বৃত্তবন্দীর ঘরে ফেরার স্বপ্ন
মেশিন ইন্টারফেসিং এর কোড লিখি বসে বসে, প্রচন্ড ঘৃণা ভরে। আমি জানি আমি পারব, তারপরেও ভাল লাগেনা। যদিও গবেষণার বিষয়বস্তু ভয়ংকর রকমের ভারি শোনায় এবং এর প্রয়োগ বিধি ও ভবিষ্যত আছে যথেষ্ঠ। দুজন সুপারভাইজারের দুটো গবেষণা দলের মাঝ খানে আমাকে ফেলে দেয়া হয়েছে, সমন্বয় করে কাজ করার জন্য। মা কে ফোন করে বলি দেশে চলে যাব, দেশে এক মাস ভিখ মেগে যা পেতাম আমার ৩ মাস চলে যেত। কার জন্য এ কষ্ট করা?
ফেড আমাকে শুধাল তোমার এ ডিগ্রী দিয়ে তুমি দেশে কি করতে চাও? আমি বললাম, "আই জাস্ট ওয়ান্ট টু মেক মাই প্যারেন্টস প্রাউড এন্ড হ্যাপি এবাউট মি।" ফেড একদিন জোর করে ধরল, আমাকে নিয়ে ডিনারে যাবে রেস্টুরেন্টে। সে নাস্তিক। আমি আমার ধর্ম পরিচয় দিয়ে হালাল-হারামের প্রসঙ্গ তুলতে প্রচন্ড কুন্ঠা বোধ করি (তার উপর মাগরিবের সময় যায় যায়)। সত্য কথাটাই বললাম, বাড়ি ওয়ালা ভাড়া নিতে আসবে, আর পেটের অবস্থা ভাল না। এত চমৎকার একটা ছেলেকে কষ্ট দিতে চাইনি, খুব করে সরি বলে যখন চলে আসলাম দেখি হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে আছে। প্রচন্ড খারাপ লাগল। স্বদেশে বন্ধু জোটেনি মানসিক রোগের অভিযোগে, আর এদেশে এত চমৎকার মানুষ গুলোর সাথে মানাতে পারছিনা সেই কুৎসিত সমস্যা আর ধর্মাচারের কারণে।
এতদকালের সাফল্য দেখে সুপারভাইজার বেশ খুশি দেখাল। কিন্তু সে আমার হাসি মুখ খুব একটা দেখেনি। রুমে ডেকে নিয়ে হোম সিকনেস আর আমেরিকান কালচার রপ্ত করার পরামর্শ দিল। বিড়বিড় করে বললাম, "ওয়ান্স আই গেট মাই ডিগ্রি আই উইল বি আউট অব দিস কান্ট্রি!" ক্রেডিট কার্ড করিনি, ক্যামেরা নাই, মোবাইল নাই, কোথাও ঘুরতে যাইনি, যেতেও চাইনা। ফেড নিয়ে যেতে চেয়েছিল, আমি বললাম ভ্রমণ জিনিসটা আমার কাছে ভীষণ ক্লান্তিকর।
দেশে যে জীবন উপভোগ করতাম তা নয়। অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে আমি বৃত্তবন্দী একজন। সাদাদের মাঝে একটা হীন মন্যতা আসে, দুর্ভেদ্য দেয়াল অনুভব করি সংস্কৃতি, বিশ্বাস আর চলনে যদিও তারা অবিশ্বাস্যরকমের ভদ্র। জন্মদিন, ঈদ কোন রকম পার করলেই আমি খুশি। কিন্তু ২য় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে বাচতে চাইনা। দেশে গিয়ে দিনে মাস্টারি করবো, রাতে চা খেয়ে অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকবো। আমার বৃত্তের মাঝে আমি স্বাধীন, খাদ্য বস্ত্রের চিন্তা থাকবেনা। ক'দিনই বা বাচবো?
ফেড এ ক্রিসমাসে দেশের বাড়ি যাচ্ছে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে। আমি বললাম, "ইউ নো ফেড, আই এম সো জেলাস অফ ইউ...আই নিড টু গো হোম সো ব্যাডলি..."
আমি ভাবলাম কার জন্য দেশে ফিরব? বাবা মা ডিগ্রী ছাড়া ঠাই দিবেন না। বিমান ভাড়ায় ১০০ বাকস কম পড়ে। সেই প্রফেসর ম্যাকের মত এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে আসি, আবার সেই ল্যাবে, জীবন শূণ্য অর্থহীন গবেষণার দঙ্গলে।
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।