নীরবে নির্জনে আমি কেঁদে চলেছি। তোমার হাসি মুখ আবারও দর্শনের লাগি

রিপোস্ট: বাংলাদেশে কারো কল্লা জিরাফের সমান উচু নয়, ইতিহাস বদলে দেয়ার ক্ষমতাও কারও নেই, অতএব মধ্য ডিসেম্বরে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখার শঙ্কা

৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:১০

শেয়ার করুন:                   Facebook

বেটারা পেয়েছে কী?
চাপা পিটায়া সব তক্তা বানাচ্ছে।
হাওয়াই মিঠাই খেয়ে মিষ্টিমিষ্টি বয়ান ছাড়তেছে।
গোয়ার্তুমি করে ওরা নাকি ইতিহাসের গতিমুখ বদলে দেবে।
অতীতের লড়াই-সংগ্রামের সব অভিজ্ঞতা নাকচ করে দেবে।
সাংবাদিক(কার্যত হাম্বাদিক) দেখলেই কল্লা উচায়া সব শালা কথার খই ফুটায়। মানুষের বাচ্চা বলে কাউরে জ্ঞান হয় না। কল্লা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। জিরাফের সাথে পাল্লা দেয়ার আহাম্মকি হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে আগামী ১৮ ডিসেম্বরে নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে ওরা চলে যাবে।
বাহ! কী সুন্দর কথা ও প্রস্থান পরিকল্পনা।
এত্তো ফালতু মিথ্যা কথা আর কী হতে পারে!
যে ঘোড়ারা দাড়ায়া ঘুমায় তারাও তো বিশ্বাস করে না।
অথচ শোয়া-বসা অন্দর-বাইরের রাজনীতিবিদরা বিশ্বাস করে বসে আছে।

এমন অবৈধ দখলদারির অবসান পৃথিবীতে এভাবেই হয়নি, হতে পারে না। হতে দেয়া হয় না। বিশেষ করে পূর্ব বঙ্গে এমন নজির কোন কালেই ছিলনা। তাই এ আশা বাতুলতা মাত্র। ইয়াহিয়া খানের মতো মানুষের '৭০ জুরে কুচকাওয়াজ করলেও শেষে কিন্তু মানচিত্র অর্ধেক খুইয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেছে। জিয়া নিহত হয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেছে। এরশাদ শত শত ছাত্র, তরুণ, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের রক্তে হাত লাল করে তবেই কিনা ক্ষমতার মসনদ থেকে ভেগেছে। এখন?

আজ ডাকসু সংগ্রহ শালার গোপালদার সাথে দেখা হলো। তিনি বললেন কী হতে যাচ্ছে। নির্বাচন তো হয়ে যাবে। দাদার সাথে আলাপের এক পর্যায়ে মেজাজ খারাপ হতে একথাগুলো বলে দিলা। তিনি দাবি করলেন সবাইতো নির্বাচনের মাধ্যমে একটা দফা করার কথা বলতেছে।
দাদাকে বলতে বাধ্য হলাম যারা এ ধরণের মিথ্যা কথা বলছে তাদের বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগ দুইটা তুইল্যা দিতে। আর না হলে দেখেন দুইটা বিভাগের সেমিনার যেসব বইয়ে ঠাসা ওইগুলানের মধ্যে কী আছে? ওদের বলেন বইগুলান জ্বালায়া দিতে। মাস্টার আর ছাত্রদের গুলি কইরা মারতে। ওরা যেই ইতিহাস পড়তেছে, ওইখানে তো বলাই আছে রক্তপাত ছাড়া এসব শেষ হয় না। হবেও না। তয় কেমনে আপনারা ওদের কথায় কান দেন?
দাদা আমাকে বললেন ঘটনাটা কী। আমি অনেক দিন পর আমার কালো ব্যাগটা হাতে নিছি। তারে বল্লাম নভেম্বর মাসে বেশ কয়েকটা ইনকোর্স, টিউটোরিয়াল আছে। ডিসেম্বরের ৪ তারিখ ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবো। ১৪ তারিখ ফিরবো। এরপর খেলা দেখবো। দেখা যাক কেমন খেলা হয়?
গোপালদা রহস্য ভেদে খুব তৎপর হলেন। একটা বেনসন ঘুষও দিলেন। ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে দিল খুলে তাকে বললাম।
শোনেন মিঞা বেশি সন্দেহ বাতিকে ভুগনের দরকার নাই। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার চান্স আছে। তয় মনে রাখেন এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় পাবে না। চারদল ক্ষমতায় আসবে। আঁতাত কিম্বা প্রস্তুতি ভেতরে ভেতরে চারদলের অবস্থাটাই ভালো। তাদের রেখে যাওয়া প্রশাসনিক ও সামরিক সেটআপ এক্টিভ হয়ে গেছে। সরকার মুলা দেখায়া আওয়ামী লীগের কিছু আহাম্মককে দিয়ে শুধু শুধু ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পক্ষে সাফাই গাওয়াচ্ছে। যাতে পরবর্তীতে তাদের আপত্তি করার জায়গাটা না থাকে। সরকারের একটা পক্ষ যতোই গোপণে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দেয়ার কথা বলুক না কেন তাতে কিছু যায় আসে না। তারা ক্ষমতা পাবে না। কারণ নির্বাচনটা যদি জরুরি অবস্থার মধ্যে হয়, তাতে যে হস্তক্ষেপটা শেষ পর্যন্ত থেকে যায় তাতে কিন্তু আখেরে লাভ চারদলেরই। কারণ যাদের হাত পা দিয়ে হস্তক্ষেপ হবে তাদের নাম-পরিচয় ও মগজ-মাথা কিন্তু চারদলেরই। তারা আর যাই হোক সুযোগ পেলে ভুল করবে না। জায়গা মতো বসায়া দিবে।
আরেকটা বিষয় হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারে ও প্রচারণায় আওয়ামী লীগের গা কম বাঁচবে। হাতে বেশি ইস্যু চারদলেরই। তারা অনেক বেশি গুছানো ও ডেডিকেটেড। তারা ১/১১ ও দেশরক্ষা-ধর্মরক্ষার আক্রমণে আওয়ামী লীগের ভোট নষ্ট করতে সক্ষম হবে।
ফলে নির্বাচন যেভাবেই হোক না কেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে না। আর ক্ষমতায় না আসলে এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা মানবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করে না। ফলে ১৮ তারিখের পর পরই আবারও কিছু রক্তারক্তি হবে। এই রক্তারক্তিকে বিশেষ মহল রাবারের মতো টেনে বড় করে ফেলবে। নিশ্চিত। তারপর কিছু একটা হবেই। যা কিছু করতেই ইদানিং গাজিপুরের বনে, কিম্বা ঢাকার রেস্টুরেন্টে গোপণ বৈঠক হোক না কেন উর্দি শাসনই শেষ পর্যন্ত অপরিহার্য হিসেবে চেপে বসবে। দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে দেশের মধ্যবিত্ত নাগরিকরা ও সাংবাদিকরা এই শাসনকে সমর্থন যোগাবে প্রথম ধাক্কাতেই।
গোপাল আমার কথা কী বুঝলেন কে জানে। জিজ্ঞেস করলেন যদি নির্বাচন না হয়? জবাবে বললাম নির্বাচন যদি তফসিল ঘোষণার পরে না হওয়ার চান্স থাকে তাহলে কঠিন করে জবাব দিতে হবে। তফসিল ঘোষণার পরে নির্বাচন বন্ধ করতে হলে আমা-জনতার লাশ পরলে কিচ্ছু যাবে আসবে না। বড় কোন মাল সাবাড় করতে হবে। সে ক্ষেত্রে খালেদা-হাসিনার যে কেউ হয়তো মিসিং হয়ে যাবে। মিসিং বলতে দুনিয়াতে তাদের খোঁজ নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে পরপারে তারা রাজনৈতিক শহীদের বিশেষ মর্যাদায় নাম-সাকিন নিয়াই থাকবেন। গোপালদা আমার কথায় খুব অবাক হলেন।
আমি তাকে বললাম দাদা আপনি যদি মনে করেন আমি কোন তথ্য দিচ্ছি তাহলে ভুল করবেন। আমি শুধু পরিস্থিতির গন্ধ শুকে আমার আন্দাজটা বলছি। তাকে বললাম, যদি বড় গেইম খেলতে হয় তাহলে নির্বাচন নামক প্রতিশ্রুতি ওল্টায়া দিতে হলে এত্তোবড় অঘটনতো ঘটাতে হবেই। দাদাকে বললাম কারও যদি বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হয় তাতে কিন্তু তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। বরং অনিশ্চিত জীবনটাই প্রকাশ হয়ে যায়। দেশে এখন এমন কোন বিপদ নেই যাতে খালেদ- হাসিনাকে বিশেষ নিরাপত্তা নিতে হবে। হ্যা তাদের বিপদটা আশেপাশে ও বিশেষ মহলের তরফেই। অন্যদের এমন কিছু করার ক্ষমতা বা সযোগ আছে বললে তা বিশ্বাসযোগ্য হবে না।
দাদাকে আমি সর্বশেষ বললাম, কেউ বিশ্বাস করুক না করুক বাংলাদেশে ১/১১ এ যে সামরিক-সুশীল-এনজিও এবং সাম্রাজ্যবাদী দূতাবাস সমূহের ক্যু হয়েছে তা বাংলাদেশের সেনা ছাউনির অভিজ্ঞতা থেকে সুখকর হবে না। ঐতিহাসিকতা হচ্ছে পাল্টা ক্যু হতে পারে যে কোন স্তরে। তবে জনগণের লড়াই-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা অবশ্য বলে একটা গণ অভ্যুত্থান অবশ্যাসম্ভী হয়ে পড়ে। অতএব আমি তথ্য আকারে বলতে পারছি না কখন কী হবে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি একটা গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। নির্বাচন হোক না হোক তাতে কিছুই যায় আসে না। নির্বাচনের ফসলের আটি যার মাথায় থাকবেও সেও কিন্তু অভ্যুত্থানের টার্গেটে পরিণত হবে। দেখা যাক, কী হয়। হয়তো শেষ পর্যন্ত অগুণতি আত্মদান আর রক্তের স্রোতধারার ভয়াবহতা দেখতেই হবে।

সময়টা গুরুত্বপূর্ণ ১৮ ডিসেম্বরের রাত সাড়ে ৮টা থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।
(এদিকে আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনলেন। তিনি দাবি করলেন তাদের পদত্যাগ। খালেদা জিয়ার এই দাবি নিশ্চয় রাজনৈতিক বোলচালের অংশ নয়। নির্বাচনী তফসিল ঝুলে যাওয়ার প্রেক্ষিতে তার এ বক্তব্যও সহসা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলবে। এখন দেখা যাক কী ঘটে।)
জয় হরি।

 

 

  • ৪ টি মন্তব্য
  • ৮৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২৮
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: সময়টা গুরুত্বপূর্ণ ডিসেম্বরের রাত সাড়ে ৮টা থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।

এইটা বাংলাদেশের আন্দোলনের মৌসুম। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সকল আন্দোলন এই সময় হওয়া। আটচল্লিশের ১১ মার্চ, বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি, একাত্তরের ১৬ মার্চ, নব্বইয়ের ৬ ডিসেম্বর, ছিয়ানব্বইয়ের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ এর (তাই না?) ৩০ এপ্রিল, ২০০৬ এর ২২ জানুয়ারি, ১১ ফেব্রুয়ারি, সামনের ১৮ ডিসেম্বর। সবই একটা টাইম ফ্রেমে।

দেখা যাক, এই বার কি হয়!! চিন্তার কিছু নাই, এইটাই আমাদের এগিয়ে যাবার পথ। সামনে হয়ত আরো আরো হবে। :|
৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৩৩

লেখক বলেছেন: শুস্ক মওসুম। বৃষ্টি-বাদল থাকে না। মিছিল, সমাবেশ, সমঝোতা, নাটক ও রক্তপাতের জন্য খুব ভালো সময়।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২. ৩১ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২৮
comment by: বিবর্তনবাদী বলেছেন: টাইপিং মিস্টেক ২৬ মার্চ
৩. ১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:০১
comment by: মুসতাইন জহির বলেছেন: তইলে এহন কি করণ যায়....?

 

 


তার হাত ধরে নরকে যেতে চেয়েছি। কিন্তু গোয়ার্তুমিই দু'জনেক দূরে ঠেলেছে।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৯৬১৯