দৈনিক সংগ্রাম
১১ নভেম্বর ১৯৭১/ ২৪ কার্তিক ১৩৭৮
আল-বদর বাহিনীর অভিযান
চট্টগ্রামে ৪০ জন দুষ্কৃতিকারী (মুক্তিযোদ্ধা) গ্রেফতার
চট্টগ্রামের আলবদর বাহিনী গতকাল সন্ধ্যায় চাকতাই এ এক অভিযান চালিয়ে ৪০ জন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করেছে। দেশপ্রেমিক জনগনের কাছ থেকে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানকালে চট্টগ্রামে দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গোপন দলিলপত্রও আল-বদর বাহিনী হস্তগত করে ।
এ অভিযানকালে আল-বদর বাহিনী দুষ্কৃতিকারীদের কাছ থেকে ১টি ষ্টেনগান, ২টি রিভলবার, ৯টি গ্রেনেড, ১টি ইলেক্ট্রিক ভোল্টেজ টেষ্টিং মেশিন, ১টি গুলিভর্তি ষ্টেনগান ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড রিভলবারের গুলি, ৪৭ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৪৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলী ও ৩ হাজার প্রচারপত্র উদ্ধার করে ।
দৈনিক আজাদ
বদর দিবসে বায়তুল মোকাররমে জনসভা
ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের মোকাবেলা করার আহ্বান
বদরের যুদ্ধে যে নৈতিক বল ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হইয়া মুসলমানরা কাফের বাহিনীর উপর ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিল সেই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হইয়া ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের মোকাবেলা করার জন্য এছলামী ছাত্রসংঘ দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাইয়াছেন।
বদর দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার বিকালে বায়তুল মোকাররম প্রাংগনে আয়োজিত এক জনসমাবেশে এই আহ্বান জানানো হয় । এছলামী ছাত্রসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা শহর এছলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি জনাব শামছুল হক। পূর্ব পাকিস্তান এছলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি জনাব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সাধারন সম্পাদক মীর কাশেম আলী এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ।
মোহাম্মদ মুজাহিদ -
জনাব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বলেন যে , পাকিস্তান এছলামী ছাত্রসংঘ পৃথিবীতে হিন্দুস্থানের কোন মানচিত্র স্বীকার করে না। এছলামী ছাত্রসংঘ ও আল-বদর বাহিনীর কাফেলা দিল্লীতে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসংঘের একটি কর্মীও বিশ্রাম গ্রহন করিব না ।
প্রসংগক্রমে মোহাম্মদ মুজাহিদ ঘোষনা করেন যে, এখন হইতে দেশের কোন পাঠাগার, গ্রন্থাগার, পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র বা দোকানে পাকিস্তানের আদর্শ বিরোধী কোন পুস্তক রাখা চলিবে না । কোন স্থান, গ্রন্থাগার ও দোকানে পাকিস্তানের আদর্শ ও সংহতি বিরোধী পুস্তক দেখা গেলে তাহা ভষ্মীভূত করা হইবে ।
ছাত্রনেতা এক সতর্কবাণী উচ্চারন করিয়া বলেন যে, বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু কিছু লোক এখনও পাকিস্তানের আদর্শ বিরোধী কাজি করিতেছে। জনগন তাহাদের সম্পর্কে সম্পূর্ন সচেতন রহিয়াছেন ।
ইহুদীবাদের কবল হইতে বায়তুল মোকাদ্দাসসহ দখলকৃত আরব এলাকা পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য তিনি সমগ্র মোছলেম জাহানের প্রতি আহ্বান জানান।
কাশেম আলী -
মীর কাশেম আলী বক্তৃতা প্রসংগে বলেন যে, ১৪শত বৎসর পূর্বে কাফেররা রছুলুল্লাহর উপর যেভাবে আক্রমন চালাইয়াছিল হিন্দুস্থান ও উহার চররা বর্তমানে পাকিস্তানের উপর সেইভাবে হামলা চালাইতেছে ।
তিনি বলেন যে, আমাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত থাকিতে পূর্ব পাকিস্তানের ৭ কোটি মানুষকে হিন্দুস্থানের গোলামে পরিণত হইতে দিবোনা ।
* হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ভারতীয় চর, দুষ্কৃতিকারী ও রাষ্ট্রদ্রোহী বলে সন্বোধন করতো
* মুজাহিদ বলেন - বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু কিছু লোক এখনও পাকিস্তানের আদর্শ বিরোধী কাজি করিতেছে।
মুজাহিদ কি ১৪ ডিসেম্বর রায়েরবাজারের বধ্যভুমিতে পড়ে থাকা মানুষ গুলোর কথা বলছিলো ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

