somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... নির্বাচনের দিনে হাজার মাইল দূরে বসে লেখা একখানা দিনপঞ্জি …
বড়দিনের ছুটি হলেও, একটা জরুরী রিপোর্ট লেখার কাজ বাকী। কিন্তু একফোঁটাও মনযোগ বসছে না। আগের দুটি সংসদ নির্বাচনে রাত জেগে ফলাফল দেখেছিলাম। এবার সেই আমেজটুকু অনুপস্থিত, তবু প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি। নির্বাচনের খবর জানতে ইন্টারনেট ছাড়া কোন উপায় নেই। আমার ব্লগ আর আরেকটা সাইটের কল্যানে দুটি বাংলা চ্যানেল লাইভ দেখতে পারছি।

এইবার আমাদের সমবয়সী অনেক বুঝদার (আমাদের অঞ্চলে কাবিল প্রকৃতির মানুষদের ‘বুঝদার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়) পোলাপান ঢালাওভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারনা করেছে। বিষয়টির মাঝে কেমন যেন ডিজুস ডিজুস গন্ধ পেয়েছি। ‘না’ ভোট দেয়ার মানুষেরা বলছেন, কোন যোগ্য প্রার্থী নেই, সব চোর। খুবই ভালো কথা। বন্ধুবান্ধব (যারা ‘না’ ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে) কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কে কে দাঁড়িয়েছে? বেশির ভাগই বড় দুটি দলের বাইরে কারো নাম ঠিকঠাক বলতে পারলো না! অথচ তারা ঢালাওভাবে ‘না’ ভোট দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। সুতরাং, তাদের এই সচেতনতার (?) ফাঁকফোকরে এবারও প্রচলিত নেতারাই নির্বাচনের বৈতরনী পার হবেন মনে হয়। কারন, ধোলাইকৃত মস্তিস্কের মানুষেরা ‘না’ ভোট নিয়ে মাথা ঘামাবে না। তারা ঠিকই নিজেদের মার্কাতে সিল মারবে। তাই এ নিয়ে এক জায়গায় একটি ব্লগও লিখেছিলাম। অনেকে অবশ্য বলেছে, এখন ‘না’ ভোট নিয়ে লাফালাফি করলেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিল মারার আগে বেশীর ভাগই মতামত পরিবর্তন করবে, ‘না’ ভোট দেবে না। অপেক্ষাকৃত যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দেয়ার চেষ্টা করবে। গেলে মন্দের ভালো যাওয়াই ভালো।

আজ প্রথম আলো-তে ড. জাফর ইকবালের একটি কলাম পড়লাম, বেশ ভালো লাগলো। এই মানুষটাকে বেশ শ্রদ্ধা করি। কারন- অন্যদের মতো কথার মারপ্যাঁচে যান না, দাঁতভাঙ্গা শব্দ ছাড়াই সোজাসাপ্টা কথা বলেন। ‘না’ ভোটের ব্যাপারটাতেও তার অবস্থান বেশ ভালো লেগেছে। আসনভেদে ‘না’ ভোট সঠিক সিদ্ধান্ত সঠিক হতে পারে, তবে ঢালাওভাবে না। সবশেষে তিনি বলেছেন, এবার নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা। তিনি আশা করেন, এবার যুদ্ধাপরাধীদের ‘না’ বলবে বাংলাদেশের তরুন সমাজ। কথাগুলো কিছুদিন আগে বললেও আমাদের বয়সী অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারতো এবারের নির্বাচন নিয়ে। আজ অনেকেই ভোট দিয়ে আসার পর পত্রিকা খুলবে, অনেকে খুলবে না। আজ চোখ বেশি থাকবে টিভিপর্দায়।

যারা স্বপ্ন দেখে, তারা কিছু একটা করে। আমি জেগে জেগে ঘুমাই। অবসর সময়ে ব্লগে হাতি ঘোড়া মারি। ব্লগীয় রাজাকারদের মাইনাস দিয়ে আত্মতৃপ্তি খুঁজি, ভাবি যাক আজ কিছু একটা করলাম। বুকে মানচিত্র আঁকা টি-শার্ট পড়ে ভাবি, আমি মস্ত দেশপ্রেমিক। ভাবি, আমার মতো কে ভালোবাসতে পারে এই দেশটাকে। শুধু নিজের স্বার্থে আজ হাজার মাইল দূরে বসে আছি। পাল্টে দেয়ার স্বপ্ন দেখার অধিকার আমার নেই, কারন আমি কিছু করিনি। তবু আজ আশা করছি, যারা একাত্তরে দেশমাতৃকার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদেরকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার গ্লানি থেকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ। যে হাতগুলো এখনও খামছে ধরে আছে লাল-সবুজের পতাকা, সূর্যের বদলে এঁকে দিতে চাইছে অপপাকিস্থানী চাঁদ-তারা সেই হাতগুলো আজ ভেঙ্গে যাবে একে একে…

_______________________________
ড. জাফর ইকবালের কলামটি পড়তে পারেন এখানে


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28889688 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28889688 2008-12-29 12:29:29
পৃথিবীর পথে বিপ্রতীপ (বেহালার গল্প) একটা ছেলে কাঁধে গিটার ঝুলিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে…।এরকম দৃশ্য দেখে,একসময় খুব ইচ্ছে হয়েছিলো গিটার শেখার।বুয়েটে এসে আহসানউল্লা হলের সেরা আড্ডাবাজ গণরুম ১০১-এ উঠে,সেই ইচ্ছেটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।একথা শুনে,আমাদের ১০১-এর নিয়মিত অতিথি সুকান্তি বলল,বস্ গিটার শিখবা কেন?গিটারের চেয়ে বেহালায় ভাব বেশি।বরং আসো বেহালা শিখি।আইনষ্টাইনও বেহালা বাজাতেন। কথাটা বেশ মনে ধরলো,পোলাটা খারাপ কথা কয় নাই।তাইতো, গিটারতো অনেকেই শেখে…এমন কিছু শিখতে হবে যা কম মানুষ পারে…আর কলেজ জীবনে দেখা ‘মোহাব্বতে’ ছবিতে শাহরুখ খানের বেহালা বাজানোর দৃশ্য এখনো চোখে ভাসছে।বেহালা বাজিয়ে যদি বুয়েটের কোন আতেঁল এবং সুন্দরী মেয়ে পটিয়ে ফেলা যায়,তবে মন্দ কি?
কথা হলো, বেহালা কোথায় শেখা যায়? খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, আমাদের হলের চার তলায় এক দাদা আছেন যিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমি(বাফা)-তে বেহালা শিখেন।দাদাকে গিয়ে আমরা জানালাম আমাদের বেহালা শেখার আগ্রহের কথা।কথাবার্তার পর ঠিক হলো ,পরের শুক্রবারে উনার সাথে আমরা যাব বাফায়।শুক্রবার কাক ডাকা ভোরে আমি আর সুকান্তি ওই দাদার সাথে পুরানো ঢাকার ওয়াইস ঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।বাফার অফিসে গিয়ে জানা গেল,চার বছরের বেহালার অনার্স কোর্সের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে আজ থেকে প্রায় দু’মাস আগে।আমরাও ছেড়ে দিতে নারাজ।ভর্তি হয়ে গেলাম দুজন বেহালার প্রথম বর্ষে।মনে মনে বেশ পুলকিত হচ্ছি,একই সময়ে দুই সাবজেক্টে অনার্স কমপ্লিট হবে- ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং আর বেহালা! বেহালা কেনা হয়নি,তবু ভাবলাম একটু ঘুরে যাই।
বাফার মূল বিল্ডিংটা অনেক পুরানো।কেমন যেন একটা ইতিহাসের গন্ধ আছে । সবকিছু চুম্বকের মতো টানছে আমাদেরকে । একদিকে কেউ বসে ছবি আঁকছে,ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নাচছে।সিঁড়ি ভেঙ্গে দোতালায় উঠে এলাম ।বারান্দার পাশে এক রুমে বেহালার ক্লাস হচ্ছে ।বারান্দা থেকে বুড়িগঙ্গা খুব কাছে।মনে হয়,যেন হাত বাড়ালেই বুড়িগঙ্গার জলে হাত ভেজানো যাবে।আচ্ছা, বুড়িগঙ্গা নামের মানে কি? গঙ্গা কি বুড়ি হয়ে বুড়িগঙ্গা হয়ে গেছে?মাথায় এরকম অবাধ্য প্রশ্নের আনাগোনা।আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো দাঁড়িয়ে আছি।বারান্দায় অনেকে বেহালা বাজাচ্ছে।বুড়িগঙ্গার বাতাস এসে গায়ে লাগছে।আর আমি ভাবছি,আহারে এখন যদি সাথে একটা বেহালা থাকতো! খুব তাড়াতাড়ি বেহালা কিনতে হবে,আর দেরি করা ঠিক হবে না।বারান্দায় অবশ্য বেশিক্ষণ দাড়াঁলো গেল না,এক বেরসিক বেহালায় ‘আমরা সবাই রাজা’ ধরেছে(খুব সম্ভবত নতুন শিখেছে)।এমন রোমান্টিক পরিবেশে ‘আমরা সবাই রাজা’? ব্যাটা গর্দভ…।এদিকে ওই বড় ভাইয়ের ক্লাস শেষ।অনেক কষ্টে তার মাধ্যমে এক টিচারকে রাজি করালাম, উনি পরদিন বেহালা কিনতে আমাদের সাথে যাবেন।
পরদিন সকাল থেকেই মনটা কেমন কেমন লাগছে,কখন বেহালা কিনতে যাব।অনেকটা উত্তেজনা নিয়ে ক্লাস শেষে রুমে ফিরলাম দুপুরে।আমার সময় যেন কাটে না…।অবশেষে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলো।ঘড়ির কাঁটায় বিকাল চারটা।আমি,সুকান্তি আর ওই দাদা রওয়ানা দিলাম সায়েন্স ল্যাবের দিকে।ওখানেই আসবেন আমাদের শিক্ষক।গিয়ে দেখি,ওই টিচার আসেননি।আমি আর সুকান্তি বারবার ঘড়ি দেখছি।আমাদের এই অবস্থা দেখে ওই দাদা বললেন,তোমাদের দেখি আর তর সইছে না।কিছু সময় অপেক্ষার পর টিচার এলেন।বেহালাও কেনা হলো।বেহালার বাক্স হাতে অনেক ভাব নিয়ে হলে ফিরলাম।রুমে বসে বেহালা বাজানোর অপচেষ্টা করলাম কিছুক্ষণ।বলা বাহুল্য,বেহালা দিয়ে কোন সুর বের হলো না।লাভের উপর লাভ হলো,রুমমেটরা আগুন ঝরা দৃষ্টিতে তাকালো।যেন ওদের গালি গালাজ করছি! ভিসুভিয়াস জাগ্রত হবার আগেই আমরা ক্ষান্ত দিলাম।
পরের শুক্রবার এলো।বেহালার ক্লাসে আজ আমাদের প্রথম দিন।তখন বেহালার বিভিন্ন স্বরলিপি শেখানো হচ্ছে।আমরা সা-রে-গা-মাও তুলতে পারি না।এদিকে স্যার একটা স্বরলিপি একবার বাজিয়ে সবাইকে বলছেন নিজে বাজানোর জন্য,আর তিনি হাত নাড়াচ্ছেন।আমি ভাবলাম,খুব সম্ভবত কাঠি বাসায় ভুলে ফেলে এসেছেন।টিভিতে দেখেছি অনেক জন বসে বেহালা বাজায়,আর ওস্তাদ সামনে দাঁড়িয়ে কাঠি নাড়েন।অনেকটা সেরকম দৃশ্য।আমি আর সুকান্তি বেহালায় থুতনি ঠেকিয়ে একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছি,আর হাত দিয়ে বাজানোর ভাব করছি।শুধু শুধু কে মান সম্মানের বারোটা বাজাতে চায়? অনেক জন একসাথে বাজানোতে আমরা বাজাচ্ছি কিনা তা অবশ্য বোঝা যাচ্ছে না।বিরস মুখে সেদিনের ক্লাস শেষে বের হয়ে এলাম। রাতে ওই দাদার রুমে গিয়ে সা-রে-গা-মা তুলে নিলাম কোন মতে।তবে প্র্যাক্টিস করা যাচ্ছে না।রুমমেটরা বেহালার সুরেলা আওয়াজে খুব বিরক্ত হয়।যারা সঙ্গীত পছন্দ করে না,তারা মানুষ খুন করতে পারে-এই ডায়লগ বেশ কয়েকবার ঝাড়ার পরেও কোন রকম সহানুভূতি পাওয়া গেল না।আমাদের প্র্যাকটিস করাও তাই বন্ধ।যা হোক, কয়েক শুক্রবার গেলো।আমরা ক্লাসে যাই,ওস্তাদ স্বরলিপি বাজাতে বলেন।আমরা বেহালাতে থুতনি ঠেকিয়ে উদাসীন ভঙ্গিতে বসে হাত নাড়াই।অন্যদের সুমধুর সুরের মাঝে আমাদের কর্কশ সুর চাপা পড়ে যায়।ইতোমধ্যে বেহালা নিয়ে হলের বন্ধুরা টিপ্পনি কাঁটা শুরু করে দিয়েছে।কিছুদিন পর…আবার এক শুক্রবার এলো।সকালে ঘুম থেকে উঠে সুকান্তিকে জাগাতে গেলাম।সুকান্তি বললো, বস্ …আজ যেতে ইচ্ছে করছে না।আমি ভাবলাম,হু…গিয়ে শুধুতো বসেই থাকি…আজ থাক।
পরের শুক্রবার এলো।আজ আমার যেতে ইচ্ছে করছে না।এভাবে ৪/৫ টা শুক্রবার কেটে গেল।কোনদিন আমার যেতে ইচ্ছে করে না,কোনদিন সুকান্তির যেতে ইচ্ছে করে না।কোন কোন দিন আবার দু’জনের যেতে ইচ্ছে করে না।তাই বেহালার ক্লাসে যাই না আর।এদিকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা কাছাকাছি চলে এসেছে। না যাওয়ার আরেকটা অজুহাত পাওয়া গেছে।বন্ধুরা বাঁকা চোখে জিজ্ঞেস করে,দোস্ত বেহালা শেখা কতদূর? আমরা বলি ,এই টার্মে আর হবে নারে, আপাতত বন্ধ, অন্য সময় শিখব……।
সেই অন্য সময় আর আসেনি।বুয়েট লাইফের অনেকটা শেষ প্রান্তে চলে এসেছি।তবু ,আমাদের সময় আসেনি…আসবে বলেও আর মনে হয় না।বেহালার বাক্সের উপর রাজ্যের ধূলা জমেছে।মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়,একবার খুলে দেখি…।জানি কর্কশ কিছু সুর ছাড়া আর কিছু বের হবে না…তবুও ইচ্ছে হয়।আবার,মাঝে মাঝে মনে হয়,বিক্রি করে দেই…।কি লাভ, চোখের সামনে ব্যর্থতার একটি জীবন্ত প্রতিমূর্তিকে শুধু শুধু বাঁচিয়ে রেখে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28809203 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28809203 2008-06-13 20:42:41
পৃথিবীর পথে বিপ্রতীপ (কবি) তারাশঙ্করের ‘কবি’ পড়লে কার না কবি হবার সাধ জাগে ! তার উপর চারপাশে এত কবি …এই বাজারে কয়েকটা ভাবের কবিতা না লিখলে চলবে কিভাবে? না হয় তারাশঙ্করের ‘কবি’র মতো কোন ঠাকুরঝির সন্ধান পাইনি ,তাই বলে কি কবিতা লেখা যাবে না? নাহ্… আর দেরি করা যায় না…এক আধটা কবিতা এবার লিখতেই হবে । কিন্তু শুধু ইচ্ছে করলেই কি কবিতা লেখা যায়? অনেকেই বলেন ,কবিতা লেখার পেছনে নাকি কারণ থাকে। বাঙ্গালী ছেলেদের জীবনে নাকি এমন একটা সময় আসে ( বিশেষ করে প্রেম এবং ছ্যাঁকা ) ,যখন তারা এক-দু’খানা কবিতা লিখে বা লিখার অপচেষ্টা করে। তবে কি আমার জীবনে সেই সময় এসেছে? না…সেরকম কিছু হয়নি আমার, হবার সম্ভাবনাও নেই। কারণ, আমি মেয়েদের দেখলে সাধারণত ১০০ হাত দূরে থাকি সবসময়। শুধু শুধু প্রেমে-টেমে পড়ে মানিব্যাগের তেরোটা বাজিয়ে কি লাভ ? এমনিতেই বুয়েটের জনপ্রিয় টিউশনি বানিজ্যে সুবিধা করতে পারিনি কোনভাবেই…এখনও তাই বাবার হোটেলে খাই। বাবার টাকা দিয়ে আর যাই হোক প্রেম করা যায় না। তাই প্রেম আমার কাছ থেকে ১০০ হাত দূরের ঘটনা আর ছ্যাঁকা তো কয়েক আলোকবর্ষ দূরের…। তাই কবিতা লেখার কারণ অন্য। বুয়েটে এসে বেশ কয়েকবার ম্যাগাজিন নামক কিছু বস্তুর সম্পাদক ( অন্য কেউ রাজি না হওয়াতে অবশ্য…) সাজবার সৌভাগ্য হয়েছিল। এই সম্পাদক নামক বলির পাঁঠার অনেকগুলো কাজের মাঝে একটি হচ্ছে লেখা সংগ্রহ করা। ব্যাপারটা মোটেও সুখকর নয়। যদিও বুয়েট ছাত্রদের বেশির ভাগেরই একটা সাহিত্যিক মন আছে। কবিতা,গল্প,উপন্যাস,সায়েন্স ফিকশন সহ সাহিত্যের আনাচে কানাচে বুয়েট ছাত্রদের এখন আনাগোনা। তবে সমস্যা হচ্ছে ,সবাই নিজেকে প্রকাশ করতে চায় না। এখানে অনেকে আবার নিজেকে আন্ডারগ্রাউন্ড কবি বলে দাবি করে। এই সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে অনেক বার বন্ধুদের ডায়েরি থেকে জোড় করে কবিতা আদায় করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, একবার দেখা উচিত কবিতা কি জিনিস…। এ কথা শুনে আঁতেল বন্ধু তপু বলল, এ যুগের বেশির ভাগ আধুনিক কবিতা দেখলে আমার মনে হয় না এগুলো কবিতা। আমরা অনেকে জানি না কবিতা কি জিনিস,তবু কবিতা লিখি। এ জন্যই আজ কবিতার এই দুর্দিন!ফেকলু টাইপের কবিদের ভিড়ে আজ আসল কবিদের খুঁজে পাওয়া দুস্কর।এই অবস্থা কোন ভাবেই কাম্য নয়। না জেনে শুনে আমাদের কোন কাজ করা ঠিক নয়…। গরম কড়াইয়ে এক ফোঁটা পানি ফেললে যেমন এক নিমিষে মিলিয়ে যায় , আঁতেল তপুর এরকম ফ্রয়েডিয় কথাবার্তায় আমার কবি হবার বাসনাও তেমনি মিলিয়ে গেল।
কিন্তু,প্রেম কি আর বুড়ো হয়,দেখলেই মনে হয়…। কবিতার প্রতি প্রেম জাগলো আবার। এতদিন শুধুমাত্র হাতেগোনা প্রিয় কিছু কবিতা পড়ে এসেছি। এবার সেগুলোই আবার কিছু অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে পড়লাম। বোঝার চেষ্টা করলাম,কবিতা কি বস্তু? কিন্তু তেমন কিছু উদ্ঘাটন করা সম্ভব হলো না। অনেক বলল,আধুনিক কবিতা খুবই সহজ ব্যাপার,ছন্দের কোন প্রয়োজন নেই এখানে। একের পর এক ভাবের কিছু লাইন লিখতে পারলেই তাকে কবিতা বলা যায়।‘প্রথম আলো’র আলপিনের কার্টুনে আবার একদিন জনৈক আধুনিক কবির একখানা কবিতা পড়লাম। এই কবিতা পড়ার পর বহুদিন কবিতা লেখার চেষ্টা করিনি আর। কবিতাটি ছিল এরকম-

‘বাঁধিয়াছি সাম্পান মরুভূমি তটে
ভাঁপা পিঠা রাখিয়াছি পাকস্থলি জটে
তলপেটে ঝড় ,ভয় হয় কি ঘটে
একফোঁটাও জল নাই যে পটে…’

এর বেশ কিছুদিন পর এক দুপুরবেলা..। সবেমাত্র জঘন্য একটা ক্লাস টেষ্ট দিয়ে রুমে ফিরেছি। মন ভালো নেই…। দুপুরে সাধারনত ঘুমাই না। তাই, গণক যন্ত্রের সামনে বসে আছি। ইন্টারনেটের লাইন চলে গেছে কোন কারণে। হাতে তেমন কোন কাজও নেই। মাথায় কিছু লাইন ঘুরে ফিরে আসছে,ভাবলাম লিখে রাখি। লিখলাম -

সাদা-কালো ,লাল-নীল
স্বপ্ন দেখি রাত দিন
কখনো আকাশ ছোঁয়ার
কখনো নদী হবার
কিংবা এক টুকরো মেঘ হয়ে
নীল আকাশে ভেসে বেড়ানোর
না হয় এক টুকরো কুয়াশা হয়ে
সব কষ্ট ঢেকে দেয়ার
কিন্তু হয়না স্বপ্ন সত্যি
রোদ উঠে…ঘুম ভাঙ্গে, জেগে দেখি
এই আমি এই আছি
একদম আগের মতন…
তবুও কেন স্বপ্ন দেখি?
আবার ঘুম ভাঙ্গে ,আবার জেগে উঠি…

লেখার পর মনে হলো কেমন কবিতা কবিতা গন্ধ বের হচ্ছে । তাই একটা নাম দিয়ে দিলাম- ‘স্বপ্ন’। আমার প্রথম পরীক্ষামূলক কবিতা…স্বপ্ন। সাহস করে ইয়াহু ৩৬০-ব্লগে দেয়ার পর অনেকেই বললেন,ভালো…। অতীব আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এখানে জঘন্য কিছু লিখলেও কেউ কোন খারাপ মন্তব্য করেন না। তাই আত্ববিশ্বাস বেড়ে যায় অনেকগুন। না হলে আমার এই কবি সাজার চেষ্টা কবে মাঠে মারা যেতো। বাঁদরকে প্রশ্রয় দিলে মাথায় উঠে ‘ইয়ে’ করে দেয় । গুজব আছে,এই প্রাণী থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের সৃষ্টি। সেই কারণেই হয়তো আমিও প্রশ্রয় পেয়ে মাথায় উঠে গেলাম। কবিতার নামে একের পর এক উল্টাপাল্টা জিনিস লিখতে লাগলাম। কিছুদিন পর আমার সেই আঁতেল বন্ধু তপুর নজরে পড়লো এই কবিতা নামক বস্তুগুলো। প্রথম কবিতা ‘স্বপ্ন’ পড়ে গম্ভীর মুখে বলল,ভাষা খুব দুর্বল…বোঝা যাচ্ছে কাঁচা হাতের লেখা …। তবে তৃতীয় কবিতা ‘জানালা’ পড়ে বলল,এইটা খারাপ না…চলে। একটু আশার আলো দেখলাম। কারন আমি জানি,তপু খুশি করার জন্য কাউকে কিছু বলে না। তবে সেদিন তপু সাবধান করে দিয়ে গেল, কবিতা লিখেছ ভালো কথা ,তবে বেশি লিখো না…খুব বেশি হলে ডজন খানেক…। ওর কথা শুনে ‘শেষের কবিতা’র একটা লাইন মনে পড়ে গেল,কবি মাত্রেরই উচিত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদি কবিত্ব করা। যাই হোক,আমি ভেবে দেখলাম আমি যা লিখি সবই তো পরীক্ষামূলক কবিতা,তাই এক-আধখানা বেশি লিখলে ক্ষতি কি। তাই একের পর এক কবিতা প্রসব করে চললাম…। নিজেকে কবি ভাবতেও বেশ ভালোই লাগছিল ! কিন্তু, কিছুদিন আগে আবার তুরস্কের কবি নাজিম হিকমতের একটা লেখা পড়লাম- ‘…কবিরা তো আকাশ থেকে পড়েননি যে তাঁরা মেঘের রাজ্যে পাখা মেলবার স্বপ্ন দেখবেন;কবিরা হলেন সমাজের একজন-জীবনের সঙ্গে যুক্ত,জীবনের সংগঠক…’। ভেবে দেখলাম, আমি তো স্বপ্ন দেখি…আকাশে ভেসে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেছি আমার প্রথম পরীক্ষামূলক কবিতা ‘স্বপ্ন’-তে। স্বপ্ন দিয়েই তো আমার জীবনে কবিতার শুরু। আমি স্বপ্ন দেখতে ভীষণ ভালোবাসি।তাই, আমার কবিতাতেও ঘুরে ফিরে আসে স্বপ্নের কথা…স্বপ্ন ভঙ্গের কথা। কিন্তু, আকাশে উড়বার স্বপ্ন দেখলে কি কবি হওয়া যায় না? তবে কি আমি কবি হতে পারবো না কোনদিন? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28807941 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28807941 2008-06-09 23:34:55
সফটওয়্যারের স্বাধীনতাযোদ্ধা রিচার্ড স্টলম্যান স্বাধীনতার আকাঙ্খা প্রতিটি মানুষের মাঝেই আছে। মানবসভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যুদ্ধ করে আসছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বেও এখন বিচিত্র এক যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ সফটওয়্যারের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। বিচিত্র এই যুদ্ধের মহানায়কের নাম রিচার্ড ম্যাথু স্টলম্যান। লোভী সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের কালো থাবার মুখে তিনিই বিশ্ববাসীকে উচ্চারণ করতে শিখিয়েছিলেন এক সাহসী শ্লোগাণ-সফটওয়্যারের স্বাধীনতা চাই!

১৯৫৩ সালের ১৬ মার্চ নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্ম নেয়া এই রিচার্ড স্টলম্যান প্রথম প্রোগ্রামটি লিখেন হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশনের কিছুদিন পরে। তখন তিনি রকফেলার ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান বিভাগের গবেষনাগারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন। তবে ইতোমধ্যে তার ক্যারিয়ার গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞানের পথেই এগিয়ে গেছে, যদিও তার তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকরা মনে করতেন তিনি হয়তো জীববিজ্ঞানেই উচ্চশিক্ষা গ্রহন করবেন।

১৯৭১ সালের জুন মাসে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষনাগার একজন প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করার সুযোগ লাভ করেন। একজন হ্যাকার হিসেবেও তার হাতে খড়ি হয় সেখানেই। হ্যাকিংয়ের কথা শুনে মোটেও চমকে উঠবেন না যেন। তখনকার দিনে হ্যাকিংয়ের সংজ্ঞা ছিল একেবারেই অন্যরকম। তখন কম্পিউটার এবং এর নিরাপত্তা সম্পর্কে যারা খুব দক্ষ ছিলেন তাদেরকে হ্যাকার বলা হতো। হ্যাকিংয়ের যাত্রা শুরু এমএইটি’র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষনাগারেই। স্টলম্যান ‘RMS’ নামে খুব অল্প দিনের মাঝে এমআইটি’র হ্যাকার সমাজে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। উল্লেখ্য, ‘RMS’ তার পুরো নাম রিচার্ড ম্যাথু স্টলম্যানের সংক্ষিপ্ত রূপ। হ্যাকার হিসেবে তার বেশ কিছু আলোচিত ঘটনাও আছে। ১৯৭৭ সালে এমএইটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে প্রত্যেক ছাত্রদের কম্পিউটারে লগইন করার জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড দেয়া হয়। যথারীতি স্টলম্যানের এই পাসওয়ার্ডের শৃঙ্খল মোটেও পছন্দ হলো না। তিনি পাসওয়ার্ড ভেঙ্গে সবার পাসওয়ার্ড তুলে দিয়ে সবাইকে ই-মেইলে জানিয়ে দিলেন। এরই মাঝে স্টলম্যান এমআইটি-তে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শুরু করেছেন।

আশির দশকের শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে কপিরাইটের বাড়াবাড়ি শুরু হয়। এর ফলে অনেক দাম দিয়ে সফটওয়্যার কিনেও ক্রেতারা তা স্বাধীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করেন। শুধু তাই নয় ব্যবসায়ীরা সফটওয়্যার কপি করা বা না কিনে বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোকে ‘চুরি’র মতো নোংরা কাজের সাথে তুলনা করতে শুরু করে। এর মাঝে এমআইটি’র গবেষনাগারেও একটি ঘটনা ঘটে। ১৯৮০ সাল। একদিন স্টলম্যান ৫০ পাতার একটি জরুরী ফাইল প্রিন্ট করতে দিয়েছেন। লেজার প্রিন্টারটি অন্য তলায়। স্টলম্যান গিয়ে দেখেন প্রিন্টারের ট্রে-তে মাত্র চারটি পাতা পড়ে আছে, তাও অন্য আরেকজনের। তার ফাইলের একটা পাতাও প্রিন্ট হয়নি। জ়েরক্স ৯৭০০ মডেলের এই প্রিন্টারটি এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে পাওয়া। স্টলম্যান এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রিন্টার সফটওয়্যারের সোর্স কোডে কিছু পরিবর্তন করলেন যেন প্রিন্টারে ফাইল প্রিন্ট হয়ে গেলে বা প্রিন্টার ব্যস্ত থাকলে ল্যাবের কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা তাৎক্ষনিক বার্তা আকারে দেখায়। এমআইটি’র ল্যাব স্টলম্যানের রূপান্তর করা এই সফটওয়্যারটি প্রত্যাখান করে, কারন এটি অন্য একটি সফটওয়্যারকে রূপান্তর করে তৈরি করা। এই ঘটনাটি সফটওয়্যারের ভবিষ্যত স্বাধীনতাযোদ্ধা স্টলম্যানের উপর বেশ বড়সর প্রভাব ফেলে।

এরই মাঝে এমএইটি’র হ্যাকার সমাজেও ভাঙ্গন ধরেছে। এমএইটির হ্যাকার সমাজের শেষ সদস্য হিসেবে তিনি নন-ডিসক্লোসার এগিমেন্ট স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। এই চুক্তির শর্ত ছিল নিজের ডেভোলপকৃত সফটওয়্যারের সোর্স কোড কাউকে দেয়া যাবে না। রিচার্ড স্টলম্যান এই চুক্তিকে ‘অনৈতিক’ এবং ‘অসামাজিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একটি নিশ্চিত জীবনযাপনের হাতছানিকে দূরে ঠেলে ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে এমআইটি’র প্রোগ্রামারের চাকুরি ছেড়ে দেন। মুক্ত সফটওয়্যার তৈরির লক্ষ্যে পুরোটা সময় গনুহ (GNU) প্রকল্পে ব্যয় করা। গনুহ প্রকল্পের ঘোষনা অবশ্য আগের বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই দিয়েছিলেন। সফটওয়্যারের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর গল্প মোটামুটি এই। কিন্তু শুধু যুদ্ধ শুরু করলে তো হবে না, চাই অস্ত্র, চাই মানুষ...। স্টলম্যান বুঝতে পারছিলেন মানুষের হাতে শুধু উন্মুক্ত সফটওয়্যার তুলে দিলেই হবে না, সেই সফটওয়্যারগুলো চালানোর জন্য একটি উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমও তো চাই।

১৯৮৫ সাল। মার্চ মাসে প্রকাশিত হয় গনুহ প্রকল্পের ইশতেহার । এই ইশতেহারে গনুহ প্রকল্পের বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার পাশপাশি জানানো হয় ইউনিক্স ভিত্তিক একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কথা। ইউনিক্সের মতো হলেও এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে একদম বিনে পয়সায়। এছাড়াও মুক্ত সফটওয়্যারের আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে সে বছরের ৪ অক্টোবর গঠন করেন ফ্রি সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। মুক্ত সফটওয়্যারের বিতরন এবং রুপান্তর যেন কপিরাইটের হুমকির মুখে না পড়ে সেজন্য স্টলম্যান এক নতুন ধারনার জন্ম দেন যার নাম ‘কপিলেফট’। কপিলেফটের ফলে একটি সফটওয়্যার স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা ছাড়াও ব্যবহারকারী এর পরিবর্তন করতে পারবেন, এমনকি এই সফটওয়্যারকে রূপান্তর করে একটি নতুন সফটওয়্যারও তৈরি করা যাবে। এজন্য কারো অনুমতি নিতে হবে না বা এর জন্য কোন প্রকার অর্থও প্রদান করতে হবে না। কপিরাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়, আর অন্যদিকে কপিলেফট ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সদা সচেষ্ট। তবে এর মূল উন্নয়নকারীর অবদান যেন ক্ষুন্ন না হয় সেজন্য কিছু শর্তও থাকে। উল্লেখ্য, কপিলেফটের ক্ষেত্রে এখন বেশ কিছু লাইসেন্স আছে-GPL, LGPL, FDL। স্টলম্যানের এসব নিত্যনতুন ধারনা অনেকেই আকৃষ্ট করে তুলে। ফলে এ প্রকল্পে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি এবং প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে।

নব্বই দশকের শুরু... গনুহ অপারেটিং সিস্টেম উন্মুক্ত হবার অপেক্ষায়। তবে এর একটি বড় অংশ তখনও বাকী, আর সেই অংশটি হলো অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। সেই কাজটিকে সহজ করে দেন ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিনাস টরভেল্ট। ইউনিক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম ‘মিনিক্স’ নিয়ে শখের বশে কাজ করতে করতে ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে লিনাস তৈরি করে ফেলেন একটি অপারেটিং সিস্টেম কার্নেল। ফলে গনুহ অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল হিসেবে একেই বেছে নেয়া হয়, জন্ম নেয় মুক্ত সফটওয়্যার যুদ্ধের সবচেয়ে কার্যকরী অস্ত্র-‘লিনাক্স’! লিনাসের নামানুসারেই এর নামকরন করা হয়। ফলে অনেকেই ধারনা করে বসেন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের পুরোটাই বোধহয় লিনাসের তৈরি করা। আসলে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের বেশির ভাগ অংশ তৈরি না করেও লিনাক্সের সাথে সাথে লিনাক্সের জনক হিসেবে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন লিনাস টরভেল্ট। লিনাক্স আসার পরপরই মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। উন্মুক্ত সোর্সকোড ভিত্তিক এই অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার ব্যবহারকারী এবং প্রোগ্রামারদের সামনে নতুন দ্বার উন্মোচন করে।

স্টলম্যান একজন সাধারন ছাত্রের মতো সস্তা জীবন-যাপনই বেশি পছন্দ করেন। মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা, অং সাং সুচি’র মতো মানুষেরাই তার জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছেন বলে মনে করেন তিনি। ব্যাক্তিগত জীবনে নাস্তিক; জন্মসূত্রে খ্রিষ্টান হলেও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা কখনও পালন করা হয় না। কাজ শেষে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েন। মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। তার ব্যাক্তিগত সম্পদ বলে তেমন কিছুই নেই। আসলে প্রায় গত তিন দশক ধরে তার ধ্যান-জ্ঞান একটাই, আর তা হলো মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিশ্ব রাজনীতিকেও বানিজ্যের আওতামুক্ত করার পক্ষপাতী স্টলম্যান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা সর্বাগ্রে লোভী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়াতেই গণতন্ত্রের মুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। তাই ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না হলে গনতন্ত্র তথা মানবতার মুক্তি সম্ভব নয়। এছাড়াও মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের অগ্রদূত স্টলম্যান মনে করেন সফটওয়্যারের বানিজ্যিকরন পৃথিবীর প্রধান সমস্যা নয়। তাঁর মতে, বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর সমস্যা হলো পরিবেশ দূষন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming)।

মুক্ত সফটওয়্যার সম্পর্কে স্টলম্যান প্রচুর প্রবন্ধ লিখেছেন। তার সবেচেয়ে বিখ্যাত প্রবন্ধের নাম-কেন সফটওয়্যারের মালিক থাকা উচিত নয়? অনেকেই বলেন, মুক্ত সফটওয়্যার মানে হচ্ছে মেধার অপচয় বা মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করে কোন লাভ নেই । তাদের এসব প্রশ্নের সব জবাব আছে এই প্রবন্ধে। এ পর্যন্ত অনেক ভাষায় এই প্রবন্ধটি অনুবাদ করা হয়েছে। সায়েন্স ফিকশনের ভক্ত স্টলম্যান দুটি সায়েন্স ফিকশনও লিখেছেন। সফটওয়্যার কপিরাইট এর প্যাটেন্টের বিরূদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ২০০৬ সালে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কেরলায় রাজ্য সরকারের স্টলম্যানের এক বৈঠকের পর সরকার এই রাজ্যের প্রায় সাড়ে বারো হাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম মাইক্রোসফট উইন্ডোজের বদলে উন্মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার সিদ্ধান্ত নেয়।

সফটওয়্যার কপিরাইট আর প্যাটেন্টের চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে তিনি প্রথম বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছিলেন মুক্ত সফটওয়্যারের স্বপ্ন। তার স্বপ্ন ছুঁয়ে গেছে সমস্ত বিশ্বকে। এর বড় উদাহরন সম্ভবত আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রযুক্তি বিমুখ একটি জাতি হিসেবে আমাদের দুর্নাম থাকলেও আমাদের তরুন সমাজ এখন স্টলম্যানের মন্ত্রে দীক্ষিত। আসলে যেকোন যুদ্ধে অনেকেই অংশগ্রহন করে, তবে সেই যুদ্ধ কাউকে না কাউকে শুরু করতে হয়। সেই শুরুটা তিনিই করেছেন। তাহলে এই সফটওয়্যার যুদ্ধের মহানায়ক তিনি ছাড়া আর কে হবেন?

আমাদের প্রযুক্তি-তে প্রকাশিত
[লেখাটির রসকষ চিপে বের করে বাংলা উইকিতে যুক্ত করে দেয়া হলো। ]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28807405 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28807405 2008-06-08 12:38:44
আসুন শক্তি বাঁচাই... বাজারে এখন শক্তি সাশ্রয়ী বাতি বেশ সহজলভ্য। তাই প্রচলিত বাতির বদলে শক্তি সাশ্রয়ী বাতি ব্যবহার করুন। এছাড়া প্রয়োজন নেই এমন জায়গায় বাতি জ্বলিয়ে রাখবেন না। এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যাবার সময় (যদি কেউ না থাকে) অবশ্যই খেয়াল করে বাতি বন্ধ করে যান।

>কাপড় ধোয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করেন। ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারে বেশ ভালো পরিমান বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাই ঠান্ডা পানিতে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে একসাথে বেশি পরিমান কাপড় ধোয়ার চেষ্টা করুন। অনেকের ধারনা গরম পানিতে কাপড় ধোয়ার কাপড় বেশি পরিষ্কার হয়। এই ধারনাটি ভূল। বর্তমান সময়ের বেশির ভাগ ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে কাজ করে। এছাড়া কম তাপমাত্রায় ওয়াশিং মেশিনে বিদ্যুত খরচও কম হয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া হাতে গোনা দু’তিনটি কাপড়ের জন্য ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার অর্থনৈতিকভাবে মোটেও লাভজনক নয়, কারন বার বার ব্যবহারে বিদ্যুত খরচ বাড়বে।
>অফিসের ফ্যাক্স এবং ফটোকপি মেশিন প্রয়োজন না থাকলে বন্ধ করে রাখুন এবং প্রয়োজনের সময় চালু করুন, এতে শক্তির অপচয় কমবে। কম্পিউটার বিদ্যুত সাশ্রয়ী উপায়ে ব্যবহার করুন। এছাড়া ২০ মিনিট বা বেশি সময়ের জন্য টেবিল থেকে উঠতে হলে (যেমনঃ লাঞ্চে গেলে) কম্পিউটার বন্ধ করে যান। এই নীতিটি অফিসের পাশাপাশি বাসায়ও অনুসরন করুন।
>আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রের নাম কম্পিউটার। খুব শিঘ্রই কম্পিউটার আপগ্রেড করার চিন্তাভাবনা থাকলে একটু বাজেট বাড়িয়ে ডেস্কটপের বদলে ল্যাপটপ কেনার চেষ্টা করুন। এতে যে কোন জায়গায় বহন করার সুবিধার পাশাপাশি বিদ্যুত সাশ্রয় করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ল্যাপটপে ডেস্কটপ কম্পিউটারের চেয়ে বিদ্যুত খরচ অনেক কম হয়।
>মোবাইলে ফোনে অপ্রোজনীয় স্ক্রিন সেভার বা ব্যাটারির চার্জ কমে এমন অপশন যথাসম্ভব বন্ধ রাখুন। এতে শক্তির খরচ যেমন কমবে তেমনি একবার চার্জ দেয়ার পর দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে পারবেন। মোবাইলে ফোনে চার্জ দেয়া পূর্ণ হলে চার্জারটি খুলে রাখুন। শুধু মোবাইল চার্জার নয়, ব্যবহার না করলে টেলিভিশন সহ সব ধরনের বৈদ্যুতিক পন্যের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা আনপ্লাগ করে রাখুন। কারন, অন থাকলে স্ট্যান্ড বাই অবস্থাতেই কিছু পরিমান বিদ্যুত খরচ হয়, যার বিল আপনাকে ব্যবহার ছাড়াই গুনতে হবে। বেশ কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্য এক সমীক্ষায় জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর আনপ্লাগ অবস্থায় যে পরিমান বিদ্যুত খরচ হয় তা দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক বাড়িতে সারা বছর বিদ্যুত চাহিদা মেটানো সম্ভব!
>বাজারে এখন সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স পন্যের শক্তিসাশ্রয়ী সংষ্করন পাওয়া যায়। তাই কেনার সময় শক্তিসাশ্রয়ী পন্য কিনুন। শক্তিসাশ্রয়ী হলে সাধারনত তা পন্যের গায়ে লেখা থাকে। এছাড়া পন্যের গায়ে Energy Star লেখা লেগো থাকে। উল্লেখ্য, Energy Star শক্তিসাশ্রয়ী পন্যের একটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড।



লেখাটি আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28806474 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28806474 2008-06-05 14:14:00
মা ------------------------------------------
এ ঘরের দেয়াল রঙ বদলায়,
শুধু তার দিনলিপিটা একঘেঁয়ে রয়ে যায়।
রান্না ঘর থেকে সদর দরজা পর্যন্ত,
আমার মায়ের পৃথিবী।
অনেকটা ফ্রেমে বাঁধানো,
যেন যত্নে আঁকা কোন শিল্পীর ছবি।
এই ফ্রেমের বাইরে মাত্র ক’বার,
হাসপাতালের বিছানায় শোয়া
এক টুকরো পাকানো দড়ির মতো।

এ সংসার
প্রতিদিন সাজে নানান ব্যস্ততায়,
মায়ের মুখখানা জীর্ণতায় ঢেকে যায়।
স্কলারশিপের টাকা থেকে একবার
সস্তা একটা শাড়ি এনে দিয়েছিলাম,
আলমারির তাকে এখনো যত্নে রাখা,
সাদা ন্যাপথলিন মুক্তোর মতো বুকে লুকিয়ে থাকে।
সারাটা দিন রান্না ঘরে কাটে।
কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম,
আটপৌরে শাড়ির আঁচলে মা মুখ মুছে,
খাবার সাজিয়ে অপেক্ষায় থাকে।
ভরপেট খাবারের পর ভাতঘুম,
রান্না ঘরে ক্লান্ত বিকেল জেগে থাকে নির্ঘুম
গোধূলির অপেক্ষায়।
ধুপকাঠির গন্ধে বিকেলের মৃত্যু শেষে
গোধূলি আসে,
ঠাকুর ঘরে ঘন্টা বাজে-
প্রতিদিন প্রার্থণার সময় ঘুমিয়ে থাকিস।
আমি বিরক্ত হই-
কি হয় এতো প্রার্থণা করে?
সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালতে জ্বালতে মা বলে-
যা হয় সবই ভালোর জন্যে...।
তাই বুঝি সারা বছর অসুস্থ থাকো?
মা উত্তর দেয় না,
হাতের সন্ধ্যা প্রদীপ
নিশ্চুপ আলো ছড়িয়ে যায়
এক টুকরো দীর্ঘশ্বাসের মতোন।
প্রার্থণা শেষে
ম্লান গোধূলি চায়ের কাপে বাষ্পীভূত হয়,
আসবাবপত্রের গায়ে ধূসরতা মাখে।
মা,এবার একটু বিশ্রাম নাও।
দেখিস না,সব কিছুর উপর কেমন ধুলো জমেছে?
চা গাছের প্রাণহীন শিকড়ের উপর বেলজিয়াম গ্লাস
মায়ের মুখখানা স্পষ্ট করে আঁকে একসময়।
রান্না ঘরের খুঁটখাট শব্দে
অপেক্ষায় থাকে ডাইনিং টেবিল।
আর রাত দশটার গরম সংবাদ
রান্নাঘরে আলোর প্রহর আরেকটু দীর্ঘায়িত করে।

এ শহর এখন
রাক্ষসের মতো গ্রাস করে আমার অবসর।
সেই চেনা শহরে,
মরচে পড়া লোহার গেটে একটু কর্কশ শব্দের অপেক্ষায়
মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে, মধ্যরাত পর্যন্ত।
আর আমি ঘুমের অপেক্ষায় থাকি,
মা কল্পনায় হাত বুলিয়ে যায়।
আমি ঘুমিয়ে গেলেও
মা ঘুমায় না,জেগে থাকে
আর স্বপ্নে আমার বিষন্নতা ঢাকে।
......... ০৫.০৬.০৭]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28796489 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28796489 2008-05-11 11:50:36
কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি (প্রিয় কবিতার প্রিয় কিছু লাইন) যারা এসেছিল নির্দয়ভাবে হত্যা করার আদেশ নিয়ে
আমরা তাদের কাছে
ভাষার জন্য আবেদন জানাতেও আসিনি আজ।
আমরা এসেছি খুনি জালিমের ফাঁসির দাবি নিয়ে।

আমরা জানি ওদের হত্যা করা হয়েছে
নির্দয়ভাবে ওদের গুলি করা হয়েছে
ওদের কারো নাম তোমারই মতো ওসমান
কারো বাবা তোমারই বাবার মতো
হয়তো কেরানি, কিংবা পূর্ব বাংলার
নিভৃত কোনো গাঁয়ে কারো বাবা
মাটির বুক থেকে সোনা ফলায়
হয়তো কারো বাবা কোনো
সরকারি চাকুরে।
তোমারই আমারই মতো
যারা হয়তো আজকেও বেঁচে থাকতে
পারতো,
আমারই মতো তাদের কোনো একজনের
হয়তো বিয়ের দিনটি পর্যন্ত ধার্য হয়ে গিয়েছিল,
তোমারই মতো তাদের কোনো একজন হয়তো
মায়ের সদ্যপ্রাপ্ত চিঠিখানা এসে পড়বার আশায়
টেবিলে রেখে মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিল।
এমন এক একটি মূর্তিমান স্বপ্নকে বুকে চেপে
জালিমের গুলিতে যারা প্রাণ দিল
সেই সব মৃতদের নামে
আমি ফাঁসি দাবি করছি।
...

খুনি জালিমের নিপীড়নকারী কঠিন হাত
কোনোদিনও চেপে দিতে পারবে না
তোমাদের সেই লক্ষদিনের আশাকে,
যেদিন আমরা লড়াই করে জিতে নেব
ন্যায়-নীতির দিন
হে আমার মৃত ভাইরা,
সেই দিন নিস্তব্ধতার মধ্য থেকে
তোমাদের কন্ঠস্বর
স্বাধীনতার বলিষ্ঠ চিৎকারে

ভেসে আসবে
সেই দিন আমার দেশের জনতা
খুনি জালিমকে ফাঁসির কাষ্ঠে
ঝুলাবেই ঝুলাবে
তোমাদের আশা অগ্নিশিখার মতো জ্বলবে
প্রতিশোধ এবং বিজয়ের আনন্দে।

----------------------------------------------
'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' একুশের প্রথম কবিতা। কবিতাটির সাথে সবাই কমবেশী পরিচিত। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষনের খবর পেয়ে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে বসে কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় কবিতাটি লিখেন। মূল কবিতাটি ছিল প্রায় ১৭ পৃষ্টার। দীর্ঘকাল নিষিদ্ধ থাকায় সমগ্র কবিতাটি এখন আর পাওয়া যায় না। চট্টগ্রাম থেকে বই আকারে কবিতাটি বের হবার পর কবিতাটি বাজেয়াপ্ত করে তৎকালীন পাকিস্থান সরকার। সদ্য প্রয়াত এই বিপ্লবী কবির প্রতি শ্রদ্ধা...
তথ্যসূত্রঃ মায়ের ভাষার গান-রবীন্দ্র গোপ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28760427 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28760427 2008-01-12 23:34:13
এজ এবং জিপি আর এস এর মাঝে পার্থক্য
‘বিবর্তন’ শব্দটির সাথে আপনারা সবাই কমবেশি পরিচিত। সহজ ভাষায় বললে এজ মূলত জিপি আর এস-এরই একটি বিবর্তিত রূপ। জিপি আর এস (GPRS) এর পূর্ণ নাম হচ্ছে General Packet Radio Service আর এজ (EDGE) এর পূর্ণ নাম হচ্ছে Enhanced Data rates for GSM Evolution অর্থ্যাৎ নাম থেকেই এজ এবং জিপি আর এস এর মাঝে পার্থক্যটি বোঝা যাচ্ছে। এজ এর চেয়ে জিপি আর এস এর প্রধান পার্থক্যটি হলো এর তথ্য স্থানান্তর (Data transfer) এর গতিতে। জিপি আর এস এর চেয়ে এজ এর ডাটা ট্রান্সফার রেট অনেক বেশি। এজ প্রযুক্তিটি জিএসএম প্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ২০০৩ সালে। তৃতীয় প্রজন্মের (অনেকে অবশ্য ২.৭৫ প্রজন্মেরও বলে থাকেন!) এই নেটওয়ার্ক সুবিধা প্রথম দিকে শুধুমাত্র নর্থ আমেরিকার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা পেয়েছিলেন। ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তিটির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে এবং সমগ্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।

যারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান তাদের অনেকের মাঝে আরেকটি প্রশ্ন সর্বদা ঘুরপাক খায় সেটি হলো এজ বা জিপি আর এস ক্লাস বলতে কি বোঝায়? মূলত ডাউনলিংক এবং আপলিংক ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে মোবাইল সেটগুলোকে বিভিন্ন ক্লাস বা শ্রেনীতে ফেলা হয়। যে সেট যতো উচ্চ শ্রেনীতে সেই সেটের ডাউনলিংক এবং আপলিংক ক্ষমতা ততো ভালো এবং এটি ভালো ইন্টারনেট সেবা দিতে সক্ষম।

সুতরাং এখন আমরা একটি উপসংহারে আসতে পারি আর তা হলো- মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারে ভালো সেবা পেতে চাইলে সর্বোচ্চ ক্লাসের এজ সমর্থিত মোবাইল ফোন সেট ব্যবহার করা উচিত।<img src=" style="border:0;" />
------------------------------

লেখাটি আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম এবং আমার নিজ ব্লগে প্রকাশিত ।

--------------------------------------------
আগের পোস্টটি ঝামেলা হওয়ায় মুছে ফেলা হয়েছে মন্তব্যসহ। সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। <img src=(" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28756461 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28756461 2008-01-03 22:34:36
ল্যাপটপ সম্পর্কিত কিছু টিপস ল্যাপটপ কেনার আগে-
ল্যাপটপের দাম সাধারনত ডেস্কটপের চেয়ে অনেক বেশি। তাই একটু ভেবে চিন্তেই ল্যাপটপ কেনা উচিত। ল্যাপটপ কেনার আগে যেসব বিষয় ভেবে নেয়া প্রয়োজনঃ
>আপনি কি কাজে ল্যাপটপ কিনবেন সেটা একটি বড় বিষয়। আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী ল্যাপটপের কনফিগারেশন ঠিক করুন। যেমনঃ বেশি মেমোরি প্রয়োজন এমন কোন সফটওয়্যার ব্যবহার না করলে সাধারন কাজের জন্য কম বাজেটের সেলেরন প্রসেসরের ল্যাপটপ কেনাই যথেষ্ঠ। কিন্তু আপনি যদি গেম খেলা বা গ্রাফিক্সের কাজ করতে চান তাহলে উচ্চ গতি সম্পন্ন হাই কনফিগারেশনের ল্যাপটপই কেনা উচিত। কনফিগারেশন নির্ধারনের ব্যাপারে প্রসেসরের ক্লক স্পিডের দিকে বেশি লক্ষ্য রাখুন।
>ল্যাপটপ যেহেতু কিছুটা দামী পণ্য তাই এক্ষেত্রে বাজেট বড় একটি বিষয়। এছাড়া বাজারে ল্যাপটপেরর প্রায় সব ব্র্যান্ডই ভালো। তাই ব্র্যান্ডের নামের চেয়ে ল্যাপটপ কেনার আগে দেখুন সাধ্যের মধ্যে কোন মডেলের ল্যাপটপে আপনি ভালো সবচেয়ে কনফিগারেশন পাচ্ছেন।
> ল্যাপটপ কেনার আগে দেখে নেয়া দরকার এর ব্যাটারি কতটুকু সময় ব্যাকআপ দিতে পারে। আপনার যদি আউটডোরে ল্যাপটপ বেশি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় তাহলে লক্ষ্য রাখুন ব্যাটারির ব্যাকআপ যেন একটু বেশি হয়।
> এখন অনেক জায়গাতেই স্বল্প মূল্যে ব্যবহৃত (সেকেন্ড হ্যান্ড) ল্যাপটপ পাওয়া যায়। এ ধরনের ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনার আগে ভালোভাবে ভাবুন। কারন, সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ বিক্রির সময় বিক্রেতারা অনেক ত্রুটির কথা চেপে যান। আর ওয়ারেন্টি না থাকায় এসব ল্যাপটপ কিনে আপনি নিশ্চিন্তে থাকতেও পারবেন না।
>ল্যাপটপের প্রধান সুবিধা হচ্ছে এটি খুব সহজেই বহন করা যায়। তাই যে ল্যাপটপ কিনবেন তার ওজন কেমন সেটা জেনে নিন। ছোট স্ক্রিনের ল্যাপটপের ওজন সাধারনত কম হয় বলে বহন করা সুবিধাজনক; এসব ল্যাপটপের দামও তূলনামূলকভাবে বেশি। তবে গ্রাফিক্সের কাজ যারা করবেন তাদের জন্য একটু বড় স্কিনের ল্যাপটপ কেনাই ভালো। তবে আউটডোরে বেশি ব্যবহারের প্রয়োজন হলে কম ওজনের ল্যাপটপ কেনাই ভালো। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কথা হলো-আপনি কেমন স্ক্রিনের ল্যাপটপ ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
ল্যাপটপ কেনার পরে-
ল্যাপটপ কেনার পর ল্যাপটপ ব্যবহারে বেশ কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী।এগুলো হলো-
>ল্যাপটপ বেশিক্ষণ কোলের উপর রেখে ব্যবহার করা উচিত নয়। বেশ কিছুদিন আগে একদল গবেষক ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের মাঝে এক জরিপ চালিয়ে দেখেছেন, যারা কোলের উপর রেখে টানা অনেকক্ষণ ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে।
>দাম একটু বেশি হলেও ল্যাপটপ বহনে ল্যাপটপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করুন। এসব ব্যাগ ল্যাপটপকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়া ভ্রমণে ল্যাপটপ বহন করার জন্য কাঁধে ঝুলানোর সুবিধা যুক্ত (অনেকটা স্কুল ব্যাগের মতো) ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে বহনে সুবিধার পাশাপাশি আরেকটি সুবিধা হলো বাইরে থেকে বোঝাই যাবে না যে আপনি ল্যাপটপ বহন করছেন। তাই ছিনতাইকারীর দৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
> ল্যাপটপে বিল্ট-ইন কিছু ডিভাইস আছে যেমনঃ ব্লু-টুথ, ওয়াই-ফাই, ইনফ্রারেড ইত্যাদি। প্রয়োজন না থাকলে ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় এসব ডিভাইস বন্ধ করে রাখুন। এতে ব্যাটারির শক্তি খরচ কম হবে।
> ডিসপ্লে সেটিংস থেকে বিভিন্ন অতিরিক্ত ফিচার যেমনঃ ClearType fonts , fade effects ইত্যাদি বন্ধ করে রাখুন। ফলে শক্তি খরচ কিছুটা কম হবে।
> ল্যাপটপে গেম খেলা বা কোন কিছু টাইপ করার জন্য এক্সটার্নাল কী-বোর্ড এবং মাউস ব্যবহার করুন। কারন, এসব ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহারে ল্যাপটপের টাচ প্যাড এবং কি-বোর্ডের আয়ু কমে যাবে।
>ঘরে বা বিদ্যুত ব্যবহারের সুবিধা আছে এমন স্থানে সরাসরি বিদ্যুত ব্যবহারের মাধ্যমে ল্যাপটপ চালান। প্রত্যেকটি ল্যাপটপের ব্যাটারির একটি আয়ু আছে। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বার চার্জ হবার পর এই ব্যাটারিটি নষ্ট অর্থাৎ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়।
>ল্যাপটপ ডেস্কটপের মতো একটানা ব্যবহার করা ঠিক নয়। বেশ কয়েক ঘন্টা ব্যবহার করার পর ল্যাপটপ কিছু সময় বন্ধ রাখা উচিত।
>ল্যাপটপের এয়ার ভেন্টটি নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কারন এয়ার ভেন্ট বন্ধ হয়ে গেলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হবে যা ল্যাপটপের জন্য ক্ষতিকর।
>খাবার ও পানীয় থেকে ল্যাপটপ দূরে রাখুন। নাহলে অসাবধানতা বশত ল্যাপটপের উপর পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
>ল্যাপটপ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কারন, হাত থেকে একবার পড়ে গেলেই ল্যাপটপের আয়ু শেষ।
---------
লেখাটি আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম এবং আমার ব্লগে প্রকাশিত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28748247 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28748247 2007-11-29 00:20:12
মুঠোফোন ভাইরাসমুক্ত রাখুন
১. মোবাইল ফোনের ভাইরাস বেশি ছড়ায় ব্লু-টুথের মাধ্যমে। তাই মুঠোফোনকে ভাইরাসমুক্ত রাখতে ফোনের ব্ল-টুথ অপশনটি বন্ধ করে বা লুকানো আবস্থায় (Hidden Mode) রাখুন। শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় ব্লু-টুথ অপশন চালু করুন। এতে ব্লু-টুথের মাধ্যমে যেসব ভাইরাস ছড়ায় সেসব ভাইরাসের হাত থেকে আপনার মুঠোফোন রক্ষা পাবে।
২. ব্লু-টুথ বা এম এম এস এর মাধ্যমে আসা কোন সংযুক্ত ফাইল ওপেন করার আগে একটু সতর্কতা অবলম্বণ করুন, যেমনটা আপনি কোন ই-মেইলের সাথে সংযুক্ত ফাইলের ক্ষেত্রে করে থাকেন। দেখে নিন যে উৎস থেকে সংযুক্ত ফাইলটি আপনাকে পাঠানো হয়েছে তা আপনার পরিচিত কিনা। অজানা কোন উৎস থেকে যে কোন ধরনের ফাইল কপি বা ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. কম্পিউটার ভাইরাসের ঠেকাতে যেরকম এন্টি-ভাইরাস পাওয়া যায় তেমনি এখন মুঠোফোন এবং পিডিএ-এর ভাইরাস ঠেকাতেও এন্টি-ভাইরাস পাওয়া যায়। তাই কম্পিউটারের মতো মুঠোফোনেও এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন। ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করলে মুঠোফোনের জন্য বেশ কিছু এন্টিভাইরাস পাবেন (যেমনঃ F-secure, Kaspersky) ।
৪. ভাইরাসের আক্রমনে আপনার মুঠোফোন অনাকাঙ্খিত আচরন শুরু করলে কাষ্টমার কেয়ার বা সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন। সেসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম নতুন করে ইনস্টল করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই আপনার মোবাইল ফোনের জরুরী কোন তথ্য যেন নষ্ট না হয় সেজন্য জরুরী ফাইল, অ্যাড্রেস বুক ইত্যাদির একটি ব্যাক-আপ রাখুন।
শুধু একটি কথা বলার যন্ত্র নয়, মুঠোফোন হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। মুঠোফোনের বিভিন্ন সুবিধা দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমনি নিরাপত্তার বিষয়টিও জরুরী হয়ে পড়ছে। তাই মুঠোফোনের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের এখন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

---------
লেখাটি আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম এবং আমার ব্লগে প্রকাশিত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747992 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747992 2007-11-27 21:01:32
ইন্টারনেটে হার্ডওয়্যার ড্রাইভার খুঁজবেন যেভাবে…
১। প্রথমে Start >Control panel >system অনুসরন করুন

২। System উইন্ডো থেকে Hardware ট্যাব সিলেক্ট করুন। এবার Device Manager সিলেক্ট করুন। এখানে আপনার পিসির সাথে সংযুক্ত হার্ডওয়্যারগুলোর একটি তালিকা দেখতে পারবেন। যেসব হার্ডওয়্যার ড্রাইভারের অভাবে ঠিকমতো ইনস্টল করা হয়নি সেগুলোর পাশে ক্যাটকেটে হ্লুদ রঙের প্রশ্নবোধক (?) চিহ্ন থাকবে।

৩। হলুদ প্রশ্নবোধক চিহ্নিত হার্ডওয়্যারটি সিলেক্ট করে রাইট বাটন ক্লিক করে Properties ওপেন করুন। Properties থেকে Details ট্যাবটি সিলেক্ট করুন।

৪। এবার ড্রপ ডাউন মেনু থেকে Hardware ids সিলেক্ট করুন।

৫। এবার ভেল্যু লিস্ট থেকে সর্বশেষ ভ্যালু ctrl+c চেপে কপি করুন। এবার তা আপনার পছন্দের সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ বক্সে পেষ্ট করে দিয়ে অনুসন্ধান করুন…দেখবেন মুহূর্তের মাঝেই আপনার সামনে আলাদীনের দৈত্যের মতো এসে হাজির হবে আপনার প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ড্রাইভারটি!

লেখাটি 'চিপ' ম্যাগাজিন অবলম্বনে লেখা। কতটুকু কাজ হবে কে জানে। আমি অবশ্য আমার ল্যাপটপের ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডারের ড্রাইভার এভাবে সার্চ দিয়ে খুঁজে পেয়েছি । আপনারাও চেষ্টা করে দেখতে পারেন, আপনাদের পিসির কোন হার্ডওয়্যার ড্রাইভার খুঁজে পান কিনা …

ধন্যবাদ।

---------
লেখাটি আমাদের প্রযুক্তি ফোরাম এবং আমার ব্লগে প্রকাশিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747624 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747624 2007-11-26 10:13:23
পিডিএফ ফাইল তৈরির সফটওয়্যার ডুপিডিএফ (DoPDF)
১.৩৪ মেগাবাইটের মাত্র,

কিন্তু কাজ করে দূর্দান্ত!

এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে টেক্সট, ছবি , ওয়েব পেইজ সহ বিভিন্ন ধরনের ফাইল খুব সহজেই পিডিএফ ফরম্যাটে রূপান্তর করা যায়। আগ্রহীরা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। সফটওয়্যারটি ফ্রি…কোন সিরিয়াল নম্বর/ ক্র্যাক ছাড়াই নিশ্চিন্ত ব্যবহার করুন…আশা করি ভালোই লাগবে <img src=" style="border:0;" />
কোন ফাইল পিডিএফ-এ রূপান্তর করার জন্য প্রিন্ট অপশনে গিয়ে প্রিন্টার সিলেকশনে প্রিন্টারের নাম doPDF নির্বাচন করে ok বাটনে ক্লিক করুন।
বিস্তারিত জানতে এখানে
ক্লিক করুন...
[link|http://dw.com.com/redir?edId=3&siteId=4&oId=3000-2079_4-10648880&ontId=2079&spi=6ee4559f260c2bb7b518237e859efb11&lop=link<ype=dl_dlnow&pid=10746858&mfgId=114262&merId=114262&destUrl=http]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747499 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747499 2007-11-25 15:44:29
টেবিল যখন গণকযন্ত্র !
সারফেস কম্পিউটার হলো মূলত টাচ স্ক্রিন সুবিধাসম্পন্ন একটি কম্পিউটার। ৩০ ইঞ্চি ডিসপ্লে সমৃদ্ধ এই কম্পিউটারের চেহারা অনেকটা টেবিলের মতো। প্রচলিত ডেক্সটপ কম্পিউটারের মতো এই কম্পিউটার ব্যবহারে মাউস, কী-বোর্ডের সাহায্য লাগবে না একেবারেই। এর স্পর্শসংবেদী পর্দায় আঙ্গুল স্পর্শের মাধ্যমেই ব্যবহারকারী প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারবেন। এই পর্দাটি বারকোডও পড়তে পারবে। এছাড়া প্রচলিত টাচস্ক্রিনের সাথে এই টাচস্ক্রিনের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন : প্রচলিত টাচস্ক্রিন একসঙ্গে একটির বেশি স্পর্শ না বুঝতে পারলেও সারফেস কম্পিউটারের টাচস্ক্রিনের এই অনন্য ক্ষমতাটি রয়েছে। এই স্ক্রিনে আপনি দশটি আঙ্গুল স্পর্শ করালে এই মাল্টিটাচ ডিসপ্লে প্রত্যেকটি আঙ্গুলের নির্দেশই আলাদাভাবে বুঝতে পারবে। আর আকৃতিটা টেবিলের মতো হওয়ায় অনেকজন একসাথে ব্যবহারের সুবিধাতো থাকছেই। অক্সোলিকের তৈরি দৃষ্টিনন্দন এই ‘সারফেস’-এর উচ্চতা ২২ ইঞ্চি, গভীরতা ২১ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৪২ ইঞ্চি। এর অভ্যন্তরীন অংশটি পাউডারের প্রলেপ দেয়া স্টিলের তৈরি। এতে বিদ্যুত খরচ হবে ১১০-১২০ ভোল্ট (যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী)।

সারফেসের অপারেটিং সিস্টেম হবে ভিসতা। এর সাথে ম্যাপিংসহ আরও কিছু ডিফল্ট এ্যাপ্লিকেশনও দিয়ে দেবে মাইক্রোসফট যা সারফেস ব্যবহারকারীকে এক ভিন্ন স্বাদ এনে দেবে। চকচকে কালো রঙের সারফেসের বাজারে আসার কথা রয়েছে এ বছরের নভেম্বরে। এর দাম কত হবে তা নিশ্চিতভাবে না বলতে পারলেও মাইক্রোসফট জানিয়েছে মডেল অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সারফেসের দাম পড়বে পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার ইউএস ডলারের মধ্যে। দামটা একটু বেশি হওয়ায় আগ্রহী অনেক ক্রেতাই হতাশ হতে পারেন। তাদের অবশ্য এতটা হতাশ হবার কোনো কারণ নেই। মাইক্রোসফট আশা প্রকাশ করেছে, অদূর ভবিষ্যতে সারফেস সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসবে। তবে এর জন্য আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। প্রাথমিকভাবে যেখানে সারফেসের দেখা পাবেন সেসব স্থানগুলো হলো হ্যারাস এন্টারটেইনমেন্ট, স্টারউড হোটেল এন্ড রিসর্ট, টি-মোবাইল (ইউএসএ)-এর দোকানসমূহে। এসব স্থানে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাজই সহজ করে দেবে সারফেস। যেমন : সারফেসের টাচস্ক্রিনে স্পর্শ করেই ক্রেতারা জানতে পারবেন বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য। এবার একটু পেছনে চোখ ফেরানো যাক। সফটওয়্যার জায়ান্ট হিসেবে খ্যাত মাইক্রোসফট সারফেসের মতো একটি বড়সড় হার্ডওয়্যার তৈরির কাজ শুরু করেছে ২০০১ সালে। এই প্রজেক্টে কাজ করে মাইক্রোসফটের রিসার্স এবং হার্ডওয়্যার বিষয়ক গ্রুপ। প্রায় দীর্ঘ ছয় বছর নিরলস পরিশ্রমের পর এ বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে সারফেস বাজারে আসার ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে এক্সবক্স এবং জুন মিডিয়া প্লেয়ার ছাড়া মাইক্রোসফট বড় ধরনের কোনো হার্ডওয়্যার বাজারে ছাড়েনি। তাই বরাবরের চেয়ে এবার মানুষের আগ্রহ একটু বেশিই। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সারফেসের জন্য। হয়তো অচিরেই প্রচলিত ডেক্সটপ পিসিকে হটিয়ে জায়গা দখল করবে সারফেস। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও হার্ডওয়্যার নির্মাতা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো কিন্তু নড়েচড়ে বসেছে। মনোপলির অভিযোগ মাইক্রোসফটের জন্য নতুন কিছু নয়। অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে যেভাবে এখন বাজার দখল করে আছে মাইক্রোসফট, সে রকম হার্ডওয়্যারের বাজারটিও কি সবশেষে মাইক্রোসফটের দখলেই যাবে ? সময়ই বলে দেবে এর উত্তর।

সারফেস মূলত হোটেল, রেস্তোরা, দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কথা মাথায় রেখেই বানানো। এটিএম বুথগুলো যেমন ব্যাংকিং-এর চেহারা পাল্টে দিয়েছে, তেমনি সারফেসও যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান ছবিটা একদম পাল্টে দেবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আর কী-বোর্ড, মাউস ঝেঁড়ে একদম মেদমুক্ত এই কম্পিউটারটি অদূর ভবিষ্যতে হোম ইউজারদের মাঝেও জনপ্রিয় হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হচ্ছে অনেকদিন ধরেই। ‘সারফেস’ এক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। হয়তো একদিন এই কালো চকচকে টেবিলটাই আমাদের নিয়ে যাবে কম্পিউটিং-এর এক নতুন জগতে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা…

[লেখাটি আমাদের প্রযুক্তি, টেকনোলজি টুডে এবং আমার ব্লগে] প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747047 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28747047 2007-11-22 23:45:02
আর কত ৭১ লাগবে? আজ সকালে ওয়েব সাইটে ক্লিক করেই দেখলাম... স্বাক্ষরের সংখ্যা- ১৯৭১

এভাবে আর কত একাত্তরের জন্ম দিতে হবে কে জানে...
আর কত একাত্তর জন্ম নিলে আমায় শুনতে হবে না এদেশে যুদ্ধাপরাধী নেই?
আর কত একাত্তর জন্ম নিলে আমায় শুনতে হবে না বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসব কোন ফ্যাক্টর না...এই রাজাকার সেই রাজাকা বলে কোন লাভ নেই?
আর কত একাত্তর জন্ম নিলে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশব্দ হিসেবে 'গন্ডোগোল' শব্দ ব্যবহারের সাহস করবে না কোন বেজন্মা জানোয়ার?

অনলাইন পিটিশনঃ

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28745030 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28745030 2007-11-12 20:11:54
কোন পথে আমাদের সংবাদপত্র? ইয়াবা গত কদিনের গণমাধ্যমের গরম সংবাদের একটি। ইয়াবার ভয়ংকর জাল সম্পর্কে সমগ্র দেশবাসীকে সচেতন করার ক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু কদিন ধরেই লক্ষ্য করছি ইয়াবা ইস্যুকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ইয়াবা সুন্দরী নিকিতা (ইয়াবা সুন্দরী বিশেষনটাই গণমাধ্যমগুলো বেশি ব্যবহার করছে)-এর ত্বক। কোন কোন পত্রিকা দেখলাম রূপচর্চার অভাবে নিকিতার ত্বক নষ্ট হবে কিনা সেটা নিয়ে নিউজ ছাপছে। এসব সংবাদ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের পরপরই স্থান পাচ্ছে। কয়েকটি রিপোর্টে আবার কয়েকজন চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞের মতামতও আছে! নিকিতা কোথায় স্কিন পরিবর্তন করলে টাকা একটু কম লাগতো সে সম্পর্কেও তথ্য আছে।

২.
সিধুলাই স্বনির্ভর প্রকল্প টি গত বেশ কিছুদিন ধরে আলোড়ন তুলেছিল। গত কয়েক মাস ধরেই কম্পিউটার জগত এই সংস্থাটির কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছিলো। যাই হোক কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম আলো’ র প্রথম পাতায় এ সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেখলাম। একই দিনে ডেইলি স্টারে ছাপা হলো সিধুলাই সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ!

যাই হোক এরপর এ সম্পর্কে যা শুনলাম তা মোটেও ভালো লাগলো না। যা এখানে বলা উচিত হবে না।
৩.
বিডি নিউজের টেকনোলজি পাতায় নিয়মিত যাই। অপ্রোজনীয় ফ্লাশ এনিমেশন দিয়ে ভরা ওই পাতাটা আসতে সময় লাগে। তবু যাই...। গত সপ্তাহের মেইন বোর্ডে(প্রচ্ছদ) দেখলাম মোস্তফা জব্বারের কলাম...তার বিখ্যাত বিজয় সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট সম্পর্কিত। পাইরেসি আর কপিরাইটের ভঙ্গের বিরুদ্ধ বিডি নিউজের সচেতনতা দেখে মুগ্ধ হলাম। কিন্তু আজ দেখলাম এ সপ্তাহের প্রচ্ছদ রচনা ‘বিনি পয়সার জনপ্রিয় ২০ ডাউনলোড সাইট। এই প্রচ্ছদ রচনায় স্থান পেয়েছে অবৈধ ডাউনলোড লিঙ্ক সম্বলিত কিছু ওয়েব সাইটের (পোলাপাইন, দরিদ্র, মূর্ছনা...) রিভিউ! হায়রে একই অঙ্গে কত রূপ! দেশের একমাত্র অনলাইন দৈনিকের যদি এ অবস্থা হয়...


কিছুদিন ধরে একটি কথা বার বার মনে হচ্ছে । বাজারে কাটতি বাড়ানোর চেষ্টায় সংবাদপত্রগুলোর মাথা যেন আউলা হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কোন কোন ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতাও বজায় থাকছে না কোনক্রমেই। আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলো কোন পথে যাচ্ছে?

[অন্য সাইটে লেখাটি বিপ্রতীপ নামে প্রকাশিত এবং বিপ্রতীপ এবং বিপ্র একই ব্যাক্তি]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28743995 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28743995 2007-11-09 17:29:27
১০০ ডলারের ল্যাপটপের বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলো http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28743812 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28743812 2007-11-08 21:13:35 নতুন আমি ... অনেকদিন আগের একাউন্ট ,তাছাড়া ই-মেইল অ্যাড্রেসও পরিবর্তন করেছি। তাই নতুন একাউন্ট।
অনলাইনে বিভিন্ন জায়গায় বিপ্রতীপ নামে লিখি..এখানে এই নিক্টি নিতে গিয়ে দেখলাম ডোমেইন পার্কিংয়ের মতো পার্ক করা হয়েছে।এখানে নিয়মিত না লিখলেও সবার লেখা পড়বো।
সবাই ভালো থাকুন ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28742246 http://www.somewhereinblog.net/blog/bipro02blog/28742246 2007-11-03 09:53:36