রংপুর জিলা স্কুলে ডিবেট ক্লাব খোলা হবে। আমাদের দুই কেলাশ উপরে পড়া জেমস্ ভাই, কনক ভাইয়েরা ক্লাসরুমে এসে এসে ডিবেট ক্লাবে যোগ দেওয়ার দাওয়াত দিয়ে গেলেন। ১৯৯৭ সাল। আমরা পড়ি ক্লাস এইটে। আমরা মানে, আমি, তাপস, রাসেল, রাজীব, রকেট, আদনান...। রংপুর জিলা স্কুলে বিতর্ক ব্যাপারটা তখন এক ক্রেজ। টিভি বিতর্কের টিমে চান্স পাওয়া মানে বিরাট সম্মান। সকাল আটটার অ্যাসেম্বলিতে, টিভি বিতর্ক করে আসা বড় ভাইদের নাম হেডস্যার নিজে ঘোষণা করতেন। সিমেন্টের তৈরি একটা ছোট্ট প্ল্যাটফরমটা ছিল। লাল ছোট্ট সে প্ল্যাটফরমে জাতীয় পতাকা গেড়ে রাখা হতো। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনজন ছাত্রকে প্রতিদিন জাতীয় সংগীত গাইবার জন্য লিড ভোকালের কাজ করতে হতো। এরপর একজন এসে হাত উপরে তুলে পাঠ করত -‘আমি শপথ করিতেছি যে...’ এবং আমরাও তার দেখাদেখি চীৎকার করে উঠতাম - ‘আমি শপথ করিতেছি যে মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব, দেশের প্রতি অনুগত থাকিব...’। সেই প্ল্যাটফরমটায় টিভি বিতর্ক করে আসা ছাত্রদের হেডস্যার ডেকে নিতেন। তারপর তাদের সাফল্য বয়ান করতেন। এসময় তাঁর কণ্ঠে একটা গর্বের আঁচ টের পাওয়া যেত।
টিভি বিতর্ক ব্যাপারটা যেন একটা স্বপ্নই হয়ে উঠেছিল। তাই চতুর্থ পিরিয়ডের ঘণ্টা শুনেই, যে ঘণ্টা মানে টিফিন, যে ঘণ্টা মানে গরম সিঙাড়া আর জিলেপি, হুড়োহুড়ি করে পৌঁছে গিয়েছিলাম আর্দ্র অতীতের গন্ধযুক্ত লম্বা হলরুমে। গিয়ে দেখি হলরুম ভর্তি ছাত্র। বড় ভাইয়েরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডিবেটিং ক্লাবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বয়ান করছেন। এরপর তারা একটা কমিটি তৈরির ঘোষণা দিলেন। আমার মতো অত্যুৎসাহী কয়েকজন নিজেই নিজের নাম প্রস্তাব করে বসল! (পরে ভোট হয়েছিল। দুইটিমাত্র কণ্ঠভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে হেরেছিলাম!) বড় ভাইয়েরা আমাদের মতো যারা নতুন তাদেরকে ‘এই তুমি’, ‘এই তুমি’ করে সম্বোধন করছিলেন। এর মধ্যেই দেখি কয়েকটি মুখকে তারা আগে থেকেই চেনেন। তাপস ছিল ফার্স্টবয়। স্কুলের সবাই ওকে এমনিতেই চিনত। আরেকটি মুখকে নিয়ে বড় ভাইদের খুব আগ্রহ খেয়াল করলাম। বারবার ডেকে ডেকে ওকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছিল। আমার পাশে ছিল আদনান। আদনানকে জিজ্ঞেস করলাম, ওটা কে? জুয়েল, চেননা জুয়েলকে?
হুমম্। জুয়েলকে চিনলাম। এরপর কীভাবে কীভাবে যেন বিতর্ক নিয়ে আমি খুব সক্রিয় হয়ে উঠেছিলাম। একবছর পর, আমরা যখন ক্লাস নাইনে, টিভি বিতর্কের দলে সুযোগও পেয়ে গেলাম। আমি, তাপস আর সেই জুয়েল। টিভি বিতর্কের প্রস্তুতি চলল একমাস। রংপুর জিলা স্কুলের সব ধরনের সাংস্কৃতিক কাজকর্মের মূল উদ্যোগী ছিলেন সুবোধ স্যার। প্রতিদিন তিনি স্ক্রিপ্ট লিখে নিয়ে আসতে বলতেন। কোনোটাই তাঁর পছন্দ হতো না। স্যার তাঁর বিখ্যাত সম্বোধনগুলো আমাদের উদ্দেশ্যে আওড়াতেন। মারতেনও কম না। আমাদের তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে গালাগালি আর মার হজম করেছিল জুয়েল। কোনোদিনই সে নতুন স্ক্রিপ্ট করে আনত না। স্ক্রিপ্ট ছাড়াই কোথা থেকে নতুন নতুন সব তত্ত্বের আমদানি করতো সে।
প্রস্তুতিপর্ব সমাপ্ত হলো। আমরা বাসে করে সদলবলে রওনা দিলাম ঢাকা। আমাদের দলপ্রধান, বলা বাহুল্য, সুবোধ স্যার। রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ছোট-বড়-মাঝারি কয়েকশ’ বাতি ঝোলানো স্টুডিওতে পা রেখেই আমি তো ভয়ে অর্ধেক। দলের প্রথম বক্তা ছিলাম আমি। আমার স্ক্রিপ্টের শুরুতেই ছিল চর্যাপদের একটা শ্লোক। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাই আমাদের চিকিৎসা সেবার অবনতির মূল কারণ’। এই বিষয়ের সঙ্গে চর্যাপদের শ্লোকের কী সম্পর্ক - পরে অনেকবার ভেবেও আমি এ প্রশ্নের কোনো উত্তর পাইনি! যদিও সুবোধ স্যার পুরো স্ক্রিপ্ট আমাকে দিয়ে কম করে হলেও পঞ্চাশবার প্র্যাকটিস করিয়ে নিয়েছিলেন তারপরও শুরুতেই সে শ্লোক বলতে গিয়ে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। ভুলভাল একটা কিছু বলে চালিয়ে দিলাম। বাদবাকি স্ক্রিপ্টটুকু মুখস্ত ঝাড়লাম! আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল কুষ্টিয়া জিলা স্কুল। আমার পরের বক্তা জুয়েল, তারপর তাপস। তাপস বরাবরের মতোই ধুন্দুমার বিতর্ক করল। কিন্তু আসল কাজটা নাকি করে দিয়ে গিয়েছিল জুয়েল। বিতর্কে জিতবার পর সুবোধ স্যার ওকে জড়িয়ে ধরে বারবার এটা বলছিলেন। কুষ্টিয়ার টিমের দ্বিতীয় বক্তার নম্বরের সঙ্গে ও অবশ্য বড় একটা ব্যবধান তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিল। সবচেয়ে কম প্রস্তুতি ছিল ওরই। কিন্তু বলার স্টাইলের জন্যই সম্ভবত ওর বক্তব্যের সময়ই বিচারকেরা আমাদের দিকে ঘুরে তাকায়। সেরা বক্তার খেতাবটা তাপস পেলেও, সুবোধ স্যার জুয়েলের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, হি মেইড দ্য ডিফারেন্স। আমার খুব হিংসা হচ্ছিল।
প্রথম রাউন্ডে জিতলেও টিভি বিতর্কের হর্তাকর্তারা পরের রাউন্ডের জন্য আমাদের আর ডাকেননি। বছর দুয়েক পর আমি, জুয়েল, তাপস - আমাদের সেই টিম আবার আবির্ভূত হলো বিতর্কের ময়দানে। কারমাইকেল কলেজ আয়োজন করল ‘আন্তঃ রংপুর বিতর্ক উৎসব’। আমরা তখন পড়ি রংপুর সরকারি কলেজে। ‘আন্তঃ রংপুর বিতর্ক উৎসব’-এ অংশ নিতে আসল রংপুরের সব কলেজ আর কারমাইকেল কলেজের প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট। আমরা মাত্র ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র। কারমাইকেলের টিমগুলোর সদস্যরা ছিল অনার্স-মাস্টার্সের। আমাদের টিম প্রবল বিক্রম দেখিয়ে সব বুড়ো বুড়ো দলগুলোকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল। ফাইনালে আমাদের প্রতিপক্ষ হলো কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ। তাদের তিন বিতার্কিকই মাস্টার্সের। মিলনায়তন উপচে পড়ছিল মানুষে। আমাদের কলেজের স্যার-ম্যাডামদের ফেভারিট বিতার্কিক ছিল জুয়েল। পুরো প্রতিযোগিতাতেই জুয়েল দর্শক মাতানো বিতর্ক করে এসেছে। তাপসও ভালো করছিল খুব। সবাই ভেবে রেখেছিল ফাইনালেও আমরা জিতে যাব। কিন্তু আমরা হেরে গেলাম। এই পুরো টুর্নামেন্টে আমি জুয়েলকে কাছ থেকে দেখেছি। ওর চিন্তাকে কখনই আমার প্রখর মনে হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে এমন কিছু কথা বলত ও, আর এমনই ছিল ওর ভঙ্গি যে দর্শকরা পলকহীনভাবে ওর কথা গিলতে বাধ্য হতো। আমি ভেবেছিলাম ওর এই দক্ষতা বুঝি বিতর্কের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু অনেক পরে বুঝেছিলাম আমার এই ধারণা ভুল ছিল। সামনাসামনি কথোপকথনেও মানুষকে তাক লাগিয়ে দেওয়াটা ওর জন্য খুব সহজ একটা ব্যাপার। ওর এই বাকদক্ষতার জন্যই সম্ভবত আমাকে এই লেখা লিখতে হচ্ছে।
ফার্স্ট ইয়ারের শেষাশেষি জুয়েল কলেজে আসা বন্ধ করে দিল। পুরো সেকেন্ড ইয়ারে কোনো ক্লাস করল না। সেকেন্ড ইয়ারে অবশ্য এমনিতেই ক্লাস-ট্লাস তেমন হয় নি। তারপরও দীর্ঘদিন জুয়েলকে আমরা আর খুঁজেই পাইনি। ও কী করে, কোন স্যারের কাছে পড়ে কেউ-ই জানে না। এরপর ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার সময় জুয়েল পরীক্ষা দিতে আসল হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে। প্রথম পরীক্ষাটা এভাবেই দিল। এরপর আর একটা পরীক্ষাও দিতে আসল না সে। এবং এ সময় থেকেই জুয়েলের দিকে সবাই কেমন একটা চোখে তাকানো শুরু করে - বাসে কিংবা ট্রেনে চতুর মলম-বিক্রেতার দিকে আমরা যে চোখে তাকাই, অনেকটা তেমন; আমরা বিক্রেতার কথায় আমোদ পাই আবার মনে মনে এটাও নিশ্চিত থাকি যে এর কথার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। জুয়েল যে হাতে সাদা ব্যান্ডেজ বেঁধে পরীক্ষা দিতে আসল, অনেকে বিশ্বাসই করল না সত্যি সত্যিই ওর হাতে কিছু হয়েছে। এটা নিয়ে ফাজলামিও হলো। আমি কেবল মেলাতে পারলাম না কবে থেকে জুয়েল সবার মধ্যে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে শুরু করেছে। এর পেছনে কারণ কি এটাই যে ও তাৎক্ষণিকভাবে অনেক চমক লাগানো কথাবার্তা বলে? মানে ব্যাপারটা কি এমনই যে এতদিন ওর বিতর্কের শ্রোতারা খুব আগ্রহ নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থেকেছে, কথাগুলোর চমৎকারিত্বে এবং তাৎক্ষণিকতায় অভিভূত হয়েছে, আমোদিতও হয়েছে, কিন্তু একটা বর্ণও বিশ্বাস করেনি?
ইন্টারিমিডিয়েট পরীক্ষার পর আমরা রংপুর ছেড়ে ছড়িয়ে পড়লাম। বিভিন্ন জন ভর্তি হলো বিভিন্ন খানে। ছুটিতে বাড়ি গেলে কাচারিবাজারের আড্ডায় জুয়েলকে নিয়ে অনেক চটকদার আলোচনা শুনতাম। জুয়েল নাকি ব্যবসা শুরু করেছে। একটা বাইক কিনেছে। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলেই নাকি বলে, গত পরশু সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছি কিংবা আগামী সপ্তাহে মালয়শিয়া যাচ্ছি। এগুলো আলোচিত হতো মশকরার মেজাজে। আমাদের যখন হাসাহাসি করার মতো বিষয়ের অভাব হতো তখন আমরা জুয়েলকে নিয়ে আলাপ জমাতাম। আমাদের ব্যাচের রিইউনিয়নে জুয়েল ঘোষণা দিল ও-ই আমাদের ব্যাচের মধ্যে সবার আগে পি.এইচ.ডি করেছে! আশ্চর্য, যে ছেলে ইন্টামিডিয়েটের সিঁড়িই ডিঙোতে পারল না সে পি.এইচ.ডি করল কি স্বপ্নে! ওর হইছেটা কী? খোঁজ নিয়ে জানলাম জুয়েলের ধান্দার নাম ‘ডেসটিনি ২০০০’। ‘ডেসটিনি’র একজন এজেন্ট হয়েছে সে। তার কাজ ডেসটিনির গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানো। তাকে ডক্টরেট করিয়েছে ডেসটিনিই!
জুয়েলকে নিয়ে আমাদের হাসি-তামাশার ধার অবশ্য রি-ইউনিয়নের শেষে এসে কিঞ্চিৎ কমল। অনুষ্ঠান আয়োজনের বাকি-বকেয়া মেটাতে আয়োজকরা যখন গলদঘর্ম তখন জুয়েল ঘোষণা দিয়ে আয়োজক কমিটিকে কয়েক হাজার টাকা ডোনেশন দিয়ে ফেলল। এরপর আরো দুয়েকটা অনুষ্ঠানে জুয়েল এরকম ডোনেট করেছে। ডোনেশনের পরিমাণও আস্তে আস্তে বেড়েছে। এবং মজার ব্যাপার ওর পসার যতই বাড়তে থাকল বন্ধুদের মধ্যেও ওর একরকম গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হতে থাকল। ওর এজেন্ট হিসেবে রংপুরের এমন কিছু মানুষের নাম শোনা যেতে থাকল যে আমাদের চোখ প্রায় কপালে ওঠার দশা। জুয়েলের খালি পসারই পসার। এমনিতেই সে কেতাদুরস্থ। এখন আরো বেশি ফ্যশনেবল হয়ে উঠল। বাইক নিয়ে শহর দাপিয়ে বেড়ায় সে। শহরের কেন্দ্রে তার তাক লাগানো একটা অফিস। দেখতে দেখতে প্রেমও হয়ে গেল রূপবতী একজনের সঙ্গে। ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে হলো। একবছরের মাথায় দুটো জমজ মেয়ে হলো তাদের। জুয়েলের খবর মানেই শুধু শনৈ শনৈ। গতবার রংপুর গিয়ে শুনলাম গাড়ি কিনেছে জুয়েল।
এইবার, এতক্ষণ থেকে যারা ধৈর্য নিয়ে নিয়ে এই লেখা পড়েছেন তাদের জন্য পরিবেশিত হবে গল্পের টুইস্ট। তার আগে কয়েকটা কথা বলা দরকার। এমন না যে আমি জুয়েলের ভালো বন্ধু ছিলাম। আমি বরাবর ওকে ঈর্ষা করেছি। সেটা বিতর্কে ওর মঞ্চ কাঁপানোর জন্য কিংবা ওর প্রতি স্যারদের স্নেহের পক্ষপাতের জন্য। কিন্তু তারপরও যে অনুভূতিটা হচ্ছে জুয়েলের জন্য সেটাকে কি সহানুভূতি বলে? আমি জানি না। কেবল অবাক হই, দেখতে দেখতে কেমন একটা গল্পের চরিত্রই হয়ে গেল সে! সেই জুয়েল - ঢাকা যাবার পথে আমার ভীষণ বমি পেলে আর মাথা ধরলে আমি যার ঘাড়ে অনেকক্ষণ হেলান দিয়ে ছিলাম - এখন কেমন যেন ধোঁয়াটে আর দূরবর্তী একটা নাম। জুয়েল রংপুরের মানুষদের বলত, আপনারা আমাকে এখন পাঁচ হাজার টাকা দিন, পাঁচ বছর পর, দেখবেন, আপনার টিনের বাড়ির পাশের এই চারতলার মত, আপনারও একটা বাড়ি হবে। এইসব প্রতিটি মানুষই তো আসলে একেকটা গল্প। যারা যারা ওকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছে তাদের সবাইকে ঐ এক মুহূর্তটার জন্য হলেও - যে মুহূর্তে ও চোখে চোখ রেখে বক্তব্যের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে শ্রোতাকে অভিভূত করে ফেলত - ও অন্য আরেকটা জীবনে নিয়ে যেতে পারত। যে জীবনটার ঝাপসা একটা স্বপ্ন এই লোকগুলো দেখে, কিন্তু কোনোদিনই তাকে পাওয়ার সাহস করে নি। জুয়েলের সুবাদে একবার হলেও সে সাহসটা তো তারা দেখিয়েছে! যদিও, আপনারা জানবেন, জুয়েলের তৈরি সে পৃথিবীতে কখনই তারা পা রাখতে পারে নি ।
মূল গল্প :
৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮, দৈনিক প্রথম আলো।
রংপুরে ডেসটিনির তিন পরিবেশক গ্রেপ্তার, প্রতারণার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর নামে প্রতারণার অভিযোগে রংপুরে ডেসটিনি ২০০০-এর তিন পরিবেশককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হচ্ছেন ডেসটিনির পরিবেশক ও শহরের সেন্ট্রাল রোডের সাদেকুজ্জামান জুয়েল, তাঁর ভাই সাহেদুজ্জামান সোহেল ও বাবা সালাউদ্দিন আহমেদ। জেলা প্রশাসন জানায়, রংপুরে ডেসটিনি বিভিন্ন ধরনের মুনাফার আশ্বাসে লোকজনের কাছ থেকে এ পর্যন্ত চার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
গত রোববার কোতয়ালি থানায় মামলা দুটি করেন গোমস্তাপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলাম ও পাকপাড়ার হাবিবুর রহমান। গ্রেপ্তার সাদেকুজ্জামান জুয়েলের ভাই আতিকুজ্জামানও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের উচ্চপর্যায়ের একজন পরিবেশক।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রংপুরে ডেসটিনির বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসন তদন্ত করে। তদন্তে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে উল্লেখ করে বলা হয়, রংপুরের কোথাও ডেসটিনির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
গত ৩ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্লোল কুমার চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুরে জনগণকে বিভিন্নভাবে মুনাফার আশ্বাসে প্রায় চার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাদেকুজ্জামান জুয়েল ‘ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন প্যাকেজ’-এর নামে মুনাফা দেওয়ার আশ্বাসে শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা ও হাবিবুর রহমানের কাছে দুই লাখ টাকা নেয়। একপর্যায়ে সন্দেহ হওয়ায় টাকা প্রদানকারীরা সুদসহ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এরপর জুয়েল দুজনকেই শহরের ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেক দেন। এর মধ্যে শফিকুলকে ১৭ লাখ ছয় হাজার এবং হাবিবুরকে দুই লাখ ৭০ হাজার চেক দেওয়া হয়। তবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় দুটি চেকই ফেরত দেয় ব্যাংক। এরপর শফিকুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেন।
কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এস আই) আজিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তাঁরা মৌখিকভাবে পেয়েছেন। ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



