রাজাকার (আল-বদর, আল শামস) বাহিনী গঠন করা হয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কেবিনেট সেক্রেটারী গোলাম ইসহাক খানের জারিকৃত একটি
অধ্যাদেশের অধীনে। রাজাকার (আল-বদর, আল-শামস) বাহিনীতে লোক নিয়োগ করা হয়েছিল
স্থানীয় প্রশাসনের সিও,
ওসি,
পৌরসভার চেয়ারম...্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধানে
হাটবাজারে ঢোল সহরাতের মাধ্যমে। আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে লোক বাছাই
করে তাদের নিয়োগের জন্য সিও এবং ওসি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারের
বরাবরে সুপারিশ করেছিল। কাজেই রাজাকার (আল-বদর, আল-শামস) বাহিনী গঠনের সাথে জামায়াতে
ইসলামীর কোন সম্পর্ক ছিল না।প্রকাশিত সরকারী গেজেটে রাজাকার (আল-বদর,
আল-শামস)
বাহিনীর সদস্য হিসেবে তালিকায় যে সব লোকদের নাম আছে তাতে জামায়াত
নেতৃবৃন্দের কারো নাম নেই। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের কেউ ঐ সব
বাহিনীর কমান্ডার হওয়া তো দূরের কথা সাধারণ সদস্যও ছিলেন না। উক্ত
বাহিনী গঠিত হয়েছিল পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে এবং পরিচালিত হয়েছিল
সরকারেরই নিয়ন্ত্রণে। কাজেই সেই সময় সংঘটিত কোন অন্যায় কাজের জন্য জামায়াতে
ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে দায়ী করার কোন যুক্তি নেই। ঐ সময়
সংঘটিত কোন অন্যায় কাজের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে দায়ী করা প্রকৃতপক্ষে তাদের
ওপর বড় ধরনের জুলুম ও অবিচার ।
১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারী দালাল আইন জারী করা হয়। এই
আইনের অধীনে প্রায় ১ লাখ
লোক গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে অভিযোগ আনা হয়
৩৭ হাজার ৪শ' ৭১ জনের বিরুদ্ধে। তাদের
মধ্যে ৩৪ হাজার ৬ শত ২৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষী প্রমাণের অভাবে কোন মামলা দায়ের
করাই সম্ভ...ব হয়নি। ২ হাজার
৮ শত ৪৮ জনকে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়। বিচারে
৭ শত ৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রমাণিত হয় এবং ২ হাজার ৯৬ জন বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। তাদের
মধ্যে জামায়াত নেতৃবৃন্দের কেউ ছিলেন না। ১৯৭৩ সালের
৩০ নবেম্বর, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। ক্ষমা ঘোষণার পরে অভিযুক্তদের মধ্যে
যারা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়ে এমন সবাই মুক্তি লাভ করেন। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের
সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের ক্ষেত্রে
সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য ছিল না। জামায়াতে
ইসলামীর কোন লোকই ঐ চারটি
অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না। তার
প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো-সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার
পরে আওয়ামী লীগ সরকার আরও দেড় বছর ক্ষমতায় ছিল। ঐ
সময়ের মধ্যে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে
মামলা রুজু হওয়া তো দূরের কথা, কোন
থানায় একটি জিডি পর্যান্ত করা হয়নি। যারা
অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেনি, যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেনি, তারা যুদ্ধাপরাধী হয় কী
করে? এখন তাদের যুদ্ধাপরাধী
অভিহিত করে বিচারের প্রহসন করা চরম
অন্যায় ও অযৌক্তিক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

