আমার প্রিয় পোস্ট
- ঢাকা শহরের আধুনিক ছেলেদের কিছু কর্ম কান্ডের হদিস বুঝতে কস্ট হয়। এর মানে কি? - মেঘলা আকাশ ও বিষন্ন মন
- রাইফেল সিরিজ - বিডি ০৮ সাবমেশিন/ মেশিনগান গান - সাধারণমানুষ
- অধিকার বিষয়ে ব্লগের বুদ্ধিজীবীরা কী বলেন? - ব্রাত্য রাইসু
- ফাহমিদুলের আত্মপরিচয় অনুসন্ধান: পুনর্পাঠ - ভূপর্যটক
- শীতনিদ্রা থেকে ফিরে: পুরাতন কবিতা - মানস চৌধুরী
- ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো.... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- 'আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার' - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- প্রসঙ্গসূত্র জা.বি.: প্রতিরোধ প্রায়শই এনার্কিক; প্রায়শই লাইফস্টাইলে পরিসীমিত; কিন্তু অনেক অপশনও তো খোলা নেই ... - মানস চৌধুরী
- উপমহাদেশে ইংরেজ-রাজের নির্বিঘ্নে রাজত্ব চালাতে একজন গোলাম কাদীয়ানির প্রয়োজন ছিলো ... - বিবেক সত্যি
- একটি বাংলা রচনা: জনসংখ্যা সমস্যা - ফাহমিদুল হক
- সিডনীর ভন্ড আলেম থিকা সাবধান!! - সমালোচনাকারী
- পাকমন পেয়ার: আস্তমেয়ের শেঁকড় সন্ধানের অনাদায়ী দেনা সঞ্চিতি! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পাকমন পেয়ার: নেকাবের আড়ালে ফিসফাস, এক অদ্ভুত সৎ প্রচেষ্টা! - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পোস্ট ব্রাত্য রাইসুর, মরীয়া বিতর্ক মানস চৌধুরীর এবং আমাদের ব্লগারকূল - ফাহমিদুল হক
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
শিক্ষকদের ছাত্রী আতঙ্ক, কিছু রক্ষণশীল ভাবনা
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:২২
সেই আশির দশকেও ছাত্রীরা শিক্ষকের পিছন পিছন ক্লাশে ঢুকতো। এমন নয় যে তারা সহপাঠী ছাত্রদের কাছে অনিরাপদ ছিল । 'দ্বিতীয় অভিভাবক' হিসেবে শিক্ষকের মূর্তিটি নষ্ট হতে শুরু করেছে বোধ করি নব্বইয়ের দশক শুরুর কিছু পরে। শিক্ষকদের হাতে ঘটে যাওয়া উপর্যুপরি কেলেঙ্কারির পর ছাত্রীরা আর শিক্ষকদের 'অভিভাবক তুল্য নিরাপদ আশ্রয়' বোধ করতে পারেনা। করা উচিৎ, সেটাও আমি বলবনা।
বেশ কিছু কাল আগে একটা হলিউডি মুভি দেখেছিলাম, 'দ্যা লাইফ অব ডেভিড গেইল'। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করা শিক্ষক বিনা দোষে ছাত্রীর হয়রানির ফাদে পড়ে ঘর-সংসার-সন্তান-চাকুরি এবং সব শেষে নিজের জীবন হারায় তারই এক মর্মন্তুদ কাহিনী। বাংলাদেশের প্রক্ষাপট কে হলিউডের মত ভয়াবহ মাত্রায় তুলনা করতে আমি নারাজ। তারপরেও সেই সূত্র ধরে কিছু ছোট ছোট কাহিনী উড়িয়ে দেয়া যায়না। শিক্ষক ধর্ষন করেছে বা শরীরে হাত দিয়েছে এমন গুরুতর অভিযোগ সত্য হলেও ছাত্রীদের পক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব হয়না অনেক সময়ে, সামাজিক বাস্তবতার খাতিরে।
কিন্তু পরীক্ষায় ফেল হবার আশংকা থাকলে ঐ শিক্ষক আমাকে 'কু প্রস্তাব' দিয়েছে আর 'আমি রাজি না হওয়ায়' আমাকে ফেল করিয়ে দিয়েছে, এ জাতীয় কুৎসা রটালে ছাত্রীটির কোন প্রকার সামাজিক সম্মানহানি ঘটে বলে আমার জানা নেই। ডেভিড গেইলের কাহিনীর ভার্বাটিম না হলেও পাশ ফেলের প্রতিপক্ষ হিসেবে শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী হিসেবে ছাত্রী কন্ঠের অভিযোগ গুরুতর প্রভাব ফেলবে সন্দেহ নেই। শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ছাত্রের অর্থ আত্মাসাতের অভিযোগ মনে হয়না এতটা জোর পাবে।
স্বদেশে তিন তিনটা বিশ্ববিদ্যালয় কাছে থেকে দেখার, থাকার ও জানার সুযোগ পেয়েছিলাম। সে অভিজ্ঞতা থেকেই এতসব বলছি। সম্প্রতি পুরনো স্কুল সহপাঠিনীর বক্তব্য শুনে স্মৃতি গুলো আবার মাথায় এল, স্মৃতিগুলো আর ব্লগে শেয়ার করতে চাচ্ছিনা। সহপাঠিনীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাকি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "আমার অফিসে তোমরা কেউ 'একা' আসবেনা।"
এটা নিয়ে ছাত্রীদের মাঝে ব্যাপাক হাসাহাসি, আড়ালে নচ্ছার, দুর্বল চিত্তের শিক্ষককে নিয়ে ঠাট্টা মশকরা। এটা কি শিক্ষকের নীচ রুচিবোধ ধরার চেষ্টা, যে আমরা শিক্ষকের ব্যাপারে দুর্বল না, তাহলে শিক্ষক কেন এত দুর্বল চিত্তের হবে? ছাত্রীকে একা সময় দিতে সমস্যা কেন? এটা কোন যুগের , কোন রুচির শিক্ষক!
আমি বলি, ব্যাপারটি রুচিবোধ বা দুর্বলতা নয়, বরং আতঙ্ক! শিক্ষকের কাছ থেকে সমাজ যে সর্বোচ্চ নৈতিকতাবোধ দাবি করে, সেখান থেকেই এই আতঙ্কের উৎপত্তি। শিক্ষক-ছাত্রী কেলেঙ্কারির সমসাময়িক ঘটনা গুলো মাথায় থাকা উচিৎ দুপক্ষেরই। কিছু হোক বা না হোক প্রগতির দোহাই দিয়ে নিজের এত কালের প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতাকে ভূলুন্ঠিত করার ঝুকি নেয়াটা বাড়াবাড়ি, মাঝে একটা সতর্কতার কাটাতার থাকা চাই সব সময়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:৩৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
টুশকি বলেছেন:
হুমম ভালো টপিক
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
লেখার কিছু অংশে দ্বিমতপোষণ করি, তবে মধ্যের অংশটির সাথে একমত। যৌন নিপীড়নের তকমা বড় মারাত্মক - একইসাথে মারাত্মক এর শিকার হওয়া। দুইদিকেই খারাপ লোক আছে। স্বার্থ হাসিলের জন্য, একেবারে ধ্বংস করে দেবার জন্য এ-ধরনের ভুল অভিযোগ আনতে যেমন শুনেছি তেমনি এটাও সত্য যে অনেকেই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। নিপীড়নরোধী আইন যেমন তীব্র হতে হবে, তেমনি আমাদের এটা লক্ষ্য রাখা উচিত যেন অপ্রমাণিত অভিযোগের বশে আমরা ঢালাওভাবে কারো নামে কালি না ছড়াই।
লেখক বলেছেন: ঠিক কোন বাক্যে দ্বি মত পোষণ করলেন, কেন করলেন বোধ গম্য হলনা। সাবধানের মার নেই, কথাটার মাঝে হয়ত বা রক্ষণশীলতার দুর্গন্ধ পেয়েছেন। নিপীড়ন বিরোধী আইন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, লক্ষ্য রাখা হয়েছে এ যাবৎ। প্রমাণের যাচাই বাছাই না করে নারী নিপীড়নের অভিযোগ গুলো খুব বাজার পায় জানেন তো? নারী নির্যাতন বিষয়ে নারী কন্ঠের অভিযোগ গুলো প্রশ্নাতীত ধরে নেয়া হয়, শিক্ষকের আতঙ্ক ও সতর্কতা সেজন্যই হওযা উচিৎ।
কিন্তু বাংলাদেশের মত ক্লোসড সোসাইটিতে খুব সমস্যা। এটা অবশ্য শিক্ষক শুধু নয়, বরং যে কারো ক্ষেত্রেই হতে পারে। এরকম অভিযোগ করে নির্দোষীদের হয়রানি করা যায়, কারন বাস্তব ক্ষেত্রে কিছু সত্য ঘটনা থাকে। বিশেষত হাই স্কুলের (এবং মাদ্রাসার) টিন এজ মেয়েরা অনেকাংশেই এরকম বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হয়। মেয়েদের স্কুলে পুরুষ টিচার নেয়াই ঠিক না।
আতিকুল হক বলেছেন:
আমি মনে করি, এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সাবধান থাকাটাই ভালো। এটা দুপক্ষের জন্যই নিরাপদ। কারন দুধরনের ঘটনাই ঘটতে পারে। শিক্ষক প্রভাবশালী হলে (আমাদের দেশে লাল-নীল রঙ মেখে হতে পারেন) সত্যিকার ঘটনারও বিচার হবে না। আবার কেউ কেউ অন্যায়ভাবে অভিযুক্তও হতে পারেন। তাই সাবধানতাই শ্রেয়।
পাশা বলেছেন:
সাবধান থাকাটাই মনে হয় বেশি শ্রেয়।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
একমত। সাবধান থাকাটাই শ্রেয়।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














