আমার প্রিয় পোস্ট
- ঢাকা শহরের আধুনিক ছেলেদের কিছু কর্ম কান্ডের হদিস বুঝতে কস্ট হয়। এর মানে কি? - মেঘলা আকাশ ও বিষন্ন মন
- রাইফেল সিরিজ - বিডি ০৮ সাবমেশিন/ মেশিনগান গান - সাধারণমানুষ
- অধিকার বিষয়ে ব্লগের বুদ্ধিজীবীরা কী বলেন? - ব্রাত্য রাইসু
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- শীতনিদ্রা থেকে ফিরে: পুরাতন কবিতা - মানস চৌধুরী
- ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো.... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- প্রসঙ্গসূত্র জা.বি.: প্রতিরোধ প্রায়শই এনার্কিক; প্রায়শই লাইফস্টাইলে পরিসীমিত; কিন্তু অনেক অপশনও তো খোলা নেই ... - মানস চৌধুরী
- উপমহাদেশে ইংরেজ-রাজের নির্বিঘ্নে রাজত্ব চালাতে একজন গোলাম কাদীয়ানির প্রয়োজন ছিলো ... - বিবেক সত্যি
- একটি বাংলা রচনা: জনসংখ্যা সমস্যা - ফাহমিদুল হক
- সিডনীর ভন্ড আলেম থিকা সাবধান!! - সমালোচনাকারী
- পাকমন পেয়ার: আস্তমেয়ের শেঁকড় সন্ধানের অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পাকমন পেয়ার: নেকাবের আড়ালে ফিসফাস, এক অদ্ভুত সৎ প্রচেষ্টা! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
নিভৃতচারী সাদা মনের মানুষ, একান্ত আপন আঁধারে।
২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪
পুরনো দেড় তলা দালানের নিচেই মূল ফটকের পাশেই উনি বসেন। আসন্ন ঈদে জনশূন্য ক্যাম্পাসে এক অপরাহ্ন। ছড়ানো ছিটানো বহু দিস্তা কাগজ, জং ধরা আলমিরার পাশেই একটা ছোট হিমায়ক যন্ত্র। কিছু অর্ধ শূণ্য কফের সিরাপ। মুল চেয়ারে না বসে গালে হাত রেখে পার্শ্ব চেয়ারে বসে ঝিমান, খুক খুক করে কাশেন। রোদ ফাটা দুপুরেও ঘরটাতে আঁধার আর গুমোট মাখা সন্ধ্যে নামে। ডায়বেটিসের প্রকোপ নিয়ে প্রাণ ভরে খান চিনি যুক্ত পানীয়, বেচে থাকার ইচ্ছে ছিলনা কখনও আপন ভাষ্য মতে। ডাক্তার দেখানোর টাকা নেই, তাই ক্যান্সারের অগ্রিম আশংকা নিয়ে দিন যাপন।
পরের দিনে সেই পুরনো পোশাকে ৩০ টাকার রূপসা চপ্পল পায়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে যান ক্লাশে কোন কাগজ ছাড়াই, খালি হাতে । লিখা শুরু করেন, যন্ত্রের মত বলে যান জ্ঞান আর বিজ্ঞানের কথা। ছাত্ররা সায় দেয়, স্যার ভাল মানুষ, তাই ভাল থাকেন সব সময়। আবারও ঘরে ফিরেন সেই রাতে, পালক এতিম সন্তান গুলো ঘুমিয়ে পড়ে তত ক্ষণে, ভাত রান্না করে ডেকে তুলে খাওয়ান। আবার কখনও ডায়বেটিস এলে শয্যাশায়ী হন অন্তিম শয্যার প্রবল কামনা নিয়ে, সেবা করতে ঘিরে ধরে সেই এতিম শিশু গুলোর মুখ।
আমেরিকার শীতলতম প্রদেশে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন। শুরুতেই গবেষণা পত্রের দঙ্গলে পড়ে চলে যান এয়ারপোর্টে, ঘর নেই, স্বজন নেই, তবু্ও ঝামেলা এড়িয়ে ঘরে ফেরার টান। টিকিটের দামে শখানের ডলার কম পড়ে। বাধ্য হয়ে ফিরে যান গবেষণার দঙ্গলে।
ফ্যাকাল্টি ডিন হয়ে ব্যাংকে দাড়িয়ে পড়েন ছাত্রদের কাতারে, ঝুলে যাওয়া শার্টের পকেট, বঞ্চিত-অবঞ্চিত মানুষের সামনে জ্যান্ত টাকার গাছ। মানবতা আর প্রযুক্তির জন্য নিজেকে ছিড়ে ছিড়ে নিঃস্ব করা একজন।
আমরা ভীষণ অকৃতজ্ঞ, প্রতিহিংসা পরায়ণ। আমৃত্যু চিরকুমারের অস্তিত্বকে সমাজে অবৈধ, এক ঘরে করে দিই। শারিরীক অক্ষমতার কুৎসা থেকে শুরু করে প্রেমে ব্যর্থতার গল্প ফেদে রস পেতে ভালবাসি আমরা। সব কিছুকে নিজেদের বদ্ধ মানসে বিচার করে গতানুগতিক ধারণা নিতে ও দিতে আমাদের আগ্রহের কমতি নেই। স্যারের মুখে হাসি দেখিনি, ভুল করে বাসার বেল টিপে দিলে সেই গম্ভীর কন্ঠে, "কে?"
দরজা খুলতেই সেই পাথর মূর্তি। ভর দুপুরে ঘুট ঘুটে অন্ধকার ঘরের ভিতরটা। কাছেই একটা ইজি চেয়ার, আপন আধারে শুয়ে থাকার জন্য। সেই ভোর পাচ টায় অপিসের দারোয়ানদের নিয়ে ফজরের নামায পড়ে কর্ম দিবস শুরু, এমনকি শুক্রবারেও।
কাল ও স্থানের ব্যবধানে আমার বর্বর-কঠোর অবষ্থান গলতে থাকে। হাতে দুটো বাদামের ঠোঙা চলে আসে, ছায়ার মত কেউ একজন দাড়িয়ে যায় জিয়া উদ্যানে, কিংবা নীল রক্তধারীদের আলো আধারি মাখা পানশালা.... একটি টেবিল, দুটো চেয়ারের একটাতে আমি বসি, আরেকটা কারো জন্য অপেক্ষায় থাকে। কিংবা গাজীপুর শালবনে ঝম ঝম বৃষ্টি নামে, বনের মাঝ দিয়ে চলা আমার ২০০৬ মডেলের গাড়িতে হালকা সুরে গান বাজে। কিন্তু পাশের সিট টা খালি ভাবতেই অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠি। মানুষ একা বাঁচে কিভাবে?
গড্ডালিকার মূর্খতায় আক্রান্ত মানুষ গুলো ধর্মের দোহাই দিতে ভালবাসে। বিয়ে করা নাকি ফরয! স্যার সন্ন্যাস আর যান্ত্রিকতার সমন্বয়ে শুদ্ধতম মানুষ ছিলেন, আছেন, থাকবেন। দ্বিতীয়বারের মত তীর্থ যাত্রা করে আজ শ্মশ্রুধারী ।
সংসার ধর্মের বিরুদ্ধ অবস্থানের জন্য স্রষ্টার ক্ষমা থেকে কি তিনি বঞ্চিত হবেন? এতটা কঠোর কি স্রষ্টা হতে পারবেন?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
জানজাবিদ বলেছেন:
কার কথা বললেন বুঝলাম না। তবে সুন্দর লিখেছেন।
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন:
স্রষ্ঠা কখনো কঠোর হন না, এসব নিয়ম গুলো আমরা বানাই।যিনি সত্যিকার অর্থে শুদ্ধ এবং সাদামনের মানুষ তাকে নিয়েও আমরা কুৎসা করতে পিছপা হইনা। তবে এরা তো অসাধারন সব মানুষ।
সাধারন যারা তাদের ঘর, সংসার, সমাজ প্রয়োজন; তাদের জন্য একাকিত্ব অসহনীয়।
লেখক বলেছেন: স্বয়ং স্রষ্টাকেও মানুষ বানায়, তাই নয় কি?
ওয়ার হিরো বলেছেন:
চমৎকার লেখা।
বুঝলাম না, শিক্ষকদের আলাদা কাতার হয় নাকি?
লেখক বলেছেন: অধ্যাপকদের নিয়মই হল ম্যানেজারের এসি রুমে বসে চা পানি খাওয়া এবং কর্মচারীর কেউ এসে টাকা দিয়ে যাওয়া অথবা পিওনকে পাঠিয়ে দিয়ে টাকা তোলা। উনি এসবের ধার ধারেন না কখনই।জনতার কাতারে দাড়ায়ে, জনতার সাথে মিশে কাজ করেন।
শেরজা তপন বলেছেন:
আরেকটু বিস্তারিত দিলে ভাল হত।নিভৃতচারীকে নিয়ে লেখাটা একটু বেশী সংক্ষিপ্ত ও সাংকেতিক হয়ে গেছে- তবে এইটুকুও ভাল লেগেছে।
লেখক বলেছেন: বিভাগীয় প্রধান থাকা কালে পত্রিকা অফিসের লোকেরা গিয়েছিল সাক্ষাৎকার নিতে, ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। থাক না নিভৃতচারীকে আমৃত্যু নিভৃতে থাকতে দিন।
শাহ্রিন বলেছেন:
চমৎকার লেখা। তবে দয়া করে বলবেন সেই শিক্ষক কোন বিষয়ের ছিলেন।
লেখক বলেছেন: উনি এখনও অধ্যাপক। যন্ত্র গড়া ও যন্ত্র শাসন নিয়েই উনার গবেষণা, সাধনা ও শিক্ষা দান।
রাগিব বলেছেন:
উনি কি নর্থ ডাকোটা নাকি মিনেসোটাতে পিএইচডি করেছেন?
জুবাঈর_সাঈদ বলেছেন:
MAC sir ???
কে এম তানভীর আহম্মেদ বলেছেন:
Md. Ali Sir?
নিলআকাশেরদুঃখ বলেছেন:
ভাই বই download এর বহু চেষ্টা করলাম।but faild।can u write details ,how can i download those book.plz write on my blog if u have time.ok bye
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
নিভৃতচারী মানুষটার কথা পড়ে ভালো লাগলো..........
এমন অনেক ভালো মানুষ আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর......
কেমন আছো?
শুভেচ্ছা নিও।
লেখক বলেছেন: আপ ভাল তো জগত ভাল! সুন্দর মানুষের দেশে থেকে পৃথিবী-জীবনটা সুন্দর লাগাই স্বাভাবিক। দেশে ভাল মানুষের সংকট। যে ক'জন আছেন তাদের দিয়েও আমার চিরচেনা "স্বদেশী পৃথিবীটা" সুন্দর লাগেনা কখনও। প্রভাবশালী অশুভ শক্তির নিচে চাপা পড়ে থাকা কিছু নিভৃতচারীর কথা বলি তাই।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
শেরিফ আল সায়ার নামে একজন ব্লগার আছে...........।তার কথা ভেবে সম্বোধনটা .......।দুঃখিত।সুন্দর মানুষদের দেশ ..........
ভালো বলেছেন।
দেশের মত ভালো তো কোথাও লাগে না............।
তবে একথা সত্যি প্রতিযোগীতার তোপে জীবন যাপন সত্যি খুব কঠিন মনে হয়েছে........।
দেড়টা মাস থেকে এলাম .....।
মনে হচ্ছিল আমি খুব পিছিয়ে আছি.....
সবাই এগিয়ে।
কেনো মনে হলো?
লিখবো কখনো.....
ভালো থাকবেন।
লিখবেন তাদের কথা,যাদের জানি না....।
শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: চারপাশ দেখে "এগানো-পিছানো" হিসেব করলে "আক্ষেপ" ছাড়া খুব কম জিনিসই জোটে। তাই প্রতিযোগিতাটা নিজের সাথেই করা উত্তম, নিজের বর্তমানকে ছাড়িয়ে যেতে পারাটাই "এগিয়ে যাওয়া"। বয়োজ্যোষ্ঠদের কাছ থেকে তুমি সম্বোধনে অভিমান নেই, ব্লগার হিসেবে আমি মোটেও মূল ধারার কেউ নই। তবে "সাইফ সামির", "শেরিফ আল সায়ার" মত খ্যাতিমানদের সাথে কদাচিৎ আমাকে মিলিয়ে ফেলা হয়েছে। হয়ত বিব্রতকর, কিন্তু সাঈফকে "সাঈদ" সম্বোধন করে লেখকের নামের ব্যাপারে অসতর্ক অবহেলাটা চোখে পড়ার মত।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














