আমার প্রিয় পোস্ট

বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে স্বদেশে ভিখ মেগে খাবার সুখ স্বপ্ন

০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭

শেয়ারঃ
0 0 0

৪ বছর আগের কথা। সোবহানবাগের রাস্তা ধরে হাটছি এক সন্ধ্যায়। এলাকার পুরনো এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। কুশল বিনিময়ের পরেই খাবার দাওয়াত। সুবোধ বালকের মত রিক্সায় উঠলাম রাতের ডাল ভাতটা জোগাড়ের আশায়। রিক্সা এসে থামল ঝলমলে এক রেস্তোরায়, পরে জেনেছি ওটা ওয়েস্টার্ন গ্রিল। নীল রক্তধারীদের ঝলমলে পানশালা দেখে থমকে দাড়ালাম। না ভাই, এখানে খাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।

না কোন খেদ নেই নীল রক্তধারীদের ব্যাপারে, তবে ৫ টাকার আলু ৫০ টাকায় খাবার দোকানে নিজেকে বড্ড অস্পৃশ্য আর অপাঙতেয় মনে হয়। ভিক্ষুকের বেশ নিয়ে তাদের বিলাসী দাপুটে মনোযোগে ছেদ ঘটানোর অধিকার নেই আমার।

ছুটি মানেই আমার কাছে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকার কাল। সাদাদের ভিড়ে নিজের কৃষ্ণাঙ্গ অস্তিত্ব জাহির করে বিব্রত হবার ইচ্ছা নেই। ঘর বন্দী উষ্ণতাই আরাম দায়ক, ভ্রমণেরও ক্লান্তি নেই। দেশে থাকতে টিভি দেখা হতনা একদমই, বাসায় অন্তত টিভি ছিলনা। সামাজিক পরিসরে বিচরণ আর পরিচিতি ছিল শূণ্যের কোঠায়।

আজ পৃথিবীর অপর পিঠে কম্বলের নিচে শুয়ে দেশে ফেরার দিন গুনি। বাংলা ভিশনে মুগ্ধ হয়ে দেখলাম "রাত বিরাতে" অনুষ্ঠানটি, ছিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার শিমুল মোস্তফা। আড্ডার কি সুন্দর মুহুর্ত গুলো ছুয়ে দেখা হয়নি প্রায় কখনই। নতুন করে স্বদেশে গিয়ে সামাজিক হবার দুঃসাহস নেই, বিদেশের মাটিতে আরামদায়ক জীবনের উচ্চাভিলাসী স্বপ্নও নেই। তবুও মাটির টান, আগে অনুভব করিনি কখনই। মনের মাঝে পাষান রাজাকারটাও ক্ষণিকের জন্য দেশ প্রেমিক রক্ত যোদ্ধা হয়ে ওঠে।

আবার কবে দেশে ফেরা হবে? সম গোত্র , সম বর্ণের ভবঘুরেদের সাথে মিশে থাকব স্বস্তি নিয়ে, সভ্য সুশীলদের বিব্রত চাহুনি এড়িয়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প বেতনভোগী মাস্টার, উপরি উপার্জনের সুযোগ প্রায়শই নেই। নিজের পৈত্রিক ভিটা নেই, স্থায়ী ঠিকানা লিখতে গিয়ে প্রতিবার থমকে যেতে হয় ভাবনা নিয়ে। বাবা মার দায়িত্ব শেষ, ছেলের ডানা গজিয়েছে, ভিখ মেগে হলেও খেতে জানে। আমার আর অর্থ কড়ি কিসে প্রয়োজন? একটা ঘর ভাড়া করে সম্মান নিয়ে খেয়ে পরে বেচে থাকা। সম্মানটা শুধু অপমান আর লাঞ্ছনার হাত থেকে আত্মরক্ষার ঢালের প্রয়োজনে। ভিন দেশে, প্রবল শৈত্যের মাঝে কষ্ট করে হলেও টিকে থাকতে হবে বছরের পর বছর।

একটা ভিনদেশি ডিগ্রী বড্ড দরকার আজ আমার, স্বদেশে ক্ষুন্নিবৃত্তির তাগিদে।



 

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৬:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:০১
নুশেরা বলেছেন: স্বদেশেই হোক সসম্মান ক্ষুণ্ণিবৃত্তি। শুভকামনা রইল। ভাল থাকবেন।
২. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:০৯
টুশকি বলেছেন: মন খারাপ করে দিলেন।
৩. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৭:৪৫
ভোরের তারা বলেছেন: ভাল লিখেছেন। "মনের মাঝে পাষান রাজাকারটাও ক্ষণিকের জন্য দেশ প্রেমিক রক্ত যোদ্ধা হয়ে ওঠে।"- এই লাইনটা লেখার জন্য ধন্যবাদ জানাই। সব সময় দুঃখ কেন আনন্দের কথাও কিছু লিখুন। আপনার থিসিস কেমন চলছে। টরোন্টোতে কি বরফ পড়ছে। দেশে কোন ইউনিতে আপনি ছিলেন। অনেক প্রশ্ন করে ফেললাম!!!
৪. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:০৮
অ্যামাটার বলেছেন: আপনার কয়েকটা বাক্য চাবুকেরমত আঘাত করল...স্বদেশের প্রতি এত ক্ষেদ কেন রে ভাই...
তবে হ্যাঁ, আপনার সাথে দ্বি-মত পোষন করার উপাই নাই। আমরা আমাদের সহস্র বছরের গ্লোরিয়াস ঐতিহ্য নির্লজ্বের মত বিসর্জন দিয়ে শস্তা পশ্চিমাদের ফেলেদেওয়া আবর্জনা-টা মুখে তুলে নিচ্ছি লজ্জাজনকভাবে...
হীনমন্যতায় গ্রাস করে ফেলেছে আমাদের...
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:১৫

লেখক বলেছেন: স্বদেশের প্রতি ক্ষেদ!!! কোথায় পেলেন ভাই??!! রাজাকার শব্দটা ব্যবহার করেছি কঠোরতা থেকে কোমলতার ঢাল টাকে আরো খাড়া করতে। তবে হ্যা, স্বজাতির প্রতি ক্ষোভ আছে, তার অনেকটাই হয়ত হতাশা মাখা, তবে স্বদেশের প্রতি নয়।

৫. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:৫৬
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: স্বদেশে ক্ষুন্নিবৃত্তি না করে দেশ গড়ার কাজেও অংশ নিতে পারেন।
০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:০০

লেখক বলেছেন: সেটার জন্য যথেষ্ট মানসিক শক্তির অভাব বোধ করি।

৬. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:২১
লীনা দিলরূবা বলেছেন: মানুষ তার আশার সমান বড়
সুতরাং, বড়ত্বটা তেমনই হোক যতটা আপনি আশা করছেন
৭. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:২৩
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: আপনার লিখাটা পড়লাম, অনেকক্ষণ থমকে ছিলাম, মনে হচ্ছে কেউ আমার কথাগুলোই বলছে। যাইহোক আপনার মতো আমিও একটা ভিনদেশী ডিগ্রির আশায় আছি। কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি, দোয়া করবেন। স্বসম্মানে দেশে ফিরে, দেশের জন্যে কিছু করতে চাই, তার আগে নিজেকে গড়ে নিতে চাই, আর তাই নিজ দেশের আলো-বাতাস, মা-বাবা ফেলে এই মাইনাসের (ঠান্ডা) দেশে পড়ে থাকা।
৮. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৩৭
অচেনা সৈকত বলেছেন: অমাবশ্যার চাঁদ@ দেশ গড়া শব্দটা এখনো অপরিষ্কারই রয়ে গেল আমার কাছে। যখন সাইফ বা সাইফের মত অন্যরা ফিরে আসবে দেশে তখন সত্যিই কি তাঁরা দেশ গড়তে পারবেন? গত ৩৭ বছরে কেউ কি পেরেছেন?
৯. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:৫৭
ইসানুর বলেছেন: খুব সুন্দর লিখছেন। মন ছুয়ে গেল.......
১০. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: @অচেনা সৈকত দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা শুধু বক্তৃতা বিবৃতিতে তাদের দেশপ্রেম সীমাবদ্ধ রেখেছেন বলেই দেশের আজ এই অবস্থা। আমার বিশ্বাস একমাত্র শিক্ষিত তারুণ্যই পারবে তাদর মহত কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ায় অগ্রনী ভূমিকা রাখতে।
১১. ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫
রাজামশাই বলেছেন: পড়লাম ।

তোমার কাছে ভিক্ষাবৃত্তি জিনিস টা কি হে ?
১২. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৪৬
কে এম তানভীর আহম্মেদ বলেছেন: বরাবরের মতোই আপনার এই লেখাটাও হৃদয় ছুঁয়ে গেল।

তবে "ভিখ মেগে হলেও খেতে জানে।" আপনার কাছে ভিক্ষাবৃত্তি জিনিস টা আসলে কি?
১৫. ১৮ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:০৬
আজুরা রাহমান বলেছেন: মনটা খারাপ হয়ে গেল।আপনিতো তাও দেশে ফিরে যাবেন একসময় কিন্তু আমিতো কখোনোই পারবো না :(
১৬. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩২
েক আিম বলেছেন: ঠিক এই অনুভুতিটাই আজ থেকে ৩ বছর আগে আমাকেও ফিরিয়ে এনেছিল আমার মা আর মাটির কোলে।
মাঝে মাঝে মামা চাচার দৌরত্ব আর অনিয়মে মন খারাপ হলেও, কৈ যেন একটা শান্তিও পাই দেশের বুকে, কোন ক্ষোভ নেই দু:খ নেই।

আপনার জন্য শুভ কামনা।।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।

১৭. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৫
রাতমজুর বলেছেন: আমার মত কদম আলি (ডিগ্রী নাই) বইনা যান :)
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৩১

লেখক বলেছেন: মানসিক রোগীদের যদি ডিগ্রীও না থাকে তবে তা তো না খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার শামিল। ডিগ্রী বেচে যদি রুটি রুজির ব্যবস্থা হয়। :(

১৮. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪৫
মুহম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন: ভাইলে এখন বিদেশ তো ভালো, চান্দের দেশের ডিগ্রী নিয়া আইলেও দেশে চাকরী নাই। একদম ঠিক কথা কইলাম।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৩৪

লেখক বলেছেন: ১৫ বছর আগে এ কথা বললে মাথা পেতে নিতাম। দেশে চাকুরি আছে ভালই, দেশে ফিরে বিদেশী ডিগ্রী দিয়ে বিদেশের মত হয়ত দামী গাড়ি হাকাতে পারবেন না, তবে ইজ্জতের সাথে খেয়ে পরে বাচার মত উপায় এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

১৯. ১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪০
েক আিম বলেছেন: @জায়েদুল: চাকরি আছে তবে শুধু দুই প্রজাতির মানুষের জন্য: যাদের মামা চাচা আছে আর যারা প্রপারলি যোগ্য।

আর দেশ এখন অনেক বদলাইছে, এখন খালি ডিগ্রী মানেই যোগ্যতা না: প্রপার জায়গা থেকে প্রপার ডিগ্রী লাগে। আর বিদেশে যেমন বুয়েট মানের বিশ্ববিদ্যালয় আছে তেমনি আছে হগি চোগি কলেজ আর ইউনি। সেটাও এখন চাকরীদাতারা জানে।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৩৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পরিত্যক্ত মানসিক রোগীরা ভাব প্রকাশের ক্ষুধা নিবৃত্তির দায়ে হয়তবা ব্লগের আশ্রয় নেয়। সেখানেও সামাজিক, বাস্তববাদীরা হানা দেয়। ভাব বিনিময়ের আদিম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ