somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অথবা দেশের মাটি কামড়ে পড়ে থাকা

০৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অশ্রু, সিগারেট, নারী, বন্ধু সঙ্গ, ড্রাগস, সুর-সঙ্গীত, এলকোহল, ধর্ম কোন কিছুরই আশ্রয় পাইনা। বছরের পর বছর বুক আর মাথা ভারি করে থাকা কষ্ট গুলো নিয়ে সিড়ি ভেঙ্গে নামতে থাকি। চুল দাড়ি বড় হতে থাকে। আড়াল হতে তাকে মুখ ও মাথা।কষ্টের মাঝে থেকে নেশা গ্রস্থ হয়ে পড়ি। ইচ্ছা করে মন খারাপ
রাখতে ভাল লাগে, এক কুৎসিত বিলাসিতা।

হঠাৎ আগের কোর্সের এক ছাত্র সালাম দিয়ে বসে। সিড়ির দিকে তাকিয়ে অলাইকুম বলি।খুব মিশুক ধরনের ছাত্র। হঠাৎ বলে বসে,
"স্যার আপনাকে বিধস্ত লাগছে, কোন সমস্যা?"
আমি বিচলিত হই। কি বলব ঠোট কাটা এই ছাত্রকে?

বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা পোস্ট ডক্টরেটধারী প্রফেসর। শতাধিক পাবলিকেশন ও গন্ডা খানেক পুস্তক প্রণেতা। মামা চাচারা কেউ ডিপার্টমেন্ট চেয়ার, কেউ বা ভিসি দেশে বিদেশে।

"টাকার জন্য গবেষণা", এই নীতিকে ঘৃণা করেছি সারা জীবন। ওতে সুখ বা স্বতঃস্ফূর্ততা নেই। পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে কোটি টাকার ফেলোশিপ দিলেও আমি রসায়ন শাস্ত্র নিয়ে অধ্যয়ন বা গবেষণা করতে রাজি নই। আজকাল কার মেধাবীরা ফান্ডের লোভের একাজটাই করছে অবলীলায়। আমেরিকায় ডিগ্রি আর আমেরিকায় চাকুরি পাওয়া নিয়ে কথা, এর বাইরে ঐ মোটিভেশনের দাম মার্কিনিরাও দেয় না।


বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা দশ ভাগে ছিল আমার নাম। প্রথম দিকে খারাপ লাগতো আমার চেয়ে লো রেংক এর ছেলেরা ফান্ড পেয়ে পিএইচডি করতে চলে যাচ্ছে, আমার হচ্ছেনা গবেষণার পরিধিকে ফান্ডের সুযোগের দিকে না তাকিয়ে নিজের মত স্পেশালাইজ করাতে। এমনকি বুয়েট পাশ ছোট ভাই আমেরিকা যাচ্ছে পিএচডি করতে।সহপাঠী-সহকর্মীরা অভয় দেয়, তুই পদার্থের ছাত্র, ভৌতবিজ্ঞানের আরেক শাখা রসায়ন কেন পারবিনা? রসায়নে ফান্ড বেশি, বোকামি করিসনে, চলে যা, ওটাতেই এপ্লাই কর।তুই তোর মেধা নষ্ট করিসনা। দেশে থেকে পড়াশোনা হয়না, হবেনা।

প্রবল জেদ ধরে বসে থাকলাম নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে। স্রষ্টা এ হতভাগা পাগলকে ঢেলে দিয়েছেন সব কিছু। দেন নি ধৈর্য, করেননি আশা বাদী একজন।

সব ভেঙ্গে খবর এলো, আমি ফান্ড পেয়েছি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুঝলাম আনন্দিত হতে পারিনি।চোখের জল নেই। নৈরাশ্যবাদীদের চোখে অল্প সাফল্যেই পানি চলে আসে, তাদের আনন্দের অশ্রুর মিষ্টতা অভুতপূর্ব অপার্থিব।

পরের দিন সকাল ঘুম ভাঙ্গল সকাল পাচটায়। মশার কামড় খেয়ে কোন রকম ফ্লোরিং করে ঘুমাই। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে অনেক ঘটনা-কথা এক সাথে ভিড় করে মাথায়।ফান্ডের ব্যাপারে কিছু জটিলতা আর শর্ত ছিল।বাবা উজাড় করে দিতে চেয়েছিলেন সব কিছু ছেলের উচ্চ শিক্ষার জন্য।

শত কিলোমিটার দূরে মা কে ফোন করে বললাম, "মা, আমি কোথাও যাবনা। আমার পিএইচডির দরকার নাই। তোমাদের সাথেই আছি দেশে।নিজের পেট চালানোর জন্য স্রষ্টা আমাকে অনেক দেন।আমি সুস্থ হয়ে দেশেই বেচে থাকতে চাই।"

মা শুধু বলেন, 'তোর যাতে সুখ বাবা, আমি তাতেই সুখি।'
জানি মেধাবী ছেলে কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখা বাবার আশা ভঙ্গ হবে। কষ্ট পাবেন। বাবা মার অবাধ্য হইনি, না বলিনি কখনও, পড়াশোনার আগ্রহ হারায়নি এখনও। বাবাকে সামনা সামনি বলার সাহস হয়না।

বাবাকে বলতে চাই,

"থাক না। কি দরকার? সবাই কে কি পিএইচডি করতে হয়!! আমি বরং নাই বা করলাম। আমার ফান্ড অন্য কেউ পেল, যার ডিগ্রিটা হয়তো আমার চেয়ে তার বেশি দরকার।"

বাকি টা জীবনে, নিভৃতচার চাই, নির্জনতা চাই, নীরবতা চাই। কারও অযাচিত কটু মন্তব্য শুনতে চাইনা আমার ভবিষ্যতও সিদ্ধান্ত নিয়ে।
এখন আমি মুক্ত, স্বাধীন নিজের পায়ে দাড়িয়ে নিজের উপার্জনে খেতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৮
১৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×