State of play, millennium trilogy এর তিনটা মুভি এসব সাংবাদিকতা নিয়ে তৈরি। এই মুভিগুলো দেখার পর থেকে সাংবাদিকদের জন্য আমার এক ধরনের শ্রদ্ধা মেশানো অনুভুতি হত। কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারল তখন একটি পত্রিকাতে সাকিবকে একজন সাবেক খেলোয়াড় নামে খোলা চিঠি দিল। আর সবাই তা পড়ে ছিঃ ছিঃ করতে লাগলো। অনেকেই সাকিবের বিপক্ষে চলে গেল। আমি তখন আসলেই সাংবাদিকদের উপর বিরক্ত হয়ে উঠলাম। নেটে সাংবাদিকতা নিয়ে সার্চ দিতে গিয়ে পেলাম একটি অসাধারন মুভি নাম Shattered Glass।
সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি এই মুভির কাহিনী সত্যিই মনোমুগ্ধকর। স্টিফেন গ্লাস একজন তরুন সাংবাদিক, অল্প বয়সেই সে অনেক নাম করেছে। সে অনেক ভাল রিপোর্ট করত। সদা হাস্যজ্জল এই লোক সবার সাথেই ভাল ব্যাবহার করত, সে কোন ভুল করলে তা অকপটে স্বীকার করত, সবাই তাকে ভালবাসত। তার ছিল গল্প বলার এক অসাধারন ক্ষমতা। সে তার নিজের যোগ্যতার কারনে The New Republic পত্রিকাতে সহ সম্পাদক নিযুক্ত হয়েছিল, সম্পাদক মাইক তাকে খুবই পছন্দ করত। মালিকের সাথে মতের মিল না হওয়াতে সম্পাদক মাইকের চাকরি চলে যায়। নতুন সম্পাদক ছিল চাঙ্ক। যথারিতি স্টিভ একটি রিপোর্ট করল, সবাই অনেক সুনাম করল তার। সে রিপোর্ট করেছিল একটি কোম্পানি তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাঙ্গার সাথে জড়িত ছোট একটি কম্পিউটার জিনিয়াসকে চাকরি দিয়েছে। তারা ছেলেটির সাথে দেখা করে, তাকে চাকরি দেয়, সেখানে আবার একটি হ্যাকারদের মিলনমেলা হয়েছিল। তারা সবাই ছেলেটিকে রকস্টারের মত সম্মান দিচ্ছিল! যাইহোক তার রিপোর্টের অনেক ফাক ছিল যা এডাম পেনেনবাগ নামের Forbes এর একটি অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক ধরতে পারেন। তিনি ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখেন যে ওই কোম্পানি বা ওই হ্যাকারের অস্তিত্ব নেই কোথাও, হ্যাকারদের এমন কোন সম্মেলনও হয়নি। এত বড় একটি কোম্পানি কিন্তু তার কোন কিছু কেউ জানেনা, তার দেয়া সমস্ত সূত্র মিথ্যা, বানোয়াট! যাইহোক স্টিভের নতুন সম্পাদক চাক এসব জালিয়াতি ধরে ফেলে এবং তাকে চাকরি থেকে বহিস্কার করা হয়। পরে চাক দেখতে পায় স্টিভের জীবনে করা ৪১ টি বহুল আলোচিত রিপোর্টের ২৭টি ই ছিল তার বানানো মনগড়া কাহিনী, অথচ তারা কেউ ধরতে পারেনি আগে!
Shattered Glass (2003)
খুবই সুন্দর একটি মুভি। আশা করি সবাই দেখবেন।
এবার আমার পোস্টের দ্বিতীয় অংশে আসি। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই আমাদের দেশের একদল লোক সাকিবকে নিয়ে নানান কথা প্রচার শুরু করেছিল। সাংবাদিকরা তাতে ইন্ধন যুগিয়েছে ভাল মত। ভারতের সাথে আগে ব্যাটিং না নেয়া ভুল ছিল, সাকিবের সাথে আশরাফুলের দ্বন্দ্বের কারণে আশরাফুল দলে জায়গা পায় না, হেন তেন!
১। জনৈক সাবেকের চিঠিঃ একজন সাবেক খেলয়াড় চিঠি দিল কিন্তু তার কোন নাম নেই। আরে আজব! নাম গোপন করে লিখবে কেন? এমন নাম গোপন করে তো আমি নিজেও নিজেকে সাবেক ক্রিকেটার বলে চালিয়ে দিতে পারি!
২। সাকিব নাকি মদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেঃ এই কর্মের জন্য জরিমানা হতে পারে। এর আগেও অনেক ক্রিকেটারকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, জাতিগত সাম্প্রদায়িক কথা বলার জন্য আই সি সি জরিমানা করেছে। এখন কথা হচ্ছে এই ছবিতে কোন তারিখ উল্লেখ করা নেই! এটা কবেকার ছবি কে জানে! ই এস পি এন এর বড় বড় ফটোগ্রাফাররা এটা দেখেনি, কিন্তু কোথাকার কে এসে বলে দিল যে, হ্যাঁ সাকিব এটা ঐদিন ই করেছে! আর সাকিব দর্শকদের দেখিয়েছে কিভাবে বুঝলেন?
৩। বাংলা ভিশনে দেখান ভিডিওঃ আয়ারল্যান্ড এর সাথে জিতার পর একটা ২২-২৩ বছরের ছেলেকে আজাইরা প্রশ্ন করার পরে সে মজা করে যেসব উত্তর দিল, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে হারের পরে দেখানোর অর্থ কি?
বি ডি আর বিদ্রোহের সময় প্রথম দিকে সব টিভি চ্যানেলে সেনা বাহিনী আর বি ডি আর নিয়ে এমন সব কথা প্রচার হয়েছে যে আমাদের দেশে একটি গৃহ যুদ্ধ লেগে যেতে পারত। সারাদেশে যদি বি ডি আর রা ক্ষেপে গিয়ে বর্ডার ছেড়ে দিত তাহলে কি হত একবার চিন্তা করে দেখুন।
আর ছোট খাট ভুল যদি ধরি তাহলে, রোনালদো মেসি দ্বৈরথ নিয়ে লিখতে গিয়ে একবার একটি সংবাদ পত্রে দেখেছিলাম ব্রাজিলের রোনালদোর ছবি দিয়েছে!
আশাকরি সবাই এ ব্যাপারে আমার সাথে একমত হবেন যে, এখন এক একটা সংবাদ পত্র দেখলেই বুঝা যায় এটা অমুক দলের সংবাদপত্র!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


