somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ব্রেকিং নিউজ।। কুমিল্লায় এসব হচ্ছেটা কী?
২. কুমিল্লায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জনসভাস্থল ত্যাগ করার পর পাশ্ববর্তী একটি ইউনিয়নে কথিত সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে বিএনপির পক্ষে যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলেই এ দলকে নেতৃত্বহীন করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

৩. কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় কামতা গ্রামে মঙ্গলবার র‌্যাবের সাথে জেএমবি জঙ্গীদের গ্রেনেড হামলা ও গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। র‌্যাবের গুলিতে এক জেএমবি জঙ্গী আহত হয়। র‌্যাব তিনটি গ্রেনেডসহ দুই জেএমবি জঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে। শতাধিক র‌্যাব ও পুলিশ সদস্য এখনো দেবীদ্বারের বড় কামতা ও নবিয়াবাদ গ্রামের চারপাশ ঘেরাও করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
পুলিশ জানায় , নবিয়াবাদ গ্রামে জঙ্গীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বিকেলে সাড়ে তিনটার দিকে র‌্যাব-১১ এর একটি বাহিনী অভিযান শুরু করে। এ সময় র‌্যাব একজন মোটর সাইকেল আরোহীর পিছু ধাওয়া করলে বড় কামতা গ্রামের কাছে তাদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ে জঙ্গীরা। র‌্যাবের পাল্টা গুলিতে মোটর সাইকেল আরোহী মাসুদ ওরফে নাইম আহত হয়ে ধরা পড়ে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নবিয়াবাদ গ্রামের একটি বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তিনটি গ্রেনেড সহ মোশাররফ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব । #


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28887010 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28887010 2008-12-24 01:17:11
স্বপ্নের বইটা অবশেষে লেখা হয়েছে... স্বপ্নের বইটা অবশেষে লেখা হয়েছে! 'রিপোর্টারের ডায়রি: পাহাড়ের পথে পথে'।...

অনেক বছর ধরে পাহাড়ে, বনে-বাঁদাড়ে ঘুরে ঘুরে অনেকটা জীবন ক্ষয় করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে, তারই কিছু নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইয়ের অক্ষরমালা।

দেড় দশকেরও বেশী সময় ধরে পাহাড়ে তথ্য-সাংবাদিকতা করতে গিয়ে শান্তিবাহিনী-সেনা বাহিনীর যুদ্ধ, শান্তিবাহিনীর গেরিলা শিবির, গণহত্যা, শরনার্থী শিবির, কল্পনা চাকমা অপহরণসহ নানা ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একজন রিপোর্টার যে সব কথা তার নৈর্ব্যাক্তিক রিপোর্টে বলতে পারেননি, তা-ই বলার চেষ্টা করা হয়েছে ছোট্ট এই বইটিতে। সংবাদ-নেপথ্য কথন নিয়ে সাজানো এই বই একই সঙ্গে রিপোর্টারের জার্নালও বটে।


প্রায় ১৭ বছর ধরে মাথার ভেতরে একটু একটু করে লেখা হচ্ছিলো এই বই। আর এ বছরের শুরুতে নিজেস্ব বিভিন্ন নোট ও স্মৃতি হাতড়ে, নানান জনের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পর বাস্তবে এই কাজে হাত দেওয়া হয়।

বইয়েরই পাণ্ডুলিপি ইমেইল করে দেওয়া হয়েছিলো সহব্লগার মাহবুব লীলেনকে। তিনি অনেক ব্যস্ততার ভেতরেও ধৈর্য্য ধরে লেখাগুলো পড়েছেন, একাধিকবার মুখোমুখি ও ফিরতি ইমেইলে তার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। আর তার মতামত মেনে সংশোধন করা হয়েছে বইয়ের লেখা।

আরেক সহব্লগার ও প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল 'শুদ্ধস্বরের' পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দিয়েছেন সত্যিকার সহযোগিতার হাত। তবে অনিবার্য কারণে শেষ পর্যন্ত বইটি রাজিব নূরের 'পাঠসূত্র' প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছে।

এক কথায় বইটির একটি চমৎকার প্রচ্ছদ করে দিয়েছেন সহব্লগার আহমেদ অরূপ কামাল। আর বইটির শিরোনাম ঠিক করতে সহব্লগার সামরান হুদা, শ্যাজাদি এবং মুশফিকা মুমু আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।

এই লেখার মাধ্যমে তাদের জানানো হচ্ছে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

ইচ্ছে আছে, আগামী একুশে বই মেলায় বইটি প্রকাশ করার। প্রাথমিকভাবে এর দাম ধরা হয়েছে ১০০টাকা মাত্র।

বলা বাহুল্য হবে না যে, এই বইয়ের প্রধান টার্গেটগ্রুপ যেহেতু আদিবাসী পাহাড়ি জনগণ, তাই লক্ষ্য রাখা হয়েছে দাম যেনো তাদের হাতের নাগালে থাকে; তাই ইচ্ছে করেই এর কলেবর বৃদ্ধি করা হয়নি। একই কারণে এটি সাদা কাগজে পেপারব্যক আকারে মূদ্রিত হতে পারে।

সব কাজ শেষ; এখন শুধু মূদ্রনটুকুই বাকি।

ইচ্ছে আছে, বইটি মূদ্রণের পর এর সব লেখা অন্তর্জালে প্রকাশ করার।

সবার আন্তরিক শুভ কামনা প্রত্যাশা। জয় হোক!!

০৯.১২.০৮

---
ক্যাপশন: ১/ গেরিলা নেতা সন্তু লারমার হাইড আউটে লেখক, ৫ মে, ১৯৯৪।
২/ লেখকের বইটির প্রচ্ছদ, আহমেদ অরূপ কামাল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28885569 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28885569 2008-12-21 03:54:42
জয় বাংলা। বাংলার জয়।।
আটাশ পৃষ্ঠার ওই প্রচ্ছদ কাহিনীর সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের আলোকচিত্রী ডিক ডুরেন্স এর দুর্দান্ত চার রঙা সাতচল্লিশটি সংযুক্ত করা হয়। ...ইত্যাদি।

ন্যাট জিও মাগাজিনের ওই প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি বছর চারেক আগে আমি প্রয়াত একজন ব্যবসায়ী আহমেদ উল্লাহ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে সিডি আকারে সংগ্রহ করি। এতোদিন এই সিডিটি আমার জিম্মায় বাক্স বন্দী ছিলো।

নিজে ইংরোজিতে প্রায় গোমূর্খ, তাই এটি অনুবাদের সাহস করিনি।

এরপর অনেক সহকর্মী এই লেখাটি ভাবানুবাদের কাজ হাতে নিয়েও তা শেষ করতে পারেন নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর গভীর শ্রদ্ধা থেকেই প্রয়াত সহব্লগার মুহাম্মাদ জুবায়ের ভাইও চেয়েছিলেন এটি ভাবানুবাদ করে দিতে। কিন্তু...হায় রে নিষ্ঠুর সময়!

এছাড়া কয়েকজন সহব্লগার লেখাটি ইংরেজীতেই পাঠের আগ্রহ দেখিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট গবেষক, শ্রদ্ধেয় সহব্লগার এমএমআর জালাল ভাই এ কাজে আমাকে বরাবরই প্রেরণা যুগিয়েছেন।

সব কিছু বিবেচনা করে লেখাটি এখন ইংরেজীতেই তুলে দিচ্ছি। পিডিএফ আকারে পুরো লেখাটি ডাউন লোড করা যাবে।

সচলায়ন ডট কম-এ এটি সহব্লগার শিক্ষানবিশ চমৎকার ভাবানুবাদ করেছেন। তার সেই ভাবানুবাদটিও এই লেখায় যুক্ত করছি।

যে কেউ এটি গুরুত্বসহ ভাবানুবাদ করলে তাকেও স্বাগত জানানো হবে।

সব শেষে এমএমআর জালাল ভাইকে উদ্ধৃত করে বলি:

আসুন, আমরা ফিরে দেখি ১৯৭১! ঘুরে দাঁড়াক প্রিয় স্বদেশ!!

জয় বাংলা।।

০৩.১২.০৮

---

শিক্ষানবিসের ধারাবাহিক ভাবানুবাদটি পাওয়া যাবে এখানে Click This Link

পিডিএফ-এ ইংরেজীতে পুরো লেখাটি ডাউন লোড করা যাবে আরেক সহব্লগার তানভীরের সৌজন্যে এখান থেকে http://www.atmo.ttu.edu/tanveer/Natgeo.pdf



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28885109 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28885109 2008-12-20 05:51:40
ব্রেকিং নিউজ: পঞ্চগড়ের গ্রামে ঢুকে তিন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ
নিহতরা হলেন- ময়নাগুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৩৫), তার প্রতিবেশী মাজেদা (২৫) ও মাজেদার ছেলে মামুন (১)। মাজেদার স্বামী শহীদুলকে (৩০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় ২৫ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শেখ ফরিদ জানান, গ্রামবাসী ও বিডিআর সদস্যরা এক বিএসএফ সদস্যকে আটক করেছে।

বিস্তারিত পড়ুন: বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম Click This Link

ডেইলি স্টার Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28870066 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28870066 2008-11-17 06:35:07
ঘড়িঘর...
সেই যে ছেলেবেলায় রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে তুমি মনছবিতে আঁকতে একটি বিশাল ডায়ালের গ্রান্ডস ফাদারস্ ক্লক। কাঁটা দুটি বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে যখন উলম্ব আকারে সোজা হয়ে দাঁড়াতো, অর্থাৎ কী না ভোর ছয়টা, তুমি মনে মনে শুনতে পেতে ঢং...ঢং...ঢং...কলজে-কাঁপানো ছয়-ছয়টি ঘন্টাধ্বনি।

তুমি মনের ভেতরে এই ছবিটি বার বার মকশ করে, মোটা তুলিতে এঁকে ঘুমিয়ে পড়ার পর কী আশ্চর্য! পরদিন ঠিক ঠিক ভোর ছয়টায় ঘুম ভাঙতো তোমার। তারপর স্নান, দাঁত ব্রাশ, হাফ বয়েল্ড ডিম, পাউরুটি দু-এক পিস, হাফ গ্লাস ওভালটিন খেয়ে, চক দেওয়া সাদা কেডস, নীল হাফ প্যান্ট-সাদা হাফ শার্টের ইউনিফর্মে হ্যাভারশেক কাঁধে নিয়ে ছুট...সকাল সাতটায় তোমার স্কুল অ্যাসেম্বলি!

আর প্রতিভোরেই ওই মনছবির কর্তা, তোমার নকশালাইট বাবার ঘর থেকে ভেসে আসতো বিবিসি রেডিওতে উর্মি বসুর প্রভাতি সংলাপ।...

*

এখন অবশ্য অতিবড় বেলায় ওইসব মনছবি-টবি ধুয়ে-মুছে কোথায় যে গেছে! তুমি এখন সপ্তাহে চার-চারটি লেট নাইট ডিউটি সেরে প্রায় শেষ রাতে বিছানায় যাও। মাঝে মাঝে একেবারেই নির্ঘুম...তিন তলার ঝুল বারান্দায় দাঁড়িয়ে একের পর এক দামি সিগারেট ধ্বংস করো।

তোমার মুখোমুখি অ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ড়্যাব-২ এর কালো রঙা বদ্ধ সদর দুয়ার। 'সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের ধরিয়ে দিন। এরা আপনার, আমার, দেশের শত্রু। তথ্য দাতার নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে। ফোন'...অস্পষ্ট এবং অসংখ্য।

না হে, দেড় দশকেরও বেশি সময় কলম পিষে ও কম্পিউটার টিপে তোমার চোখ দুটি ক্ষয়ে গেছে দেখছি। মাইনাস-এইটের চশমাটি বদল করো না কতদিন খেয়াল আছে?

আচ্ছা, এই যে এই নিশুতি রাতে তুমি এইমাত্র দিনের ষাট কী উনষাটতম সিগারেটটি পুড়িয়ে ফেললে, একবারও কী ভাবো, এই টাকায় একটি দিনমজুর কতো কেজি চাল কিনতে পারে?

আর হুইস্কির পেছনে তুমি যে পরিমান টাকা ওড়াও...।

*

মনিং ডিউটির ভোরটি তোমার কাছে বরাবরই বিচ্ছিরি রকমের বিরক্তিকর। প্রথমে পিপ্ পিপ্ করে অ্যালার্ম দেবে ডিজিটাল হাত ঘড়ি (টিভি-নিউজে মিনিট-সেকেন্ডের সঙ্গে তোমার লড়াই, তাই অ্যানালগ বিদায় অনেকদিন), এর তিনি সেকেন্ড পর ক্রিং ক্রিং মোবাইল ফোন। তুমি ঘুমের ঘোরে যান্ত্রিকভাবে হাতঘড়ি, মোবাইল অ্যালার্ম বন্ধ করে টেবিলঘড়ির অ্যালার্মটিও বন্ধ করতে যাবে। অস্পষ্টভাবে মনের ভেতর কেউ বলবেন, দরকার নেই হে, ব্যাটারীর অভাবে ও শালা মরে আছে বছর খানেক।...এরপর অজান্তেই আবারো তুমি তলিয়ে যাবে গহিনতম ঘুমের অতলে।

মিনিট পনেরো কী আধ ঘন্টার ঘুম পর্বের ভেতরে তোমার জিওন-অ্যালার্ম বৃদ্ধ মা ডেকে বলবেন, বাবু, এই বাবু, জলদি ওঠ। তোর না আজ মনিং-অফিস!

তুমি ধড়মড় করে এইবার নির্ঘাত উঠবেই উঠবে...কাক-স্নান সেরে ফুটবাবু হয়ে তিনগুন ভাড়ায় একটি গ্যাস চালিত ত্রি-চক্রযান পাকড়ে পৌঁছে যাবে অফিসে। পথে দিবসের প্রথম সিগারেটটি ধরাতে গিয়ে তোমার পেটের ভেতরে পাঁক দিয়ে একটি চিনচিনে ব্যাথা জানান দেবে...প্রায় বারো ঘন্টা পেটে দানাপানি কিচ্ছু পড়েনি। সে যাক গে...আগে অফিসে তো যাও...তারপর না হয় একটা কিছু ব্রেকফাস্ট আনিয়ে নিলে হবে। তাছাড়া তোমার লকারে তো বিস্কুটের টিন থাকার কথা। সে দেখা যাবেক্ষণ।...

এই সব হ্যাপার পর ফিঙ্গার-প্রিন্ট দিয়ে সিকিউরড ও সেন্ট্রাল্ড এসির হিম শীতল অফিসটিতে ঢুকতে ঢুকতে তুমি দেয়াল ঘড়ির সঙ্গে কব্জি ঘড়ি মিলিয়ে দেখবে: এই রে, আজ সকালেও আধ ঘন্টা লেট!

তুমি অবশ্য চট করে বিলম্বজনিত ছোট্ট অপরাধ বোধটুকু ঝেড়ে ফেলবে। কারণ তুমি এ-ও জানো, অফিসের বসদের এই সব ছোট-খাটো লেট-লতিফপনা কী দারুনভাবে মানিয়ে যায়!

*

অবসেশনের বায়ুচড়া হলে কী মারাত্নক কাণ্ড-কারখানাই না ঘটে যায়। তার একেকটা এতোই দুঃখের...ওই যে সাহিত্য করে বলে না, দুঃখে একেবারে বুক ভেঙে যায়। আবার মাঝে মাঝে এত্তো মজার সব কাণ্ড হয়, তোমার ইচ্ছে করে ব্লগের আইকনের মতো মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে একচোট হো হো করে হেসে নিতে।

তো সেদিন তুমি এক অবসরে পুরো ঘরখানা খুঁজে-পেতে, এমন কী লেট আহমেদ উল্লাহর আট নম্বর ট্রাঙ্ক ঘেঁটেও, বের করো নানান সাইজের নানান রকমের তেরো-তোরটি ঘড়ি। একটি দু-টি বাদে সবই বহু বছর ধরে বিকল। এমন কী বিশাল কালো ডায়ালের সত্যিকার ও মৃত গ্রান্ডস ফাদারস্ ক্লকটিও আছে।

আর মনছবি নেই বলে এতোক্ষণ তুমি যে চাপাবাজী করে আসছো, তা-ও মিথ্যে করে দেখো তুমি বেল্টবিহীন প্যারাসিটামল আকৃতির, সাদা ও ছোট্ট গোল ডায়ালের একটি লেডিস রিস্ট ওয়াচটিকে নিয়ে আনমনা হয়ে আছো কী অদ্ভুদ। হোয়াইট-ক্রস ব্র্যান্ডের সুইস ঘড়িটি মুঠো বন্দি করে তুমি ঝাড়া এক ঠায় বসে আছো নির্ঘাত এক-দেড় ঘন্টা!...সেলুলয়েডের মতো একের পর এক তোমার ভেতরে তৈরি হয় কতশত দৃষ্টিসুখ! আর না চাইতেই তারা আবার ভেঙেও যায় কতই না সহজে! প্রেম...হায় প্রেম!!
---
লেখাটি এর আগে অন্যত্র প্রকাশিত।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28856832 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28856832 2008-10-19 14:07:38
বস্তিবাস...
না, শষ্য-শ্যামলা সুজলা-সুফলা গ্রাম বা এ সব গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কথা হচ্ছে না। এখানে বলা হচ্ছে, শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় কথিত নানান গল্পকথায় যে গ্রাম্য জীবনের কুটিল ও জটিল মানুষের কথা ফুটে উঠেছে, তার-ই কথা।

এখন মিডিয়া পাড়ার অফিসে অফিসে ঢুকে পড়েছে এই সব গ্রাম্যতা, আর ভিলেজ পলেটিক্স। একেকটি বড় মিডিয়া হাউজ মানেই তোমার ভাষায়, একেকটি বড় গ্রাম। এখানেও গ্রাম্য জমিদার, জোতদার, উমেদার -- ইত্যাদি সবই আছেন। আছে বাগান বাড়ি, জলসা ঘর, এমন কী আছেন রাজলক্ষীর মতো মক্ষীরানীও।

আর নিজস্ব ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে গ্রামের এই সব বড় বড় মাথারা নানান কূট-কাচালি চালেন। তাদের মোসাহেবরা শব্দ-লাঠি নিয়ে লাঠিয়ালের ভূমিকায় প্রায়শই আবির্ভূত হন। আবার কখনো হন ঠগি বাহিনী।

*

অফিস নিয়ে গ্রাম সম্পর্কিত তোমার ওইসব ধ্যান-ধারণা অবশ্য অনেকদিন আগেই পাল্টেছে।

ব্লগে হোসাইন তার খেরোখাতায় লিখেছিলেন --পাগলা হোসাইনের বস্তিবাস।

এই সব দেখে তুমি ভাবিত হও। আরে তাই তো! এখন অফিস মানেই তোমার মনে হয় এই রকম বস্তিবাস। অর্থাৎ খানিকটা গ্রাম, খানিকটা শহর।

বস্তিতে যেমন বিজলি বাতি, ওয়াসার কলের লাইন থাকে, আবার একই সঙ্গে থাকে গ্রামীণ জীবনের লাউয়ের মাচা, এক চিলতে উঠান-- অফিস ভবনও এখন তোমার কাছে একেকটি বস্তি। এখানে বস্তি জীবনের সবটুকু নোংরামি, প্যাঁচপ্যাঁচে কাদা, অন্ধকার আর হীনমন্যতা মিলেমিশে কী চমৎকার বসবাস করছে!

এখন যত বড় মিডিয়া হাউজ...সেখানে ততটাই বিজলি বাতির ঝলকানি আর বস্তির যা-কিছু ইতরামি-সব কিছুর একসঙ্গে এসে অপবিন্যাস্ত হয়েছে নিপুনভাবে-- এমনটাই আজকাল তুমি ভাবতে শিখেছো।

তুমি সহজেই তুলনা দিতে পারো, এক সময় খুব কাছ থেকে কিছুটা দেখা টিটিপাড়ার রেল লাইন-বস্তি। আর দমিনেক লা পিয়েরের ‘আনন্দনগর’ এ বলা অন্য এক নরক জীবনের সঙ্গে। সেই যে রিকশা ওয়ালার জীবন জীম্মি করতে করতে বস্তির শেঠ-বাহিনী জীম্মি করে ফেললো কী কোমল কিশোরীকে!

*

তুমি এক সময় ভাবতে, তথ্য-সাংবাদিকতার দারুণ সব উৎকর্ষতার কথা। ভাবতে স্টার রিপোর্টার সুবির ভৌমিক, আতাউস সামাদ, মার্ক টালি আর সাইমন ড্রিং! আর এখন?

এখন শুধুই লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন, প্যাকেজ, প্যানেল, ফুটেজ, ইন-ভিশন আর উভ+সিংক!

টিকে থাকাও তো এক যোগ্যতা হে! স্ট্রাগল ফর সার্ভাইবাল--অস্তিত্ববাদের সংগ্রাম!

কিন্তু দেখো, তুমি ভদ্র, তুমি উচ্চস্বরে চিৎকার করে কথা বলো না, তুমি অহিংস; অর্থাৎ তুমি বেশ খানিকটা ঊন, যোগ্যতায় খাটো, পাথর ছোঁড়াছুড়ির খেলায় তুমি অনেক পিছিয়ে আছো এবং তুমি অচল।

না হে ...সেই শৈশবে নকশালাইট বাবার কথা শুনে এতো বছর ধরে প্রতি সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় তোমাকে যে --বিপ্লব--দিয়ে এসেছি, এখন আমি সব কিছু একেবারে ফিরিয়ে নিচ্ছি। তারচেয়ে তুমি বরং মরো, তুমি কচু খাও; হে ভগবান, একটা পিলে যাক পেটে ওর ঢুকে!... <img src=" style="border:0;" />

---

এর আগে লেখাটি অন্যত্র প্রকাশিত।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28850691 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28850691 2008-10-03 21:16:06
বই লিখছি...
দূর্ভাগ্যবশতঃ এর কোনোটিই এখনো আমার পড়া হয়ে ওঠেনি। তবে ফেব্রুয়ারি এলেই টের পাই তার কদর। বই মেলায় নিজস্ব প্রকাশনার স্টলের সামনে ভীড় ঠেলে উঁকি দিয়ে তাকে দেখেছি, সে খুব গদলঘর্ম হয়ে বিকশিত দন্তে একের পর এক অটোগ্রাফ দিয়ে যাচ্ছে। বলতে দ্বিধা নেই, অটোগ্রাফ শিকারীদের মধ্যে আবার বালিকাদের সংখ্যাই বেশী।

জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় পোস্ট কার্ড আকৃতির তার নিজস্ব বইয়ের চাররঙা বইয়ের বিজ্ঞপন। আর সে সব বিজ্ঞপনের ভাষা! ...একটির কথা বলি। সেটা অনেকটা এ রকম...

'আপনি কী প্রেমে ব্যর্থ? অথবা চুটিয়ে প্রেম করছেন? আথবা ভাবছেন, শিগগিরই প্রেমে পড়বেন? আপনার অবস্থা যা-ই হোক না কেনো, এই বইটি আপনার জন্য অবশ্য পাঠ্য। চ্যালেঞ্জ--বইটি আপনার ভালো লাগতেই হবে।'...

আর সে সময় অফিসে তাকে খুঁজে পাওয়াই দুস্কর। তবু দু-এক সন্ধ্যায় হঠাৎ হঠাৎ তিনি একটুক্ষণের জন্য অফিসে আসেন। বগলদাবা করে নিয়ে আসেন নিজের লেখা সদ্য প্রকাশিত ঝকঝকে মলাটের দারুণ সব বই। অটোগ্রাফসহ কিছু কিছু বিলি করেন বিগ বসদের।

অফিসের সেলিব্রেটি লেখক কাম সাংবাদিককে নিয়ে সে সময় দীর্ঘক্ষণ স্মোকিং রুমে আলাপ-চারিতা জমে ওঠে। টুকরো টুকরো কথা শুনতে পাই, তিনি নাকী বই লিখে রাতারাতি সুনাম কুড়িয়েছেন। একের পর এক প্রকাশক তাকে একটি চটি বই মোটা অংকের বিনিময়ে বের করার জন্য হন্যে হয়ে খোঁজেন। সেই সাথে তার পায়ে পায়ে ঘোরে ব্যস্ততা আর লক্ষ্মী, বোধহয় স্বরস্বতিও।

*

বছর খানেক আগে বাল্যবন্ধু, মার্কিন প্রবাসী ও সচল শামীম হক বাংলা মেইলর ডট কম-এ জানতে চেয়েছিলেন, আমি নিজে এ পর্যন্ত কয়টি বই লিখেছি?...ইত্যাদি।

একটিও নয়--এমন সোজাসাপ্টা সংক্ষিপ্ত উত্তরে সে অবাক হয়ে আবারো বলেন, কেনো নয়? লেখা-লেখিই যেহেতু পেশা, সেহেতু আমার অন্তত দু-চারটি বই এরমধ্যে বেরিয়ে যাওয়া উচিৎ। আমার সমস্যাটি কোথায়? টাকা? যদি টাকার প্রয়োজন হয়, সে হয়তো আমাকে হেল্প করতে পারে। আমি যেনো তাকে দ্রুত একটি মধ্যম মানের বাজেট পাঠাই।...

আমি তাকে বলি, আমার অঢেল টাকা নেই। সত্যি বলতে বরং উল্টোটাই সত্যি, এমন কী মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে আমার বেতনের সমস্ত টাকাই ফুরিয়ে যায়...এমনটাই ঘটে বেশীর ভাগ সময়। তবে বই প্রকাশের জন্য প্রবাসী বন্ধুর দ্বারস্থ হতে হবে, এমনটা নয়।

আসলে বই প্রকাশ করার জন্য উপযুক্ত লেখা বা মনোবল কোটিই আমার নেই...সে সময় শামীম হককে এমনটাই বলি আমি। আর বলি, সাবেক সহকর্মীর সেলিব্রেটি লেখক হিসেবে উত্থানের সংক্ষিপ্ত কাহিনী ও আমার লেখক হয়ে ওঠার দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা।

অভিমানী বাল্যবন্ধু ওই মেইলটির কোনো জবাব দেন না। হয়তো ধরেই নেন, কলোনিয়াল হ্যাঙ-ওভার জনিত কারণে আমি এক ধরণের হীনমন্যতায় ভুগছি।

*

সে যা-ই হোক। দেড় দশকেরও বেশী সময় পাহাড়ে, বনে বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে অনেকটা জীবন পুড়িয়ে তথ্য-সাংবাদিকতা হয়েছে, হচ্ছে।... পেশাগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কথাই বলা হয়নি ওই সব প্রতিবেদনে।

সেই সব অকথিত কথামালা রিপোর্টারের ডায়রি থেকে সংবাদ-নেপথ্য কথন হয়ে কখন যেনো দ্রুত টাইপ হতে হতে প্রকাশ হয়ে পড়ে নিজস্ব খেরোখাতার ব্লগে...সচলে আর সামহোরিনে। সবাই এর পাঠক নন...এমন কী অনেকেই নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন, আমি কোন পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন সময়ের কথা বলছি? এই সব কী স্বাধীন দেশে ঘটেছে? নাকী আমি বলছি একাত্তরের রক্তাক্ত কোনো যুদ্ধদিনের কথা?

সহব্লগার জামাল ভাস্করের ব্লগে রাঙামাটির এক সাংবাদিক তো দাবিই করে বসলেন, রাঙামাটিতে না কী কোনো পুনর্বাসিত (?) বাঙালি নেই। প্রতি মন্তব্যে এর প্রতিবাদ করায় তিনি অপ্রসাঙ্গীকভাবে ব্যক্তিগত আক্রমনই করে বসলেন!

*

আমার প্রথম বই, তা-ও পাহাড়ের নেপথ্য কথন--প্রকাশিত হতে যাচ্ছে...এমন কথা জেনে দিনের পর দিন আমাকে ইমেইলে ও এসএমএস বার্তায় নিঃস্বার্থভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন সহব্লগার শ্যাজা দি ও মুশফিকা মুমু। ব্লগার মাহবুব লীলেন ভাই ও আহমেদুর রশিদ টুটুল ভাই বাড়িয়ে দিয়েছেন-- সত্যিকারের ভালবাসার হাত। শ্রদ্ধেয় অরূপ দা (আহমেদ অরূপ কামাল) অনেক ব্যস্ততার ভেতরেও এক কথায় রাজি হয়েছেন বইটির প্রচ্ছদ করে দিতে। আর বন্ধুবরেষু, অতিথি ব্লগার ফারহানা জাহাঙ্গীর তো ধরেই নিয়েছেন, আমি এরই মধ্যে দারুন এক সুলেখকে পরিনত হয়েছি!!

তো এখনই তাদের ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করবো? না থাক...আগে বইটা প্রকাশ হোক তো! <img src=" style="border:0;" />

---

আপডেট: এই লেখাটি প্রকাশের পর পরই ই-মেইলে অরূপ দা পাঠানো বইটিই অসাধারণ একটি প্রচ্ছদ পেলাম। সেটিই এখন লেখাটিতে জুড়ে দিলাম।।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28840835 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28840835 2008-09-09 19:24:05
যাত্রা দেখে ফাত্রা লোকে... -----------------

দৈনিক ভোরের কাগজে কাজ করিবার সময় ২০০২ সালের দিকে যোগ দিলেন ফটো সাংবাদিক মামুন আবেদীন। তাহার সামান্য বায়ুচড়া দোষ আছে; এমনিতে লোক খারাপ নহে। ইতিপূর্বে তিনি দৈনিক আজকের কাগজে আমার সহকর্মি ছিলেন। সেই সুবাদে আমার কাছে নানান আব্দার ছিলো তাহার।

তো ফটো-মামুনকে লইয়া সাংবাদিক মহলে নানা প্রচারণা আছে। তিনি আবার লক্ষ্মী ট্যারা। মনে করুন, আপনার দিকে তাকাইয়া কথা বলিলো। আপনি ভাবিলেন, সে হয়তো পাশের জনের সহিত ব্লগরব্লগর চালাইতেছে...এইরূপ আর কি! মুখে মুখে তাহার আসল নামটির আগে 'কানা' বিশেষণটি যোগ হইয়া নাম দাঁড়াইলো 'কানা মামুন'।

তাহার সম্পর্কে আরও প্রচলিত রহিয়াছে যে, সে ছবি যাহাই তুলুক না কেনো, তাহার সবই নাকি আউট অব ফোকাস! যদিও বা দু - একটি ছবি ফোকাস হয়, ইহাতে আবার মানুষের মাথা কাটা পড়ে, ধরা পড়ে শুধু ধড়খানি!

শুনেছি চৌধুরি বাড়িতে নাকি বসেছে আসর
--------------------------------------

তো কানা একদিন আমাকে আসিয়া কহিলো, বেগুনবাড়ি বস্তির মাঠে যাত্রার পালা বসিয়াছে। সারা রাত্রি সে ফটোগ্রাফি করিবে। আমি যদি অনুগ্রহ করিয়া পুলিশ কর্তাদের তাহার নাম বলিয়া দেই; কারণ তাহার দামি ক্যামেরার সিকিউরিটি রক্ষা করিবার বিষয় আছে -- ইত্যাদি।

আমি চোখ মুদিয়া তাহার দিকে ডান হাত বাড়াইয়া দিলাম। অর্থাৎ, আগে মালে আইসো চান্দু! কিঞ্চিৎ অগ্রিম সার্ভিস চার্জ ছাড়ো তো বাপধন! ...

কানা খানিকক্ষণ 'হেঁ হেঁ ' করিয়া কহিলো, আরে রাখেন তো বিপ্লব দা। আপনি রমনা থানার ওসিকে একটু আমার নাম বলিয়া দিন না। পরে না হয়।...

এই ফাঁকে বলিয়া রাখি, অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতা করিবার চেষ্টায় তখন পুলিশ মহলে আমার সামান্য পরিচিতি ঘটিয়াছে।

কানাকে বলিলাম. সঙ্গে আমিও যাইবো। গ্রাম্য যাত্রা দেখিবার পরে না হয়, একটা শহুরে যাত্রা দেখিবার অভিজ্ঞতা হইয়া যাক।

সে তো খুশীতে আটখানা। কারণ, আমার সঙ্গে থাকিলে তাহার চা - সিগারেট ইত্যাদি সবই ফ্রি!

রমনা ওসিকে একটা ফোন ঠুকিয়া রাত ১২ টার কিছু আগে গন্তব্যে পৌঁছাইলাম।

বদের মেয়ে হেভি জোস!
---------------------

যাত্রার পালার নাম শুনিলাম, বেদের মেয়ে জোছনা।

পালার স্থলে আসিতেই রমনা থানার সেকেন্ড অফিসার আমাকে সালাম দিয়া কহিল, ওসি স্যার ওয়ারলেস করিয়া আপনার কথা কহিয়াছেন। আমার সহিত আসুন। একেবারে মঞ্চের সামনে বসাইয়া দিবো। আর আমি আশেপাশেই রহিয়াছি। কোন দরকার পড়িলে শুধু ইশারা করিলেই চলিবে।

পালার স্থলের পেছনের দিক দিয়া মঞ্চের একপাশে একখানা ছোট বেঞ্চিতে বসিলাম। পালার সমগ্র প্যান্ডেল রিকশা ওয়ালা কি বাসের হেলাপার গোত্রীয় লোকজনে ভরিয়া উঠিয়াছে।

যাত্রার এক লোক দর্শকদের মাঝে ঘুরিয়া ঘুরিয়া মশা তাড়াইবার জন্য ধূপধুনো দিতেছে। হঠাৎ আরেকজন মাইক ফুকিলো:

ভাইসব, ভাইসব। যাত্রা, যাত্রা, যাত্রা। ...ঝুমুর ঝুমুর নাচ আর কুমুর কুমুর নৃত্য। আজ আমাদের এখানে দেখানো হইতেছে--বেদের মেয়ে জোছ-নাআআআ...। দেখিবেন, এক ঝাঁক ডানাকাটা বলাকা! সত্ত্বর টিকিট লইয়া আসন গ্রহণ করুন!

চারদিক খোলা মঞ্চের এককোনে বসিয়া বাদকদল চিকন সুরে হারমোনিয়াম আর সাঁনাইয়ে সুর তুলিলো:

বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়াছে,
আসি আসি বলে জোছনা ফাঁকি দিয়াছে।...

মনে বাবলা পাতার কষ লাইগাছে
-----------------------------

এমনি কিছুক্ষণ বাদ্যবাজনা চলিলো। অধৈর্য দর্শককূল এক সময় অতিষ্ট হইয়া হইহই করিয়া উঠিলো। বড় বড় বাঁশের লাঠি হাতে ভলেন্টিয়ারদের তাহাদের সামলাইতে বেগ পাইতে হয়।

হঠাৎ ঘোষণা হইলো:

এখন আপনাদের বাউল সঙ্গীত শোনাইবেন, মিস চম্পআআআ...

নাদুস-নুদুস মিস চম্পা মঞ্চে আসিয়া সবাইকে সালাম-আদাব দিলেন।

বাউল শিল্পীর সাজ-সজ্জা দেখিয়া আমার হাত হইতে সিগারেট পড়িয়া যাইবার উপক্রম। আমি আক্ষরিক অর্থেই 'হা' হইয়া গেলাম!

তাহার টকটকে লাল রঙা ঝলমলে শাড়িটি টিনের তৈয়ারি বলিয়া ভ্রম হয়। উগ্র সাজ-সজ্জায় লালের ব্যবহার অত্যাধিক। আর শাড়ির আঁচল কিছুতেই যথাস্থনে থাকিতে চায় না। বার বার খসিয়া পড়ে। তিনি আবার সলজ্জ হাসি দিয়া চোখ টিপিয়া শাড়িটিকে সামলাইতে ব্যস্ত হন।

দর্শককূল তুমুল করতালি আর সিটি বাজাইয়া তাহাকে স্বাগত জানাইলো। তাহাদের আনন্দ আর ধরে না।

এদিকে কানা মামুন দেখি ঠিকই ক্যামেরা-ফ্লাশ লাইট গুছাইয়া ফটাফট ছবি তুলিতেছে।

মিস চম্পা নাচিয়া-কুঁদিয়া গান ধরিলেন:

আমার মাটির দেহে লাউ ধইরাছে,
ও লাউ দেখতে বড় সোহাগি,
লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী।...

বলা বাহুল্য, গানের ভিতরে ঘুরিয়া ফিরিয়া 'মাটির দেহে লাউ ধইরাছে' -- বাক্যটি আসিবা মাত্র তাহার আঁচল খসিয়া পড়ে। লো-কাট ব্লাউজ ঝলসিয়া উঠে বার বার। সেই সাথে উল্লাসে - চিৎকারে ফাঁটিয়া পড়ে দর্শকমহল।

উৎসাহী কয়েকজনকে আবার দেখা গেলো, ভলেন্টিয়ারদের লাঠির বাড়ি খাইবার ঝুঁকি লইয়াই হাত বাড়াইয়া পঞ্চশ কি একশ টাকার নোট মিস চম্পার ব্লাউজের ফাঁকে গুজিয়া দিতে।

হায় চোলি!
----------

মিস চম্পা প্রস্থান করিবার পর বাদক দল বাজনা ধরিলো:

কুককুরু কুককুরু কুককুরু,
চোলি কা পিছে ক্যায়া হে,
চোলি কা পিছে?...

কিছুক্ষণ বাদ্য বাজনার পর মাইকে ঘোষণা হইলো: এই বার মঞ্চ কাঁপাইবেন, মিস ঝুম্পাআআআ...

দৌড় দিয়া মঞ্চে উঠিলেন মিস ঝুম্পা। তিনিও মিস চম্পার অনুরূপ। তবে সাজসজ্জায় আরেক কাঠি সরেস।

তাহার পরনে লাল ঝলমলে চোলি - ঘাগড়া তো আছেই। তবে ব্লাউজ আর ঘাগড়ার দূরত্ব বড়ই বেশি। ইহাছাড়া ব্লাউজটিও অনেক ক্ষীণ। আবার মেদবহুল পেট আর বুকের খোলা অংশে অদ্ভুদ কি এক কায়দায় সোনালী চুমকি লাগানো হইয়াছে। উজ্জল বৈদ্যুতিক আলোয় নর্তন-কুর্দনের ফাঁকে ওইসব চুমকি ঝলসাইয়া উঠে।

নমাজ আমার হইলো না আদায়
----------------------------

বুঝিলাম, মূল যাত্রা শুরু হইতে দেরী আছে। ইহারা সবই বোনাস।

তো মিস ঝুম্পা হাত-পা ঝাঁকাইয়া, কোমড় দুলাইয়া 'হায় চোলি' নাচটির অনুকরণে কোনো একটি নাচ করিবার কসরত করিতে লাগিলেন।

তিনি আবার মাঝে মাঝে হলিউডের সিনেমার নাইট ক্লাবের দৃশ্যের ন্যায় মঞ্চের খুঁটি ধরিয়া ইঙ্গিতপূর্ণ কায়দায় শরীরে ঢেউ খেলান।

এই মহতি চুম্বক দৃশ্য হইতে অন্যদিকের দর্শকরা বঞ্চিত হইলে সেই দিক হইতে আবার হইহই রব উঠে।

চম্পা রানী তাহাদের মন জোগাইতে ছুটিয়া যান সেই দিকে। আবারো হাঁটুর উপরে ঘাগড়া তুলিয়া সেইদিকের খুঁটিটি উপড়ানোর বৃথা চেষ্টা চলে।...

এদিকে কানা মামুন ছবি তুলিবার ফাঁকে ফাঁকে আমার কানের কাছে আসিয়া চিৎকার দিয়া কহিলো, দাদা, কুড়িটা টাকা দিন তো। বাংলা খাইবো!

তাহার ইশারায় দেখিলাম, পুলিশের উপস্থিতিতেই মঞ্চের এক কোনে বিশাল এক প্লাস্টিকের ড্রামে করিয়া বাংলা মদ বিক্রি হইতেছে। সেখান হইতে ছোট প্লাস্টিকের বোতলে মদ ভরিয়া বিক্রি করা হইতেছে, প্রতি বোতল মাত্র কুড়ি টাকা।

এতোক্ষণে বুঝিলাম, বিভৎস ঘাম, সিগারেট, গাঁজার গন্ধ ছাড়াও কটু গন্ধটি কিসের।

চোখ ধাঁধানো আলো, মিস ঝুম্পার কসরত, তুমুল বাদ্য, হট্টোগোল আর নেশার কটু গন্ধে একেবারে নরক গুলজার!

আমি মামুনকে বুঝাইলাম, এই সব চোলাই মদে বেশীরভাগ সময়ই ঝাঁজ বাড়াইবার জন্য গাড়ির ব্যাটারির অ্যাসিড মেশানো হয়। ইহা স্বাস্থের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এমনকি অনেক সময় মানুষের মৃত্যূ পর্যন্ত ঘটে। সে ব্যাটা কি বুঝিলো কে জানে?

হঠাৎ মঞ্চের একদিকে দর্শকদের মধ্যে মারামারি লাগিয়া গেলো। ভলেন্টিয়াররা বাঁশ দিয়া পিটিইয়া পরিস্থিতি সামলাইতে পারিলেন না। চারিদিকে শুরু হইলো হুড়োহুড়ি। পুলিশ মুহুর্মুহু বাঁশি ফুঁকিতে লাগিলো। বুঝিলাম, এই বার তাহারা লাঠিচার্জ শুরু করিবে।

কানাকে বলিলাম, ক্যামেরা ছিনতাই হইবার আগেই চম্পট দেওয়া ভালো।

পুলিশের সেই সেকেন্ড অফিসার আসিয়া আমাদের কর্ডন করিয়া বড় রাস্তায় তুলিয়া দিলেন। আমাদের আর সেই বেলা যাত্রা দেখা হয় নাই।...

ছবি: যাত্রার মেকআপ, সাহাদাত পারভেজ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28836588 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28836588 2008-08-30 09:57:13
আমাদের তাজ ভাই...
ইতিপূর্বে লাশকাটা ঘর নামক লেখায় তাজ ভাইয়ের কথা সামান্য বলিয়াছি। আজ তাহার আরো কিছু কথা বলিতে চাই।...

মধ্য বয়সী মানুষ হইলে কি হইবে, বরাবরই দেখিতেছি, তাজ ভাই বড়ই সৌখীন। বেশভূষায় একটা ফুটবাবু, ফুটবাবু ভাব। সাদা শার্ট, শাদা প্যান্ট, চকচকে সাদা জুতা পরিয়া, চোখে সবুজাভ রেবান সানগ্লাস দিয়া যখন বেবি ট্যাক্সি উঠিতেন, আমি তাহার পাশে বসিয়া সুন্দর একটা গন্ধ পাইতাম। পরে শুনিয়াছি, ইহা ফরাসী ওডিকোলন -- চার হাজার সাত শত এগারো; তাহার কোন এক ভগ্নী নাকি বিদেশ হইতে আনিয়া দিয়াছে। আর তাহার মুখে প্রায়ই ঝুলিবে সোনার হোল্ডারে জ্বলন্ত বেনসন সিগারেট। মুঠি করিয়া সিগারেটে টান দিয়া টুশকি মারিয়া তাহার ছাই ফেলিবার কায়দাটিও দেখিবার মতো!

*

অর্থাভাবে প্রায়শই তাজ ভাইয়ের দ্বারস্থ হইতাম। তিনিও উদার হস্তে বিশ - পঞ্চাশ টাকা ধার দিতেন। বলিতে দ্বিধা নাই, নামেই ধার, আসলে ইহা ছিল সম্প্রদান কারকে শুন্য বিভক্তি। সেই রবি বাবুর খেরো খাতার কথা: এক ব্যাক্তি নাকি রবীন্দ্রনাথের নিকট হইতে টাকা ঋণ লইয়া বলিয়াছিল, কবিগুরু, আপনার কাছে চীরঋণী রইলাম!

১৯৯৪ - ৯৫ সালের কথা, তখন আমার মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের ‘অসভ্য’ পুঁচকে সাংবাদিকদের দুদণ্ড বসিবার জায়গা ছিল না। মোবাইল টেলিফোনও এতটা প্রচলিত হয় নাই। তথ্য - সংবাদের সন্ধানে ঝড় - বৃষ্টি, কি খর রৌদ মাথায় লাইয়া সকাল হইতে ডিবি পুলিশ অফিস, ঢাকা মেডিকেলের মর্গ অথবা সংবাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিয়া দুপুর নাগাদ আমরা ক্রাইম রিপোর্টাররা ভীড় করিতাম প্রেসক্লাবের সম্মুখ ফটকের নিকটস্থ বাগানে। বাগানের রেলিং এর ওপর বসিয়া একে অপরের সহিত নোট মিলাইয়া দেখিয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করিতাম। প্রেসক্লাবে সভ্যরা আমাদের কহিতো, রেলিং - সাংবাদিক। আর তাজ ভাই কহিতেন, তোরা হচ্ছিস সঙ্গবদ্ধ তথ্য চোরাচালান দল।

বলিয়া রাখি, সেই সময় ক্রাইম রিপোর্টারদের পুলিশের ঘুষের বখরা খাইবার জন্য বেশ একটা দুর্নাম ছিল। অবশ্য বরাবরই ব্যতিক্রম আছে।

কিন্তু একদিন তাজ ভাই বখরা খাইবার পক্ষে ছবক দিয়া ঘোষণা করিলেন, এ দেশে হেরাল্ড ট্রিবিউনের সাংবাদিকতা চলবে না, বুঝলি! ক্রাইম রিপোর্টিং তো কোনো ভদ্র লোকের পেশা না। পুলিশের ওপর চাঁদাবাজী করতে না পারলে জীবনে বড় ক্রাইম রিপোর্টার হতে পারবি না। পুলিশের ওপর চাঁদাবাজী করা মানে হচ্ছে, খোদার ওপর খোদকারী করা। আর তখনই পুলিশ তোকে ভক্তি করে সবার আগে নিউজ দেবে, নইলে নিউজ পাবি না। ভয় থেকেই ভক্তির উদ্ভব!

ভয়ে ভয়ে বলিলাম, তাজ ভাই, শেষে সততার আদর্শ বিসর্জন দেবো?

-- আরে রাখ তোর আর্দশ। যে দেবতা যে ফুলে তুষ্ট হয়, তাই তো করতে হবে না কি? পুলিশের টাকা না খেলে তারা তোকে বিশ্বাস করবে না, নিউজও পাবি না। শুধু দেখবি, যেনো কোনো দুর্নাম না হয়।...

তো প্রায়ই দুপুরে ভাত খাইবার মতো টাকাও পকেটে থাকিতো না। প্রেসক্লাব হইতে বাস ধরিয়া হাজির হইতাম তাজ ভাইয়ের মতিঝিলের বাসায়। তার শিশুকণ্যা তাজিন আর ভাবী আমার খুবই ভক্ত। ছোট একখানি একতলার বাসা, একেবারে সুখের নীড় বলিতে যাহা বুঝায়, তাহাই। বরাবরই দুপুরের খাবার হইতো জম্পেশ; মাছ - মাংস, শাক - সব্জি থাকিবেই। আহার শেষে ফল - ফলাদী, না হয় কিছু মিষ্টান্ন।

আমি চেষ্টা করিতাম ছোট্ট তাজিনের জন্য চকলেট, কি আইসক্রিম, বা বিস্কুটের প্যাকেট লইয়া যাইবার।

একদিন ভুল বশতঃ খালি হাতে ভর দুপুরে তাজ ভাইয়ের বাসায় হাজির হইয়াছি। আমাকে দেখিয়াই শিশুটি ‘কাকা, কাকা’ করিয়া কোলে ঝাঁপাইয়া পড়িল। লজ্জিত হইয়া কহিলাম, তাজ ভাই, তাজিনের চকলেট আনতে ভুলে গেছি।

-- চকলেট আনিসনি তো, ভাল করেছিস। তুই তো আবার দেশি চকলেট আনতি। আর ও আজকাল বিদেশি চকলেট ছাড়া খেতেই চায় না। ক্রাইম রিপোর্টারের মেয়ে তো!...

*

অনেকের মনে আছে নিশ্চয়, বিএনপির সেই সময় বিরোধী আওয়ামী লীগের আহ্বানে কঠিন - কঠোর হরতাল হইতো। হরতালে দিনভর এখানে - সেখানে বোমা ফাটিতেছে, পুলিশের সহিত দাঙ্গা বাধিতেছে, প্রায়শই দু-একটা লাশও পড়িতো। ফলে আমাদের এই সব তাজা খবর সংগ্রহ করিতে ব্যপক ছুটাছুটি করিতে হইতো।

আমার হরতালের ডিউটি পড়িতো তাজ ভাইয়ের সহিত। বলাবাহুল্য, ‘খোদার ওপর খোদকারীর’ ওই বিষয়টুকু বাদ দিলে তাজ ভাই এক অতি চমৎকার মানুষ, আমার খুবই প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাছাড়া উনার সহিত সারাদিন ডিউটি করা মানে, হাতে কলমে ক্রাইম রিপোর্টিং এর তালিম লওয়া। খাওয়া - দাওয়া, চা - সিগারেট একদম ফ্রি!

এই রকম হরতালের এক সকালে দোয়েল চত্বরে অফিসগামী এক ব্যক্তিকে দিগম্বর করিয়া ছড়িল ছাত্রলীগের সোনার ছেলে আলম। দেখাদেখি সারাদেশে হরতালের মৌসুমে অফিসগামীদের দিগম্বর করিবার ধূম পড়িল।... ছাত্রলীগের ক্যাডার নাম কামাইল ‘দিগম্বর আলম’।

একদিন সন্ধ্যায় তাজ ভাই আমাকে ভরা নিউজ রুমে সকলের সামনে ডাকিয়া জিজ্ঞাসিলেন, এই শোন, তোর মোট কয়টা আন্ডারওয়্যার আছে, বলতো?

আমি তো লজ্জায় মরি আর কি! কিছুতেই মুখে বাক্য সরে না।

তাজ ভাই বলিলেন, কাল তোর আর আমার হরতালের ডিউটি। তুই যে কয়টি আন্ডারওয়্যার আছে, সব ক’টি একসঙ্গে পরে ডিউটিতে নামবি; যাতে ইউনিভার্সিটির দিকে গেলে দিগম্বর আলমদের তোর কাপড় খুলতে খুলতেই হাত ব্যথা হয়ে যায়, বুঝলি!

*

আরেক হরতালের ভোরে অফিসের বেবি ট্যাক্সি লইয়া তাজ ভাইয়ের বাসায় গিয়াছি। উনাকে বাসা হইতে তুলিয়া এক সঙ্গে ডিউটিতে বাহির হইবো।

একতলার বাসা খানির নীচে আসিয়া অনেকক্ষণ ঘন্টা বাজাইলাম, ‘তাজ ভাই, তাজ ভাই’ বলিয়া ডাকাডাকি করিলাম, কোনো সাড়াশব্দ নাই।

খেয়াল করিয়া দেখিলাম, সদর দুয়ার সামান্য খোলা। উঁকি মারিয়াই সরিয়া আসিলাম, খাটের ওপর ভাবী খোলা পিঠে পেছন ফিরিয়া শুইয়া আছেন, পরনে শুধু পেটিকোট।

এদিকে ডিউডিতে যাইবার দেরি হইতেছে দেখিয়া খানিক পরে আবার হাঁকডাক শুরু করিলাম। এইবার চোখ ডলিতে ডলিতে তাজ ভাই নিজেই বাহির হইলেন। খালি গা, পরনে পেটিকোট!

--তাজ ভাই, এ কি অবস্থা?
-- আর বলিস না। কাল অফিস থেকে অনেক রাতে বাসায় ফিরেছি। বৌ - বাচ্চা সবাই গভীর ঘুমে দেখে কাউকে আর ডাকিনি। কিন্তু কিছুতেই লুঙ্গি খুঁজে পেলাম না। শেষে তোর ভাবীর একটা পেটিকোট পরে শুয়ে পড়েছি!...

(শেষ)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28836267 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28836267 2008-08-29 10:04:58
জহির রায়হান: একটি ব্যক্তিগত কথন...
এরপর ওই একই বাসায় দেখি 'ধীরে বহে মেঘনা'সহ মুক্তিযুদ্ধের ওপর আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর সব কয়েকটির নির্মাতা আলগীর হোসেন ও খান আতাউর রহমান (সংক্ষেপে, খান আতা)।

তো সেই সময় বাবার কাছে শুনেছি, পাকিস্তান আমলে আমার বাবা, তার রাজনৈতিক বন্ধু জহির রায়হান ও বিখ্যাত আলোকচিত্রী এমএ বেগ --এই তিনজন একই সঙ্গে পুনা ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে স্টিল ফটোগ্রাফীর ওপর ট্রেনিং কোর্স করেছিলেন। আর বাবা জেল খেটেছিলেন তার আরেক বন্ধু শহিদুল্লাহ কায়সারের সঙ্গে।

বাবার অনেক দিনের স্মৃতি বিজড়িত একটি বক্স ক্যামেরা আমার শৈশব স্মৃতিতে এখনো উজ্জল। আর তার তোলা সাদা-কালো ল্যান্ড স্কেপ, কক্সবাজারের সমূদ্র সৈকত, জেলে পড়া, রাখাইন নারী-ইত্যাদি ছবির কথাও মনে আছে। অনেক অযত্নে সেইসব ছবির বেশ কিছু পরে নোনা ধরে নষ্ট হয়ে যায়। এখনো প্রায়-অন্ধ বাবা সেই ছবির অ্যালবামটি তার লকারে যত্ন করে রেখেছেন। তার সেই বক্স ক্যামেরা, টিসট গোল্ড কোটেড হাত ঘড়ি --এখনো বুঝি সেই লকার বন্দী।...

*

প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরুনোর পর আমি পড়ি জহির রায়হানের উপন্যাস 'হাজার বছর ধরে'। তখনই টের পাই এই মহান শিল্পীর ধারালো মেধা। আর এরও পরে একর পর এক পড়তে থাকি তার অন্যান্য লেখা 'বরফ গলা নদী', 'আরেক ফাল্গুন'...সে সময় তার দু-একটি গল্প বিটিভিতে নাট্যরূপ আকারে দেখানো হয়েছিলো। আমাদের হাই স্কুলের পাঠ্যবইয়ে জহির রায়হানের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা একটি গল্পও সংযোজিত হয়েছিলো।

সে সময় যখন তার লেখা গল্প, উপন্যাস, এমন কী চিত্রনাট্য খুব মন দিয়ে পড়ছি, তখন বাবা বলেছিলেন, জহিরের আসল পরিচয় সে চলচ্চিত্রকার। এ কারণে তার সব সাহিত্যই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের মতো কাট-ছাঁট বুননে লেখা। হয়তো তার ইচ্ছে ছিলো, এ সব লেখাকে পড়ে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার। ...জহির রায়হান পড়তে পড়তে বুঝতে পারি, এ সবই সত্যি।

আরো পরে হাই স্কুলে জহির রায়হানের ছোট ছেলে অনল রায়হান আমার ক্লাস মেট হয়। সে অবশ্য অন্য সেকশনে পড়তো। আমাদের ডি-সেকশনের ছেলেদের মধ্যে এক ধরণের অংহ কাজ করতো বলে তার সঙ্গে মোটেও সখ্যতা গড়ে ওঠেনি।

স্কুল ম্যাগাজিনে একুশে ফেব্রুয়ারির ওপর আমার একটি ছোট লেখা ছাপা হয় একবার। আর ওই ম্যাগাজিনেই অনল রায়হান ছাপেন তার একটি রহস্য গল্প।

ততদিনে আমি শার্লক হোমস, জেমস বন্ড, জেমস হেডলি চেজ, আর দস্যু বনহুর, দস্যু বারহাম, কিরিটি রায়, ব্যোমকেশ, মাসুদ রানা, ফেলুদা তো বটেই--পড়ে পড়ে অকাল পক্ক। তাই অনলের লেখা আমাকে টানেনি মোটেও।

আমি যখন কলেজে পড়ি তখন একদিন জহির রায়হানের বড় ছেলে বিপুল রায়হান বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেন আমাদের আজিমপুরের বাসায়। সে একটি ১৬ মি.মি স্বল্প দৈর্ঘ ছবি বানাতে চায়। এ নিয়েই তারা দুজন বন্ধুর মতো গভীর আলোচনায় মাতেন।

সত্যি কথা বলতে, সে সময় ওই ছবিটিও দেখে আমার মনে হয়, নাহ্, এ-ও তার বাবার নাম রাখতে পারে নি!

*

'হাজার বছর ধরে' প্রসঙ্গে আবারো বলছি, কলেজে পড়ার সময় দৈনিক সংবাদে মোনাজাত উদ্দীনের একটি সচিত্র প্রতিবেদন দেখে চমকে উঠি। ওই উপন্যাসেরই যেনো সার্থক রূপায়ন ছিলো সে প্রতিবেদনে। রংপুরের এক অভাগা চাষী হালের বলদের অভাবে নিজের দুই স্ত্রীর কাঁধে জোয়াল তুলে দিয়েছেন--এমনই নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয় এতে।

আমি নিজে যখন এরশাদ বিরোধী ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে রাত জেগে জেগে পোস্টার লিখতে থাকি, তখনও আমার মনে পড়ে জহির রায়হান। মনে পড়ে তার সেই পাক-শাসন বিরোধী গল্প। ...

ওই গল্পটিতে বলা হয়, এক সদ্য চাকরিচ্যূত কেরানী বাসায় ফিরছেন। বাসায় ঢোকার মুখেই তিনি দেখলেন তার বাসার দরজায় কোন বেক্কেল যেনো সেঁটে রেখেছে হাতে লেখা এক পোস্টার। তিরিক্ষি মেজাজে পোস্টারটি ছিঁড়ে ফেলতে গিয়ে তার হাত আটকে যায়। তিনি দেখেন, এতে লেখা: ছাঁটাই করা চলবে না!

*

আরো পরে সাংবাদিকতায় এসে জহির রায়হানকে আমি প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। সেই সময় ভোরের কাগজে আমার সহকর্মী জুলফিকার আলি মানিক (এখন ডেইলি স্টারে) করেন একটি অসাধরণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জহির রায়হান আদৌ নিখোঁজ হননি। মুক্তিযুদ্ধের শেষ রনাঙ্গণ মিরপুরে বীরের মতো যুদ্ধ করতে শহীদ হয়েছিলেন তিনি।

কী আশ্চর্য! মানিকের ওই প্রতিবেদনটি সে সময় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অনুসন্ধানী বিভাগে পুরস্কৃত হয়নি। আর এখনও সামাজিকভাবে, কী রাষ্ট্রীয় ভাবেও জহির রায়হান অন্তর্ধানই রয়ে গেলেন!...

কিছুদিন আগে এক ব্লগে জহির রায়হান নিয়ে তিন বাহু গং বিতর্ক তোলে। সেই পুরনো কাসুন্দি: জহির রায়হান না কী বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধুকে চাপ দেওয়ায় মুজিব সরকারই তাকে গুম করেছিলো। জানি না, এর স্বপক্ষে যুক্তি-প্রমান তত্ব-তালাশ কতটুকু।

এই সব দেখে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাবেক সহকর্মী, সহব্লগার অমি রহমান পিয়াল ক্ষিপ্ত হন। তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসি আমি। ছোট্ট সহকর্মী রনিকে কাজে লাগাই আমরা। মানিককে ফোন করে তার প্রতিবেদন প্রকাশের দিনক্ষণ জেনে নেই। রনি প্রেস ইন্সটিটিউট লাইব্রেরি ঘেঁটে ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ফটোকপি জোগাড় করে আনেন। পিয়াল ভাই রাতের পর রাত জেগে আরো কিছু তথ্যসহ তৈরি করেন ওই ব্লগটির কাউন্টার ব্লগ। সমৃদ্ধ হয় অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ...

কিছুক্ষণ আগে বিডিনিউজ এর পাতায় যখন আবারো পড়ি জহির রায়হান সংবাদ, তাকে নিয়ে সহোদরার চলচ্চিত্র বানানোর উদ্যোগ...খবরটি প্রথমেই টেলিফোনে আমি জানাই বাবাকে। আর নিউজের ব্যস্ততার পরে এই রাতে লিখে ফেলি ব্লগরব্লগর এই লেখাটি। তবু কী জহির রায়হান পিছু ছাড়েন?...

*

ওদের জানিয়ে দাও/ ওরা আমার মা-বাবাকে হত্যা করেছে/ কুকুর বেড়ালের মতো/ ওদের স্টিম রোলারের নীচে/ ওরা দেখেও যদি না দেখে/ বুঝেও যদি না বোঝে/ গরম লোহার শলকা দুচোখ দিয়ে/ ওদের জানিয়ে দাও/ মরা লাশগুলোতে কেমন জীবন এসেছে।...জহির রায়হান।।
---

দেখুন: ১. গ্রুপব্লগ, জন্মযুদ্ধ

২.বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28834385 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28834385 2008-08-24 17:17:00
আলুর বড়া খাইয়া নন্দ নাচিতে লাগিলো
এক ছুটির বেলা আলস্য করিয়া একটু দেরীতে ঘুম হইতে উঠিয়াছি। দেখি বেড়াল শাবকের মতো বিছানার পাশ ঘেষিয়া নন্দ বসিয়া আছে। একখানা থালায় আমার জন্য বল্যাক কফির কাপ, টোস্ট বিস্কুট ইত্যাদি সাজানো। বুঝিলাম, তাহার কোনো নিবেদন আছে। এই সব নৈবেদ্য ইহারই ভূমিকা মাত্র।

আমি হাত-মুখ ধুইয়া তাহাকে বলিলাম, কী বলিবি, এই বেলা বল দেখি।

নন্দ কহিলো, না মানে কাকা বাবু, খুব তালের বড়া খাইতে ইচ্ছে করিতেছে।

আমি মনে মনে কহিলাম, মারিয়াছে আর কী!

মুখে কহিলাম, এই বর্ষায় পাকা তালই বা পাইবো কোথা যে বড়া খাইবি?

-কাকাবাবু, তুমি সাংবাদিক মানুষ, আমি জানি, তোমার অনেক ক্ষমতা। সকাল -বিকাল তুমি নামি-দামি কতো লোকে সঙ্গে মোবাইলে ফোনে কথা বলো! আমি তাহা অনেকদিন আড়াল হইতে খানিকটা শুনিয়াছি। ...একবার টেলিভিশনে তাহাদের চেহারা দেখাইবার জন্য সকাল-বিকাল কতরকম অনুরোধ, অনুনয়-বিনয় তোমাইকে শুনিতে হয়! আর কি মস্তো একখানা গাড়ি তোমাকে অফিসে লইয়া যায়, আবার অফিস হইতে বাসায় নামাইয়া দেয়! উরি বাপ্পস! তা তুমি পারো না, সামান্য খান কতোক তালের বড়া জোগাড় করিতে?

আমি হাসিয়া কহিলাম, ধূর পাগোল! ইহা আমার মতো সাংবাদিক কোন ছাড়, স্বয়ং ঈশ্বরও এই অবেলায় তালের বড়া জোগাড় করিতে পারিবেন কী না সন্দেহ!

-কাকা তুমি কিছু জানো না ছাই! মুখেই তুমি কেবল বিশ্ব মারিয়া বেড়াও! নির্ঘাৎ প্রধান সেনাপতি এই বিষয়ে কোনো হিল্লে করিতে পারিবে! তুমি আমার পক্ষ হইতে তাহাকে একটা এসএমএস ঠুকিয়া দেখো না একবার! ...কাকা, এইটা একটা প্লিইইইজ...

-আরে বোকা, তিনি তো মহান মানুষ, মহামন্য বলিলেও অতুক্তি হয় না। তাহাকে এসএমএস করিয়া জেলের ভাত খাইবো না কী? আর তাহারই বা এতো সময় কোথায় এই এসএমএস পড়িবার?

-তুমি জানো না ছাই কিছুই! জানো, তাহারা আইটিতে এখন কতশত উন্নতি করিয়াছে? সেই মার্কিন মুলুক হইতে এফবিআই-এর কর্তারা আসিয়া সেনা নিবাস ঘুরিয়া তাহাদের প্রশিক্ষণ দিয়াছে। এই দেখো না, তুমি মাঝে মাঝে কী এক আন্তর্জালীয় লেখক-সমাবেশে মাঝে মাঝে উঁকি মারো, উহা হঠাৎ করিয়া অচল হইয়া গেলো! তাহা কী এমনি এমনি? আর তুমি কহিতেছো, তাহারা এসএমএস পড়িবে না? তবে যে সেদিন কাগজে দেখিলাম, এসএমএস করিয়া কিছুদিন আগে সরকার বাহাদুর রাজনৈতিক সংলাপ করিলো!

-আমি ইঁচড়ে পাকা নন্দকে খানিকটা সায় দিয়া কহিলাম, তা বটে। তবে তাই বলিয়া এই বর্ষায় তালের বড়া?

-আরে কাকা, তুমি সুযোগ পাইলেই শুনাইয়া দাও, তুমি না কী নকশালাইট পিতার ঘরে জন্মিয়াছো! তাহা হইলে বন্দুকের মাহাত্ন আর বুঝিলে কোথায়? এই যে সব জিনিষ-পত্রের দাম হু হু করিয়া চড়িতেছে, কই, আনু মুহাম্মদ কী নূরুল কবির গং সুশীল সমাজ টিভির গভীর রাতের অনুষ্ঠানে এই লইয়া সামান্য চিঁচিঁ করিতেছেন, ইহার বাইরে আর কোথাও কিছু শোনা যায় না কেনো? সামনে রমজান আসিতেছে, ইহার আগেই নির্ঘাৎ আরেক দফা দ্রব্যমূল্যের দাম চড়িবে...তাহা হইলে কোথাও কোনো শব্দ নাই কেনো?

এই বার আমি পুঁচকের কথায় সত্যিই ভাবিত হইলাম। জানি, শিশু-কিশোরদের জন্য ধূমপান অধিক ক্ষতিকর। কিন্তু উত্তেজনা বশত ফশ করিয়া একখানা সিগারেট ধরাইলাম।...

-হুমম..সত্যিই চিন্তার কথা। কিন্তু প্রতিবাদ করিবে কাহারা? যাহাদের প্রতিবাদ করিবার কথা, তাহারা তো এখন দুর্নীতির দায়ে জেরের ঘানি টানিতেছে...অনেকে আবার দেশে-বিদেশে চিকিৎসা লইবার জন্য বুটের তলা চাটিয়া পরিস্কার করিয়া ফেলিতেছে। আর আছে নির্বাচন!...

এইবার নন্দ মুখের কথা কারিয়া লইয়া কহিলো, আমিও তো তাই বলি। পেটে ভাত নাই, নির্বাচন নামক গণতন্ত্রের বাতাসা খাইয়া দেখো না, সারাদেশ কী খুশী! প্রায়ই টিভির সংবাদে দেখি, একখানা ভুল-ভাল প্লাস্টিক কার্ড পাইয়া মুচি অলা হইতে শুরু করিয়া সমাজের রথিমহারথিদের আনন্দ আর ধরে না!

তো সেনাপতি পাইক-বরকান্দাজ লোক-লস্কর দিয়া ঘোলা পানিতে বন্দুক দিয়া মাছ মারিতে পারেন, আর আমার জন্য খান কতোক তালের বড়া আনিয়া দিতে পারেন না?

...এই বালক গাল ফুলাইলো। তাহাকে বলিতে চাহিলাম, জাতীয় পরিচয় পত্রের মাহাত্ন। আর নির্বাচন না হইলে এই সিন্দবাদের ভুত পালাইবে কোন পথে--ইত্যাদি অনেক কিছু।

কিন্তু এমন সময় আমার দিদি আসিয়া কহিলো, আরে তোমরা এই খানে বসিয়া ব্লগর ব্লগর করিতেছো? আমি সেই কোন সকাল হইতে নন্দর জন্য আলুর চপ ভাজিয়া বসিয়া আছি! আয় রে নন্দ এই বেলা গরম-গরম খাবি!

সে বেচারা কী বুঝিয়া মুচকি হাসিয়া উঠিলো। খাবার ঘর হইতে তাহার উল্লিসত ধ্বনি পাইলাম। কাছে গেলে নন্দ কহিলো, আমার তালের বড়া না হোক কাকা, এই বাজারে হাটুরা যখন মমতাজ বাজাইয়া আর মাঠ বক্তৃতায় আলুর দম চড়াইছে, তখন আলুর বড়াই বা মন্দ কী!

আমি মনে মনে কহিলাম, এই না হ্ইলে বাঙালি, আল্পেই তুষ্ট। তাহারা গদি বোঝে না, প্রধানমন্ত্রী, উজির, বাদশা বোঝে না...শুধু পেট পুরিয়া সামান্য আহার আর সুনিন্দা চায় মাত্র!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28825731 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28825731 2008-07-30 20:01:40
মন কেনো এতো কথা বলে?
মিতি আপা জানতে চান, আপনার কী মানিকের কথা মনে আছে?

আমার প্রথমেই সাংবাদিক মানিকের নাম মনে পড়ে।

মিতি আপা বলেন, আরে না, আমি টোকাই মানিকের কথা বলছি, ওই যে সে নাকী এক সময় আপানাদের সাথে দলবেঁধে ঘুরতো। আর খুব সুন্দর গান করতো।...

হ্যাঁ, মনে আছে। কিন্তু কেনো?

সময় থাকলে আপনি এখনই বিবিসির ইন্দিরা রোডের অফিসে চলে আসুন। খুব জরুরী।

সে সময় বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ফ্রান্সিস হ্যারিসনের সঙ্গে কিছু নিউজ করেছিলাম। এ জন্য বিবিসির ঢাকা অফিসের বাংলা বিভাগের প্রধান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অনেকের সঙ্গেই আমার সখ্যতা ছিলো।

আমি ইন্দিরা রোডের ধানসিঁড়ি অ্যাপার্টমেনেন্টে গিয়ে স্টুডিওতে মিতি আপার মুখোমুখি বসি। ধূমায়িত এক কাপ ব্ল্যাক কফি সামনে রেখে মিতি আপা ছোট্ট সিডি রেকর্ডার বাজান, হেড ফোন গুজে দেন কানে। বলেন, আপনি আগে এটি শুনে বলুন তো, এটি মানিকের ভয়েস কী না!

রেকর্ডে এক বালক কোকিল কন্ঠে গেয়ে চলে:

প্রথম দেখার কালে রে বন্ধু কথা দিয়াছিলে/ আসি আসি বলে রে বন্ধু ফাঁকি দিয়াছিলে/ যদি না পাই তুমারে/ এই জীবনের তরে/ তখন কিন্তু বলবো রে আমি/ প্রেম কিছু না রে...

ঝাঁ করে আমি ফিরে যাই কৈশর-প্রথম যৌবনের উড়াল দেয়ার দিনে।

*

সন্ধ্যা ঘনালে চারুকলার শুকনো পুকুর পাড়ে গাব গাছের নীচে বসে নগর-বাউলের আসর। পাগলা জাহিদ, বিপ্লব চক্রবর্তী, বাহার, ইংরেজীর ছাত্র মিল্টন, চারুকলার মৃনাল আর একেবারে পাত্তা না পাওয়া নবী (এখন পথিক নবী নামে স্টার!) -- ঢোল, দোতারার সঙ্গে গাইছেন একের পর এক সদ্য লেখা গান, জমেছে গাঁজার আসর। রব বাউলসহ আরো দু-একজন নাম বিস্তৃত বাউলও আছেন সেই আড্ডায়।

জাহিদ ভাই আমার উপস্থিতিতে খুশী হন। হাত ধরে টেনে এক পাশে বসান। পরিচয় করিয়ে দেন হাবাগোবা, লুঙ্গী পরা এক কালো মতো বালকের সঙ্গে। বলেন, ওর গলায় গান আছে।...

এরই মধ্যে এক বিঘতি গাঁজার কল্কে ঘুরে ঘুরে আসে।

একটু পরে আমি প্রস্তাব করি, জাহিদ ভাই, এবার মানিকের গান হোক না!

সবাই হইহই করে আমাকে সমর্থন দেয়।

এই মানিক, গান ধর তো! ওই যে, ওই গামছার গানটা গা।...

কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই বালক ময়মনসিংহের আঞ্চলিক উচ্চারণে গেয়ে ওঠে:

পিরীতেরই রঙিন সুতায় মনের গামছার বানাইছি/ সেই গামছা দিয়া তোরে বাইন্ধা ফালাইছি/তোরে যাইতে দিমু না/ মান করিয়া মানিনিয়া যাইতে দিমু না...

এর পর মানিক আমাদের আড্ডাবাজীর দলে, মানে জাহিদ ভাইয়ের গানের দলে ভীড়ে যায়। জাহিদ ভাইয়ের গান ওর গলায় প্রাণ পেয়ে পাখনা মেলে:

কোন বা বন্ধনে বান্ধিয়াছো ঘর, কারিগর?/ফাগুনের মাতাল হওয়ায়/ ঘর লড়বড় করে রে আমার/ ঘর লড়বড় করে/ ডাইনে বায়ে দুই জানালা/ ছাঁদ জুড়ে তার দরজা খোলা/ বাউল মনে দিয়া তালা/ থাকি কেমনে ঘরে?...

...এর পর নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমার ব্যস্ততা বাড়ে। আমি জাহিদ ভাইয়ের কাছ থেকে দলছুট হয়ে পড়ি। আগের মতো আর চারুকলা-টিএসসি যাওয়া হয় না। হঠাৎ হঠাৎ মানিকের সঙ্গে ঢাবির ক্যাম্পাসে দেখা হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তার আকুতি, স্যার একটা টাকা দেন, রুটি খামু।...

আমি অবশ্য এমনি এমনি ওকে টাকা দেই না। বন্ধু-বান্ধব জুটিয়ে ওর দু-একটা গান শুনে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশী টাকা দেই। কখনো ১০, কখনো ২০টাকা দিলাম, আবার কখনো বা হয়তো ওকে এক বেলা পেটপুরে খাওয়ালাম, এ রকম আর কী!

এরই মধ্যে শুনতে পাই, ওর গান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

*

নব্বইয়ের পরে আমি পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়ি পেশাগত সাংবাদিকতা জীবনে। ব্যস্ততার ঘেরাটোপ আমাকে এতটুকু অবসর দেয় না। ...কোনো কাজ ছাড়া ঢাবি এলাকা, শাহবাগ, পাবলিক লাইব্রেরি, কী চারুকলায় যাওয়া হয় না।

তবে শুনতে পাই, জাহিদ ভাই, মিল্টন, বিপ্লব, মাসুদ--ওরা পুরোপুরি ভবঘুরে হয়ে পড়েছে...আর ভয়ংকর রকম হেরোইন আসক্ত! রাস্তা-ঘাটে এখানে-সেখানে কাটাচ্ছে ছন্নছাড়া মাদকাসক্তের জীবন!

আর সঙ্গ-দোষে মানিকও নাকী ওই বয়সেই সিগারেট-গাঁজা খাওয়া শুরু করেছে। এক সহৃদয় ব্যক্তি মানিককে নাকী নিজের বাসায় রেখে গান শিখাতে চেয়েছিলেন। ও সেখান থেকে পালিয়ে আবার চলে আসে ঢাবির বন্ধনহীন ভাসমান জীবনে। জাহিদ ভাইকেও জনে জনে সুস্থ জীবনে ফেরাতে ব্যর্থ হন। সব জ্ঞানই এখানে অসাড় হে!

আমি খবরেরই লোক...কিন্তু এইসব খবরে বুকের মধ্যে হাহাকার করে। অসহায় সামান্য মানুষ, আমার তখন কিছুই করার থাকে না!

আরো পরে ১৯৯৩-৯৪ সালের কথা। ঢাকার সব রাস্তায় তখন রিকশা চলতো। আমি শাহবাগ থেকে রিকশা করে জিগাতলায় আজকের কাগজের অফিসে যাবো। কিছুতেই রিকশা পাচ্ছি না। হঠাৎ এক অল্প বয়সী রিকশাওয়ালা আমার সামনে এসে অনেকটা পরিচিত কণ্ঠে ডাকে, স্যার, ও স্যার, আমার রিকশায় আহেন। আপনি বালা আছেন? হাড্ডিসার চোয়াড়ে চেহারার কিশোর রিকশাওয়ালাকে আমি চিনতে পারি। এ আমার সেই ছোট্ট বন্ধু মানিক!

প্রথমে ওর রিকশায় বসতে একটু সংকচ হলেও পরে আমি তাতে চেপে বসি। পথে টুকটাক কিছু কথা হয়। মানিক জানায়, ওর এখনো রিকশার লাইসেন্স হয়নি। সে 'নিশা' করা পুরোপুরি ছেড়েছে। আর তার রাতটুকু কাটছে সূর্যসেন হলের ক্যান্টিন বয়দের সঙ্গে। আমি জাহিদ ভাইয়ের কথা জানতে চাই। মানিকের অকপট স্বীকারোক্তি, হে অহন গ্যাস লয়, আর পাবলিক লাইবরির বারান্দায় বইয়া ঝিমায়। তারে বাড়ি থিকা খ্যাদায় দিছে!

আরো কোনো ভয়ংকর কথা শুনতে হবে, এই ভয়ে আমি কথা বাড়াই না। গন্তব্যে পৌঁছে ওকে ৮-১০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকার একটা চকচকে নোট দেই। মানিক 'স্লামালাইকুম স্যার' বলে কেটে পড়ার আগে স্বাভাব সুলভ হাসিতে জানায়, টিএসসিতে যে কোনো সন্ধ্যায় রবির চায়ের দোকানে এলে তাকে পাওয়া যাবে। এখনো সে গান করে। অনেক নতুন নতুন গানও শিখেছে।...

সেটাই ছিলো মানিকের সঙ্গে আমার শেষ দেখা। কেনো? বলছি...

*

আরেক কাপ কফি শেষ করে আমি ফিরে আসি মিতি আপার মুখোমুখি, ধানসিঁড়ি অ্যাপার্টমেন্টে, বিবিসির স্টুডিওর হিমঘরে। মিতি আপা প্রতিভাবান পথশিশুদের ওপর বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদন করছেন ‌'প্রবাহের' জন্য। এ জন্য মানিকের সূত্রধরে খোঁজ পড়েছে আমার। শুরু হয় আমার সাক্ষাতকার গ্রহণ। আমিও আবেগ ঝেড়ে ফেলে পেশাদারের মতো গড়গড় করে বলতে থাকি:

নব্বইয়ের দশকে কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ 'মন্দিরা' নামে ছোট একটি নগর বাউলদের গানের দল করেছিলেন। বিপ্লব চক্রবর্তী, জাহিদ হাসান ও বাহার ছিলেন সেই গ্রুপের। এদিকে ময়মনসিংহের রেল স্টেশনে গান গেয়ে ভিক্ষে করে বেড়াতো এক টোকাই ছেলে মানিক। সে কোনো বাউল দলে গান শিখেছিলো। ট্রেনে ট্রেনে ভিক্ষে করে বেড়াতে বেড়াতে মানিক চলে আসে ঢাকায়। ...

মন্দিরা-গ্রুপের সঙ্গে কিছুদিন গান করে বেড়ায়। মঞ্চেও সে বেশ কয়েকবার গান করে প্রশংসা পেয়েছে। এক ব্যাক্তি বাসায় রেখে তাকে গান শেখাতে চেয়েছিলো। কিন্তু মানিক সেখান থেকেও পালায়...ভাসমান পথশিশুদের বেলায় যেমনটা হয় আর কী। এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর সে একটু বড় হলে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করে। তখন সে রাতে থাকতো সূর্যসেন হলের ক্যান্টিন বয়দের সঙ্গে।

আমি শুনেছি, এক রাতে ওর খুব জ্বর হয়েছিলো। কিন্তু ছাত্রদলের ক্যাডাররা ওর কোনো কথা শোনেনি। ওকে তারা জোর করে ডাব পাড়তে গাছে ওঠায়। মানিক ওই অসুস্থ অবস্থায় বাধ্য হয়ে গাছে চড়ে। দূর্বল শরীরে হাত ফস্কে সে গাছ থেকে পড়ে যায়। ছাত্ররা ধরাধরি করে ওকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানান, মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যূ ঘটেছে।। ...

*

সম্প্রতি একটি সংস্থা 'তিনচাকার গান' নামে এক আয়োজনে রিকশাওয়ালাদের গান রেকর্ড করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই বাছাই পর্বের ওপর আমার এক সময়ের সহকর্মী মুন্নী সাহা 'এটিএন বাংলায়' করেন একটি বিশেষ প্রতিবেদন। নিউজটি দেখতে দেখতে এক কিশোর রিকশাওয়ালার উদাত্ত গানের গলা শুনে আমার মানিকের কথা মনে পড়ে যায়। মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে, ওরই করা সেই গান:

কে বলে পাগল, সে যেনো কোথায়, রয়েছে কতই দূরে/ মন কেনো এতো কথা বলে?/ পাগল মন, মন রে, মন কেনো এতো কথা বলে?/ আশি তোলায় সের হইলে, চল্লিশ সেরে মন/ মনে-মমনে একমন না হইলে, মিলবে না ওজন/ পাগল মন, মন রে, মন কেনো এতো কথা বলে? ...
---
ছবি: বিমল দাস বাউল, সাহাদাত পারভেজ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28821623 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28821623 2008-07-18 17:20:58
তথ্য আমার অধিকার, এই অধিকার ফেরত চাই!
এ নিয়ে প্রিয় সামহোয়ারিনসহ আমারব্লগ ডটকম, ফেসবুকেও বেশ খানিকটা লেখালেখি হয়েছে। কাল প্রথম আলোও নিউজ করে বিষয়টি পাঠকের নজরে এনেছে।

আর সচল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে পোস্ট দিয়ে ও ইমেল করে জানিয়েছেন, তাদের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নেই। বাংলাদেশে সচল ব্যান হয়েছে কী না, এ সম্পর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাননি। তারা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন-ইত্যাদি।

সকলের অবগতির জন্য বলছি, ১/১১-র পর 'দেশপ্রেমিক সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্ববধায়ক সরকার' জরুরি অবস্থা জারি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে ধর-পাকড়ের পাশাপাশি মিডিয়ায় চাপিয়ে দিয়েছে স্বৈর শাসন।

এরই অংশ হিসেবে ডেউলি স্টারের সংবাদিক তাসনিম খলিলকে যৌথবাহিনী তুলে নিয়ে যায় বা কার্টুনিস্ট আরিফকে জেল খাটতে হয়, অথচ প্রথম আলোর সম্পাদক থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে!

এ সরকার বোধগম্য কারণেই সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমার দল জনসংহতি সমিতির মূল ওয়েব সাইট পিসিজেএসএস-সিএইচটি ডটঅর্গ বেশ কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়। নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের দলীয় মুখপাত্র 'জুম্ম বার্তা বুলেটিন'।

শেষোক্ত ঘটনা দুটিতে সরকার পক্ষ কোনো বক্তব্যই দেয়নি। আর দেবেই বা কেনো? তাসনিম খলিল বা কার্টূনিস্ট আরিফ ইস্যুতে তারা কি কোনো বক্তব্য দিয়েছে? তাই যদি আশঙ্কাটি শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়, সচলায়নকে এদেশে ব্যান করা হয়, সেক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সরকার দেবে না, এটিই স্বাভাবিক।

আর কী হাস্যকর দেখুন, এই সরকার কী না শিগগিরই পাশ করতে চাচ্ছে, তথ্য অধিকার আইন! এটি নাকী আবার উপদেষ্টাগণ নীতিগতভাবে অনুমোদনও দিয়েছেন! কমিউনিটি রেডিও প্রকাশের দ্বৈতনীতির কথা না হয় ছেড়েই দিলাম।

এ অবস্থায় আমার বক্তব্য খুবই পরিস্কার ও সংক্ষিপ্ত। তথ্য জানার অধিকার আমার জন্মগত অধিকার। এটি আমার অন্যতম মৌলিক অধিকারও বটে। তাই সচলায়তন ডটকম বিনা বাধায় পড়তে চাই এবং তা এখনই!...

আজ যদি সচলের ওপর আঘাত আসে, কাল তা সামহোরিনের ওপর আসবে না তারই বা নিশ্চয়তা কী?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28821612 http://www.somewhereinblog.net/blog/biplob_33blog/28821612 2008-07-18 16:52:39
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি যেভাবে রেডিওতে প্রচার হলো...
পাকিস্তানি সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় শেখ মুজিব যে ভাষণ দেন তা সম্প্রচারের জন্য দুঃসাহসী সেসব কর্মকর্তাদের কাছে জাতি চীর কৃতজ্ঞ।

অগ্নিঝরা সেই ভাষণের বিষয়বস্তু পৌঁছে গিয়েছিলো বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে। এ ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙালির নেতা পাকিস্তান সরকারের সাথে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেন। এ ভাষণের বাঙালির স্বাধিকারের আকাঙ্খাকে আরও উস্কে দিয়েছিলো। আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো জনগণের মনে।

পাকিস্তান রেডিওর শাহবাগ কেন্দ্রে প্রবেশ করাটাও কর্মকর্তাদের জন্য ছিল কঠিন এক ব্যাপার। সম্প্রচারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সামরিক সরকার। এসব সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারের দাবিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে রেডিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন।

যে আট-দশজন বেতারকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে '৭১ এ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রচার করেন, তাদের একজন আশফাকুর রহমান খান। রেডিও পাকিস্তান ছেড়ে পরবর্তীতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

বছর দুয়েক আগে আমি এই অকুতোভয় সৈনিক আশাফাকুর রহমানের সন্ধান পাই আমারই আরেক সহকর্মী নজরুল ইসলামের মাধ্যমে। তিনিও একসময় বাংলাদেশ বেতারে কাজ করার সময় এই ব্যক্তিত্ব সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন।

ধানমণ্ডির বাসায় আলাপকালে এই মুক্তিযোদ্ধা বারুদঝরা সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন । তার কথোপকথন থেকে সে সময় আমি বিডিনিউজ ট