somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... (সংগ্রহ)ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ড ,তদন্ত চলাকালেই সাফাই! ‘এমপি শাওনের অতীত খারাপ থাকতে পারে কিন্তু পুলিশ নিশ্চিত, ইব্রাহিম খুনের ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।’ বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগের কর্মী ইব্রাহিম আহমেদ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এভাবে সরকারি দলের সাংসদের পক্ষে সাফাই গাইলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক। গতকাল ডিএমপি সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ সভা চলাকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে ইব্রাহিম খুনের দুই দিন পর তিনি এ বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
পুলিশ কমিশনারের এই সংবাদ সম্মেলনের ১৬ ঘণ্টা আগে বুধবার রাতে কঠোর গোপনীয়তায় গোয়েন্দা পুলিশ সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরীকে (শাওন) গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সাংসদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও অনেক প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি। ইব্রাহিমের পরিবারের পক্ষ থেকে এই জিজ্ঞাসাবাদকে ‘লোক দেখানো’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এএসএম শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এভাবে মন্তব্য না করাই ভালো। অতীতে আমরা বহু রকম তদন্ত দেখেছি। এসব নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। এ কারণে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ না করে কোনো কিছু বলা ঠিক নয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন সাবেক পদস্থ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি খুনের মামলায় না জড়ালেও এ ঘটনায় সাংসদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় অপরাধে সহায়তা করা এবং ২০১ ধারায় অপরাধীকে গোপন করার জন্য অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্য করে দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগ আনা যেতে পারে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন ইব্রাহিম। এরপর সাংসদ নুরুন্নবীসহ অন্যরা তাঁকে প্রথমে সদরঘাটের সুমনা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত আটটার দিকে ইব্রাহিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে সাংসদ ও তাঁর সহযোগীরা লাশ ফেলে পালিয়ে যান। ওই দিন সারা রাত ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরা কেউই জানতে পারেননি ইব্রাহিম কীভাবে, কোথায়, কার হাতে গুলিবিদ্ধ হলেন। স্বজনদের অন্ধকারে রেখেই প্রভাব খাটিয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় গাড়িচালক কামাল হোসেনকে দিয়ে রাতেই অপমৃত্যু মামলা করান নুরুন্নবী। পরে তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করে। এর আগে ইব্রাহিমের ভাই মাসুম আহমেদ সাংসদ নুরুন্নবীসহ আটজনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা করেন। গোয়েন্দা পুলিশের করা মামলাটির তদন্ত এখনো চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা ডিএমপি কমিশনারের কাছে জানতে চান, পুলিশ সাংসদ নুরুন্নবীকে খুনের মামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে কেন? জবাবে কমিশনার বলেন, ‘আমরা কেন তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করব। একটা অপমৃত্যু মামলা হয়েছে কিন্তু পুলিশ হত্যা মামলার মতোই তদন্ত করেছে। আমরা ক্লিয়ার, এই হত্যাকাণ্ডে নুরুন্নবী জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। যিনি কোনোভাবেই ঘটনায় সম্পৃক্ত নন, তাঁকে আমরা জড়াব কেন। আগে তাঁর অনেক অপকর্মের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে পারে কিন্তু এ ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
প্রশ্ন করা হয়, যদি সাংসদের সম্পৃক্ততাই না থাকে, আর এটা যদি পরিকল্পিত খুন না হয়, তাহলে সাংসদ কেন গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমকে আশপাশের কোনো হাসপাতালে না নিয়ে শহরের এক কোণে সদরঘাট এলাকার সুমনা ক্লিনিকে নিয়ে গেলেন? কেন সাংসদ ও তাঁর সহযোগীরা ইব্রাহিমের লাশ ঢাকা মেডিকেলে ফেলে পালালেন? এসব প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি কমিশনার।
ইব্রাহিম খুনের দুই দিন পর রাজারবাগে এক অনুষ্ঠানে এই মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন কমিশনার। ঘটনার শুরুতেই তিনি কীভাবে এটাকে দুর্ঘটনা বলেছিলেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, মামলার সূত্র ধরেই তিনি এ মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিলেন।
ইব্রাহিমের বাবা-মা-স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন চালকের অপমৃত্যু মামলা নিল পুলিশ? এর জবাবে কমিশনার বলেন, ‘যে কাছাকাছি থাকবে সে মামলা করবে।’ সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে তো একজন খুনি খুন করে থানায় গিয়ে মামলা করতে পারে। কমিশনারের জবাব, ‘যদি খুনিই মামলার বাদী হয়, তবে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’ সাংবাদিকেরা জানতে চান, তাহলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন ভুয়া মামলার সূত্র ধরে মন্তব্য করলেন? এ প্রশ্নেরও কোনো জবাব দেননি কমিশনার।
ইব্রাহিম খুনের পর পুলিশের তৎপরতা বর্ণনা করে কমিশনার বলেন, ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে নুরুন্নবীর অস্ত্র, গাড়ি জব্দ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। গাড়ির ভেতরে রক্তের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে কিন্তু তাতে নুরুন্নবীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কমিশনার জানান, ১৩ আগস্ট ঘটনার পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, আলামত জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন, মতিঝিলের উপকমিশনারকে ইব্রাহিমের বাসায় পাঠিয়েছেন। অথচ ১৩ আগস্ট সারা রাত ইব্রাহিমের পরিবারের কেউ জানতই না, কীভাবে ইব্রাহিম গুলিবিদ্ধ হলেন, কে কোথায় তাঁকে গুলি করল।
গাড়ি তাঁর, অস্ত্রও তাঁর তবুও নুরুন্নবীকে সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে কেন? এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘আমি পুলিশ কমিশনার হয়েই ওসিদের নির্দেশ দিয়েছি সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। গাড়ি আর অস্ত্র নুরুন্নবীর হতে পারে কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গাড়ি-অস্ত্র তাঁর হলেই তো প্রমাণ হয়ে যায় না যে তিনি খুনটা করেছেন। কেউ যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার করেন, তাহলে সেটা অপরাধ হতে পারে। কেউ অস্ত্র ভাড়া দিলে, অস্ত্র দিয়ে কাউকে ভয় দেখালে সেটা অপরাধ হতে পারে।’ সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে বিনা তথ্যপ্রমাণে শুধু সন্দেহের বশে পুলিশ কর্মকর্তা গৌতম হত্যা মামলায় কেন দুই জোড়া হায়দার-জাকিরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলো। কিছুটা বিব্রত হয়ে কমিশনারের উত্তর, ‘পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন, কাউকে গ্রেপ্তার করে রাখলে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে, তাহলে তিনি সেটা করতেই পারেন। এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যদি এ রকম ঘটনা ঘটত, তাহলে পুলিশ কী করত? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনারের পাল্টা প্রশ্ন, ‘আন্দাজে বললে তো আর হবে না। আপনারা এমন একটা উদাহরণ দেখান যে ঘটনার পর সন্দেহের বশে বৈধ অস্ত্রের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’ এ সময় সাংবাদিকেরা জানান, ওয়ার্ড কমিশনার মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বাসায় লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল, তার পরও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কমিশনার বলেন, তখন ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল।
ইব্রাহিম খুনের পরপরই সাংসদ নুরুন্নবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না কেন? এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে নুরুন্নবীর সঙ্গে পুলিশের অনবরত কথা হয়েছে। সাংসদই ফোন করে পুলিশকে ঘটনা জানিয়েছেন।’ তাহলে নুরুন্নবী গণমাধ্যমকে পুরোপুরি এড়িয়ে গেলেন কেন? কমিশনার বলেন, ‘এটা আপনারা তাঁকেই জিজ্ঞেস করুন।’ এ সময় কমিশনার শহীদুল হক একজন উপকমিশনারকে বলেন, ‘এমপিকে বলে দিন তিনি যেন তাঁর জিজ্ঞাসাবাদের সব কথা গণমাধ্যমকে বলেন।’
সাংবাদিকেরা বলেন, সাংসদের গাড়িচালক কামালের করা অপমৃত্যু মামলা তো মিথ্যা মামলা ছিল এবং কামাল তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, সাংসদের নির্দেশে তিনি এই মামলা করেছেন। তাহলে মিথ্যা মামলার নির্দেশদাতা হিসেবে সাংসদকে কেন অভিযুক্ত করা যাবে না? এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘সাংসদকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কামাল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সাংসদ মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।’
সাংসদের পিস্তল থেকে আঙুলের ছাপ কারা মুছে দিল? কমিশনার বলেন, ‘পিস্তলটি নিয়ে টানাহেঁচড়া হয়েছে, এ কারণে ছাপ না-ও থাকতে পারে। তবে ছাপ মোছা হয়নি। গুলির ঘটনার পর সাংসদ গাড়িতে আসার আগেই চালক কামাল পিস্তলটি গাড়ির সিটের পেছনের পকেটে যে অবস্থায় ছিল, সেভাবে রেখে দেন। ফলে সাংসদ কিছু বোঝেননি।’
নুরুন্নবী সংসদে কেন অস্ত্র নিয়ে গেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘সংসদ ভবনে তো কেউ অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারেন না। সাংসদও পারেন না। অস্ত্র গাড়িতেই রেখে যেতে হয়।’
পুলিশ কমিশনার পাল্টা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক ও ইব্রাহিমের স্ত্রীর পুলিশের প্রতি আস্থা নেই। এ কারণে এ রকম ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। কমিশনার শহীদুল হক বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) যদি কোনো প্রি-আইডিয়া (পূর্বধারণা) নিয়ে থাকেন, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই।’
সাংবাদিকেরা জানতে চান, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় জজ মিয়ার মতো নুরুন্নবীর গাড়িচালক কামাল হোসেন ঘটনার শিকার হচ্ছেন কি না? কমিশনার বলেন, ‘জজ মিয়ার সঙ্গে তুলনা করাটা নেহাত আপনাদের ব্যক্তিগত ধারণা। একজন এমপি মার্ডার করে পার পেয়ে যাবেন, সেই ধরনের চাকরি আমরা করি না।’


নিজস্ব প্রতিবেদক,প্রথম আলো]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29241084 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29241084 2010-09-17 19:27:01
ট্রানজিট : ঋণের জন্য কঠিন শর্ত ভারতের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান ভারতের এসব শর্তের সমালোচনা করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রানজিট বা যেকোনো কারণেই হোক, প্রকল্পগুলোর সুবিধা যদি ভারতের পক্ষে যায়, তবে বিনাশর্তে তাদের অনুদানেই তা বাস্তবায়ন করা উচিত। আর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া দাম বেশি হলেও তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনার শর্তটি অত্যন্ত অন্যায্য। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর সুবিধা যেহেতু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের অনুকূলে, তাই ঋণের কোনো সুদই থাকা উচিত নয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে ভারতের শর্ত সম্পর্কে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আপত্তিকে তাদের মতামত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, 'ঋণ চুক্তির আগে খসড়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, সেটাই করছি আমরা।' তবে দেশটি ভারত হওয়ায় বিষয়টি কিছুটা স্পর্শকাতর মনে হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, খসড়া চুক্তিপত্রটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর বেশি কিছু জানানো ঠিক হবে না।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিলি্লতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে কানেকটিভিটির স্বার্থে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রেলপথ এবং সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য এক বিলিয়ন ডলার (প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা) ঋণের যৌথ ইশতেহার সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিশ্রুত ঋণের জন্য ভারত একটি খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠায় চূড়ান্ত করার জন্য।
ভারতের পাঠানো খসড়া চুক্তিপত্রটির বিষয়ে গত ৭ এপ্রিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের চুক্তিপত্রটির নানা অসংগতি ও একপেশে শর্তগুলোর ব্যাপক বিরোধিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ, পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বৈঠকে ঋণ চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করার আগে ভারতের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা এখনো করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
খসড়া চুক্তিপত্রে ভারত যেসব কঠিন শর্ত আরোপ করেছে তা হলো, ঋণের মেয়াদ হবে ১৫ বছর। তবে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এর সঙ্গে দিতে হবে আধা শতাংশ (শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ) হারে কমিটমেন্ট ফি। খসড়া চুক্তিপত্রে বলা হয়, ঋণখেলাপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর ঋণখেলাপি হলে সে ক্ষেত্রে নিয়মিত সুদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ আরো ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। খসড়ায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশ যে ঋণ পাবে, তা দিয়ে যে কেনাকাটা বা পরামর্শক সেবা ক্রয় করা হবে, এর শতভাগই নিতে হবে ভারত থেকে। এ ছাড়া চুক্তিটি ভারতের নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। আর এটি হবে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের এক্সিম ব্যাংক, ইন্ডিয়ার মধ্যে।
ভারতের এসব শর্ত আরোপের ব্যাপারে গত ৭ এপ্রিলের বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি তুলে ধরে বলা হয়, ভারত যেসব শর্ত আরোপ করেছে, তা দাতা সংস্থা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের শর্তের মতোই। কান্ট্রি টু কান্ট্রির ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট ফি আরোপ করা বাঞ্ছনীয় নয়, অথচ ভারত তা করতে চাচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভারতের কমিটমেন্ট ফি আরোপের শর্তটি বাতিলের সুপারিশ করেছে।
শর্তের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সুদের হার ও কমিটমেন্ট বেশি বলে অভিমত জানিয়েছে। একই সঙ্গে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় নিয়মিত সুদ ছাড়া অতিরিক্ত সুদ আরোপের ব্যাপারেও আপত্তি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ ভারতের কাছ থেকে সব পণ্য ও সেবা ক্রয়ের শর্তটিকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপের সুদ বেশি বলে আপত্তি করেছে তারা।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পক্ষ থেকে আপত্তি প্রকাশ করে বলা হয়, ভারতের কাছ থেকে শতভাগ পণ্য ও সেবা ক্রয় করার শর্তের কারণে এক দিকে কোনো উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা যাবে না; অন্যদিকে যেসব পণ্য বাংলাদেশেও তৈরি হয়, তাও কিনতে হবে ভারত থেকে। এর ফলে শুল্ক ও ভ্যাট পরিশোধ করাসহ নানা কারণে উন্নয়ন ব্যয় বেড়ে যাবে। তা ছাড়া চুক্তিপত্র পরিচালনায় শুধু ভারতীয় আইন গ্রহণযোগ্য হলে কখনো কোনো সমস্যা দেখা দিলে, তা সমাধানের জন্য ভারতে যেতে হবে- এজাতীয় বিষয়গুলো যৌক্তিক নয় বলেও অভিমত দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তিপত্রটি বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে সই হওয়ার প্রস্তাবটিকে অসম বলে মন্তব্য করেছে। ঢাকা মনে করে, চুক্তিটি হবে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে, ভারতের কোনো সংস্থার সঙ্গে নয়। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুল্ক কর ও ভ্যাট পরিশোধ করেই পণ্য ছাড় করতে হবে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, 'বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে যদি এত কঠিন শর্তে ঋণ নিতে হয়, তবে সেই ঋণ কেন নেওয়া? সাত হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা কি সরকারের জন্য অনেক কঠিন কাজ? আমি তা মনে করি না। এই ঋণের বেশ কিছু শর্ত আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। যদি অনুদান হতো, তবে নেওয়া যেত। কিন্তু তারা তো শর্তের ওপর শর্ত আরোপ করছে।'
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোজাফ্ফর আহমদও শর্তগুলোকে শুধু ভারতের পক্ষে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, 'ঐতিহাসিকভাবেই ভারতের ঋণের শর্তগুলো এমন হয়ে থাকে। তাদের স্বার্থটা তারা দেখছে। এখন কথা হচ্ছে, আমরা আমাদের স্বার্থটা ঠিকভাবে দেখছি কি না। যাঁরা বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তি করবেন, তাঁদের উচিত হবে ঋণের শর্তগুলো প্রতিযোগিতামূলক কি না, আমাদের জন্য উপযুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা।'
তবে জানা গেছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চুক্তিপত্রটি চূড়ান্ত করার আগে ভারতের ঋণের সুদের হার আরো কমানো, কমিটমেন্ট ফি কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ বছর থেকে বাড়িয়ে (গ্রেস পিরিয়ড সাত বছর) ২৫ বছর করা, ঋণের ৭০ শতাংশ দিয়ে ভারতের পণ্য ও সেবা ক্রয়, বাকি ৩০ শতাংশ দিয়ে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের ব্যাপারে ভারতকে জানানো হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্র জানায়, বিষয়টি এখনো বাংলাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রেখেছে ।


সূত্র : কালের কন্ঠ ( ০৩.০৫.২০১০)

দেখা যাক কি হয় ! বন্ধুপ্রতিম এই দেশ টার সাথে । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29148211 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29148211 2010-05-04 10:30:22
বঙ্গবন্ধু ‘বনাম’ শহীদ জিয়া ( সংগ্রহ) আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার তরুণ বয়স কেটেছে অসামান্য মানুষদের সাহচার্যে। জাহানারা ইমাম, শাহাদত চৌধুরী, হুমায়ূন আহমেদ, শাহরিয়ার কবির—এমন মানুষরা অপ্রিয় কথা বলতে দ্বিধা করতেন না। তাঁদের কাছ থেকে আর কিছু না হোক, অপ্রিয় কথা বলতে শিখেছি। এখনো যা মনে হয় বলে ফেলি। টিভি টক শোতে এসব দেখে নিশ্চয়ই অনেক মানুষ বিরক্ত হয়। তবে কিছু মানুষ খুশিও হয়।
ঠোঁটকাটা মানুষদের মনের ভেতরটা আরও নির্মম। সে জন্য হয়তো খুব অস্বস্তিকর একটি কথা মনে হয় আজকাল। মনে হয়, মানুষ হিসেবে আমাদের প্রায় সবার মাপ খুব ক্ষুদ্র। আমি সমাজের সুবিধাভোগী মানুষদের কথা বলছি। আমরা সুবিধাভোগী মানুষরা সামষ্টিকভাবে বড় মাপের নই। এ জন্যই হয়তো সত্যিকারের বড় মানুষদের ধরে রাখতে পারিনি আমরা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছি, হত্যা করেছি চারনেতাকে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান, কর্নেল তাহের, খালেদ মোশাররফ সবাইকে। আমাদের মাপের যে জেনারেল, তিনি একসময়ের সামরিক শাসক হলেও জীবিত আছেন, বহাল তবিয়তে আছেন। বারবার নির্বাচিত হচ্ছেন, এবারের নির্বাচনে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় মিত্রও হয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে যা ভয়ংকর, সত্যিকার বড় মানুষদের খুন করেই ক্ষান্ত হই না আমরা। তাদের নানাভাবে কাটাছেঁড়া করি, বারবার তাদের সুনাম, অবদান আর চরিত্রকে হত্যা করি। বিএনপির আমলে এর শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু, এখন হচ্ছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিএনপির আমলে স্বাধীনতার সংগ্রাম নির্মাণ, বিকাশ এবং পরিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর শাসনামলের অন্য সবার সমস্ত দোষ চরম অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয় তাঁর ওপর। তাঁর নাম উপড়ে ফেলা হয়েছে ইতিহাস থেকে, বিভিন্ন স্থাপনা থেকে।
সময় বদলেছে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসেছে। এখন জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে! অথচ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের কাছে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রেষ্ঠ সম্মান বীর-উত্তম খেতাব পেয়েছেন। জিয়ার অবদান শুধু নয়, এই আওয়ামী লীগের আমলে তাঁর মৃতদেহের অস্তিত্ব নিয়ে নিষ্ঠুর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বাজারে এমন গুজবও রয়েছে যে তাঁর মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বা ইচ্ছে রয়েছে সরকারের কোনো কোনো মাথাগরম মহলের!

২.
উন্নত রাষ্ট্রে ঐতিহাসিক মানুষের শ্রদ্ধেয় ইমেজ গড়ে তোলা হয় নিরন্তরভাবে। দ্য গল বা শিরাক ফরাসিদের কাছে, চার্চিল বা উইলসন ব্রিটিশদের কাছে, আইসেনহাওয়ার বা কেনেডি আমেরিকানদের কাছে নিকট অতীতের আইডল রাষ্ট্রনায়ক। সাইমন বলিভার বা চে গুয়েভারা স্বপ্নপুরুষ দক্ষিণ আমেরিকায়, গান্ধী বা নেহরু প্রাতঃস্মরণীয় ভারতীয়দের কাছে। তাঁদের দোষত্রুটি, সীমাবদ্ধতা নিয়ে একাডেমিক গবেষণা হয়, আমেরিকা-ইউরোপে কে সবচেয়ে বড় ছিলেন তা নিয়ে র্যাংকিং পর্যন্ত হয়। কিন্তু তাই বলে জীবিত রাজনীতিবিদেরা তাঁদের নিয়ে কুিসত হানাহানিতে মেতে ওঠেন না। তরুণ প্রজন্ম তাঁদের বিশালত্বের গল্প শুনে বড় হয়, বুক ভরা গর্ব নিয়ে বেড়ে ওঠে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে গড়ে তোলে নিজেকে এবং দেশকে।
আমাদের কোনো মহত্ মানুষ নেই অখণ্ডিতভাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বঙ্গবন্ধু দেবতা, জিয়া দানব। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ঠিক তার উল্টো প্রচারণা চলে রাষ্ট্রীয়ভাবে। পাঁচ বছর পরপর দেবতা আর দানবের আসন বদলায়। কোথাও শ্রদ্ধাময় অথচ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ নেই।
বঙ্গবন্ধু আর শহীদ জিয়া আমাদের ছেড়ে গেছেন কয়েক দশক আগে। বঙ্গবন্ধু জিয়াকে স্নেহ করতেন, জিয়া বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করতেন। বঙ্গবন্ধুর সরকার একটি বাজে শব্দ উচ্চারণ করেনি জিয়া সম্পর্কে। জিয়া ক্ষমতা গ্রহণের পর কোনো দিন কখনো খারাপ মন্তব্য করেননি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে। অথচ তাঁদের উত্তরাধিকারীরা এই দুই নেতাকে নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ির এক নিরন্তর যুদ্ধে মেতে আছে। জিয়ারই স্ত্রী বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর শোকাবহ দিনে ঘটা করে পালন করেন কথিত জন্মদিন। বঙ্গবন্ধুরই কন্যা মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার ভূমিকা নিয়ে মেতে ওঠেন অবিশ্বাস্য রটনায়।
আমরা জি-হুজুরের দল। তাদের সঙ্গে কেউ কণ্ঠ মেলাই অর্থ-ক্ষমতা-পদকের লোভে; কেউ নিজের ক্ষুদ্রতা থেকে, কেউ বাধ্য হয়ে। হাসপাতালের ঝাড়ুদার থেকে উচ্চ আদালতের বিচারক—কেউ পিছিয়ে নেই এই বিভাজনে।

৩.
বঙ্গবন্ধু আর শহীদ জিয়াকে নিয়ে সবচেয়ে বড় বিরোধ স্বাধীনতার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। ২৬ মার্চ এলে এটি প্রকট আকার ধারণ করে। অথচ এই বিরোধও অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয়। ২৬ মার্চের পরিপ্রেক্ষিতকে নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করলে তাই মনে হবে।
২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার জন্মক্ষণ মাত্র। এই জন্মপ্রক্রিয়া নিশ্চিত রূপ পেতে শুরু করে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ছয় দফা ঘোষণার মাধ্যমে। ছয় দফার আন্দোলনকে স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপান্তরে অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ছিল বঙ্গবন্ধুর। ২৫ মার্চ কালোরাত্রিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নির্বিচার গণহত্যা শুরু করার সময়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। কিন্তু একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালিত হয় তাঁরই নামে, যুদ্ধকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন অনুপস্থিত বঙ্গবন্ধুই।
তিনি ছিলেন স্বাধীনতা নামক মহাকাব্যের রচয়িতা। তিনি আনুষ্ঠানিক এবং খুব স্পষ্টভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা যদি না-ও দিয়ে থাকেন, ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের আগে তিনি যা করেছেন তাতেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এবং প্রধানতম নেতা। এই সত্যের সঙ্গে অন্যদের অবদানের কোনো বিরোধ নেই। এই সত্য উচ্চারণের স্বার্থে অন্য কারও অবদান দখল করার বা অন্য কাউকে খাটো করারও কোনো যুক্তি নেই। যুক্তি নেই জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার প্রভাব ও তাৎপর্যকে তাচ্ছিল্য করার।
একাত্তরের ২৭ মার্চ এই ঘোষণা প্রদান করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মরত মেজর। তাঁর ঘোষণাই বাংলাদেশের সকল অঞ্চলের মানুষ শুনেছিল এবং সত্যিকারের যুদ্ধযাত্রার আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করেছিল। মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান ও বর্তমান সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের ভাষায়, ‘আমি নিজে জানি, যুদ্ধের সময় জানি, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও জানি যে, মেজর জিয়ার এ ঘোষণাটি পড়ার ফলে সারা দেশের ভেতরে এবং সীমান্তে যত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এবং সাধারণ মানুষের মনে সাংঘাতিক একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করল যে, হ্যাঁ, এবার বাংলাদেশ একটা যুদ্ধে নামল।’ (তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন, প্রথমা প্রকাশনী)
জিয়াউর রহমান না জেনে-বুঝে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেননি। সামরিক অফিসার হিসেবে তাঁর জানার কথা ছিল যে স্বাধীনতা-সংগ্রাম ব্যর্থ হলে তাঁর অবধারিত পরিণতি হতো ফাঁসিকাষ্ঠে মৃত্যু। তবু দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেছিলেন। কিন্তু এটিও মনে রাখতে হবে যে, তিনি তা করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে, এই প্রেরণাও তিনি অবশ্যই পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর রচিত স্বাধিকার ও স্বাধীনতা-সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিত থেকে। মরহুম তাজউদ্দীন আহমদ এবং অন্যরা মুজিবনগর সরকার পরিচালনা করেছিলেন একই পরিপ্রেক্ষিত থেকে।
বঙ্গবন্ধুই ছিলেন সকল প্রেরণার উৎস, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি। তাই বলে এই স্থপতির নির্দেশ, চেতনা, রূপকল্পকে যাঁরা চরম ঝুঁকি নিয়ে একাত্তরের নয় মাসে বিভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করেছেন, তাঁদের খাটো করার কোনো অবকাশ নেই, এর কোনো প্রয়োজনও নেই।
জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করা হয় আজকাল। কিন্তু এর পক্ষে কোনো রকম অকাট্য প্রমাণ নেই। জিয়া যদি আগে থেকে এ ব্যাপারে কিছু জেনেও থাকেন, সেটুকু জানার সম্ভাবনা আরও বেশি তখনকার সামরিক, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানদের এবং অবশ্যই আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতার। বঙ্গবন্ধু হত্যার সুবিধাভোগীও তিনি ঘটনাচক্রে এবং কিছুটা সৌভাগ্যক্রমে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড জিয়াকে রাষ্ট্রপতি বানানোর চিন্তা থেকে অন্তত সংঘটিত হয়নি। ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বরের পর কর্নেল তাহের তাঁকে রক্ষা না করলে তিনি পরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বা রাষ্ট্রপতিও হতে পারতেন না।
বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ভক্ত হয়েও তাই জিয়াকে সম্মান করা অসম্ভব নয়। স্বাধীনতা-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অতুলনীয় ও অবিনশ্বর নেতৃত্বের কথা বলতে গিয়ে জিয়া বা অন্য কারও অবদান কেড়ে নেওয়ার বা তাঁকে ধামাচাপা দেওয়ারও আবশ্যকতা নেই। তাঁদের অবদানভিত্তিক বিতর্কে পুরো জাতিকে নিয়োজিত করার প্রচেষ্টারও কোনো ন্যায়সংগত যুক্তি নেই।

৪.
ঐতিহাসিক নেতাদের অবদানকেন্দ্রিক উত্তপ্ত বিরোধ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অনাবশ্যক। এই বিরোধ বরং বর্তমান নেতাদের সীমাবদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে। বর্তমান নেতারা হয়তো সত্যিই নিজেদের উজ্জ্বলতা নিয়ে নিজেরাই আত্মবিশ্বাসী নন। এ কারণে একজনকে দেবতা বানিয়ে সেই আলোয় আলোকিত থাকতে চান তাঁরা, অন্যজনকে দানব বানিয়ে তার অন্ধকারে ঢেকে দিতে চান প্রতিপক্ষকে।
অথচ সাধারণ মানুষ হাসিনা-খালেদাকে পছন্দ-অপছন্দ করে মূলত তাঁদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে। খালেদা জিয়ার আগের আমলে দুর্নীতি আর বিদ্যুৎসংকটে অতিষ্ঠ মানুষ তিনি জিয়ার স্ত্রী ছিলেন বলে হাসিমুখে মেনে নেয়নি। হাসিনার বর্তমান আমলে ভেঙে পড়ছে আইন-শৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য আর জ্বালানিসংকট বাড়ছে অসহনীয়ভাবে। তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলে কোনো মানুষ নিহত হতে বা অর্ধাহারে থাকতে রাজি নয়, রাজি হওয়ার কথা নয়।
নেতারা ইতিহাসে বেঁচে থাকেন তাঁর নিজস্ব কীর্তিতে। আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত ও নির্মোহ হওয়ার কথা পরের প্রজন্মগুলোর। হাসিনার শাসনকাল মূল্যায়ন করার সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা ছিলেন এ জন্য তাঁর ব্যর্থতা ক্ষমা করে দেবে না তারা। শহীদ জিয়ার পত্নী বলে খালেদার ব্যর্থতাও ইতিহাসে লুকিয়ে রাখা হবে না। হাসিনা কীভাবে জিয়াকে মূল্যায়ন করেন বা খালেদা কীভাবে মুজিবকে দেখেন সেটি জেনে পরের প্রজন্ম দুই নেতাকে শ্রদ্ধা বা অশ্রদ্ধা করার সিদ্ধান্ত নেবেন না। দুই নেত্রী নিশ্চয়ই জানেন তা। জানেন কি?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29139138 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29139138 2010-04-21 13:47:38
রোড টু স্যান্তিয়েগো বার্নাব্যু সেকেন্ড রাউন্ড :

লিও ১ - ০ মাদ্রিদ
মাদ্রিদ ১ - ১ লিও

মিলান ২ - ৩ ম্যান উ
ম্যান উ ৪ - ০ মিলান

বায়ার্ন ২ - ১ ফিওরেন্টিনা
ফিওরেন্টিনা ৩ - ২ বায়ার্ন

পোর্তো ২ - ১ আর্সেনাল
আর্সেনাল ৫ - ০ পোর্তো

স্টুটগার্ট ১ - ১ বার্সা
বার্সা ৪ - ০ স্টুটগার্ট

অলিম্পিও ০ -১ বোর্দে
বোর্দে ২ - ১ অলিম্পিও

মস্কো ১ -১ সেভিলা
সেভিলা ১ - ২ মস্কো

ইন্টার ২ - ১ চেলসি
চেলসি ০ - ১ ইন্টার

কোয়ার্টার ফাইনাল

লিও ৩ -১ বোর্দে
বোর্দে ১ - ০ লিও

বায়ার্ন ২ - ১ ম্যান উ
ম্যান উ ৩ - ২ বায়ার্ন

আর্সেনাল ২ - ২ বার্সা
বার্সা ৪ - ১ আর্সেনাল

ইন্টার ১ - ১ মস্কো
মস্কো ০ - ১ ইন্টার

সেমি ফাইনাল

ইন্টার ৩ - ১ বার্সা
বার্সা ১ - ০ ইন্টার

বায়ার্ন ১ - ০ লিও
লিও ০ - ৩ বায়ার্ন



চলবে ...............


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29126412 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29126412 2010-03-31 01:51:29
( সংগ্রহ) আওয়ামী লীগও কি জিয়াকে ভয় পায়?



চৈত্র না আসতেই হঠাৎ করে দেশের রাজনীতিতে লু হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কে কার চেয়ে কত খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, আটঘাট বেঁধে সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছে সরকার ও বিরোধী দল। অন্তত জাতীয় সংসদে উভয় পক্ষের সাংসদদের বেফাঁস উক্তি শুনলে এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হয়, সত্যিই আমরা যোগ্য নেতৃত্বের উপযুক্ত নই।
সংসদে কী হচ্ছে? বহু সাধ্য-সাধনা, মান-অভিমানের পালা চুকিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস পর বিরোধী দল সংসদে যোগ দেওয়ায় দেশবাসী আশা করেছিল, সেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হবে। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের অভাব-অভিযোগ, দৈনন্দিন সমস্যা-সংকটের কথা তুলে ধরবেন। কিন্তু সংসদে আজ আমরা কী দেখছি? মৃত নেতাদের লাশ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংসদেরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে খুনি এবং জবাবে বিএনপির সাংসদেরা দেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানকে খুনি বলে আখ্যায়িত করেছেন। এতে কারও সম্মান বাড়েনি, না জীবিতদের, না মৃতদের।
দুর্ভাগ্যজনক যে এই অপ্রাসঙ্গিক ও অহেতুক বিতর্কের সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেত্রী নিজেই। তিনি বলেছেন, জিয়াউর রহমানের কবরে তাঁর লাশ নেই, সেখানে শুধু বাক্স রাখা আছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তাঁকে প্রথমে রাঙ্গুনিয়ায় , পরে ঢাকায় নিয়ে এসে সংসদ ভবন এলাকায় কবর দেওয়া হয়। সেখানে লাশ থাকল কী না থাকল না তা নিয়ে দেশের মানুষ ভাবিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর জানা থাকার কথা, ৩০ বছর পর কারও মৃতদেহের কোন চিহ্ন থাকে না, হাড় ছাড়া। দেশের মানুষের বহু সমস্যা আছে, ৪০ শতাংশ মানুষএখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, তাদেরএকাংশ মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের সাংসদেরা জিয়ার লাশ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করে সেই সময়টি দরিদ্র জনগণের কল্যাণে ব্যয় করলে তারা উপকৃত হতো। জিয়াউর রহমান মারা গেছেন তিন দশক আগে। তার পরও যদি তাঁকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি করতে হয়, সেটি আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। এতদিন বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা ছিল বিএনপির রাজনীতির উপজীব্য। একই কাজ এখন আওয়ামী লীগ করছে। আওয়ামী লীগের চোখে জিয়া যত খারাপই হোন না কেন, মৃত্যুর পর নিশ্চয়ই কবর দেওয়ায় তাঁর (জিয়ায়) কোনো ভূমিকা ছিল না।
২৮ বছর পর ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসন থেকে জিয়াউর রহমানের কবরে লাশ আছে কী নেই, সেই বিতর্ক তোলার কী যুক্তি থাকতে পারে? আমরা মনে করি, এর একটিই উদ্দেশ্য, বিএনপিকে আবার সংসদ বর্জনের দিকে ঠেলে দেওয়া। আবার রাজপথে হরতাল-অবরোধের যুগ ফিরিয়ে আনা। তাতে সরকারের কী লাভ হবে জানি না, তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা যে বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। বিরোধী দলের সংসদে আসাকে সরকারি দল এভাবে ‘স্বাগত’ না জানালেও পারত। সরকারি দল ভাবতে পারে, সংসদে তাঁদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা মাত্র ৩৬-৩৭ জন। তাঁরা সংসদে এলেন কী গেলেন তাতে কিছু আসে-যায় না। এ ধরনের মানসিকতা শুধু গণতন্ত্রের জন্যই হুমকি নয়, ক্ষমতাসীনদের জন্যও আত্মঘাতি। বিএনপিকে এখন দুর্বল মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা হলফ করে বলতে পারি, সরকার যেভাবে চারদিকে ‘যুদ্ধফ্রন্ট’ খুলে বসেছে, তাতে এই দুর্বলতা বেশি দিন থাকবে না। অতীতে বাংলাদেশে মহাজোটের চেয়েও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেউ কেউ ক্ষমতায় এসেছিলেন। গায়ের জোরে আইন পাস করেছিলেন। সেসবের ফল ভালো হয়নি। বাংলাদেশে যে দল যত বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সে দল তত বেশি স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। সুদূর অতীতের উল্লেখ করব না। নিকট অতীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের প্রবল দাপটের কথা ভাবুন। ২০০১ সালে তারা কি কখনও ভেবেছিলেন, জনগণ এভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে? বরং ৫০ বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে বিএনপি নেতারা আস্ফালন করেছিলেন। জনগণই যে শেষ বিচারক এ কথাটি ক্ষমতায় থাকতে কেউ স্বীকার করতে চান না।
সংসদে গত কয়েক দিনে দুপক্ষই ছিল মারমুখী। বলা যায়—কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় যে স্বয়ং স্পিকার বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘মনে হচ্ছে দুই পক্ষই যুদ্ধে নেমেছে। আমি তো কারো টুঁটি চেপে ধরতে পারি না। তবে সংসদে কেউ কুরুচিপূর্ণ ও অসংসদীয় কথা বললে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে।’ তার আগেই অবশ্য টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে সাংসদদের মহান কীর্তি কথা জেনে যায়।

দুই.
এ তো গেল সংসদের ভেতরের কথা। বাইরে কী হচ্ছে? প্রায় কাছাকাছি সময়ে নিহত হয়েছেন ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন মেধাবী ছাত্র। আবু বকর, ফারুক হোসেন ও মহিউদ্দিন। তাঁরা রাজনীতি করতেন কী করতেন না, তার চেয়ে বড় কথা অসুস্থ ছাত্ররাজনীতির বলি হয়েছেন। তিনজনই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আবু বকরের বাবা দিনমজুর, ফারুক হোসেনকে তাঁর বাবা পড়াচ্ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে (প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারদের অনুরোধ জানাব ঋণের অর্থ মওকুফ করে দেওয়ার জন্য), আর মহিউদ্দিনের বাবা কৃষি বিভাগের একজন কর্মচারী, জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যিনি চাকরি হারিয়েছিলেন।
যে কোনো সরকারের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া এবং নিরাপত্তাহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। সেই বিবেচনায় শিবিরের যে সশস্ত্র ক্যাডাররা ফারুককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের গ্রেপ্তারে যেকোনো নাগরিকই খুশি হবেন। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক—সেটাও আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু একটি হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীরা যেভাবে অগ্রাসী প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, যেভাবে সারাদেশে গণগ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে, তা দেশকে কোথায় নিয়ে যায় বলা কঠিন। সারাদেশে শিবিরের শত শত কর্মী কি একজোট হয়ে ফারুককে হত্যা করেছে? জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আইন আদালতের বিষয়। তার সঙ্গে ফারুক ও মহিউদ্দিনে ঘাতকদের গ্রেফতার যুক্ত করা ঠিক হবেনা। যদি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ক্যাডাররা ফারুককে হত্যা না করত, তাহলে কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না? অপরাধীকে চিহ্নিত করতে হবে তার অপরাধের মাপকাঠিতে—কে কোন দলের কর্মী বা সমর্থক সেই দৃষ্টিতে নয়।
শিবিরের ক্যাডাররা ফারুককে হত্যা করেছে বলে সারাদেশে চিরুনি অভিযান হলেও আবু বকরের হত্যাকারীদের ধরতে অনুরূপ অভিযান দেখছি না কেন? ক্যান্টনমেন্ট থানায় এবিএম ফারুকের ঘাতকদেরই বা কেন ধরা হচ্ছে না? অভিযুক্তরা সরকারের সমর্থক ছাত্রসংগঠনের নেতা বলে?
ছাত্রশিবির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালে, অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিলে দেশের প্রচলিত আইনেই তাদের পাকড়াও করতে হবে। গয়রহ শত শত কর্মীকে গ্রেপ্তার কিংবা হুমকি-ধামকি বুমেরাং হয়ে যেতে পারে।

তিন.
জোট আমলে যেসব স্থাপনার নাম বদল করা হয়েছিল তা পূর্বনামে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই নাম বদলের সঙ্গে জনগণের ভাগ্য বদলের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার যুক্তি দেখাতে পারে যে জোট সরকার গায়ের জোরে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করেছিল। কিন্তু ২৮ বছর পর বিমানবন্দর থেকে জিয়াউর রহমানের নাম কর্তন করার পেছনে কি যুক্তি থাকতে পারে?। নামকরণটি হয়েছিল ১৯৮১ সালে জিয়ার মৃত্যুর পর। ফলে এ নামকরণে তাঁর (জিয়ার) কোনো ভূমিকা ছিল না। কাজটি করেছে জিয়া-পরবর্তী বিএনপির সরকার। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া তখনও রাজনীতিতে আসেননি। এখানে তত্কালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের একটি ভূমিকা থাকতে পারে, যিনি বর্তমানে মহাজোট সরকারের অংশীদার। এত দিন জিয়ার নাম যদি কোনো সমস্যা তৈরি না করে থাকে, হঠাত্ করে নাম বদলের প্রয়োজন হলো কেন? শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলে জিয়া বিমানবন্দরের নাম বদলের উদ্যোগ নেওয়া হলে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। তখন অন্য একটি পত্রিকায় কলাম লিখে বলেছিলাম,‘ জিয়ার নামে একটি বিমানবন্দর থাকলে ক্ষতি কী, পুরো বাংলাদেশটাই তো বঙ্গবন্ধুর নামে আছে।’ ১৪৬ আসন পাওয়া আওয়ামী লীগ সে বারে জিয়ার নাম বদলাতে সাহস পায়নি, এবারে করেছে। ৩০০ আসনের সংসদে ২৩০ আসন পেলে কারো মাথা ঠিক থাকার কথা নয়, আওয়ামী লীগেরও নেই।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, সরকার জিয়ার নাম বদলে বিমান বন্দরে কার নাম যুক্ত করেছে? একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের নাম। আওয়ামী লীগ নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করে। দলের নেতারা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার কথাও বলছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারের নাম বদলিয়ে একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের নাম যুক্ত করা কি রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নয়? তাহলে ধর্মভিত্তিক জামায়াতে ইসলামী ও সাম্প্রদায়িকতা দোষে দুষ্ট বিএনপির সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগের চরিত্রগত পার্থক্য কোথায়?
দেশে হাজারো সমস্যা আছে। গ্রীষ্ম শুরু না হতেই ঢাকা শহরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। যানজটে নগরজীবন অচল। নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। শিল্পকারখানায়ও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ঢাকার চারপাশের নদীগুলো মরে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ ক্যাডারেরা সারা দেশে ভর্তি-বাণিজ্য, টেন্ডার-বাণিজ্য চালাচ্ছে। সাংবাদিক পেটাচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের কার্যকর কোনো অভিযান নেই। তারা ভাবছে, জামায়াত-শিবিরবিরোধী গরম স্লোগান দিলে বা চিরুনি অভিযান চালালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা এত দিন জেনে এসেছি, ক্ষমতা মানুষকে দায়িত্বশীল ও সহনশীল করে। বাংলাদেশের রাজনীতিকদের দিকে তাকিয়ে দেখছি, ক্ষমতা তাঁদের স্বৈরাচারী করে, পদের দায়ভার তাঁরা বহন করতে অক্ষম। প্রিয় পাঠক, আজ আপনাদের সাত-আট বছর আগের পত্রিকা মিলিয়ে দেখতে অনুরোধ করব। সেই সময় বিএনপির নেতারা বিরোধী দলের প্রতি যে তাচ্ছিল্য ও উপহাসের সুরে কথা বলতেন, আজ আওয়ামী লীগের নেতারাও তা-ই করছেন। আল্লাহ তাদের হেফাজত করুন।
দিন বদলের সরকার গত এক বছরে জনগণের ভাগ্য খুব একটা বদলাতে পারেনি। এমনকি তারা জোট সরকারের বৈরী রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোরও চেষ্টা করছে না। এখন নাম বদলের মহোত্সবে নেমে পড়েছে। বিএনপি শেখ মুজিবুর রহমানকে ভয় পেত বলেই ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। ১৫ আগস্ট ঘটা করে নেত্রীর জন্মদিন পালন করে আসছে। আওয়ামী লীগও কি জিয়াকে ভয় পেতে শুরু করেছে? তাদের ভেতরকার অস্থিরতা আর তড়িঘড়ি করে বিমানবন্দরের নাম বদল দেখে তা-ই মনে হচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29099824 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29099824 2010-02-17 18:40:04
সংগ্রহ টিপাইমুখ প্রকল্পে একতরফা ছাড় প্রদান এবং এশিয়ান হাইওয়ে ইস্যুতে বিভিন্ন বিকল্পের মধ্যে ভারতের জন্য সবচেয়ে অনুকূল রুটে প্রাথমিক সম্মতি প্রদানও ছিল ভারতের জন্য অত্যন্ত অনুকূল কিছু পদক্ষেপ। এ ছাড়া ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় প্রকাশ্যভাবে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নাকাল করে তদন্তকার্য পরিচালনা, সমুদ্রসীমা প্রশ্নে নমনীয় বিরোধিতার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জলবায়ু আলোচনায় ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্পূর্ণ মৌন থাকাসহ বিভিন্নভাবে বাংলাদেশ সরকার তার বন্ধুত্বের যে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছিল, তা অভূতপূর্ব এবং অপরিসীম।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে আমাদের অর্জন এসবের পটভূমিতে বিচার না করার কোনো কারণ নেই। বন্ধুত্বের প্রতিদান সমতুল্য বন্ধুত্বের মাধ্যমে দিতে হয়। না হলে বন্ধুত্বকে একতরফা হিসেবে দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয় অনেকের জন্য। ভারত সফরে যা অর্জিত হয়েছে, তা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কিন্তু তা ভারতের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রতিদান কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার কারণ রয়েছে।

২.
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি বড় একটি বিষয়। নদীর পানির যথেষ্ট প্রাপ্যতা বাংলাদেশের প্রয়োজন, এটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেছেন। কিন্তু এ লক্ষ্যে তাঁর আমলেই সম্পাদিত ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির আলোকে সব ধরনের একতরফা পদক্ষেপ থেকে দুটো দেশের বিরত থাকা উচিত, এ ধরনের কোনো কিছু তিনি বলেননি। তিনি টিপাইমুখ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসবাণীতে পুনরায় আশ্বস্ত হতে বলেছেন। তাঁর পিতার আমলে ভারতের আশ্বাস তো দূরের কথা, চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা ব্যারাজের পরীক্ষামূলক চালুর পরও এর কুপ্রভাব সম্পর্কে প্রতিবাদ করা হয়েছিল। তাঁর নিজের প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলেও কোনো আশ্বাস নয়, চুক্তির ভিত্তিতে অন্যান্য নদীর পানি ভাগাভাগির (গঙ্গা চুক্তির ৯ অনুচ্ছেদ) কথা বলা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে দুই দেশের একটি জয়েন্ট কমিটি অব এক্স্পার্ট গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, মুহুরী, মনু, গোমতী, খোয়াই, দুধকুমার এই নয়টি নদীর পানি ভাগাভাগির জন্য চিহ্নিত করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে অন্তত তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগির বিষয়ে চুক্তি সম্পাদন করে ভারত বাংলাদেশের অসাধারণ বন্ধুত্বের কিছু প্রতিদান দিতে পারত।
ভারত সফরকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে টিপাইমুখ প্রকল্পের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ প্রকল্পের শারীরিক অস্তিত্ব নেই, কিন্তু এর পক্ষে বিভিন্ন অনুমোদন এমনকি কার্যাদেশ পর্যন্ত ভারত সরকার ইতিমধ্যে প্রদান করেছে। পৃথিবীতে সব দেশে প্রকল্প নির্মাণের আগেই প্রতিবাদ করা হয়, ভারতও কর্ণফুলী নদীতে একটি প্রস্তাবিত জলাধারের বিষয়ে প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার বহু আগে ১৯৫০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করেছিল। বর্তমান আওয়ামী লীগের সরকারের মন্ত্রীরা এ বিষয়টি যে রকম হালকাভাবে দেখছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তার চেয়ে ভিন্ন কিছু মনে হয়নি।
অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগির বিষয়ে আলোচনার বহু সুযোগ এখনো আছে। দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে সুস্পষ্ট চুক্তির মাধ্যমে টিপাইমুখ কেন, আরও বহু প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে লিখিত চুক্তি ছাড়া একটি নিম্ন অববাহিকার দেশ উচ্চ অববাহিকার দেশের সরকারপ্রধানের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে থাকবে, এই চিন্তা শুধু অবাস্তব নয়, বিপজ্জনকও।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্য কিছু বিষয়েও বাংলাদেশ শক্তিশালী ভূমিকা রাখেনি বলে আমার মনে হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিয়মিতভাবে সাধারণ বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনায় বর্তমান সরকার প্রায় নিশ্চুপ। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা দুই পক্ষ থেকেই কমবেশি হতে পারে। এ জন্য বিএসএফ অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারে, ফাঁকা গুলি করে তাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু নিয়মিতভাবে হত্যা করে ফেলার কোনো আইন তো কোথাও নেই। ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের ভাষণে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানাতে পারতেন। যুক্ত ইশতেহারে বরং উভয় পক্ষের সংযতভাবে দায়িত্ব পালন ও সীমান্তে বৈঠক নিয়মিতকরণের যে বক্তব্য এসেছে, তাতে মনে হবে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সমভাবে দুই দেশ ঘটিয়ে চলেছে।
এ সফরে আরও কিছু দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির শর্ত অনুসারে ছিটমহল বিনিময়ের এবং সীমান্ত নির্ধারণের যে বাধ্যবাধকতা ভারতের রয়েছে তা পালনে কোনো দৃষ্টিগ্রাহ্য অগ্রগতি এ সফরে অর্জিত হয়নি। সমুদ্রসীমা নির্ধারণের প্রশ্নে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রয়াসের আভাস এত দুর্বল যে এতে এখনই আশ্বস্ত হওয়ার কারণ নেই।

৩.
প্রধানমন্ত্রীর সফরে চুক্তি যা হয়েছে, তা সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রশ্নে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ বাংলাদেশের জন্য সমস্যা, ভারতের জন্য আরও অনেক বড় সমস্যা। এসব প্রশ্নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার চুক্তি কমবেশি দুই পক্ষকে লাভবান করতে পারে বলে আমরা একে স্বাগত জানাতে পারি। তবে এই চুক্তিতে অন্য দেশের বাহিনীর অবাধ প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকলে তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পরস্পরের সমুদ্র, রেল ও সড়কপথ ব্যবহারের লক্ষ্যে সমঝোতা হয়েছে। ইউরোপ ও আসিয়ানের অভিজ্ঞতায় ধারণা হিসেবে এটি অবশ্যই সমর্থনীয়। কিন্তু এর সুবিধা বাংলাদেশ কত বেশি নিতে পারবে, তা আসলে নির্ভর করবে সুনির্দিষ্ট চুক্তির শর্তাবলির ওপর। নির্ভর করবে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের কার্যক্ষমতা ও অবকাঠামো বহুগুণে বৃদ্ধি করার সামর্থ্য, এতে দাতাদের অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।
ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য-ঘাটতি সর্বজনবিদিত। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে ভারত ৪৭টি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশাধিকারের আশ্বাস দিয়েছে। এসব পণ্য প্রতিযোগিতামূলক ভারতীয় বাজারে টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকলে এবং পণ্যগুলোর প্রবেশে প্রতিকূল অশুল্ক শর্তাবলি না থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। ভারত বাংলাদেশের পরিবহন অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা এবং বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বিক্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এগুলো অবশ্যই ইতিবাচক অর্জন। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, হিমালয়ের বিভিন্ন নদীতে ভারত-নেপাল এবং ভারত-ভুটান যেসব দৈত্যাকৃতির পরিবেশবিনাশী জলবিদ্যুত্ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, নিম্নতম অববাহিকতার দেশ হিসেবে তার কুফল একসময় বাংলাদেশকে ভোগ করতে হবে। এসব প্রকল্প ঠেকানো না গেলে, বিনিময়ে অন্তত জলবিদ্যুত্ লাভের জন্য এসবের অংশীদারি হওয়ার সুযোগ প্রদানে ভারতকে সম্মত করার চেষ্টা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চালানো উচিত।

৪.
ভারত সফরে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ লাভে বাংলাদেশ তার সমর্থনের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশের বড় দুটো দাতা দেশ জাপান ও জার্মানি এ ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশের এই সমর্থন তাই ভারতের জন্য বিরাট প্রাপ্তি। সার্বিক বিচারে ভারতের যা প্রত্যাশা, বাংলাদেশের কাছে তা প্রায় সবটুকু পূরণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে। এতে দোষের কিছু নেই যদি বাংলাদেশের প্রত্যাশা পর্যায়ক্রমে হলেও পূরণ করা হয় ভারতের পক্ষ থেকে। অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, তিনবিঘা করিডর ও অন্যান্য ছিটমহল প্রদান, ট্রানজিট, পণ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সুষমকরণ, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ—এসব ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের স্বার্থকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে দুই দেশের বন্ধুত্ব সুষম ও দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
দুই দেশের সরকারের মধ্যে আস্থা ও বন্ধুত্বের পরিবেশ এখন বিরাজ করছে। এটি সর্বোত্তমভাবে দুই দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার জন্য আরও বহু পদক্ষেপ নিতে হবে।


আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29081739 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29081739 2010-01-19 14:21:59
"BIG FOUR" for the first time
Says LARS ULRICH/METALLICA of this historic announcement:
"Who would have thought that more than 25 years after its inception, thrash metal's big 4 would not only still be around and more popular than ever, but will now play together for the first time...what a mindfuck! Bring it on!"

“It's about fucking time this happened,” said SLAYER’s KERRY KING. “and about time the fans finally get what they want. This is fucking awesome.”

ANTHRAX guitarist SCOTT IAN agrees, commenting on the enormity of the announcement.

“People have been talking about these four bands playing together since 1984. That's twenty-six years of expectation!!! And the thing is, I believe not only will we live up to the expectations, we will shatter them!! No other four bands as influential as the four of us have ever done this. Imagine if The Beatles, Stones, The Who and Zeppelin had done shows? Or Sabbath, Priest, Maiden, Motorhead? Well, I may be getting into some rarified air here but as a fan, that's how big I feel this is.”

These four legendary acts broke out of the underground thrash movement to dominate the metal world in the 1980s, selling millions of records and packing arenas across the globe. The metal giants have never before all shared the same stage, despite huge demand. But on 16th June 2010, METALLICA, SLAYER, MEGADETH and ANTHRAX will take to the SONISPHERE stage at Bemowo Airport, Poland, to make the dreams of headbangers the world over become a reality. A second Big Four appearance is planned for SONISPHERE CZECH REPUBLIC three days later, with more SONISPHERE shows featuring the awesome combo to be announced in the coming days and weeks.

“This is a “once-in-a-lifetime” opportunity for Heavy Metal “Fans” to see the four greatest Heavy Metal “Bands” in American History back together on one stage” concludes MEGADETH mainman DAVE MUSTAINE. “If there are any heads left at the end of this Festival that haven’t banged, they don’t belong there.”]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29073892 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29073892 2010-01-07 18:59:34
GOD hates us all ( Disciple) Compelled to live your sheltered lives
Not once has anyone ever seen
Such a rise of pure hypocrisy
I'll instigate I'll free your mind
I'll show you what I've known all this time

God Hates Us All, God Hates Us All
You know it's true God hates this place
You know it's true he hates this race

Homicide-Suicide
Hate heals, you should try it sometime
Strive for Peace with acts of war
The beauty of death we all adore
I have no faith distracting me
I know why your prayers will never be answered

God Hates Us All; God Hates Us All
He Fuckin' hates me

Pessimist, Terrorist targeting the next mark
Global chaos feeding on hysteria
Cut throat, slit your wrist, shoot you in the back fair game
Drug abuse, self abuse searching for the next high
Sounds a lot like hell is spreading all the time
I'm waiting for the day the whole world fucking dies

I never said I wanted to be God's disciple
I'll never be the one to blindly follow

Man made virus infecting the world
Self-destruct human time bomb
What if there is no God would you think the fuckin' same
Wasting your life in a leap of blind faith
Wake the fuck up can't ignore what I say
I got my own philosophy

I hate everyone equally
You can't tear that out of me
No segregation -separation
Just me in my world of enemies

I never said I wanted to be God's disciple
I'll never be the one to blindly follow
I'll never be the one to bear the cross-disciple

I reject this fuckin' race
I despise this fuckin' place

গানটি শুনে না থাকলে , আশা করি শুনে ভাল লাগবে

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29069577 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29069577 2010-01-01 02:08:48
( সংগ্রহ) নামকরণ ও নাম কর্তনের রাজনীতি সোহরাব হাসান: সাংবাদিক।


নামে কী-ই বা এসে যায়? তার পরও পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সরকারও নামবদলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় এসেছিল দিনবদলের স্লোগান দিয়ে। সরকারের মেয়াদ এক বছর পার হতে চললেও জনগণের ভাগ্য কিংবা দিনবদলের কোনো লক্ষণ নেই। গত এক বছরে বিদ্যুত্ উত্পাদন তেমন বাড়েনি, বিনিয়োগে মন্দাও কাটেনি। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় দলীয়করণের ভূত চেপে বসেছে। এসব নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। তবে গত এক বছরে সরকার দুটি কাজ বেশ নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে। এক. ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া, দুই. সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নামবদল। বিদ্যুত্সাশ্রয়ের কারণ দেখিয়ে গ্রীষ্মকালে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সবাই মেনে নিয়েছিল। কেউ আপত্তি করেনি। শীতকালে এসেও ঘড়ির কাঁটা একই স্থানে রাখার কোনো যুক্তি নেই। এতে স্কুলগামী শিশুদের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, অফিসযাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে—এই সহজ সত্যটি সরকার স্বীকার করছে না। ভাবটা এমন, ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে আনলেই বিদ্যুত্-সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারকে জনগণের মনের কথাটি বুঝতে হয়। অতীতে কোনো সরকার বোঝেনি। এ সরকারও বুঝতে চাইছে না।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণের সঙ্গে আমজনতার তেমন সম্পর্ক নেই। তবে জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় নেতাদের নাম যুক্ত হলে তারা খুশি হয়। নতুন প্রজন্মও ইতিহাস জানতে পারে। পৃথিবীর সব দেশেই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম জাতীয় নেতাদের নামে রাখার চল আছে। সে বিবেচনায় দেশের স্টেডিয়াম ও বিমানবন্দরের নাম ইতিহাসে বরণীয় কোনো ব্যক্তির নামে রাখার মধ্যে আপত্তির কিছু দেখছি না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা সবকিছু নিজেদের নামে করে নিতে চায়; আর অন্য দলের নাম কর্তনে মরিয়া হয়ে ওঠে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়, জোট সরকারের আমলে যেসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম বদল করা হয়েছিল, সেগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে তাদের যুক্তি হলো, জোট সরকার গায়ের জোরে নাম বদলে ফেলেছিল। জোট আমলে প্রতিষ্ঠিত স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের পছন্দসই নাম তারা দিতে পারত। দিয়েছেও। কিন্তু আগের সরকারের গড়া প্রতিষ্ঠানের নাম তারা পাল্টাবে কেন? কোন যুক্তিতে তারা ঢাকার বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার কিংবা চট্টগ্রামের এম এ হান্নান বিমানবন্দরের নাম পাল্টাল? অন্যের দেওয়া নাম বদল করার অধিকার তাদের নেই। সেই যুক্তিতে মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তে কেউ আপত্তি করবেন না। কিন্তু বর্তমান সরকারও যদি একইভাবে নাম বদল করে, সেটি মেনে নেওয়া যায় না। ২৭ বছর ধরে যে বিমানবন্দরটি জিয়াউর রহমানের নামে পরিচিত হয়ে আসছে, এখন সেটি বদলানোর প্রয়োজন হলো কেন? সরকারি বার্তা সংস্থার খবর অনুযায়ী, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি হজরত শাহজালাল (র.)-এর নামে রাখার ব্যাপারে মন্ত্রিসভা মতৈক্যে পৌঁছেছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হবে বলে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেষোক্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। আপত্তি হলো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জিয়ার নাম কর্তন করার সিদ্ধান্তে। জোট সরকার যখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে এম এ হান্নানের নাম বদলে হজরত শাহ আমানত (র.)-এর নাম যুক্ত করেছিল তখনো আমরা প্রতিবাদ করেছি। আওয়ামী লীগের ভাষায়, ‘বিএনপি সাম্প্রদায়িক দল এবং তারা মৌলপন্থীদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে।’ এখন দেখছি, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ আওয়ামী লীগও একই কাজ করতে যাচ্ছে। তারাও বিমানবন্দরে জিয়ার নাম বদলে হজরত শাহজালাল (র.)-এর নাম বসাতে চাইছে। অর্থাত্ ‘সাম্প্রদায়িক’ বিএনপি ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ আওয়ামী লীগ দলীয় স্বার্থে ধর্ম ও ধর্মীয় নেতার নাম ব্যবহার করছে।
এর মাধ্যমে সরকার বিএনপির হাতে একটি মোক্ষম ইস্যু এনে দিল। এ মুহূর্তে রাজপথ গরম করার মতো তেমন ইস্যু বিএনপির হাতে নেই। ভারতবিরোধী স্লোগান এখন আর জনগণ গ্রহণ করছে না।
যে সরকার নিজে কিছু করতে পারছে না, সেই সরকারই নামবদলের মাধ্যমে ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করতে চায়। আমরা মনে করি এটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা, যা চলে আসছে সেই পাকিস্তান আমল থেকে। ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও সড়কের নাম বদলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানি শাসকেরা। স্বাধীনতার পর আমরা পাকিস্তান আমলের প্রায় সব নাম নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। ইতিহাসে যাঁর যে ভূমিকা আছে, তাঁকে স্বীকার করা কিংবা স্মরণ করার মধ্যে অগৌরবের কিছু নেই। ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের অন্যতম নায়ক সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাসের নাম রাখা হয়েছে। এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু সেটি উর্দু ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ইকবালের নাম বাদ দিয়ে কেন? সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামে নতুন কোনো হল করাই শোভনীয় হতো।
সরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নামকরণের দলীয়করণ যেমন কাম্য নয়, তেমনি ইতিহাস নির্মাতাদেরও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার নিন্দনীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো দলের নন, সমগ্র জাতির। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে তাঁর নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হবে, অন্য দল ক্ষমতায় এলে সে নাম মুছে ফেলা হবে—এই অপসংস্কৃতি থেকে দেশবাসী মুক্তি চায়।
ভারতে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে আদর্শ ও নীতির পার্থক্য অনেক। অটল বিহারি বাজপেয়িসহ বিজেপির অনেক নেতাই ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার কঠোর সমালোচক। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তাঁরা ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দর বা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম মুছে ফেলেননি। কংগ্রেস রাজনীতির আরেক সমালোচক সিপিএমের প্রধান নেতা জ্যোতি বসু কলকাতার যে বাড়িতে থাকেন, তার নাম ‘ইন্দিরা ভবন’। এতে জ্যোতি বসু যদি আদর্শচ্যুত না হয়ে থাকেন, তাহলে আওয়ামী লীগের নেতারা জিয়ার নামকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন?
সব ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর তুলনাও ঠিক নয়। জিয়ার নামে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের নাম হলেই তিনি দেশের প্রধান নেতা হয়ে যাবেন না। গতবারও আওয়ামী লীগ সরকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামবদলের উদ্যোগ নিয়েছিল। সে সময় যে কথাটি বলেছিলাম, এবারও তা সরকারের নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। দেশের একটি বিমানবন্দর জিয়ার নামে থাকলে ক্ষতি কী? বাংলাদেশ জুড়েই তো বঙ্গবন্ধুর নাম আছে। কারও নাম কেটে বঙ্গবন্ধু বা অন্য কারও নাম বসালেই তাঁর মাহাত্ম্য বাড়ে না, বরং ক্ষমতাসীনদের দীনতাই প্রকাশ পায়।
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নামকরণের এই মহামারি ছিল না। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু নিজের নামে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান করেছেন, সে নজির নেই। বরং তিনি পূর্বসূরি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নামে রাজধানীর উত্তরাংশের নাম রেখেছিলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ঢাকার সবচেয়ে বড় উদ্যান এবং তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার নামে সবচেয়ে বড় সড়কের নাম রেখেছিলেন। জিয়াউর রহমানও নামের কাঙাল ছিলেন বলে জানা নেই। উত্তরসূরিদের রাজনৈতিক দীনতা ও ব্যক্তিস্বার্থবাদিতা আড়াল করতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জিয়ার নাম ধার করতে হচ্ছে।
নামবদল কিংবা কর্তনে কোনো দলই পিছিয়ে নেই। আওয়ামী লীগ আমলে যেসব প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের নেতাদের নামে করা হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেসব নাম কর্তন করে। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়ে বিএনপি নেতাদের নাম মুছে ফেলছে। নামবদলের মহড়ায় বাদ পড়েনি চীনের অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রও। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ সম্মেলন কেন্দ্রের কাজ শুরু হলেও শেষ হয় বিএনপির আমলে। আওয়ামী লীগ ঠিক করেছিল, এর নাম হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। বিএনপি এসে রাখে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের আগে বঙ্গবন্ধুর নাম জুড়ে দেয়। এর প্রয়োজন ছিল কি? যে দেশটি অর্থায়ন করেছে, সেই দেশটি নতুন নামকরণকেই বা কীভাবে নিয়েছে?
আমাদের জাতীয় ইতিহাসে নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রধান চরিত্র; কিন্তু একমাত্র চরিত্র নন। তাঁর সঙ্গে এবং সময়ে আরও জাতীয় যে নেতারা ছিলেন, সরকার তাঁদের নামে কেন কিছু করছে না? আমাদের ইতিহাস নির্মাণে মওলানা ভাসানী, মণি সিংহ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদের অবদানও কম নয়। একটি সড়ক বা হকি স্টেডিয়ামের সঙ্গে তাঁদের নাম যুক্ত করাই কি যথেষ্ট?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29061959 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29061959 2009-12-19 23:32:08
(সংগ্রহ) প্রতিক্রিয়া : আওয়ামী লীগ-বিএনপি দ্বন্দ্ব নিরসনের পথ মতলুব আনাম

Click This Link

৫ ডিসেম্বর ২০০৯ প্রথম আলোয় এম এম আকাশের ‘আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি: দ্বন্দ্ব নিরসনের পথ কী?’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। লেখক প্রথমে আধুনিক বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেছেন, উন্নত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে বর্তমানে একটি দ্বিদলীয় ব্যবস্থাই প্রধান ধরন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁর মতে, এসব রাষ্ট্রে দুটি দলই মৌলিক ধনতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী হয়েও রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নে বিভক্ত। একটি দল নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় গেলে অন্য দলটি প্রধান বিরোধী দলের ভূূমিকায় থাকে। বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করে না। ক্ষমতায় যেতে না পারলে তারা কারণে-অকারণে ১৯৯১ সালে স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার পর থেকেই সংসদ বর্জন করে চলেছে। তারা নির্বাচিত সরকারকে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামাতে পাঁচ বছর ব্যস্ত থাকে। সরকারও বিরোধী দলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতেই পাঁচটি বছর ব্যয় করে। দেশে উন্নয়নের কাজ হয় না।
এম এম আকাশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় হিসেবে দুটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন। এক. সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরাচারী শক্তিগুলো থেকে মুক্ত হয়ে দেশে একটি ভদ্র দ্বিদলীয় বুর্জোয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। দুই. জামায়াত ও স্বৈরাচারের বিচ্ছিন্নতা এবং পরাজয়ের কারণে বিএনপির শক্তিহানি, ক্রমবিলুপ্তি ও খণ্ডায়ন। তাঁর মতে, তখন দেশে একমাত্র দক্ষিণপন্থী দল হবে আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেরই কোনো না কোনো দল। অসংখ্য পরস্পরবিরোধী শক্তির টালমাটাল ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবার বিশৃঙ্খলাও ফিরে আসতে পারে। বিশৃঙ্খলার কথাটা তাঁর সম্ভবত মনে হয়েছে এক-এগারোর পরবর্তী সার্বিক বিশৃঙ্খলা দেখে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় খোঁজার আগে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলো কেন, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া নাম করার মতো আর কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। যে কয়টা রাজনৈতিক দল ছিল, সেগুলো ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে ভোটে প্রায় নিঃশেষ হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সব ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। তারপর ১৯৭৫ সালে একমাত্র রাজনৈতিক জাতীয় দল, ‘বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ গঠিত হলো। রাজনীতি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জানানো হলো, রাজনীতি করতে হলে জাতীয় দলের সদস্য হতে হবে। বাকশালের গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ ধারার ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘সদস্যপদ দানের ক্ষমতা জাতীয় দলের চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত থাকিবে।’ জাতীয় দলের সদস্য হতে না পারলে চাকরি বা সংসদ সদস্যপদ থাকবে না।
এমন ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একদল অসন্তুষ্ট সেনাসদস্য কর্তৃক বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। জাতীয় দল বিলীন হয়ে যায়। আওয়ামী লীগেরই নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তাঁর মন্ত্রিসভার সব সদস্যই বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি সংসদও ভাঙেননি। তিনি সম্ভবত সংসদকেই ক্ষমতার উত্স করতে চেয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর সাহায্যে ক্ষমতা দখল করলেও তিনি যতদিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, ততদিন চেষ্টা করেছেন, যাতে আওয়ামী লীগ তাঁকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ ক্ষণকালের জন্য ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী-সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ ভেঙে দেন। ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তিনি যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন তাঁর কোনো রাজনৈতিক বেশ ছিল না। দেশব্যাপী ছিল বিশৃঙ্খলা। খন্দকার মোশতাকের সামরিক আইন জারি করার ফলে সব রাজনৈতিক দল বাতিল হয়ে যায়। তাই জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে দলবিধি অর্ডিন্যান্স জারি করে সরকারের কাছ থেকে দল গঠনের অনুমোদন নেওয়ার ঘোষণা দেন। জিয়া চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ তাঁকে দলে গ্রহণ করুক।
বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর স্বভাবতই আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের সংকট ছিল। সম্ভবত জিয়া নেতৃত্বের সেই শূন্যপদ লাভে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাঁকে দলে নেয়নি। অনেকেই মনে করেন, সে সময় আওয়ামী লীগ জিয়াকে গ্রহণ করলে বিএনপির জন্ম হতো না এবং পরবর্তী সময়ে দলটি আওয়ামী লীগবিরোধী বিরাট শক্তিতে পরিণত হতো না। আওয়ামী লীগে জায়গা না পেয়ে জিয়া প্রথমে বিচারপতি সাত্তারের মাধ্যমে জাগদল এবং পরে ১৯৭৮ সালের ৩১ আগস্ট নিজ নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। জেনারেল জিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব স্থায়ী করার জন্যই সম্ভবত শেখ হাসিনাকে ১৯৮১ সালে দেশে আসার অনুমতি দেন। তবে তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করা তাঁর হয়ে ওঠেনি। শেখ হাসিনা দেশে এলেন, আর ওই মাসেই জেনারেল জিয়া চট্টগ্রামে ক্ষমতালোভী একদল সেনাসদস্য কর্তৃক নিহত হলেন।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য এম এম আকাশের প্রথম উপায় হিসেবে উপস্থাপিত সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরাচারী শক্তিমুক্ত একটি ভদ্র দ্বিদলীয় বুর্জোয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। মহাজোটে স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উপস্থিতিই তার প্রমাণ। দ্বিতীয় উপায় তথা জামায়াত ও স্বৈরাচারের বিচ্ছিন্নতা ও পরাজয়ের কারণে বিএনপির শক্তিহানি ক্রমবিলুপ্তি ও খণ্ডায়ন—তার সম্ভাবনাও কম। বিএনপির সদ্যসমাপ্ত পঞ্চম কাউন্সিলে বিপুল জন-উপস্থিতিই এর প্রমাণ। বর্তমানের মহাজোটে স্বৈরাচার আরও বেশি করে ক্ষমতার ভাগ পাওয়ার জন্য এখন হুমকিও দিচ্ছেন। সর্বশেষ হুমকি হচ্ছে, ক্ষমতা না পেলে আগামী জানুয়ারি থেকে ভিন্ন পথ ও মত অবলম্বন করার ঘোষণা। ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল জামায়াতে ইসলামী। এবারের নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করেছিল। এ দেশে ভোটের রাজনীতি চলছে। জামায়াতের ভোটের জন্য বড় দুই দল সর্বদাই তাদের সমর্থন চায়। অপর দল যাতে জামায়াতের সমর্থন নিতে না পারে, সে জন্য আগেভাগেই জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে। মন্ত্রিত্বও দেয়।
বর্তমানে জাতীয়তাবাদী শক্তি অনেক দলে-উপদলে বিভক্ত। এম এম আকাশের ধারণা মতো বিএনপির যদি ক্রমবিলুপ্তি ঘটে এবং সে জায়গা যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোনো অপেক্ষাকৃত রেডিক্যাল রাজনৈতিক দল নেয়, তবে এর অর্থ হবে, আওয়ামী লীগে ভাঙন। সে সম্ভাবনা খুব কম। দুই দলের দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য হাসিনা-খালেদার সদিচ্ছাই যথেষ্ট। জনগণ জানে, বাংলাদেশের উন্নতি এই দুই দলের মধ্যে মিলনেই সম্ভব। দুই দলের সমঝোতাই স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছ থেকে মুক্তির উপায়।


মতলুব আনাম: রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29061957 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29061957 2009-12-19 23:29:15
২০১০ বিশ্বকাপ ফিকশ্চার গ্রুপ: বি (আর্জেন্টিনা,নাইজেরিয়া,গ্রীস,দক্ষিন কোরিয়া)
গ্রুপ: সি(ইংল্যান্ড,আলজেরিয়া,ইউ.এস.এ,স্লোভেনিয়া)
গ্রুপ: ডি(জার্মানি,সার্বিয়া,ঘানা,অস্ট্রেলিয়া)
গ্রুপ: ই(হল্যান্ড,ক্যামেরুন,জাপান,ডেনমার্ক)
গ্রুপ: এফ(প্যারাগুয়ে,ইতালি,স্লোভাকিয়া,নিউজিল্যান্ড)
গ্রুপ: জি(ব্রাজিল,উত্তর কোরিয়া,আইভরি কোস্ট,পর্তুগাল)
গ্রুপ: এইচ(স্পেন,হন্ডুরাস,চিলি,সুইজারল্যান্ড)

১১ জুন
দ. আফ্রিকা - মেক্সিকো ( ৯ টা )
উরুগুয়ে - ফ্রান্স ( ১-৩০ টা )

১২ জুন
দ. কোরিয়া - গ্রীস ( ৬-৩০)
আর্জেন্টিনা - নাইজেরিয়া ( ৯ টা )
ইংল্যান্ড - যুক্তরাষ্ট্র ( ১-৩০ টা)

১৩ জুন
আলজেরিয়া - স্লোভেনিয়া ( ৬-৩০)
সার্বিয়া - ঘানা ( ৯ টা )
জার্মানি - অস্ট্রেলিয়া ( ১-৩০ টা)

১৪ জুন
নেদারল্যান্ড - ডেনমার্ক ( ৬-৩০)
জাপান - ক্যামেরুন ( ৯ টা )
প্যারাগুয়ে - ইতালি ( ১-৩০ টা)

১৫ জুন
স্লোভাকিয়া - নিউজিল্যান্ড ( ৬-৩০)
আইভরি কোস্ট - পর্তুগাল ( ৯ টা )
ব্রাজিল - উত্তর কোরিয়া ( ১-৩০ টা)

১৬ জুন
হন্ডুরাস - চিলি ( ৬-৩০)
স্পেন - সুইজারল্যান্ড ( ৯ টা )
দ. আফ্রিকা - উরুগুয়ে ( ১-৩০ টা)

১৭ জুন
আর্জেন্টিনা - দক্ষিন কোরিয়া ( ৬-৩০)
গ্রীস - নাইজেরিয়া ( ৯ টা )
মেক্সিকো - ফ্রান্স ( ১-৩০ টা)

১৮ জুন
সার্বিয়া- জার্মানি ( ৬-৩০)
যুক্তরাষ্ট্র - স্লোভেনিয়া ( ৯ টা )
ইংল্যান্ড - আলজেরিয়া ( ১-৩০ টা)

১৯ জুন
নেদারল্যান্ড - জাপান ( ৬-৩০)
ঘানা - অস্ট্রেলিয়া ( ৯ টা )
ডেনমার্ক - ক্যামেরুন ( ১-৩০ টা)

২০ জুন
প্যারাগুয়ে - স্লোভাকিয়া ( ৬-৩০)
ইতালি - নিউজিল্যান্ড ( ৯ টা )
আইভরি কোস্ট - ব্রাজিল ( ১-৩০ টা)

২১ জুন
পর্তুগাল উত্তর কোরিয়া ( ৬-৩০)
চিলি সুইজারল্যান্ড ( ৯ টা )
হন্ডুরাস স্পেন ( ১-৩০ টা)

২২জুন
উরুগুয়ে মেক্সিকো ( ৯ টা )
দ. আফ্রিকা ফ্রান্স ( ৯ টা )
দক্ষিন কোরিয়া নাইজেরিয়া ( ১-৩০ টা)
আর্জেন্টিনা গ্রীস ( ১-৩০ টা)

২৩ জুন
স্লোভেনিয়া ইংল্যান্ড ( ৯ টা )
যুক্তরাষ্ট্র আলজেরিয়া ( ৯ টা )
জার্মানি ঘানা ( ১-৩০ টা)
সার্বিয়া অস্ট্রেলিয়া ( ১-৩০ টা)

২৪ জুন
স্লোভাকিয়া ইতালি ( ৯ টা )
প্যারাগুয়ে নিউজিল্যান্ড ( ৯ টা )
জাপান ডেনমার্ক ( ১-৩০ টা)
নেদারল্যান্ড ক্যামেরুন ( ১-৩০ টা)

২৫ জুন
ব্রাজিল পর্তুগাল ( ৯ টা )
আইভরি কোস্ট উত্তর কোরিয়া ( ৯ টা )
চিলি স্পেন ( ১-৩০ টা)
সুইজারল্যান্ড হন্ডুরাস ( ১-৩০ টা)


দ্বিতীয় রাউন্ড

২৬ জুন
এ ১ - বি ২ ( ১)
সি ১ - ডি ২ (৩)

২৭ জুন
ডি ১ - সি ২ ( ৪)
বি ২ - এ ২ (২)

২৮ জুন
ই ১ - এফ ২ ( ৫)
জি ১ - এইচ ২ (৭)

২৯ জুন
এফ ১ - ই ২ ( ৬)
এইচ ১ - জি ২ (৭)

( প্রতিদিনের খেলা ক্রমানুসারে রাত ৯টা ও ১-৩০ টা )


কোয়ার্টার ফাইনাল

২ জুলাই
৫ - ৭ ( সি )
১ - ৩ ( এ )

৩ জুলাই
২ - ৪ ( বি )
৬ - ৮ ( ডি )

( প্রতিদিনের খেলা ক্রমানুসারে রাত ৯টা ও ১-৩০ টা )

সেমি ফাইনাল

৬ জুলাই এ - সি ( ১ - ৩০ টা )
৭ জুলাই বি - ডি ( ১ - ৩০ টা )

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী

১০ জুলাই ( ১ - ৩০ টা )

ফাইনাল

১১ জুলাই ( ১ - ৩০ টা )
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29054385 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29054385 2009-12-06 14:13:22
(সংগ্রহ ) আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি: দ্বন্দ্ব নিরসনের পথ কী?


শিরোনামের প্রশ্নটির উত্তরদানের আগে আমাদের প্রথমে একটু আধুনিক বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। উন্নত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে বর্তমানে একটি দ্বিদলীয় ব্যবস্থাই প্রধান ধরন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব রাষ্ট্রে প্রধান দুই দলই মৌলিক ধনতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী হয়েও রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নে বিভক্ত অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে একটি দল নির্বাচনে জিতে ক্ষমতা গ্রহণ করলে অন্য দলটি থাকে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায়। বুর্জোয়া শাসকশ্রেণীর জন্য এই ব্যবস্থাটি বেশ পছন্দনীয়। কারণ, এতে ক্ষমতার বা গদির পরিবর্তন হলেও ধনতান্ত্রিক নীতির পরিবর্তন হয় না। তবে এসব ক্ষেত্রে দুটি দলের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠা নানা পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। নয়তো বুর্জোয়াদের দুটি দল তৈরি হলো কীভাবে? সচরাচর ‘ধনতন্ত্রের’ আদর্শের মধ্যেই দুটি প্রবণতার অস্তিত্ব সম্ভব—একটিকে বলা যেতে পারে ‘রক্ষণশীল’ প্রবণতা, অন্যটিকে তুলনামূলকভাবে ‘উদারনৈতিক’ প্রবণতা। আমেরিকায় যে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা, তার মূলে রয়েছে এই বিষয়টি। সে জন্যই সেখানে একদিকে তৈরি হয়েছে রক্ষণশীল ‘রিপাবলিকান’ দল, অন্যদিকে রয়েছে অপেক্ষাকৃত উদার ‘ডেমোক্রেটিক’ দল। তবে এই বিরোধ বিচারের সময় শাসকশ্রেণীর অন্যতম প্রতিনিধি ‘হেনরি ফোর্ড’-এর কথাটিও আমাদের মনে রাখা উচিত। আমেরিকান পুঁজিপতি হেনরি ফোর্ড বলেছিলেন, ‘আমি এই দুই ঘোড়ার ওপরই বাজি রাখি। সে জন্য যে-ই জিতুক, আমি কখনো হারি না।’ এ জন্যই উন্নত বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সহজে কোনো তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব হয় না।
প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে আমরা আজ আওয়ামী লীগ-বিএনপির যে দুর্বল বিস্তীর্ণ দ্বিদলীয় ব্যবস্থাটি ১৯৯০ সালের পর থেকে দেখে আসছি, সেটি কি অনুরূপ স্থীতিশীলতা অর্জনে সক্ষম হবে, নাকি বাংলাদেশের ইতিহাস একটু ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান? হলে সেই ভিন্ন সম্ভাবনার সম্ভাব্য চেহারাটা কী রকম হতে পারে?
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আমরা যে বিভেদ দেখছি, এটা এক দিনে তৈরি হয়নি। এই বিভেদ তৈরি হওয়ার পেছনে একটি ঐতিহাসিক পটভূমি আছে। এই ঐতিহাসিক পটভূমি না বুঝলে বিভেদটা বোঝা যাবে না এবং এই ঐতিহাসিক পটভূমি আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রাম একটি ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। এ সত্যটাকে আগে আমাদের প্রথম স্বীকার করে নিতে হবে। মুসলমানদের জন্য এক দেশ হবে আর হিন্দু হলে আরেক দেশ হবে—এই মত সঠিক হলে পাকিস্তান ভাঙার প্রয়োজন ছিল না। এই মত সঠিক নয় বলেই পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ হবে সব ধর্ম-মতনির্বিশেষে বাঙালি জাতির দেশ। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই এই জাতির সদস্য হবে।
কোনো দেশে স্বাধীনতার পর স্বাধীনতা সংহত করার জন্য দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত পরাজিত শক্তির মোকাবিলা করতে হয়। এদের মধ্যে কেউ ছদ্মবেশে আবার কেউ মুখোশ পরা অবস্থায় থাকে। দুই ক্ষেত্রেই শত্রুকে দমনে বঙ্গবন্ধু ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যর্থতার মূল কারণ, তিনি সবাইকে বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, সবাই পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি একটি উদার অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই উদার অবস্থান নেওয়ার কারণে শত্রুরা তাঁর আশপাশে থেকে গিয়েছিল। তারা পরিবর্তিত হয়নি। অথচ তিনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেননি। শত্রুরা তাদের নীতিকে বিসর্জন দেয়নি। এ জন্য তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ছিল, ছিল জামায়াতসহ ইসলামি দলগুলো। অর্থাত্ পরাজিত শক্তি। মার্কিনপন্থীরা খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে প্রথম থেকেই শত্রুর অবস্থানে ছিল। স্বাধীনতাসংগ্রামের সময়ও তিনি শত্রু ছিলেন। তাঁর প্রস্তাব ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন করার। স্বাধীনতার পক্ষে তাঁর প্রস্তাব ছিল না। শেখ মুজিবুর রহমান এটি জানতেন। জানতেন কারা তাঁর শত্রু। কিন্তু তিনি তাদের বিরুদ্ধে অনমনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এই শত্রুরা সময় ঠিক করল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশ দক্ষিণ পন্থার দিকে চলে গেল।
শুধু দেশ চলে গেল না, আওয়ামী লীগও নতুন দল হয়ে গেল। এর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নে আমলাতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পতন ঘটল। এর ফলে আওয়ামী লীগের আর কোনো বামপন্থী টান থাকল না। আওয়ামী লীগ প্রথমে সমাজতন্ত্রের পক্ষে এসেছিল, সমাজতন্ত্রের সুবিধা বেশি হবে বলে। যখন অনুকূল হাওয়া তারা পেল না, তখন তারা মনে করল, সমাজতন্ত্রে থাকার আর কোনো কারণ নেই। এদিকে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর মৃত বঙ্গবন্ধুর শক্তি আরও বেড়ে গেল। দলের কিছু নেতা ভাবলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে আসতে পারলে কাজ হবে। এভাবে আওয়ামী লীগ বিকশিত হতে থাকল।
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা বেশি লাভবান হয়েছে, তারা তৈরি করল নতুন বিএনপি। লাভবানদের লক্ষ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নীতিমালার বিরোধিতা। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এবং স্বাধীনতার পরাজিত শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করলেন বিএনপি। কারণ, তাঁরা জানতেন, পরাজিত শক্তির সঙ্গে হাত না মেলালে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা যাবে না। আওয়ামী লীগের যাঁরা চাইলেন আগের নীতিতে থাকতে, তাঁরা একত্রে মিলে প্রথমে বাকশাল করলেন। আর বাকি যাঁরা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর পিছু হটে গিয়েছিলেন, তাঁরা সোভিয়েত ভাঙার পর নিশ্চিত হলেন যে, এখন ধনতন্ত্রই করতে হবে। এখন আমরা সেই পরিবর্তিত দক্ষিণপন্থী আওয়ামী লীগকে দেখতে পাচ্ছি। এই যে পরিবর্তন হলো, তা মূলত হলো নেতা পর্যায়ে। তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একেক নেতা একেকভাবে আছেন। সর্বশেষ যাঁরা আওয়ামী লীগে থাকলেন, তাঁদের পরে আর একটু অবনতি হলো। তাঁরা মনে করলেন, যে ভোটের রাজনীতি বর্তমানে চালু আছে, তাতে বিএনপির হাতে ৪০ ভাগ ভোট আর আওয়ামী লীগের হাতে ৪০ ভাগ ভোট। আর ২০ ভাগ ভোট বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এই ২০ ভাগের মধ্যে অবশ্য ১০ ভাগ রয়েছে মৌলবাদী ভোট। তাঁরা ভাবলেন, ১০ ভাগ ইসলামি ভোট আমাদের সঙ্গে রাখতে পারলে আমরা জিতব। এই ভোটের জন্য কখনো আমিনীর সঙ্গে আবার কখনো এরশাদের সঙ্গে তাঁদের যেতে হয়।
আর উল্টো দিকে বিএনপিরও একই অবস্থা। এই ভোটের জন্য তাদের কখনো জামায়াতের সঙ্গে আবার কখনো এরশাদের সঙ্গে যেতে হয়। এ জন্য এই দুই প্রধান বুর্জোয়া শক্তির মধ্যে ক্ষমতার প্রশ্ন ছাড়া মৌলিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে যে দ্বন্দ্বটুকু আছে, তাও ধীরে ধীরে কমে যাবে। অর্থাত্ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শেষাবধি উপরিকাঠামোর কিছু ইস্যু বাদ দিলে মৌলিক কোনো পার্থক্য থাকবে না। এর পরও অবশ্য ইতিহাসের এবং উত্তরাধিকারের পার্থক্য থাকবে। আর একটি পার্থক্য থাকবে তা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর পদ একটি, দুটি নয়। এ জন্য দুজনই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।
বর্তমানে জিয়াউর রহমান ও বিএনপি ১৯৭৫-পরবর্তী দক্ষিণ পন্থার প্রতীক হিসেবে বিরাজমান। শেখ হাসিনা অবশ্য দক্ষিণ পন্থা ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের একটি মিশ্র প্রতীক হিসেবে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাদ দিয়ে দক্ষিণপন্থী একটি দল হয়ে গেছে।
এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্ব মেটানোর সম্ভাব্য রাস্তা দুটি। একটি হচ্ছে দেশের সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরাচারী শক্তিগুলো থেকে মুক্ত হয়ে দেশে একটি ভদ্র দ্বিদলীয় বুর্জোয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আর দ্বিতীয় রাস্তাটি হচ্ছে জামায়াত ও স্বৈরাচারের বিচ্ছিন্নতা এবং পরাজয়ের কারণে বিএনপির শক্তিহানি, ক্রমবিলুপ্তি ও খণ্ডায়ন। তখন দেশে একমাত্র দক্ষিণপন্থী দল হবে আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেরই কোনো না কোনো অপেক্ষাকৃত রেডিক্যাল একটি রাজনৈতিক দল।
আমার প্রস্তাবিত এই দুই সমাধানের যুক্তি-ভিত্তি আরেকটু ব্যাখ্যার দাবি রাখে। আমাদের দেশে যে দুটি অপশক্তি বুর্জোয়া গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু, তারা হচ্ছে মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী এবং ‘সামরিক বাহিনীর মধ্যে উচ্চাভিলাষী জেনারেলরা’। বামপন্থীরা যে গণবিপ্লবের কথা বলে, তা বুর্জোয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্যেই তারা এযাবত্ পরিচালনা করছে বলে তাদের বর্তমানে শাসকশ্রেণীও ‘গণতন্ত্রের’ শত্রু হিসেবে মনে করছে না। কিন্তু অন্যদিকে মৌলবাদীরা এখনো জিহাদের মাধ্যমে ইসলামি শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে এবং তাদের জঙ্গি-সম্পৃক্ততার অনেক প্রমাণও রয়েছে, যেহেতু তারা বর্তমানে গণতন্ত্রের ১ নম্বর বৈরী শক্তি। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিপদ হিসেবে নিকট অতীতে একাধিকবার আবির্ভূত হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে সামরিক বাহিনী ও ‘মৌলবাদের’ সঙ্গে আমাদের দেশে অপেক্ষাকৃত বেশি ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে রক্ষণশীল বিএনপি দলটির। তবে উদারনৈতিক আওয়ামী লীগও যে এই শত্রুদের সঙ্গে কখনো কখনো খেলেছে এবং কৌশলগত ঐক্যের মাধ্যমে বিএনপিকে ভোটযুদ্ধে পরাজিত করার প্রয়াস পেয়েছে, সেটিও আমাদের স্বীকার করতে হবে।
এই অবস্থায় এ দেশের বুর্জোয়া শাসকশ্রেণী যারা দুই দলেই আছে, তারা যদি একটি পরিষ্কার ভদ্র ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ চায়, তাহলে তাদের চিরতরে ‘মৌলবাদী-জঙ্গি’ শক্তির বিষদাঁত ভেঙে ফেলতে হবে এবং সামরিক বাহিনীকেও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির অনুগত বাহিনীতে পরিণত করার জন্য দৃঢ়ভাবে চেষ্টা করতে হবে।
ভালো খবর হচ্ছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য বাংলাদেশে এই দুটি ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুকূল! ইউরোপ ও ভারতের অবস্থান এ প্রশ্নে কিছুটা ইতিবাচক এবং খোলামেলা বলেই মনে হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি এখনো অত পরিষ্কার নয়। জামায়াতে ইসলামীর মতো মৌলবাদী দলকে তারা এখনো পরিত্যাগ করেছে বলে মনে হয় না। আর চীনকে দমানোর কৌশল হিসেবে ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কৌশল যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বে বলেও মনে হয় না। ফলে ‘সামরিক বাহিনী’ ও মৌলবাদকে এখনো নাকচ করে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যা-ই হোক, সব মিলিয়ে ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ যদি দেশীয় শাসকদের মূল কথা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মৌলবাদী শক্তি ও সামরিক ষড়যন্ত্রকারীদের অবশ্যই পরাজিত করতে হবে। সেটা করার পরিণতি আপাত বিচারে দুই রকম হতে পারে।
শাসকশ্রেণীর জন্য সবচেয়ে কাম্য হচ্ছে ‘মৌলবাদ’ ও ‘উচ্চাভিলাষী’ জেনারেলদের থেকে মুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই একটি অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল দ্বিদলীয় বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্ম দেবে এবং শাসকশ্রেণীর স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
অথবা এই প্রক্রিয়ায় রক্ষণশীল বিএনপি নিজেকে পরিবর্তন করতে অক্ষম হবে বিধায় ক্রমবর্ধমান বিভক্তি ও খণ্ডীকরণের মাধ্যমে ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাবে। তখন সেই শূন্য জায়গায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অপেক্ষাকৃত রেডিক্যাল বামপন্থীদের আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। অবশ্য এই দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি অনেকখানি নির্ভর করবে বর্তমান শাসক দল আওয়ামী লীগ ‘মৌলবাদ’ ও ‘জেনারেলদের’ বিরুদ্ধে কতখানি আপসহীন অদোদুল্যমান ভূমিকা গ্রহণ করে, তার ওপর।
তৃতীয় একটি সম্ভাবনার কথা না বললেই নয়। বিশৃঙ্খলা তত্ত্ব (ক্যাওস থিওরি) অনুযায়ী বলা যায়, অসংখ্য পরস্পরবিরোধী শক্তির টালমাটাল ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবার বিশৃঙ্খলাও ফিরে আসতে পারে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29054027 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29054027 2009-12-05 20:17:47
এগিয়ে যাও বাংলাদেশ গত পঞ্চম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কায় এই ভুটানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। কিন্তু আজ ভুটানের সাথে দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ ।

আমার সত্যি কথা আজকে বাংলাদেশের খেলা দেখে ব্রাজিল ব্রাজিল মনে হয়েছে , ওফ এত আক্রমণ , আক্রমনের পর আক্রমণ ।

খেলার ১০ মিনিটে উজ্জ্বলের কর্নার কিক থেকে পাওয়া বলে বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা মিশু থেকে বল পেয়ে প্রথম গোল করেন প্রাণতোষ ।

দ্বিতীয় গোলটিতে ও অ্যাসিস্ট করেন প্রাণতোষ , গোল করেন এনামুল ।

এর পর যদি ও ভুটান ভুয়া পেনাল্টি থেকে একটা গোল শোধ করে , যদি ও আমার কাছে সেটা কখনই পেনাল্টি দেবার মত ফাউল মনে হয় নি।

তৃতীয় গোলটি ও করেন এনামুল হেডে কর্নার কিক থেকে ।

তবে চতুর্থ গোলটি করেন এমিলি , অসাধারণ গোল , অসাধারণ ; বাংলাদেশের সেরা স্ট্রাইকার ।

এছাড়া ও সারা ম্যাচে বাংলাদেশ প্রচুর সুযোগ পেয়েছে, বারে লেগে ফিরে এসেছে ।

ইপি এল , চ্যাম্পিয়নস লীগ , স্প্যানিশ লীগ দেখার পাশাপাশি আমাদের দেশের ক্লাব ফুটবল ও দেখা উচিত । আজকে খেলাটা টিভিতে দেখলেও আশা করি পরবর্তী খেলা টা মাঠে গিয়ে দেখব ।

আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ এবার চ্যাম্পিয়ন হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29053726 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29053726 2009-12-05 06:28:13
২০১০ বিশ্বকাপ Click This Link

গ্রুপ গুলোর অনেক বার দেখা হয়ে গেছে , আর এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে জি ও এইচ গ্রুপ হতে ব্রাজিল বা স্পেনের কেউ যদি তাদের গ্রুপ হতে প্রথম ও দ্বিতীয় হয়ে যায় , তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডেই তাদের পরষ্পরের মুখোমুখি হতে হবে এবং এক দলকে বাদ পড়তে হবে । সে হিসেবে দুই টপ ফেভারিটের একদল বাদ পড়লে বিশ্বকাপটাই ম্যারমেরে হয়ে যাবে। আর দুই দল যদি ঠিক মত এগোয়, মানে সবগুলো ম্যাচ জিতে তাহলে তাদের ফাইনালে দেখা হবে । সে হিসেবে সারা বিশ্ব এই দুই দলের একটা জমজমাট ফাইনাল আশা করতেই পারে ।
অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ব্রাজিল , পর্তুগাল এবং স্পেনের কাউকে বাদ পড়তেই হবে ।

সেকেন্ড রাউন্ডে এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের সাথে বি গ্রুপের রানার্সআপ , বি এর চ্যাম্পিয়নের সাথে এ এর রানার্সআপ , এভাবে সি এর সাথে ডি , ই এর সাথে এফ , জি এর সাথে এইচ গ্রুপের খেলা হবে ।

আবার কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে ফরমেশনটা হবে গ্রুপ এ & সি , বি & ডি , ই & জি , এফ & এইচ ।

আরেকটা মজার ব্যাপার হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সব গুলা ম্যাচ জিততে পারে তাহলে তাদের ফাইনালে একসাথে দেখা হয়ে যাবে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29053724 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29053724 2009-12-05 05:45:14
এগিয়ে যাও বাংলাদেশ সাফ ফুটবলের গত আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচে ভুটানের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। আবারো সেই ভুটানকেই উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে আমাদের দেশ। তবে স্বাগতিক হিসেবে আমরা আজ জয় আশা করতেই পারি।এ পর্যন্ত সাফে বাংলাদেশ ভুটানের মোকাবেলা করেছে ৩ বার। যার মধ্যে ২ বারই ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ।

সাফ ফুটবলে ২০০৩ সালে দেশের মাটিতে শিরোপা জয়, সেটাই ছিল একমাত্র । বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল মালদ্বীপ। জয় এসেছিল টাইব্রেকারে। সাউথ আফ্রিকা যদি শুধু স্বাগতিক বলে ২০১০ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখে তাহলে আমরা বাঙালী হয়ে এই সাফ শিরোপা দ্বিতীয়বারের মতো জেতার স্বপ্ন দেখতেই পারি । তবু ডিডোর বিদায়ের পর একটু শঙ্কা ও ভয় ঘিরে আছে ।


সাফ বিজয়ের স্বপ্ন নিয়েই ইনশাআল্লাহ কালকে খেলা দেখতে যাব আশা রাখি ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29053245 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29053245 2009-12-04 05:10:56
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ
গ্রুপ এ
বোর্দে (১০ পয়েন্ট ) : খেলা বাকী জুভেন্টাস ও ম্যাক্কাবীর সাথে । ড্র করলেই উঠে যাবে নক আউট পর্বে ।
জুভেন্টাস (৮ পয়েন্ট ) : দুটা ম্যাচের মধ্যে একটিতে জিততেই হবে । অবশ্য ড্র করলে ও চলবে , সেক্ষেত্রে বায়ার্নের সাথে শেষ ম্যাচটা হতে হবে গোল শূন্য ড্র ।
বায়ার্ন মিউনিখ ( ৪ পয়েন্ট ) : জুভেন্টাসের উপর নির্ভর করছে ভাগ্য । দুটা ম্যাচেই জিততে হবে তার সাথে জুভেন্টাসকে দুটাতেই হারতে হবে অথবা একটাতে হারতে হবে অপরটাতে ড্র করতে হবে বায়ার্নকে উঠাতে চাইলে ।
ম্যাক্কাবী হাইফা ( ০ পয়েন্ট ) : আশা নেই ।

গ্রুপ বি
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ( ১০ পয়েন্ট ) : রেড ডেভিলরা বীরদর্পে উঠে গেছে ।
ওলফসবার্গ ( ৭ পয়েন্ট ) : খেলা বাকী মস্কো ও ম্যান ইউ এর সাথে । উঠতে খবর হবে ।
CSKA মস্কো ( ৪ পয়েন্ট ) : আমি এর পক্ষে বাজী ধরতে চাই ।
বেসিকতাস ( ১ পয়েন্ট ) : আশা নাই ।

গ্রুপ সি
রিয়াল মাদ্রিদ ( ৭ পয়েন্ট ) : খেলা বাকী মার্শেই ও জুরিখের সাথে । অন্তত একটা জয় তো চাই ।
এসি মিলান ( ৭ পয়েন্ট ) : রিয়ালের কন্ডিশন এদের উপর ও প্রযোজ্য ।
মার্শেই ( ৬ পয়েন্ট ) : অন্তত একটি জয় ঘুরিয়ে দেবে এর ভাগ্য । ফরাসি ক্লাবের উপরই বাজী থাকবে আমার ।
জুরিখ ( ৩ পয়েন্ট ) : আশা খুবই কম ।

গ্রুপ ডি
ইংলিশ পরাশক্তি চেলসি ও পর্তগীজ ক্লাব পোর্তো নকআউট পর্বের টিকিট পেয়ে গেছে ।

গ্রুপ ই
অলিম্পিক লিঁও (১০ পয়েন্ট): একটি ড্র অথবা জয় দরকার ।
ফিওরেন্টিনা ( ৯ পয়েন্ট ) : জয় দরকার , আজকে রাতে লিঁও 'র সাথে জেতা আবশ্যক , না হলে লিভারপুলের সাথে প্রায় প্লে অফ খেলতে হবে ।
লিভারপুল ( ৪ পয়েন্ট) : ফিওরেন্টিনার উপর নির্ভর করছে ভাগ্য । ফিওরেন্টিনা আজকে রাতে যদি ড্র করে তাহলে ৩-০ গোলে জিততে হবে তাদের সাথে শেষ ম্যাচে । অবশ্য ফিওরেন্টিনা হারলে শুধু ২টা ম্যাচ জিতলেই হবে । কিন্তু ফিওরেন্টনা জিতলে আজকেই বিদায় নিতে হবে ।
ডেবেরকান (০ পয়েন্ট ) : বাদ ।

গ্রুপ এফ
ইন্টারমিলান ( ৬ পয়েন্ট ) : আজকে রাতে খেলা বার্সার সাথে । আসলে আজ রাতের পরই বোঝা যাবে কি ঘটবে এই গ্রুপের মধ্যে , তবে প্রত্যেকের জয় আবশ্যক ।
রুবিনকাজান ( ৫ পয়েন্ট ) : আজকের রাতে ডায়নামোর সাথে ড্র করে মিলান ও বার্সার পথ সুগম করে দিল ।
বার্সেলোনা ( ৫ পয়েন্ট ) : খুবই করুণ অবস্থায় রয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। আজকে রাতে মিলানের সাথে খেলা ও শেষ ম্যাচ তুলনামূলক সোজা ডায়নামোর সাথে । তবে নিজেদের মাঠে কেমন করবে তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে ও বলে দেবে আজ ভবিষ্যতের সমীকরণ।
ডায়নামো ( ৪ পয়েন্ট ) : সম্ভাবনা উড়িয়ে ও দেয়া যায় না ।

গ্রুপ জি
সেভিলা ( ১০ পয়েন্ট ) : নির্দ্বিধায় উঠে গেছে স্প্যানিশ এই টিম ।

ইউনিরিয়া উর্জিসেনি ( ৫ পয়েন্ট ) ও স্টুটগার্ট ( ৩ পয়েন্ট ) এর মধ্যে আমার বিশ্বাস স্টুটগার্ট ই যাবে । রেন্জার্সদের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে

গ্রুপ এইচ

আর্সেনাল ( ১০ পয়েন্ট ) : গানার্সরা চলে গিয়েছেই ধরা যায় ।
অলিম্পিয়োকাস ( ৬ পয়েন্ট ) , স্টান্ডার্ড ( ৪ পয়েন্ট ) এর মধ্যা অলিম্পিয়োকাস যাবে বলে মনে হচ্ছে ।

আর আধা ঘন্টা পরেই শুরু হচ্ছে বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলানের ম্যাচটা (টেন স্পোর্টস ), আশা করি কেউ মিস করবো না ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29049214 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29049214 2009-11-25 02:20:51
রোড টু আফ্রিকা
গ্রুপ ১ :

সাউথ আফ্রিকা
জার্মানি
ব্রাজিল
ইটালি
স্পেন
ইংল্যান্ড
নেদারল্যান্ড
আর্জেন্টিনা

গ্রুপ ২:

ফ্রান্স
পর্তুগাল
সুইজারল্যান্ড
গ্রীস
সার্ভিয়া
ডেনমার্ক
স্লোভাকিয়া
স্লোভেনিয়া

গ্রুপ ৩ :

মেক্সিকো
ইউ এস এ
সাউথ কোরিয়া
জাপান
অস্ট্রেলিয়া
হন্ডুরাস
নিউজিল্যান্ড
নর্থ কোরিয়া

গ্রুপ ৪ :

প্যারাগুয়ে
ঘানা
ক্যামেরুন
আইভরি কোস্ট
নাইজেরিয়া
উরুগুয়ে
আলজেরিয়া
চিলি

অপেক্ষায় আছি ৪ঠা ডিসেম্বরের ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29047944 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29047944 2009-11-22 18:17:33
Cowboys From HELL Nobody touches us at all,
Showdown, shootout, spread fear within, without.

We're gonna take what's ours to have,
Spread the word throughout the land,
They say the bad guys wear black;
We're tagged and can't turn back.

You see us coming ;
And you all together
Run for cover.

We're taking over this town.

Here we come reach for your gun,
And you better listen well my friend, you see;
It's been slow down below
Aimed at you we're the cowboys from hell.

Deed is done, again we won,
Ain't talking no tall tales friend cause
High noon, your doom;
Coming for you we're the cowboys from hell

Pillage the village, trash the scene,
But better not take it out on me;
'Cause a ghost town is found,
Where your city used to be.

So out of the darkness and into the light
Sparks fly everywhere in sight
From my double barrel, 12 gauge, Can't lock me in your cage step aside for the Cowboys From Hell!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29035253 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29035253 2009-10-31 14:44:30
শেষ পর্যন্ত ভাল হল না শুরুটা Alberto aquilani' র গতকাল কার্লিন কাপে গানার্স দের সাথে ম্যাচে ৭৭ মিনিটে হঠাৎ দেখা পেলাম এই ইতালিয়ান কে । খুব একটা খারাপ খেলে নি এই সেন্ট্রাল মিড । কিন্তু গোলের দেখা মেলে নি । অবশ্য প্রথম ম্যাচে একটু বেশি আশা হয়ে গেল , কিন্তু তাকে নামানোই হয়েছিল একটি গোলের আশায় , কারণ তখন রেড রা ২-১ এ পিছিয়ে আছে ।
চমৎকার একটা বাইসাইকেল কিক নিয়েছিল যেটা হতে পারত গোল কিন্তু পেনাল্টিবক্সের ভিতর আর্সেনাল ডিফেন্ডার সেন্ডেরসের হাতে লেগে গেল , রেফারীর চোখ এড়িয়ে নিশ্চিত একটা পেনাল্টি পেল না লিভারপুল , ম্যাচ হেরে গেল ২-১ গোলে ।
শুরুটা ভাল হল না অ্যালবার্তো অ্যাকুইলানির ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29034416 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29034416 2009-10-30 01:34:30
Conversation of a student & her home tutor
" জ্বী , মিচ্চোনিয়া "

ঠিক বুঝলাম না , কি নাম বললে ?

" মিচ চোনিয়া , চার , চাবরিনা চিদ্দিকা চোনিয়া "
ও আচ্ছা আচ্ছা সোনিয়া । তো পড়াতে পড়াতে আরেকদিন বলল " চার আপনি ভেন্ডের গান লাইক করেন ? "
ভেন্ডের গান আবার কি? বল ব্যান্ডের গান । হ্যা করি ।
" চার কোন ভেন্ড আপনার পেবারিট? "
নির্দিষ্ট কিছু না , সবারই শুনি ।
" চার আমার হল চোলচ । চোলচের পরেষ্ট হিলে গানটা চুপার লাগে চার , প্যানটাচটিক লাগে ।"

তো আরেকদিন বলল " চার আপনার কুনো অ্যাপেয়ার আচে ? "
আমি কিছুটা শীতল দৃষ্টিতে তাকালাম । তবু ও সে বলল "বলেন না চার আচে ? "
হ্যা , আছে ধমকের সুরে বললাম ।
" হি হি হি তা বাবীর নাম কি চার? "
মাধুরী দিক্ষিত ।
" ই হি হি .... আপনি চার একদম চিরিয়াচ না শুধু পান করেন । "
" হি হি হি ...... ও বালা কথা চার , আপনাকে তো একটা কবর দিতে হবে "
কি বললে আমাকে কবর দিতে হবে?
" জ্বী চার জরূরী কবর , আগামী বিশ তারিখ আমার ভোনের বিয়ে "
ভোনের নয় বল বোনের ।
" চার কাওয়া দাওয়া কিন্তু কমিন্টি চেন্টারে হবে না , চাদে হবে ।"
কী চাঁদে হবে ?
" জ্বী চার আপনাকে খাট দেব "
আমাকে খাট দেবে, মানে?
"মানে চার বিয়ের খাট"
হোয়াট বিয়ের খাট ? আমাকে?
"জ্বী চার দাওয়াত খাট "
ও আচ্ছা কার্ড , ইনভাইটেশন কার্ডের কথা বলছ তুমি ।
" জ্বী চার জানেন আমার দুলাভাই না দেখতে টিক ভোম্বের হিরুদের মতন ।"

ভোম্বে নয় বোম্বে , আর হিরু নয় হিরো । তা উনি দেখতে কোন হিরোর মত?

" হি হি হি .....দেকতে? উনি দেকতে টিক ভোম্বের চালমান কান চার ।"


সংগ্রহ : ফেইসবুক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29033774 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29033774 2009-10-29 00:26:24
মনে পড়ে গেল ৯৮ বিশ্বকাপের কথা আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের খেলার দিন । খুব মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছি । প্রথম গোল টা পেনাল্টি থেকে করল বাতিস্তুতা , পরের গোলটা করল অ্যালান শিয়ারর , তিন নম্বর গোলটা করল মাইকেল ওয়েন এবং গোলটা ছিল " সাইড গোল " । অসাধারণ সেই গোল , চোখে লেগে থাকার মত গোল । আমি মাইকেল ওয়েনের ভক্ত হয়ে গেলাম ।

মাইকেল ওয়েন লিভারপুলে তার ক্যারিয়ার জীবন শুরু করেন এবং দুর্দান্ত ফর্মে থাকাকালীন সময়ে রিয়াল মাদ্রিদে চলে যান , কিন্তু রিয়ালে যাবার সাথে সাথে ভাগ্য বিধাতা কেন জানি মুখ ফিরিয়ে তাকান । ফর্ম পড়তে থাকে , চলে আসেন নিউক্যাসলে । এই মৌসুমে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনস মুখ তুলে তাকান তার দিকে ।

গতকাল লিগ কাপে Barnsley এর বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলটা করেন ওয়েন এবং আবার সেই নয়ন জুরানো সাইড গোল বা ওয়েন টাইপ গোল । চলে গেলাম ৯৮'র বিশ্বকাপে , চলে গেলাম ক্লাস সিক্সের উন্মাদনায় , যদি ও আমি রেড ডেভিলদের সাপোর্টার নই কিন্তু মাইকেল ওয়েনের কারণে একটু একটু সাপোর্ট হয়ে যাচ্ছে ।

বিধাতার কাছে মিনতি করি যেন ক্যাপেলো ওয়েনকে তাঁর টিমে সুযোগ করে দেন আর আমরা ও ২০১০ এর বিশ্বকাপে আবার ও সেই ১৮ বছরের ওয়েনের ঝলকানো রূপ দেখতে পাই । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29033481 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29033481 2009-10-28 16:10:28
নেপালী ল্যাপটপ জ্যোতিষী " style="border:0;" />।

সংবাদটি ছিল এমন :

নেপালি গৃহবধূ দীপশ্রী জোশি। নিজের ভূত-ভবিষ্যত্ জানতে একসময় ধরনা দিতেন জ্যোতিষীর চেম্বারে। ভবিষ্যত্ জানার জন্য তাঁকে সেখানে অপেক্ষা করতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিন্তু দীপশ্রীকে এখন কোনো জ্যেতিষীর চেম্বারে যেতে হয় না, অপেক্ষা করতে হয় না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ললাটের লিখন জানার জন্য এখন শুধু একটি ফোনের কলই যথেষ্ট। দীপশ্রী এখন শুধু একটি ফোন করেই জেনে নিচ্ছেন নিজের ভাগ্যের লিখন।
বাসুদেব কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি সবার কাছে পরিচিত ‘ল্যাপটপ জ্যোতিষী’ হিসেবে। ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে টেলিভিশনে ফোন-ইন শো নামের একটি অনুষ্ঠান চালু করেন তিনি। তাঁর ওই অনুষ্ঠানে ফোন করে দর্শকেরা জেনে নিচ্ছেন নিজের ভাগ্যের লিখন। ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানটি। জাতীয় সেলিব্রিটিতে পরিণত হন শাস্ত্রী। গড়ে ওঠে তাঁর বিশাল ভক্ত শ্রেণী।
এখন জ্যোতিষীর চেম্বারে না গিয়ে ওই অনুষ্ঠানে ফোন করে নিজের ভাগ্য জেনে নিচ্ছেন দীপশ্রী জোশির (৩৯) মতো হাজারো মানুষ। দীপশ্রী বলেন, এটা এতটাই সুবিধাজনক ও চমকপ্রদ যে টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে শুধু একটি ফোন করেই নিজের ভাগ্য জেনে নেওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের বিশ্বাস করি। কারণ তাঁদের দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণী প্রায়ই সঠিক প্রমাণিত হয়। আমার অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে অনুষ্ঠানটি আমাকে সহায়তা করছে।’
ফোনদাতা ব্যক্তিদের ভবিষ্যত্ জানতে বিশেষভাবে তৈরি একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন শাস্ত্রী (৩৪)। অনুষ্ঠানে তাঁকে সহযোগিতা করেন একজন নারী উপস্থাপক। ফোনদাতা ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ করেন তিনি।
প্রথম দিকে অনুষ্ঠানটি সপ্তাহে এক দিন প্রচার করা হতো। কিন্তু অনুষ্ঠানটি এতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে টেলিভিশন চ্যানেল কান্তিপুর টেলিভিশন এ অনুষ্ঠানটি প্রতিদিন প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়। সপ্তাহে প্রায় ৫০০ মানুষ অনুষ্ঠানে ফোন করে থাকে।
শাস্ত্রী বলেন, ‘গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের পরিবর্তন বিশ্বের সবাইকে প্রভাবিত করে থাকে। আজকের এই দিনে আপনি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছেন। জ্ঞান পুরোনো, কিন্তু আপনি নতুন নতুন চিন্তাধারা একীভূত করতে পারেন। এটা একটা ফিউশন।’ অনলাইনে গ্রাহকসেবা দেওয়ার জন্য এখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করছেন বাসুদেব কৃষ্ণ শাস্ত্রী।
শাস্ত্রীর অনুষ্ঠানে ফোন করছে স্কুলের শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ লোকজন। নানাজন নানা বিষয়ে জানতে চায়। জানতে চায় পরীক্ষার ফলাফল থেকে শুরু করে বিয়ের খবর পর্যন্ত। স্কুলের শিশুরা ফোন করছে পরীক্ষার ফল জানতে। নাতি-নাতনিরা কাকে বিয়ে করতে যাচ্ছে, সেটা জানতে ফোন করছেন বয়োজ্যেষ্ঠ দাদুরা।
তবে মানুষ সবচেয়ে বেশি জানতে চায় তিনটি বিষয়। এগুলো হচ্ছে তাঁরা কাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন, তাঁরা কী পরিমাণ আয় করবেন এবং কপালে বিদেশ ভ্রমণ আছে কি না? শাস্ত্রী জানান, তরুণেরা বিশেষ করে জানতে চান, তাঁরা মনের মানুষকে পাবেন কি না?
হিন্দু অধ্যুষিত নেপালে জ্যোতিষবিদ্যার শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। যেখানে বিয়ে, এমনকি নির্বাচনের তারিখও নির্ধারণ করা হয় গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে। আর এ কারণেই অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শাস্ত্রী বলেন, মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই কৌতূহলী। মানুষ নিজের ও নিজের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে জানতে চায়। তিনি জানান, ভবিষ্যত্ জানতে তাঁর কাছে যাঁরা আসেন, তাঁদের মধ্যে অনেক বড় রাজনীতিকও রয়েছেন।
শাস্ত্রী বলেন, রাজনীতিকদের জিজ্ঞাস্য হচ্ছে, তাঁরা ক্ষমতায় যেতে পারবেন কি না, ভবিষ্যতে সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না? তিনি বলেন, অনেক কমিউনিস্ট নেতা তাঁর কাছে এসে নিজেদের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাঁর গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন অনেক জ্যেষ্ঠ মাওবাদী নেতাও।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29033476 http://www.somewhereinblog.net/blog/bitter/29033476 2009-10-28 15:22:17