আমাদের মধ্যে অনেকেই বাসে চলাচল করি। এ সময় আমরা নানান ধরনের মানুষের দেখা পাই, নানা রকম ঘটনারও সম্মুখীন হই। আমি এমনই কিছু অপ্রিতিকর কিন্তু মজার ঘটনার কথা বলছি। শিরোনাম দেখে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ঘটনার বিষয়বস্তু নারী!
১। ঘটনাটি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে শোনা। তার ভাই তখন বুয়েটে পড়তো। তো একদিন বাসে করে যাওয়ার সময় সে দেখল যে পাশে একটি সুন্দরী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তখন আবার বাসে মহিলা/শিশু/ প্রতিবন্ধী সিট ছিল না। বড় ভাই ভদ্রতা করে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনি ইচ্ছে করলে আমার সিটে বসতে পারেন’। মেয়েটি কটমট করে তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমার জন্য আপনার এত দরদ লাগছে কেন?’ বাসে এতজনের সামনে এই কথা শুনার পরে বড় ভাইয়ের চেহারাটা কেমন হয়েছিল তা আজও দেখতে ইচ্ছে করে বারবার!
২। এই ঘটনাতে ভুক্তভোগী আমি নিজে! বাসের চিরাচরিত নিয়ম হচ্ছে যত পারো লোক উঠাও, একদম গাদাগাদি করে লোক না তুললে তাদের শান্তি হয় না, মানুষও আবার টিকেট কেটে দাঁড়িয়ে যায়। কি করবে, যেতে তো হবেই। সেদিনও তার ব্যাতিক্রম কিছু হল না। তবে আমি আরামে ছিলাম, সিটে গা এলিয়ে শান্তিতে ভ্রমন যাকে বলে! পাশেই দেখলাম ৩টা মেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। একবার ভাবলাম দাঁড়িয়ে যায়গা দেই, পরে ভাবলাম ৩ জন কাকে ছেড়ে কাকে জায়গা দিব, এর চেয়ে আরামে ঘুমাই (বাসে ঘুমানোর কোন জুড়ি নাই ভাই!

)। বাস যথারিতি জ্যামে পড়ল এবং সবাই অতিষ্ষ্ঠ। এবার আসল ঘটনা শুরু। একটি মেয়ে ঠিক আমার সামনে তার পিঠ দিয়ে বাকা হয়ে সামনে কতদুর জ্যাম তা দেখতে লাগলো। আমার অদ্ভুত লাগলো, কি ব্যাপার! একদম আমার নাকের সামনে এভাবে পিঠ দেয়ার কি দরকার!

এরপর মেয়েটির ওড়না পড়ল ঠিক আমার কাধে। মেয়ে তিনজন গল্প করছিল, আমি ভাবলাম হয়ত খেয়াল করেছে না। আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে আছি! এরপর মেয়েটি আমার কাধে চাপ দিয়ে দাঁড়ালো (শালীনতার জন্য আর বিস্তারিত বলছি না কিভাবে দাঁড়ালো, পজিশনটা কল্পনা করে নেন)।

আমি আবার সবকিছু পজিটিভ ভাবে দেখি, ভাবলাম বাসে জায়গা নেই তাই এমন করছে। হঠাৎ খেয়াল করলাম কে যেন আমার পায়ে তার পা দিয়ে আলতো ভাবে স্পর্শ করছে (বাসে স্যান্ডাল খুলে তার উপর পা রেখে আরাম করে বসা আমার পুরনো অভ্যাস)। পাশে তাকিয়ে বুঝলাম সেই মেয়েটি, যাইহোক পাত্তা দিলাম না ভাবলাম ভুলে লাগতে পারে! এবার আর পা সরাচ্ছে না, আস্তে আস্তে করতেই থাকল। অদ্ভুত! এবার আমি নিশ্চিত যে মেয়েটা ইচ্ছে করেই এমন করছিল এতক্ষণ, প্রচণ্ড বিরক্ত লাগল।

ভাবলাম কিছু বলি, তারপর ভেবে দেখলাম মেয়েটি চিৎকার চেঁচামেচি করলে শেষে নিজেই বিপদে পড়ব, কারণ সব সময় মেয়েদের সাহায্য করতে বাসে কিছু নায়ক থাকে তারা আমারই কিছু দোষ খুজে বের করবে আর আমি কিছু প্রমান করতে পারব না।

সৌভাগ্যক্রমে আমার গন্তব্য এসে পড়ল আর আমি নেমে গেলাম। ভাবতে লাগলাম এই দেশের মেয়েদের এ কি হাল, অবিশ্বাস্য!
৩। এবারের গল্পের কালপ্রিট(!) আমি নিজে।

বাসে যে খুব ভিড় হয় সেটা তো নতুন করে বলতে হবে না। বাসে দাঁড়িয়ে আছি, এক কাধে ব্যাক প্যাক, আরেক হাত দিয়ে কোন মতে বাসের উপরে ধরে কোনমতে দাঁড়িয়ে আছি। ব্যাগের ভিতরে মোটা মোটা বই।

বাসের ড্রাইভাররা আবার অতিশয় ভদ্র, তারা খুব সুন্দর করে ব্রেক করে! তেমনি একটি সুন্দর ব্রেক করলো বাস ড্রাইভার। আমি তাল ঠিক রাখতে না পেরে সামনে পড়ে যাচ্ছিলাম। তখন সামনে থাকা একটি মেয়ের নিতম্বে আমার হাত লেগে গেল, তাও আবার খুব জোরে, অনেকটা ইচ্ছে করে চাপ দেয়ার মত।

মেয়েটি ঘুরে আমার দিকে কটমট করে তাকাল, আমি অপরাধীর মত চোখ নামিয়ে নিলাম। মেয়েটি আমারই বয়সী। একবার ভাবলাম সরি বলি কিন্তু আমি এতটাই লজ্জা পাচ্ছিলাম যে কিছু বলতে পারলাম না। বাস থেকে নামার সময় দেখলাম আমি যেখানে নামছি, মেয়েটাও সেখানে নামলো। সে আমার আগে হেটে যাচ্ছিল, মাঝে মাঝে আমাকে দুই একবার বিষদৃষ্টি দিল।

ভাবলাম ডাক দিয়ে সরি বলি, পরে ভাবলাম শেষে হিতে বিপরীত হতে পারে। আর কি করব, আমার গন্তব্ব্যে হাটা শুরু করলাম।
৪। এই ঘটনাটি নিত্যদিনের। বাসে এখন মহিলা/শিশু/প্রতিবন্ধী সিট আছে। কিছু ছাগল টাইপ লোক সবসময় ওই সিটগুলোতে বসবে।

দেখা যায় বাসে অনেক সিট খালি তাও তারা ওই সিটগুলোতে বসে। শেষে মেয়েদের সাথে ঝগড়া। আমি এই ধরনের ঘটনাগুলো দেখি কিন্তু পক্ষ বিপক্ষে কিছু বলি না। কারণ তাদের বুঝানোর সাধ্য আমার নেই। অনেকে বলে মহিলা সিটে যদি পুরুষ বসতে না পারে তাহলে পুরুষ সিটে মহিলা বসবে কেন?

আরে আজব, ভাই পুরুষ সিট বলে আসলে কিছু নাই।

মহিলাদের জন্য কিছু সিট নির্দিষ্ট, আর বাকি সিটগুলোতে সবাই বসতে পারবে। আমাদের তো যেনতেন ভাবে বাসে চলার অভ্যাস আছে, তারা তো পারবে না। মহিলারা এমনিতেই শারিরীকভাবে দুর্বল হয় (নারীনেত্রীরা যতই ভাব ধরুক না কেন পুরুষের সাথে তাল মিলানোর, এটাই সত্য

), তাদের একটু সুযোগ দিলে ক্ষতি কি? তারা না হয় এক্সট্রা খাতির পেল প্রথম দিকের সিটগুলোতে বসার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৩:১২