মে মাসের প্রথম দিকে আমাদের ইউনির এক টিচার এলেক্সান্ড্রিয়া ডেকে বললো -
সামনের সপ্তাহে আমরা ১৪ জনের একটা দল 'স্টেচিনের পাতাল ঘর' দেখতে যাবো । এটা একটা আন-অফিশিয়াল টুর , তুমি কি যাবে ! আমি জানি এটা তোমার সাবজেক্ট না ... তাও তুমি গেলে অনেক খুশি হবো ।
টিচারকে খুশি করার জন্য রাজি হলাম । তবে নিজেরও অল্প অল্প আগ্রহ হচ্ছিল ।
১৩ তারিখ সকালে টিচারের গাড়ি চেপে রওনা দিলাম । গাড়িতে পাঁচ জন যাত্রী এবং কাকতালীয় ভাবে পাঁচজন পাঁচ দেশের । গাড়ি চালাচ্ছে এলেক্স (পোলিশ) তার পাশে তার বয় ফ্রেন্ড এন্টন (অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী) পেছনে গুস্তাভ (ব্রাজিলিয়ান) বিশ্বরূপ (ইন্ডিয়ান) আর আমি ।
পৌছে দেখলাম ৮-১০ জন ছাত্র-ছাত্রী আগের থেকে অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে গেটে । এটার মূল ফটকটি শহরের প্রধান রেল ইস্টেশনের নিচে , ১৪ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ঢুকলাম ভেতরে , প্রথমেই আমাদের মাথায় হেলমেট পড়ায় দেয়া হলো ।
এবার যায়গাটার একটা ছোট ইতিহাস বর্ননা করি :
এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালিন সময়কার শুধু মাত্র সিভিলিয়ানদের জন্য একটা গভীর শেল্টার। জার্মানরা তৈরি করেছিলো এটা , শহরটা আগে জার্মানির দখলে ছিলো তখন নাম ছিলো 'স্টেটিন' । শেল্টারটি ১৯৪১ সালে মিত্র বাহিনীর বিমান আক্রমন থেকে সাধারন নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য তৈরী করা হয় । প্রায় ৫০ ফিট গভীর এই শেল্টারটির দেয়াল ৩ মিটার চওড়া এবং সবচাইতে অবাক করা ব্যাপার হলো এটা ২২ কিলোমিটার লম্বা পুরো পোল্যান্ডে সবচাইতে বড় সিভিল শেল্টার এটা ।
২৪/২৫ বছর বয়সের এক তরুন গাইড হিসেবে আমাদের সাথে নিয়ে ঢুকলো টানেলে । প্রথমেই বাঁয়ে একটা বিরাট হল দেখলাম, সেটা মৃতদেহ রাখার জন্য ব্যবহার করা হতো । এরপর মাঝারি সাইজের অনেকগুলো রুম সামনে পড়লো ... খুব সুন্দর করে প্লান করা , মহিলাদের জন্য আলাদা খোপ , শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এরপাশেই আরেক খোপ , বৃদ্ধদের জন্য আলাদা খোপ , পুরুষদের জন্য আলাদা খোপ । এবং প্রতিটা খোপের সিলিংএ ফসফরাস লাগানো যাতে অন্ধকারেও সমস্যা না হয় ।
বাথরুম গুলোতে দেখলাম এখনো সেই সময়কার বেসিন সাবান তোয়ালে রাখা আছে ।
প্রায় ৫ মিটার চওড়া করিডোরে হাটার সময় দেখলাম পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা মার্ক করা লাইন, যাতে কোন রকম গন্ডগোল ছাড়াই সবাই ঢুকতে এবং বেড়োতে পারে ।
--------- আলসেমিতে না পেলে,,,, চলবে ......
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



