না কোন খেদ নেই নীল রক্তধারীদের ব্যাপারে, তবে ৫ টাকার আলু ৫০ টাকায় খাবার দোকানে নিজেকে বড্ড অস্পৃশ্য আর অপাঙতেয় মনে হয়। ভিক্ষুকের বেশ নিয়ে তাদের বিলাসী দাপুটে মনোযোগে ছেদ ঘটানোর অধিকার নেই আমার।
ছুটি মানেই আমার কাছে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকার কাল। সাদাদের ভিড়ে নিজের কৃষ্ণাঙ্গ অস্তিত্ব জাহির করে বিব্রত হবার ইচ্ছা নেই। ঘর বন্দী উষ্ণতাই আরাম দায়ক, ভ্রমণেরও ক্লান্তি নেই। দেশে থাকতে টিভি দেখা হতনা একদমই, বাসায় অন্তত টিভি ছিলনা। সামাজিক পরিসরে বিচরণ আর পরিচিতি ছিল শূণ্যের কোঠায়।
আজ পৃথিবীর অপর পিঠে কম্বলের নিচে শুয়ে দেশে ফেরার দিন গুনি। বাংলা ভিশনে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম "রাত বিরাতে" অনুষ্ঠানটি, ছিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শিমুল মোস্তফা। আড্ডার কি সুন্দর মুহুর্ত গুলো ছুয়ে দেখা হয়নি প্রায় কখনই। নতুন করে স্বদেশে গিয়ে সামাজিক হবার দুঃসাহস নেই, বিদেশের মাটিতে আরামদায়ক জীবনের উচ্চাভিলাসী স্বপ্নও নেই। তবুও মাটির টান, আগে অনুভব করিনি কখনই। মনের মাঝে পাষান রাজাকারটাও ক্ষণিকের জন্য দেশ প্রেমিক রক্ত যোদ্ধা হয়ে ওঠে।
আবার কবে দেশে ফেরা হবে? সম গোত্র , সম বর্ণের ভবঘুরেদের সাথে মিশে থাকব স্বস্তি নিয়ে, সভ্য সুশীলদের বিব্রত চাহুনি এড়িয়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প বেতনভোগী মাস্টার, উপরি উপার্জনের সুযোগ প্রায়শই নেই। নিজের পৈত্রিক ভিটা নেই, স্থায়ী ঠিকানা লিখতে গিয়ে প্রতিবার থমকে যেতে হয় ভাবনা নিয়ে। বাবা মার দায়িত্ব শেষ, ছেলের ডানা গজিয়েছে, ভিখ মেগে হলেও খেতে জানে। আমার আর অর্থ কড়ি কিসে প্রয়োজন? একটা ঘর ভাড়া করে সম্মান নিয়ে খেয়ে পরে বেচে থাকা। সম্মানটা শুধু অপমান আর লাঞ্ছনার হাত থেকে আত্মরক্ষার ঢালের প্রয়োজনে। ভিন দেশে, প্রবল শৈত্যের মাঝে কষ্ট করে হলেও টিকে থাকতে হবে বছরের পর বছর।
একটা ভিনদেশি ডিগ্রী বড্ড দরকার আজ আমার, স্বদেশে ক্ষুন্নিবৃত্তির তাগিদে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



