মাদার তেরেসা কে নিয়ে ধারাবাহিক পোস্টের
প্রথম পর্ব
মাদার তেরেসার লেখা অপ্রকাশিত চিঠি নিয়ে দিন কয়েক আগে প্রকাশিত একটি পুস্তক থেকে জানা গেছে, এই মহীয়সী নারী তার জীবনের শেষ ৫০ বছর বিশ্বাসের সঙ্কটে ভুগছিলেন। মাদারের চিঠিপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, ১৯৪৯ সাল থেকে তিনি এই আধ্যাত্মিক সঙ্কটে ভুগতে আরম্ভ করেন। আর ঠিক এই সময় থেকেই কলকাতায় দরিদ্র এবং মৃত্যু পথযাত্রীদের মধ্যে মাদার তেরেসা কাজ করা শুরু করেছিলেন।
রোম থেকে প্রেরিত সংবাদে জানা যাচ্ছে, যদিও মাদার তেরেসার প্রকাশ্যে ঘোষণা ছিল যে, তার হৃদয় যীশু খ্রিষ্টের জন্য নিবেদিত। কিন্তু ১৯৭৯ সালে রেভারেন্ড মাইকেল ভনডার পিটকে লিখিত এক চিঠিতে লিখেছিলেন, আমার মধ্যে শূন্যতা ও নিস্তব্ধতা এত বিরাট ও ব্যাপক যে, আমি চেয়ে থাকি, কিন্তু দেখতে পাই না, আমি শুনি কিন্তু আমার কানে কিছু প্রবেশ করে না। আমার জিহ্বা প্রার্থনায় নড়াচড়া করে, কিন্তু কোনো শব্দ উচ্চারিত হয় না। আমি চাই, আপনি আমার জন্য প্রার্থনা করুন। আরেকটি চিঠিতে মাদার তেরেসা লিখেছেন, আমার বিশ্বাস কোথায় গেল? এমনকি আমার হৃদয়ের অন্ত:স্খলে শূন্যতা ও গাঢ় অন্ধকার ছাড়া আর অন্য কিছু নেই। যদি ঈশ্বর বলে কেউ থেকে থাকো, তবে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করো।
আট বছর পরও দেখা যাচ্ছে একটি চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ঈশ্বরের জন্য সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা বার বার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। কেবল রয়েছে শূন্যতা, নেই কোনো বিশ্বাস, নেই কোনো ভালোবাসা, কোনো উতসাহ বা প্রেরণাও নেই। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একটি চিঠিতে মাদার তেরেসা লিখেছেন, বলা হয় আমার মধ্যে নাকি ঈশ্বর বাস করে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমার মধ্যে অìধকার, শীতলতা এবং শূন্যতা এত বেশি যে কোনো কিছুই আমার আত্মাকে স্পর্শ করছে না।
মাদার তেরেসা অন্য একটি চিঠিতে জানিয়েছেন, আমি সব কিছু হারানোর অসহ্য এক বেদনা অনুভব করছি। বেদনা এই জন্য যে ঈশ্বর আমাকে চান না। এও হচ্ছে বেদনার যে এই ঈশ্বর আসলে ঈশ্বর নয়। বাস্তব হচ্ছে ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্বই নেই। মাদার তেরেসা চিঠিতে লিখেছেন, তার করুণা ও সদা হাস্যময় মুখ আসলে একটি মুখোশ বা আবরণ মাত্র। ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমি কেন পরিশ্রম করব, কেন কাজ করে যাব? যদি ঈশ্বর না থাকেন, তাহলে আত্মাও থাকতে পারে না। আর যদি আত্মাই না থাকে, তাহলে যীশু। তুমিও সত্য নও।
রেভারেন্ড Brian Kolodiejchuk মাদার তেরেসার চিঠিপত্র নিয়ে একটি সঙ্কলন প্রকাশ করেছেন। বইটির নাম হচ্ছে মাদার তেরেসা কাম বি মাই লাইট। এখানে প্রকাশিত চিঠিগুলো থেকেই এই সব তথ্য জানা যাচ্ছে। ওই বইয়ের একটি চিঠিতে মাদার তেরেসা লিখেছে আমার সদা হাস্যময় মুখ দেখে মানুষ মনে করে আমার ভক্তি ও বিশ্বাস, আমার আশা এবং আমার ভালোবাসার দীপ্তি আমার মুখ থেকে ঝরে পড়ছে।
তারা মনে করে ঈশ্বরের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তার সাথে আমার সংযোগ আমার হৃদয় পূর্ণ করে রেখেছে। হায়! যদি তারা জানত...।
মাদার তেরেসা তার শেষ ইচ্ছাপত্রে লিখেছিলেন তার এই চিঠিগুলো যেন নষ্ট করে ফেলা হয়। কিন্তু তার এই শেষ ইচ্ছা পালন করা হয়নি। চিঠিগুলো পড়লেই বোঝা যায়, কেন তিনি তার নিজের লেখা চিঠিগুলো বিনষ্ট করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



