দৈনিক সংগ্রাম
১৫ নভেম্বর ১৯৭১ / ২৮ কার্তিক ১৩৭৮
জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য
- গোলাম আযম
উপরোক্ত শিরোনামে গোলাম আযমের একটি বিবৃতি ১৫ নভেম্বর দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত হয় । '৭০ এর ঐতিহাসিক নির্বাচনে পরাজিত গোলাম আযম প্রহসনমূলক উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হওয়ায় কিছু সংখ্যক পাকিস্তানী তাঁবেদার তাকে অভিনন্দিত করলে তার জবাবে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।
--------------------------------------------------------------------------
কৃষক শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ এস এম সোলায়মান করাচিতে এই দিনে উল্লেখ করেন -
"রাজাকাররা অত্যন্ত প্রশংসামূলক কাজ করছে এবং তাদের কে জাতীয় বীর বলা উচিত"
--------------------------------------------------------------------------
দুষ্কৃতিকারীদের চক্রান্ত বানচাল করার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা প্রহনের আহ্বান
গতকাল সোমবার ঢাকা জামিয়তে মজলিসে শুরার উদ্বোধনী অধিবেশনে গৃহীত এক প্রস্তাবে প্রাদেশিক রাজধানী ও প্রাদেশের অন্যান্য স্থানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয় যে, মজলিসের সুচিন্তিত অভিমত এই যে, সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারীদের হীন চক্রান্ত বানচালের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন প্রয়োজন।
ঢাকা জামায়তে ইসলামীর প্রধান অধ্যাপক গোরাম সারওয়ার বলেন যে, দেশ ও জাতি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ঢাকা জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত মজলিসে শুরার উদ্বোধনী অধিবেশনে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনাকালে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন ।
তিনি তার বক্তৃতায় শুরার সদস্যদেরকে পরিস্থিতির অনুধাবন এবং অবস্থা অনুসারে নীতি নির্ধারনের আবেদন জানান বলে এপিপির খবরে বলা হয়েছে।
অধ্যাপক সারওয়ার পূর্ব পাকিস্তানকে দাসত্বের নিগড়েআবদ্ধ করার ভারতীয় হীন চক্রান্তকে সংঘবদ্ধবাবে প্রতিরোধের জন্য পাকিস্তানের জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন যে, শত্রুদের সমূচিত শিক্ষাদানের জন্য পূর্ব পাকিস্তানীরা তাদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করবে।
মজলিস সাংগঠনিক কাজের ব্যাপক পর্যালোচনা করে এবং জামায়াতের কাজ সম্প্রসারনের জন্য বাস্তব কর্মসূচী গ্রহন করা হয়।
মজলিসের গৃহীত প্রস্তাবে রেজাকারদেরউন্নততর অস্ত্রশস্ত্র এবং দুষ্কৃতিকারীদের মোকাবেলার উদ্দেশ্যেতাদের কে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দান করে রেজাকারদের সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান হয় ।
প্রস্তবে বিনা উস্কানিতে পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় হামলা পরিচালনার জন্য ব্রাক্ষ্মণ্য সাম্রাজ্যবাদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারন করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয় , সাম্রাজ্যবাদী ভারত এসব উস্কানীমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত না হলে পাকিস্তানের জনগন আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনীর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতী যুদ্ধবাজদের অস্ত্রবলকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে ।
সূত্র : জেনোসাইড বাংলাদেশ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

