দিন দিন জনসংখ্যার চাপে ও বন বিভাগের নানা নিয়ম-কানুনের ফলে সংকুচিত হচ্ছে জুমের জমি। তাই জুমিয়ারা অনেক জায়গাতেই এখন বাধ্য হয়ে মাত্র পাঁচ-ছয় বছরের ব্যবধানে একই পাহাড়ে আবারো জুম চাষ করছে। এতে প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে পাহাড়ের উর্বরতাও। তাই বিচ্ছিন্নভাবে অনেক জুমিয়া এখন চাষের জমিতে ধুপ সার বা ইউরিয়া ব্যবহার করছেন; যা আগে কখনোই দেখা যায়নি।

বলা ভালো, জুম চাষীরা হচ্ছেন সকলেই প্রান্তিক চাষী ও সাধারণতভাবে হত দরিদ্র। তাই জুম চাষ করা ছাড়া অন্য কোনোভাবেই তাদের টিকে থাকার উপায় নেই।

অন্যদিকে বহুবছর ধরে পাহাড়ে কল-কারখানা গড়ে না ওঠায় সৃষ্টি হয়নি বিকল্প আয়ের পথ।

*

আগেই বলা হয়েছে, বহিরাগতদের অব্যহত জনসংখ্যার চাপ, জুমের জমি সংকুচিত ও পাহাড়ের উর্বরতা নষ্ট হওয়া, বিকল্প আয়ের অভাব, চার দশক ধরে জুম নিয়ন্ত্রনের নামে বন বিভাগের মিথ্যে মামলাসহ নানা হয়রানী --- এসব কারণে অর্থনৈতিকভাবে মার খেতে খেতে প্রান্তিক চাষী জুমিয়াদের জীবন এখন বড়ই বিপন্ন।

রাঙামাটির বিশিষ্ট পরিবেশবিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির নেতা গৌতম দেওয়ান এ বিষয়ে এই লেখককে বলেন, জুম নিয়ে জনমনে তো বটেই, এমন কি সরকারি মহলে রয়েছে নানা ভ্রান্ত ধারণা। এরমধ্যে জুমের আগুনে পাহাড়ের বনজ ও প্রানীজ সম্পদ ধ্বংস, জুমের কারণে পাহাড়ের ভূমি ক্ষয় বৃদ্ধি, জুম একটি পরিবেশ বিরুদ্ধ অবৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতি --- ইত্যাদি প্রধান।

তিনি বলেন, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সন্তান জুমিয়ারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই জুমের আগুনে কখনো আগাছা বাদে কোনো বনজ বা প্রাণীজ সম্পদ নষ্ট করে না। এ ছাড়া জুম চাষে লাঙ্গল বা কোদাল ব্যবহৃত হয় না। জুমিয়ারা পাহাড়ে একটি ছোট্ট গর্ত খুঁড়ে একই গর্তে নানা রকম বীজ এক সঙ্গে বপন করেন বলে ভূমি ক্ষয় হওয়ারও প্রশ্ন আসে না।

গৌতম দেওয়ান বলেন, বরং এখন পাহাড়ে অপরিকল্পিত নির্মাণ ও পাহাড় কাটার ফলে ভূমি য় তথা পাহাড় ধ্বসের হার অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশী। কিন্তু জনসংখ্যার চাপে জুমের জমি কমতে থাকায় অন্তত পাহাড়গুলোকে ১৫ -- ২০ বছর অনাবাদী রাখা হচ্ছে না বলে প্রাকৃতিক বনের সংখ্যা হৃাস পাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে চাষযোগ্য সমতলভূমির সংখ্যা খুবই কম বলে পাহাড়ে জুম চাষের বিকল্প এখনো গড়ে ওঠেনি।

পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা বলেন, ৬০ দশকে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করে প্রথম আঘাত হানা হয় বনাঞ্চলের ওপর। এই বাঁধের কারণে প্রায় ৫৪ হাজার একর জমি পানিতে তলিয়ে যায় বলে চাষের জমিও হয়ে পড়ে সংকুচিত। বাংলাদেশ আমলে পাহাড়ে জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন, এছাড়া শান্তিচুক্তির (১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়) যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি বলে পাহাড়ে এখনো হয়নি ব্যাপক ও বড় ধরণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আড়াই দশকের অশান্ত পাহাড়ে কৃষির বিকল্প কোনো আয়ের ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। তাই ভূমিহীন দরিদ্র মানুষ জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে জুম চাষ করছে।

সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা বলেন, আসলে যে ভাবে পাহাড়ে দিন দিন জনসংখ্যা বাড়ছে, ভবিষ্যতে এখানে হয়তো আর জুম চাষ সম্ভব হবে না। প্রায় সাত লাখ ভূমিহীন এসব জুম চাষীদের এখনই পুনর্বাসনের জন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে এবং হর্টিকালচার, ফিসারিজ, কি ছোট ছোট প্রকল্প খাতে সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে পুনর্বাসন করা জরুরি। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী জমির বন্দোবস্তি দিতে হবে এই সব বিপন্ন জুম চাষীদের।

বান্দরবানের পরিবেশ কর্মি জুমলিয়ান আমলাইয়ের রয়েছে জুমচাষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা। বম জনজাতির এই নেতা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় জুম চাষের এই বিজ্ঞান সম্মত চাষাবাদ নানা দেশেই প্রচলিত। এসব দেশের তুলনায় আমাদের দেশের পাহাড়গুলো অনেক উর্বর। আমাদের জুম চাষীরা শত শত বছর ধরে শুধুমাত্র প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে ফলিয়ে আসছেন পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফসল, সাক-সব্জি, ফল-মূল। নিতান্ত নিরুপায় হয়ে এখন তারা জুমের জমিতে ব্যবহার করছেন রাসায়নিক সার।

---
ছবি: জুম চাষ ও মোনঘর, গড়ে উঠেছে কলাবাগান, রাঙামাটি, লেখক।
---
তথ্যসূত্র: নিজস্ব সরেজমিন অনুসন্ধান, জুমলিয়ান আমলাই, বান্দরবান এবং সত্রং চাকমা, রাঙামাটি।।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28955488 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28955488 2009-05-25 15:17:06