পাখি।।
২৮ শে অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৫:৩১
ঘুমায়ে রয়েছ তুমি ক্লান্ত হয়ে, তাই
আজ এই জোৎস্নায় কাহারে জানাই
আমার এ বিস্ময়-বিস্ময়ের ঠাঁই
নক্ষত্রের থেকে এল ; -তুমি জেগে নাই,
আমার বুকের 'পরে এই এক পাখি,
পাখি? না ফড়িং কীট? পাখি? না জোনাকি?
বাদামি সোনালি নীল রোম তার রোমে রোমে রেখেছে সে ঢাকি,
এমন শীতের রাতে এসেছে একাকী
নিস্তব্ধ ঘাসের থেকে কোন
ধানের ছড়ার থেকে কোথায় কখন,
রেশমের ডিম থেকে এই শিহরন !
জোৎস্নায়- শীতে
কাহারে সে চাহিয়াছে? কত দূর চেয়েছে উড়িতে?
মাঠের নির্জন খড় তারে ব্যাথা দিতে
এসেছিল? কোথায় বেদনা নাই এই পৃথিবীতে !
না- না- তার মুখে সপ্ন সাহসের ভর ;
ব্যাথা সে তো জানে নাই- বিচিত্র এ জীবনের 'পর
করেছে নির্ভর ;
রোম-ঠোঁট- পালকের এই তার মুগ্ধ আড়ম্বর ।
জোৎস্নায়- শীতে
আমার কঠিন হাতে তবু তারে হ'ল যে আসিতে
যেই মৃত্যু দিকে দিকে অবিরল- তোমারে তা দিতে
কেন দ্বিধা? অদৃশ্য কঠিন হাতে আমিও বসেছি পাখি, আমারেও মুষড়ে ফেলিতে
দ্বিধা কেহ করিবে না; জানি আমি, ভুল ক'রে দেবে নাকো ছেড়ে ;
তবু আহা, রাতের শিশিরে ভেজা এ রঙিন তুলোর বলেরে
কোমল আঙুল দিয়ে দেখি আমি চুপে নেড়ে-চেড়ে,
সোনালি উজ্জ্বল চখে কোন এক ভয় যেন ঘেরে
তবু তার ; এই পাখি- এতটুকু- তবু সব শিখেছে যে- এ এক বিস্ময়
সৃষ্টির কীটেরা বুকে এই ব্যাথা ভয় ;
আশা নয়- সাধ নয়- প্রেম স্বপ্ন নয়
চারিদিকে বিচ্ছেদের ঘ্রান লেগে রয় ;
পৃথিবীতে ; এই ক্লেশ ইহাদেরো বুকের ভিতর ;
ইহাদেরো ; অজস্র গভীর রঙ পালকের 'পর
তবে কেন ? কেন এ সোনালি চোখ খুঁজেছিল জোৎস্নার সাগর ?
আবার খুঁজিতে গেল কেন দূর সৃষ্টি চরাচর ।
-পাখি, জীবনানন্দ দাশ
(ধূসর পাণ্ডুলিপি)
রাশেদ বলেছেন:
হ
লেখক বলেছেন: কি ভাইয়া??
লেখক বলেছেন: হুম ![]()
চাঙ্কু বলেছেন:
সুন্দর কবিতা । আগে পড়ি নাই । আফসুস
লেখক বলেছেন: আপনের জন্যেই দিছি ![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
রাশেদ বলেছেন: সরি। আমি বিষাক্ত মানুষ মনে করছিলাম। আমি ও তো! সেই জন্যই শুধু ইমোটিনের মন্তব্য দিছিলাম।
কবিতার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ![]()
মেঘাচ্ছন্ন বলেছেন:
সুন্দর...আমিও আগে পড়িনি ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ,
যাক, আপনে তাইলে 'বিষাক্ত মানুষ' মনে করেন নাই ...![]()
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ ![]()
চিটি (হামিদা আখতার) বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দিদি, আমি আপনার কমেন্ট টা আজ দেখলাম।


















