আমার প্রিয় পোস্ট

ভালবাসি প্রাণ প্রিয় মা ও জন্মভূমিকে

অবাক আমরা, এ কেমন সাংবাদিকতা!

১৯ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৫৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

ঘটনা এখানে বলছি হয়ত অনেকেই আমার প্রতি নাখোশ হবেন। কিন্তু আমি ভাবছি এ ঘটনাটি শেয়ার না করলে আমি ভুল করব।

প্রথমে আমি সকল সাংবাদিক ভাই/বোনদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি আশা করব বিষয়টাকে উনারা ভাল দৃষ্টিতে দেখবেন।

গতকাল কাওরান বাজার থেকে ১২ নম্বর বাসে উঠলাম বাসা যাওয়ার জন্য। আমার বাসা যাওয়ার জন্য ১২ নম্বর বাস একমাত্র ভরসা বলতে পারেন। বাংলা মোটর পার হওয়ার পর জামার বুতাম টুতাম খোলা, শার্টের ভাঁজ পড়া এক লোক এসে খুব কান্না কান্না ভাব নিয়ে গাড়ীর পিছনে আসল। দেখে বুঝলাম সে হয়ত মাত্র মারামারি করে এসেছে, নতুবা মার খেয়ে এসেছে। কয়েকজন কৌতহলী লোক কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করল। সে বলল, সে এবং আর দুজন লোক সামনের মহিলাদের জন্য রক্ষিত সিটে বসেছিল। দুজন মহিলা আসাতে তার পাশের লোকটা তাকে বলল আপনি উঠে মহিলাকে বসতে দিন। তখন সেও বলল আপনি উঠেন উনাদের বসতে দিন। লোকটা বলল জানেন আমি কে। লোকটি বলল আপনি যেই হননা আমার জানার দরকার নাই, আমিও উঠছি আপনিও উঠেন। আপনি জানেন আমি একজন সাংবাদিক। সাংবাদিক লোকটি নিজে না উঠে উনাকে শার্টের কলার ধরে উঠিয়ে দিল।

পুরা ঘটনা গাড়ীর পিছনের লোকজন যখন শুনল এবং ঐ মুহুর্তে কয়েকজন মহিলাও দাঁড়িয়ে আছে দেখে বাসের কন্ট্রাক্টরকে বলল ঐ লোকটাকে উঠাও। কিন্তু সাংবাদিক ভাই (যদিও ভাই বলতে আমার লজ্জা করছে) উঠবেই না। লোকজনের চেঁচামেচি-চিৎকার এবং তাকে সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন ধরনের ভাষায় বকাবকি করছে। তারপরও উনি মহিলা সিট ছেড়ে উঠবেন না। শেষ পর্যন্ত গাড়ীর বেশির ভাগ লোক ড্রাইভারকে বলে গাড়ী থামিয়ে তাকে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলল। কিন্তু আমাদের সাংবাদিক ভাইও নাছোড় বান্দা উনি উনার সিট থেকে এক বিন্দুও লড়বেন না। পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে রূপ নিতে বুঝতে পেরে উনি সিট থেকে উঠে ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করল।

এখন আমার জিজ্ঞাসা সাংবাদিকরা কি আইন-কানুনের উর্ধ্বে? তাহলে সন্ত্রাসী আর উনাদের মধ্যে পার্থক্যটা কি?

বিষয়টা দেখে আমি কিন্তু খুবই লজ্জা পাইছি। আমি যতটুকু জানি সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, অনেক কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ তীতিক্ষা করে তারা আমাদের জন্য সংবাদ সংগ্রহ করেন। অনেক অজানা তথ্য আমাদের দিয়ে থাকেন।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অভিজ্ঞতা  বিভাগে ।

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ২৯৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪
comment by: স্বপ্নচারিণী বলেছেন: এখন আমার জিজ্ঞাসা সাংবাদিকরা কি আইন-কানুনের উর্ধ্বে

মনে হয় উর্ধ্বেই।
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: Perheps

২. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪
comment by: রাফা বলেছেন: ত্যাদর সব পেশায়ই আছে।
১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১১

লেখক বলেছেন: বুঝলাম না, বুঝিয়ে বলবেন কি?

৩. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪
comment by: রাজামশাই বলেছেন:

এক সময় রেগেছিলেন নায়িকা অঞ্জুঘোষ
তার কথা সবই মিথ্যে সাংবাদিকের দোষ
২০ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮

লেখক বলেছেন:

৪. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭
comment by: নিশাচর বলেছেন: ওই শুয়োরের বাচ্চা সাংবাদিকের বাল। ভুল বললাম- কুত্তার বাচ্চা একটা বেশ্যার বাল। চুদানির পোলারে পাইলে ওরে যে হালায় সাংবাদিকের সার্টিফিকেট দিছে তার পুটকির ভিতরে ঢুকাইয়া দিতাম।

ভাই আমার সেন্টিমেন্ট টা খেয়াল করছেন ? সকল ব্লগার আমারে ক্ষমা করবেন।
৫. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭
comment by: রূপান্তর বলেছেন: সবাইকে এক পাল্লায় মাপবেন না ভাই। দেশে দৈনিক পত্রিকা আছে প্রায় ১৫০টি। ৮/১০টি ছাড়া আমরা অধিকাংশ পত্রিকাই চিনিনা। সুতরাং এই ধরণের সাংবাদিক হয়তো নামকাওয়াস্তে সাংবাদিক কোন অখ্যাত পত্রিকার। আইডি কার্ডের অপব্যবহার করে।
১৯ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০০

লেখক বলেছেন:
হ্যাঁ অনেকে বলেছে নিশি রাইত পত্রিকার সাংবাদিক।

৬. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১০
comment by: িদদারুল আলম বাননা বলেছেন:
ভাই এ সাংবাদিক রাই আপনাকে জিরো থেকে হিরো করবে
আবার আপনাকে হিরো থেকে জিরো করতে এদের ১ মিনিট ও লাগবেনা।
৭. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৫
comment by: মেন্টাল বলেছেন: এটি মোটেও ধর্মবিষয়ক পোষ্ট নয়
০৬ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:২৫


(এটি মোটেও ধর্মবিষয়ক কোন পোষ্ট নয়। কোন বিশেষ গোষ্ঠিকে লক্ষ্য করেও এটি 'পোষ্টিত' নয়। কেউ এর অন্য মানে বের করতে চাইলে দায়-দায়িত্ব লেখকের নয়্)

সকালবেলা বাসে উঠেছি রামপুরা টিভি সেন্টার থেকে। দরিদ্র অবস্থা বলে কমদামী বাসেই চড়ার চেষ্টা করি ( বাসের দাম হয়তো অনেক, ভাড়া আরকি তুলনামূলক কম)। চড়েছি তুরাগে। মাঝামাঝি জায়গায় একটা বসার সীটও পেয়ে গেলাম ভাগ্যক্রমে। নামব বাড্ডা নতুনবাজার মোড়ে। বাসের সীট সব ফিলাপ। তিন-চারজন দাঁড়িয়ে আছে সামনের দিকে। মোটামুটি আটটার আগে রামপুরায় অতো ভীড় হয় না। মহিলা সীটে ( ড্রাইভারের পাশে বাম পাশে , যেখানে চারজন বসতে পারে ঠাসাঠাসি করে, অলিখিতভাবে ওগুলোই মহিলা সীট) তিনজন, একটা জায়গা খালি। কিছুদূর গিয়ে রামপুরা ব্রীজের সামনে উঠলেন আরো দুজন। এদের একজন 'হুজুর'। মোটামুটি টিপিক্যাল হুজুরই। দেখেই বোঝা যায়, কোন ছোটখাট মসজিদে ইমামতি করেন বা মুয়াজ্জিন- বেশভূষায় সে রকম। মাথায় টুপি, পাঞ্জাবী গায়ে, রংটা বলতে পারব না- এই রংটার নাম জানি না আমি। নীল নীল স্ট্রাইপের লুঙ্গি, সেটা হাঁটুর কাছাকাছি পর্যন্ত তোলা। তবে হাঁটুর উপর নয়, 'সতর ঢাকা'। মুখে পান বা সুপারি, চিবানোর ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে। তিনি গিয়ে বসলেন ঐ তিন মহিলার পাশে বাসের সামনের কাঁচের কাছে, ৪র্থ মহিলার জন্য আপাতঃ নির্ধারিত স্থানটিতে।
আমি আমার সীটে দুই পা যতটুকু ফাঁক করে বসেছি (আমার পাশে একজন পুরুষই বসা ছিল), 'হুজুর বসেছেন তার দ্বিগুণ ফাঁক করে, আয়েশী ভঙ্গিতেই।
কিছুক্ষণ পর রাস্তা থেকে বাসে উঠলেন আরো কয়েকজন। এর ভেতরে একজন মহিলা, সঙ্গে স্কুল পড়ুয়া বাচ্চা একটি মেয়ে। মেয়েটিকে বসে থাকা এক মহিলা কোলে তুলে নিলেন। মহিলা দাঁড়িয়ে থাকলেন। কিছুদূর গিয়ে দুই মহিলা নেমে গেলে তিনি বসলেন। পাশে বসলেন আরেক 'ভদ্রলোক'। মধ্য বাড্ডা 'নতুন রাস্তা' এসে অনেকে নেমে গেলেন। দুই মহিলা নেমে গিয়ে আরো তিন মহিলা উঠলেন। কিছুক্ষণের জন্য কয়েকটা সীট খালি হলো বাসের। হুজুরের পাশে বসা পুরুষটি উঠে এসে একটি সীটে বসে পড়লেন। জাগতিক ভাবনার ঊর্ধ্বে কোন এক অতি-জাগতিক চিন্তায় নিমগ্নই রইলেন হুজুর ভাবলেশহীন মুখে বসে। সীটগুলোও আবার ভরাট হয়ে গেল উঠে পড়া অন্য যাত্রীদের দ্বারা। আবার মহিলা সীট চারটি তিন মহিলা ও এক 'হুজুর'।
উত্তর বাড্ডা পর্যন্ত আসার পর বাসে ভীড় বেড়ে গেল। অনেকে উঠলো বাসে। বাসে দাঁড়িয়ে থাকা লোকের সংখ্যা বেড়ে গেল। এ অবস্থায় এক মহিলা উঠতে গেলে হেলপার তাকে উঠতে দিল না, 'মহিলা সীট নাই, সীট নাই' বলে দরজা আগলে দাঁড়িয়ে রইল। মহিলা দাঁড়িয়েই যাবেন বলে উঠতে চাইলেন। কিন্তু হেলপার তাকে উঠতে দিলো না। বাস টেনে চলল ড্রাইভার। এক যাত্রী খেপে গেলেন, ' আরে মিয়া অফিস টাইমে এই ভাবে উঠতে না কর কেন? উনি তো দাঁড়াইয়াই যাইতে চাইছেন। অফিস টাইম বুঝ না'। হেলপারের সাথে দু-এক কথার বচসাও হলো।
একজন পিছন থেকে অনুচ্চ স্বরে বললেন, 'কে বলছে মহিলা সীট খালি নাই? এত লোক দাঁড়ায়ে আছে, 'উনি' দাঁড়াইতে পারে না? 'উনি' দাঁড়ালেই তো মহিলাটা বসতে পারতো। তবে , ঐ যাত্রীর কন্ঠে এতটা জোর ছিল না, যা বাসের সামনের অংশে বসা আলোচ্য 'উনি'র কানে পৌঁছায়। তবে পূর্বেকার মতোই জাগতিক চিন্তা-ভাবনার উর্ধ্বে।
বাড্ডা নতুনবাজারে গেটের ভীড় ঠেলে আমি নেমে পড়লাম। 'উনি' কতদূর যাবেন কে জানে?
......................................................................
এটি একটি ঘটনা মাত্র। আজ বাস দিয়ে আসার পথে দেখা ঘটনা। এর নৈর্ব্যক্তিক একটা বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করলাম মাত্র। বর্ণনারীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে , ঘটনা নিয়ে আলোচনা করার কিছু নাই।



Click This Link
১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৩

লেখক বলেছেন: এটাও একটা অপরাধ, বিশাল অপরাধ আমি স্বীকার করে নিচ্ছি।

আজকাল মহিলারা পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে দাঁড়িয়েও বাসে যাতায়াত করছেন।

কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কাজটা করাকে আপনি কি বলবেন? উনি নিজে সিট থেকে না উঠে অন্য লোককে উঠতে বলছে। এমনকি উনিতো অসুস্থও নন।

৮. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২৯
comment by: মেন্টাল বলেছেন: এই বলগের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক বিদেশ গিয়া এই কাম করার চেষ্টা করছে। বিশেষ কারণে তার নাম প্রকাশ হইতে বিরত থাকলাম।
১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০

লেখক বলেছেন: কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

৯. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
comment by: ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:

হায়রে সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা হলেও তা এখন মহান পেশা ছাড়িয়ে অপসাংবাদিকতায় দাঁড়িয়েছে।
১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ ভাইজান

১০. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৭
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

এইসব সাংবাদিকগো লাইগা ধিক্কার ।
১১. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:৩৭
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: তাইনি, ঐডারে ডলা দেওনের কাম
১২. ২০ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:২৩
comment by: মীতু বলেছেন: এইতো গেলো ২জন ব্যক্তি- ১ম জন সাংবাদিক রুপধারী ২য় জন হুজুর রুপধারী। আমাদের এই সমাজে এরকম বা এর চেয়েও আরও জঘন্য মানুষ আছে। বলে শেষ করা যাবে না। এরকম জঘন্য সব্বাই কে একসাথে ধিক্কার জানাই।
২৪ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৪৭

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ মিতু আপু আমি আপনার সাথে এক মত।

আমিও জঘন্য পশুগুলোকে ধিক্কার জানাই।

১৩. ২২ শে মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৮
comment by: শফিকুল বলেছেন: মীতু বলেছেন: এইতো গেলো ২জন ব্যক্তি- ১ম জন সাংবাদিক রুপধারী ২য় জন হুজুর রুপধারী। আমাদের এই সমাজে এরকম বা এর চেয়েও আরও জঘন্য মানুষ আছে। বলে শেষ করা যাবে না। এরকম জঘন্য সব্বাই কে একসাথে ধিক্কার জানাই।

আমার প্রথম পেন ফ্রেন্ডের নাম মিতু।
মিতু আপনার সাথে আমি একমত।
১৪. ২২ শে মে, ২০০৮ রাত ৮:১২
comment by: মেহেরুল হাসান সুজন বলেছেন: সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনেকেই অনেক কিছুর সুবিধা নিতে চায়। আমি জানিনা এই পোস্টে আলোচ্য সাংবাদিক ভূয়া কিনা। তবে যদি প্রকৃত সাংবাদিক হয়ে থাকেন তাহলে এমনটি করার কথা নয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো-
সব সাংবাদিকই চোর নয়; কিছু সাংবাদিক চোর।
সব সাংবাদিক সাধু নয়; কিছু সাংবাদিক সাধু।

 

 


ভাবনা অনেক, কিন্তু জমানো ভাবনাগুলো প্রকাশ করা অনেক কঠিন।

কোন অভিযোগ, পরামর্শ থাকলে-

bipul_roni@yahoo.com

bipul76@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩৪৮০৭