পর্ব ১
পর্ব ২
..................
- তারপর জুলাই মাসের ৫ তারিখে এই শহরটা স্বাধীন হলো । অবশ্য রাশান বাহিনী এরপরেও অনেকদিন ছিলো এখানে ।
ইউনুস চাচা একনাগাড়ে তার যুদ্ধের স্মৃতি বলে যেতে লাগলো ..
আমি ফস করে জিজ্ঞাস করলাম..
- তারপর ক্যমুনিজম শুরু হলো ?
- হুমম .. তারপর ক্যমুনিজম শুরু হলো ।
- আচ্ছা ! আপনার কি মনে হয় ! ক্যমুনিজম সময়টা ভালো ছিলো নাকি এখন ভালো ?
এবার ইউনুস চাচা কাজ থামিয়ে আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন । তারপর ধীরে ধীরে বললেন..
- এটা একটা আপেক্ষিক প্রশ্ন । ভালো খারাপের মানদন্ড স্থির করার মত যোগ্য আমি নই । তবে তখন কিছু অসুবিধা ছিলো যেগুলো এখন নেই । আবার কিছু সুবিধাও ছিলো যেগুলো এখন পাওয়া যায় না ।
- যেমন ?
বৃদ্ধ হাসি হাসি মুখে আমার দিকে চেয়ে বললেন ...
- তখন সবার কাছেই পয়সা ছিলো , কিন্তু দোকানে পণ্য ছিলো না । আগের দিন রাতে রেশনের সামনে গিয়ে লাইন দিতে হতো । সকালে দোকান খুলতো ... লাইনের শেষের দিকে যারা থাকতো তারা ভোদকা আর ভিনেগার ছাড়া দোকানে আর কিছুই পেতো না ।
আর এখন পর্তুগাল থেকে বিয়েদ্রন্কা এসেছে , ইংল্যান্ড থেকে টেসকো, ফ্রান্স থেকে ক্যারিফোর, ইসরায়েল থেকে ন্যাট্টো, স্পেন থেকে রিয়েল, জার্মানী থেকে প্লুস । তারা রঙ বেরঙের পণ্য থরে থরে ঝলমলে শোকেসে সাজিয়ে রেখেছে । সেখানে ব্রাজিলের আম থেকে শুরু করে জাপানী তাবু পাওয়া যাচ্ছে । কিন্তু সবার হাতে টাকা নেই । ঝাকে ঝাকে লোক দামি গাড়ি হাঁকিয়ে গাড়ি বোঝাই করে পণ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছে আর অন্যদিকে অনেক মানুষ সারাদিনে একটা শুকনো রুটি পেটে পরবে কিনা সকালে বলতে পারে না । ব্যাপারটা খুব মজার তাই না ! কিছুই বদলায় না ।
আমি কপালে ভাঁজ ফেলে এই বৃদ্ধের দিকে চেয়ে রইলাম কিছুক্ষন । আর কি জিজ্ঞেস করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না । আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহসও হচ্ছিলো না ।
আমার সিরিয়াস হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বৃদ্ধ একগাল হেসে বললেন ..
- বাছা , একটা সুবিধা তুমি পাচ্ছো সেটা হলপ করে বলতে পারি । এই যে তুমি কাজের ফাকে গুনগুন করে মাঝে মাঝে গান করো । সেটা এখন বলেই পারছো । ক্যমুনিজম সময়ে কাজের মাঝে শিস দিয়ে সুর ভাঁজলেও মাইনে কাটা যেত ।
----------------------------------------------------------------------------------
** এই বৃদ্ধকে জিজ্ঞাস করেছিলাম - আপনি এখনো কাজ করছেন কেন ? আপনার তো এখন নাতিপুতিদের সাথে খেলবার সময় । চাচা হাসিহাসি মুখে বলেছিলো তিনি রিটায়ার্ড নিয়েছিলেন , তিনমাস যেতে না যেতেই উনার নাকি কেমন অস্থির অস্থির লাগতো । পরে আবার এসে জয়েন করেছেন । আমি কথাটা বিশ্বাস করলাম । উনার মত কাজ পাগল লোক শুধু শুধু বসে থাকার কথা না । আমাকে কোন কাজ দেখিয়ে দেবার সময় ৭০ ভাগ কাজ উনিই শেষ করে দেন । লাঞ্চের সময়টাও ভুলে যান সবসময় । আমাকে দু'তিনবার করে মনে করিয়ে দেয়া লাগে ।
ইউনুস চাচার একটা মাত্র ছেলে । সে শিকাগো থাকে । বছরদুয়েক পরপর নাকি কিছুদিনের জন্য বেড়াতে আসে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

