somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ণ চোরা জামাতীদের ধর্ম বিকৃতি ও ভন্ডামি

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৮:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামাত পন্থী ইনকিলাব যখন লীগ পন্থী হল তখনকার এক সেকেন্ড লিড খবর ছিল, বিশিষ্ট আলেমগণের বিবৃতি,

"জামাতী ইসলাম কাদিয়ানীদের চেয়েও ভয়ংকর "
আমি জামাতীদের তখন অপছন্দ করলেও খবরটাতে বিব্রত হয়েছিলাম এই ভেবে যে, হাজার হলেও জামাতীরা নামায কালাম পড়ে আমাদের মসজিদে আমাদের সাথে কাধ মিলিয়ে, তাদের কে কি এতটা খারাপ বলা যায়?
বহুদিন পরে হলেও আজ ধরতে পেরেছি ধর্মের নামে জামাতী ব্যবসার স্বরূপ। আমি আজ থেকে এই ঘৃণ্য জীব গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে চাই এবং নিব।

দুনিয়ার ব্যবসার জন্য ধর্ম নিয়ে জামাতের বর্ণচোরা অবস্থান পরিস্কার হয়ে যাবে, যদি ধর্ম বুঝে এসে তাদের সাথে কদিন উঠা বসা করা যায়। চিরাচরিত ইসলাম ধর্ম, কোরআন হাদীসের ফাক ফোকর দিয়ে সম্পূর্ণ উল্টো ব্যাখ্যা করে মানুষকে কতটা ভয়ংকর ভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে তার কিছু উদাহরণ দেয়া হল।

জামাতী ফতোয়া-১ (হস্তমৈথুন করা জায়েজ)

কোরআন শরীফের কোথাও ব্যাভিচার ছাড়া হস্তমৈথুনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নাই বলে তা জায়েজ। হাদিসের রেফারেন্স দিতে গেলেই তারা বলে ঐসব জাল হাদীস। তাদের উল্টো কথা হল, ডাক্তার রা নাকি বেশি বেশি হস্তমৈথুন করতে বলে, এটা নাকি ভাল অভ্যেস। জামাতী মেয়েদের বক্তব্য হল,
'এটা পাপ হলেও বড় পাপ না (কারণ আমরা এটা করি?)।আমরা কোন পুরুষের সাক্ষাত পাইনি যারা এ কাজ করে (পুরুষরা তাদের জানিয়ে করবে?)।আর হস্তমৈথুন জিনিসটা নারীদের বেলায় প্রযোজ্য নয় বিধায় এ সংক্রান্ত ফতোয়া আমার না জনলেও চলবে (পাঠক বিচার করবেন)।'

পর্ণ ছবি ও তার সাথে হস্তমৈথুনের অনিবার্য সহ অবষ্থান এবং সেখান থেকে রুচিবোধের যে অবনমন যেখান ৭-৮ বছরের কন্যা শিশু ধর্ষিত হচ্ছে, তার জবাব জামাতীরা কি দিবে?

এ ভন্ডের দলকে যখন জিজ্ঞেস করি,'হস্তমৈথুন করার ব্যাপারে তাদের মত কি বা তারা এটা করে কিনা'.....তারা সাহসের সাথে 'এটা হারাম ও এসব আমরা করিনা, করতে ঘৃণা করি' কখনই বলবেনা, বরং লজ্জিত হয়ে এড়িয়ে যাবে। অথচ ভয়ংকর এ ব্যাধি মানুষের রুচিবোধ ধ্বংস করছে তা নিয়ে কথা বলার সাহস ধার্মিকদের নাই, তার চেয়ে বরং স্বামী স্ত্রী সহবাসের রসালো গল্প করতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

হস্তমৈথুনেই যদি জামাতের যৌন সুখ মিটে কি দরকার বিয়ে করার? কি দরকার রাজাকারের ছানাপোনার সংখ্যা বাড়ানোর?

জামাতী ফতোয়া-২ (সকল বাদ্য যন্ত্র জায়েজ এবং সুন্নত)

শিবিরদের প্রথমে বাদ্য যন্ত্র ছাড়া সঙ্গীত প্রীতি দেখা যায়, কিন্তু আরবি গান গুলো আবার তাদের মতে বাদ্য যন্ত্র যোগে গাওয়া জায়েজ আছে। মন মানসিকতায় তারা মওদুদীর বাদ্য যন্ত্র বিরোধী থিউরির পক্ষে। হঠাৎ শুনি রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজে রাজাকারের ঘর থেকে রেজওয়ানা বন্যার কন্ঠে।

আমি বলি, "কি ব্যাপার?"
উত্তর, "সমস্যা কি?"

তারপর আস্ত বাতি এসে ফতোয়া দিল জামাত হলেও আমি বাদ্য যন্ত্রের ব্যাপারে মওদুদী মানিনা। হতভাগা এক কারযাভির সঙ্গীত অনুরাগী ফতোয়ার ভক্ত সে। সাথে সাথে রাজাকারের দল নড়েচড়ে বসলেন।
'আস্ত বাতি' মানেই তাদের কাছে স্বর্গের দেবী। সাথে সাথে সুর মেলালো, সব বাদ্য যন্ত্র জায়েজ আছে, গানের কথাটা অশ্লীল না হলেই হল। দু পয়সার বাংলা ধর্ম বই পড়া রাজাকার আমাকে শাসায়, "কোথায় পাইসো মিঞ্যা, বাদ্য যন্ত্র নিষেধ?"

জামাতীরা আবার এটা স্বীকার করে যে, "পৃথিবীর ৯৯ ভাগ আলেম গানের বিপক্ষে এবং এক ভাগ গানের পক্ষে।" তা স্বত্বেও তারা ১ পক্ষের সমর্থক। হস্তমৈথুন না করে থাকতে পারছে না দেখে নিজেদের পাপের পক্ষে সাফাই গাইতে তারা ১ পক্ষের সমর্থক।

কিন্তু এতে যে ৯৯ ভাগ সম্ভাবনা পাপ হবার আর এক ভাগ সম্ভাবনা পূণ্য হবার, সেটা তারা মানতে নারাজ।

সামী ইউসুফের মত একটা গর্দভ ভন্ড শয়তানের মত আল্লাহ রাসুলের নামের গিটার যোগে যদি পপ গান গাওয়া জায়েজ হয়, তাহলে পৃথিবীর সব মসজিদে এ শয়তানটাকে ডেকে বাদ মাগরিব সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করা যায়। হামদ নাতের মত এগুলো তারা ইসলামী সংস্কৃতিতে ঢুকাতে চায় অমুসলিমদের আই ওয়াশ করার জন্য যে আমরা উদার। সন্ত্রাস বাদের কালিমা মোচনের জন্য ধর্মকে বিকৃত করে অমুসলিমদের সাথে আপোসের ভন্ডামি দেখে আমি শিহরিত!

জামাতের মতে, "চোখ কে যথা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রেখে পর্ণ, আধা পর্ণ রোমান্টিক মুভি দেখা জায়েজ।"

আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে তারা ফ্যানাটিক বলে গালি দেয়। ইসলাম ধর্মে নাকি আমোদ ফুর্তি করার জন্য আল্লাহ কোরআনে অনেক ফাক ফোকর রেখেছেন। যেকোন হাদিসকে জাল হিসেবে ঘোষণা দেয়ার অধিকার রাখে জামাত-শিবির। হাদীস গুলোকে জাল অকার্যকর বানিয়ে, কোরআনের অর্থ বিকৃত করে তারা মনের সুখে আমোদ ফুর্তিই শুধু করছেনা, বরং ফতোয়া দিচ্ছে,

"নবীজী যেহেতু মুসলিম বালিকাদের নিয়ে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহকারে গানের জলসা করেছেন, কাজেই বাদ্যযন্ত্র, গান হলো সুন্নত।"

আমি এই সুন্নতের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমি নাকি হালাল কে হারাম বলেছি, তাই আমি নাকি কাফের এবং কুফুরি করেছি।

নিজের দুর্বলতা বা অলসতার জন্য নামায পড়তে পারিনা। এ জন্য অপরাধ বোধ কাজ করে, অনুশোচনা আসে , নামায পড়া দরকার। আর জামাতেরা সে পাপ কে পুণ্য বানিয়ে মহা আনন্দে গর্বে পালন করতে থাকে।

জামাতের বাড়িতে নাটক, সিনেমা, গান সবই চলে, রিমোটের চ্যানেল ঘুরায়। টিভি ছাড়া তারা থাকতেই পারেনা। পাপ কে পূণ্য হিসেবে জানা আর পুণ্য কে পাপ হিসেবে জানা কুফুরি এটা তারা বুঝে না। বরং গর্বের সাথে পাপ করে যাচ্ছে।

যে ফ্যামিলির সবাই জামাত, সেখানে ছোট বোন এসে তার সুন্দরী সুসজ্জিত বান্ধবীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে মুখে ধর্মের ফেনা তুলা রাজাকার শিবির ভাইয়ের সাথে...বেহায়ার মত সুসজ্জিত বান্ধবীদের সাথে পরিচিত হয়েছে সে। বোনেরই কি বা রুচি বোধ!! জামাতীরা আবার বিয়ের ভিডিও করে, দেখা গেল ছেলে মেয়ে ঢলাঢলি, গায়ে হলুদের ঘষা ঘষি..ইত্যাদি....আমি পাল্টা প্রস্তাব করে বসলাম,

"রাজাকার শিবিরের ব্যাচমেট রা সবাই তার বাসায় গিয়ে তার ছোট বোনের সাথে পরিচিত হয়ে আসব, রাজি?"

প্রথমে আমতা আমতা করে পরে বলে, "কি সমস্যা? যাবে...

আমার পাশে দাড়িয়ে নামায পড়া লোকটা যে ইসলামের কত বড় মুখোশ ধারী শত্রু, সেটা ভাবতেই আমার লোম খাড়া হয়ে যায়।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৮:৫১
৬০টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×