somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিভৃতচারী সাদা মনের মানুষ, একান্ত আপন আঁধারে।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরনো দেড় তলা দালানের নিচেই মূল ফটকের পাশেই উনি বসেন। আসন্ন ঈদে জনশূন্য ক্যাম্পাসে এক অপরাহ্ন। ছড়ানো ছিটানো বহু দিস্তা কাগজ, জং ধরা আলমিরার পাশেই একটা ছোট হিমায়ক যন্ত্র। কিছু অর্ধ শূণ্য কফের সিরাপ। মুল চেয়ারে না বসে গালে হাত রেখে পার্শ্ব চেয়ারে বসে ঝিমান, খুক খুক করে কাশেন। রোদ ফাটা দুপুরেও ঘরটাতে আঁধার আর গুমোট মাখা সন্ধ্যে নামে। ডায়বেটিসের প্রকোপ নিয়ে প্রাণ ভরে খান চিনি যুক্ত পানীয়, বেচে থাকার ইচ্ছে ছিলনা কখনও আপন ভাষ্য মতে। ডাক্তার দেখানোর টাকা নেই, তাই ক্যান্সারের অগ্রিম আশংকা নিয়ে দিন যাপন।

পরের দিনে সেই পুরনো পোশাকে ৩০ টাকার রূপসা চপ্পল পায়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে যান ক্লাশে কোন কাগজ ছাড়াই, খালি হাতে । লিখা শুরু করেন, যন্ত্রের মত বলে যান জ্ঞান আর বিজ্ঞানের কথা। ছাত্ররা সায় দেয়, স্যার ভাল মানুষ, তাই ভাল থাকেন সব সময়। আবারও ঘরে ফিরেন সেই রাতে, পালক এতিম সন্তান গুলো ঘুমিয়ে পড়ে তত ক্ষণে, ভাত রান্না করে ডেকে তুলে খাওয়ান। আবার কখনও ডায়বেটিস এলে শয্যাশায়ী হন অন্তিম শয্যার প্রবল কামনা নিয়ে, সেবা করতে ঘিরে ধরে সেই এতিম শিশু গুলোর মুখ।


আমেরিকার শীতলতম প্রদেশে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন। শুরুতেই গবেষণা পত্রের দঙ্গলে পড়ে চলে যান এয়ারপোর্টে, ঘর নেই, স্বজন নেই, তবু্ও ঝামেলা এড়িয়ে ঘরে ফেরার টান। টিকিটের দামে শখানের ডলার কম পড়ে। বাধ্য হয়ে ফিরে যান গবেষণার দঙ্গলে।

ফ্যাকাল্টি ডিন হয়ে ব্যাংকে দাড়িয়ে পড়েন ছাত্রদের কাতারে, ঝুলে যাওয়া শার্টের পকেট, বঞ্চিত-অবঞ্চিত মানুষের সামনে জ্যান্ত টাকার গাছ। মানবতা আর প্রযুক্তির জন্য নিজেকে ছিড়ে ছিড়ে নিঃস্ব করা একজন।

আমরা ভীষণ অকৃতজ্ঞ, প্রতিহিংসা পরায়ণ। আমৃত্যু চিরকুমারের অস্তিত্বকে সমাজে অবৈধ, এক ঘরে করে দিই। শারিরীক অক্ষমতার কুৎসা থেকে শুরু করে প্রেমে ব্যর্থতার গল্প ফেদে রস পেতে ভালবাসি আমরা। সব কিছুকে নিজেদের বদ্ধ মানসে বিচার করে গতানুগতিক ধারণা নিতে ও দিতে আমাদের আগ্রহের কমতি নেই। স্যারের মুখে হাসি দেখিনি, ভুল করে বাসার বেল টিপে দিলে সেই গম্ভীর কন্ঠে, "কে?"

দরজা খুলতেই সেই পাথর মূর্তি। ভর দুপুরে ঘুট ঘুটে অন্ধকার ঘরের ভিতরটা। কাছেই একটা ইজি চেয়ার, আপন আধারে শুয়ে থাকার জন্য। সেই ভোর পাচ টায় অপিসের দারোয়ানদের নিয়ে ফজরের নামায পড়ে কর্ম দিবস শুরু, এমনকি শুক্রবারেও।


কাল ও স্থানের ব্যবধানে আমার বর্বর-কঠোর অবষ্থান গলতে থাকে। হাতে দুটো বাদামের ঠোঙা চলে আসে, ছায়ার মত কেউ একজন দাড়িয়ে যায় জিয়া উদ্যানে, কিংবা নীল রক্তধারীদের আলো আধারি মাখা পানশালা.... একটি টেবিল, দুটো চেয়ারের একটাতে আমি বসি, আরেকটা কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে। কিংবা গাজীপুর শালবনে ঝম ঝম বৃষ্টি নামে, বনের মাঝ দিয়ে চলা আমার ২০০৬ মডেলের গাড়িতে হালকা সুরে গান বাজে। কিন্তু পাশের সিট টা খালি ভাবতেই অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠি। মানুষ একা বাঁচে কিভাবে?

গড্ডালিকার মূর্খতায় আক্রান্ত মানুষ গুলো ধর্মের দোহাই দিতে ভালবাসে। বিয়ে করা নাকি ফরয! স্যার সন্ন্যাস আর যান্ত্রিকতার সমন্বয়ে শুদ্ধতম মানুষ ছিলেন, আছেন, থাকবেন। দ্বিতীয়বারের মত তীর্থ যাত্রা করে আজ শ্মশ্রুধারী ।

সংসার ধর্মের বিরুদ্ধ অবস্থানের জন্য স্রষ্টার ক্ষমা থেকে কি তিনি বঞ্চিত হবেন? এতটা কঠোর কি স্রষ্টা হতে পারবেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪
১২টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×