somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জীবনের যাঁতাকলে জন্মই আজ ভুলতে বসেছি আর জন্মদিন সেতো এক বিলাসবহুল স্বপ্নের নাম মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে

আজ ১৪ই মার্চ, ১৯৮২ সালের এমনই এক আগুনঝরা দিবসে সময়ের বুক চিরে দীর্ণ করেছিলাম আমার মায়ের শরম। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে জানান দিয়েছিলাম পৃথিবীকে আমি বিজয়ী। আমার দাদাজান আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে জানিয়ে দিয়েছিলেন তার মেঝ ছেলের সন্তান জন্মের শুভক্ষন। আমার বাবা হয়তো খুশীতে বাড়ীর সাবার সাথে কোলাকুলী করছিলেন আর খোদা তা'য়ালার শুকরিয়া আদায় করছিলেন। আর মা। আমার মা, আমি জানিনা , কখনো জিজ্ঞেসও করিনি তার অনুভুতি। তবে বুঝতে পারি, আমিতো তারই সন্তান, তারই ভ্রুণ থেকে তারই সুরক্ষিত সুতাপে সূদীর্ঘ দশটি মাস তিলে তিলে সমস্ত প্রচেষ্টার মায়াময় তিতিক্ষায় জন্ম নেয়া সন্তান। আমি আমার মায়ের আবেগ, ভালোবাসা ও অনুভূতির সবটুকুই বুঝতে পারি। ভূমিষ্ট আমার কান্না শুনে সেদিন নিশ্চয় আমার মা বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি ও তার সন্তান দুজনেই বিজয়ী। নিশ্চয় আমার মা নিরবে কেঁদেছেন বিজয়ীনির সুখের হাসি। মা, মাগো আমি তোমার সেই সন্তান যার আজ ২৯ তম জন্ম জন্মদিন। কত বড় হয়েছে দেখো তোমার ছেলে।

মা ও বাপে করলা বন্দি খুশীর মাঝারে

কিছু স্মৃতি মনে পড়ে, কিছু পড়েনা। মনের জানালায় উঁকি দেয়া হাজার স্মৃতি সময়ে সময়ে মনে করিয়া দেয় বাবা মাকে কত কষ্ট আর যন্ত্রণা দিয়েছি। তবে সময়ের স্রোতে আমি যখন বড় হয়ে উঠছিলাম ঋজু দেবদারুর মতো বাবা-মায়ের আদরে কখনো বুঝিনি অনেক কিছুই আবার হয়তো বুঝিনি কোন কিছুই। মা- বাবাকে বহু আব্দারে আব্দারে জ্বালাতন করেছি অহর্নিশি। মা আমাকে গোসল করানোর সময় কোথাও একটু ব্যাথা পেলে বিকেলে বাবাকে নালিশ করতাম। বলতাম মা আমাকে কানে, পিঠে ব্যাথা দিয়েছেন। বাবা ভিক্সের ডিব্বা থেকে ভিক্স নিয়ে মালিশ করে দিতেন সযতনে। আর ভান করতেন তিনিই সবচেয়ে বেশী বুঝেছেন আমার কষ্টটা। আর হালকা করে বকে দিতেন মাকে। দুষ্টুমী করলে আম্মাই শাসন করতেন বেশী। তার প্রিয় বেত ছিলো পাটের শুকনো কাঠি। মা কত হাজার পাট কাঠি যে ভেঙ্গেছেন আমার পিঠে তারও কোন শেষ নেই। আব্বা স্কুল থেকে ফিরে আবার আদর করে দিতেন। ঈদে আমার পছন্দ আর আমার জামা কাপড় খুব গুরুত্বপূর্ন ছিলো। সবার চেয়ে সুন্দর আর ভালো হওয়া চাই, দিতেই হবে এবং পেতামও। মা টুকিটাকি করে সংসারের খরচ থেকে বাঁচানো টাকা আমার জন্য খরচ করতেন। আর বাবা স্কুলের সামান্য বেতনের চাকরী করে খুব কষ্ট করে সংসার চালাতেন যা তখন বুঝতাম না। তবুও আমার চাওয়া যেনো না পাওয়াতে পরিনত হয়না সেদিকে ছিলো তার প্রানান্তকর প্রচেষ্টা। পুরনো হওয়ার আগেই নতুন স্কুলব্যাগ, শার্ট, স্যান্ডেল পেয়ে যেতাম। দিন এভাবেই বহমান স্রোতের মতোই চলছিলো, আজ মনে হয় সেইসব দিনই ভালো ছিলো। ক্লাস সিক্সে উঠার সাথে সাথেই সিলেটের সনামধন্য এক স্কুলে ভর্তি হতে হলো। সময়ের নিয়ত খেলায় যখন আমি বাবা-মায়ের ছায়ার বাইরে শহরে যাচ্ছি তখন টের পাই যেন এক ঝড় আমার হৃদয়টাকে উলট পালট করে দিচ্ছে। অনুধাবন করেছিলাম আমার মায়ের আঁচলের ভালোবাসা আর পিতার স্নেহের টান।
লালে ধলায় হইলাম বন্দি পিন্জিরার ভিতরে


পিঞ্জিরায় সামাইয়া ময়না ছটফট ছটফট করে

শহরের অজানা আলোবাতাস কেমন যেনো কঠিন ঠেকতো আমার কাছে। বাড়ীর জন্য মন খুব টানতো। মাঝে মাঝে বাড়ি যখন যেতাম, মা আমায় চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিতেন। ভালো খাবারগুলো আলগা করে রেখে দিতেন তার ছেলের জন্য। আবার যখন ফিরে আসতাম শহরের নিয়ম শৃংখলার কারাগারে তখন খুব নস্টালজিক হয়ে পরতাম। বাড়ী থেকে ফেরার পথে দেখতাম আমার মায়ের চোখে অঝোর বরষা। বুকের ভিতর মনের ক্ষ্টকে চেপে রেখে বিদায় নিতাম আবার আসবো কথা দিয়ে। শহরের রকমারি আলো ঝলমল সময়গুলো আমাকে ভিষন বেদনায় নীল করে দিতো কখনো কখনো। ছটফট করতাম যন্ত্রণায়। মা-বাবার থেকে দূরে থাকার এ যন্ত্রণায়। নিরবে, নিভৃতে কত যে কেঁদেছি, ভিজিয়েছি বালিশের তুলো। পরদিন হয়তো আবার সবকিছু ভুলে সময়ের সাথে ভেসে গিয়েছি। এভাবেই এক ধরনের মানসিক পীঁড়ার মধ্যে বেড়ে উঠা। আমার পরীক্ষার সময়গুলোতে আম্মা নফল রোজা রাখতেন। তাই হয়তো আল্লাহ্ সবসময় সহায় হয়েছেন। স্কুল, কলেজের গন্ডি পেরিয়ে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলাম। আরো বড় শহর। আরো বেশী ঝলমলে বাতি। আর বড় রাস্তা। আরো বেশী ঘোমট হাওয়া, ধুলিঝড়। আরো বেশী কূটিলতা। আরো বেশী মানুষ, কোটি মানুষের শহরে। আমি এ শহরে দেখেছি মানুষ ঠকানোর সহস্র রকমের পন্থা ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে অট্টালিকার শতরঞ্জি মুড়ানো বসার ঘরের চায়ের টেবিল পর্যন্ত। ঢাকা শহরে আমার দমবন্ধ ভাব যেনো কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা। কিছুতেই এ শহরকে নিজের মনে হতো না। এ শহরকে মনে হতো বিষ্টা ও আবর্জনার শহর। গ্রামের বাতাসের নিশ্বাস ভরা সময়গুলো মনে পরতো খুব। সুতীব্র কষ্টে এখানেও মঝে মাঝে হাউ মাউ করে কেঁদেছি অনেক দিন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একটা ধামড়া ছেলে একা একা মায়ের জন্য-বাবার জন্য কাঁদে। শুনতেই যেমন কেমন লাগে! তবুও লজ্জিত নই। কারন এ কান্না আমার অহংকার। আমি আমার জননীর জন্য কেঁদেছি, আমি আমার জনকের জন্য কেঁদেছি। স্বপ্ন পূরণের আশায় যখন আমি রাজধানী ঢাকার রাজপথে স্বপ্নের প্রদীপ খুঁজছি তখন হঠাৎ ঠিকানা বদলে চলে এলাম পৃথিবীর রাজধানী লন্ডন শহরে। নিজেকে একদিন আবিষ্কার করালাম ৩৬ হাজার ফিট উপরে মেঘের সাথে আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছি। তারপর আবিষ্কার করলাম আরো বেশী আলোকজ্ঝল পথ-ঘাট, রঙিন বাতিময় দোকানের জানালা, ট্রাফিকের সিগনাল, আর যাদুকরী এক নদী রিভার থেমস। বড় বেশী অচেনা লাগে এই শহরে নিজেকে। কখনো গিনিপিগ, কখনো আ্যালিয়েন। আর আমার গায়ের শ্যামল রং আর মাটির সোঁদা গন্ধ আমাকেই মনে করিয়ে দেয় আমি বাংলাদেশী, আমি বাঙালী। আমি গর্বিত এ বোধটুকু না যাওয়ার জন্য। এ শহর সুন্দর নিঃসন্দেহে। তবে আমার শহর নয়। এ শহর যেনো আমার জন্য কারাগার। সময়ের কারাগারে কঠিন নিয়ম কানুনে বন্দী কয়েদীর মতো আমার যাপিত জিবন এখানে। দমবন্ধ ভাবটা ঢাকার চে এখানে আরো বেশী, প্রকট। যেমন, আজ ১৪ই মার্চ নিজের জন্মদিনেই কেমন জানি নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা বলে মনে হচ্ছে। কি নিদারুন অভিসম্পাতের কারনে পরবাসী এই আমি পৃথিবীর অন্যতম বিলাসবহুল, ধনাঢ্য আর অভিজাত ইট-পাথরের জঙ্গল চেলসিতে দিনাতিপাত করছি গিনিপিগ হয়ে। হায় জিবন। হায় সুখের জিবন।
মজবুত পিঞ্জিরা ময়না ভাঙ্গিতে না পারে


উড়িয়া যাইবো শোয়া পাখি, পড়িয়া রইবো কায়া

জিবনের যাঁতাকলে আর নানান জটিলতায় পিষ্ট দেলওয়ার সুম্মান ভুলেই গেছিলো তার জন্ম দিবস। বন্ধুর টেক্সট মেসেজ মনে করিয়ে দিলো যে ২৯ বছর পূর্বের আজকের দিনটাতে আলোকিত করেছিলো তার পিতা-মাতার উঠোন। তাই জন্মদিন নিয়ে য্তটা না ভাবছি তার চেয়ে বেশী বিচলিত ভবিষ্যত নিয়ে। আজ ২৯ বসন্তের শেষে চোখের কোণে জল নিয়ে ভাবি কি প্রতিদান দিয়েছি মায়ের দুধের? কি সম্মান দিয়েছি মায়ের গর্ভের? কি মান রেখেছি পিতৃস্নেহের? ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কি করতে পারি এই আমি? আমার মতো অকৃতজ্ঞ সন্তানের পদভারে এ পৃথিবী কি লজ্জিত হয়ে লানত দিচ্ছে? কেনো আরো ভালোবেসে যেতে পারেনা এ হৃদয় তোমাদেরকে প্রিয় আব্বা-আম্মা? কেনো তোমাদের সেবায় আরো অনেক বেশী নিবেদিত হতে পারিনা? মানুষ তো একদিন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেই, চিরকালের জন্য, চিরটা দিনের জন্য মায়ার পৃথিবী ছেড়েতো সবাইকেই চিরবিদায় নিতে হবেই। স্মৃতির মেঠো পথ, ২৯ নং রোড, জিগাতলার মোড়, মল চত্বর, বিডিআর ৩ নং গেইট, ধানমন্ডির লেক, চেলসি ব্রীজ, কিংস রোড সব ছেড়ে আমিওতো একদিন চলে যাবো। তার পূর্বে কি আমি আমার বাবা-মায়ের ন্যায্য পাওনা শোধ করতে পারবো? ''রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানিসসাগিরা।'' গোনাহগারের দোআয় যেনো তার পিতা-মাতা সুস্থ থাকেন। দয়াময় মেহেরবান খোদার করুনার রহমত বর্ষনে যেনো বাবা-মা সুখী হোন।
কিসের দেশ কিসের খেশ কিসের দয়া মায়া


কান্দে হাসন রাজার মন মুনিয়ায়রে

হাসন রাজার এই গানটা আমার খুবই প্রিয়। আজ আমার জন্মের ২৯ তম বার্ষিকীতে গানটি খুবই মনে পড়ছে। কারন আমার ও হাসন রাজার অনুভূতিগুলো কখনো কখনো এক হয়ে মিশে যায়, মিশে যায় তার গানে, তার সুরে, গুনগুন করে গেয়ে কষ্টময় সময়গুলো পার করি তার সাথে। ভুলে থাকার চেষ্টা করি অনেক কিছুই। আজ যখন আমার মনের কোণে স্মৃতির শতকোটি শব্দাবলী উঁকি দিচ্ছে, জন্ম দিবসের শুভক্ষণে তার মাঝ থেকে কিছু কথা, কিছু ব্যাথা লিখে নিলাম স্মৃতির খেরো খাতায়। আজ মাকে খুব মনে পড়ছে। যে নারীর গর্ভে জন্ম নিয়ে আমি আজ এই আমি, তার কথা খুবই মনে পড়ছে। প্রিয় বাবা-মা আমি তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ। যে কৃতজ্ঞতার কোন শেষ নেই, শেষ নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29344131 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29344131 2011-03-14 10:53:12
তবুও বাংলাদেশই জিতবে... জিততেই হবে বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ মাত্র ২০৫ রানের টার্গেট দিয়েছে আয়ারল্যান্ডকে। আমার আব্বার মন খুব খারাপ, তার ধারনা বাংলাদেশ হেরে যাবে। কিছুক্ষন আগে আমার আব্বার সংগে ফোনে কথা হয়েছে। আমি তাকে আস্বস্থ করেছি যে বাংলাদেশ জিতবেই।

প্রিয় ব্লগাররা আমি আপনাদেরকে পাশে চাইছি। পাশে চাচ্ছি বাংলাদেশ কৃকেট দলের। মেজাজটা নিয়ন্ত্রন করেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ জিতবেই। আমি আশা করছি ১৫/২০ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ জিতবে। ১৬ কোটি মানুষ তাকিয়ে আছে সাকিবদের প্রতি। আশা করি তারা নিরাশ করবেনা।

বাংলাদেশ কৃকেট দলের পাশে থাকুন।


অ.ট: আজকে সকালে পোস্ট করা আমার এ লেখাটি আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

বাঙলা ভাষা ও ফেব্রুয়ারীর মর্যাদা: একটা অসুস্থ মানসিকতাকে সার্জারীর চেস্টা ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29333970 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29333970 2011-02-25 18:33:29
বাঙলা ভাষা ও ফেব্রুয়ারীর মর্যাদা: একটা অসুস্থ মানসিকতাকে সার্জারীর চেস্টা
ভাষার জন্য আমার অজ পাড়া গাঁয়ের শামসুল হাক চাচা থেকে শুরু করে প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম পর্যন্ত যারা লড়াই করেছেন তাদের সবাইকে জানাই সালাম। আর ভাষার জন্য তপ্ত বিষমাখা বুলেট বিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরনকারী বীরদের জন্য প্রার্থনা হে প্রভু বেহেশতের শ্রেষ্ঠতম স্থানে তুমি তাদের অধীষ্ঠিত করো।

ভাষার লড়াইটা শুধু যে বাংলা ভাষার জন্য ছিলো তা নয়। এ লড়াইয়ের অনেক দিক ছিলো। এ লড়াই ছিলো শাসক গোষ্ঠির একগুঁয়েমি, একদেশদর্শীতা ও দূর্বলদের উপর যে চাপিয়ে দেয়ার মনোভাব চলে আসছিলো, সেই দু;শ বছরের পুরাতন রেওয়াজের বিরুদ্ধের নির্যাতিতদের এক বজ্র নিনাদ। সেই নিনাদে কেঁপে উঠেছিলো পশ্চিম পাকিস্থানে শোষকদের শাহী মসনদ। বাঙাল কৃষকের সন্তানেরা জেগে উঠেছিলো মায়ের ভাষা ও অস্তিত্ব রক্ষার মহা অভ্যুত্থানে। প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেচিলো ঢাকার পিচঢালা রাজপথ থেকে মাঠের সবুজ আলপথের ধূলিকনা পর্যন্ত। সমুদ্রের সফেন ঢেউগুলো ক্ষোভের গর্জন তুলে আছড়ে পরছিলো পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকতের বালুচরে। এ যে স্বকীয়তা বিষর্জনের মরন ফাঁদ তা বুঝতে কাল ক্ষেপন করেনি বাঙাল।

যখন আমি রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউরের নাম উচ্ছারন করি তখন বুঝতে পারি আমার রক্তে বিদ্যুত চমকায়। বুঝতে পারি এরই নাম বিপ্লবের ফুলিঙ্গ। এই আলোর পথযাত্রীদের নির্মোহ আত্মত্যাগ বাঙাল জাতিকে করেছে সুমহান। পৃথিবীতে বানিয়েছে অনন্য। আজ অনন্য জাতী হিসেবে আমাদের আছে ভাষা যুদ্ধের ইতিহাস। মায়ের কথার জন্য যে সন্তান জীবন দিয়ে মায়ের ভাষাকে করেছে উজ্জল সে সন্তানরাই আমাকে দেয় সাহস, যোগায় প্রেরনা। শাহাদাতবরনকারী সেই সব সাহসী সন্তানেরা আজো নক্ষত্র হয়ে প্রতিবাদের গতিপথের দিশারী হয়ে আছে। আজো অস্তিত্বের সংকটে জাতিকে দেখায় আলোর পথ। শেখায় গর্জে উঠা, দিক নির্দেশনা দেয়, রণ হুংকার করার পথ দেখায়। তাই এখনো টের পাই একুশের শহীদদের মাঝেই আছে বিপ্লবের মূলমন্ত্র, আছে সৈরশাসকের বিরোদ্ধের জেগে উঠার বীজ। সেই সব শহীদের আত্মত্যাগ যেমন ভুলে থাকতে পারিনা, তেমনি মায়ের ভাষার অপমান ও সহ্য করতে পারিনা।

বাংলা ভাষার অহংকারে যখন দূর্বীনত আমার মস্তক। তখন মাঝে মাঝে বুকটা হাহাকার করে উঠে। কারন এখন এই একবিংশ শতাব্দীর যাঁতাকলে পিষ্ঠ প্রায় আমার প্রিয় বর্ণমালা, আমার মাত্র ৬০ বছরের পুরনো সংগ্রাম আর চেতনার ইতিহাস। আমরা কি অবলীলায় অবহেলা করি নিজের ভাষা আর ভাষার সংগ্রামকে। আমার দুখিনী বর্ণমালা নিজেকে খুঁজে নিজ দেশে পরবাসী হয়ে। আধুনিকতার ছদ্মাবরনে বাংলা এখন অনেকটাই নিম্নবর্ণ, অছ্যুৎ। ধন্যবাদের চে থেন্ক্যু বলার মধ্যে ব্যাক্তিত্বের আভিজাত্য সুস্পষ্ট। ভদ্রমহোদয় শব্দটা কতযে দূর্বোধ্য লাগে জেন্টলম্যানের চেয়ে। আর বক্তব্যে দুকথা ইংরেজি জুড়ে দিলেই আমরা ভাবি আহা কি সুমিষ্ট বক্তা, কি তার অপূর্ব ভাষন, কি তার গভীর ঞ্জান!!! ভাষা শেখা খারাপ নয় বরং অতি উত্তম এক শিক্ষা। এখানে উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লা যিনি ভাষা যোদ্ধাও বটে। তিনি ৭ ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন, এ ছাড়াও আরো প্রায় ১৫ টি ভাষা তার আয়ত্বে ছিলো। কখনো শুনিনি তিনি আভিজাত্য প্রকাশের জন্য ইংরেজি বা আরবী ব্যবহার করতেন। কখনো শুনিনি তিনি বাংলিশ বা হিংলা ব্যবাহার করতেন।

২৪ শে ফেব্রুয়ারীর পূর্বে ও পরে দুটি বিশেষ দিন আছে। জাতীয় জীবনে দু'টি দিন ই বেদনার। দুটি দিনেই দেশের সূর্য সন্তানেরা ষড়যন্ত্র আর কুটিল রাজনীতির শিকার হয়ে শাহাদাত বরন করেছেন। ২১ শে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষার তরে জীবন দিয়ে ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন আমার কৃষক বাবার সূর্য সন্তানেরা। আর ২৫ শে ফেব্রুয়ারী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দেশ রক্ষাকারী স্বদেশ মাটির চৌকষ ৫৭ জন সন্তানকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে নিরস্ত্র অবস্থায়। এমন দুই বিশেষ গুরুত্বপূর্ন দিনের মাঝখানে একটা দিন বেছে নেয়া হলো বিজাতীয় ও আগ্রাসী সংস্কৃতি শক্তির প্রচার আর ব্যবাসায়িক প্রনোদনায়। কি আসামান্য আমাদের মেধা ও বুদ্ধি যে ভাষাকে অপমান করার জন্য আমরা বেছে নিই যে মাসে ভাষাকে রক্ষার জন্য আমার ভাইয়ে জীবন দিয়েছে। সারা পৃথিবীতে যখন ২১ ফেব্রুয়ারীকে পালন করার হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে তখন আমরা কিছু বেহায়া ও বেলাল্লাকে ডেকে আনি ভাষা ও ভাষার মাসকে অপমান করার জন্য।


পাদটিকা:
যারা পাকিস্থান সফর করেছেন এবং মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবরস্থানে গিয়েছেন। তারা প্রায়ই একথা টা বলেন যে। জিন্নাহর কবর ফলকের মধ্যে নাকি তিনটা ভাষায় লিখা আছে তার নাম । ইংলিশ, উর্দুর পাশা পাশি বাংলায় লেখা আছে, এখানে ঘূমিয়ে আছেন কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। যেটা আজো পর্যন্ত অমলিন। এই লেখাটা জিন্নার কবরে এখনো উজ্জল হয়ে থাকার একটা শিক্ষা আছে। যিনি বলে ছিলেন উর্দু ইজ দ্যা অনলি স্ট্যাট ল্যাংগুয়েজ ইন পাকিস্থান। সে দম্ভোক্তির জবাব আজো তিনি বয়ে চলছেন তার কবরের নাম ফলকে।



আসুন বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করি।
ভাষার মাসকে সম্মান করি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29333654 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29333654 2011-02-25 10:23:47
......অতএব সাধু সাবধান। আমেরিকা কেনো বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছে আফগানিস্তানে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে???
মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে বিভেদ তৈরির চেস্টা

আমেরিকা খুব ভালো করেই জানে বাংলাদেশের সমস্ত মুসলিম সমাজ এমনকি সরকারও আফগানিস্তান ইনভেশানের বিরোদ্ধে ছিলো। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ আমেরিকার এ আগ্রাসনের বিরোদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। আমার খুব ভালো করে মনে আছে তখন ফজরের নামাজে শেষ সিজদা দেয়ার পূর্বে আমাদের ইমামসাহেব একটা দোআ পড়াতেন যার নাম কুনুতে নাজেলা (সম্ভবত)। বাংলাদেশের মানুষ এটাকে মুসলমানদের জন্য একটা বিরাট বিপদ মনে করেছিলো। মানুষ তখন নিজেকে নিয়ে যতটা না চিন্তা করতো তারচে বেশি চিন্তা করতো আফগানিস্তানের মানুষকে নিয়ে। বি৫২ বোমারু বিমানের আঘাতে কয়টা নিষ্পাপ শিশু প্রান হারালো তার হিসাব করতো, নিরবে কাঁদতো, আর ঘৃনা করতো আমেরিকা-ইসরেল সম্পর্ককে। আমেরিকান প্রশাসন আফগান জনসাধারনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের এ সহমর্মীতা, এ ভালোবাসা সম্পর্কে পরিপূর্ন অবগত। তবু তারা কেন বাংলাদেশকে এমন অনুরোধ করলো? এটা একটা বিরাট প্রশ আমার কাছে।

মুসলিম স্বার্থ ও বর্তমান বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ সরকারের ধ্যান ধারনা আর সাধারন মানুষের ধ্যান ধারনার মধ্যে রয়েছে বিরাট ব্যাবধান। এখনো বাংলদেশের মানুষ অত্যন্ত ধার্মিক। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে আমাদের সরকার সেক্যুলার। আর আমেরিকা এ সুযোগটাই নিতে চাচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার, সরকার প্রধানের উদ্দেশ্য আর আফগান সরকার ও আফগান সরকার প্রধানের উদ্দেশ্যের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য আমার কাছে পরিলক্ষিত হয়না। দুটি দেশেরই বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগনকে টেররিজম এর ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত রাখা। ভিন্ন মতাবলম্ম্বীদের জংগী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করা। আমাদের সরকারের চিন্তা চেতনা আরো একধাপ বেশী কঠোর কারজাই সরকারের চেয়ে, তাদের চিন্তা হচ্ছে বাংলাদেশের সকল ইসলামিক দল গুলোকে টেরোরিজমের আওতায় এনে তাদের রাজনীতিকে চিরতরে ধংস্স করে দিয়ে সরকারের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে অতীতের মতো দূর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের পেটপূজা করা। আমাদের এ অসৎ রাজনীতির পিছনে একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করা, নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করা। দেশের মানুষের উন্নতির কোন চিন্তা না থাকায় আজ আমেরিকা এমন অনুরোধ করতে পারে। আজ সরকারে যদি জনমানুষের চিন্তা চেতনার প্রতিফলন ঘটাতো তাহলে আমেরিকা এমনটা বলতে পারতো না।

ভারতের ইচ্ছা একটা বড় প্রভাবক

বর্তমান সরকারী দলের সাথে ভারতের সম্পর্ক প্রায় ৫০ বছরের। এ দলটির জন্মলগ্ন থেকেই ভারতের সাথে একটা সুসম্পর্ক বজায় ছিলো। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের রয়েছে একটা বিরাট অবদান। সে হিসেবে ভারত আমাদের কাছ থেকে তেমন কিছুই পায়নি। পায়নি কারন বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা তখনো পাকিস্তানের সংগেই ছিলো। আর পাকিস্তান সে সুযোগের সদ্বব্যবহার না করে দাম্ভিকতার স্বপ্নে বিভোর ছিলো। ইতোমধ্যে ভারত নিজেকে প্রতিষ্টা করেছে এ অন্ঞলের প্রধান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে। বিশ্বজুড়ে স্বল্প পরিসরে হলেও তাদের নিজস্ব লবি রয়েছে। অর্জন করেছে পারমানবিক শক্তি। তাই তাদের সময় এসেছে সাউথ এশিয়ান আঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করা ও নিয়ন্ত্রন করার। আজ আমেরিকার এ অনুরোধের পেছনে ভারতের অবশ্যই বিশেষ সায় রয়েছে। ভারতের বিশেষ কনসার্ন অবশ্যই থাকবে এ ব্যাপারে। এছাড়া বিগত কয়েক বছরে ভারত-আমেরিকা একটা গুরুত্বপূর্ন সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। ভারত চায় বাংলাদেশের মানুষ বিভক্ত হোক। বাংলাদেশের মানুষ যতো বেশি বিভক্ত হবে তার জন্য এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রন করা আরো সহজ হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারী দল ভারত এর অত্যন্ত আস্থাভাজন সে হিসেবে আমার ধারনা ভারত সরকারও কিছু দিনের মধ্যে হাসিনা সরকারকে ভিতরে ভিতরে প্ররোচনা দেবেই। ভারত তার নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশে একটা কারজাই সরকার বসাতে চাচ্ছে। এজন্য হাসিনার চেয়ে উত্তম কোন অল্টারনেটিভ তাদের হাতে নেই।

বাংলাদেশ সেনাবাহীনি

বাংলাদেশ সেনাবাহীনী পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাবাহীনি। এটা পরিক্ষিত। বাংলাদেশ সেনাবাহীনি ইতোমধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বিশেষ দক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়েছে। এটাই একটি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের সেনাবাহীনির জন্য। আর তাইতো ২৫ ফেব্রুয়ারীর মতো ম্যাসাকার ঘটে বাংলাদেশ সেনাবাহীনির উপর। যার কোন সঠিক সুদুত্তর আজো পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি এও বলা যায় যে বাংলাদেশ সেনাবাহীনির প্রধান শত্রু হচ্ছে ভারত। বাংলাদেশ সেনাবাহীনি যতো বেশী শক্তিশালী হবে ভারতের জন্য ততোই দুঃখের বিষয়। কারন একটা দেশের সেনাবাহীনি যদি শক্তিশালী হয় তাহলে ঐ দেশের উপর নিয়ন্ত্রন সহজ হয়না। তাই বাংলাদেশ সেনাবাহীনিকে সময়ের সবচে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করার ষড়যন্ত্র চলছে ঘরে বাহিরে। এ জন্য হাসিনাকে বেছে নেয়া হয়েছে যোগ্য সহযোগী হিসেবে। আর শেখ হাসিনা বর্তমানে এমন এক গ্যাঁড়াকলে আছেন যে এ টোপটিও তিনি গিলে ফেলতে পারেন। কারন আপাতদৃস্টিতে মনে হচ্ছে তিনি বিশেষ একটি দেশের কথা ছাড়া আর কারো কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না। এটাই শেষ পর্যন্ত কাল হতে পারে বাংলাদেশের মানুষের জন্য।

পরিনতি কি হতে পারে

যদি বাংলাদেশ সেনাবাহীনি আফগানিস্তানে পাঠানো হয় তাহলে এর পরিনতিতে আমরা কি পেতে পারি।
ক. প্রথমেই আমরা পাবো একদল মানুষের লাশ। যে মানুষগুলোকে তৈরি করা হয়েছে আমাদের দেশের বিপদ আপদে জানবাজি রেখে লড়াই করার জন্য। সাথে থাকবে স্বজনহারা মানুষের কান্না।
খ. বিশ্ব মুসলমানের সহানুভভুতি আমাদের দেশের উপর থেকে চলে যাবে। আমরা মুসলিম বিশ্বে বন্ধুহারা হয়ে যাবো। কারন মুসলিম বিশ্বে আরো বড় বড় সেনাবাহীনিওয়ালা দেশ রয়েছে, যাদের কাছে আছে অত্যাধুনিক সাজ সরন্জাম। তবুও তাদেরকে আমেরিকা অনুরোধ করবেনা। কারন তারা বাংলাদেশের মতো ঠ্যাং ভাংগা দেশ নয়।
গ. আমাদের একমাত্র বন্ধু থাকবে ভারত। কারন আমরা নতুন বন্ধুদেশ তৈরি করতে মোটেও প্রফেশনাল নই। এছারা ভারতীয় একটা বিধি নিষেধতো থাকবেই। উদাহরন স্বরূপ আমরা রাজতান্ত্রিক নেপাল ও বর্তমান ভূটানের কথা বলতে পারি।
ঘ. দেশের ভিতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। এমনকি গৃহযুদ্ধেরও সৃষ্টি হতে পারে।
ঙ.যে জংগীবাদের কথা বলে সাধারন মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চারন করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেস্টা চলছে। সেই জংগীবাদ সত্যি মাথাচারা দিয়ে উঠবে।

সর্বোপরি বাংলাদেশ সেনাবাহীনীর যে ডিগ্রেডেশন হবে সেটা পরিবর্তিত বিশ্বে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পরবে। আর সবচে বড়কথা হচ্ছে দেশের ভিতর সেনাবাহীনীর চৌকষ অফিসার হত্যার ব্যাপারে সরকারের যে অবস্থান আমরা দেখতে পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে বিদেশের মাটিতে এরকম কিছু ঘটলে সরকারের কোন বিকারই পরিলক্ষিত হবেনা।

সরকারের ইচ্ছা কি?

সরকার যদি জনগনের প্রতি নূন্যতম কোন শ্রদ্ধাবোধ থেকে থাকে তাহলে আশাকরি সেনাবাহীনী পাঠানোর মতো শিশুসুলভ কাজটি করবে না। আর যদি সরকার তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায় জনসাধারনের চেতনাকে লাথি মেরে, তাহলে আফগানিস্তানে সেনাবাহীনি পাঠানোর চেয়ে আর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ কোন কিছু হতে পারেনা। সবকিছুই এখন সরকারের বিবেচনাধীন থাকলো।

দেখি কি হয়?? কি ঘটে সময়ই সবকিছুই বলে দেবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29249217 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29249217 2010-10-04 05:45:24
কালের কন্ঠ ও আওয়ামী দালাল আবেদের কাছে জানতে চাই... সুক্ষভাবে কিছু বুঝাতে চাচ্ছেন নাকি?

মি. আবেদ খান, আওয়ামীলীগের চামচামি করেন ভালো কথা, এটা তো আপনার বহু পুরানা অভ্যাস। কিন্তু আপনি তো নিজেকে পরিচয় দেন সাংবাদিক হিসেবে। তা আপনার সাংবাদিকতার ধরন কি এমনই? কি ছবির সাথে কি ক্যাপশন দিছেন। যা ৫/৭ ঘন্টা ধরে আপনার চোখে পড়েনা। নাকি ছাত্রলীগ নামক কুকুরদের কামড়ে যে দেশবাসী সরকারের উপর বিরক্ত তা থেকে নজর সরাতে চাচ্ছেন।

যেখানে বিরোধী দলীয় নেত্রী ইফতারের পূর্বে মোনাজাত করছেন সেখানে আপনি ক্যাপশন দিয়েছেন ঈদ সামনে রেখে চাঁদাবাজী চলছে। এটা কি ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত। বিশ্বাস করি যে এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। নাকি বুঝাতে চাচ্ছেন খালেদা জিয়ার ইশারায় এসব হচ্ছে।

ক্লিক করুন আজকের কালের কন্ঠ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29231582 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29231582 2010-08-29 03:54:18
লজ্জা্য় মুখ দেখাতে পারছি না.... আমরা কি সভ্য জাতি? হোয়াট'স গোয়িং অন ইয়র কান্ট্রি?

আগের রাতে ওভারটাইম কাজ করে বাসায় যখন ফিরি তখন রাত আড়াইটা। ঘুমুতে ঘুমুতে সাড়ে তিনটা। তাই সকালে আবার কাজে যেতে খুব আলসেমী লাগছিলো। তবুও যেতে হবে। নয়টা বাজার তিন মিনিট পূর্বে লগ ইন করতে পেরে বেশ খুশীই লাগছিলো। লগ ইন করে স্টাফ রুমের দরজায় পা রেখে গুড মর্নিং বলার সাথে সাথে দেখি সবার হাতে মেট্রো পত্রিকা এবং একসাথে সবাই আমাকে জিঞ্জেস করলো, ''হোয়াট'স গোয়িং অন ইয়র কান্ট্রি''??

তোমারা কি অসভ্য জাতি?

লন্ডন মেট্রো London metro নামে একটি পত্রিকা প্রতিদিন সকালে লন্ডনের রাস্তায় ও টিউব স্টেশনের সামনে বিনামূল্যে বিতরন করা হয়। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পত্রিকাটি সকাল বেলা টিউব ও বাসের প্রায় সকল যাত্রীর হাতে হাতে থাকে, কাজে যেতে যেতে নজর বুলিয়ে নেন তারা। উয়িন্ডি সেই পত্রিকার একটা পাতা বের করে আমাকে দেখিয়ে বললো, তোমরা কি সভ্য জাতি?? মানুষ কখনো এমন একটা নিষ্পাপ শিশুকে এমন নির্দয় ভাবে মারতে পারে? পাশে বসা রুটা সেই ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলছে ব্রুটাস!! গোসা, আরভিন, আলমা, শ্যারন বেনজামিন, ডেক্সটার সবাই জিঞ্জেস করছে তোমাদের দেশের সরকার এমন কেনো?? পুলিশ নির্দয় ভাবে একটা শিশুকে পেটাচ্ছে এ দৃশ্য পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে ঘটতে পারেনা। তোমাদের দেশে কি মানবতাবোধ টুকুও নেই? এসব পুলিশ কি জানেনা কি ভাবে একটা শিশুর (অপরাধী হলেও) সঙ্গে আচরন করতে হয়। আমি তাকিয়ে আছি ছবিটার দিকে। একটা ১০/১২ বছরের শিশু কি অশায় আতংকগ্রস্থ তার চাহনী। তবুও নির্দয় পুলিশ তাকে বেদম প্রহার করছে। এভাবেই পুলিশ বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের অস্থিরতা দূর করার জন্য মাঠে নেমেছে। আমি কি বলবো বা বলা উচিত? নিরুত্তর বসে বসে ভাবছি আর নিউজটা পড়ে শেষ করলাম। নিউজটা এরকম তারা মাসিক ১৫ পাউন্ড বেতন পায়, সে বেতন বাড়ানোর জন্য তারা আন্দোলন করছে। আর এমন অমানবিক(!), অসাংবিধানিক(!), মানবতাবিরোধী(!), ধর্ম বিরোধী(!) কর্মকান্ডের জন্য পুলিশ তাদের উপর চড়াও হয়েছে। সেসব সৎ(!), সুযোগ্য(!), দ্বায়িত্বশীল(!) মহান (!) পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ইনোসেন্ট শিশুরাও। চিন্তা করেন কোথায় জন্ম আমাদের, কোথায় বসবাস আমাদের!!


ইয়াসেক বিশ্বাস করো বন্ধু

ইয়াসেক পোলিশ বংশদ্ভুত এক বন্ধু, কলিগ। বাংলাদেশের ভালো মন্দ জানতে চায়, বাংলাদেশের কৃষ্টি, কালচার বুঝতে চায়। আমার মনে হয়েছে ইয়াসেক শুধু আমারই বন্ধু নয়, সে বাংলাদেশেরও বন্ধু। ইয়াসেক সকাল আটটায় কাজ শুরু করে একটি আউটডোর কলে গিয়েছিলো। ১২টার দিকে ফিরেই সোজা আমার রুমে হাতে মেট্রো'র সেই পাতা, আমাকে ছবিটা দেখিয়ে বললো ''ডোন্ট ইউ পিপল হেভ হিউম্যানিটি''?? আমি কিভাবে ইয়াসেক কে বলি উই হেভ?



মনটা খারাপ থেকে খারাপতর হতে লাগলো। কাজে মনযোগ দেয়ার চেস্টা করছি। কিন্তু মাথার মধ্যে বিভিন্ন কালচার, বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন মানুষের আমর দেশকে নিয়ে করা প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্চে। কাজ শেষে ইয়াসেক, বেনজামিন, মারেক ও আমি একটা মোড়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলাম। বাংলাদেশ নিয়ে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে হিটলারের উদাহরন দিয়ে বললো, ''তোমাদের জন্য এডলফ খুব সাধারন একজন ব্যাক্তি বা ঘটনা মনে হতে পারে, কিন্তু একজন পোলিশ এর কাছে সে এক ভয়ংকর নির্যাতনের ইতিহাস''। সে জানালো এখনো প্রত্যেক পোলিশ মানুষেরা এডলফকে ইভেন জার্মান জাতিকে ঘৃনা করে। আজ তোমাদের দেশের পুলিশি নির্যাতন দেখে আমাদের দেশের বহু কথা মনে পড়ছে।(মেট্রো এক শিরোনামের ভেতর একসংগে দুটি খবর দিয়ে ছিলো, একটা গার্মেন্টস নিয়ে আরেকটা বাংলাদেশের প্রধান ইসলামিক দলের তিন নেতা গ্রেফতার বিষয়ক )। আমি তখন ভাবছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার ফিল্ডওয়ার্ক (ইন্টার্ন) ছিলো অপরাজেয় বাংলাদেশ নামে একটি পথশিশু বিষয়ক এনজিও'তে। আমার মনে পড়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় আমরা যেতাম। শিশু ও কিশোর অপরাধীদের সাথে পুলিশ আচরন কেমন হওয়া উচিত এ ব্যাপারে বিভিন্ন লিফলেট, পোস্টার বিলি করতাম থানায় থানায়। ঢাকা শহরের প্রত্যেক থানার সদর দরজার পাশে একটি পোষ্টার বাঁধিয়ে সাটানো আছে যে একজন শিশু বা কিশোরের সাথে পুলিশের কেমন আচরন করতে হবে। আজ মনে হচ্ছে এগুলো আসলে কি পন্ডশ্রম ছিলো? আজ বিদেশে কেনো আত্মসম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে বলতে পারছিনা, আমরা বাংলাদেশী? বলতে পারছিনা ইয়াসেক বিশ্বাস করো বন্ধু, আমরা অসভ্য জাতি নই।

শেখ মুজিব ভক্ত মাইকেল

মাইকেল আমার প্রতিবেশী। মাইকেল জানে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রসব বেদনা কতটা কষ্টের ছিলো। মাইকেল বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একনিষ্ট ভক্ত। তার বিশ্বাস বংগবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মই হতোনা। মাইকেল তার পরিচিত বাংলাদেশীদের শেখ মুজিব নামেই ডাকতে পছন্দ করে। এটা শেখ মুজিবের প্রতি তার ভালোবাসার প্রকাশ বলে মনে করি। বাসার পার্শ্ববর্তী একটি রেস্টুরেন্টের নিয়মিত কাস্টমার সে। সেখানে আমিও যাই মাঝে মাঝে কিছু সুখ দুঃখের আলাপ করি। কাজে থাকার সময় থেকেই আজ মনটা খারাপ, তাই একটু গল্প করার জন্য রেস্টুরেন্টে গল্প করছি। তাছাড়া নিজামী, মুজাহিদ, সাইদী গ্রেফতার এমন একটা টপ নিউজ নিয়ে কথা বলতেও ইচ্ছা হচ্ছিলো। এমন সময় মাইকেলের প্রবেশ। না সে কোন কিছু খেতে আসেনি। এসেছে হাতে মেট্রো নিয়ে। এসেই হাঁক ছাড়লো, হ্যালো শেখ মুজিব, তোমাদের দেশে এসব কি হচ্ছে?? তোমরা ইনোসেন্ট শিশুদের মারছো?? ইসলামিক দলের নেতারদের গ্রেফতার করছো ইসলাম অবমাননার জন্য?? হায় শেখ মুজিব, তোমরা কি ফ্যাসিস্ট হয়ে গেলে?? রেস্টুরেন্টের মালিক আওয়ামী পন্থী হওয়ায় তার কাছে পত্রিকাটা দেয়ার অনুরুধ জানালো একজনকে। এবং তার প্রশ্নটাও পৌছাতে অনুরোধ করলো। মাইকেল বিশ্বাস করে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের একতি গনতান্ত্রিক এবং প্রোগ্রেসিভ রাজনৈতিক দল। শেখ মুজিব পৃথিবীর অন্যতম সেরা একজন নেতা। আমাকে সে তিরস্কার করে বলতো, শেখের প্রতি তোমার শ্রদ্ধা আরো বেশী হওয়া উচিত, যেহেতু তুমি পড়াশুনা করো। সেই মাইকেল। আমি আর কি বলবো, সে মাইকেলরাই আমাদের বলতেছে ফ্যাসিস্ট! আজ মাইকেলরাই আমাদের বলতেছে মানবতাবিরোধী!

সভ্যতার মাপকাটি

আজ ইসরেল কতৃক ফিলিস্তিনের শিশু হত্যা হলে, মুক্তিকামী মানুষকে নির্যাতন করলে আমরা বলি ইসরেল একটা অসভ্য জাতির দেশ। আজ আফগানিস্তান, ইরাকের শিশু হত্যা হলে বলি কি বর্বোরোচিত আচরন, ব্রিটিশ আমেরিকার সৈন্যদের বলি অসভ্য। পাকিস্তানে একের পর এক বোমা হামলা হলে অসভ্য বর্বরদের দেশ। রাস্ট্রীয় মদদে গোজরাটে মুসলিম গনহত্যা হলে ভারতীয়দের সভ্যতার খোলশ বেরিয়ে পরে আর আমরা তাদের গালি দিয়ে বলি অসভ্য। আর নিজের দেশের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহীনী কতৃক নারী শিশুর উপর নির্যাতন দেখে এবং ভিন্নমত দমনের লক্ষ্যে বিরোধী দলের প্রধান সহযোগী আরেক বিরোধী দলের তিন নেতাকে ন্যাক্কারজনক গ্রেফতার দেখে আমাদেরকে অন্যদেশের মানুষেরা বলছে, অসভ্য, বর্বর, মানবতাবিরোধী, ফ্যাসিস্ট। এডলফ হিটলারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সরকারের এমন আচরনে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে শুনতে পাচ্ছেন কি???
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29192584 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29192584 2010-07-04 23:16:23
সে এখন জেনারেল..(ফাইভ স্টার) মন্তব্য ডিলিট করাতে ব্যাথিত হলাম...
যা লিখেছিলাম তা ছিলো আনটোল্ড ট্রুথ.
সত্যকে সবাই ভয় পায়.. মাঝে মাঝে আমিও পাই..।
কারন সত্য সত্যই.। সত্যের কোন প্রতিদ্বন্ধি নাই, সত্যের সামনে দাঁড়াতে সবসময় শোষক গোষ্টি ভয় পায়।

আমার দেশ সম্পাদক কে গ্রেফতার নিয়ে আতাউর রহমানের পোস্টে আমার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জেনারেল করা হয়েছে। ধন্যবাদ।শুধু অনুরুধ থাকবে, আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কথা বললে যদি শাস্তি দেওয়া হয় তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কথাও খেয়াল রাখবেন।

তবুও ভয়ে থাকি সামু ই যদি কখনো ব্যান করে দেয় বাকশালের জারজ সন্তানেরা........। কারন আমরা বাকশালকে বড়ই ভয় পাই। আমার দেশ বন্ধ করে দেওয়ার পর প্রধান মন্ত্রী বলেছেন দেশে সংবাদপত্র অনেক স্বাধীনতা ভোগ করে। তাই আরো বেশী ভয় যেখানে সরকার প্রধান অনবরত মিথ্যা কথা বলেন সেদেশে আমি আমিতো এক সত্যের অপলাপ কারী বা ভন্ড মাত্র!!!!!!!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29169683 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29169683 2010-06-04 01:18:11
ব্রায়ান হো'র কাছে নজরুলের অগ্নিবীনা ১.জানলা ভরা রিভার থেমস

ওয়ার প্রটেস্টার ব্রায়ান হো কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখবরটি শোনার ও তাকে টেনে হিচড়ে ধরে নিয়ে যাবার দৃশ্যটা দেখার পর থেকে মনটা খারাপ হয়ে আছে। কোনভাবেই ভালো করতে পারছিনা।

মাঝে মাঝে মন খারাপ হলে জানলার দিকে তাকিয়ে আকাশ দেখার চেস্টা করি। এ আমার পুরানা অভ্যাস।সেটা দিন হোক অথবা রাত।আর প্রবাস জীবনে মন খারাপ নৈমিত্তিক ব্যাপার।অভ্যাস বসত প্রায়ই আমি জানলা ধরে তাকিয়ে থাকি।আমার ঘরের জানলা দিয়ে তাকালেই থেমস নদী দেখা যায়।মন খারাপ হলেই জানলা ধরে বাইরে তাকাই। থেমসের দিকে চোখ গেলে ঠায় বসে থাকি। আমি প্রায় প্রতিদিনই থেমসের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করি। উপভোগ করি তার দু'পাশের মানুষের তৈরি অনুপম সৌন্দর্য।সুন্দরকে কেনা ভালোবাসে। আমি সেই সৌন্দর্যকে কে পূজা করি। হয়তো তাই মাঝে মাঝে স্লোন স্ট্রীট ধরে হেঁটে চলে যাই থেমসের পাড়ে।পাতানো চেয়ারে বসি, ভাবি আমার ও নদীর পার্থক্য। চলে যাই দূর দিগন্তের অজানায়। রাতের সুনসান নিরবতায় মনে হয় কোন দিন যেনো মৃত্যই না হয়। আবার কখনো মনে হয় জন্মই হয়নি বিঝি এ পৃথিবীতে।তারপর হাঁটি, হাঁটি চেলসী ব্রীজের উপর দিয়ে। ব্রীজের মনোরম আলোক সজ্জা আমাকে চমকে দেয়। নিজেই প্রশ্ন করি নিজেকে শত বছরের প্রাচীন এই ব্রীজটিতে আমার কোন স্বত্ব আছে কিনা?? কেবলই মনে হয়আমদের টাকায় তৈরি তোমাদের এই তিলোত্তমা নগরী লন্ডন। টের পাই আমার হৃদয় থেকে একটা স্ফুলিঙ্গ বেড়িয়ে আসতে চায়। কে যেনো সুকান্তের দিশলাই কাঠি নিয়ে এগিয়ে আসছে আমার ভেতরটা জ্বালিয়ে দিতে। বিদ্রোহের আগুন। দূর্বীনত আমি তিতুমীরের মতো বাঁশের কেল্লা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই, যাবতীয় শোষনের বিরুদ্ধে। আভিজাত্যের আলখেল্লায় মোড়া বিলেতবাসীকে জানিয়ে দিতে চাই, কোন কালেই তোমরা সভ্য ছিলেনা। লুটপাট যাদের পেশা তাদের তুলনা কেবল প্রস্তর যুগের গুহাবাসীদের সাথেই হতে পারে। আমার ইচ্ছে করে তিতুমীরের মতো একটা বাঁশের কেল্লা বানাতে পার্লামেন্ট স্কয়ারে। আর ব্রায়ান হো'র মতো নয় বছর, সুদীর্ঘ নয় বছর ধরে ফিরিস্তি দিই ২০০ বছর শোষনের, আর উদাত্ব আহ্বান জানাই ক্ষমা প্রার্থনার জন্য। নজরুলের মতো কবিতায় প্রতিবাদ করি সকল শোষনের বিরুদ্ধে।

২.সভ্য পৃথিবী'র স্বরূপ

আজ পৃথিবী বদলে গেছে।বদলে গেছে সব কিছুই। আসলেই কি বদলে গেছে? নাকি শক্তি'র রূপান্তর সূত্রের মতোই ব্যাপারটা।খোলস পাল্টেসে মাত্র।মানুষ কি সত্যিই মানুষ হতে পেরেছে? আজ বদলে গেছে অমানুষ হওয়ার ধরন। চিন্তা-চেতনা প্রসারের মাধ্যমেই সেই শোষক সমাজ পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তার করছে। প্রকৃত অর্থে রাজ্যবিস্তার হচ্ছে মধ্যযুগীয় কায়দায় দেশ দখলের চেয়ে অনেক বেশী। মানুষ এখন ভাত না খেয়ে গ্লোবালাইজেশন খায়। ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক সামিটে মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে সামারি তৈরী হয় অশ্ব ডিম দিয়ে। আমরা বাহবা দেই। মানুষ পারমনবিক বোমার অভিশাপ বুঝেনা, বুঝে টেররিস্ট। বুঝেনা সবার উপরে মানুষ সত্য, অনুমান করার চেস্টা করে এ নামটার মধ্যে টেররিজম আছে কিনা?

আজ পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত এক ভাগ টেররিস্ট আর অন্য ভাগ আ্যন্টি টেররিস্ট। মানুষের স্বপ্ন গুলোও বোধহয় দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পরছে। আমার প্রিয় বাংলাদেশ যার বাতাসে আমি লালিত, বেড়ে উঠেছি এবং নিঃশ্বাস নেয়া সেই বাংলাদেশও আজ দু ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমার সোনার দেশের সোনার মানুষগুলোকেও বিভক্ত করার চেস্টা হচ্ছে, চলছে।

তমসাবৃত জাতির প্রচ্ছদ
প্রচ্ছন্ন নিদ্রায় নিদ্রিত মানুষ, পুরুষ।

৩.আমার দেশের মাটির গন্ধে....

চেলসী ব্রীজের সাথে আমার প্রিয় কীন ব্রীজের কোনই মিল নেই। শানে শাওকাতে চেলসী ব্রীজ এক প্রাসাদপ্রতীম, নির্মান শৈলীতে আছে দক্ষ কারুকাজ, রক্ষনাবেক্ষন নিয়ে কোন প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। সে তুলনায় সিলেটে'র কীন ব্রীজ চলাচলের অনুপযোগীই বলতে গেলে। তবুও কেনো যে মনটা কেঁদে উঠলো আপনার জন্য, নদী সুরমা, সুরমা আমাকে করে দিলো এলোমেলো।ইন্টারনেট রেডিওতে শুনতে পেলাম

আমার দেশের মাটির গন্ধে ভরে আছে সারামন, শ্যামল কোমল পড়শ ছাড়া যে নেই কিছু প্রয়োজন....

টপ টপ করে চোখ থেকে পানি পড়ছে, কখোন যে কেঁদে ফেলেছি বুঝতেই পারিনি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29164133 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29164133 2010-05-28 07:37:41
পিতার কাছে কৈফিয়ত (কবিতা) ক্ষমা করো
পিতা
মোহনিদ্রায় আচ্ছন্ন তোমার বংশধর
আঁধারে দিন কাটাচ্ছে তোমার সন্তানেরা
মোহমুগ্ধ জাতির শিথানে বিষধর গোখরা ফনা তুলে দাঁড়িয়ে
কালবেলায় অবক্ষয় তামাদ্দুন
ফসলের সবুজ ময়দান শকুনীর দখলে
আর
জলসাতে শরাব হাতে তোমার পুত্র...

পিতা
মানচিত্র আজ পরিত্যাক্ত গোরস্থান
কিংখাব স্বপ্ন দেখে বেহুঁশ জাতি
কপালে দাসত্বের নকশা আঁকে দানব সংস্কৃতি
কাহকাফ আঁধারে হাতরে মরছে দেশ
পিতা
মায়িক মরিচিকার পেছনে পুত্রের মিছিল
পইথানে পচন ধরেছে পূর্বেই
পতাকায় রক্তের ছাপ ছাপ দাগ
পিতা
তোমার উত্তরাধীকারের রক্তে রঞ্জিত
শ্বদন্ত আরতির অতৃপ্ত হাত

পিতা
তোমার সন্ততির হাতে সুরার পাত্র
চোখে অনাবিল বিলাসী খোয়াব
রেশমী মালঞ্চ মসনদে কালিমা
সময়ের আবর্তে নিয়ত ভুলের আবাদ
পিতা
তোমার ঔরসজাত অবসন্ন, হাসে কাষ্ঠহাসি
নিরুদ্ধ, নির্জীব আর নির্বীর্জে ভরে গেছে জমিন
তোমার সন্তানেরা
শবনম সকাল কাটায় ঘুমের ঘোরে
মেশকে আম্বরের সুবাসকে বলে দুর্গন্ধ

পিতা
ক্ষমা করো
জলসাতে নাচে নর্তকী আর
তোমার সন্তান দোলায় মাথা
তমসাবৃত জাতির প্রচ্ছদ
প্রচ্ছন্ন নিদ্রায় নিদ্রিত মানুষ, পুরুষ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29156466 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29156466 2010-05-17 01:00:11
মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ কি কিছু শিখলেন....?????
আলতাব আলী নামে আমাদের এক মহান বীর আছেন যিনি বর্ণবাদের শিকার হয়ে শাহাদাত বরন করেন। সবাই জানেন বিলাতের ইস্ট লন্ডন এলাকায় বর্ণবাদ বিরোধী আত্মত্যাগী এই মহান বাঙালী বা ব্রিটিশ বাংলাদেশী'র নামে একটি পার্ক রয়েছে। গতকাল সেই পার্কের শহীদ মিনার পাদদেশে আলতাব আলী স্মরনে এক সভা ছিলো। এই সভাতে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আরো নেতা খেতাদের মধ্যে লেবার প্রার্থী রুশনারা আলীও ছিলেন।

সভা ঠিকঠাক সুন্দর মতোই চলছিলো.. হঠাৎ এক বক্তা আসলেন এবং এসে যেই মাত্র ''বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও আওয়ামীলীগের নাম'' বললেন সাথে সাথেই পুরো সভাস্থল কেঁপে উঠলো। লোকজন চিৎকার করে বলছে এটা কোন দলীয় সভা নয়। এখানে রাজনৈতিক আলোচনে চলবে না। আমরা এসেছি আলতাব আলী স্মরণ সভায়.. শেখ মুজিব স্মরণ সভা নয়।

বন্ধ করো.....
বন্ধ করো.....
বন্ধ করো.....
বন্ধ করো...... এসব নোংরা রাজনীতি,,,, যেখানে গেলাম সেখানই রাজনীতি....। এখানে এসব চলবে না....

অবস্থা বেগতিক দেখে বক্তা তার বক্তব্য ঘুরিয়ে ... দ্রুত শেষ করে বিদায় নিলেন। সভায় উপস্থিত সৈয়দ আশরাফের চেহারা ছিলো দেখার মতো...।
চেহারায় ভয়ের ছাপ কিছুটা হলেও ফুটে উঠেছিলো।
যাইহোক.। মন্ত্রি মহোদয় শেখ মুজিবের নাম ছাড়াই তার বক্তব্য রাখলেন....
বড়ই ভালো লাগলো..... মজা পেলাম....।


আশাকরি তিনি একটা ভালো শিক্ষা পেয়ে গেছেন এখান থেকে..
এ শিক্ষাটা বাংলাদেশের জনগনের কোন কাজে লাগাবেন বলে মনে করি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29149558 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29149558 2010-05-06 02:05:16
দিপু মনির কান্ড!!!!!!!!!!!!!
আগামী ৬ই মে ব্রিটেনে নির্বাচন। ব্রিটেনে আমরা একটা ইতিহাস সৃস্টি করতে যাচ্ছি। কারন বহুদিনের প্রতীক্ষার পর এই প্রথম বারের মতো একজন বাংগালী এম পি নিশ্চিত ভাবেই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ বাংগালী অধ্যুষিত বেথনাল গ্রীন এবং বো এলাকা থেকে। এই স্বপ্ন এখন পূরন হবার পথে। যেখানে পাকিস্তান বিগত পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর একজন মিনিস্টার পেয়েছে সেখানে আমরা এখনো এমপি ই পেলাম না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লন্ডন যুবলীগ আয়োজিত এক মিটিং এ লেবার প্রার্থী রুশনারাকে ভোট দিতে অনুরোধ করেছেন। মজার ব্যাপার উক্ত মিটিং এ বর্তমানের হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে যাওয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আজমল মাসরুর ও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আজমল মাসরুর বলেছেন. যদি নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন তাহলে বাংলাদেশ সরকারের সাথে তার সম্পর্ক কেমন হবে?? যেহেতু বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছেন লেবার প্রার্থী রুশনারা কে ভোট দিতে। টোরি প্রার্থী জাকির খান এবং রেসপেক্ট প্রার্থী আবজল মিয়া ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

মনে আজ প্রশ্ন জাগে আবালের কাজ কাম দেখে.। এদের মাথায় কি ঘিলু নেই। এইসব হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা মহিলা নিয়ে মাথা মোটা গর্দভ হাসিনা কি দেশটার হাঁটু ভেংগে দেওয়ার পাঁয়াতারা করছে? অবিলম্বে দিপু মনির ক্ষমা আশা করছি। নিশ্চ্য় দীপু মনি বুঝতে পারবেন তার ভুল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29147185 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29147185 2010-05-02 21:24:23
জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন.... (১)
১. এইযে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে মারামারি, হানাহানি, ছাত্রহত্যা চলছে...। তা কি চলতেই থাকবে???
২. আমরা ছাত্ররাজনীতি নিয়ে চিৎকার করছি কেন? আমরা কি পুরো রাজনীতির চিত্রটাই দেখতে পাচ্ছিনা?? আমাদের রাজনীতি কতটা বিষাক্ত ও নোংরা হয়েছে তা কি পরিষ্কার নয়?
৩. এই হত্যা-হত্যা খেলা কি বন্ধ হবে না?
৪. সামুতে অনেকেই লিখেন তার মাঝে কেউ কেউ আবার অন্ধ, আমাদের এই অন্ধত্ব কি ঘুচবে না??

উত্তর গুলো ব্লগ বন্ধুদের কাছ থেকে আশা করছি.....।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29097433 http://www.somewhereinblog.net/blog/blogmafia/29097433 2010-02-14 11:09:46