প্রাইভেট টিউশানী করাতে গিয়ে ছাত্রীর সাথে প্রেম করাটা এখন ঢাল ভাত ফ্যাশন। স্যার থেকে ভাইয়া, আপনি থেকে তুমি সম্বোধন, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে বুমার্স, বসুন্ধরা, মোবাইলে রাত জেগে ফ্লার্ট..এসব অনেক পুরনো কেচ্ছা।
অর্থ সঙ্কট বা অর্থ বিলাসিতা ছিলনা দেখে প্রাইভেট পড়ানোর মত কাজে আমার সময় ব্যয় করার ধৈর্য হয়নি কখনও.....কিন্তু ঘটনা গুলো কানে আসতে সময় লাগতনা, তথ্য সূত্র আর কেস স্টাডির অভাব ছিলনা।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে এসে ব্যাচমেটরা যেসব ঘটাচ্ছে ইদানিং, আমি যার পর নাই হতভম্ব। তাই বলে নিজের ক্লাশের ছাত্রী!!!!! শিক্ষক পদের মর্যাদা রাখলো কই এরা??
শুরু করি আধা শিবিরের এক সহপাঠী দিয়ে।রাত জেগে রিসার্চ এর কাজ করলেও মসজিদে জামাতে ফজরের নামায মিস হতে দেখিনি কখনও।আর আমি পাপী বান্দা তো প্রায়ই কাজা করে ফেলি। দেশের শীর্ষ স্থানীয় এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। রেজাল্ট ভাল না হলেও গবেষণার দক্ষতা গুণে সবাই মুগ্ধ।আমাকে ফেস বুকের চ্যাট অপশনে জানায়, 'একটা প্রেম শুরু করলাম দোস্ত।'
আমি বিব্রত, বলে কি ধার্মিক ছেলে!!! কথা প্রসঙ্গে জানলাম নিজের ক্লাশের ছাত্রী। ৫'৫" নাকি উচ্চতা!!! কোন সহপাঠীকে পাত্তা দেয়না, কিন্তু তাকে নাকি এস এম এস করেছে!!!
আমি হতভম্ব। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যেখানে আমাকে কল করার সাহস পায়না, ভয়ে কাঁপে আমার কিম্ভুতকিমাকার জঙ্গলি দানবীয় মূর্তি দেখে, (শিক্ষা গুরু বলে কথা), আর তোকে এস এম এস দেয়!!! সর্বনাশ!!! শিক্ষক প্রজাতির জাত গেল দেখছি!!! তারপর কি হল?
ছোকরা বলে আমিও এস এম এসের উত্তর দিলাম। এভাবে চলতে থাকলো ....দিনে দশটা থেকে বিশটা, বিশটা থেকে ত্রিশটা...শেষে লজ্জা ভেঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা শুরু হলো মোবাইলে।(এখন প্রায়শই তার মুঠোফোন ব্যস্ত পাওয়া যায়।)
তা কি মনে হয়? তোর প্রেমে পড়েছে?
আমার তো তাই মনে হয়।
খোঁজ নিয়ে দেখ আর কতগুলো শিক্ষককে এভাবে এসএম এসের ট্যাপে ফেলার চেষ্টা করেছে।
ছেলে আমার কথা শুনতে নারাজ। বুমার্স, হেলভেশিয়ার নিয়মিত ভোক্তা তারা দুজন।বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এড়িয়ে এক রিক্সায় দুজন ঘুরতে বের হয়। আড়াল হতে চাইলেই কি আড়াল হওয়া যায়, বাতাসেরও তো চোখ আছে....
কোথায় গুরু? কোথায় শিষ্য ..কে বলে তা বহুদূর, মানুষের মাঝে গুরু শিষ্য.....হা কপাল এ কোন যুগে বাস করছি আমরা? লজ্জা-শরম আর শ্রদ্ধা ভক্তির দেয়াল অতিক্রম করে....ছি ছি ছি....আমি ভাবি আমার অন্য ছাত্ররা আমাকে এ অবষ্থায় দেখলে লজ্জায় ঢাকা শহর ছেলে চলে যেতে হত।
আরেক ব্যাচ মেট। এই আগস্টে আমেরিকা যাত্রা করছে। নামী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ক্লাশে যে ছাত্রী তার চোখে লেগে ছিল, সেই কিনা গুরুর চোখের ইশারা বুঝে কিনা জানিনা একইভাবে সেই এস এম এস ফাঁদ। বাচ্চা ছেলে কৌতূহল বশে কল ব্যাক করে। শিক্ষক হলে এই ঝুকি পূর্ণ কল ব্যাক করার সময় একশবার চিন্তা করা উচিত। আমি শিক্ষক, আমার রেজাল্ট ভাল, আমি ভাল পড়াই... এটাই যথেষ্ট পরিচয় হতে পারেনা ছাত্রদের কাছে। আমার ব্যক্তিত্ব আর ধরন দিয়ে ছাত্রদের মাঝে শ্রদ্ধা ও অনুকরণীয় আদর্শ তৈরি করা শিক্ষকের পবিত্র দ্বায়িত্ব।
পৃথিবীতে মেয়ে মানুষের এত অভাব পড়েনি যে ব্যক্তিত্ব আর রুচি নষ্ট করে নিজের ক্লাশের ছাত্রী দেখে ঝুলে পড়তে হবে।
কে শোনে কিসের আদর্শের কথা? ওসব আদর্শের খাওয়া নাই নতুন প্রজন্মের কাছে। জীবনটা ছোট, তাই খাও দাও ফূর্তি কর। নিজের ক্লাশের ছাত্রীকে নিয়ে রিক্সায়, পথ ঘাটে, রেস্তোরায়। মোবাইল আর অপ্রকাশ্য যোগাযোগের কথা বাদই দিলাম। উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গামী বুয়েট স্নাতক। এমন পাত্রকে শিক্ষক ভেবে পিতার আসনে (অন্তত বড় ভাইয়ের আসনে) বসিয়ে শ্রদ্ধা করলে যে কত বড় লস, সেটা খানদানি বঙ্গ ললনারা ভালই জানে।কেউ দখল করে ফেলার আগে প্রেমিক/স্ত্রীর ভালবাসা দিতে অস্ত্রের অভাব হয়নি নারীদের। পুরুষরা কেবল অসহায় বলি, তথাকথিত অবলা এক নারীর কাছে ব্যক্তিত্ব আর সামাজিক মর্যাদা নাশ করে।
মশকরা করে ব্যাচ মেট রা যখন বলে, "তুইও শুরু কর, দেখ ভাল লাগে কিনা, বেছে নাও..."
আমি বলি ধরণী দ্বিধা হও..........
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


