কৃষক blogsaudi@gmail.com

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেম-৩১

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:১১

শেয়ারঃ
0 0 0

যখন ভাঙ্গলো, ভাঙ্গলো মিলন মেলা ভাঙ্গলো.....

কিষাণীর স্মৃতি থেকে-১৬

তখন এমন মনে হত সারক্ষন চোখে চোখে রাখলে হয়তো কন্ট্রোল করা যাবে। তাই মাঝে মাঝে বিয়ে করে ফেলার ভূতও মাথায় চাপতো। দু'পরিবার যেখানে রাজী সেখানে পালিয়ে বিয়ে করার মত হাস্যকর আর কিছু হতে পারে না। তবে একটা মজার ব্যপার হত, হয়তো আমি বলছি কোন কথা নাই, চল বিয়ে করে ফেলি......ও সামলাতো, হ্যা ঠিক আছে করবো, আগামী মাসেই করবো। আবার কখনো ওর বাতিক উঠলো, চল বিয়ে করি..........তখন আমি বলতাম আচ্ছা আচ্ছা কোন সমস্যা নাই করবো। বেশ চলতো আমাদের বিয়ে করে ফেলা খেলা। যে বলতো বিয়ে করি সে সিরিয়াসলি ই বলতো, অন্যজনের তখন সেটা অতি হাস্যকর মনে হত। এবং সেজন্য পালিয়ে বিয়ে করাটাও আমাদের হল না।

না, পালিয়ে বিয়ে করা আমাদের হয়নি। ঘর বাঁধা হয়ে ওঠেনি কৃষক কিষানীর, পালিয়েও না, অন্য কোন ভাবেও না। কোন এক চাঁদনি রাতে তার সাথে সারারাত জেগে থাকাও হয়নি। যারা এতদিন ভাবতেন আমরা বেশ সুখে ঘর সংসার করছি তাদের হতাশ করবার জন্য দুঃখপ্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। তবে এ পর্বে কিষাণী হয়তো পাঠকের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে।

সে সময়কার কথা বলি.............কৃষক আমাকে প্রাণপণে আটকাবার চেষ্টা করতে লাগলো, পরীক্ষা দেয়া যাবে না,ওর মনে হত এটাই আমাকে কাছে রাখার উপায়। এদিকে আমি কিছুতেই মানতে পারতাম না আমার পড়াশোনায় ওর বাধা দেয়াটা। আবার জোর প্রতিবাদও করিনি। যেটা ছিল মস্ত ভুল। প্রকারান্তরে আমি তার কথায় সায়ই দিয়েছিলাম, নইলে ক্লাশ করতাম না কেন? ফলে ওর মধ্যে একরকম প্রত্যাশার জন্ম হয়েছিল, হোক না তা ভুল, হোক না তা অন্যায়। আমি প্রতিবাদ করিনি যাতে সে আবার ড্রাগস এ ফিরে না যায়। কিন্তু সে তো ফিরেও আসেনি, তাই এই মায়া করে বরং আমি ব্যপারটা বেশ গুবলেট করেছিলাম। কইতে ও পারিনা সইতে ও পারিনা এমন ছিল অবস্থা।এই না বলা, না সওয়া অবস্থাটা কখনো ভালো নয়। মনের উপর চাপ তৈরী হয়........চাপ বেশী হলে একসময় তা বিস্ফোরিত হয়। এখন এই বয়সে এসে, ঘাটে ঘাটে ধাক্কা খেয়ে শিখেছি, নিজের সাধ্যে যেটা কুলাবে না, নিজের মন যাতে সায় দেবে না, সে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়াই যাবে না। শুরুতেই বিনয় এবং দৃঢ়তার সাথে না বলতে হবে। আমি যদি শুরুতেই কঠোর হতাম, এসব অন্যায় আবদার আমি শুনবো না তাতে হয়তো কৃষক সাবধান হত। হয়তো সেটাই ভাল হত। অথবা কি জানি হত কিনা!

ভালোবাসা একটা মায়াময় বন্ধন।এ বন্ধনটা ততক্ষন ভাললাগে যখন তা শেকল মনে না হয়, অথবা ফাঁস মনে নাহয়। বন্ধনের মধ্যেও একটা স্বাধীনতা থাকতে হয়। তুমি আমি দুজনে দুজনার, কিন্তু আমার সবই তোমার নয়। নিজের একটা জায়গা থাকে। প্রত্যেকের একান্ত আপন ভুবন।সেখানে কারো প্রবেশ নিষেধ, খুব প্রিয় কারোও না। আমার আপন ভুবন কেমন যেন সংকুচিত হয়ে আসতে লাগলো, আমি বিপন্ন বোধ করলাম। ভালোবাসার বন্ধন আমার কাছে বড্ড বেশী আটোসাঁটো মনে হতে লাগলো। আমার জীবনের সিদ্ধান্ত কেন আমি নিতে পারবো না।কেন তার মুখ চেয়ে আমাকে অন্যায় মেনে নিতে হবে। যুক্তি বুদ্ধিরা বেশ জোরেশোরেই উদয় হল, সে আমার জন্য কি করেছে যে আমি তার জন্য আমার জীবন বিপন্ন করবো। আমি তাকে টেনে তুলতে চাই, আর সে কিনা আমাকে তার সাথে ডুবতে বলে...........। এমনি হাজারো যুক্তি আমাকে অস্থির করে তোলে। আমি খুব স্বার্থপর হয়ে যাই। মানুষ নিজেকেই সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে। সেজন্য কৃষক ভাবে, কিষাণীর পড়াশোনা হোক বা না হোক সে আমার সঙ্গে থাকবে........যে কোন উপায়ে....যে কোন পরিস্থিতিতে। আর কিষাণী ভাবে কৃষক আমাকে ভালোবাসে না, বাসলে আমার ভালো চাইতো। নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে আমি কৃষক কে ও ছাড়তে পারি।...... কিষাণীর মনে নানা দর্শনেরও উদয় হয়। আমি নিজেকে বলি মানুষের জীবন হল নদীর মতন, সেখানে বাধা দিলে, সে তার মত অন্য পথ তৈরী করে নেবে। অথবা উপচে পড়ে চারদিক ভাসিয়ে দেবে । আমার এখন দিক পরিবর্তনের সময় এসে গেছে। ....প্রত্যেকের ভাবনা ই যার যার অবস্থান অনুযায়ী ঠিক। কারন আমরা প্রত্যেকেই স্বার্থপর, হয়তো কিষাণী একটু বেশী।

কিন্তু আমরা কেন নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু ভাবলাম। কেন অন্যজনের অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করালাম না। কেন এতদিনের বন্ধু কে মন খুলে সব বলতে পারলাম না? কৃষক কেন কিষাণীকে এস বলল না ........কিষাণী এই বিষ আমি ছাড়তে পারিনা জানো, যতই চাই পারি না। তুমি আমার বন্ধু হবে? করবে সাহায্য আমাকে এ বিষমুক্তির জন্য? যদি ছিটকে পড়ি দুরে, তবু আমার পাশে থাকবে বল? কৃষক বলেনি একথা কিষাণীকে, যে ছায়সঙ্গী হয়ে তার পাশে ছিল। কিষাণী এটা বলেছিল........কিচ্ছু লুকিও না আমার কাছে...আমার চেয়ে আপন বাবা মায়ের পরে এই পৃথিবীতে তোমার আর কেউ নেই। আবার রাগ করে এটাও বলেছিল ....যদি ঐ বিষ আর খাও তবে আর আমার কাছে এসোনা।কৃষক রাগের কথাটা শুনলো, ভালোবাসার অনুনয়টা শোনেনি।তাই মন খুলে কিছু বলা হয়নি তার, প্রিয় মানুষটিকে হারাবার ভয়ে সারাক্ষন মিথ্যে ভালো সাজার অভিনয় করে গেছে। কিষাণী একথাও কখনো বলেনি তুমি সুস্থ হও যেভাবে পারো, কি করতে হবে আমাকে বল.....যতদিন লাগে আমি তোমার পথ চেয়ে বসে থাকবো। বলেনি একথা। কেন বলেনি তা নিয়ে এই বেলা আর সাফাই নাইবা গাইলাম।

বরং কিষাণী একসময় বড় বেশী কান্ত হয়ে গেল, ক্ষয়ে যাওয়া এ মানুষটাকে আর ধরে রাখা তার পে সম্ভব হচ্ছিল না। বড় কঠিন কথা বলে দিল কৃষককে, আর নয়, তুমি তোমার পথে যাও আমি আমার পথে..... দোহাই লাগে আর না। বেচারা কৃষক, পায়ের নীচে এমনি তার মাটি নেই....এর ই মধ্যে যদি কিষাণী ও না থাকে তাহলে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে তার। কিন্তু কিষাণী নির্বিকার, এতটা কঠোর তখন কেমন করে হয়েছিলাম জানিনা। কৃষকের অনেক প্রতিজ্ঞা অনেক অনুরোধ ও তখন আমাকে টলাতে পারেনি। আমি নিজেকে সরিয়ে নিলাম। আজ মনে হচ্ছে ব্যাপারটা অনেকটা এরকম: প্রচন্ড জলোচ্ছাসের সময় বাবা তার প্রিয় সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সেই সন্তান যখন বাবার গলা চেপে থাকে একসময় বাবা তার সন্তানের হাত ছাড়িয়ে নেয়। এটা অবশ্যই নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়া। সিনেমা তে নায়ক নায়িকা রা সব অসাধ্য সাধন করে। আমরা বাস্তবের দুই কৃষক কিষাণী.....অসাধ্য সাধন করার সাধ্য আমাদের নেই।

ব্যপারটা অবশ্যই এত সহজ ছিল না। ওর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো, সাথে সাথে ও সারা ক্যাম্পাস, আমার হল কাঁপিয়ে দিল। পাগলের মত শুধু এক কথা, না তুমি যাবে না। কত শত প্রতিজ্ঞা.....কত কাকুতি মিনতি। অনবরত হলে ডাকাডাকি........হলের দারোয়ান ভাইরা ওকে ভীষণ ভালোবাসতেন, আমাকেও। তাই তাদের মুখে কোন কথা নেই শুধু কৃষক ভাই এলে ডেকে দিতেন। আমি ভেতর থেকে বলতাম, বলে দেন আপা নাই। দুজনের মাঝে পড়ে বেচারা দের অবস্থা কাহিল হয়েছিল। ফিরে যেয়ে ওকে কি বলতো জানিনা, আবার ডাকতে আসতো। যে মানুষটার প্রতি এত ভালোবাসা, তার এত ডাক কেমন করে না শুনে থেকেছিলাম সে আমি জানি আর জানেন অন্তর্যামী।
কৃষকের বাবা ছুটে এসেছিলেন, আমাকে বোঝালেন যেন ওকে ছেড়ে না যাই, পিতৃসম এই মানুষটিকে ও আমি ফিরিয়ে দিলাম। উনার হয়তো মনে হয়েছিল এই মেয়েটি না থাকলে তার ছেলে যদি আর সুস্থ না হয়!

তারপরও, এত এতদিনের সাজানো খেলাঘর আমার ভেঙ্গে গেল। সব একতুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে তবু কিষাণী কত নির্বিকার। এতদিনে আমি বেশ শিখে গেছি অভিনয়। চোখের দিকে তাকিয়ে সরাসরি বলতে পারি, তোমার জন্য আমার মনে কোন জায়গা নেই। যা হয়েছে হয়েছে, এবার আমাকে একটু শান্তি দাও।

এরই মাঝে একদিন রাস্তায় ও আমার পথ আগলে দাঁড়ালো, বললো তোমাকে আমি অভিশাপ দিলাম, তুমি অনেক বড় হবে কিন্তু তোমার চারপাশে কাউকে পাবে না। আমি কিছুই বলিনি। চলে এসেছিলাম।আমার কিইবা বলার ছিল, আমি যে ওর সামনে সহজ হয়ে সব শুনতে পারলাম এটাই তো বড় কথা!

এর কিছুদিন পর কৃষককে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য, মাঝে মাঝে খবর পেতাম ঢাকায় কোন কিনিকে ভর্তি হয়েছে। তবে আশার কোন খবর শুনতাম না। বাবা মা তাদের আদরের সন্তানকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। না হোক ছেলে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, আপাতত ছেলে বেচে থাকুক এটাই তাদের কাছে অনেক। তিলতিল করে বড় করে তোলা সন্তানের প্রতি প্রত্যাশাটা এমনি করে বাবা মা ই কমিয়ে আনতে পারেন। এখানেই বাবা মা আর প্রেমিকার মধ্যে পার্থক্য।

সেই যে কৃষক আমাকে অভিশাপ দিয়ে চলে গেল, তারপর আর ওর সাথে আমার চোখের দেখা হয়নি। আজ অবধি না। যখন আবার যোগাযোগ হল ............অনেক অনেক দিনের পর........সেটা পরে বলবো..।তখন আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম ক্যাস্পাস ছেড়ে চলে গেলে কেন? পড়াটা শেষ করলে না। আমার ওপর জেদ করেও তো পড়াটা শেষ করতে পারতা। এতএত বছর পর ও বলেছিল....শেষ যেদিন তোমার পথ আগলে দাঁড়িয়েছিলাম, তোমার চোখে আমার জন্য কোন ভালবাসা দেখতে পাইনি কিষাণী, শুধু ঘৃনা ছিল, তাই আর তোমাকে খুঁজিনি। এতদিন পর এটাও বলল, সারা ক্যাম্পাসে যেদিকে তাকাই শুধু তোমার স্মৃতি কিষাণী, ওখানে একলা হয়ে আমি কেমন করে থাকি! তাই আমার আর থাকা হয়নি।

অথচ কৃষক বিহীন ক্যাম্পাসে একলা একলা আমি কিষাণী ঠিকই পার করলাম আরো তিনটা বছর।

চলবে.....

 

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:১৬
ভেংচুক বলেছেন: আরো তিনটা বছর??
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪১

লেখক বলেছেন: হুম....

২. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:২৪
মুক্ত বয়ান বলেছেন: আস্তাগফিরুল্লাহ্!! এইটা কি হইল??
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪২

লেখক বলেছেন: আস্তাগফিরুল্লাহ্!!
....এত মন খারাপ করেন না...।

৩. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:২৭
কঁাকন বলেছেন: যখন কৃষক একাএকা এই লিখা সুরু করেছিলো তখন কোথাও একটা ভাঙনের সুরছিলো মন বলতো কৃষক-কিষাণীর মিল হয়নি কিন্তু যখন কিষাণী হাল ধরলো তখন একটা মিলনাত্বক গল্পের প্রত্যাশায়ই পড়েছি
ভুলে গিয়েছিলাম বাস্তব টা
হয়তো বরুণ-প্রতিফলনো এভাবে কাঁদাবে

ভালো থাকুন
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫

লেখক বলেছেন: বাস্তব টা এমন হয় বলেই তো কৃষক কিষাণী তাদের সোনালী দিনগুলো নিয়ে এখনো ভাবে....

জীবন টা এমনই...
আপনি ও ভালো থাকুন... এটা আরো চলবে ...
হয়তো কৃষকের ও কিছু বলার থাকতে পারে..

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬

লেখক বলেছেন: দুস্ক দেয়ার জন্য দুঃিখত।

৫. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
মুক্ত বয়ান বলেছেন: আগে বলেন মিল হইছে কিনা??
সবার সব কথাই শুনছি।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১২

লেখক বলেছেন: মিল আর হইল কই!!!!!!!

৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৫৪
কে এস আরেফিন বলেছেন: কৃষক ভাই আপনার লেখা আজ থেকে শুরু করলাম এখন থেকে নতুন লেখা সহ পেছনের সব সিরিজ পড়ব। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার জীবনের অংশ শেয়ার করার জন্য।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনােক।...কিষাণী

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১৩

লেখক বলেছেন: কান্দা উচিৎ, কিন্তু এখন হাসি আসতেছে ভেংচুক।...কিষাণী

৮. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:০৭
শেরজা তপন বলেছেন: বেশ ভাল লাগছে আপনার পর্বগুলো
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১৪

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।

৯. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:১৯
বিবর্তনবাদী বলেছেন: মন্তব্য না করে অফলাইনে বসে পড়ে যাওয়া আর সম্ভব হল না। অবশেষে লগইন করতেই হল।

এই কিষানীকে আমি চিনি। হয়ত আমরা প্রত্যেকেই চিনি। প্রতিটি মেয়েই এক একটি কিষানী। অস্থির হয়ে কৃষকরা যখন পাগল হয়ে যায়, অস্থির কিষাণীরা তখন ঠিকই তিন, ত্রিশ বছর এভাবেই কাটিয়ে ফেলে। বাইরে থেকে তারা শান্ত, স্থির ভেতর থেকে তারা হয়তবা কৃষকদের চাইতেও উত্তাল।

অদ্ভুত এই পৃথিবী, অদ্ভুত আমাদের মন। কনফিউজড আমরা কনফিউজডই রয়ে যাই, তাই বিবর্তন হতে হয় প্রতি মূহুর্তে, সার্ভাইভালের জন্য।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: অফলাইনে ও আপনি ছিলেন এতেই ভালো লাগলো, বিবর্তনবাদী ।

আমাদের শেষটা মিলনাত্মক হয়নি এটার কয়েকজন স্বাক্ষীর আপনি একজন...

আমরা আমাদের ভুলে সাজানো স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দেই....দোষ কার সেটা বড় কথা নয়....ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করতে না পারলে তার মাসুল তো দিতেই হয়।

বেচে থাকার জন্য তাই আমরা নিজেদের বদলাই, আপনার ভাষায় বিবর্তিত হই।

১০. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২১
সহেলী বলেছেন: একবার মন খারাপ হল ,আবার মাথার মধ্যে অস্থিরতার পায়চারী ,শান্ত থেকেছি আবার অশান্তি -- তোমার এই লেখাটা অনেক কিছু ঘটালো !

নিজেকে যাচাই করতে চাইছি ,এটার মধ্য দিয়ে । পর্ব তে যাকে নিয়ে লিখেছি সে তো জানই । যার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে ,তার সাথে অল্প মিশতেই সে এমন সব হমকি দিল তার নিজেকে নিয়ে কি আর বলব , ঘাবড়ে গেলাম ; রাজী হয়ে গেলাম । বিভিন্ন দৃষ্টিকোন দিয়ে বিচার করে বুঝতে পারছি তোমাকে ---যা লিখেছো ,তেমন হলে দোষের কিছু নেই । পরিস্থিতি মানুষকে বাধ্য করে এবং সেই যে যা তুমি তার মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিলে , অপেক্ষা করেছো --পাওনি সেটাও জিদ তৈরী করেছিল ।

বাকীটা বল ।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: আপু এ সময়টা ছিল অসম্ভব রকেমর অস্থিরতার...
সে যে কি দিন গেছে...যারা কাছ থেকে দেখেছিল শুধু তারা জানে।

বোঝাপড়ার, ভালবাসার কমতি ছিল না... এরপরও একটা ফাঁকি ছিল...হয়তো অনিচ্ছাকৃত..তারপরও খেলাঘরের মত সব ভেঙ্গে গেল, আিমই ভেঙ্গে দিলাম।

একটা কথা তোমাকে বলি, নিজের অনিচ্ছায় কোন কাজ করবে না। তোমার জীবন তোমার....সেটা নিজের মত করে বাঁচো, হোক স্বার্থপরের মত।...এটুকু শুধু তোমকে বললাম। আর ঐ বন্ধুর কথা ভুলে যাও...

১১. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৫
ইষ্টিকুটুম বলেছেন: হুম.........খুবই সুন্দর......হৃদয় ছুঁয়ে যায়!
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১২. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৪৩
মমমম১২ বলেছেন: কি যে করেন সবাই,কারো কোন সাহস নাই:(
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: সাহস নাই....
আরে না নিজের লাভ টাই বড় কথা বুঝলা না...
মন খারাপ করার কিছু নাই।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫৪

লেখক বলেছেন: :(:(:(

বাচ্চা ছেলেটা এত মন খারাপ করে না।

১৪. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫৮
সহেলী বলেছেন: আমি তো সারা জীবন অন্যের কথা ভেবেছি , নিজের জন্য লেখাপড়াটা করেছি রক্ষে । ওই বন্ধুর কথা ভুলে যাব ? পারলে ভাল ।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: তোমার জবাবটা তোমার ব্লগে দিয়ে এসেছি।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১৮

লেখক বলেছেন: সরি রে চান্কু!!!!!!!!!!
১৯ নং এর উত্তর টা দেখো।

১৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
কালপুরুষ বলেছেন: দারুন লিখেছেন। অনুভূতির চমৎকার প্রকাশ। আপনার এই লেখা বা জীবন কাহিনী যাই বলুননা কেন- তা দিয়ে একটা চমৎকার উপন্যাস দাঁড় করানো যাবে। সত্যি বলছি। ভাল থাকুন।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন: হাহাহা, দাদা, মানুষের জীবন তো একটা নয়, অনেক অনেক উপন্যাস এর সমাহার।

আমি যখন লিখতে শুরু করি এ সিরিজের ১০ পর্ব থেকে, তখন কৃষক কে বলতাম... আমরা ও একটা "ন হন্যতে" লিখে ফেলবো।

আপনি ও ভালো থাকুন।

১৭. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৯
বরুণা বলেছেন: মাই গড!!! আপু এতদিন ভেবেছিলাম তোমরা অন্তত্ সুখে আছো। মানুষ ভালোবাসার যে সার্থকতা বলে, বিয়ে করে একসাথে থাকাটা, তাই বুঝি দুজনেই আছো, এমনটাই ভেবেছিলাম।। আজ সত্যিটা জেনে খুব খারাপ লাগছে।

আসলে ভালোবাসার সাথে কষ্ট টা মনে হয় আঙ্গাআঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

যাইহোক ভালোবাসা কখনও ফুরিয়ে যায়না। বেশ বুঝতে পারছি তোমাকে দেখে। তোমার ভিতরে নিজের ভবিস্যত টাও হয়তো দেখতে পেলাম।
অনেক ভালো থেকো আপু।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২১

লেখক বলেছেন: তুমিও ভালো থকো।

১৮. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০১
বরুণা বলেছেন: কঁাকন বলেছেন: যখন কৃষক একাএকা এই লিখা সুরু করেছিলো তখন কোথাও একটা ভাঙনের সুরছিলো মন বলতো কৃষক-কিষাণীর মিল হয়নি কিন্তু যখন কিষাণী হাল ধরলো তখন একটা মিলনাত্বক গল্পের প্রত্যাশায়ই পড়েছি
ভুলে গিয়েছিলাম বাস্তব টা
হয়তো বরুণ-প্রতিফলনো এভাবে কাঁদাবে

কাঁকণমনি একটা সত্যি কি জানো? আমি যে অলরেডী কান্নাটা শুরু করে ফেলেছি। খুব ভয় হয় যখনই ভাবি আর মাত্র কয়েকটা দিন ..........
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২৪

লেখক বলেছেন: কঁাকনের উত্তরে আমিও বলতে চেয়েছিলাম...বরুণা-প্রতিফলন তো এখনই কাঁদে..বলা হয়নি, তুইই বললি।

তবে আমি এখনো তোদের বলছি সময় বেঁধে দেয়ার কিছু নেই, মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। শুভকামনা।

১৯. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:১১
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: এটা কি হল ...?
এটা কি হল ...?

আপনার প্রতিও রাগ হচ্ছে না, কৃষকের প্রতিও রাগ হচ্ছে না, তবে যেহেতু প্রথম থেকেই এই কাহিনী পড়ার সাথে জড়িত ছিলাম, আমার জন্যে এটা মেনে নেয়া খুব কষ্টের হবে।

হায়রে মানুষের মন ...আমার কেন রাগ হচ্ছে ...?
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২৫

লেখক বলেছেন: যখন থেকে আমি লিখছি তখন থেকে জানি...এ লেখার এ পর্ব যখন আসবে অন্তত দুজন কষ্ট পাবে, রাগ হবে, মেনে নিতে পারবে না...একজন তুমি আর একজন চান্কু....দেখছো না কোন কথা নেই...শুধু একটা হুম বলে চুপ করে আছে...।

তোমার উত্তর দিতে যেয়ে আমারও মনে হচ্ছে এটা কি হল?

এ পর্ব লিখতে যেয়ে এত এত বছর পরও চোখ বারবার ঝাপসা হয়েছে...আমি জানি কৃষক যখন এ লেখাটা পড়বে তারও এমনটিই হবে।

সম্পর্ক হল একটি চারাগাছ, তাকে যত্ন করতে হয়...বিশ্বাস আর ভালবাসা হল চারাগাছটির আলো, বাতাস....সেই ধারাবাহিকতা টা রইল না সাঁঝবাতির রূপকথা। তোমরা তোমাদের জীবনে এটা মনে রেখো।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬

লেখক বলেছেন: দায় মাথা পেতে নিলাম ভাঙ্গা পেন্সিল।...কিষাণী

২১. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৯
টুশকি বলেছেন: কালকে এটা পড়ার পরই মাইনাসে টিপি দিতে যেয়ে দেখি নেটওয়ার্ক চলে গেছে। যাইহোক, এভাবে আমার মাথায় বাজ ফেলাটা ঠিক হয়নি। ঠিক হয়নি, ঠিক হয়নি। ঘুমানোর সময় খালি মনে হইসিলো যা করস ঠিকই করস, আমি হলে হয়ত এমনটাই করতাম, বাস্তবে আসলে এমনই হয় মনেহয়। জানো স্বপ্নের ভিতরও তোমাদেরকে দেখসি, স্বপ্নটাও দুঃখ দুঃখ টাইপ, তাই বলব না।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৮

লেখক বলেছেন: আহারে টুশকি!!!!!!!!

খুব খারাপ লাগলো তোমাকে এত্ত এত্ত কষ্টে ফেলে দিলাম তাই। এটা যে জীবনের গল্প, নইলে হয়তো দুজনকে মিলিয়ে দিতাম।

২২. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২২
একরামুল হক শামীম বলেছেন: এই পর্বটা পড়ে খুব মন খারাপ হলো।
অভিমানও হচ্ছে দুইজনের উপর। প্রচন্ড অভিমান..... :(
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:২৬

লেখক বলেছেন: হাতে গোনা যে কজন জানতো শেষ টা কি হবে, তুমি তাদের একজন শামীম।

তারপরও অভিমান!!!!!

অসুবিধা নেই, কিষাণী আজ পাঠকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে।

২৩. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৩৭
একরামুল হক শামীম বলেছেন: অভিমান কেন হচ্ছে বুঝতে পারছি না কিষাণ আপু। :(

তবে ভালোবাসলেই একসাথে থাকতে হবে এমনটা হয়তো নেই। এইযে এখনো এতো এতো ভালোবাসা এটাইবা কম কি!

আমার অভিমান আর মন খারাপ হইছে এই লাইনটা পড়ে- "কোন এক চাঁদনি রাতে তার সাথে সারারাত জেগে থাকাও হয়নি।"

মানুষের সীমাবদ্ধতা এতো কেন ? :(
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: কৃষক কিষাণীর এখনকার সম্পর্কটাকে ঠিক ভালবাসা বলা যায় না, এটা একটা মায়া.....

কোন এক স্বর্নালী দিনে অনেক গুলো সুন্দর সময় আমাদের একসাথে কেটেছে আমি অন্তত এ জন্য তার কাছে ঋণী।

২৪. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৪৮
চাঙ্কু বলেছেন: লেখাটা সকালে পড়ে কি বলব বুঝতে পারছিলাম না, এই জন্য হুম ছাড়া কিছু বলি নাই, তবে সিরিয়াস একটা শকও খাইছিলাম।

কিন্তু তবে এই পর্বটা পড়ে আপনার লেখনী & আপনার ভালবাসার প্রতি আমার শ্রদ্ধাটা অনেক বেড়ে গেছে। অনেকগুলা কথাই একদম আমার মনের কথা বলছেন ।ভালবাসলে মানুষ ইমোশনাল হয়ে হায় জানি, কিন্তু এমন ইমোশনাল হওয়া উচিত নয় যখন সে নিজের ভালোর প্রয়োজনে যুক্তি প্রয়োগ করে সেই ইমোশানকে কন্ট্রোল করতে পারে না । এইখানেই আপনার চিন্তাকে আমার ভাল লেগেছে ।

সবার কিছু নিজস্বতা, নিজের জগত থাকা উচিত যেখানে সে তার একান্ত নিজ্বস অনুভূতিগুলা নিয়ে বিচরন করতে পারে & সেখানে কারও এক্স্যেস নাই , সেইটা ২ দেহ ১ মন টাইপের প্রেম হলেও ।

তবে কৃষক ভাইয়ের মতামতটা পেলে ব্যাপার ২ দিক থেকে দেখতে পারতাম । উনি কেন তখন ' আপনাকে পাওয়ার জন্য শুধু ওই বিষটা ছাড়লেই হয় ' এই ব্যাপারটা বুজলেন না , সেইটাই বুঝলাম না । তবে মাদকের কারনে মনে হয় উনার চিন্তা-শক্তি পুরাই কাজ করছিল না ।

আমি আসলে রাগ করি নাই, শুধু খুব হতাশ কিন্তু আপনার এই পর্বের চমৎকার লেখায় আমি মুগ্ধ । জীবন সম্পর্কে আপনার প্রেমের উপলব্ধিটা অসাধারন করে ফুটিয়ে তুলছেন ।


কি বলছি আমি নিজেই জানি না । মনকষ্টকর কিছু লিখলে প্লিজ ছোট হিসাবে মাফ করে দিয়েন ।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ পুরা সিরিজটার জন্য বিশেষভাবে এই পর্বটার জন্য ।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৪

লেখক বলেছেন: তোমার ঐ কথাটাই ঠিক চান্কু.....তার তখন চিন্তাশক্তি, ইচ্ছাশক্তি নিজের নিয়ন্ত্রনে ছিল না।

আবার কিষাণী হয়তো তাকে এটুকু আশা দিতে পারতো....তার জন্য অপেক্ষা করবার...এটুকুও আমি করিনি...এজন্য আমার অনুতাপ আছে। যদিও জানিনা তাতে কাজ হত কিনা......

তোমার সুন্দর মন্তব্যটার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

কৃষককে অনেক করে বলেছি....যেন তার কথাগুলোও বলে....কথা দেয়নি তবে বলবে হয়তো..

২৫. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৪৬
বজ্রনিনাদ বলেছেন: আমার কমেন্ট এ আপনার উত্তর পড়ে সান্তনা পেয়েছিলাম, এখন আবার বিদ্ধস্ত লাগছে।
আমার এই এতটুকু জীবনে আমি যাকে ভালবেসে পাইনি তাকে কখন দোষ দিতে পারিনি।শুধু ভেবেছি যে তারো তো নিজের একটা চাওয়া থাকতে পারে।আমি তাতে বাধা দেবার কে। তবুতো ভেতরের রক্তক্ষরন থামে না।ভালবাসার ওপর থেকে ভালবাসা উঠে যায়। সান্তনা খুজি পুরো বিশ্ব জুড়ে। একটু ভাললাগে যখন সে একটু সঙ্গ দেয়।তবু বুঝি আমাকে দিয়ে হবে না আর কাউকে ভালবাসা। আমার সমস্ত অনুভুতি আর সমস্ত ভাললাগা সাথে নিয়া সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। কোনো অভিশাপ তাকে দিতে পারিনি।

আমার জন্য নয়,দোয়া করবেন তার জন্য,সে যেন কখনো কস্টে না থাকে।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৬

লেখক বলেছেন: সবারই কোন না কোন সীমাবদ্ধতা থাকে, সেটা তো ভালবাসাহীনতা নয়।
তোমাদের দুজনের জন্য ই দোয়া করি....জীবনটা অনেক বড়...তোমার জীবন পূর্ণ করার জন্য অবশ্যই কেউ না কেউ আসবে।

২৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫৯
পারভেজ বলেছেন: হুম, পড়ছি।
একসময় বলবো ভাবনাগুলি।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৭

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে পারভেজ।

২৭. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১৪
ইয়ামিন বলেছেন: কত সহজ স্বীকারোক্তি।

"আজ মনে হচ্ছে ব্যাপারটা অনেকটা এরকম: প্রচন্ড জলোচ্ছাসের সময় বাবা তার প্রিয় সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, কিন্তু সেই সন্তান যখন বাবার গলা চেপে থাকে একসময় বাবা তার সন্তানের হাত ছাড়িয়ে নেয়। এটা অবশ্যই নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়া। "

মোটেও না। আপনি যা করেছেন তার একফোটাও যদি অন্য কোন কৃষকের বেলায় ঘটত তবে সে ধন্য হতো। আপু আমি জানিনা কিভাবে বলি, একটা ছোট্র কথা বলি। আপনার এই সিরিজটি পড়ে নিজেকে খুব দুর্ভাগা মনে হয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছি অনেক সময়। মানুষ কেমন করে তার প্রিয় মানুষের এত ভালোবাসা উপেক্ষা করে? আমি আপনার এই সিরিজটাকে সংকলন করে আমার কাছে রেখে দিতে চাই। মাঝে মাঝে সিরিজটা পড়ে একটু স্মৃতি ঘাটতে চাই। না করবেন না প্লিজ।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩০

লেখক বলেছেন: উপেক্ষা ঠিক নয় রে ভাই...তখন আমারও এমনই মনে হত...অভিমান হত...তাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলাম।

এখন মনে হয় তার মস্তিস্ক এই ভালবাসাটুকু ধারন করার জন্যও তৈরী ছিল না। এখন মনে হয় তবু তো বেচে আছে ভাল আছে....হয়তো দূরে তবু ভাল।

২৮. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৪০
ইয়ামিন বলেছেন: উপেক্ষার ব্যাপারটি হয়তো আপনার ক্ষেত্রে হয়নি। কিন্তু সবাই তো আপনার মত মানুষ হয়না। ভালো থাকবেন আপু।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:১১

লেখক বলেছেন: আজকে এখন আমি বলছি উপেক্ষা ছিল না, তবে তখনকার সেই সময় অভিযোগ, অনুযোগ, কষ্ট সবই ছিল উপেক্ষাজনিত...মনে হত আমার প্রতি কোন মমতা নেই, ভালবাসা নেই। এত ভালবাসা নিয়ে একজন মানুষ তার টাশে আছে তবু সে এমন করে কেন?????

কিন্তু যে মানুষটা নিজেকেই সব কিছু থেকে বঞ্চিত করলো, নিজেকে ধ্বংসের চোরাবালিতে ডুবিয়ে দিল, সে অন্যকারো প্রতি তার দায় দায়িত্ব কেমন করে মনে রাখবে, কেমন করেই বা পালন করবে!!!!!!!

এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আমার ভরসা এমিনতেই কম, তখনকার সময়ে আরো কম ছিল.....
একজন আসক্ত ব্যক্তির জন্য শুধুমাত্র মেডিকেশনই সব নয়, তার আত্মশক্তিকে, ইচ্ছাশক্তিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে কাউন্সিলিং করা দরকার...তখনকার সময়ে ডাক্তাররাও এটা বুঝতেন কিনা আমার সন্দেহ হয়। বলতে দ্বিধা নেই আমিও জানতাম না। তবে এই মাদকের জন্য জীবনটা আমার এলোমেলো হয়ে যাবার পর আমি জানার চেষ্টা করেছি....আর এখন তো সচেতনতা বাড়ানোর জন্য অনেক প্রচারনাই চলে...যেটা খুব দরকার।

২৯. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৫
শিবলী বলেছেন: সম্পর্ক হল একটি চারাগাছ, তাকে যত্ন করতে হয়...বিশ্বাস আর ভালবাসা হল চারাগাছটির আলো, বাতাস....সেই ধারাবাহিকতা টা রইল না সাঁঝবাতির রূপকথা। তোমরা তোমাদের জীবনে এটা মনে রেখো----


আপু, সম্পর্ক জিনিষটাকে আমরা অনেকেই ছেলেখেলা বলে একটা বড় ভুল করে ফেলি। ভুল..... শোধরানোর হাজারো উপায় থাকলেও শোধরাতে গিয়ে আবারো ভুল করে ফেলি।
আপু আর কি বলব আমি বুঝছি না।
কান্না যেটা ভেতর থেকে আসার চেস্টা করছে সেটা দমিয়ে রেখেছি অনেক্ষন ধরে।
আপু আপনি যেটা করেছেন সেটা ঠিকই ছিল , যেটা ঠিক ছিল না সেটা আপনাদের ভাগ্য। শাখের করাত যে কি ধারাল সেটা যে না বুঝেছে সে ছাড়া আর কেউ জানেনি।

শুভকামনা।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:২৩

লেখক বলেছেন: সেটাই শিবলী, ভালবাসাকে লালন করতে হয়, যত্ন করতে হয়.....তাহলেই সেটা পুরোনো হয় না, নইলে যত্ন না পেলে, অবহেলায় ভালবাসার ও একসময় মৃত্যু হয়..... আর আমরা বলি ভালবাসা হারিয়ে যায় কেন....একজন অন্যজনের দোষ দেই। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার, আজীবন নতুন রাখার দায় এবং দায়িত্ব দুজনেরই।

আর সবচেয়ে বেশী দরকার আলোচনা, কৃষক আমাকে অকপটে তার সমস্যার কথা বলেনি, ভাল সাজার চেষ্টা করেছে, সত্য গোপন করেছে, তার কাছে আপাতত সামাল দেয়ার জন্য সেটাই সঠিক পথ বলে মনে হয়েছে...এতে জটিলতা বেড়েছে। সত্যকথনে সাময়িক অসুবিধা হয়...তবে তা সমস্যা সমাধানের জন্য জরুরী..নইলে একবার ভুল বুঝলে তা শোধরানো কঠিন।

তবে তোমাদের জন্য অনেক শুভকামনা আছে, থাকবে। সুখবরটা যে কখন শুনবো সেটাই ভাবি!!!!!!:)

৩০. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৩১
চাঙ্কু বলেছেন: হিল্লু @ কৃষক ভাই কুনাই ?? উনি কথা কয় না কেন ?
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৪

লেখক বলেছেন: তারে কইলাম কিছু কও!!!
কয় কি কমু?????
এরপর কইলাম তাইলে পুষ্টাও।

মনে হয় পুষ্টাবে।

ওয়েটু কর চান্কু।কাল পর্যন্ত।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৪

লেখক বলেছেন: :( করলে হইব না।

৩২. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:১৩
নীরজন বলেছেন: আপনার কাহিনী থেকে নিজের জীবনের একটা বিরাট সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলাম.......কিন্তু আমি এখন কনফিউসড্........
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন: আমার জবাব টা হবে....জীবনের বিরাট সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আবেগ থেকে বের হয়ে এসে দুরে দাড়িয়ে তৃতীয় পক্ষ হয়ে আপনার ব্যাপারটি দেখুন।

আপনার আজকের সিদ্ধান্ত আগামী পাঁচ বা দশ বছর পর আপনাকে কোন অবস্থায় নিয়ে যাবে তা ভাবুন....।যদি তা ভালো মনে হয়...যদি মনে হয় সব প্রতিকূলতা সামাল দিয়ে দুজন মিলে সুখী হতে পারবেন তবে সিদ্ধান্ত নিন।
আর কনফিউশন কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন...কনফিউজড অবস্থায় কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না।

৩৩. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৬
পাতলা খান বলেছেন: এই পর্বটা পরার পর অজন্তেই চোখ ভিজে গেল...আমিও যে একজন কে ভালবাসি...প্রচন্ড ভালবাস...ও সিগারেট পছন্দ করে না, তাবু বন্ধুদের পাল্লায় পরে ২/৩ টা সিগারেট খেয়েছিলাম...এখন ভয় হচ্ছে আপনাদের এই পরিনতি দেখে...আমি প্রতিজ্ঞা করছি আর কোনো দিন অই বিষ ছুব না...আমি ওকে হারাতে চাই না...
২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৫৩

লেখক বলেছেন: হরাতে যাতে না হয় সেই দোয়া করি

৩৪. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৭
পাতলা খান বলেছেন: এই পর্বটা পরার পর অজন্তেই চোখ ভিজে গেল...আমিও যে একজন কে ভালবাসি...প্রচন্ড ভালবাসি।...ও সিগারেট পছন্দ করে না, তাবু বন্ধুদের পাল্লায় পরে ২/৩ টা সিগারেট খেয়েছিলাম; ওকে বলিনি...এখন ভয় হচ্ছে আপনাদের এই পরিনতি দেখে...আমি প্রতিজ্ঞা করছি আর কোনো দিন অই বিষ ছুব না...আমি ওকে হারাতে চাই না...
৩৫. ২৭ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:২৪
ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: আমি এতক্ষণ অফলাইনে থেকে আপনাদের পুরো পর্ব মানে ১ থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত পড়লাম। কিন্তু এই পর্বে এসে আমি আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। সেটা জানানোর জন্য অনলাইন হলাম। আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইল। যে যেখানে থাকুন, যেভাবেই থাকুন, ভালো থাকুন-- এটাই প্রত্যাশা।
২৯ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৬৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কৃষক
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই