আমার প্রিয় পোস্ট
- ঢাকা শহরের আধুনিক ছেলেদের কিছু কর্ম কান্ডের হদিস বুঝতে কস্ট হয়। এর মানে কি? - মেঘলা আকাশ ও বিষন্ন মন
- রাইফেল সিরিজ - বিডি ০৮ সাবমেশিন/ মেশিনগান গান - সাধারণমানুষ
- অধিকার বিষয়ে ব্লগের বুদ্ধিজীবীরা কী বলেন? - ব্রাত্য রাইসু
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- শীতনিদ্রা থেকে ফিরে: পুরাতন কবিতা - মানস চৌধুরী
- ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো.... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- প্রসঙ্গসূত্র জা.বি.: প্রতিরোধ প্রায়শই এনার্কিক; প্রায়শই লাইফস্টাইলে পরিসীমিত; কিন্তু অনেক অপশনও তো খোলা নেই ... - মানস চৌধুরী
- উপমহাদেশে ইংরেজ-রাজের নির্বিঘ্নে রাজত্ব চালাতে একজন গোলাম কাদীয়ানির প্রয়োজন ছিলো ... - বিবেক সত্যি
- একটি বাংলা রচনা: জনসংখ্যা সমস্যা - ফাহমিদুল হক
- সিডনীর ভন্ড আলেম থিকা সাবধান!! - সমালোচনাকারী
- পাকমন পেয়ার: আস্তমেয়ের শেঁকড় সন্ধানের অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পাকমন পেয়ার: নেকাবের আড়ালে ফিসফাস, এক অদ্ভুত সৎ প্রচেষ্টা! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
বৃত্তবন্দীর ঘরে ফেরার স্বপ্ন
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:১৯
টার্ম শেষে কোর্স প্রোজেক্ট বলে একটা জিনিস আছে যাতে আমার বরাবরই অনাগ্রহ। প্রোগ্রামিং ভাষায় দুর্বলতা আছে ভীষণ। পুরোদস্তুর যন্ত্র ও তত্ব প্রকৌশলী হয়ে যখন প্রোজেক্টের নামে কোড লিখে মনিটরের সামনে "পিসড অফ" হতে হয়, তখন মাথা ঠুকতে ইচ্ছা হয়, এই দেশে আর নয়। দেশে ফেরার টিকেটের দাম খুজি। সব মিলিয়ে ৮ জনের ৮ টা প্রোজেক্ট। ছাত্রদের অংশ গ্রহণে ও দেয়া মান অনুযায়ী প্রোজেক্টের নম্বরিং হবে। সেরা প্রজেক্টধারীকে তার কোড রাইট করে ল্যাবে সৌজন্য কপি হিসেবে জমা দিতে হবে বলে প্রফেসর ঘোষণা দিলেন।আমি হতভম্ব ছাত্রদের নির্বাচনে আমার প্রোজেক্ট সেরা।
মেশিন ইন্টারফেসিং এর কোড লিখি বসে বসে, প্রচন্ড ঘৃণা ভরে। আমি জানি আমি পারব, তারপরেও ভাল লাগেনা। যদিও গবেষণার বিষয়বস্তু ভয়ংকর রকমের ভারি শোনায় এবং এর প্রয়োগ বিধি ও ভবিষ্যত আছে যথেষ্ঠ। দুজন সুপারভাইজারের দুটো গবেষণা দলের মাঝ খানে আমাকে ফেলে দেয়া হয়েছে, সমন্বয় করে কাজ করার জন্য। মা কে ফোন করে বলি দেশে চলে যাব, দেশে এক মাস ভিখ মেগে যা পেতাম আমার ৩ মাস চলে যেত। কার জন্য এ কষ্ট করা?
ফেড আমাকে শুধাল তোমার এ ডিগ্রী দিয়ে তুমি দেশে কি করতে চাও? আমি বললাম, "আই জাস্ট ওয়ান্ট টু মেক মাই প্যারেন্টস প্রাউড এন্ড হ্যাপি এবাউট মি।" ফেড একদিন জোর করে ধরল, আমাকে নিয়ে ডিনারে যাবে রেস্টুরেন্টে। সে নাস্তিক। আমি আমার ধর্ম পরিচয় দিয়ে হালাল-হারামের প্রসঙ্গ তুলতে প্রচন্ড কুন্ঠা বোধ করি (তার উপর মাগরিবের সময় যায় যায়)। সত্য কথাটাই বললাম, বাড়ি ওয়ালা ভাড়া নিতে আসবে, আর পেটের অবস্থা ভাল না। এত চমৎকার একটা ছেলেকে কষ্ট দিতে চাইনি, খুব করে সরি বলে যখন চলে আসলাম দেখি হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে আছে। প্রচন্ড খারাপ লাগল। স্বদেশে বন্ধু জোটেনি মানসিক রোগের অভিযোগে, আর এদেশে এত চমৎকার মানুষ গুলোর সাথে মানাতে পারছিনা সেই কুৎসিত সমস্যা আর ধর্মাচারের কারণে।
এতদকালের সাফল্য দেখে সুপারভাইজার বেশ খুশি দেখাল। কিন্তু সে আমার হাসি মুখ খুব একটা দেখেনি। রুমে ডেকে নিয়ে হোম সিকনেস আর আমেরিকান কালচার রপ্ত করার পরামর্শ দিল। বিড়বিড় করে বললাম, "ওয়ান্স আই গেট মাই ডিগ্রি আই উইল বি আউট অব দিস কান্ট্রি!" ক্রেডিট কার্ড করিনি, ক্যামেরা নাই, মোবাইল নাই, কোথাও ঘুরতে যাইনি, যেতেও চাইনা। ফেড নিয়ে যেতে চেয়েছিল, আমি বললাম ভ্রমণ জিনিসটা আমার কাছে ভীষণ ক্লান্তিকর।
দেশে যে জীবন উপভোগ করতাম তা নয়। অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে আমি বৃত্তবন্দী একজন। সাদাদের মাঝে একটা হীন মন্যতা আসে, দুর্ভেদ্য দেয়াল অনুভব করি সংস্কৃতি, বিশ্বাস আর চলনে যদিও তারা অবিশ্বাস্যরকমের ভদ্র। জন্মদিন, ঈদ কোন রকম পার করলেই আমি খুশি। কিন্তু ২য় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে বাচতে চাইনা। দেশে গিয়ে দিনে মাস্টারি করবো, রাতে চা খেয়ে অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকবো। আমার বৃত্তের মাঝে আমি স্বাধীন, খাদ্য বস্ত্রের চিন্তা থাকবেনা। ক'দিনই বা বাচবো?
ফেড এ ক্রিসমাসে দেশের বাড়ি যাচ্ছে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে। আমি বললাম, "ইউ নো ফেড, আই এম সো জেলাস অফ ইউ...আই নিড টু গো হোম সো ব্যাডলি..."
আমি ভাবলাম কার জন্য দেশে ফিরব? বাবা মা ডিগ্রী ছাড়া ঠাই দিবেন না। বিমান ভাড়ায় ১০০ বাকস কম পড়ে। সেই প্রফেসর ম্যাকের মত এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে আসি, আবার সেই ল্যাবে, জীবন শূণ্য অর্থহীন গবেষণার দঙ্গলে।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
তানজু রাহমান বলেছেন:
প্রোগ্রামীং-এর জন্য...সিদ্ধান্ত নিছি পড়াশোনা পাল্টায় ফেলব... নাইলে গ্র্যাজুয়েট কর্তাম্পার্বোনা
আতিকুল হক বলেছেন:
মন খারাপ হয়ে গেল।
প্রলয় হাসান বলেছেন:
ঈদ মোবারক শেরিফ।
মেঘাচ্ছন্ন বলেছেন:
ঈদ মুবারক.....!!
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন:
ঈদ মোবারক
অচেনা সৈকত বলেছেন:
মন খারাপ জিনিষটা আমাদের জন্য নিষিদ্ধ। আমরা আমেরিকায় অনেক সুখে থাকি সেটাই ভাবে সবাই। ঠান্ডায় জমে যাওয়া চোখের জল যে শুকিয়ে গালে লেগে থাকে সেটা কারো চোখে পড়ে না।
সামেদি মেডিভ বলেছেন:
আপনার কথা পরে তো MSc PhD করার সখ স্রেফ উবে গেলো!!! :-Oমায়ের কোলে থাইকা ব্যচেলরস করতেই কতো চিল্লাচিল্লি...! এই আবস্থা হইলে তো খারার উপর মরতে হবে!!!
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন:
বৃত্তটা একদিন ভেঙ্গে ফেলুন হুট করে।হঠাৎ কোথাও ভ্রমনে চলে যান, যেটি কখনো উপভোগ করেননি উপভোগ করে দেখুন না;
বৃত্ত ভাঙ্গাটা ভীষন প্রয়োজন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















