প্রথমে আমি সকল সাংবাদিক ভাই/বোনদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি আশা করব বিষয়টাকে উনারা ভাল দৃষ্টিতে দেখবেন।
গতকাল কাওরান বাজার থেকে ১২ নম্বর বাসে উঠলাম বাসা যাওয়ার জন্য। আমার বাসা যাওয়ার জন্য ১২ নম্বর বাস একমাত্র ভরসা বলতে পারেন। বাংলা মোটর পার হওয়ার পর জামার বুতাম টুতাম খোলা, শার্টের ভাঁজ পড়া এক লোক এসে খুব কান্না কান্না ভাব নিয়ে গাড়ীর পিছনে আসল। দেখে বুঝলাম সে হয়ত মাত্র মারামারি করে এসেছে, নতুবা মার খেয়ে এসেছে। কয়েকজন কৌতহলী লোক কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করল। সে বলল, সে এবং আর দুজন লোক সামনের মহিলাদের জন্য রক্ষিত সিটে বসেছিল। দুজন মহিলা আসাতে তার পাশের লোকটা তাকে বলল আপনি উঠে মহিলাকে বসতে দিন। তখন সেও বলল আপনি উঠেন উনাদের বসতে দিন। লোকটা বলল জানেন আমি কে। লোকটি বলল আপনি যেই হননা আমার জানার দরকার নাই, আমিও উঠছি আপনিও উঠেন। আপনি জানেন আমি একজন সাংবাদিক। সাংবাদিক লোকটি নিজে না উঠে উনাকে শার্টের কলার ধরে উঠিয়ে দিল।
পুরা ঘটনা গাড়ীর পিছনের লোকজন যখন শুনল এবং ঐ মুহুর্তে কয়েকজন মহিলাও দাঁড়িয়ে আছে দেখে বাসের কন্ট্রাক্টরকে বলল ঐ লোকটাকে উঠাও। কিন্তু সাংবাদিক ভাই (যদিও ভাই বলতে আমার লজ্জা করছে) উঠবেই না। লোকজনের চেঁচামেচি-চিৎকার এবং তাকে সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন ধরনের ভাষায় বকাবকি করছে। তারপরও উনি মহিলা সিট ছেড়ে উঠবেন না। শেষ পর্যন্ত গাড়ীর বেশির ভাগ লোক ড্রাইভারকে বলে গাড়ী থামিয়ে তাকে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলল। কিন্তু আমাদের সাংবাদিক ভাইও নাছোড় বান্দা উনি উনার সিট থেকে এক বিন্দুও লড়বেন না। পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে রূপ নিতে বুঝতে পেরে উনি সিট থেকে উঠে ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করল।
এখন আমার জিজ্ঞাসা সাংবাদিকরা কি আইন-কানুনের উর্ধ্বে? তাহলে সন্ত্রাসী আর উনাদের মধ্যে পার্থক্যটা কি?
বিষয়টা দেখে আমি কিন্তু খুবই লজ্জা পাইছি। আমি যতটুকু জানি সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, অনেক কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ তীতিক্ষা করে তারা আমাদের জন্য সংবাদ সংগ্রহ করেন। অনেক অজানা তথ্য আমাদের দিয়ে থাকেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



