বাউল ভাস্কর্য বিষয়ক হুমায়ূন আহমেদের কলাম এবং ধর্ম নিয়ে আবারো কিছু প্রশ্ন
২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
২৭ অক্টোবর 'প্রথম আলো'-তে হুমায়ূন আহমেদ সাহেব একটি কলাম লিখেছেন। বিষয় বাউল ভাস্কর্য। লেখার এক অংশে তিনি উল্লেখ করেছেন ''আমাদের মহানবী (সা.) কাবা শরিফের ৩৬০ টি মূর্তি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেয়ালের সব ফ্রেসকো নষ্ট করার কথাও তিনি বললেন। হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি পড়ল কাবার মাঝখানের একটি স্তম্ভে। যেখানে বাইজেন্টাইন যুগের মাদার মেরির একটি অপূর্ব ছবি আঁকা। নবীজী (সা.) সেখানে হাত রাখলেন এবং বললেন 'এই ছবিটা তোমরা নষ্ট করো না'। কাজটি তিনি করলেন সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর অসীম মমতা থেকে।'' এই উদাহরণটিসহ এই লেখায় তিনি ইসলাম সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিখ্যাত মানুষ কীভাবে তাঁদের জীবনের কিছু পরিস্থিতিতে ভাস্কর্য কিংবা চিত্রশিল্পকে অনুমোদন করেছিলেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর লেখা পড়ে আমার যা মনে হয়েছে তা হলো ইসলাম একটি মঙ্গলময় ধর্ম, এ ধর্মের যে মঙ্গলময় দিক তার সঙ্গে ভাস্কর্যশিল্প কিংবা চিত্রশিল্প যে সৌন্দর্যের প্রতিনিধিত্ব করে তার কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তাহলে মাদ্রাসার ছাত্ররা যে বলছে, এইসব মানুষের মূর্তি, মানুষের মূর্তি তৈরি আর মূর্তিপূজা এককথা, এগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে শিরক্ করা হয় - তাদের 'ইসলাম' আর হুমায়ূন আহমেদ সাহেবের 'ইসলাম' আলাদা? মক্কার ৩৬০ টি মূর্তির একটির মধ্যেও কি কোনো রকমের সৌন্দর্য খুঁজে পেলেন না মুহাম্মদ? পেলেও কি তিনি সরাতেই বলতেন? কেন বলতেন? এই প্রশ্নের উত্তর কিছুটা পাওয়া গেল readingislam.com ওয়েবসাইটিতে। এই ওয়েবসাইটটিতে ইসলাম সংক্রান্ত নানান জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়া হয়। এখানে ইসলাম আ্যান্ড আর্টস শিরোনামে এক লোক স্কাল্পচার, পেইন্টিং, ফটোগ্রাফি, ভিডিও প্রভৃতি বিষয়ে ইসলামের বিধিনিষেধ সম্পর্কে প্রশ্ন রেখেছেন। তাঁর প্রশ্নের যে উত্তর এখানে দেওয়া হয়েছে সেটা খুব ইন্টারেস্টিং। আমি তাঁর কয়েকটি প্রশ্ন আগে শোনাই আপনাদের।
''ভাস্কর্য : আমি খুব ভালো করেই জানি যে মূর্তিপূজা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ইসলাম ভাস্কর্য নিমার্ণের বিপক্ষে। কিন্তু ভাস্কর্য-নির্মাণ যদি কেবল শিল্পপ্রেরণা প্রকাশের লক্ষ্যে হয় সেক্ষেত্রে ইসলামের অবস্থানটি কী? মিকেলেঞ্জেলো ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ ভাস্কর, তাঁর কর্ম জগদ্বিখ্যাত, কিন্তু কই, কেউ তো তার নির্মিত ভাস্কর্যগুলোকে পূজা করে না? তাহলে একজন মুসলিম যদি তাঁর শিল্পস্পৃহা থেকে ভাস্কর্য-নির্মাণে মনোনিবেশ করে ইসলাম কি তা অনুমোদন করবে?
''পেইন্টিং : আমি খুব ভালো করেই জানি, ভাস্কর্য-নির্মাণের মতোই, পেইন্টিংও একটি কবিরা গুনাহ। এর একটি কারণ হলো মানুষ চিত্রের পুজা শুরু করে দিতে পারে। কিন্তু এমন যদি হয়, পেইন্টিংয়ে আমার অনন্যসাধারণ দক্ষতা আছে, এবং পেইন্টিং আমাকে আমার পরিপক্ষার্শ এবং প্রকৃতিকে আরো গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করছে তখন কী বলবেন? এবং এভাবে কি আমি আল্লাহর ক্ষমতাকেই আরো ভালোভাবে অনুধাবন করব না, এবং তাঁর আরো বেশি নৈকট্য অর্জন করব? ছবি আঁকা আমাদের একটি সহজাত প্রকাশপ্রবণতা এবং এটাকে অস্বীকার করা যাবে না। তাহলে আল্লাহ এটা নিষেধ করেন কেন? বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের জীবনী আমি পড়েছি। তিনি ভীষণ অসুখী মানুষ ছিলেন, কিন্তু পেইন্টিং তাকে শান্তি দিতে পেরেছিল, তিনি বলতেন পেইন্টিংই তাঁর ধর্ম, অর্থাৎ এটি তাকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। তাহলে ইসলাম কেন সেই জিনিসটাকে বাতিল করে দেয় যা কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আল্লাহকে অনুধাবনের সুযোগ করে দেয়?''
এরপর প্রশ্নকর্তা একে একে সংগীত, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্রশিল্প প্রভৃতি নিয়ে তাঁর প্রশ্নগুলো রেখেছেন। উত্তরদাতা উত্তর দিয়েছেন দুই ধাপে। তাঁর মতে ইসলাম এই প্রশ্নের মোকাবেলা করে দুইটি ধারায়। প্রথম ধাপে তিনি রেফারেন্স হিসেবে উ্েল্লখ করেছেন আল-শক্বানির (অষ-ঝযধশিধহর) ইরশাদ আল-ফুহুল এবং আবু জাহরার উসুল আল-ফিকাহ্ । সরাসরি উত্তরদাতার উত্তরের প্রথম অনুচ্ছেদটাই তুলে দিই।
The basis for banning these activities, according to most scholars, is 'blocking the means' (sadd al-dharai), which entails forbidding, or blocking, an action (that is lawful in its own right) because it could be means that lead to unlawful actions as a result or consequence. (Al-Shawkani, Irshad Al-Fuhul, p 246, Abu Zahra, Usul Al-Fiqh, p 268)
অর্থাৎ পরিণতিকে প্রতিরোধ করতে তিনি উপায়কে খারিজের কথাই বলছেন তিনি। এরপর একটা চমৎকার উদাহরণও দিয়েছেন। ''মানুষের ক্ষতি করতে পারে এমন একটি কাজের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তায় কূপখনন, যা অবশ্যই মানুষের ক্ষতিসাধন করবে। ওলামাগণ একমত যে এক্ষেত্রে ক্ষতির উপায়টিকেই অবরুদ্ধ করতে হবে, কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, কূপখননকারী কি তবে তার পেশার কারণে অভিযুক্ত হবে - যেহেতু মানুষ কূপ খোঁড়ার কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? মতপার্থক্যটা হলো আসলে মানুষকে কি সেসব কাজ থেকে বিরত রাখা উচিৎ যেগুলো তার অনিচ্ছাতেও অন্যের ক্ষতি করে?''
এরপর বলেছেন : ''আরেকটি কাজের উদাহরণ, যা খুব কম সময়ই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আল-শাতিবির মতামত, কাজটা হলো আঙুর বিক্রি, যদিও অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ এ দিয়ে মদ উৎপাদন করে থাকে। এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে উৎসের অবরোধ প্রযোজ্য নয়। ওলামারা একমত হয়েছেন, 'যেহেতু কাজটির উপকার এর অপকারের তুলনায় বেশি, এবং অপকারটি ঘটেও সামান্য কিছু ক্ষেত্রে, তাই এটা বৈধ'।
''আরো কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন ইসলামী পণ্ডিতগণ যেগুলো শিল্পের বিভিন্ন উপাদানকে বাতিলের পক্ষে রায় দেয়, যেমন : (১) আলি ইবন তালিবের সহি বয়ানে আছে নবী (সা.) তাকে মক্কাজয় করে মক্কার ভাস্কর্যগুলো ভেঙে ফেলতে বলেছিলেন; (২) আরেকটি সহি হাদিসে পাওয়া যায় নবী আয়েশাকে বলছেন দেয়াল থেকে একটি পেইন্টিং সরিয়ে ফেলতে এবং এটা দিয়ে একটা কার্পেট তৈরি করতে; (৩) আরেকটি সহি হাদিস নবী যেখানে বলছেন ‘সেসব চিত্রকরকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন, যারা দাবি করে খোদা যেভাবে সৃষ্টি করে তারাও সেভাবে সৃষ্টি করতে পারে; (৪) আয়াত ৩১:৪, যেটি সংগীতকে বাতিল করে বলে জনমত আছে।
''তাই, কিছু পণ্ডিত বলেন : (১) ভাস্কর্য-নির্মাণ সাধারণ অর্থে নিষিদ্ধ, (২) ছবি আঁকা বাতিল, (৩) একই কথা ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে, (৪) এবং সংগীতের ক্ষেত্রেও।
যাহোক, উপরোক্ত বর্ণনা/হাদিসগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত আছে, যেগুলোর অর্থ দাঁড়ায় এইসব নিষেধাজ্ঞা সার্বজনীন নয় : (১) মক্কার ভাস্কর্যগুলো ঈশ্বর হিসেবে পূজিত হতো, (২) নবী যে পেইন্টিংটি সরাতে বলেছিলেন তা ছিল কিবলার দিকে এবং প্রার্থনাকালে এটি তাঁর মনোযোগহানির কারণ হয়েছিল, (৩) চিত্রকরেরা দাবি করেছিল, 'খোদার মতো তারাও সৃষ্টি করতে পারে', (৪) সংগীত, আয়াতটির মতে, তখনই নিষিদ্ধ যখন এটি 'খোদার পথ থেকে মানুষকে সরিয়ে দেয়'।''
অর্থাৎ উত্তরদাতা বলছেন, এইসব ফলাফলের আশংকা যদি না থাকে তো ইসলাম শিল্পের এসব মাধ্যমকে অনুমতি দেয়। হুমায়ূন আহমেদের সুর তাহলে, এই উত্তরদাতার কথাবার্তা যদি বিবেচনায় নিই, এখনো অক্ষুণ্ণ থাকে। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে আমি নিজের কিছু মতামত তুলে ধরতে চাই।
বেশ কিছুদিন আগে যতীন সরকারের একটি প্রবন্ধ পাঠের সুযোগ হয়েছিল। প্রবন্ধটির বিষয়বস্তু ছিল ধর্মতন্ত্র ও মৌলবাদ। সে প্রবন্ধের এক পর্যায়ে লেখক লেভ তলস্তয়ের একটি তত্ত্বের শরণ নিয়েছিলেন। লেভ তলস্তয় ময়াশয় ধর্মের তিনটি উপাদান নির্ণয় করেছিলেন। এসেনশিয়াল অব রিলিজিয়ন, ফিলোসফি অব রিলিজিয়ন এবং রিচুয়ালস্ অব রিলিজিয়ন। রিচুয়ালস্ হলো আচার, আর ফিলোসফির মধ্যে নানান ধর্মের নানান পণ্ডিতদের পর্যবেক্ষণ। যতীনবাবু বলেছিলেন, সব ধর্মেই একটা জিনিস একই। এসেনশিয়াল অব রিলিজিয়ন। অর্থাৎ ধর্মের সারবস্তু। এ হলো, তাঁর এবং তলস্তয়ের মতে, এক সার্বজনীন মানবিক মঙ্গলাকাক্সক্ষা। সকল ধর্মের সার মানুষের বিজয় ঘোষণা করে। মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্তই হচ্ছে এসেনশিয়াল অব রিলিজিয়ন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ধর্মতন্ত্র যদি এমন নখরহীন তত্ত্বীয় একটা ব্যাপারেই সীমিত থাকত তাহলে ধর্মের নামে মানুষে মানুষে এত বিভাগ-উপবিভাগ, শ্বাপদীয় হিংস্র দাঙ্গা, দেশভাগ, লুঠ, হত্যা, ধর্ষণ - এ সবের অস্তিত্ব কি সম্ভব হতো?
হতো না। তারপরও কেন হলো? কারণ রিচুয়ালস্ এবং ফিলোসফি। সুফিবাদ, সহজিয়া পন্থা কিংবা আমাদের বাউলদের দর্শন ধর্মের অন্তঃসারকে যেভাবে ধারণ করতে পেরেছে, প্রশ্ন হলো, একইভাবে প্রচলিত ধর্মতন্ত্রগুলোর বাহক 'অবতার'গণ সারবস্তু আগলে থেকেছেন কতটা, আচারপ্রবণতাতেই বা জোর দিয়েছেন কতটা? ধর্মের সারবস্তু নিযে যদি কথা হয়, তাহলে শিল্পের সৌন্দর্য, ভ্যানগঘের ঈশ্বর, আর মুহাম্মদের আল্লাহ্Ñসবই তো মিলেমিশে একাকার হওয়ার কথা। বিরোধের তো প্রশ্নই নাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মুহাম্মদকে হেরায় বসে ধ্যান যেমন করতে হয়েছে, বদরে গিয়ে তেমন তলোয়ার হাতে বাহাদুরিও দেখাতে হয়েছে। অর্থাৎ তিনি তো কেবল ধর্মের নায়ক নন, রাষ্ট্রনায়কও। তাই, বিপুল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতেই, তাকে জোর দিতে হয়েছে ধর্মের আচারেও। বারবার সামনে এসেছে ধর্ম অনুযায়ী জীবনাচারের কথা। এবং একটা সময় তাঁর ধর্মকে 'প্রতিষ্ঠা' করতে গিয়ে আচারটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে মূখ্য, সারবস্তু চাপা পড়ে গেছে। ধর্ম অসাধারণ থেকে সাধারণের হাতে পড়লে তা আর ভাব থাকে না, তা হয়ে যায় আচরণ।
এখন একটু হুমায়ুন আহমেদ সাহেবের মনস্তত্ত্বটা খেয়াল করি। তিনি ধর্মের এই মূলভাবমূলক এলাকাটাতেই হাঁটাচলা করেছেন। একারণেই তাঁর কাছে ধর্ম সুন্দরের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। ধর্ম যেন কেবল মানুষকে ভালোবাসতেই শেখায়। মহাত্মা গান্ধীও তাঁর মানবতার চিন্তাকে ধর্মের মূলভাবের সঙ্গে একাট্টা করেছিলেন। এটা অনেক ভয়ঙ্কর একটা ভুল ছিল। উপমহাদেশীয় রাষ্ট্রচিন্তা এবং রাজনীতিতে প্রথম ধর্মচিন্তাকে টেনে এনেছিলেন তিনি। পরিণাম কী হয়েছিল আমরা সবাই জানি। ধর্মের স্পর্শকাতরতা বড় ভয়াবহ জিনিস। ধর্মের ভাবমূলক অংশটা মানুষকে একধরনের শান্তি দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত লক্ষ মানুষ কেবল ধর্মের কারণে প্রাণ দিয়েছেন, বিপন্ন হয়েছেন, আর কি কোনো কারণে হয়েছেন?
হুমায়ূন আহমেদের কলামটা পড়ার পর থেকেই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে - ধর্মের তত্ত্বরূপ দিয়ে ধর্মের উন্মাদরূপকে কি কোথাও কখনও নিবৃত করা গেছে? মঙ্গলময়তার প্রতিশ্রুতিবাহী কিন্তু হিংস্র বিভাজনের উদগাতা ধর্ম থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাটাই কি মানুষের জন্য শ্রেয় নয়?
আরিফ থেকে আনা বলেছেন:
আপনার পুস্টের আগাগোড়া কিসু বুঝলাম না। তাই মাইনাস দিলাম। নিজের অবস্থান কিলিয়ার করেন আগে। হুজুর আর মাদরাসার তালেবুল এলেমরা লালন মুর্তি ভাইংগা ভাল করসে নাকি খারাপ করসে??
লেখক বলেছেন: কিসুই বুঝেন নাই! তাইলে আর ক্যাম্নে কী...
জিনাত বলেছেন:
তাই মাইনাস দিলাম।
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
তানিম ভাই, আপনার এই বিশ্লেষণ এবং নিরীক্ষণধর্মী লেখার প্রতি আমার মুগ্ধতার কথা অতীতে বহুবার বলেছি আপনাকে.....যাইহোক, ওই ওয়েব সাইটটিতে গিয়ে আমি বাকি অংশটুকু পড়ে নেবো।।এই সময়োযোগী পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।।
আর ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত মানুষের পোস্টে মন্তব্য লিখতে গেলে আমি বরাবরই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি, মনে হয় যেন যা বলতে চাইছি তা বলা হচ্ছেনা........তাই না বলা কথাগুলো নিজের মত করে অনুবাদ করে নিয়েন।।
অফটিক: "এক টাকার কবিতা".কি এখনো বের হয়???
লেখক বলেছেন: হিমেল, কী খবর তোমার? ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আর 'এক টাকায় কবিতা' অনেকদিন হলো বের হচ্ছে না। আবার শুরু করতে হবে।
Click This Link
লেখক বলেছেন: ভাই, আমি 'আপু' না!
মন্তব্য এবং লিঙ্কের জন্য ধন্যবাদ।
কোডনেম ৪৭ বলেছেন:
+
কোডনেম ৪৭ বলেছেন:
আমি এই রকম যুক্তি খুজতেছিলাম..।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কোডনেম ৪৭।
তারপরও কেন হলো? কারণ রিচুয়ালস্ এবং ফিলোসফি। সুফিবাদ, সহজিয়া পন্থা কিংবা আমাদের বাউলদের দর্শন ধর্মের অন্তঃসারকে যেভাবে ধারণ করতে পেরেছে, প্রশ্ন হলো, একইভাবে প্রচলিত ধর্মতন্ত্রগুলোর বাহক ‘অবতার’গণ সারবস্তু আগলে থেকেছেন কতটা, আচারপ্রবণতাতেই বা জোর দিয়েছেন কতটা? ধর্মের সারবস্তু নিযে যদি কথা হয়, তাহলে শিল্পের সৌন্দর্য, ভ্যানগঘের ঈশ্বর, আর মুহাম্মদের আল্লাহ্Ñসবই তো মিলেমিশে একাকার হওয়ার কথা। বিরোধের তো প্রশ্নই নাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মুহাম্মদকে হেরায় বসে ধ্যান যেমন করতে হয়েছে, বদরে গিয়ে তেমন তলোয়ার হাতে বাহাদুরিও দেখাতে হয়েছে। অর্থাৎ তিনি তো কেবল ধর্মের নায়ক নন, রাষ্ট্রনায়কও। তাই, বিপুল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতেই, তাকে জোর দিতে হয়েছে ধর্মের আচারেও। বারবার সামনে এসেছে ধর্ম অনুযায়ী জীবনাচারের কথা। এবং একটা সময় তাঁর ধর্মকে ‘প্রতিষ্ঠা’ করতে গিয়ে আচারটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে মূখ্য, সারবস্তু চাপা পড়ে গেছে। ধর্ম অসাধারণ থেকে সাধারণের হাতে পড়লে তা আর ভাব থাকে না, তা হয়ে যায় আচরণ।
আর এর সবই হয় আংশিক উপলদ্ধি আর জ্ঞানের কারণে। পূর্ণতায় না পৌঁছা পযর্ন্ত মানুষ যেমন পূর্ণ রুপ দেখতে বুঝতে বা উপলদ্ধি করতে পারে না, তেমনি তার আচরনও প্রভাবিত হয় .. তার অজ্ঞানতা জনিত অন্ধত্বের ফলে। অথচ মজার বিষয়টি হলো সে নিজেও এই সত্যটা বুঝে উঠতে পারেনা। ফলে তার চোখে সে সঠিক বলেই মনে করে এবং আরও গভীর ভাবে অন্ধত্ব তার মাঝে চেপে বসে।
+
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ, কিরিটি রায় আপনার চিন্তান্বিত মন্তব্য এবং বিশ্লেষণের জন্য।
প্রশ্ন হলো, ধর্ম কি তবে সকলের জন্য নয়?
+
২. আপনারে আপু ভাবছি। সরি....
লেখক বলেছেন: কী আর করা!
তবুও ধন্যবাদ!
মনির হাসান বলেছেন:
প্রিয় তানিম ... এরকম বিশ্লেষন ধর্মী লেখা আরো চাই ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মনির ভাই। অনুপ্রাণিত বোধ করছি।
কুঙ্গ থাঙ বলেছেন:
আপনার উপলব্ধিগুলো গভীর। আমার কাছে মনে হয় ঐশীধর্মের তাত্ত্বিক ঘোলাটে ভাবুকতার পরিবর্তে বরং বাঙালির লোকধর্ম, লোকসংস্কৃতি, লোকবিশ্বাসে লুকানো গুপ্তসংকেত উদ্ধার এবং এর গভীর অন্তরপঠন বা নবীনকরনের মাধ্যমে এসবের মোকাবেলা করাটাই অনেক যৌক্তিক।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কুঙ্গ থাঙ। বাঙালির লোকধর্ম, লোকসংস্কৃতি, লোকবিশ্বাসে লুকানো গুপ্তসংকেত উদ্ধার, এর অন্তরপঠন বা নবীনকরন আসলেই জরুরি।
রাহুল বলেছেন:
নিজের অবস্থান কিলিয়ার করেন আগে। হুজুর আর মাদরাসার তালেবুল এলেমরা লালন মুর্তি ভাইংগা ভাল করসে নাকি খারাপ করসে??
লেখক বলেছেন:
আপনি আপনার মন্তব্যে ভাষ্কর্য কে 'লালন মুর্তি' বলেছেন। ভাষ্কর্য নয়, 'মূর্তি'। চিন্তার এই ধরনটা তো মাদ্রাসার ওই ছাত্রদেরই।
আর এই 'লালন মূর্তি' কেঊ ভাঙেনি। সরকার সরিয়েছে মাদ্রাসার ছাত্রদের চাপে।
রাহুল দেখুন, আমি আমার লেখাতেই স্পষ্ট করেছি, ধর্ম অসাধারণের কাছে ভাব আর সাধারণের কাছে আচরণ। মাদ্রাসার সেই ছাত্রদের কাছেও ধর্ম একটি আচার মাত্র। সৌন্দর্য, মানবিকতা তারা খঁউজে দেখে না। তাই খুব স্বাভাবিক যে তারা এমন আচরণই করবে। তাদের কাছে এর বেশি কিছু আমাদের প্রত্যাশা করা কি উচিত? বরং আমরা দোষ দেব সরকারের।
আমার লেখার শেষ লাইনটা ছিল, 'মঙ্গলময়তার প্রতিশ্রুতিবাহী কিন্তু হিংস্র বিভাজনের উদগাতা ধর্ম থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাটাই কি মানুষের জন্য শ্রেয় নয়?' এখন আপনিই বলুন, দোষটা কী মাদ্রাসার ছাত্রদের না-কি যারা তাদের জীবনে 'ধর্মে'র ভার চাপিয়েছে তাদের?
লেখক বলেছেন: কী খবর তোর?
জিনাত বলেছেন:
দেয়ালের সব ফ্রেসকো নষ্ট করার কথাও তিনি বললেন। হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি পড়ল কাবার মাঝখানের একটি স্তম্ভে। যেখানে বাইজেন্টাইন যুগের মাদার মেরির একটি অপূর্ব ছবি আঁকা। নবীজী (সা.) সেখানে হাত রাখলেন এবং বললেন 'এই ছবিটা তোমরা নষ্ট করো না'। কাজটি তিনি করলেন সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর অসীম মমতা থেকে।'হাদিসের উৎসটা বলেন
লেখক বলেছেন: এটা হুমায়ূন আহমেদের লেখার একটি উধৃতি। আপনি ২৭ অক্টোবরের প্রথম আলোতে তার লেখাটা গিয়ে পড়ুন। সেখানেই উৎস জানতে পাড়বেন।
প্রশ্ন হলো, ধর্ম কি তবে সকলের জন্য নয়?
অবশ্যই সকলের জন্য। এবার আসুন সাধারন শিক্ষার বিষয়েই একটু ভাবি। শিক্ষা কি সকলের জন্য নয়?
অবশ্যই সকলের জন্য। কিন্তু আমরা সবাই কি পারছি সমহারে শিক্ষা নিতে বা পেতে কিংবা দিতে? পারছিনা। কারণ আপেক্ষিক। যা আপনিও জানেন এবং বোঝেন। তাই প্রসংগে সরাসরি--- তেমনি ধর্ম । ধর্মও অবশ্যই সবার জন্য, কিন্তু আপেক্ষিক।
আপনি যতটুকু জ্ঞান আর সাধনার মাধ্যমে ধারন করতে পারবেন ততটুকুই আপনি উপলদ্ধি করতে পারবেন। এর বেশি কি কাউকে বুঝানো সম্ভব? প্রত্যেকের সজ্ঞার বাইরে তাকে কিছু দেয়া সম্ভব নয় সজ্ঞার উন্নয়ন ব্যতিরেকে।
এর এই উপলদ্ধির এবং জ্ঞানের ভিন্নতার কারণেই মতবাদ বা মতভিন্নতা তা যেমন ধর্মের ক্ষেত্রে তেমনি সাহিত্য শিল্প, বিজ্ঞান চর্চা সকল ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করছে।
আমাদের খুজতে হবে এর সরলীকরণ বা সহজ মধ্যম পন্থা যার মাধ্যমে সংঘর্ষ বা হানাহানির বদলে শান্তি এবং সৌহার্দের মাধ্যমে সব সমাধান করা যায়। ঘটাতে হবে সজ্ঞার উন্নয়ন।
ধন্যবাদ আপনাকে।
ইয়াহিয়া বলেছেন:
''এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত লক্ষ মানুষ কেবল ধর্মের কারণে প্রাণ দিয়েছেন, বিপন্ন হয়েছেন, আর কি কোনো কারণে হয়েছেন?''কেন হবেনা?খ্রীষ্টের জন্মের আগে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে তার কয়টা ধর্মের কারনে ছিলো?খ্রীষ্টের পর ২টা বিশ্বযুদ্ধের কারন কি ধর্ম ছিল?
''ধর্মের তত্ত্বরূপ দিয়ে ধর্মের উন্মাদরূপকে কি কোথাও কখনও নিবৃত করা গেছে? মঙ্গলময়তার প্রতিশ্র“তিবাহী কিন্তু হিংস্র বিভাজনের উদগাতা ধর্ম থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাটাই কি মানুষের জন্য শ্রেয় নয়?''
মানুষ ধর্মের কারণে প্রাণ দেয় না,প্রাণ দেয় বিশ্বাসের দ্বন্দ্বে।শুধু ধর্ম নয়,যেকোন বিশ্বাস ই 'হিংস্র বিভাজনের উদগাতা' যখন তা কিছু লোকের হিংস্র আকাঙ্ক্ষার হাতিয়ার হয়।হিংস্র আকাঙ্ক্ষা মানে বলতে চাচ্ছি,আমার বিশ্বাস ঠিক,বাকি সব ভুল তাই বাকি সবাইকে আমার বিশ্বাসে বিশ্বাসী হতে হবে এ ধরণের মনোভাব।
ধর্মের রিচুয়ালস,ফিলোসফি,এসেনসিয়ালস কোন কিছুই 'উন্মাদরূপ' নিবেনা,যদি অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সব মানুষের মধ্যে থাকে।কিন্তু এটা সম্ভব নয়,কারণ ভালো খারাপ মিলেই মানুষ,সব সমাজে,সব বিশ্বাসে,সব বর্ণে আছে,থাকবে।
লেখা টা ভালো লেগেছে তানিম।শুধু মুহাম্মদ শব্দ টা দেখলে মনের কোথায় যেন এক টু লাগে।এটা বেশ একটা ফ্যাশনেবল শব্দ মনে হয় আজকাল।যাহোক ভালো লেখার জন্য +
লেখক বলেছেন: ইয়াহিয়া, ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। ২য় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের ইহুদি হত্যাযজ্ঞকে কীভাবে দেখেন?
ইয়াহিয়া বলেছেন:
@জিনাত,মহানবীর প্রথম জীবনীকার ইবন ইসহাকের(৭০৪-৭৭০ খ্রীষ্টাব্দ)লেখা থেকে ঐ ঘটনা উদ্ধৃত হয়েছে।
ধর্মের অসারতা ভাল ভাবে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। ধর্ম মানার চেয়ে নিজের মানবতা বিকষিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। ১৪০০ বছর আগের আচার পালনই যদি ধর্ম হয়, তবে তার জায়গা মানব হৃদয়ে না হয়ে হওয়া উচিৎ আস্তাকুঁড়ে।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
পোস্টটির জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম আপনি করেছেন । আপনাকে ধন্যবাদ ।
একদম শেষে এসে মহাত্মা গান্ধী আর হুমায়ুন আহমেদের চেয়ে জ্ঞানী হিসাবে আপনাকে আবিস্কার করলাম । এই আবিস্কারও মনোঃমুগ্ধকর ।
লেখক বলেছেন: শিপন ভাই, লজ্জা দিলেন।
হুমায়ুন আহমেদও জাতির এই অদ্ভুত বিভাজনে তার লেখা নিয়ে দেশের পাশে দাড়িয়েছে জেনে খুব ভালো লেগেছে( জনপ্রিয় মানুষেরা এসব ক্ষেত্রে গাঁ বাচিঁয়ে চলে কি- না)...
লেখক বলেছেন: সৈকত, একটা ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই ধন্যবাদটুকু হুমায়ূন আহমেদের প্রাপ্য। উনি যে গা বাঁচিয়ে চলেননি সেকথাটা আমার লেখাতেই থাকা উচিত ছিল।
আপনাকে ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
ইয়াহিয়া বলেছেন:
তানিম,চিনতে পারনি মনে হচ্ছে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি নিধনের পিছনে ধর্মের কোন ভূমিকা ছিলনা।হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ইহুদি হত্যা করতে শুরূ করে,পরে তা উন্মাদনায় রূপ নেয়।আর ইহুদি দের প্রতি সাধারন মানুষের ঘৃণার(যা এখন ও বিদ্যমান) কারনে এ হত্যাযজ্ঞে তাদের নীরব সমর্থন ছিল।
লেখক বলেছেন: তৌহিদ নাকি!
হুমায়ুন আহমেদের লেখা টাও আগে পড়েছিলাম!! সেটাও অনেক ভালো লেগেছিলো!
আসলে এই সব নিয়ে কোন তথ্য ছাড়া কিছু বুঝাতে গেলে ভেবে বসে নাস্তিক...তখন খুব খারাপ লাগে।
বাংলাদেশের সব মৌলবাদীরা যদি এমন করে বুঝতো !!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্য।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
গুড পোষ্ট।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মৃদুল।
ইয়াহিয়া বলেছেন:
এগেইন আস্কিং!!!!


















