somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... দুবাইয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, লন্ডনের রাস্তায় রাত্রি যাপন, কিংবা নিউইয়র্কে ক্ষুধার্ত সন্ধ্যা
--পৌছেছেন?
--হুমম!

আমি জানি শক্ত সমর্থ তমাও আড়ালে কাঁদে। কান্নার দায়টা অবশ্যই আমার উপর চাপাবেনা, নিয়ম মাফিক নিজের উপরেই দিবে। পরাবাস্তবতা তিন বছরের হলে সেটা আর যান্ত্রিক থাকেনা, বিমূর্ত থাকেনা। তমা তাই বাস্তবে নিজের ঘর শুরু করতে পারেনা, অন্যায়, অযৌক্তিক আশায় থাকে। আমি আমার সমস্তঅক্ষমতার অনুযোগ নিয়েও তাকে ফেরাতে পারিনা। আমি চাই "হুমম" এর মাঝেই সব অনুভূতি সীমাবদ্ধ থাকুক।

তারপরেও মানুষের জীবনে একাকীত্ব আসে, আমার নৈরাশ্যবাদের মস্ত চিড়িয়া খানায় মড়ক লাগে, আমি হয়ত বেদনাতুর হয়ে, ভীষণ স্বার্থপরের মতই তমার কাছে কোনদিন মানসিক আশ্রয় চেয়েছি।প্রতিশ্রুতি নেই, সম্পর্কের কোন সঙ্গা অগ্রগতি নেই। হয়তবা সব কিছুর পরেও আমাদের ধর্ম আলাদা, সমাজ আলাদা বিবিধ বৈষয়িক অজুহাত দাড় করানো যাবে। পেটের দায়ে আজ বার্লিন, কাল টোকিও, পরশু সিডনি দৌড়ে নিজেকে প্রবোধ দিই, প্রতি বারেই পুরনো ম্যাট্রেসে ততোধিক পুরনো কুষ্টিয়ার কুমারখালির চাদর বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

নিজের আর্থিক, মানসিক দৈন্যদশার মাঝে কাউকে পণ বন্দী, পাণি বন্দী করারটা অপরাধ। আমি তাই তমার কোন মেইলের জবাব দেইনা। বিশাল মেইলের উত্তরে শুধু 'গুড লাক' জানিয়ে প্রস্থান করি।

--আপনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, প্রতারকের মত!

আমার মাসিক উপার্জন জানো কত, তমা? সঙ্গিনী পোষবার মত যোগ্যতা নেই, যখন হবে, স্থিতি হবে কোন এক শহরের কোণায় ততদিন আমার দ্রুত পড়ে যাওয়া চুল গুলোর অনুপস্থিতি জানিয়ে দিবে বার্ধক্যের কথা, চকচকে টাক শুধু তোমাদের অস্বস্তিই বাড়াবে।

আমাদের আর এ জীবদ্দশায় সাক্ষাতের কোন সুযোগ নেই, তমা। তুমি তোমার দেশের চাকুরিটা চালিয়ে যাও, পদোন্নতি হোক, দেশ প্রেমিক কোন উচু অফিসারকে পণ বন্দী করে সুখি হও। আমাকে দেখ, নিতান্তই এক দেশদ্রোহী।তারপরেও কী অদ্ভুত! ভিন দেশী ডিগ্রি নিয়ে আর শত সহস্র জনের মত চাকুরি করতে পারতাম, কিন্তু চাকুরি খোঁজারও প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করিনি। এতদিনে আমার হয়ত একটা বিদেশি চাকুরি থাকতো, গাড়ি থাকতো, ভাড়া করা সুন্দর বাসা থাকতো, সঙ্গ দেবার মত সহধর্মিনী থাকতো।আমার পুরনো সহকর্মীরা আমাকে উন্মাদই বলে, অথবা উচ্চাভিলাষী।

ব্যাপারটা কি এমন তমা, যে তোমাকে আড়াল করতে, ফিরিয়ে দিতে স্বার্থপরের মত ভিন দেশে নিজের জীবন গুছানোর চেষ্টা করেছি।করিনি। সেটা করলেই বরং সব চুকে যেত, তোমার মাঝে কোন আশা, শূণ্যতা, মায়া ভর করতোনা। কিন্তু বাবার সাথে আমার পুরনো চুক্তি। তিনি চান আমি যুদ্ধে নাম লেখাই। তাই পৃথিবীর পথে প্রান্তে আমি ভিক্ষা করি।পাশে সঙ্গিনী রেখে কি এই ভবঘুরে, দায়হীন জীবন কি সম্ভব ছিল?

যুদ্ধে গেলে নিজের জীবনকে অস্বীকার করার বাস্তব প্রয়োজনীয়তা আছে। আমি স্বার্থপরের মত কাউকে দু'দিনে জন্য কাছে টেনে বিধবা করতে চাইনা ।অথবা ভাজা মুরগি চিবানোর রেস্তোরায় যে তরুনীর সাথে প্রচন্ড মোহাচ্ছন্নতায় এক ঘন্টার সদালাপ করেছিলাম, সেখানের সংসার ধর্ম শুরু করার জীবনবাদী কথা উচ্চকিত ছিল।

দু'দিন বাদেই ওসবের কথা ভুলে, বিমানে চেপে মস্কোর রাস্তায় শীতে ঠকঠক করে কাঁপি। ঘর, সংসার, কথা, শ্রুতি, প্রতিশ্রুতি ভুলে নতুন শহরে নতুন মাথা গোঁজার ঠাই খুজি। কম্বলের সন্ধানে নামি।ছেলে যোদ্ধা হবে জেনেই হয়ত বাবা আমার অনুভূতিশূণ্য অমানুষ বানিয়েছেন।

দিনের পর দিন হয়তো এক বেলা খেয়ে থেকেছি, মাসের পর মাস ক্ষৌর কর্ম হয়নি । কিংবা বঙ্গোপসাগর, বসুন্ধরা সিটি, সেইন্ট মার্টিনে তোমরাই যাও ফি বছর, আমার কোন দিন অকাজে কোথাও যাবার ফুসরৎ হয়নি। বাঙালি হয়ে বঙ্গোপসাগর দেখিনি, কিন্তু অতলান্ত, প্রশান্ত মহাসাগর দেখবার দুর্ভাগ্য হয়েছে। সেটাও কোন আনন্দ ভ্রমণ ছিলনা, সঙ্গী ছিলনা।


বাবার পুরনো স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব আমার কাঁধেই, সেটা নিজের বিলাস-ব্যাসন ত্যাগ করে, আধা পেটা খেয়ে, নির্ঘুম অর্ধ যুগ পার করে হলেও শেষ করতে হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29514533 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29514533 2012-01-02 02:21:17
অনেক সাধনার আনন্দ অশ্রু ছবি: ২০১১ বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ।বাজছে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত ।শত কোটি দর্শকের সামনে নিজের নিষিদ্ধ মাতৃভূমিকে তুলে ধরে কাঁদছেন খেলোয়াড় জং তায়ে সে।

প্রকৌশলী আনানেনকো কি মৃত্যু শয্যায় কেঁদেছিলেন? দেশের জন্য, মানবতার জন্য জীবন দিতে পেরে? সেই অশ্রুর কি কোন অলৌকিক, অপার্থিব সুখ ছিল?

১৯৮৬ সাল, ২৬ এপ্রিল। শতাব্দীর ভয়ংকরতম বিস্ফোরণ ঘটে চেরনোবিলের পরমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে । যে রাতে বিস্ফোরণ ঘটে, পরদিনে সকালে ১০০০ কিলোমিটার দূরে এক সুইডিশ পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে এলার্ম বেজে ওঠে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি জানান দেয়। তেজষ্ক্রিয় মেঘ বাষ্প ছড়িয়ে পড়তে থাকে ইউরোপ জুড়ে। আফগানিস্তানে দখলদার সোভিয়েত রাশিয়ার সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করা সেনাদের তুলে এনে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছিল। তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে হেলিকপ্টারে করে বস্তার পর বস্তা বোরন ফেলা হয় দুর্ঘটনা স্থলে।


হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়।কিন্তু তারপর হাজার হাজার মানুষ জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে অদৃশ্য শত্রু তেজস্ক্রিয়তার দানবকে কুপোকাত করতে । সেই থেকে অদ্যবধি জনশূণ্য ভূতুড়ে নগরী প্রিপিয়াট । মাটির এক ফুট গভীর পর্যন্ত তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে গিয়েছে, সেই তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু লক্ষ বছর হবার কারণে সেখানে মানুষে ফিরে যাবার আর পথ নেই। কিন্তু বন্ধ করতে হবে এই তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া, প্রাণঘাতী তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সরাতে হবে। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখলেন বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় বর্জ্য অন্যান্য পদার্থের সাথে মিশে ১২০০ সে. তাপমাত্রার লাভা তৈরি করতে পারে, যেটা শীতলীকরণের জন্য রাখা বিশাল ভূগর্ভস্থ পানির ধারকের মাঝে পড়লে আরেকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে পুরো ইউরোপের অর্ধেক বাস অযোগ্য হয়ে পড়বে।

একটি ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় পানির মাঝে নেমে একটি মাত্র স্লুইস গেট খুলে দিয়ে পানি সরিয়ে দিতে হবে। দেশের জন্য আত্মঘাতী স্কোয়াড আহবান করা হল। এগিয়ে আসলেন প্রকৌশলী এলেস্কেই আনানেনকো, যিনি ভালভের অবস্থান জানতেন, সাথে সাহায্যকারী হিসেবে যোগ দিলেন ভ্যালেরি বেজপালভ, এবং অন্ধকারের মাঝে আলোর লন্ঠন ধরে সহায়তা করার জন্য বরিস বারানভ।বিধস্ত চুল্লির ছাদে প্রচন্ড তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সরাতে ব্যবহৃত দূর নিয়ন্ত্রিত রোবটও বসে যায়, ইলেক্ট্রনিক সার্কিট নষ্ট হয়ে যায় । অন্ধকার তেজস্ক্রিয় পানিতে নামা ডুবুরি প্রকৌশলী আনানেনকোর লন্ঠন নিভে যায়, অন্ধকারে পাইপ হাতড়ে হাতড়ে তারা সক্ষম হন ভালভ খুলে দিতে।

কিছু দিনের মাঝেই তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে মারা যান আনানেনকো এবং বেজপালভ। শারিরীকভাবে অক্ষম হয়ে যান বরিস বারানভ। সোভিয়েত রাশিয়া তাদের রাষ্ট্রীয় বীরের মর্যাদা দেয়।

নিষিদ্ধ মাতৃভূমি উত্তর কোরিয়ার ডাকসাইটে খেলোয়াড় জং তায়ে সে। নিষিদ্ধতার বেড়াজাল অতিক্রম করে অমানুষিক পরিশ্রম করে এশিয়া থেকে বাছাই পর্ব উত্তীর্ণ হয় তারা । তারপরেও মাথায় মহাশাস্তির হুমকি। খেলায় খারাপ করলেই নেমে আসবে রাষ্ট্রীয় অত্যাচার, জেল, জরিমানার খড়গ।


তারপরেও নিজের নিষিদ্ধ, নিন্দিত মাতৃভূমির বৈশ্বিক সম্মানের জন্য মেরুদন্ড সোজা রেখে লড়াই করলো জং তায়ে সের বাহিনী। মহাপরাক্রমশালী ব্রাজিলের সাথে মরীয়া হয়ে লড়ে গেল। তারপরেই হার, কারবাস আর শাস্তির দুঃস্বপ্ন। শত কোটি দর্শকের সামনে নিষিদ্ধ দেশকে মাথা উচু করে দাড় করিয়ে জাতীয় সঙ্গীত বাজাতে পারলে, জীবনে দেশ প্রেমের আর কিছু প্রয়োজন? সেই অশ্রুর কি কোন ভাষা থাকে? কোন কষ্ট থাকে? নাকি দেশের গর্বে আনন্দে চোখে পানি চলে আসাটা পাপ? নিজেকে উৎসর্গ করে আনন্দের জল ফেলাটা পাগলামি?

আমাদের দেশ প্রেমটা কি কিছু কাচা বাজার, অফিস দোকান, মুদি মসলা, ফোন ফ্যাক্স, বাস, রিক্সা, ব্যাঙ্ক, ব্যবসা, জাতীয়তাবাদ, চেতনা, ধর্ম, সংসার, স্বার্থের জালেই বন্দি থাকবে? দেশকে, নিজেকে গর্বিত করার লোভ কারো হয়না? অমানুষিক শ্রম, ধৈর্য দিয়ে রিক্সা চালক জয়নাল যখন হাসপাতাল করলেন, তাতেই বা তার কী স্বার্থ, লোভ ছিল?

আমাদের অবস্থানটা কোথায়? কে কত কম কষ্টে বেশি টাকা আয় করবে, ঘরে বসে বসে উপার্জন করবে, কে কত কম পড়ে বেশি ভাল করবে, সেটার প্রতিযোগিতা। কিন্তু শ্রমের প্রতিযোগিতা কই? নিজেকে উজাড় করে দেবার অপার্থিব আনন্দ কোথায়?

ক্রিকেট দলের ব্যর্থতায় যত কান্না তার প্রতিদানের নিজের কর্ম ক্ষেত্রে সংগ্রাম কোথায়? দেশ প্রেমটা আসলে কী, যদি কর্মই মানুষের ধর্ম না হয়? শুধু শুধু কী বোর্ড চেপে শত্রু নিধন আর প্রোফাইলে পতাকা চাপিয়ে, জাতীয় সঙ্গীত শুনেই দেশপ্রেমের কর্তব্য শেষ?

জাতীয় সঙ্গীত শুনে এদেশের মানুষ আবার কবে কাঁদবে? আবার কবে শ্রম, ত্যাগ, সময়, অর্থ, জীবন সাধনা দিয়ে সুখের অশ্রু কিনবে, সত্যিকারের দেশ প্রেমের স্বাদ নিবে? আবার কবে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29500617 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29500617 2011-12-11 12:41:38
'কি বা হায় আসে যায়... তারে যদি কোনোদিন না পাই আবার?'
কিন্তু মন দখলের জন্য বাস্তববাদী, বাস্তব, অস্তিত্বমান হবার প্রয়োজন নেই। অদৃশ্য, অলৌকিকতার অনুভব দিয়েও সিজোফ্রেনিক হওয়া যায়। আমি তাই তমার বাস্তব জীবন প্রবাহের কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছি। কখনও আমি ভীষণ স্বার্থপর, আবার কখনও বা আবেগ, অনুভূতিহীন, নির্বিকার গাছ।

-"অনুভূতিহীন জীবের আবার স্বার্থ কী, তমা?"

নিজের স্ববিরোধিতায় অপ্রস্তুত শোনায় তাকে। কখনও বা সখেদে বলে, "আমি আপনাকে চিনিনা, দেখিনি, জানিনা, শুনিনি।" পুরোপুরি নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবার ক্ষমতাও আমার আছে। কিন্তু তমা চায় আমি পরাবাস্তবেও থাকি, খোজ নিই। কিন্তু তার বাস্তব জীবন থামিয়ে দেবার অপরাধ আমারই, হোক সেটা পরাবাস্তব অংশীদারিত্ব।

পুরনো এক ছবিতে আমাকে প্রথম দেখেই বলেছিল, আপনার মুখে অমানুষিক নিষ্ঠুরতার ছাপ।

--"মানুষ কি মুখে নিষ্ঠুরতার ছাপ নিয়ে জন্মায়, তমা?"

উত্তর বুঝেই তার মায়া হয়। মায়া নিজেই একটা মানসিক ভ্রম, তাও পরাবাস্তব কারো জন্যে। আমি তাকে বার বার বিব্রত করি। ছাত্রী পড়ালেও তার রাগ হয়।সম্পর্কহীন, অধিকারহীন জীবের জন্য কিসের এত রাগ?

--"আমি এখনও অমানুষ হয়ে যাইনি, তমা!"
--"কীভাবে বুঝলেন?"

ধরো আমার পাঠশালায় গোটা দশেক ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে একজন ভয়ংকর সুন্দরী। আমি বুঝতে পারি, ধরতে পারি সৌন্দর্যের বিষয় গুলো। আমাকে সেখানেও প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে হয়, সুন্দরীর চোখের সাথে চোখ যেন এক না হয়। সবাই কম বেশি প্রশ্ন করলেও, সুন্দরী তেমন করেনা। এটা আমার জন্য স্বস্তিদায়ক।

--"ছি ছি...এত অধঃপতন!"

--"আমি তো তোমাদের ঘৃর্ণাহ্ পুরুষের বাইরে কেউ না। পুরুষ, পরিমল সবই তো এক জাত, তাই না?"

আমার কি তাহলে অন্যদিকে তাকিয়ে সুন্দরীর প্রশ্নের জবাব দেয়া উচিৎ ছিল? সেটা কি ভাল দেখাতো? কিন্তু প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে চোখে চোখ পড়তেই সুন্দরী চোখ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়, সেটার কী মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা?

হয়ত সুন্দরীরা সব পুরুষের দৃষ্টিতেই 'পরিমল' দেখে। কিংবা আমার অমানুষিক, ভীতিকর দর্শন এড়াতে চায়। মাস্টার হয়েও হাসতে পারিনা, পাছে আমার হাসির মাঝে কেউ লাম্পট্য পায়। সমাজ, সংসারের কুদৃষ্টি এড়াতে আমি পাথরের মত শক্ত হয়ে আমার দায়িত্ব করে যাই।

বুঝতে দেইনা আমার মাঝে একটা মানুষ আছে, যে অন্যায়ভাবে কারো গতিবিধি অনুসরণ করে, মোহাবিষ্ট হয়। খাতা, কলম দিতে গিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে, স্পর্শমুক্ত থাকতে। তারপরেও দুর্ঘটনা হয়। আসলেই কি দুর্ঘটনা? ইচ্ছাকৃত হলে কি আমার ভাল লাগা উচিৎ? কিন্তু সে ভাল লাগাটাও যে কলঙ্কিত। আমার কি তাহলে অনুভব করার অধিকারটুকুও অবাঞ্ছিত?

তমা প্রায় চিৎকার করে ওঠে,

--"আপনি সুন্দর মুখ দেখে মানুষ বিচার করেন, এটা খুবই খারাপ!"

শাহরুখ খান এলে তোমরা এক সপ্তাহের জন্য মোহাবিষ্ট হওনা? সেটাই বা কী বিচার করে বলো? আমি তো মর্ত্যের মানুষ দেখেই না হয় মোহাচ্ছন্ন হলাম, কটা দিন। রেশ কেটে গেলেই আমি নতুন শহরে, নতুন দিনে, নতুন মানুষ। পুরুষের দৃষ্টি কতটা খারাপ হতে পারে, আমার চেয়ে কে'বা ভাল বুঝে? নারী-পুরুষের জৈব রসায়ন তো এক না, সেখানেও অন্যায় বৈষম্য করেছে প্রকৃতি।

তারপরেও আমি তো অনধিকার দৃষ্টি পাতের চর্চা করিনা, তমা। আমি চাইও না দৃষ্টি থেকে আমার কোন সম্পর্ক হোক, অনুভূতি হোক, সংসার হোক। যদি তাই হত, তবে এই পরাবাস্তব যোগাযোগের একটা ইতি হতো। তোমার মায়া-ভ্রম কেটে যেত, আমার অপরাধ মোচন হত। কিন্তু সেই অবিচার, অপরাধের দায় সারার জন্য বাস্তবের চোখ দিয়েই আমাকে কাউকে পছন্দ করতে হবে, দৃষ্টির মাঝে 'পরিমলে'র খাদ থাকলেও করতে হবে।

কিন্তু পুরুষের কলঙ্কিত দৃষ্টি দিয়ে কাউকে ভাল লাগার মত অপরাধ করার চাইতে নিভৃতচারে থাকা ভাল, পরাবাস্তবতাই ভাল। আমি তাই নিভৃতচার চাই, একান্ত আপন আধাঁরে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29477631 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29477631 2011-11-03 19:53:19
দুঃস্বপ্ন থেকে কিভাবে জেগে উঠবেন, যদি আপনি ঘুমন্তই না হন?
লেপটা আমার সব ক্লান্তি শুষে নিত। সাথে বাড়ি ওয়ালার দেয়া স্প্রিং এর ম্যাট্রেস। আমি গুটি শুটি শুয়ে বহুদূর আটলান্টিকের ওপারের দেশটার কথা ভেবে কাতর হতাম। প্রবাস তো ঘোর লাগা স্বপ্ন, দেশের স্মৃতিটাই আসল।

আচমকা ঘুম ভেঙ্গে যেতেই দেখি আমি যাত্রাবাড়ির কোন এক রাস্তায় ভিড় ঠেলে এগোচ্ছি। পুরনো এক ছাত্রের সাথে দেখা। কথা বিমর্ষ। দশ দিন আগেও তার ছোট বোনটা সুস্থ ছিল, জি পি এ ৫ পাবার আনন্দ ছিল। তারপরেই জ্বর, বিরামহীন, ক্যান্সার, কেমো, অচেতন । আমার কি স্বান্তনা দেবার ভাষা থাকা উচিৎ ছিল?

ক্যান্সারের ঘুমন্ত ম্যাচ বাক্স আমাদের সবারই শরীরে, কিংবা আমাদের ঘরের নিচে সুপ্ত ভূমিকম্প দানব। আমি তো পুরনো ঢাকার বৃদ্ধাশ্রমে একা ভাল আছি, কাজ করি, খাই। পিচ্চিটা ফোন করে মাঝে মাঝে আব্বু আব্বু করে। আমার তো অভাব অভিযোগ থাকা উচিৎ না। তারপরেও ম্যাচ বাক্সের কথা স্মরণ হয়, একবার জ্বলে উঠলেই ডি এন এ গুলো বিদ্রোহ করবে, লোহিত রক্ত কণিকা করবে আমরণ অনশন, বর্ধিষ্ণু কোষ গুলো মুহূর্তের মাঝেই ছড়িয়ে দিবে দৈহিক বিপ্লব।

তার আগেই আমি বিমর্ষ হয়ে পড়ি। মৃত্যুদন্ডের সাথে মরণব্যাধীর তফাৎ কোথায়? আয়োজন করে মৃত্যুর দিন গুণা! আমি দরজা বন্ধ করে দিই। রাস্তার মানুষ পাগল দেখলে কুকুরের মত লাঠি সোটা দিয়ে পিটিয়ে মারবে। তাহলে কি আচমকা মৃত্যুটাই ভাল, কম যন্ত্রণার?

এত অল্প বেতনে আমার চলেনা, পিচ্চিকে তাও ৫ হাজার করে দিই। পিচ্চি নিতে চায়না, তবুও। আমার কি নিজের কোন জীবন ছিল? কাউকে বিধবা করার চেয়ে নিজের মৃত্যুর ব্যাপারে স্বার্থপর হওয়াটা কি অন্যায়? পেটের দায়ে যখন দুবাই গেলাম, আমার কি বর্বরদের দাস হবার নৈতিক শক্তি ছিল? আমি তো দাসই, আরো ভালভাবে দিনমজুর। দেশ মাতা রুটি রুজি দিতে পারেনি, তাই দুর্মূল্যের বাজারে এ দেশ সে দেশ ভিক্ষা করি।

তারপরেও ভিনদেশে বর্ণবাদী দাঙ্গায় পড়ে হয়তো আমি লাশ হবো, বা মাথার রক্ত নামাতে, জীবন বাঁচাতে কাউকে লাশ করবো। ক্ষমতাবান মাত্রই বর্বর। আমৃত্যু বর্বরদের দাসত্ব করার পরেও সন্ত্রাসবাদীর তালিকায় নাম উঠবে, ভেড়ার পালের মত জল্লাদখানায় নেয়া হবে। সমাজচ্যুত থাকি বলে হয়তো সন্দেহের বশে দেশের পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, গুম করবে ।

গুম করলে তার হদিসই বা কোথায় থাকবে, আমার তো ভোটার আইডি নাই, জাতীয় পরিচয় পত্র না্‌ই। আমি না হয় এবার চুপচাপ পালিয়ে যাই, লন্ডনের রাস্তায় সামনের শীতে পুরনো কম্বল গায়ে গুটিশুটি দিয়ে থাকবো। তারপর আবার ক্যান্সার, গ্রেফতারের দুঃস্বপ্ন দেখবো।

আমার নিজের কাছে নিজের অস্তিত্ব কি অনুভূত হয়? নাকি আপন আধাঁরে জেগে জেগে আমি অন্তহীন সিজোফ্রেনিক দুঃস্বপনকেই বাস্তবতা মনে করে ভুল করছি?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29463509 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29463509 2011-10-10 19:46:22
পাঁচ বছর পরেও সেই পুরনো ব্লগ
আমার নিজেকে নিয়ে নিশ্চয়ই কোন গোলমাল হয়েছে। দরজার পাশে দাড়িয়ে থাকা তরুণীটি ক'দিন আগেও আমাকে দেখলেই, সহোৎসাহে "ভাইয়া, কেমন আছেন" বলে কুশল জানতে চাইতো। রোজকার নিয়মে ব্যতায় ঘটলে অস্বস্তি লাগা স্বাভাবিক। আজ দু'দফা সামনে পড়তেই মাথা ঘুরিয়ে নিরবে সরে দাড়ালো।

আমার কি উচিত ছিল আজকের মত নিজের তরফ থেকেই কুশল বিনিময় করতে চাওয়া? নাকি সেটার মাঝেও আমার স্বভাবজাত সৌজন্য সংকট থাকবে বলে বিরত থাকাই মঙ্গল? নাকি পুরুষের অগ্রবর্তী হওয়াটা ব্যক্তিত্বহীনতা? নাকি বাইরের জগতে এমন কিছু বেফাস হয়েছে, যার কারণে এমন অবহেলিত সাক্ষাৎ! আমি তাই কোন মনোযোগী দৃষ্টি সংযোগ ছাড়াই সরে এলাম।

কিংবা আমি লঙ্গরখানায় একবেলা খাই, সেটা সে তার অতি কৌতূহল বা আগ্রহের বশবর্তী হয়ে জেনেছে। লঙ্গরখানার একটা অঘোষিত নিয়ম আছে। আমার সারা দিনের উপার্জন হয়ত ২ মুঠো চাল, সেটা বিনা শর্তে জমা দিয়ে ৪ মুঠো চালের সমপরিমাণ ভাত মিলে, সাথে কিছু নিরামিষ। দিনমজুরেরা যে যা পারে এনে জমা দিয়ে এক বেলা পেট ভরে খেয়ে ঘুমায়।আমার কি তবে লজ্জা পাওয়া উচিত? পেটের ক্ষুধা যে বড় কষ্ট দেয় জীবনের উপর।

কিংবা মাস প্রতি টাকা জমা নেয়া এক্সিম ব্যাঙ্কের গম্ভীর তরুণীটিকে আজ অস্বাভাবিকভাবে হাস্যোজ্জ্বল লাগছিল। অবশ্যই তার সহকর্মীদের সাথে। আমাকে বহুবার দেখেও না দেখার ভান করা মানুষটিও আজ হাসি মুখে "স্যার" সম্বোধন করতেই খেয়াল করলাম, হাত মেন্দি রাঙানো। এটা কি তবে সুসংবাদের ইঙ্গিত? হতেও পারে। সমাজ-সংস্কারের বিধিগুলো ঠিক জানা হয়ে ওঠেনি। সেগুলো বুঝবার জন্য ফ্যান্টাসি কিংডম বা বসুন্ধরায় বেহুদা চক্কর দেবার ফুসরতও হয়নি।


কারো আকস্মাত প্রকাশ্য অবহেলা, হঠাৎ মেন্দি রাঙানো হাত দেখে বেলা শেষে ঘরে ফেরার পথে মন কেমন যেনো খচখচ করে।অজ্ঞাত রোগের চিকিৎসায় এ ডাক্তার ও ডাক্তার করে বেহিসাবি বহু খরচ হয়ে যায়, ভাল হয়, সাময়িক।খরচ বন্ধ করলে, সেই পুরনো রোগ ফিরে আসে। রোগ, অর্থকষ্টের বাস্তবতার বাইরেও কারো মেন্দি রাঙা হাত, হাসিমুখ দেখে বেদনাতুর হতে পারি, নিজে এমন হীনমন্য ভেবে আরেক দফা কষ্ট হচ্ছিল।

আমার টাকা নেই, রোগ আছে। আমি নিরোগ নই। কথা গুলো কি বলতে গিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা উচিত? কিংবা কোন মানুষ, মানবীর কাছে এসব অজুহাতে দয়া প্রার্থী হতে চাওয়াটা কতটুকু শোভন? আমার ঔষধ গুলো অস্বাভাবিক দামি, একদিনের ঔষধ বেচা টাকায় কোন তরুনীকে নিয়ে ভাজা মুরগির রেস্তোরায় এক সন্ধ্যা আড্ডা দেয়া যাবে।

কিংবা আমার কাছে আল্লাদ-আব্দার করার জন্য একটা পালক পিচ্চি আছে, শুনলেই তারা ঘৃণায় ছি ছি করে উঠবে। কিংবা তিথিদের কথা, কতইনা গতানুগতিকভাবে সুযোগ-সুবিধার সন্ধানে ওৎ পেতে থাকে শিকারী গুলো। সাড়ে তিন বছর ধরে পরিবারের জ্ঞাতসারে চুটিয়ে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া অবৈধ তো কিছু না। বরং ভদ্র সমাজে একটা মানবীকে শারীরিক মানসিকভাবে সুরক্ষিত করে রাখা। "এদিকে নজর দিবেন না, উনার একজন সঙ্গী আছেন।"

তথাপি পরকীয়ার স্বর্ণযুগে "এনগেজড", "কমিটেড", "ইন রিলেশান শিপের" ব্যবসা, বিনিময়, বদল-অদল, কখনও বা "ভন্ডামি" বা নেহায়েৎ 'ভাত ছিটিয়ে নোংরা' করে খাওয়ার মত অপরাধ। পরিচ্ছন্নভাবে ভাত খাওয়াটা একটা শিল্প বৈকি! বিবাহপূর্ব সকল সম্পর্কের আবদার, আবেগ, অভিমান তাই এক দান ক্যাসিনোতে খেলে আসার মতই তুচ্ছ।

তিথিরা সুরক্ষিত ও সঙ্গীধারী জেনেই, তারই আরেক সহকর্মীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, "ভীতু" মানবীদের ভয় দূর করার। সহকর্মীর বংশ উচু , ভাল, ভদ্র, লম্বা, সুদর্শন। এসব চটকদার স্ট্যাটাসে তিথির প্রবল আগ্রহের কারণে বিয়ের আগে ওসব বহু দিনের তুচ্ছ কমিটমেনট, বিশ্বাস, এনগেজমেন্টের মাকড়সার জাল কোন ভুল ছাড়াই ঝুল ঝাড়ু দিয়ে মুছে ফেলা যায়। পেটের সন্তানকে উপেক্ষা করে যদি রক্ত-মাংসের পূজো দেয়, তবে বিয়ের আগে এত শত প্রতিশ্রুতির কী দাম?


আমরা তারপরেও সামাজাকিভাবে,পারিবারিকভাবে পারস্পারিক প্রগাঢ় অবিশ্বাস থেকে "এনগেজমেন্ট" নামক একটা নোংরামিকে উদযাপন করি, যেটা ভঙ্গ হলে কারো কোন অভিযোগ, দায়, ক্ষতিপূরণ, মামলা নেই। অবিশ্বস্ত মানুষের মন-ভালবাসা-চিন্তাকে এক কেন্দ্রীক করার একটা লৌকিকতা মাত্র। সম্পর্কের একটা অন্যোন্যোপায় কিংবা "স্ট্যান্ড বাই" দশা। গাট ছড়া বাধার নির্দিষ্ট বয়সসীমার মাঝে আরো উপযুক্ত কেউ না আসলে, শেষ গতিটা এমনি হয়।


আমার হাজার বিশেক টাকা মাইনে থেকে দিন প্রতি এক প্যাকেট করে বেনসনের খরচ বাচিয়ে বাচিয়ে ফিরতি বিমানের খরচ তুলতে হবে। প্রবাসের সঞ্চয় প্রায় শেষের পথে। রুটি-রুজির তাগিদে ভিনদেশে ভিক্ষাবৃত্তির পেশাটা শুরু করতে হবে খুব শীঘ্রই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29418106 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29418106 2011-07-22 23:04:13
এই তো বেশ বেঁচে, বর্তে আছি
হয়ত আত্মীয় স্বজনরা দুয়ো ধ্বনি দিবেন, কেন এই ফেরা? কি আছে দেশে ? বিদেশে কি ছিল কিছু? ছিল বৈকি! দিনমজুরি, ঘন্টা গুণে ভিক্ষুক ভাতা | পুরনো সহপাঠীদের সাথে সেই পুরনো সময়, নাগাল পেলাম না| চাকুরি আর সংসার ধর্ম নিয়ে সবাই ব্যস্ত | হুট করে আমার আগমনে বিস্ময়ের পিছে চাপা বিরক্তি দেখে একেবারেই সরে দাড়ালাম | পুরনো কিছু ছোট ভাইদের হাতের কাছে পেয়ে কিছু বৈদেশিক শোক, সুখ, হতশ্বাসের কাহিনী বলে তবু শান্তি মিলে |কথা বলার সঙ্গীর প্রয়োজনে তাদের কাউকে দামী কোনো রেস্তোরায় নিয়ে গিয়ে খাওয়াতে কোনো কার্পণ্য নেই | হোক কয়টা বৈদেশিক মুদ্রা, দেশে না উড়িয়ে শান্তি কোথায়? নিজের মৌলিক চাহিদা গুলো যখন বিপন্ন, তখন সঞ্চয়ের প্রয়োজন, সুযোগই বা কোথায়?

হোটেলে রাত্রি যাপনটা কষ্টকর, ঘর ভর্তি ছারপোকা, গরমে ঘন ঘন বিদ্যুত বিভ্রাট| দুবাইয়ের রাস্তায় ভিক্ষা বৃত্তির দিনগুলো কি খুব সুখের ছিল? কিনবা লন্ডনের রাস্তায় রাত্রি যাপনের সেই কনকনে ঠান্ডা বাতাস ? কিনবা নিউ ইয়র্কের ক্ষুধার্ত সন্ধ্যা গুলো? দেশের রাস্তায় ভিনদেশী ভবঘুরের মত ঘুরে ঘুরে যখন ক্লান্ত হয়ে একটা মসজিদের অজু খানায় ঠান্ডা পানির পরশ নিতে বসি, একদল মাদ্রাসা পড়া এতিম শিশু চেটে খাওয়া পরিষ্কার থালা হাতে নিয়ে ধুতে আসে |দুপুর ৩ টা বাজে |

--কী ছিল আজকের খাবার?
-- ডিম আর ডাল দিয়ে ভাত |

যাক তারা তবে আমিষ পাচ্ছে | বিদেশে সব নামে খ্রিস্টান ছিল, কেউ ধর্মের ধারের কাছেও যেত না | তবু মুসলিমদের আত্মগ্লানি, খ্রিস্ট ধর্মেরই জয় জয়কার আর মুসলিমরা পরাজিত, পশ্চাদপদ, সন্ত্রাসী হবার অপবাদ মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায় | এটা বরং নাস্তিকতা ও বস্তুবাদের জাগতিক জয়জয়কার, একান্ত সাম্রাজ্যবাদের কারণে সম্প্রসারণ হলে, সেখানেও বিজয়ীদের বিস্মৃতপ্রায় ধর্ম পরিচয় টেনে এনে বলা হবে খ্রিস্টান রা এভাবেই উন্নতি করেছে, মুসলিমদের উন্নতির জন্য ধর্ম পালনে সেই একই ভাবে রাস্তায় নামতে হবে, না হলে তোরা মৌলবাদী, পশ্চাদপদ, সন্ত্রাসী | সব কিছু ক্লিশে লাগে, তুই মুরতাদ, তুই মৌলবাদী |

পেটে ভাত না থাকলে মুরতাদ, মৌলবাদ আবার কী জিনিস হে! ধর্ম ব্যবসাই বা কী জিনিস? করতে ইচ্ছে করে, ব্যবসা করে যদি হুজুর, মোল্লা, এতিমদের মত দুবেলা ডাল ডিম দিয়ে অন্ন জুটে তো মন্দ কী? ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, জনগণ কে বিভ্রান্ত করে কাদের কয় পয়সার ধর্ম ব্যবসায়িক স্বার্থ? "সঠিক ব্যাখ্যার" জন্য টাকা ঢেলে, ভাড়া করা মোল্লা এনে সরকারই না ধর্মের রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতা করছে | বাংলায় মাস্টার্স পাশ পাঁড় নাস্তিকেরাও সরকারের তরে "সঠিক আর ভুল ব্যাখ্যার" বিশেষজ্ঞ বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন | ধর্ম নামক ক্ষতিকর আগাছাটা রেখে কী লাভ তবে? সমূলে উপড়ে ফেললেই হয়! এত পবিত্র জিনিস নিয়ে রাজনীতি, ব্যবসা করা অনৈতিক --এ শ্রদ্ধা বোধ জাগিয়ে রাখতে পারলেই ধর্মের ভূমিকা যথেষ্ঠ|

দুপুরে বাঁচিয়ে রাখা ভাত টুকু রাতের জন্য গরম করতে হবে | ওসব ভাবনা তাই বাদ | আলু দিয়ে ভাত, রুটি দিয়ে হালুয়া, স্টার্চ দিয়ে স্টার্চ | পেট ভরে ঘুমানো দরকার, পুষ্টি, স্বাদের কথা ভেবে আর কী হবে?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29366275 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29366275 2011-04-20 20:51:00
প্রবাসী ভুখা বাঙালির চোখে ডিজুসওয়ালাদের আত্ম সম্মানবোধ "বিনোদনের রস পাওয়ার" চেষ্টা বনাম "ভাষা বুঝবার" চেষ্টার রশি টানাটানিতে সুস্থির থাকা সম্ভব হয়না।তাই বলে শুধু মাতৃভাষায় বিনোদন বলে বাংলা নাটক সিনেমায় বুঁদ থেকে নিজের বিনোদন রুচির উপর আরেক দফা কূপমন্ডূক অত্যাচার করা হয়।

ইংরেজি ছবি। ভাষাটা ভাল ভাবে রপ্ত হয়ে গেলেই "সাবটাইটেলের" জন্য দৌড় ঝাপ লাগেনা, কাহিনী গল্পের মর্ম মাথায় গেথে যায়। বিনোদন বা কাহিনীর একটা আন্তর্জাতিক বিস্তৃতি মাথায় আসে। ইংরেজি শিখে কী লাভ, কত পয়সার জনশক্তি রপ্তানি হবে, দেশের ভাবমূর্তি ইংরেজি দিয়ে কত বাড়বে, কমবে ইত্যকার বিষয়াদি নিয়ে ভাবনা নেই বা বিরল। কঠিন ভাষা, ছেলে-মেয়েরা এখনও পাবলিক পরীক্ষাগূলোতে ফেল করে, ইংরেজির শিক্ষক সংকট, ইংরেজিতে মন্তব্য করলে সেটিকে রূঢ়তা ধরা হয়, পাছে লোকে গালাগালও করে বসে।

বাংলায় পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাব হয়তোবা হিন্দি বিনোদনের প্রসার, প্রচারের কারণ। মধ্যবিত্তের ঘরে ইংরেজিতে ফেল করা মেয়েটিও কৃত্রিম উপগ্রহের মারফতে হিন্দি সিরিয়াল দেখে চোস্ত হিন্দি বলে, বুঝে, পারে। বাংলার কাছাকাছি ভাষা, রপ্ত করা সহজ, অন্তত বিনোদনের খাতিরে রপ্ত করতে না পারলে শিক্ষিত-মধ্যবিত্ত সমাজেই জাত চলে যাবার শংকা থাকে। তাই, বাংলাদেশে থাকবেন, কিন্তু হিন্দি বিনোদনের স্বাদ নিবেন না, এটা প্রায় অসম্ভব। হিন্দি ভাষাটার মাঝে কেন জানি বিটকেলে রোমান্সের ব্যাপার আছে। ভাষাটা যোগাযোগের প্রয়োজনীয় মাধ্যম ছাড়াই শুধু রোমান্সধর্মী বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই ধরা হয়।

শুধু বিনোদনের তাগিদে নতুন ভাষা শেখায় আমার ঘোর আপত্তি, কারণ নতুন ভাষা শেখা যন্ত্রণার। বিশেষত, দেশের মাটিতে থেকে ইংরেজিটা ভাল ভাবে রপ্ত করার কোন সুস্থ মাধ্যম পাইনি। এতে করে বিদেশে (অ-বাঙালি পরিমন্ডলে), দেশের বে-ইজ্জতি হয়, কিনা সেটা নিয়েও মাথা নষ্ট হয়না কারো। আমার দেশের লোকেরা যে শব্দগুলোকে ক্যারিয়ার (Career, কো'রিয়া'র), (Invitation, ইনভিটিশন) ইনভাইটেশন বলে মুখস্থ করে ঢেকুর তুলে আসছে, সেগুলোর ভুল ধরিয়ে দেবার মত আত্মসম্মানধারী ডিজুসওয়ালা নেই (তর্কের খাতিরে তারাই খাস ইংরেজি এবং হিন্দি জানা ভাষাবিদ দো'ভাষী, বাংলাদেশি প্রতিনিধি হিসেবে জনৈক ভারতীয় শিল্পীর মঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন) । এই দো'ভাষীরা আবার কাকতালীয়ভাবে কর্পোরেট ক্যারিয়ারের (হয়তোবা নিজেদের দাস বুঝাতে, শুদ্ধ করে Carrier উচ্চারণ করেন )
সাধনা, ভক্তি করেন।

আমি ভিন ভাষা শেখার কষ্টকর বিষয়গুলো উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। বাংলা আর ইংরেজির মাঝে ভাষাগত দূরত্বের কারণ, বাংলা চর্চা করলে ইংরেজিতে দক্ষতাটা ক্ষয়ে যেতে থাকে, রপ্ত করাও কঠিন। তাই বাংলা গোছের নতুন হিন্দি ভাষা বিনোদনের তাগিদে শিখে নিজের সময় নষ্ট করিনি। অন্তত বাঙালি সুলভ 'ক্যারিয়ারের' কথা ভেবেও ইংরেজি শিখছি শৈশব থেকেই । কোন প্রকার হিন্দি বিনোদনের ধারের কাছে নেই, ছিলামনা। ভাষা ভিত্তিক এই গোঁড়ামি বা আত্মসম্মানবোধের কারণে বেশ কিছু বন্ধুকে দেখেছি "ভৌগলিক কারণে" হিন্দি ভাষা অনিবার্যভাবে বুঝতে ও বলতে পারার পরেও ভারতীয়দের সাথে ইংরেজিতেই কথা বলছেন। কোনভাবেই হিন্দি মুখে আনবেন না। এদের সংখ্যা নেহায়েৎ কম। বাকিরা আছেন ভারতীয়দের সাথে হিন্দি বলে, তাদের মাতৃভাষার প্রতি পরম শ্রদ্ধা দেখিয়ে (কিন্তু প্রকান্তরে নিজেদের শ্রাদ্ধ করে), আত্মসম্মান, ভাবমূর্তি উদ্ধারে ব্যতি ব্যস্ত।
জার্মান, ফরাসিরা ইংরেজি বুঝলেও, পারলেও অ-জার্মান, অ-ফরাসি ভাষাভাষীদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলারও শিষ্টাচার দেখাতে চায়না বলে শুনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।


জনৈক ভারতীয় শিল্পী, তাঁর জীবদ্দশায় একবার দয়া করে নিকটতম প্রতিবেশি বাংলাদেশে পদধূলি দেবার বিস্ময়কর ঘটনা ঘটিয়েছেন। প্রায় ৪০ বছরের বুড়ো বাংলার মাটিতে তাকানোর সময় হয়নি প্রতিবেশির, টাকার বিনিময়ে, কর্পোরেট মর্জিতে আজ হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও ও ঠিক একই মাপের দয়া করেছিলেন।সুদূর আমেরিকার তথা বিশ্ব নেতা কত আগেই চলে এসেছিলেন, কিন্তু তিনদিক দিয়ে ঘিরা রাখা প্রতিবেশির সংস্কৃতি প্রতিনিধি গতকালই এলেন। আমাদের আত্ম সম্মানবোধ চাঙ্গা হল, সম্মানিত হলাম। ইংরেজিতে ফেল করা কেউকেটা সম্প্রদায়ের লোকজন সারা জীবনের অর্জিত হিন্দি ভাষা জ্ঞানের পবিত্রতার অনুভূতি জানাতে তেজ পাতা খরচ করে প্রতিবেশি শিল্পীর পদধূলি নিতে গেল।

ভারতের প্রতিবেশি বলেই আমাদের ভাষা হিন্দি হবে, বা হিন্দিতে বোধগম্যতা থাকতে হবে, দেখাতে হবে, এমন ভাবনা তেনারা করতেই পারেন। পাশাপাশি, আমরাও ভারতীয় বিনোদন ভালবাসি বুঝাতে হিন্দি ভাষায় দক্ষতার মহড়া, মরীয়া চেষ্টা করি।মহান শিল্পীকে শুধু কোটি কোটি টাকা দিয়ে পোষালোনা, মহান প্রতিবেশী শিল্পীর ইজ্জতের সাথে আবার কেউকেটাদের আত্ম সম্মানবোধের প্রশ্ন জড়িত। সাথে সমগ্র বাঙালি জাতির মর্যাদা। হতেই হবে। তারাই তো কর্পোরেট, ডিজুস, ক্ষুদ্র ঋণের দাদন ব্যবসা করে বিদেশে আমাদের জনপ্রতিনিধি। হিন্দি ভাষার জোশে বাংলাদেশের মত আন্তর্জাতিক পরিসরে "ইংরেজি"তে অনুষ্ঠান পরিচালনার নূন্যতম শিষ্টাচারটাও করতে দেয়া হলনা, সেই জনৈক ভারতীয় শিল্পীকে।

এতকাল ধরে প্রবাসের থেকে বহু দেশের মানুষ দেখলাম, মিশলাম। ভারতীয় সহকর্মীদের সংখ্যা উল্লেখ করার মত। তাদের প্রায় সবারই ধারণা, বাংলাদেশের মানুষ উর্দু ভাষী। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে খাটো করলেও বাংলা শব্দটাকে ধারণ করে যে দেশের নামকরণ, সে দেশের লোকজন মুসলিম হবার পাপে উর্দুতে কথা বলে এমন ধারণা অসংখ্য ভারতীর মাঝে বর্তমান। বাংলা তাদের মতে হিন্দু বাঙালির ভাষা, মুসলিমরা বাঙালি/বাংলা ভাষাভাষী হতে পারে, সেটা তাদের ভাবনার বাইরে। অসতর্ক হলেও ভাবনা আসতে পারে, ভারতীয়রা কি এখনও বাংলাদেশকে পাকি পন্থী বা পাকিস্তানেরই আরেকটা ছিল মহল মনে করে?

পশ্চিমের বড় বড় নাম করা দোকানে মেড ইন বাংলাদেশ লেখা কাপড়ে সয়লাব।তারপরেও বাংলাদেশের কাপড় পরা আমেরিকানটিও হয়তো কোনদিন বাংলাদেশের নাম শুনেনি। কিন্তু আমাদের ভাষা নিয়ে নিকটতম প্রতিবেশীদেরও এমন অজ্ঞতা ভীষণ শংকা জাগায়। আমাদের ইংরেজি ভাষার কান্ডারি প্রজন্ম, ডিজুস ওয়ালারা ভারতের অজপাড়ায় গিয়ে রিক্সাওয়ালার সাথেও ইংরেজি বলে কুলিয়ে উঠতে পারেন না। ইংরেজি না পারার লজ্জা থেকে নিজেদের আত্ম সম্মান আর দেশের ইজ্জত বাচাতে, চোস্ত হিন্দিতে কথা বলা শুরু করেন। জানিয়ে দিয়ে আসেন, আপনারা বাঙালিদের না পুছলেও আমরা আপনাদের পুছে গর্ব অনুভব করি।

এরই মাঝে কোন এক অকালকুষ্মান্ড জনৈক ইলিয়াসের হিন্দি মূর্খতার মহাপাপে এবং ইংরেজিতে প্রবল দুর্বলতার কারণে, বিশাল জনসম্মুখে আতঙ্কিত হয়ে, তাৎক্ষণিক শব্দ চয়নের ত্রুটিতে, ভুলক্রমে "হেইট" শব্দটা উচ্চারণের গুরু অপরাধে, ডিজুস ওয়ালার কী বোর্ড চেপে বেচারা ইলিয়াসের মুন্ডুপাত করছে। আহ্, ইংরেজি মূর্খ হ, ভাল কথা। হিন্দি জানলে, পারলেও তো বাংলাদেশ এত বড় বেইজ্জতির হাত থেকে বেচে যেত। জাতীয় ইজ্জত, বিবেক যারা মহান প্রতিবেশীর কাছে বন্ধক রেখে এসেছেন, তাদের এমন বিদ্রোহী জোশ ওঠা ন্যায্য বৈকি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29287438 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29287438 2010-12-11 08:50:54
পশু ভোজের উৎসব ধর্মের নামে সামাজিকতা পালনকারী অবিশ্বাসীদের ভোজের টেবিলে। ঠিক যেভাবে আটপৌরে মানুষ মাংস ভোজন করে।

এইনা বলে মানুষের বানানো, বিবর্তিত ধর্ম। যে যেভাবে চায়, তার অভিরুচি অনুযায়ী তার স্রষ্টার প্রতিমা, প্রার্থনার ধরন বদলাবে। অন্ধকার যুগের বাইবেল, কুরআন, একবিংশ শতাব্দীর জন্য নতুন করে লেখার তাগিদ অনুভব করছিলেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী। শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী পশু হত্যার উৎসবে ঘর বন্দী হয়ে বসে থাকেন, নিষ্পাপ পশুদের জন্য "মানবিক" আবেদন-অনুভূতি নিয়ে। তার সাথে সুর মিলিয়ে অসংখ্য কোটি মানুষের ভাষ্য, "এই পশু কাটাকাটির বিষয়টি দূরে কোথাও হওয়া দরকার।"

ছোট দেশ, ঘিঞ্জি জনপদ, অথচ ঘরে ঘরে পশু হত্যা করা লাগে ধর্মের নামে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রায়শই নেই। সেখানে দূরে কোথাও মানে "কোথায়"? এত শত জায়গা, সুযোগ-সুবিধা সব নাগরিকের জন্য কে নিশ্চিত করবে? এমনকি অর্থের বিনিময়েও কি তা সম্ভব?

যারা এই পশু হত্যাকে নৈতিক, ধর্মীয়, ঐশ্বরিক, পবিত্র, খুশি বিবিধ "পজিটিভ স্পিরিচুয়ালিটি" হিসেবে মেনে নিতে অপারগ তারা নিতান্ত সামাজিক চক্ষু লজ্জা বশত পশু হত্যায় শরীক হন। অবিশ্বাসীদের, অমুসলমিদের একাত্মতা জানাতে বন্ধু সুলভ "ইসলমিক রিচ্যুল" পালন ইসলামে পূণ্য বলে গণ্য হয় কিনা- সেটি প্রশ্ন সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু সামাজিকতার "নিয়াতে" পশু হত্যায় শরীক হওয়ার বিষয়গুলো ধর্মীয় "তাগিদবশত" পশু হত্যা দিবস পালনকারীদের সাথে খাপ খায়না।

একবিংশ শতাব্দীর মানুষ অবসরের পর ব্যাংকে পেনশনের টাকা রেখে মাস মাস সুদ থেকে টাকা তুলে সংসার চালাবেন, এটা অত্যন্ত ন্যায্য, স্বাভাবিক, নৈতিক বিষয়। সুদ শব্দটার সাথে ঘৃণাকে তখনই জড়িত করা হয়, যখন তা গ্রামের মহাজনের হাত দিয়ে গরীবকে নিঃস্ব করার প্রক্রিয়াতে থাকে। লোকটি সুদ খায়- এটি শুনতে অনেকেরই খারাপ লাগতে পারে। তবে ব্যাংকের লেনদেনে সুদ নিতে সমস্যা-অরুচি নেই। মানুষের নিজস্ব মানবিকতার জাজমেন্ট "ন্যায় বনাম অন্যায়কে" এভাবেই সংজ্ঞায়িত করে আলাদা করে, মানুষ তার নিজস্ব "ভেদ-বুদ্ধি-রুচি" দিয়ে ধর্ম ও নৈতিকতার সীমারেখা গড়তে চায়। অতঃএব ব্যাংক প্রদত্ত সুদে হজ্জ্ব, ধর্মের নামে পশু হত্যা সবই পালন চলে।

গরু খাওয়া নিয়ে কথা। সেটা ৭ ভাগের এক ভাগ পেলেও চলে। ৭ জন শরীকদের একজনের উপার্জন অবৈধ হলে, ৭ জনেরই পশু হত্যা বাবদ ধর্মীয় পূণ্য বাতিল হয়ে যায়। নেহায়েত উৎসবের নামে গরু খাবার সামাজিকতা, এখানে ধর্ম না টেনে আনলেও চলে। কিংবা ভাগাভাগিতে কম বেশি হলেও ধর্ম মতে পূণ্য বাতিল হয়ে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। তাতেও কারো কিছু যায় আসেনা। কিংবা পশুর চামড়া বেচা টাকা মাদ্রাসায় পড়া সন্ত্রাসীদের দেবার চেয়ে নিজের পেট বা পকেটে ভরার প্রয়োজনীয়তাটাই বেশি অনুভূত হয়। ধর্ম, চামড়া বেচা টাকা নিজে খাবার বৈধতা দেয় কিনা, সেটা সামাজিকতা পালনকারীদের না ভাবলেও চলে। ধর্ম তো মানুষের সৃষ্টি, মানুষের ভুল মানেই তো ধর্মের ভুল।

এই ভুলের প্রায়শ্চিত্যের সুযোগ আছে বৈকি। আগেও একটি পোস্টে বলেছিলাম। ধরুন, গরু-খাসী পাল্টিয়ে মাছ-মুরগি-টার্কি বলি দেবার চল করলেন। কেউ আপত্তি করবেনা। ছোট ছোট প্রাণী, মাছ, মুরগি, পিপড়ার রক্ত দেখে মানবধর্ম বাদীদের মন কাঁদেনা। শুধু বড় বড় জন্তু, পশু বধে তাদের বিকার, শোক, বিলাপ। যত বড় পশু, তত বেশি মায়া, এই সার কথা মাথায় রেখে ধর্ম পালনকারীদের "রিচ্যুল" পরিবর্তনের সময় এসেছে। ধর্মের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তাই ধর্মকেই বদলাতে হবে।

রাষ্ট্র নিজে ধর্ম ভিত্তিক না হলে ঈদ গাহ বা মসজিদ-মন্দিরের "জাতীয়তা" দেয়া সম্ভব ছিলনা। সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম পালনের প্রয়োজনে "রাষ্ট্রীয়ভাবে" এত রঙ, উৎসব, ছুটি, আয়োজনের আবশ্যকীয়তা নেই। এটা ব্যক্তিগত, সামাজিকতা হিসেবেই রাখা কর্তব্য ছিল। যে গরু হত্যাকে মহা আনন্দে, মহা পবিত্র জ্ঞান করে ধর্মের নামে উৎসবের সাথে শরীক করছি, সেটি অন্য একটি ধর্মের মানুষদের "অফেন্ড" করাটাই যুক্তিযুক্ত। একটি ধর্মে পৌত্তলিকতা মহাপবিত্র, অন্য ধর্মে সেটি মহা অপবিত্র। একটি ধর্মে গো হত্যা মহা পাপ, গো মাতা সম্মানিতা, অন্য ধর্মে সেটি বধ করে ভক্ষণ করাই উৎসব, পূণ্য। তবে নিজে প্রতিমা গড়ে পূজো দিলে কারো ব্যথিত হবার কারণ নেই, কিন্তু অন্য ধর্মের পবিত্র, অবৈধ প্রাণী সামনে এনে বধ করলে তাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগতেই পারে। পাপ-পূণ্যের সংজ্ঞার এই সম্পূর্ণ বিপরীত দৃষ্টিকোণ অসতর্কতাবশত সাম্প্রদায়িকতাকে উষ্কে দিতে পারেই। এই কারণে যখন স্বাভাবিক সহাবস্থান কষ্টকর হয়ে পড়ে, সেখানে ধর্ম পালন বা শিক্ষাকেই নিষিদ্ধ করার পক্ষে যুক্তি আসবেই।

কিন্তু যুগ যুগ ধরে এই গরু হত্যা ও খাবার সংস্কৃতি চলে আসায়, এটা নিয়ে কারো উচ্চবাচ্য নেই দেশে। যদিও বা তা ভারতে নিষিদ্ধ বেশ কিছু অঞ্চলে। কিন্তু ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশের কোথাও পূজা, দেওয়ালী বা পৌত্তলিকতাকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। অন্যের গরু খাবার অধিকারকে নিষিদ্ধ করার দাবিকে চেপে রেখে, নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে, সংখ্যালঘু ভেবে নিজেকে কোণ ঠাসা করে আত্মগ্লানিতে ভোগার যথার্থ কারণ আছে। এই চেপে থাকা কষ্ট, প্রতিক্রিয়া কাউকে কাউকে সাম্প্রদায়িকভাবে অসুস্থও করে ফেলতে পারে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও জোর সমর্থনে গো-হত্যা উৎসব দেখে কারো কারো মনোজগত রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে ওঠার আগেই, রাষ্ট্রকে সত্যিকার অর্থেই পুরোপুরি ধর্ম নিরপেক্ষ করা প্রয়োজন। সত্যিকার সাম্প্রদায়িক দূরত্ব শুধু মনের উদারতা দিয়ে নিরাময় যোগ্য নয়, বরং সেটি অনেকটা রাষ্ট্রিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ও বটে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29269603 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29269603 2010-11-10 07:12:57
অনস্তিত্বে একা, একজন
আমার সম্পর্ক করার দরজা খোলা, তবে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে, পুতিগন্ধময়। আলো ধরালেই অসহনীয়ভাবে আরশোলা উড়া উড়ি করে। বহু বছর কোন মুঠো ফোন নেই, যোগাযোগ বলতে আমার শয্যাসঙ্গী নোটবুক, তাতে আন্তর্জালিক প্রাণ আছে।শুরুটা নিয়ম মাফিক আমাকেই করতে হয়েছিল, দরজার পাশে ইতস্তত পায়চারী শুনে অস্ফুট অনাগ্রহের স্বরে,

"কে যায়?"

বহুদিন পর তমাকে বলেছিলাম, সংসার ধর্মে দীক্ষিত হবার প্রক্রিয়াধীনে থাকলে আপনি হয়ত সেদিন সাড়া দিয়ে আমার দুয়ারে আসার রুচি দেখাতেন না। সংসার ধর্ম শুরু করার আগে কিছু অপ্রয়োজনীয় কিন্তু গুরুতর দশা পার করতে হয়। পানের সাথে চিনি, গায়ের উপর হলুদ, মরিচ। বা তারও বহু আগে যুগলবন্দী হতে পারার যোগ্যতা, স্বীকৃতি, প্রক্রিয়া, পরিবার, সমাজের সম্মতি আরো অনেক টানাপোড়েনের মাঝে কিছু একটা হবার লক্ষণ মিলে। তমার ভাগ্যে নাকি এসব কিছু হয়নি, তাই রাস্তায় রাস্তায় বেওয়ারিশ "ভাল মানুষ" খুঁজে বেড়ায়।

তমার পূর্ণ বয়স বহু আগেই গত হয়েছে। এখনও কালো, মোটা, বেটে আকৃতি নিয়ে গুটি গুটি পায়ে রাস্তায় হাটে। আমার শুদ্ধ চারণ শুনেই নাক মুখে চেপে দরজার সামনে দাড়িয়ে তাকিয়েছিল।

-আপনি এখানে এভাবে আছেন কি করে?

উষ্মা প্রকাশের তড়িৎ জবাব দিতে পারিনি।কিন্তু, ব্যতিক্রমে আমার পুরনো আগ্রহ। নিজের শ্রীহীনতায় অনুশোচনাহীন মানুষগুলোর মাঝে বাস্তবতার জ্ঞান একটু প্রখর থাকে। ন্যাকামো নেই। চোখে জল আসেনা। সহজে সশব্দে হাসেনা। জোরে দীর্ঘশ্বাস ফেলবার মত চাপা হাসি হাসে কদাচিৎ।

সময় করে এসে তমা তার পুরনো গল্প শুনাতো। 'খেয়েছি', 'শুনেছি', 'করেছি' জাতের কলকাতা, খুলনার টানে কথা শুনে শান্তি পেতাম। পছন্দের পুরুষের কাছে প্রস্তাবিত হবার আগেই প্রত্যাখ্যাত হবার অনুভূতি গুলো শোনাতো, যেন স্বামী হারানোর বিরহ এক একটাতে। আমার উৎকট গন্ধের বসতি তার সয়ে যায়। আর নাক চেপে আসেনা। আগে শুধু মন খারাপ থাকার শর্তাধীনে আসতো, তারও পরে আমার কথা ভেবেও আসা যাওয়া শুরু করে। যুদ্ধ, সাহিত্য, রাজনীতি, সঙ্গীত বিবিধ বিষয়ে কথা চালিয়ে নেয়া যায়। আমার এ যাবৎ বেঁচে থাকার পেছনের পূর্বতন ইতিহাস গুলো তাকে মুগ্ধ করে। কিন্তু বর্তমান আর ভবিষ্যৎ বিষয়ক আলাপাদি কৌশলে এড়িয়ে যেতে হয়।

তমার একটা গতি হওয়া দরকার। তার নিজের জন্যই। অন্ধকার ঘরের কালো মাকড়সার সাথে তো কথা বলে সুখ চিরস্থায়ী হয়না। অসতর্ক মনে কথা বলার মুহূর্তে সশব্দে পানি ঢেলে দিতে হয়েছে, আমাকেই, বিশেষ উদ্যোগী হয়ে। তমা মানুষ, হয়ত আমিও কোন পূর্ব জন্মে মানুষ ছিলাম, রক্ত-মাংস অনুভব করতাম। আমার অযোগ্যতা, অক্ষমতা, অসুস্থতা, অপারগতার ফিরিস্তিগুলো তার মুখস্থ হয়ে গেলে, তাকে আর স্মরণ করিয়ে দেবার প্রয়োজন হতনা। তমা আমাকে নিজে থেকে একটা স্তব্ধ, অচল কিন্তু প্রাণস্পন্দিত গাছই মনে করে, যার নিচে বসে জীবনের ক'টা ক্লান্ত, হতাশ প্রহর বিশ্রাম নিয়েছিল।

তমা বাস্তববাদী। আবেগের প্রশ্রয় প্রায়শই দেয়না। আমার কথা সে রেখেছে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধাকে সম্মান করতেও সে আরো বেশি বাস্তববাদী হতে চায়। বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজেকে নিজের সমাজে ফিরিয়ে নিয়েছে। নিঃসঙ্গ মানবীরা তাদের অস্তিত্বমান থাকার অনুভূতি বুঝতে গাছের নিচে বসেন, নিয়মমত চলে যেতে বাধ্যও হন।

গাছ তার অপ্রকাশমান প্রাণ নিয়ে অনস্তিত্বে একা থাকে।একা একা থেকে তার অনস্তিত্বকে অনুভব করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29264088 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29264088 2010-10-30 20:40:07
আরো এক গাদা বাংলিশে আলাপন
নিজে বাংলা ভাষী হয়ে ইংরেজি রপ্ত করার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দুটো জিনিস মুখ্য।

১. ধারাবাহিক, বিরতিহীন চর্চা ও আগ্রহের অভাব।
২. কেউ ইংরেজি চর্চা করলে নিজে না পারার কারণে অন্যকে হেয়, গালমন্দ করার চেষ্টা।

আরিল বাংলাদেশে এ ক'দিন থেকে এত সুন্দরভাবে বাংলা বলেন, সেখানে বাংলাদেশিরা ইংরেজি ভাষাভাষীর দেশে গিয়েও বহু বছরেও ভাষার যথার্থ ধরন, উচ্চারণ ভঙ্গি রপ্ত করতে পারেননা। অথচ আমাদের বর্ণমালা সমৃদ্ধ হবার কারণে পৃথিবীর অনেক ভাষার উচ্চারণ ভঙ্গি সহজেই ধরতে পারে, পারা উচিত। ইংরেজিতে কথা বলার প্রসঙ্গে আসা যাক,

ক. গ্রুপ ভার্ব
স্কুলে শেখানো হয়, সে পর্যন্তই। তবে আমার মতে verbal ইংলিশকে articulate করতে এর ভূমিকা indispensable. উদাহরণ,

He didn't attend----He didn't show up
I can afford 50 taka----I can do it for 50
I will read your article----I will go through your texts
Come to my office, visit my office----drop by or stop by my office
I found a big ball----I came across a big ball
Save my name on your list----put me on to your list
I am going outside-----I am heading out
Can you tell me the prices----could you please price out (অনেক Noun এভাবে verb হিসেবে ব্যবহার করতে শিখুন) the things for me?
It confuses me every time----it throws me off every time.
I am just trying to finish/escape it somehow----I am trying to get away with it.
I will see/check the online----I will look into the website (কিংবা শুধু site, যাকে বলছেন তারা জ্ঞান, গর্মির উপর নির্ভর করে)
Finally they got a result----finally they came up with a result

I have no clue about what to speak on specifically because i have lots of things to bring up here.

I had to take off my shirt for security reason, but they didn't take away my wallet (মানি ব্যাগ বলাটা মারাত্মক ধরনের ভুল). সম্প্রতি মানিব্যাগ নামে একটা বাংলা নাটকও দেখা গেল!

এধরনের গ্রুপ ভার্বের সাথে পরিচিত হবার সুবিধা সমূহ,

১. জি আর ই ধাচের অনেক obsolete, hefty শব্দ বলে বেকায়দায় পড়ার হাত থেকে বাচবেন।
২. ইংরেজি ভাষা ভাষীদের কথার মর্ম উদ্ধার করতে পারবেন।
৩. নিজের বাচন ভঙ্গি অনেক সুন্দর আর গতিশীল হবে।
৪. খুব সামান্য কিছু শব্দ ভান্ডার এদিক সেদিক করে অনেক ভাব প্রকাশ করতে পারবেন।

খ. অধিকাংশ noun কে verb হিসেবে ব্যবহার করতে শিখে ভাষাকে গতিশীল করুন।

উদাহরণ,

The investigators know how much money the cops are pocketing from bribery.

I asked them questions----I questioned them (কড়া ভাষা)
তবে ভদ্রতার খাতিরে,
I had a couple of questions to ask.

Bring all that (দ্যাট, হোয়াট গুলো ভাষার গতিকে মন্থর করে দেয়) you belong----bring all your belongings

We had a nice talk about (একটু ভদ্রতা দেখান)-----we talked about

গ. বাংলা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের চিন্তা না করা

"শেয়ার" করার বাংলা কী? আপনি ভাবটা বুঝেন, "শেয়ার" দিয়ে কী বুঝায়, এটাই যথেষ্ঠ, এই ভাবটা রক্তে মাংসে মিশে গেলে ইংরেজি প্রকাশ ভঙ্গিটাও সহজ হয়ে যাবে।শেয়ার কথাটা বলার সময় আপনার মনেই হয়না আপনি ইংরেজিতে কথা বললেন। প্রকাশভঙ্গিটা এমন স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া চাই। আমি আমার পছন্দ গুলোতে আরেকজনকে অংশীদার করি, এটা ভাব প্রকাশের হাস্যকর ও কষ্টকর প্রচেষ্টা। এটা চরম বোকামি যখন কেউ কোন বাংলা বাক্য দিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ চায়, বা ইংরেজি বাক্য থেকে বাংলা অনুবাদ বুঝার চেষ্টা করে।

বাংলায় ভাব প্রকাশের সময় যেমন আমাদের মাথায় থাকেনা আমরা বাংলায় কথা বলি, ইংরেজিতে এমনটা করতে না পারলে এ ভাষা সত্যিকার অর্থ রপ্ত করা সম্ভব না। বাংলায় আমরা যেভাবে ভাব প্রকাশ করি, ইংরেজিতে তার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাই অনুবাদ করে ভাব প্রকাশের চেষ্টা মহা বোকামি। ইংরেজিকে তাই প্রকাশ ভঙ্গির স্বতন্ত্র, ভিন্ন মাধ্যম বলে গণ্য করতে হবে এবং no linguistic transition is allowed or could be thought of during your speech in English.

ইংরেজিকে ইংরেজির ধাচেই বলতে হবে, ইংরেজদের উচ্চারণ ভঙ্গিতেই বলার চেষ্টা থাকতে হবে। ব্রিটিশরা "তোমাকে" কে যখন "ঠোমাকে" উচ্চারণ করে, সেটা আমাদের কাছে খুব pleasant কিছু শোনায় না।

ইংরেজ ভাষাভাষীরা বাংলাদেশীদের বৈচিত্র্যময় দ, ত, ড, ট, ঠ বর্ণ গুলোর উচ্চারণের তফাত করতে পারেনা। কাজেই সঠিক উচ্চারণ রপ্ত করা চাই। আপনাকে আপনার ইংরেজি শুনে বার বার কেউ যদি বলে, pardon me, sorry, i didn't get you, whats that? তাহলে খুব গর্ব লাগার কথা না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি পিএইচ ডি করতে আসা বাংলাদেশি ছাত্রদের মাঝে এটা নিয়ে চিন্তা কমই করতে দেখেছি। চাইনিজরা যদি চং, বং ইংরেজি দিয়ে চালিয়ে দিতে পারে, "আমরাও জুনিয়র স্কুলের ছাত্রদের মানের ইংরেজি বলে চালিয়ে দিতে পারি", বলে স্বস্তির ঢেকুর তুলে।

ঘ. ইংরেজি শব্দ সাবধান! একটু শেখার চেষ্টা, সতর্কতা, লজ্জাবোধ রাখুন

বাংলাদেশি পিএইচডির অনেক ছাত্রই লিখে এভাবে, ফেইসবুকে,

Congrates!(congrats)
Bangladesh don't want to "loose" their match!(lose)
I feel "unsecure"! (insecure)
I don't know why I was "unallowed"(disallowed).

কোন কোন শব্দের বিপরীতার্থ বোঝাতে un, in, dis যুক্ত হবে, সেটা খুব সতর্কতা আর যত্নের সাথে আতস্থ করা চাই। আবার Unlike মানে "ভিন্ন", "আলাদা", "এক রকম নয়" অর্থে, Dislike মানে "অপছন্দ" অর্থে। ফেইসবুকে লাইকের বিপরীতে ডিজলাইক দেয়া যুক্তি সঙ্গত।

গণিত পাগলদের ইংরেজির ব্যাপারে উন্নাসিকতা একটা ভয়াবহ ব্যাধি, বিশেষত প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে।

ঙ. নিত্য নৈমিত্তিক ব্যবহার্য ইংরেজি শব্দগুলো রপ্ত করুন
অনেক জি আর ইর জাহাজকে দেখেছি ময়দার যে লেই (dough) হয়, কিংবা লেই বানাতে হাত দিয়ে যে নাড়া ( knead) হয় সেগুলোর ইংরেজি জানেনা। শুকিয়ে গেলে একটু পানির ছিটা (rinse) দিলেন, কাপড় কেচে রোদে শুকাতে দিলেন (do the laundry and dry up in the sun ), পানি, তেল ঢালতে (pour) গিয়ে, সাইড দিয়ে পড়ে গেল(spill)।ইংরেজি শেখার সত্যিকার আগ্রহ থাকলে অনেক আগেই GlaxoSmithKline গ্লুকোজের প‌্যাকেট থেকেই দুটো কাজের জি আর ই শব্দ শিখে নিত।

It replenishes depleted energy. (জি আর ই ধাচের শব্দ লেখ্য ভাষায়, literal English খুব চলে, কিন্তু কথ্য ভাষায়, verbal English নয়) তড়িৎ প্রকৌশলী ও পদার্থ বিজ্ঞানীরা সেখান থেকে MOSFET এর depletion layer এর যোগসূত্রটা ধরে ফেলতে পারলে একটা আনন্দ পাওয়া উচিৎ।
কিন্তু মুখে যখন বলতে যাবেন, জি আর ই মারার ধান্ধা করাটা অন্যায়।

It fills you up with your lost energy.

এটা প্রমাণ করে গ্রুপ ভার্ব কতটা শক্তিশালী সাবলীলভাবে ইংরেজি বলার জন্য। ভোকাবুলারির অভাবে, শব্দ ভান্ডার বাড়ানোর অলসতায় যাদের ইংরেজি কথা আটকে যায়, তাদের ভাবা উচিৎ, পুরোটাই চর্চা আর ভাষার ব্যবহার জানার উপর। নতুন শব্দ না শিখলেও চলে।

চ. কথা বলতে হলে কথা শুনতে হবে, লিখতে পারতে হলে লেখা পড়তে হবে
ধরুন, ইংরেজিতে কেউ এসে হড় বড় করে বিশাল ডায়লগ দিয়ে গেল। আপনি শুনে বুঝলেনও, খুব ভাল কথা। এবার দেখুন তো উনি যা বললেন সেটি প্রায় হুবহু আপনি বলতে পারছেন কিনা?
বাংলায় কেউ দুটো কথা শুনিয়ে দিয়ে, আপনিও সে কথা হুবহু আরেকজনকে শোনাতে পারেন। ইংরেজিতে এমনটা হওয়া চাই। কথার পিঠে কথা বলার চেষ্টা করুন, একা একা নিজের ঘরে বসে, শুনে শুনে। উদাহরণ,

One might stem a question that what other sorts of reptiles could have the similar breeding nature.

আপনি আপনার কম্পিউটারের বক্তার সামনে তড়িৎ এমন একটা পাল্টা বাক্য গঠনের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখুন। যেন আপনিই তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। দু'বন্ধু মিলে কোন ডকুমেন্ট্রি দেখতে দেখতেও নিজেদের মাঝে এভাবে আলোচনা করতে পারেন।

do you think that would be an interesting coincidence if other sorts of reptiles are found to have similar breeding nature?

হাত ব্যথা। ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেবার অনুরোধ জানিয়ে আজকের মত বিদায়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29258601 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29258601 2010-10-21 01:41:57
বিজ্ঞানের নমস্য নবী হকিং এবং বিশ্বাসীদের দুশ্চিন্তা বিজ্ঞান বলে মানেতই হবে, না মানলে মধ্যযুগের অতলগহবরে তলিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

তাই হকিংর এর কথার প্রভাব সর্বত্র। বিজ্ঞানের নবী বলেছেন, বলে কথা। একবার বললেন, ঈশ্বর থাকতে পারেন। বিশ্বাসীরা হর্ষধ্বনি দিয়ে উঠলো। বিজ্ঞানের নবী তাদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।বিশ্বাসীদের ইমানও মনে হয় আজ বিজ্ঞানের জোরে পাকাপোক্ত হয়, ধর্ম, নৈতিকতার কোন ভূমিকাই সেখানে নেই।

কিছুকাল পরেই বিজ্ঞানের নবী স্রষ্টাকে অস্বীকার করে বসলেন। বিশ্বাসীরা হতাশ, ক্ষুব্ধ হলেন। ভাব খানা এমন নবী হকিং এর "নেই" বলা মানে বিজ্ঞানের অকাট্ট যুক্তি দিয়ে প্রমাণিত "ঈশ্বর নেই"। বিশ্বাসীরা "শিক্ষিত" হয়েছেন বলে বিজ্ঞানের পাশাপাশি "বিজ্ঞানের নবী"কেও আমল দেন, তার বাণীর উপর অন্ধ বিশ্বাস রাখেন। অবিশ্বাসীরা তাই আনন্দ উল্লাস করে। তাদের কাছে বিজ্ঞান মানেই অবিশ্বাসীদের ধর্ম। খাপে খাপ মিলে গিয়েছে, বিশ্বাসীদের ইয়ে মেরে দিয়েছেন বিজ্ঞানের নবী হকিং। নবী হকিং এর তরফ থেকে ওহী নাজিলের অপেক্ষায় থাকে শিক্ষিত জনতা, নবী যাতে রায় দেন, সেটিই হক, সত্য আর ন্যায়বিচার।


সর্ব জ্ঞানের আধার, মস্তিষ্ক সর্বস্ব নবী হকিং হুইল চেয়ারে চুপচাপ বসে থাকেন। তাকে ঘিরে থাকে বিজ্ঞানের পূজারি ভক্তকূল।ল্যারি কিং এর কাছে সাক্ষাৎকারে হকিং সাহেবের কথা ঘুরে গেল।

"ঈশ্বর থাকতে পারেন"

নবী হকিং এর এহেন সংশয় বিভ্রান্তিতে অবিশ্বাসীকূল খানিকটা বিব্রত, বিরক্ত। বিশ্বাসীকূল ঠিক ততটাই আশার আলো দেখতে শুরু করলো। তারপরেই নবী ওহী নাজিল করলেন,

"বিশ্বসৃষ্টি করতে/তার প্রমাণে ঈশ্বরের ভূমিকার প্রয়োজন নেই।"

জনগণ এবার বিভ্রান্ত। এই কথার দশটা অর্থ দাড়াতে পারে। বিশ্বাসীরা হৈ চৈ শুরু করলো, বিজ্ঞান আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। অবিশ্বাসীরা সে দাবি তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে বলল, বিজ্ঞান বরাবরের মতই ঈশ্বরের বিপক্ষে, তোরা দু'মুখো বিশ্বাসীরা ভন্ডামি নিয়ে দূরে গিয়ে মর।

হকিং কে, কেন, কিভাবে আমার মত মূর্খ লোকের জানার তাগিদ হয়না। কিন্তু বাংলা ভাষা সাহিত্যের ছাত্র, শিক্ষকদের মাঝে দেখি তার প্রতি সুগভীর ভক্তি। শিল্প-সাহিত্যের লোক হয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে নূন্যতম সাক্ষরতা ছাড়াই, বিজ্ঞানে অন্ধ বিশ্বাস আনা যায়। গণিতের ভেলকিটা মজার।

চাইলেই ২=৩ প্রমাণ করে দেয়া যায়। প্রমাণ করে দিলেই সেটি গণিত, গণিত মানে বিজ্ঞানের শাখা। তাই, কীভাবে প্রমাণ হল, না বুঝেই বিশ্বাস স্থাপন করাটা ফরয। বিজ্ঞানে বকলম লোকের জন্য এ ছাড়া উপায় নেই।

আলোর গতিতে চলে এক মিনিটে সময়কে সঙ্কুচিত করে এক আলোকবর্ষ চলে যাওয়া যায়। আরবের নিরক্ষর নবী মুহাম্মদের এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছিল মানুষ এবং সমসাময়িক বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের আরেক মহানবী আইনস্টাইনের জন্মই হয়নি, তখন। কীভাবে বিশ্বাস হবে? আইনস্টাইন গণিত কষে দেখালেন বলেই না বিশ্বাস হল।

পিতা ছাড়া যীশু মানুষের জন্ম হতে পারে, এটা বিশ্বাস করতে মানুষকে ক্লোনিং এর যুগে আসা লেগেছে। হাতে ধরিয়ে না দেখালে কেউ বিশ্বাস করেনা, প্রকৃতি আর গণিতের বাইরে কিছু হওয়া অসম্ভব কিছু না। বিশ্বাসীদেরও এখন বিজ্ঞানের প্রমাণ লাগে, হকিং এর মত নবীকে ভাড়া করা লাগে, প্রার্থনা করা লাগে যেন হকিং তাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে অবিশ্বাসী শত্রুদের মানসিকভাবে ভেঙ্গে দিক। বিশ্বাসীরা এখন ধর্মের মধ্যযুগীয় নবী, পুরোহিতের উপর আস্থা রাখতে পারেনা, বিশ্বাসীরা নিজেদের বিশ্বাসের উপরই আস্থা রাখতে পারেনা, বিজ্ঞানের বশে পড়ে আত্ম পরিচয়হীন, অসহায় দিক বিদিকশূণ্য মানুষের আকার নিয়েছে। তাদের পুনর্জীবিত করতে, ধর্ম বিশ্বাসকে চাঙ্গা করতে এ যুগে বিজ্ঞানের বড় সড় জ্বালানির চালান দরকার হয়ে পড়েছে।

মুসলিমদের নবী মুহাম্মদ একটা ভবিষ্যতবাণী করে গিয়েছিলেন, পৃথিবী ধ্বংসের আগ দিয়ে আসা মহাসুর দাজ্জাল বিষয়ে।

দাজ্জালের এতটা ক্ষমতা থাকবে, যে সে মৃত মানুষকে জীবিত করতে পারবে। এটা দেখেই মানুষ দলে দলে ধর্ম ত্যাগ করে সমকালীন অসুরের নবী দজ্জালের ধর্ম, আনুগত্য স্বীকার করবে।

আমি দেখলাম, সেদিন কোন এক গবেষণাগারে কৃত্রিম প্রাণ তৈরি করা দাবি করেছে, সাথে সাথে কিছু বিশ্বাসী বিব্রত হয়ে পায়চারী করছে। অবিশ্বাসীরা হর্ষ ধ্বনি দিচ্ছে। কিন্তু কৃত্রিম প্রাণ আবিষ্কারের নামে তারা কী তৈরি করেছেন, কীভাবে সেটি কেউ যাচাই, বাছাই করতে যাচ্ছেনা। বিজ্ঞানের ধ্বজ্জাধারীরা কি আর মিথ্যে, জালিয়াতি করতে পারে? কিন্তু "কৃত্রিম প্রাণ" নামের ভারিক্কি শব্দ শুনে এক এক জনের মূচ্র্ছা যাবার যোগাড়। আদতে ওটা তেমন কিছুইনা, ডি এন এর বিভিন্ন অংশ কৃত্রিমভাবে বানিয়ে জোড়া দিয়ে, সেটি সেলাই করে দেয়া হয়েছে জীবিত কোষে এবং দুটো মিলে মিশে ঠিক প্রয়োজন মাফিক কাজ করছে।


বিশ্বাসীরা যদি বিশ্বাস করেন বলেই ধর্ম মানতে চান, তবে বিশ্বাসের খুটিটাকে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের বিবিধ স্ববিরোধী নবীকূলের প্রভাবমুক্ত রাখা দরকার। সত্যি সত্যিই যদি ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী দজ্জালের জন্মভূমি ইজরায়েলের গবেষকরা মৃত কোষকে জীবিত কোষ করার তরিকা বাতলে ফেলেন, বিশ্বাসীদের কাবা মক্কা ঘুরে যেন তেল আবিবে সরে না যায়, সেটাই প্রত্যাশা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29249572 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29249572 2010-10-04 23:08:42
এ রকম আরও ১০/১২ টা নতুন চাঁদের আনন্দ নির্বাসনে গেলেও কিছু যায় আসেনা রমজানের স্পিরিট। উপবাস ভঙ্গের কালে বিশাল গ্রাস আর ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে ক্লান্ত হয়ে বসা রোজাদারের টুটি চেপে ধরে, কম খা, ভাল করে সংযম কর, নইলে কীসের রমজানের স্পিরিট। দিনের বেলায় আসে পাশে মানুষ খাচ্ছেনা দেখে নিজেদের প্রকাশ্যে খাওয়ার মাঝে একটা অস্বস্তি, আতঙ্ক কাজ করে।চাদর ঢাকা হোটেল গুলোর দিকে চরম বিরক্তির দৃষ্টিতে তাকায়। চাদরের নিচে লুকিয়ে লুকিয়ে খেতে নিজেকে একটা বিশেষ মতপন্থার মানুষের কাছে জিম্মি, অসহায়, পরাধীন বলে বোধ করতে থাকে। স্বাধীনভাবে খাবারের অধিকার হরণ!তারপর, অপরাহ্নেই শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খাবারে রাজসিক আয়োজন, বেচা-বিক্রি। সদ্য ডাল-ভাত খেয়ে ওঠা বেরোজাদারদের বিরক্তি চরমে ওঠে। সারাদিন নিজেরা খেলেনা, আমাদেরও শান্তি করে খেতে দিলেনা, এখন আবার অবেলায় কেন ভোজন বিলাস, বাপু?


সারা বছর খেতে না পাওয়া মানুষটিও এ মাসে দু'বেলা অনাহারে থেকে খাবারের খরচ বাচিয়ে একবেলা সন্ধ্যায় কিছু ভাল-মন্দ খেতে চায়। সারাদিন অভুক্ত থেকে খাবারের রুচি হারিয়ে ফেলা মানুষটি রুচি করতে কিছু বাহারি সরবত-জিলাপী কিনে, নিত্যকার ডাল-ভাতের বাইরে কিছু সাটাতে যায়। সাথে সাথে বেরোজাদারের মাঝে রমজানে সংযমের স্পিরিট চাড়া দিয়ে ওঠে। বাজারে মৌসুমী খাবারের বৈচিত্র্য বা বাঙালির ভোজন রসিকতার প্রথাগত শৈল্পিক মূল্যায়ণের বদলে ধর্মিকদের সংযমের নামে ভন্ডামি, স্ববিরোধীতা নিয়ে শোরগোল করে। সারাদিন খালি পেটে ছিলি, বাকিটা রাত আধা পেটা থাক, এই না বলে আসল সংযম!

বিশ্বাসীরা তাই গালি খাবার আতঙ্কে থাকে। সংযম শেষ হলেই নতুন চাঁদের দিনটির জন্য কেন এত দামি পোষাক, কেনই বা নতুন পোষাক, কেনই বা এত ভাল খাবার, এত খরচ, এত বিড়ম্বনা একটা ধর্ম উৎসবকে নিয়ে! সুশীলের দল ধর্মীয় উৎসবকে সামাজিকতার রঙ দিয়ে একটা মধ্যস্থতা করতে চায়। তারপরেও মানুষেরই অভিযোগ থাকে, কেন ধর্ম ভিত্তিক উৎসবে এত ছুটি-ছাটা, অপচয়, বিড়ম্বনা! তিনদিনের সরকারি ছুটি তো চরম বাড়াবাড়ি, এটাকে একদিন করে বাকিটা অনৈচ্ছিক ছুটি হিসেবে দেয়া হোক।

কিংবা গরু-খাসির পরিবর্তে যদি মুরগি কুরবানির চল হত, এত লোক পশু হত্যার নামে বর্বরতা অভিযোগ তুলতোনা। কিংবা জলের জ্যন্ত মাছ ধরে মাছ হত্যা করলেও কারো প্রাণ কাঁদেনা। যত বড় জন্তু বধ হয়, তত বেশি মায়া জেগে ওঠে আমাদের। যত বড় জন্তু, তত বেশি মায়া।মাছ, মুরগির গলা কাটা দেখে কারো মায়া উদ্রেক হয়না, কারণ তা জন্তু হিসেবে নিম্ন শ্রেণীর।আস্ত মুরগি সাটাবো, কিন্তু দুর্বল চিত্তের পুরুষ হবার কারণে মুরগির গলা কাটা দেখতে পারবোনা । বিয়েতে বর-কনের সামনে ফুল, ফল-মূল দিয়ে সাজানো আস্ত খাসিটি কিন্তু এমনি রক্তাক্ত জবাইয়ের পরিণতিতে আজ এতটা সুস্বাদু, সুন্দর, মুখোরচক। মসলা মাখানো নির্বাক খাসির মাংস মূর্তি দেখে হাস্যোজ্জ্বল মানুষ, বর-কনে কারো মাঝে দয়া মায়া এমনকি খাসিটির পূর্বতন জীবিত দশার কথা স্মরণ হয়না।

কিংবা বাচ্চা মুরগি বধ! বাচ্চা মুরগি বোধ করি তার বাবা মোরগের চেয়ে কম জান্তব, কম পাপী। সঙ্গীর টাকায় ফূর্তি করে বেড়ানো তরুণীটি চাইনিজ খাবারের রেস্তোরায় বাচ্চা মুরগির স্যুপ গিলে অবলীলায়। তার এই সুখানিভূতিকর মুহূর্তগুলো তুলতুলে বাচ্চা মুরগির গলা ছিড়ে হত্যা করার সুফল-সফল পরিণতি, সে উপলব্ধি তো থাকেনা। সারা বছরের মাংশাসী মানুষ, ধর্মের নামে পশু হত্যা আর ভক্ষণের নাম শুনলে আৎকে ওঠে। আমার পাশের বাসার তরুণী তাই খাসি খেতে পারেনা। শুধু গরু খায়। মায়াবী চোখের ছোট প্রাণী খাসির হত্যা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা। আমার কোন এক তুমুল মাংস খেকো সহপাঠী আকস্মাৎ জীব হত্যার মহাপাপ বোধ করে, স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে নিরামিশভোজী হয়ে ওঠে।

বাঘ-সিংহের জ্যান্ত হরিণ, বাইসন এমনকি মানুষ ছিড়ে, খুবলে খাবার দৃশ্য সে তরুণী দেখেনি। পশুকূলের বর্বরভাবে খাদ্য গ্রহণের অধিকার নিয়ে কেউ বেদনাহত নয়। কিন্তু আমি মানুষ হয়ে মানুষের ধর্ম মানি পশু খাবার জন্য, আমার ক্ষুধার্ত দাঁত-পেট চার টুকরো মাংসের অস্থির হয়ে ওঠে। তরুণী মাংস খাবেনা, রেধেও দিবেনা আমায়। আমি তাই রমজানের দুপুরে পর্দার আড়ালে স্বাদ করে, ঢেকুর তুলে গো মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে আসি। পর্দার বাইরে এসেই নিপাট ভদ্রলোকের মত রমজানের স্পিরিট, সংযমের বাণী ছাড়ি, ধর্মের নামে ব্যাপক, প্রকাশ্য গো হত্যার বিরুদ্ধে বর্বরতার অভিযোগ আনি।

এতদিন দিনের বেলায় অভুক্ত থাকতাম। হঠাৎ একদিন সূর্যের মুখ দেখে দুধ-কর্ন ফ্লেক্স মাখিয়ে খেয়ে কফি হাতে ভিনদেশের রাস্তায় নেমে পড়ি।এক পাশ ছিড়ে যাওয়া ভুসভুসে রঙ ওঠা জিনস দেখে কারো অরুচি হবেনা, এই দিনে, এই রাস্তায়।ঝুলে পড়া বহু পুরনো টি শার্ট দেখে কেউ বলবেনা, এমন দিনে এ কী পোষাক তোমার!

তারপরেও অনিচ্ছাবশত ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাইবে, আজ সেই বিশেষ দিন। কতগুলো ভোগবাদী ধর্মান্ধ মানুষ অহেতু নিজেদের এক মাস ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে এই নতুন চাঁদের দিনে নাকি অসংযম চর্চা করে। ভর পেটা খেয়ে নাকি আনন্দ উৎসব করে। নিউমার্কেটের চারপাশে ঠাসা মানুষের ভিড়, কিনবা চানরাতের আলোকিত শহর-জনপদ কোনটাই আমার স্মৃতিতে ভিড়তে দিইনা।

মানসিকভাবে আজ ছুটি ভেবে নিজেকে বিভ্রান্তও করতে চাইনা।সংযম করেছি বলে মাস শেষে নতুন চাঁদের দিনে আনন্দ করা বাধ্যতামূলক এমন তো কোন ধর্মবাণী থাকতে পারেনা। বছরের পর বছর অপ্রাপ্তির অভ্যেস গুলো আমাকে তাই নতুন করে কোন কিছু হারাবার কোন কষ্ট আক্ষেপ দেয়না। তাই, বছরের সেই একটি কথিত নতুন চাঁদের আনন্দের দিনেও পেটের দায়ে পা চালিয়ে খুব দ্রুত কর্মস্থলে হাজিরা দিই।

ভিনদেশে নির্বাসনে তাই ছুটির দিনেও কাজ, ভিক্ষাবৃত্তি থেমে নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29235715 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29235715 2010-09-05 21:52:34
ঘর নেই
জরুরি কিছু কাগজ পত্র তৈরি করার সময় ফিরতি ঠিকানা বসাতে গিয়ে আটকে গেলাম বরাবরের মত। বাসা বদলের ঝামলা, ঠিকানা তো স্থায়ী থাকেনা।দেশে ফিরলে যে দেশের ঠিকানা দিব, তারও কোন স্থায়ীত্ব নেই। ভাড়াটিয়াদের বাসা বদলের কারণে জরুরি দাপ্তরিক কাগজপত্র প্রায়শই এদিক সেদিকে খোয়া যায়। বিভিন্ন কাজে বৈধতার মেয়াদ ঘন ঘন উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়াটা ভীষণ বিরক্তিকর। অলসতার কারণে পুনঃ নবায়ণ না করে ক'টা দিনের জন্য দেশে গিয়ে বেড়িয়ে আসাটা ভাল।কিন্তু দেশে ফিরলে ক'টা মাসের জন্য বাড়ি ভাড়া নেয়া দরকার। ব্যাচেলর পুরুষ, বাড়িওয়ালার শ্যেন দৃষ্টি এবং অনিবার্য প্রত্যাখানের ব্যাপারটি ভাবলে গা শিউরে ওঠে। সংসার ধর্ম না করার পাপে নিজের দেশেও মাথা গোজার ঠাই নেই। গেলবার যে বাসায় ছিলাম, তার ত্রি সীমানায় কোন তরুণী নেই এটা নিশ্চিত হবার পরেই ভাড়া পেলাম। বাড়িওয়ালা আমার পূর্ব পরিচিত বিধায় চরিত্রের সনদ পেতে সমস্যা হয়নি, কিন্তু কন্যাওয়ালা প্রতিবেশীদের প্রবল আপত্তির মুখে নিজের এপার্টমেন্টটা অন্যদিকে বাছাই করতে হল।

এইবার এত ঝামেলা করার ইচ্ছে নেই। ঢাকার মানুষ টাকা চিনে। অগ্রিম এক লাখ ধরিয়ে সন্তুষ্ট করতে না পারলে, নিরাপত্তা জামানত হিসেবে আরো এক লাখ ধরিয়ে দিতে রাজি আছি।বুয়া আসবেনা বাসায়, রান্না বাড়া, ধুয়া মোছার কাজ আমি একাই সানন্দে করতে পারি। টাকা দিয়ে মাথা গোজার ঠাই পাবার পুরো অধিকার আমার আছে। এখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, দল, মতের কোন বিভেদের কথা সংবিধানে নেই। তাই কষ্ট করে হলেও কিছু টাকা জমানো লাগলো, দেশে ফিরলে কাজে দিবে।

কাগজ গুলো খামে ভরে স্থানীয় একটা ঠিকানা বসিয়ে দিলাম। কিছু পরেই জনৈক উনার তাৎক্ষণিক বার্তা এল।
--কী ভাইয়া, বড়দিনে দেশে যাচ্ছেন, জানালেন না, একবার দেখা টেখা দিবেন নাকি।
জ্বি, আপাতত দেশে মাথা গোজার ঠাই নিয়ে চিন্তিত, বাসাটা ঠিক হয়ে গেলে পকেটে টাকা থাকবে কিনা, সেটা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। অতিথিকে দাওয়াত করে খাওয়াতে পারবো কিনা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারিনা।

--সে কী, টাকার ভয় করেন কেন! আপনি আসলেই একটা ছোটলোক। আমি দাওয়াত দিলাম, আপনি এসে খেয়ে যাবেন।

জ্বি, যদি বাসা থেকে নিজে রান্না করে পাঠান, তবে রাজি আছি। প্রথমত জনৈক উনার রান্না চেখে দেখা, দ্বিতীয়ত, বাসার রান্না স্বাস্থ্যকর হবে। হোটেল মোটেলের খাবার পেটে সইবেনা আমার।

--তাহলে বলেন, খাবার নিয়ে কোথায় দেখা করতে হবে?

দেখা করার প্রশ্ন আসছে কেন? আপনি নিরন্নকে এক বেলা রেধে খাওয়াবেন, সেটা যথাস্থানে, যথা উদর পূর্তি করলেই তো যথেষ্ঠ। নাকি খাওয়ানোর সাথে দেখা করার কঠোর শর্ত বা উছিলা আছে? (ডিজিটাল হাসিমুখ) ।
--আপনি আসলেই একটা ছোট লোক, কথার ঢং জানেন না। ধুর! কার সাথে যে কথা বলে সময় নষ্ট করি।

রাগছেন কেন? আপনার বাসায় বরং বেয়ারা গোছের এক টোকাইকে পাঠিয়ে দিই। আপনি না হয় আপনার মা কে বলে রাখবেন একটা টোকাইকে খাওয়ানোর মানত করেছিলেন, তাই খাবারটা একটা টোকাইকে দিচ্ছেন। এইবার হল তো?

--(ডিজিটাল রাগী মুখ)। থাক দরকার নেই। আপনি আপনার মত থাকেন।

অতঃপর বিরক্তিকর দীর্ঘ নিরবতা শেষে, কোন বিদায় সম্ভাষণ ছাড়াই ডিজিটাল জগত থেকে উনার প্রস্থান। পরে কোন এক সময় ডিজিটাল জগতে ফিরে এলে যে বার্তাটা পাবেন তা আমার তরফ থেকে এমন হওয়া উচিৎ।

শারীরিক ও মানসিক অপবিত্রতার সুবাদে আপনাদের মত বড়লোকের (ছোট লোকের বিপরীতে, টাকা ওয়ালা অর্থে নয়) সামনে অস্তিত্বমান হওয়াটা আমার জন্য মানায়না।শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দুটোই বেশ ছোয়াচে, তাই নিরাপদ দূরত্বে থেকে ডিজিটাল পরিসরেই যোগাযোগ থাকাটা কর্তব্য। ডিজিটাল যোগাযোগে একটা 'আনডু' বোতামও থাকে, কিন্তু বাস্তবে এসে কেউ ভুল সিদ্ধান্তে, ভুল ধারণা নিয়ে বাস্তব জীবনটাকে বিপর্যস্ত করুক, এটা আমি চাইনা। দুবাইয়ে ভিক্ষাবৃত্তি শেষে লন্ডনের রাস্তায় রাত্রি যাপন করলেও এই ডিজিটাল আমাকে অস্তিত্বমান পাবেন। কিন্তু বাস্তব শেরিফের খোজ, তার কোন বাস্তব ঘর, ঠিকানা, যেখানে বাস্তব শেরিফকে পাওয়া যাবে, সেটার চেষ্টা করলে শুধু শুধু ব্যর্থতার কষ্ট পাবেন।

বাস্তব শেরিফের অস্তিত্বের কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই, আজ রাতের জন্য নিশ্চিত কোন ঘর নেই যে সেখানে গেলেই বাস্তবের শেরিফকে পাওয়া যাবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29218050 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29218050 2010-08-08 22:52:47
যোগাযোগ ও সম্পর্ক রাখার বিশেষ আগ্রহ নীতি উনাদের ব্যাপারে আগ্রহটা বিশেষভাবে দেখাতে হয়, কেউ বলেন আঠার মত লেগে থাকতে হবে।আগ্রহ দেখানোটা তাই এক তরফাভাবেই হয়। কিন্তু আগ্রহ পরবর্তী ফলাফল নির্ভর করবে উনাদের অভিরুচি, মেজাজ-মর্জির উপর।ধরুন পরিচিত হতে চাইলেন।

--"আমি ওমুকের ভাই তমুক, চিনতে পারলেন?"

বলে একটা আগ্রহের বার্তা পাঠালেন, ফিরতি বার্তা পাবার সম্ভাবনা ৫০ ভাগ। তাও ৫০ ভাগ বেশি সময়ক্ষেপণ করে। এই সময়টা ব্যয় হবে সম্ভাব্য আগ্রহপ্রার্থীর চরিত্র নির্ধারণের পেছনে।বিশেষ অনেক কারণ বশত, কোন জবাব নাও পেতে পারেন।

আপনাকে টাউট গোছের দু'পেয়ে জীব মনে করতে পারে, সংশয়টা থাকা স্বাভাবিক।কিন্তু সংশয় দূরীকরণে আগ্রহের অভাব থাকে আবার আরেকটা বিশেষ কারণে। উনাদের যোগাযোগ রাখার মত দু'পেয়ে জীবের অভাব নেই, তাই বাড়তি উটকো ঝামেলা এড়াতে চান।মানুষের ভদ্র আগ্রহবোধটাকে রাস্তার ধূলাবালির মত অগ্রাহ্য করার মত সৌজন্য উনারা হরহামেশাই দেখাতে অভ্যস্ত। অন্তত ভদ্র প্রশ্ন বা কৌতূহলকেও উনারা দু'পেয়ে জীবের দুরভিসন্ধিমূলক তৎপরতার মাঝে ফেলেন।

অন্যভাবেও হতে পারে। ধরুন আপনি আপনার আগ্রহ বার্তা পাঠালেন। আপনাকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক অপরিচিতজন হিসেবে ধরে নিয়ে অন্ততকাল ধরে ঝুলিয়ে রেখে দিবে। ফলত, উনারা প্রকাশ্যে বর্তমান, সরব, সচল থেকেও আপনার মত আপদকে উনাদের আওতামুক্ত রাখবেন। উনারা নিজেরাই নিজেদের পছন্দ বা নির্বাচনের ব্যাপারে আস্থা রাখতে পারেননা বলে একটা সংশয় মাখা ভীতিও কাজ করে , অন্তত ইন্টারনেট তো যোগযোগের নিমিত্তে পরিচিত হবার বিশ্বস্ত মাধ্যম নয়। কী বুদ্ধিদীপ্ত, সুপক্ক মস্তিষ্কেরর ভাবনা!

আগ্রহ দেখানোর সাথে সাথে উনাদের দুর্বোধ্য কিন্তু স্পর্শকাতর কিছু বিষয় মোকাবেলা করার প্রয়োজন হয়।আপনার প্রশ্ন করার ঢং জানতে হবে, ঠিক যেভাবে প্রশ্ন করলে বিষয়বস্তুর উপস্থাপনা ধনাত্মক হয়। মাথা থেকে বাস্তব চিত্র বা ব্যক্তিমত ঝেড়ে ফেলে বুদ্ধিদীপ্ত তোষামোদ করতে পারলে কিছুটা ফলোদয় হয়। যদি বলে বসেন,

--"আপনার এই কথাটি ভাল লাগেনি", বা

--"এভাবে বলাটা আপনার ঠিক হয়নি",

তাহলে পাকাপাকিভাবে অভদ্রলোকের তালিকায় ঢুকে পড়লেন। কাউকে শিখানো বা উপদেশ দেয়ার মানসে থাকলে অন্য রাস্তা দেখুন, উনারা এসব শুনে, জেনে, মেনে অভ্যস্থ নন। উনাদের রাস্তা কেবল প্রশংসা আর ভক্তির লালা নেবার জন্য সদা উন্মুক্ত। তবে সেখানেও ভক্তকূলের দীর্ঘ সারি থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভক্তির লালা ফেললেই যে তার প্রাপ্তি স্বীকার হবে, তার কোনই নিশ্চয়তা নেই।

আগ্রহকে অগ্রাহ্য করে অপমানিত করার সেকেলে নীতি এখনও জারি আছে। কিন্তু তাতে কাউকে আহত করার কারণে বা নিজের অসৌজন্যতা প্রকাশ হেতু অনুশোচনা কোনটাই উনাদের কাজ করেনা। আগ্রহ প্রাপ্তির সাথে সাথে সমান তালে উনারা শূণ্যে ভাসতে থাকেন, লালা ফেলা জীবের সংখ্যাও ক্রমাগত বেড়ে বেড়ে ভাসমান উনাদের আর মাটিতে নামানো সম্ভবপর হয়না। তারপরেও স্ববিরোধী স্বগোতক্তি চলতেই থাকে উনাদের মুখে,

--"আমি খুব সাধারণ একটা জীব।ইস্ এরা যে কেন এত বিরক্ত করে! অসভ্যের দল সব।"

বিপরীতক্রমে উনারা যদি আগ্রহ দেখান, তো আমাদের আল্লাদে আট খানা হয়ে যাবার নিয়ম।ভালবাসার কথা ভাল করেই বলার নিয়ম। পারলে দু'হাত মুঠি করে হাটু গেড়ে বসে প্রার্থনার ভঙ্গিতে আজীবন সঙ্গ কামনা করা। আমরা পারিও দেখাতে।

উনাদের আগ্রহকে সাদরে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হ্‌ওয়া মানে আপনি উগ্রপন্থী, রসকষহীন দু'পেয়ে, অভদ্র জন্তু, আদব জানিনা। উনাদের ব্যাপারে না শব্দটা উচ্চরণ করাটাই ভয়ংকর অভদ্রতা, বিদ্বেষ প্রকাশ। এই বিদ্বেষ প্রকাশের কারণে জনতার আদালতে আপনার মানসিক রোগের প্রকট উপসর্গ ধরা পড়বে, কোন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন পড়বেনা।

আবার যোগাযোগ এমনকি আগ্রহ দেখানোর রাস্তাটা আম জনতার জন্য পাকাপাকিভাবে বন্ধও করে দিতে পারেন উনারা।

--"আরে আপনি দেখছি আমার বিভাগের, আগে তো খেয়াল করিনি!"

ভদ্রতা জ্ঞানটা লিঙ্গ নিরপেক্ষ হলে, পাল্টা প্রশ্ন হতে পারে,

--"তাই তো! আপনি কোন ব্যাচে ছিলেন?"

কিন্তু আপনার আমার সূক্ষ সুদূরপ্রসারী দূরভিসন্ধি গুলো বুঝবার মত যথেষ্ঠ মানসিক পক্কতা নিয়েই উনারা অবজ্ঞা, অপমান করবেন।ফিরতি কোন উত্তর পাবেননা, তার আগেই সশব্দে যোগাযোগের দরজা লাগিয়ে দিবেন।

ধরুন কথা বলার ফাকে উনি প্রশ্ন করলেন,

--আপনি কোথায় চাকুরি করেন?

আপনি যদি মিথ্যে করে বলেন মতিঝিলের আলিকো অফিসে, মিথ্যে কথা দিয়ে ল্যাঠা চুকিয়ে দিতে পারবেন। কিন্তু সৎ সেজে বলেন,

--"প্রথম পরিচয়ে চাকুরিস্থল জেনে কী করবেন? আমি যদি মিথ্যে করি বলে মতিঝিল আলিকো অফিস, এর চেয়ে না বলাটাই কী ভাল না?"

উনারদের মিথ্যে কথা বলার তুখোড় পারঙ্গমতা দেখে যদি নিজেও সে রাস্তা ধরেন, ধরা খাবার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। উৎকৃষ্ট মাপের মিথ্যেবাদী না হলে, সত্যবাদীতাই উৎকৃষ্ট পন্থা।(কৃতজ্ঞতা: রাসেল অষ্ট ডটু)

কথায় ব্যতিক্রম আর স্বরে নরম সুরের বিকল্প কিছু পেলে তড়িৎ প্রতিক্রিয়া হবে, "আপনি কথা বলার ধরন জানেন না, আপনি পাগল, মানসিক হাসপাতালে পাঠানো দরকার, বাড়ি নিশ্চয় বরিশাল? পাবনায় গিয়ে ভর্তি হন।"

অথবা সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে পৃথিবীর জঘন্যতম মিথ্যাচার শুনিয়ে দিবে,
--"আমি শুধু একটা ভাল মনের মানুষ চাই, আর কিচ্ছু না।"

এভাবেই উনারা আসেন, একের পর এক কোন নিয়মের ব্যতিক্রম না করে, মাথা ভর্তি ঘেন্না আর সন্দেহের জঞ্জাল নিয়ে যোগাযোগ রাখবে।

শুরুতেই শপথ বাক্য শুনাবে,

--"জীবনে কারো কাছে মন বেচে দিইনি, দিবওনা।আমি ওরকম না।"

উনাদের কথার তালে তালে সায় দিতে হয়,

"জ্বী, আপনি ঠিকই বলেছেন, আমিই তাহলে খারাপ মানুষ।"

তারপর উনাদের মনে সুখ দিতে ঝেড়ে ঝেড়ে বলি আমার পূর্বেকার বানোয়াট ঘৃণ্য সব লাম্পট্যের ইতিহাস।

"দেখুন না, কত খারাপ আমি! কী জঘন্য চরিত্র আমার, তাইনা?"

উনারা আনন্দের চোটে স্বভাবজাত হিস্টিয়ার মত খলখল করে হেসে উঠেন। উপহাসিত হবার কষ্টে চোখ-মুখ শক্ত হয়ে আসে, কিন্তু সেদিনের মত অব্যক্ত থাকে।

কিন্তু প্রচন্ড অপমানবোধ মাথায় রেখে যখন সুকৌশলে ঠান্ডাভাবে ঢুকে পড়তে হয় মনোজগতে। কী বোর্ড চেপে চেপে প্রতি শব্দে, বাক্যে সিডাকসিনের তীব্র নেশা ধরা বিষ ঢুকিয়ে দেয়া হয়, খুব ধীরে, নির্বিকারভাবে। উনারা আসেন লাঞ্ছিত করে অনিবার্যভাবে চলে যাবার নিয়তে, তাই বিদায় বেলায় নেশা গ্রস্থ করে ছুড়ে ফেলতে একটু বিবেকে বাধেনা আমার।

কোন এক সকালে উঠে অদ্ভুত ভাষায় অর্থহীনভাবে প্রলাপ বকতে থাকে আকুলভাবে, উনারা কিছু একটা চান, কিন্তু বলতে পারেননা।

"উহু, আমি না অদ্ভুতুড়ে জীব, অসুস্থ লোক, চরিত্রহীন পশু, অসামাজিক দুর্মুখ! ভুলে গেলেন নাকি! আপনিই না বলতেন, ভাল মানুষ চান। কোন মানসিক বিপর্যয় হলনা তো আপনার , আরেকটিবার ভেবে দেখুন! রাতে ঘুমের সমস্যা হয়েছিল? লোডশেডিং না মশার উৎপাত!"

মোহাবিষ্টতার সংজ্ঞা বুঝিয়ে লাভ হয়না। নেশাগ্রস্থ জীব চাহিদার দন্ত-নখর দিয়ে খামচে ধরকে চায় ওপাশের মানুষটিকে।

"আপনি যখন, যেভাবে, যেমন চাইবেন, সেভাবেই হবে...."

বাড়িয়ে দেয়া হাতের আঙ্গুলের নখের নেইল পলিশ তখন মানুষের বুক খামচানো রক্ত মনে হয়, লিপস্টিক হয়ে যায় নরমাংস কামড়ে খাওয়া রক্তাক্ত কোন মুখ।

আমি ভীষণ ক্লান্তি ভরে হাই দিয়ে উঠি।

"আপনি না শপথ পাঠ করেছিলেন প্রথম দিনে নিজের আত্মাকে স্বেচ্ছায় কোথাও জড়াবেন না, কখনও জড়াননি বলে দম্ভভরে আমার 'অন্ধকার-অপ্রিয় সত্য গল্প' শুনে আমায় ঘিন্না করা শুরু করেছিলেন।"

শোক, রাগ, স্বভাবজাত কুৎসিত অভিমান নিয়ে হাউমাউ করে ওঠে, জীবনের ইচ্ছা, চাহিদা অপূর্ণ থেকে যাবার কষ্টে। অভিশাপ দেয়।

"আজ আমার মত আপনারও এমন পরিণতি হবে, আমার কোন দিন হয়নি, হবার কথা ছিলনা। আপনারও এমন দশা হবে, বুঝবেন তখন কেমন লাগে, আপনাকে বুঝতেই হবে। "

বিরক্ত হয়ে কী বোর্ড চেপে দু'জনের মাঝে অন্ততকালের জন্য উচু প্রাচীর তুলে দিই। মানুষের সম্মানবোধ, অর্থ-সময় কষ্ট, অসহায়ত্ব, কঠিন বাস্তবতাকে আমলে না এনে যারা নিজেদের একান্ত স্বার্থ, পছন্দ, প্রয়োজন ও আবদারে বুঁদ থাকেন, তাদেরকে মানসিকভাবে হারানোর আর শূণ্যতার কষ্ট দিয়ে শাস্তি দিলে কোন পাপ হয়না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29202264 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29202264 2010-07-18 05:51:34
ঠিক কতটা (অপ)বিশ্বাস মুক্ত হলে মৌলবাদী হবার অপবাদ থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে?
মাসিমার স্বামীকে ভাইয়া ডাকতাম, বাদাম কিনে দিতেন বলে বাদাম ভাইয়া।ঠাকুর ঘরে ঢুকলেই উনার পাশে বসে সুর মিলিয়ে নমঃ নমঃ করতাম। ঠাকুর ঘরে বিশেষভাবে রাখা চিনি বা মিষ্টান্নের ব্যাপারে আগ্রহটাই ছিল বেশি। হিন্দুদের বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান হলে তাই মাসির বাসায় আসা অন্য পিচ্চিদের সাথে পড়ে থাকতাম। মাতা কালির সংহারী মূর্তির ছবি দেখে আতঙ্কিত হতাম , অন্যান্য পিচ্চিরাও দেব-দেবী ছবি দেখিয়ে বিভিন্ন পাপ-ভয়ের কথা শোনাতো।

আমাদের উচ্চশিক্ষিত মহল্লায় কখনও কাউকে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা, অবজ্ঞা নিয়ে বেড়ে উঠতে দেখিনি, অন্তত জিনিসগুলোর সাথে আমার জ্ঞানত পরিচয় ছিলনা। ওরা হিন্দু, ওখানে যেওনা, ওখানে খেওনা ---এমন শিক্ষা কোন ভাবেই কোনদিন আমাদের দেয়া হয়নি। তার উপর বাবার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন 'সেন' হিন্দু, উনার ছেলের মেডিক্যালে চান্স পাবার সুবাদে বাবাও বলতেন, দেখ দেখ উনার ছেলের মত তোকেও হতে হবে।শহরের ৫০ ভাগ হিন্দু, অনেক মন্দির-আশ্রম, প্রায় সব রাস্তার নামকরণ হিন্দুদের নামে। পূজা-রোজা একসাথে হলে ইফতারের সময় হিন্দুরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ঢোলের শব্দ বন্ধ রাখতেন।

সময়ের সাথে সাথে নিজের একটা সম্প্রদায়গত 'অবস্থান' অনুভব করতে থাকি এবং সেটা অবশ্যই কোন বিপরীত মতাদর্শকে "অপছন্দ, অবজ্ঞা" করে নয়, যে তাকে 'সাম্প্রদায়িকতা' বলতে হবে। আরো দেখি শুধু 'ধর্ম বিশ্বাসের' তফাতের কারণে সাম্প্রদায়িক সংখ্যা গুরুত্ব, লঘুত্বের মত ব্যাপার গুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, ছাত্রদলের ঘাটি বলে শ্লোগান দিলে অপরাপর ছাত্র সংগঠন গুলো অস্তিত্বগতভাবে কোণ ঠাসা হয়ে পড়বে এটাই সত্য। আমার হিন্দু বন্ধুদের মাঝে এমনি একটা কোণঠাসা হয়ে থাকার ভাব দেখতাম।

কাজেই, ভাব বিনিময়ের ব্যাপারে একটা বাড়তি সতর্কতা কাজ করতো। যে ধরনের ঠাট্টা স্বধর্মীয় বন্ধুদের সাথে করতাম, সেটি অন্যদের সাথে করার আগে দশবার ভাবতে হত। খুব বিচ্ছিন্ন বা কাকতালীয়ভাবে বিধর্মী বন্ধুর সাথে মশকরা করলেও যদি সে সেটার "ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ" থেকে আঘাত ভেবে বসে!বিদেশে এসে এ উপলব্ধিটা অনুভব করলাম। কোন অপরিচিত সাদা লোক তার নিজের স্বভাব বশত কর্কশ স্বরে কথা বলে উঠলে সেটিকে 'বর্ণবাদ' ভেবে মনটা খচখচ করতে থাকে। অথচ স্বাভাবিকভাবে নিলে দেখা যাবে লোকটি এমন স্বরে হয়ত সাদা-কালো সবার সাথেই কথা বলেন। ভিন্ন ধর্মের পাশাপাশি ভিন্ন বর্ণের হবার কারণে বিদেশিদের মাঝে উঠা বসা, চলাফেরায় কতটা অস্বস্তি , কোণঠাসা অনুভব করতে হয়, এখন বুঝি।

ব্যাপার গুলো এতদূর পর্যন্ত মানিয়ে নিতে পারলে হত। উচ্চ শিক্ষিত হিন্দু বন্ধুরা প্রায় কেউই ব্যক্তি ধর্ম তেমন পালন করেননা। তাদের ধর্মীয় অংশগ্রহণটা বার্ষিক কিছু পূজোর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে, যেটিকে 'সামাজিক উপলক্ষ' হিসেবেই নেন অনেকে। সেক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মের লোকদের ধর্ম পালনের বিষয়টি তাঁরা সতর্কভাবে লক্ষ্য করেন। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ব্যাপারে যে কড়াকড়ি করে, সেটিকে কারো কাছে বাড়াবাড়ি বলে মনে হতে পারে। নামায পরেও কিছু ধর্মীয় 'বেশ-ভূষা', 'বই-পুস্তক' হাতে নিলে বিধর্মীদের মনে সেটিকে 'চরমপন্থার' অনুগত হওয়া মনে হতে পারে। এমন কি মামুলি ব্যক্তিধর্ম পালনের বিষয়টিও "সম্ভাব্য সন্ত্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠীর সমর্থক" হিসেবে প্রচন্ড সন্দেহের উদ্রেক করে।পুরোপুরি ব্যক্তি ধর্ম পালনে আন্তরিকতা (ধর্মীয় গন্ডির মাঝেই অনুশাসন গুলো শক্তভাবে মেনে চলার চেষ্টা)দেখানো মানেই কারো 'জঙ্গি হবার' বা 'জঙ্গি মনোভাব' ধারণ করা।এ আতঙ্কটা ঢালাওভাবে ঢুকে পড়ার বিষয়টি ক্ষেত্র বিশেষে নিরাপরাধী লোকজনকেও বিব্রত, বিড়ম্বনায় ফেলে দেয়।

অথচ আবেগবশত কেউ যদি 'আমার ধর্ম সেরা' নামের কোন ফেইসবুক গ্রুপে যোগদান করে, সেটিও বিধর্মীদের কাছে বিব্রত, বিরক্ত হবার জন্য যথেষ্ঠ কারণ। যদিও ব্যক্তিধর্ম পালনে বাড়তি আন্তরিকতা, বা ধর্মীয় আবেগবশত নিজ ধর্মের 'ধ্বজাধরাটা' আক্ষরিক অর্থে অন্য ধর্ম বিশ্বাসকে ধ্বংস করা বা ঘৃণা ছড়ানোর নিমিত্তে নয় । অন্যান্য ধর্মের তুলনায় নিজের ধর্মকে 'সেরা' ভাবে বলেই মানুষ তার নিজের ধর্মে অটল থাকে। কিন্তু এই 'সেরা ভাবনাটা' অন্য ধর্মকে 'খাট' করার অভিপ্রায়ে নয়। সেক্ষেত্রে মুহাম্মদের ধর্মে বিশ্বাসী একজনের পক্ষে 'সব ধর্ম সমান', 'ধর্ম একটা হলেই হল' এ ধরনের মতবাদ প্রচার করা তার 'ব্যক্তি ধর্মের' মৌলিকতার পরিপন্থী।

মুহাম্মদের ধর্মের সাথে অন্য ধর্মের এই বিকট দূরত্বটা লক্ষণীয়। মুহাম্মদী ধর্ম ব্যাপারে কঠোর বিদ্বেষী নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক ভি এস নাইপলের মত কথাটা মুখ ফসকে অনেকেই বলেন। প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যা বুঝায় মুহাম্মদের ধর্ম মোটেও সেরকম কিছুনা। এমনকি অন্যান্য ধর্মের সাথে মুহাম্মদের ধর্মের মিথস্ক্রিয়তারও কোন সুযোগ নেই। এর কারণ, উৎস, প্রসঙ্গ গুলো বুদ্ধিমান পাঠক মাত্রই ধরতে পারবেন। এখন প্রচলিত সভ্যতার সাথে টিকে থাকতে এবং সন্ত্রাসবাদের অপবাদ রুখতে মুহাম্মদের ধর্মের একটা নতুন জাকালো নাম দেয়া হয়েছে, 'শান্তির ধর্ম'। মুহাম্মদের ধর্মের মৌলিক বিধি নিষেধগুলো খুব পরিষ্কার, এখানে সংযোগ, বিয়োগের কোন অবকাশ দেয়া হয়নি। এমনকি আরবি কোরআনকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করলেও ভিন্ন ভাষার সেই পুস্তকটিকে আর কোরআন বলা হয়না। আবার প্রগতিশীল যেকোন বিশ্বাসের লোকেরা চান একটা 'মৌলবাদমুক্ত' মুহাম্মদী ধর্ম।

আমি বিশ্বাস করি সূর্য একদিন পশ্চিমে উঠবে, এটা একান্তই আমার বিশ্বাস। বিশ্বাস করার, স্বপ্ন দেখার, কল্পনা করার অধিকার নিজের নিজের। এখানে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করতে যাইনি, বিশ্বাসকে অপযুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে কোন জাকির নায়েকের দারস্থও হইনি। নেহায়েত ব্যক্তি বিশ্বাসের কারণে একজনকে খুব সহজেই 'ছাগু ট্যাগিং' করে ফেলা যায়। তৎক্ষণাৎ, সেখানে 'যুক্তি' দিয়ে নিজের 'অন্ধ বিশ্বাসের' কার্যকারণ চাওয়া হয় অবিশ্বাসী মহল থেকে। 'যুক্তি বনাম বিশ্বাসের' একটা বিষম বিতর্ককের পাটাতন গড়তে বিশ্বাসীদের পাশাপাশি অবিশ্বাসীদের ভূমিকা বরাবরের মতই উগ্র। ঠিক তখনই জাকির নায়েকের মত চরিত্রদের টেনে আনা হয়, আরেক দফা গালাগাল, শোরগোল উঠে।


আমি আমার পিতৃপুরুষের ধর্মে বিশ্বাস রাখতে পারিনি দেখে চাই অপরাপর ধর্মালম্বী লোকেরাও তাদের ধর্ম পালন 'সীমিত' করুক, আরো ভাল হয় অপরাপর ধর্মারম্বীরা যদি তাদের 'ধর্ম পালন ত্যাগ' করেন। ধর্ম জিনিসটা পুরোপুরি বিলোপ করে দেবার প্রস্তাব ওঠে শুধু 'বিশ্বাসগত ফারাকের' কারণে মানুষের ঘটানো 'রক্তপাত ও অন্যায়' দেখিয়ে। পুরোপুরিভাবে ধর্ম পালনের চেষ্টাটা অনেকের সংজ্ঞামতে 'ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি' এমনকি কারো ক্ষতি না করে সম্পূর্ণ নিজের ব্যক্তিগত পর্যায়ে ধর্ম পালন হলেও। আমরা আমাদের পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করে সদলবলে 'যুক্তিশীল-অবিশ্বাসী'দের খাতায় নাম লিখিয়েছি ।এখন সংজ্ঞামত 'সভ্য মানুষ' হতে হলে আপনাকেও তাই করতে হবে, নচেৎ আপনি প্রগতিবিরুদ্ধ 'ছাগু'।

অবিশ্বাসীদের কাছে বিশ্বাসীদের ধর্ম পালন নেহায়েৎ অর্থের অপচয়, সময় নষ্ট করা, "সুবিধাবাদী মূর্খ মানব সৃষ্ট" অপবিশ্বাস লালনের নামে মানবধর্ম বিরোধী চর্চা।তারপরেও কিছু কিছু প্রগতিশীল/সুশীল বিশ্বাসীকে তাদের অবিশ্বাসী বন্ধুগণ "ভালা পান"। ঠিক কতটা ধর্মমুক্ত, (অপ) বিশ্বাসমুক্ত 'যৌক্তিক পন্ডিত' হতে পারলে "মৌলবাদী ছাগু"র খাতা থেকে নাম কাটা যাবে এবং অবিশ্বাসীদের আস্থাভাজন হওয়া যাবে, এটা বিশ্বাসীদের জানা দরকার। বিশ্বাসীরা কতটুকু ও কীভাবে তাদের বিশ্বাস ধারণ করবে সেটিও অবিশ্বাসীদের বলে দিতে হবে গালিমুক্ত থাকার জন্য। কারণ যুগটা তো অবিশ্বাসী, বিজ্ঞান মনষ্ক, যৌক্তিক প্রগতিশীলদের, তাদের প্রতিষ্ঠিত 'চেতনা'র দাসবৃত্তি না করে কী উপায়!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29185222 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29185222 2010-06-26 03:58:44
আসুন প্রবাসীরা দেশের অন্তত একজন করে 'বঞ্চিত' ছাত্রের খোরপোশ দিই
অজগ্রামের স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছে সুজন। দেশব্যাপী জিপি ৫ এর মহোৎসবে যেসব দুঃস্থ মানব সন্তান ৫ পেয়েছে শুধু তারাই সচ্ছল মানুষের কৃপা প্রার্থী হতে পেরেছে।সুজনের সব বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড থাকলেও ইংরেজিতে বেশ খারাপ হয়ে যাওয়াতে আর জিপি ৫ পাওয়া হয়নি। তার অভুক্ত, বঞ্চিত প্রহরগুলোর কথা ভুলে গেলেই মনে হবে, ছেলেটি ইংরেজিতে কাঁচা অথবা ইংরেজি শেখায় তার আগ্রহ, যত্নের ঘাটতি ছিল।

জিপি ৫ এর নিচে কোন ফলাফলকে ফলাফল হিসেবেই গণ্য করেননা অনেকেই। কপাল ফেরে কলেজের আঙ্গিনায় পা রাখা হয়না তাদের অনেকেরই, সেখানে 'ভাল' কলেজ অসম্ভব কিছু একটা। সুজন দমে যায়নি-- এটা জানাতে যে, তার চেষ্টা, আগ্রহের ঘাটতি নেই, ছিলনা।জেলা শহরের সবচেয়ে সেরা কলেজ দুটোর একটায় ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করে সুজন, অসংখ্য জিপি ৫ পাওয়া ছাত্রদের পিছে ফেলে।

দু'দিন বাদেই গর্তে পড়ে পা মচকে যায়। নদীর চরের উপর কাচা বাড়িতে স্বামী পরিত্যক্তা ফুফুর সাথে থাকে।ঔষধ-পথ্য আর বিশ্রামের অভাবকে অবজ্ঞা করে নদী পার হয় প্রায় প্রতিদিন। আরো চার কিলোমিটার পথ খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেটে ধূলো ঘাম মেখে শহরের সুবিধাভোগী সন্তানদের মাঝে বসে পড়ালেখার সুযোগ হারাতে চায়না। হাজিরা দেয় কলেজে।যাতায়াত খরচ তো নেই।

ভর্তি হতেই সুজনের হাজার খানেক টাকা লাগবে। ভিক্ষাজীবী ফুফু তাই সুজনের নম্বরপত্র হাতে নিয়ে স্বচ্ছল মানুষের দুয়ারে ভিক্ষা করে বেড়ায়। সুজনকে সাথে নিয়ে যেতে চাইলে হাত পাতার লজ্জায় তার ছোট অপুষ্ট মাথা নুয়ে আসে। জিপি ৫ পায়নি, তাই কোন মুখ নিয়ে এখন মানুষের সামনে যাবে? ক্ষুধার্ত পেটের অজুহাত সরিয়ে আত্মগ্লানি আর হতাশার কষ্টে পুড়তে থাকে সে। নিজের ব্যর্থতার উপর ক্ষোভ, কষ্ট দুটোই চেপে বসে সুজনের। আবার দিনে অন্তত একবার, রাতের আঁধারে ভাঙ্গা পা, জীর্ণ পোষাকে স্রষ্টার সামনে দাড়িয়ে প্রার্থনা করতে তার ভুল হয়না।

সকালে খাবার অভ্যেস নেই। তাই স্বভাবমত খালি পেটে অনেক সাহস আর আশা নিয়ে সুজন আসে। ওর ফুফু ওকে আশ্বাস দিয়ে নিয়ে আনে। চার হাজার টাকা! সে তো অনেক! কে দিবে? কেন দিবে আমায়? সুজন ভীষণ অস্বস্তি নিয়ে সামনে দাড়ায়। দু'পায়ের উপর অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে দাড়িয়ে থাকা কঙ্কালসার অপুষ্ট দেহ আর কিছুই দেখা যায়না। ময়লা শার্টের ফাক দিয়ে পাজরের হাড়গুলো উকি দিচ্ছিল।

-কত লাগবে তোমার ভর্তি বাবদ?
সুজন কাটায় কাটায় হিসেব করে বলল, ৪০৭৫ টাকা। বেশি বাড়িয়ে বলেনি সে।যদিও বলতে পারতো, কেউ তো আর খোঁজ নিতে যাচ্ছেনা।বরং আরো কমিয়ে বললে টাকাটা পাবার সম্ভাবনা যদি কিছুটা বাড়ে! তাকে পুরো ৫০০০ টাকাই দেয়া হল। হকচকিয়ে যায় সুজন। এত টাকা!

ভর্তি খরচ আর কলেজে যাবার মত কিছু ভাল পোষাক কেনার পর, সুজনের সামনের দুটো শিক্ষা বর্ষের প্রায় পুরোটাই থাকবে ক্ষুধায় গ্রাস করা আর্থিক অনটনের বিষন্ন মেঘ।মাসে কত টাকা লাগবে সুজনের তিন বেলা খাবারের জন্য?

--২০০০ টাকা? গ্রামের খরচে।
২০০০ টাকা মানে কত? ৩০ ডলার, ২০ পাউন্ড!!!

দেশে একটা পরিবারের কাছে মাসে ২০০০ অনেক টাকা। এ টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে ৩টা বুয়ার বেতন হতে পারে। সংসারের খরচের মাঝে ২০০০ টাকা সরিয়ে বাইরের কোন বেকার মানুষের পেটের পিছে 'অহেতু' খরচ করতে সায় দিবেনা অনেকেরই। দুঃস্থ মানুষের পাওনা যাকাত না দিয়ে পেনশনের টাকা ব্যাংকে রেখে মাস শেষে সুদের টাকায় চলা পরিবার অগণিত। পবিত্র সংসার ধর্মের চক্করে পড়ে টাকা উপার্জন আর সংসারের খরচের ব্যাপারে মানুষ উগ্রতা, ব্যগ্রতা দুটোই বাড়তে থাকে। এটা অনিবার্যভাবেই হয়।

২০০০ টাকা হিসেবে কিন্তু প্রবাসীদের কাছে মাসে মাত্র ৩০ ডলার। বিদেশে যারা আয় উপার্জন করে অর্থ জমাচ্ছেন, তাদের কাছে এটা 'মাত্রই'। মোবাইল, সিগারেটের অহেতু খরচ বাবদ মাসে ১৫০-২০০ ডলার চলে যায়। বন্ধুদের নিয়ে কফি খেতে গেলেও ১০/২০ ডলার এক দিনেই যায়। ১০/২০ ডলার তখন প্রবাসীদের হাত থেকে ঠিক ১০/২০ টাকার মত বের হয়, অন্তত আমার অনুভূতিটা এমনি।

দেশের অর্ধেক মানুষ ২০১০ এসেও বিদ্যুতের আলো পায়না। সম্পূর্ণ কূপিবাতির আলোতে পড়া লেখা করে দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ কৌশল নিয়ে লেখা পড়া করেছে এমন দৃষ্টান্ত পেতেও বেশিদূর যাবার দরকার নেই। কিন্তু ক্ষুধা নিয়ে, মাইলের পর মাইল পথ চলা বিদ্যার্থীর সংখ্যা তো এখনও কমে যায়নি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা জেনেও লেখাপড়া ছেড়ে দেয়নি সুজনেরা।

স্বচ্ছল এক একজন প্রবাসী কী পারিনা মাসে একটা ছেলেকে ২০/৩০ টাকা (ডলার) দিয়ে ক্ষুধা মুক্ত পড়া লেখা নিশ্চিত করতে? এতে নিজের উপার্জনের শুদ্ধি, লোভাতুর মনের শুদ্ধি আর একজন বঞ্চিতের অধিকার প্রাপ্তি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29175049 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29175049 2010-06-11 23:25:24
বর্ণবাদ বিরোধী অবস্থানের মাঝে আমাদের বর্ণভেদী রুচি [/sb
নাটকগুলো উপস্থিত সংলাপ নির্ভর হয়ে যাওয়াতে অভিনয়ের শিল্পগুণ সম্পন্ন শিল্পী খোঁজা হয়না। মডেল নোবেল, শখ ঘরানার ফর্সা চরিত্রগুলো বেছে ধরে আনা হচ্ছে, ভারী মেকাপের সময়, ঝক্কি থেকে সুশ্রী চরিত্রে মানুষগুলোকে বাঁচানোর জন্য।ফর্সা মানে পরিষ্কার, পবিত্র। কালো মানে গায়ের রঙ ময়লা এ ধরনের বিশেষণ আমাদের শিক্ষিত পাড়ায় শোনা যায়।আক্ষরিক অর্থ, ময়লা মানে কিন্তু নোংরা, সেদিকে মানুষের নজর নেই। পুরুষের আজন্ম ফর্সা নারীর চাহিদা বলে "পুরুষের উৎকট বর্ণভেদী রুচি" নিয়ে বিশেষত ম্যাডামেরা হৈ চৈ করে থাকেন। তবে সত্য হল, ময়লা-রঙ-পছন্দ পাত্র খুব সহজলভ্য না হওয়া সত্ত্বেও কালো মেয়েরা আমৃত্যু চিরকুমারী হয়ে আছেন, এমন দৃষ্টান্ত বিরল। পুরুষের কপাল ভাল, নেহায়েৎ আলকাতরা মারা না হলে অসমবর্ণের টাকা ওয়ালা পুরুষে মেয়েদের আপত্তি নেই। অথবা কালা সাইফুল একটু ফর্সা মেয়ে চাইছে, সামনের প্রজন্ম যেন একটু উজ্জ্বল বর্ণের হয়, এই আশায়।

জনৈক ব্লগার প্রবাসে শ্বেতাঙ্গ , কৃষ্ণাঙ্গ এবং উপমহাদেশীয় 'ময়লা বর্ণের' বিবিধ সম্পর্ক বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন। এক ফাকে 'নোংরা কালো' শব্দ দুটো এসে যাওয়াতে, আম জনতা ব্লগারের লেখক সত্তা, রুচিবোধ ধরে এমন তুলোধুনো করলেন যে চমকপ্রদ লেখা ও লেখাতে ঘটনা প্রবাহের সমস্ত বিষয়াদি আড়ালে চলে গেল।সেখানে অবশ্যই 'নোংরা' শব্দটি 'কালো' শব্দটিকে বিশেষায়িত করেনি। দুটো আলাদা বিশেষণ কিন্তু পাশাপাশি অবস্থানের কারণে আমাদের অবচেতন মনের 'বর্ণবাদ গোত্রীয় হীনমন্যতা ' চাড়া দিয়ে উঠে। কতগুলো বখাটে নোংরা শেতাঙ্গ যুবক--কথাটিতে কিন্তু বর্ণবাদের এক ফোটাও আচ পাওয়া যায়না।

কাউকে ধলা মিয়া ডাকলে, কিন্তু খুব ভদ্রতাই ধরা হয়। কিন্তু কালা মিয়া সম্বোধনে আপত্তি আসতে পারে, "গায়ের রঙ ধরে সম্বোধন কেন?" কাজেই এটা বর্ণবাদ। টু হোয়াইট গাই কেইম ইন এন্ড দেন ওয়ান ব্ল্যাক গাই মুভড আউট। 'ব্ল্যাক' শব্দটা অপরিচিত মানুষ সনাক্তকরণে একমাত্র উপায় হলেও সেই বিশেষণটি আপত্তিকর। 'কালো' বর্ণটি বা শব্দটি নিজে থেকে খারাপ কিছুইনা, বর্ণবাদের আগাম সতর্কতা হিসেবে কাউকে 'কালো' বলে সনাক্ত করাটা, কাউকে 'ল্যাংড়া, কানা, খোড়া' বলে সম্বোধনকরার মত গুরুতর অপরাধ বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।

ব্যক্তিগত অপরিচ্ছন্নতা, মাদক ব্যবসা, উৎশৃঙ্খলতার কারণে একদল বখাটে, নোংরা কালো লোকদের সনাক্ত করলেও, 'ময়লা বর্ণধারী' উপমহাদেশীয়দের ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় সজাগ হবে। নোংরা কালোর বদলে বলতে পারতেন, নোংরা আফ্রিকান আমেরিকান, তারপরেও আমাদের মাথায় বর্ণবাদী অভিযোগ টনটন করতো। তাহলে উপায় হল, কালোদের নিয়ে কিছুই বলা যাবেনা, কারণে কোন পুরোপুরি 'বর্ণ নিরপেক্ষ' অভিযোগ করলেও আমাদের সচেতন সমাজ সেটিকে টেনে ঘুরিয়ে নিয়ে , "বর্ণের কারণে অভিযোগ বিধায়-বর্ণবাদ" রায় দিবেন। দেশের নাগরিক হিসেবে কোন সংখ্যা লঘু আইন ভঙ্গ করার কারণে সরকার তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করলে, সেটিকে যে কোন বিচারে "সংখ্যা লঘু নিপীড়ন" বলতে খুশি হন অনেকেই। ঠিক এ ধরনের 'আরোপিত হীনমন্যতা' থেকে কালো এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের মত এক ঘরে এক গোত্র নিয়ে বসবাস করে, মূল ধারার জনগোষ্ঠীর সাথে মেলা মেশা করতে পারেনা।

শব্দ হিসেবে 'কালো' আমাদের কাছে 'নোংরা' শব্দটির মতই একটি নেতিবাচক বিশেষণ। সেটির প্রয়োগ এড়াতে গায়ের রঙ চাপা, গায়ের রঙ ময়লা, শ্যামলা বিবিধ শব্দ উচ্চারণ করা হয়ে থাকে। মানুষের গায়ের রঙ একটি সুস্থ, স্বাভাবিক প্রকৃতি প্রদত্ত ব্যাপার, অথচ এটি চলনসই প্রেক্ষাপটে কানাকে কানা বলিওনার, মত কালোকে কালো বলিও নার মত বিষয়। যেন কালো হয়ে জন্মানোটা একপ্রকার বর্ণগত প্রতিবন্ধকতা। 'জ্ঞানহীন মানুষ পশুর সমান' জাতীয় বিদ্যে শিখে কেউ যদি নিরক্ষর বাসের হেলপারের কাছে অশোভনীয় কথা ও আচরণ পাবার পর ভাবেন, "ঠিকই তো ভদ্রতা মনুষ্যত্ব শিক্ষিত লোকের কাছে যতটা আশা করা যায়, অশিক্ষিতের কাছে সেটি আশা করা অন্যায়।" তাহলেই হেলপারের চৌদ্দগুষ্ঠিকে আদরনীয় 'মায়ের ভাই-মামা' সম্বোধন থেকে নামিয়ে পশুর সাথে তুলনা করলাম কোন ধরনের শিক্ষাবোধ থেকে আম জনতা সাথে সাথে প্রশ্নবাণ ছুড়বেন।

নিজেদের ময়লা বর্ণের কারণে উপমহাদেশের মানুষ বর্ণবাদ বিষয়ে বেশ সোচ্চার ও সচেতন। কিন্তু নিজেদের বিয়েতে সবার দাবি থাকে বউটাকে ভারি চুনকাম করে মঞ্চে তোলা হোক। আমি সাদা মেয়ে বিয়ে করেছি, আর সাদা মানেই পরিষ্কার, সুন্দর, উজ্জ্বল, পবিত্র। কালা ভোলা পাত্রের কিন্তু কোন প্রসাধন লাগেনা। বউ দেখে অতিথিরা বলে যাক, না মেয়েটা সুন্দর, লুকিং গ্রেট, কিংবা ব্যাপক সাজ-সজ্জার পরেও "চুনকাম" করানোটা ফরজ প্রসাধন সেই "সাদা প্রীতি" থেকে এবং আসল কালো, ময়লা, নোংরা রঙ লুকানোর অভিরুচি আমাদেরই। অন্তত বিয়ের দিন সবাই বলুক, নিষ্পাপ শ্বেত শুভ্র পরীর সাথে বিয়ে হল। এই বর্ণ চুরি বা লুকানোই হল বিয়ের অনুষ্ঠানকে সফল করার মৌলিক হাতিয়ার । এটা শুধু অভিরুচিই না, আমাদের সমাজ ধর্ম ও সংস্কৃতির অচ্ছেদ্য অংশ। এমন অসংখ্য উদাহরণে ময়লা রঙ ভীতি, সাদা রঙ প্রীতি নিয়ে আমরা আমাদের সমাজ ধর্ম পালন করি।

তাই,
কালোরা নোংরা নয়, তবে একদল নোংরা কালো আছে ---এই পরিষ্কার বর্ণ নিরপেক্ষ, অবর্ণবাদী অভিযোগের পরেও বর্ণবাদী আক্রমণের আতঙ্কে থাকা কিন্তু নিজেদের মাঝে বর্ণবাদ পূজো করে যাওয়া ময়লা গায়ের রঙ ওয়ালা মানুষের মাথা ঠান্ডা হয়না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29166564 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29166564 2010-05-31 07:17:51
চরিত্রহীন পাত্র, প্রতারক পুরুষ ও প্রবাসী ব্যাচেলর ছোকরা
প্রবাসটা সেখানে নির্বাসিত দ্বীপে বসবাস করার মত। ফ্রিজ ভর্তি খাবার, আরাম দায়ক বসতভিটা সবই আছে। কিন্তু দেখা যাবে সপ্তাহান্তের আস্ত দু'টো দিন কারো সাথে কোন কথা না বলে, কারো সাথে কোন দেখা না হয়ে ঘরে শুয়ে বসে নাটক দেখে চলে গেল। ঘোরতর অলসতার কারণে কিন্তু পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভার রাখতে শুকনো বিস্বাদ (হোল হুইট,আস্ত গমের) রুটি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। অথবা ইফতার করে প্রচন্ড ক্লান্তির কারণে এক ঘুমে সকালের আলো। উৎসবের মাইক, সাইরেন শব্দের অভাবের চেয়ে অভিমান করে টানা ২৪ ঘন্টা উপবাস থাকার ব্যাপার গুলোই নাড়া দেয় বেশি।

ব্যক্তিগতভাবে প্রচন্ড স্বার্থপর ও অন্তর্মুখী হবার কারণে এ ধরনের জীবনযাপনে আপত্তি নেই, বরং বেশ আয়েশের সাথেই অভ্যস্ত। কিন্তু দেশে সারা জীবন আতলামি করে আসা মোটা ফ্রেমের চশমার নরম-শরম ছেলেটিকেও দেখি কীসের জন্য যেন উশখুশ করছে। দেশে মা মানা করে দিয়েছে বলে পর্ক, মদ, বার এসবের ত্রি সীমানায় সে ঢুকবেনা। কিন্তু সপ্তাহে ৫ দিন গাধার মত খাটুনির পর বারে গিয়ে মদে গলা ভিজিয়ে না নাচলে যে পরের সপ্তাহে কাজ করার স্ফূর্তি আসেনা। বা নিজেকে লোকজ সংস্কৃতির সাথে মিলাতে না পারার কারণে সংস্কৃতিগত দূরত্বের কারণে এতগুলো মানুষের সামনে বিচ্ছিন্ন প্রজাতির এলিয়েন ভেবে কষ্ট পেতে থাকে। তাই সবুজ তার মোটা ফ্রেমের চশমার ফাক দিয়ে সঙ্গিনী পাবার স্বপ্ন দেখতো, যেটা সে আগে বই-পুস্তকের ভাজের বাইরে আনেনি। পিএইচডি কোয়ালিফাইং পাশ দিয়েই বাড়ি যায়, বাবা-মা নাকি বিশেষ সূত্র মারফর পরিচিত কনে দেখাবে।

আজ থেকে ১৫ বছর আগেও প্রবাসী পাত্র ব্যাপারে একটা অন্ধ ভক্তি ছিল। পিয়াজ কাটা, মদের ছিপি লাগানো, থালা বাটি ধোয়া, টেবিল মোছা চাকুরি করে নিজের পড়ালেখার পয়সা জুগিয়েছে ছেলেরা। দেশে কর্ম খালী নেই, তাই প্রবাসী বলে যা পেত তাতেই নিজের মেয়েকে গছিয়ে দিতে আপত্তি করেনি অভিভাবককূল। সবুজের মত কলুর বদল গুলো এক কালে দেশে গেলে পাত্রীর বাবা-মা পাত্র্রীর "স্থানীয় গোপন সম্পর্ক" অগ্রাহ্য করে মেয়ের নাকে দড়ি দিয়ে টেনে হেচড়ে লম্পট প্রবাসী ছোকরার গ্রাসের নাগালে বসিয়ে দিতআশ্চর্যজনকভাবে, সেই সব কামলা খাটা ছোকরার দল ডিগ্রি নিয়ে এখন চাকুরি করে গাড়ি বাড়ি হাকায়, তাদের এক এক জনের বিশাল দশা, প্রতিষ্ঠিত। নব্বইয়ের শেষের দিকে দেশে রীতিমতো কর্পোরেট বিপ্লব শুরু হল।কোন মতে ব্যাচেলর পাশ দিয়ে একটা এমবিএ ডিগ্রি চালু রেখে এক এক জন মোটা মাইনের চাকুরে, গাড়ি, ফ্ল্যাট আর বউ সংসার নিয়ে আরামে দিন কাটানো যুবকের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে লাগল। হুড়মুড় করে পড়ে যেতে লাগলো প্রবাসী ছোকরাদের দাম।

ব্যাপারটা ইডেনের কেলেঙ্কারির মতই। প্রবাসী পুরুষের প্রতারণা ও চরিত্রহীনতার বেপরোয়া সংবাদের সুবাদে এখন কেউ প্রবাসী পাত্রের প্রস্তাবে নূন্যতম "খোজ-খবর" নেবার মত সময়, আগ্রহ দেখায়না।সাবধানের মার নেই, ঝামেলা করে প্রবাসী ছোকরার "কাহিনী-চরিত" জানার চেয়ে চার পাচটা কর্পোরেট ফুল বাবুর দেখে চোখের সামনে বাগদান সেরে ফেলা যায়। ব্যাচেলর ছোকরা বাসা ভাড়া নিতে এসেছে, তাই বেশি বাক্য ব্যয় না করে, "এখন দেশেই ভাল চাকুরি আছে, প্রবাসে কেন বাপু? আমি আমার মেয়েকে বিদেশে পাঠাবোনা।অন্য জায়গা দেখো। "-বলেই সশব্দে দরজা লাগিয়ে দেন গৃহকর্তা।

কোয়ালিফাইং পাশ সবুজের বেলায় ঠিক এই ঘটনাটি ঘটেছে। ছাত্রাবস্থায় যারা পড়াশোনার সুবাদে সম্পর্ক করেছেন, তারা উচ্চশিক্ষার তাগিদে কোন প্রকার বিবাদ ছাড়াই দু'জন/একজনের ফান্ডে বিদেশে পড়তে চলে যান। কিন্তু সবুজের কপালে এমনটা জুটেনি। তার উপর, সবুজ এখনও "ছাত্র", পেশা হিসেবে পড়াশোনার কথাই লেখা থাকবে, এটা আবার মোটা মাইনের চাকুরি করা পাত্রের ভিড়ে ভীষণ নিচু দরের পেশা। ভাবখানা এমন, ছোকরা লেখাপড়াই শেষ করেনি, এখনই এসব কী? লেখাপড়া শেষ করো, চাকুরি ধরো , চাল-চুলা বানাও, তারপরে না হয়ে আমার মেয়েকে পুষবে, এর আগে কী! এসব কথার ভাল যুক্তি আছে, পড়াশোনা বাবদ যে ফান্ড পায় সেটি প্রায়শই ঝুকিপূর্ণ থাকে। ফান্ড চলে যেতে পারে, আবার যে ফান্ড পায় তা সাধারণ চাকুরিজীবীদের ১/৩ ভাগ। নিজের হয়ত চলে মাস শেষে ভালই বাচে, কিন্তু ঘাড়ের উপর আরেকজন চেপে বসলে সর্বশান্ত হবার উপক্রম হয়।

পুরুষের বিয়ে করার যোগ্যতাটা এখনও বউ খাওয়ানো, চাল-চুলার মালিকানার উপর নির্ভরশীল। বিদেশে "ছাত্র", দু'পয়সার ঝুকিপূর্ণ ফান্ড নিয়ে পড়ালেখা করে, ভিন দেশে অর্থ-বিদ্যা সব হারিয়ে ছোকরা যেকোন সময় পথে বসতে পারে। তাই একেবারে বিদেশে চাকুরির সনদ দেখাতে হবে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বলে যদি দেখা যায়, সামান্য ইন্ট্রাক্টর বা ল্যাব টেকনিশিয়ান, ঢাবির কলা ভবনের ছাত্রী প্রতারিত হয়ে গলায় ফাস লাগায়। দেশে মোবাইল বিপ্লবের যুগে মেয়েরা এখন যথেষ্ট স্মার্ট (বুদ্ধি-মতি), যোগাযোগের উপায় জানে। নেহাৎ মতিভ্রম না হলে কেউ প্রবাসী লম্পট,প্রতারক ছোকরার সাথে সম্পর্কে জড়ায়না, হাতের কাছে চাল-চুলার যোগ্যতা বুঝে খুব দ্রুত একজনের সাথে গাটছড়া বেধে ফেলে। তার উপর, প্রবাসী ছাত্র ছোকরা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কর্মজীবীরা পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়ে সহধর্মিনীকে দেশে ফেলে আসার মত ঘৃণ্য কাজ করে (পাত্রের সাময়িক অপারগতার দায় কেউ নিতে রাজি নয়) পাল্টা কেলেঙ্কারির রসদ জোগায়। আবার বিদেশে নিয়ে গিয়ে ঘরে বসিয়ে রেখে খাইয়ে পরিয়ে নাকি "দাসীগিরি" করিয়ে নেয়, এ মর্মে জনৈক ব্লগার আমাদের নিশ্চিত করলেন। আবার বাসায় বসে থাকতে না চাইলে, অড জব (কী ঘৃণ্য ব্যাপার!) করিয়ে নেয়। মেয়ে তো দেশে থাকতে একটা এনজিও তে সসম্মানে ভাল বেতনের চাকুরি করতো, প্রবাসে গিয়ে কী অধঃপতন, দাসীগিরি!

তাই রিক্সার টুনটুন আওয়াজ, সুখ নিমগ্ন কর্পোরেট দাসত্ব, মায়ের হাতের ভাত, বন্ধুর আড্ডা ফেলে যেসব অর্বাচীনের দল দু'পয়সার উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গতর খাটেন, নিজের বিরুদ্ধ রুচি, সংস্কৃতি, ও পরিবেশে বাঁচার সাহস দেখান---- তাদের হাতে নিজের ভগ্নি/কন্যাকে তুলে দিবার মত ভুল যেন কেউ না করে। দেশে সুখ থাকতে ভূতের কিল খেতে যারা বিদেশগামী হন, তাদের জন্য রাস্তা ঘাটে শেতাঙ্গিনী কুলটার অভাব নেই, সপ্তাহান্তে। বিদেশের চলনসই ঘন ঘন ডিভোর্স, লিভ টুগেদার, বারের সংস্কৃতির সাথে একাত্ম হতেই তো এই পোড়ামুখো ছোকরা গুলো ভিনদেশে গিয়েছে। নামের সামনে "ড." লিখবার মত পড়াশোনার শেষ করলেও ততদিনে "বৃদ্ধ ব্যাচেলর" বিয়ে করার মত বিবাহ যোগ্য "বৃদ্ধা ব্যাচেলর" অবশিষ্ট থাকবেনা। বরঞ্চ বয়সের ফারাকের কারণে পরকীয়া জাতীয় রুচিবোধ জন্মাবে। সে ক্ষেত্রে অড জব আর ছাত্রত্বের অভিশাপমুক্ত হয়ে প্রবাসে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ৩৫ বা তদুর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধ ব্যাচেলরদের পাখি ভাইয়ের শরণাপন্ন হয়ে শর্ট ডিভোর্সী বা সন্তান সমেত বিধবা মহিলা খোজা ছাড়া গতি নেই।

এতে করে এককালীন "নারীবাদী" পূণ্য করার সুবাদে বুড়াকালে বিয়ে করার "ভিম-রতি হেতু কলঙ্কও" মোচন হবে।

কারো ব্যক্তিগত রুচি, পরিসরে আঘাত লাগলে ক্ষমাপ্রার্থী। সেজন্য মাইনাস বাটন চেপে খানিকটা ঘিন্না মুক্ত হতে পারেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29151431 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29151431 2010-05-09 00:16:07
বসন্ত বিরতি
-ভাগ্যিস আগে আগে চলে এসেছি, দেরি করলে আরো কটা দিন আটকে যেতাম।

তার হাই স্কুল শিক্ষক বাবার কথা বলল, বাবা জোর দিয়েছেন জীবন উপভোগ করতে। পিএইচডি করার নামে বছরের পর বছর কম্পিউটারের সামনে বসে কাটিয়ে দেবার কষ্টকর মুহূর্তগুলো পরে হয়ত আর অনুভূত হবেনা। কিন্তু এক সপ্তাহ কাটানো সুখ স্মৃতিগুলো পরে প্রায়শই রঙিন থাকবে।

-তারপর, তুমি তো এত দিন আছ এদেশে, একদিনও ছুটি নিলেনা, কোথাও ঘুরতে গেলেনা!

ফেডরিকের দিকে আর তাকিয়ে থাকতে পারলামনা। 'তোমার জীবন', 'তোমার পছন্দ', 'কারো কিছু বলার নেই'--জাতীয় অভয় দিতে লাগল সে। উল্টো তাকে আমার কিছু দেশীয় দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হয় বারবার।ডিগ্রি হলে একেবারেই দেশে চলে যাব, ঘুরে বেড়ানোর মত বিলাসিতা আমার জন্য নয়। "লাক্সারি অফ লেইজার" বনাম "লিবার্টি অফ লেইবারের" কথাটা মাথায় টনটন করতে থাকল। আমি বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাবার স্বাধীনতাটা উপভোগ করি হয়ত।

আমার আন্তরিক সৌজন্য প্রকাশ প্রায়শই এদের কাছে গুরুতর অনধিকার চর্চার পর্যায়ে গিয়ে দাড়ায়।ফেডরিক সেদিন বলেই রেখেছিল, আজ তার বান্ধবী ল্যাবে আসবে দেখা করতে।অন্যের ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ এড়াতে আমি তাই অন্যখানে গিয়ে কাজ করছিলাম। বহু পরে ফিরে গিয়ে দেখি ফেডরিক তখনও বান্ধবীর সাথে । আমাকে দেখা মাত্রই পরিচয় করিয়ে দিল ক্যাথরিনের সাথে। খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে, 'হ্যালো' বলেই আমাদের দেশীয় কায়দায় জানালাম,

-তোমার কথা শুনেছি ফেডরিকের কাছে অনেক! [হাসিমুখ]

অপরিচিত কিন্তু নাম শোনা মানুষের সাথে তাৎক্ষণিক পরিচয় পর্বে এর চেয়ে বেশি কিছুর বলার চিন্তা মাথায় আসেনি, কিন্তু দ্রুত একটা কিছু বলে পরিচয় পর্বটা মার্জিত করার তাগাদা ছিল।
পরেই দেখলাম ঘরে উপস্থিত মানুষগুলো থতমত খেয়ে দাড়িয়ে আছে। ফেডরিক রীতিমত অপমানিত। আমিও ভীষণ বিব্রত হয়ে অপরাধবোধে ভুগছি, না জানি কী ভীষণ অন্যায় করে ফেলেছি। পরে জানলাম এদের কাছে গার্লফ্রেন্ড বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত, ফেডরিকের কাছে তার বান্ধবীর কথা শোনাটা যেমন অনধিকার চর্চা, তেমনি তার বান্ধবীকে জানানো যে, "আমি তার কথা আগে শুনেছি" এটা আরো বড় মাত্রার অভদ্র আলাপ। অথচ আমাদের দেশীয় পরিচিত হবার কায়দাটা এমনি, সেটি একান্তে ফেডরিককে বুঝিয়ে খুব উপকার হল বলে মনে হলনা।

কথা প্রসঙ্গে মিতালি একবার বলেছিল, আমি নাকি নিজের জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বিপরীত জেন্ডারের সাথে খুনসুটির নামে আবেগ চর্চা, কিংবা ভদ্রলোকি সামাজিকতার চর্চা কোনটাই অলসতা ও আগ্রহের অভাবে করা হয়ে উঠেনি। ব্যাপারটি মিতালির চোখে পড়েছিল,
-আপনাকে এতদিনে একবারও হাসতে দেখলামনা!

হাসি দেবার মত প্রসঙ্গ উঠেনি অথবা মুগ্ধ বা আনন্দিত হবার স্নায়ুবিক ক্ষমতাগুলো অনভ্যেসের কারণে শুকিয়ে গিয়েছে হয়ত। তাই, আনন্দ করার বিরল মুহূর্ত এলে চোখে পানি আসে হাসিমুখের বদলে। রাত করে ঘরে ফিরে ক্লান্তি আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়, জীবন নিয়ে ভাববার সময় কোথায়?

তারপরেও ফ্রিজ ভর্তি খাবার-পানীয়, ফেনা ওঠা বাথটাবের গরম পানিতে গা এলিয়ে শুয়ে থাকা কিংবা বর্ষার ঠান্ডা আলো আধারি দিনে ফায়ার প্লেসের আগুনে নিজের অজ্ঞাতসারে দৈহিক সুখগুলো যাপন করছি। কিন্তু আমার দৈহিক অবসরের মুহূর্ত গুলোতেও দুশ্চিন্তা ভর করে, অনাগত ভবিষ্যত মনটাকে অস্থির রাখে সবসময়। সেটি ভুলতে আবার কাজে ফিরে যাই, এই চক্রের মাঝে সর্পিল আকারে ঘুরে ঘুরে জীবনটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছি নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে।

তাই একটা সজ্ঞান মানসিক বিরতি দরকার ভীষণ, দরকার পুরোপুরি ভাবনা মুক্ত কিছু প্রহর।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29143684 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29143684 2010-04-27 23:36:20
সংস্কৃতির উৎসব, উৎসব পালনের সংস্কৃতি
প্রবাসে দেখি বড়দিন গুলোতে ঠান্ডার চোটে মানুষ গৃহবন্দী হয়ে উৎসব করে। পালনের পরিসরটা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের বাইরে প্রতিবেশি বা আরো বৃহত্তর দিকে যায়না। ঘরেই কেক কেটে, গাছে আলো বাতি ঝুলিয়ে শান্তিপূর্ণ ধর্ম-উৎসব-ভোজ চলে। ক্রিসমাস ইভের সন্ধ্যার আগেই দোকান-পাট বন্ধ করে ঘরে বসে উৎসব পালনের প্রস্তুতি নেয়, আমাদের চান রাতের মত কিছু নেই এখানে। ঠিক তখনই উপলব্ধি করি বাইরে এসে খোলা আকাশের নিচে জড়ো হয়ে উৎসব করার একটা চাহিদা, সকলকে পাশে নিয়ে, সশব্দে । শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত সদলবলে হাটাটা ক্লান্তিকর লাগার কথা নয়, শুধু মাত্র উৎসবের আমেজের কারণে। মানুষ, রঙ, মানুষর শব্দ, সূর্য, সজ্জা- জিনিস গুলো না দেখলে সেটিকে উৎসব নাম দেয়া অসম্ভব মনে হয়।

দুর্ভাগ্যবশত, এই উপলব্ধিটা স্বদেশে থাকার সময় ছিলনা। আবার সৌভাগ্যবশত উৎসব পালনের সংস্কৃতিগত ফারাকটা দেখে একটা সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়েছে। রথ যাত্রা, দোল উৎসবের মত মিছিল বা খোলা আকাশের নিচে সমাবেশের প্রয়োজনীয়তাটা এদের বুঝানোর চেষ্টা করি। "উড ইউ লাইক টু হ্যাভ ক্রিসমাস ইন সামার? ইউ বেটার মেইক এ ট্রিপ টু অস্ট্রেলিয়া টু হ্যাভ এ ডিফরেন্ট ফ্লেভার ।" কিন্তু অভ্যেসগত কারণে শীত বা বরফের বাইরে ক্রিসমাস পালনের কথা এরা ভাবতে পারনো, ঘর বন্দী উৎসব পালনেই এদের সুখ।

দেশে থাকার সময় পয়লা বৈশাখের ভিড়ে বের হওয়াটা স্বস্তিদায়ক ছিলনা। মানুষের মাঝে উৎসব বলে আলাদা "জীবনাচার পালনের" বাড়তি উৎসাহ থাকে। অন্তত একটা ছুটির দিন, বিশ্রাম, ভোজ বা বাইরে যাবার উপলক্ষ। গেও গেরামে মেলা ছাড়া বাড়তি কিছু আকর্ষণ ছিলনা। মাটির খেলনা, বাতাসা না পেলে ছোটদের উৎসব গুলো পুরোটাই অন্ধকার হয়ে যেত। এপ্রিল মাসে তরমুজ হয় বলে সাথে দৈ চিড়া যোগে ফলাহার করে উৎসব করা যায়। তাই তখন, বন্ধুদের ভদ্রতার থাতিরে করা, "নববর্ষ কেমন কাটল, কী পরিকল্পনা?"র জবাবে একটা স্বস্তিদায়ক উত্তরও দেয়া যায়। অন্তত হ্যালুইনে কী সাজলে বা ক্রিসমাসে ঐমুক প‌্যান কেইক বানিয়েছিলে কিনার জবাবে "প্রশ্ন এড়ানো উত্তর" দিবার প্রয়োজন হয়না।

এখন তাই ইচ্ছে হয়, পয়লা বৈশাখে রমনা থেকে টিএসসির ভিড়ে সদলবলে হাটতে, মানুষের সুখী রঙিন মুখ দেখতে। যেকোন বছরে এই দিনটিতে সূর্যের তাপদাহ থাকে, গলা শুকায়। তারপরেও গরমে রাস্তায় দাড়িয়ে সফেদ পাঞ্জাবি-শাড়ি জোড়া গুণতে ইচ্ছে হয়। প্রবাসে থেকে ধর্ম সংস্কৃতির ক্ষুধাগুলো এভাবেই চাড়া দেয়। কিন্তু পুরনো অসামাজিকতার জঙ্গলা খাদে পড়ে উঠে দাড়াবার মত মানসিক শক্তি পাইনা, কেউ উঠে আসার জন্য হাতও বাড়ায়না। দানা পানি নিয়ে পোকা মাকড়ের মত বেঁচে থাকি জঙ্গলা খাদে, করুণা পাবার মত এখনও অনেক অভুক্ত মানুষ আছে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29133202 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29133202 2010-04-12 02:12:31
মোহাবিষ্টতার কাল
তাই গুরুতর "প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ" মাথায় রেখে আগ বাড়িয়ে প্রশ্ন করলাম, "আপনি কি ভারতীয়?".... "নো, আই এ্যাম বাংলাদেশি।" চমকটা তাড়াতাড়ি হজম করতে গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন, "এন্ড ইউ"? পাঁচ ফুটি গোলগাল শিশু সুলভ চেহারার মাঝে বয়সের কারণে খানিকটা আভিজাত্য এসেছে। উজ্জ্বল বাদামী চোখ। কোলকাতার টানে শুদ্ধ বাচনভঙ্গির উৎস জানতে গিয়ে দেখি যশোরের মানুষ।তারপর হঠাৎ নির্বিকারভাবে, "আপনি আমার বয়সে বড়, আমাকে তুমি করে ডাকবেন।" এ ধরনের ভদ্র অনুরোধ রক্ষায় আমার বরাবরের মত আপত্তিটা সরাসরি জানাতে ইচ্ছে করেনি। যোগাযোগের পরিসরটা তখনও প্রাতিষ্ঠানিক, তাই নিয়মমত আপনি করে সম্বোধনটাই শিষ্টাচার মনে করি।

তারপর টেবিল বৈঠকগুলোতে কখনও বা অন্যদের সাথে নিয়ে, কদাচিৎ শুধু এই দু'জনের বসা হত। খুব পেশাদার কারণে আলাপের প্রসঙ্গ চ্যুতি হবার সুযোগ ছিলনা, বা দৃষ্টি সীমা ছড়ানো ছিটানো কাগজ, ল্যাপটপের পর্দার বাইরে যেতনা। কিন্তু সভা কক্ষ ছেড়ে বেরুলেই কিছু অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিগত আলাপনের ভদ্র শ্রোতা হওয়া লাগত। গত ক্রিসমাসে ঐমুক শহরে গিয়েছিলাম, এই বসন্তের ছুটিতে খরগোশের বার্বিকিউ করলাম, সামনের বার ভাই-বোনরা এলে সাথে নিয়ে ক্যাম্পিং এ যাব। "আপনি কী ঔমুক শহরে গিয়েছেন?", বিব্রত হয়ে বললাম, "না, এখনও যাওয়া হয়ে ওঠেনি, দেখি সামনের বার কখনও সুযোগ পেলে...",...

"আপনি কি তাহলে কোথাও যাননি?" এবার একদম লজ্জিত হয়ে বললাম, "আসলে যাওয়া উচিত জেনেও যাওয়া হচ্ছেনা, হয়ত গণসংযোগের অভাব, একলা একলা তো বেরিয়ে পড়া যায়না। "..."এ কী কথা! এত বড় দেশ, না দেখে চলে যাবেন?" প্রসঙ্গ পাল্টাতে প্রশ্ন করলাম, "মাঝে দেশে গিয়েছেন কতবার? দেশে ফিরতে ইচ্ছে করে কখনও?" দেশ সংক্রান্ত প্রসঙ্গগুলো মিতালির কাছে অতীত এবং ভুলে থাকার মত বিষয়। প্রকাশভঙ্গি বলে দেয়, তাই কথা আর বেশিদূর এগোয়না। কিন্তু নিয়ম করে সপ্তাহে একবার সভা কক্ষে আসা এবং যাওয়া বাবদ যোগাযোগটা চালু ছিল। মাঝে খুব জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে ফোনালাপ এবং ইমেইল আদান প্রদান চলত।

হঠাৎ একদিন ঘরে ফেরার পথে, "চলুন আজ ঐ থাই রেস্টুরেন্টে আপনাকে খাওয়াই।" সিনিয়র হিসেবে সহকর্মীকে খাওয়ানোর প্রস্তাব আমারই আগে দেয়া দরকার ছিল, কিন্তু বিদেশি খাবারের মেন্যুতে "নীতিগত অরুচি" এবং সম্পর্কের মোড়, দূরত্ব পরিবর্তনের "আশংকা" মনের মাঝে খচ খচ করতো। "কফি চলতে পারে, বা কোন ভেজি ডিশ, এর বাইরে কিন্তু নয়।" রেস্তোরায় খাবারের পরিবেশটা "প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের" মত গুরুতর থাকেনা। সেখানো সুযোগ মত ব্যক্তি, পরিবার, ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা চলে আসে।পছন্দ-অপছন্দের মিল অমিল গুলো নিয়ে কথা প্রসঙ্গ চলে আসে। এভাবে বেশ কয়েক মাস যোগাযোগের দূরত্বে স্থিতি থাকার পরে , মিতালির এই শহর ছেড়ে অন্যত্র স্থায়ী হবার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। আমাকে কার্ড দিয়ে জানায় আমার ব্যাপারে তার অব্যক্ত মূল্যায়ণ,

ট্রী কে দেখলে মনে হয় , স্থির , নিশ্চল , ভাবলেশহীন , একটা প্রাণহীন জিনিস , কিন্তু আসলে এর ভিতরেও প্রাণ আছে , অনুভূতি আছে , ব্যথা আছে , আনন্দ আছে , ট্রী ও কষ্ট পায় , আরাম পায় , প্রাণ এর সব সঞ্চার হয় , আপনি এরকম না ?, উপর দিয়ে একটা যন্ত্র , কিন্তু ভিতরে সব অনুভূতিই আছে , তাই , সাঈফ শেরিফ = ট্রী

বিদায় জানানোর সৌজন্য দেখাতে গিয়ে দেখি একটা শূণ্যতাবোধ থেকে কষ্ট হচ্ছে, যেটা আগে বুঝিনি, বুঝবার ইচ্ছা বা চেষ্টা ছিলনা। এমনি হয়। দেশে ফেরার জন্য পাগল লোকটিরও একটা মোহ তৈরি হয় ভিনদেশে এত বছর থাকা শহরটির জন্য। এটিও সেরকম। কোন প্রকার আবদার, আবেদনহীন আবেগ--- একটা মোহাবিষ্টার কাল। কিন্তু সমস্যা হল, আবেগটা অনুভূত হয় একটা কাল অতিবাহনের পরে। তারপর সময়ের দৈর্ঘ্য বাড়লে বেযোগাযোগের হাত ধরে সেই মোহাবিষ্টতার ধোয়াশা কেটে যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29121115 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29121115 2010-03-22 01:12:17
নিভৃতচারী সাদা মনের মানুষ, একান্ত আপন আধাঁরে-২
পি এল শুরু হবার সাথে সাথে নিজে থেকে সমস্ত সমাধান করে ফটোকপি আকারে নিজে গিয়ে হলে হলে ঝুলিয়ে আসতো সে। মাঝে কোন ভুল হলে সেটি হলে হলে গিয়ে শুধরে আসতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরায়ত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার সময়সূচী নিয়ে আবার গোলমাল শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ শাস্তি স্বরূপ পর পর দু'ব্যাচকে একই সাথে একই সময় পাশ করানোর সিদ্ধান্ত নেয় একবার । তীব্র প্রতিবাদ জানায় সিনিয়র ব্যাচের ছাত্ররা, ঘটনাচক্রে সেই বিখ্যাত ছাত্রটি সিনিয়রদের ব্যাচে ছিল। কর্তৃপক্ষ পরে আশ্বস্ত করে এক সাথে পরীক্ষা হলেও জুনিয়রদের ফলাফল ৩ মাস পরে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জঘন্যভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। দু'ব্যাচের ফলাফল এক সাথে প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগীয় সর্বকালের রেকর্ড ভাঙ্গা ছেলেটি কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ, অভিমান বশত বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন ছেড়ে বেরিয়ে আসে একটা বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, "আই উইল নেভার স্টেপ ইন মাই ক্যাম্পাস এগেইন।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহলে আবার শোর গোল শুরু হয়, এতটা দুর্দান্ত ছাত্র কে শিক্ষক হিসেবে হাত ছাড়া করতে তারা রাজি না। তৎকালীন অধ্যাপক জে আর সির সমন্বয়ে এবং জোর উদ্যোগে সেই ছেলেটির জন্য নিয়মের বাইরে আইন করে আলাদা ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন করা হল। ছেলে কিছুতেই ফিরে যাবেনা তার ক্যাম্পাসে। শিক্ষক জে আর সি ও বাবার প্রবল চাপে পড়ে ছেলেটি নির্বিকারভাবে হাজির হয় ইন্টারভিউ বোর্ডে। প্রশ্নের ফাকে কৌতূক করে একজন জিজ্ঞেস করে বসেন, "তুমি ইন্টারভিউতে এত দেরি করলে কেন?"

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপর এতটা শক্তিশালী কিন্তু অপমানজনক আঘাত এর আগে কেউ করেনি। "আমি তো নিজে থেকে আসিনি, আপনারাই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।" ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে সে।

এর পর টেক্সাস অস্টিন থেকে মাস্টার্স ও টেক্সাস এ এন্ড এম থেকে পি এইচডি করে দেশে ফিরে এসে নিজের ক্যাম্পাস থেকে দূরে কোথাও গাধা পিটিয়ে মানুষ করার মহান ব্রত নিয়ে এখনও নিভৃতচারে আছেন। চিরকুমার এ অধ্যাপক এখন ছাত্র পড়িয়ে সুখ খোজেন, ব্যক্তি ধর্ম কর্ম পালন করেন নিষ্ঠার সাথে। বিশ বছর পরেও ক্যাম্পাসে, হলে, দালানে, কোরিডোরে তার নামের ফিসফাস উচ্চারণ শোনা যায়। কুখ্যাত নানা স্যার অবসরে যাবার আগ পর্যন্ত ছাত্রদের কাছে স্মরণ করে গিয়েছেন তার নাম। তার কিংবদন্তী তুল্য ঘটনা গুলো এখনও লোক মুখে চলে।

নাম গোপন রাখা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ করা গেল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29111392 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29111392 2010-03-06 23:14:22
জ্বি ভাই, আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হতভাগা সন্তান
আমাদের গেও গেরামে ঢাকা থেকে কোন ছেলে আসলে মনে হত সাক্ষাৎ অবতার, দেখা মাত্রই নমঃ নমঃ করতাম। একবার বিখ্যাত আইডিয়াল স্কুলের ছেলে আসল, আমরা মুগ্ধ হয়ে স্বর্গ দূত দেখি। ঢাকায় বাবার হোটেলে থেকে যারা আইডিয়াল->নটরডেম->বুয়েট বা গভঃ ল্যাব->ঢাকা কলেজ->বুয়েট হয়েছেন তাদের আমার ভীষণ হিংসা হয়। সেখানে এলাকায় নটরডেমিয়ান এলে দুয়া দুরুদ পড়া শুরু করতাম। সামান্য ক'টা নম্বরের জন্য বোর্ড স্ট্যান্ড হাত ছাড়া হয়ে যাওয়াতে, সবাই পরামর্শ দিল নটরডেমে ভর্তি হবার জন্য। নাম করা হলে কী হবে, প্রাইভেট কলেজ। স্কুলের ব্যাক বেঞ্চার গুলো দেখি বাবার টাকায় দিব্বি গিয়ে নটরডেমে ভর্তি হয়ে, পাশ করে এক এক জন জাদরেল ছাত্র হয়ে উঠল চোখের সামনে। আসলেই ছাত্র পিটিয়ে মানুষ করতে নটরডেমের জুড়ি মেলা ভার।

খ্রিস্টান ছাড়া হোস্টেলে জায়গা হবেনা, রামকৃষ্ণ মিশন শুধু হিন্দুদের জন্য এমন তথ্য পাবার পর দেখি ঢাকা শহরে থাকা, খাওয়া পড়া বাবদ বাবার ৪/৫ হাজার টাকা চলে যাবে। বাবা নেহাৎ ছা পোষা সরকারি চাকুরে, যে মাইনে পেতেন তাতে করে মাসে ২ জন স্যারের কাছে ব্যাচে ৩০০+৩০০=৬০০ টাকা দিয়ে পড়ানোর বেশি সাধ্যে কুলাতোনা। কাজেই নটরডেম বা ঢাকার চিন্তা বাদ।

টাকা ওয়ালাদের একটা বিকল্প চিন্তা থাকে। বুয়েট, ঢাবি, কুয়েট, রুয়েটে কম্পিউটারে চান্স না পেলে, ঢাকার একটা ভাল মানের প্রাইভেটে পছন্দের কম্পিউটার বিভাগে ভর্তি হয়ে যাওয়া। এমনকি দম্ভোক্তি শোনা যায়, "রুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যালে পেয়েও আমি নর্থ সাউথের কম্পিউটারে পড়ছি। " আমাদের সময় আবার কম্পিউটারের নেশাটা এমন পর্যায়ে ছিল বুয়েটে কম্পিউটার না পেলে অন্য যেকোন ভার্সিটি গিযে হলেও কম্পিউটারে ভর্তি হবে। কিন্তু ঢাকার বাইরে কোথাও ভর্তি হওয়া মানে ৫ বছর পিছিয়ে পড়া, খ্যাত হয়ে যাওয়া। ঢাকা কেন্দ্রীক শিক্ষাবাজারের জোশে টাকাওয়ালারা ঢাকার প্রাইভেটে কম্পিউটারে পড়তে লাগল। টাকাওয়ালারা এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারলেও আমাদের মত ছা পোষা কর্মচারীর সন্তানেরা সম মেধা নিয়ে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়, কেউ যায় খুলনার কম্পিউটারে। একে তো পদার্থ বিদ্যায় চাকুরির বাজার নেই, তার উপর সেশন জট, হতাশা , গরীবের জন্য দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্রটা বনবন করে ঘুরতে থাকে।

টাকাওয়ালা শুধু টাকায় সম্পদশালী নয়। মামা চাচাদেরও অবস্থা গতিক ভালই থাকে। কাজেই পাশ করলেই চাকুরি এমন একটা প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রাইভেটে পড়া লেখা করে। ঢাকার প্রাইভেটের ছেলে, ভাল ইংরেজি জানে, গণ যোগাযোগের বিষয় গুলো রপ্ত আছে সেখানে মফস্বলে পড়া খ্যাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে কে পাত্তা দিবে? ঢাকার বাইরে মানে পিছিয়ে পড়া , পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মনে হানাহানি-- এ বোধ বিশ্বাস থেকে দেখা যায় ঢাকার অনেকেই রুয়েটে কম্পিউটারে পেয়েও ঢাকায় থেকে প্রাইভেটে পড়ছে। অন্তত মেয়েদের বলা হচ্ছে এত দূরে গিয়ে কাজ নেই, প্রাইভেটই এখন ভাল, বাসার কাছে থেকে টাকা দিয়ে সময় মত ডিগ্রী শেষ করা যায়।

পাবলিকের উচু ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা পেটের দায়ে পাবলিকের ফরয ক্লাশ নেয়া বাদ দিয়ে প্রাইভেটে শিক্ষাদান করছেন। প্রাইভেটের মান তাই বাড়ছে বৈকি। এখনকার পরিস্থিতি শুনি আরো ভয়াবহ। জিপিএ ৫ না থাকলে নাকি বুয়েটের ফরমই তোলার যোগ্যতা বাতিল করে দেয়া হয়েছে।ছাত্র ভর্তির ব্যাপারে পাবলিকের এত উন্নাসিক ভাব টিকবে তো? ঢাকার মানুষের যত বড় বড় টাকার গাছ আর খরচের ইয়া বড় হাত ----তাতে করে সামনের দিন গুলোতে গরীবের বিনে পয়সার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় কিনা, ভাবনার বিষয়। প্রাইভেটের বেলায় ৪/৫ এর মাঝে একটা কিছু থাকলেই হল, ভর্তির এই উদারীকরণে তাই ছাত্রদের বেশ হিড়িক। জিপিএ ৫ এর হিড়িকের যুগে যারা দুর্ভাগ্য বশত (!!!) জিপিএ ৫ পাননি, তাদের জন্য না হয় প্রাইভেটের দরজা খোলা আছে। কিন্তু গরীবের সন্তানের বাবার পকেটে তো পয়সা নেই, অন্তত সরকারি চাকুরেদের দুর্নীতির হাত যশ না থাকলে প্রাইভেটের উচ্চ বেতন পরিশোধ করা অসম্ভব। আবার গরীবের ছেলের ঘোড়ার রোগ, কম্পিউটারে পড়তে চায়।

জ্বি উপায় তো আছেই। দিনাজপুরের হাজী দানেশ, টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়। বা সম্প্রতি কুমিল্লা, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়। ছা পোষা লোকের সন্তানের মাঝে মাঝে ডাক্তারি পড়ার রোগ ধরে। পাবলিক মেডিক্যাল /ডেন্টালে না পেলেও পাওনিয়ার ,সাপ্পোরো, সিকদার, বাংলাদেশ মেডিক্যাল কমিউনিটি বেইজড আরো কত কী আছে! গরীবের সন্তানকে ১০-২০ লাখ টাকা দিয়ে ডাক্তার বানিয়ে টাকাটা ঠিক মত উঠে আসবে তো বাংলাদেশে? না হলে সিলেটে চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজে ভর্তি করিয়ে দাও কী আর করা! গরু ছাগলের ডাক্তার হয়ে থাকুক।

বাপের পকেটে টাকা থাকলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খুনাখুনি, ছাত্র রাজনীতি, সেশন জটের বিরুদ্ধে কথা বলে জাত নামানো খুব সোজা ----সেই সাথে প্রাইভেটকেও দশ হাত উপরে উঠিয়ে দেয়া যায়, যাতে মাটিতে পা না পড়ে। মাঝে মাঝে ভাবি ছেলেকে নটরডেমে পড়িয়ে সুস্থ মানুষ বানাতে বাবা না হয় ক'টা টাকা বাম হাত দিয়েই উপার্জন করতেন। অথবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়ে খুব বুঝদার, জানে ওয়ালা কর্পোরেট গ্রাজুয়েট বানাতেন মুড়ি মুড়কির মত বৈধ পথেই টাকা আসতো। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি, খুনাখুনি , সেশন জটের অভিযোগ-অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেতাম। অন্তত ভাইভা বোর্ডে গিয়ে দেখতে হতনা স্কুলের পুরনো সহপাঠী প্রাইভেট থেকে খুব দ্রুত পাশ করে এখন আমার বস, আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, খ্যাত মফস্বলের পিছিয়ে পড়া ছেলেটিকে চটকে দিচ্ছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুটো কথা শুনিয়ে দিয়ে।

কী যে পাপ করেছিলাম গরীবে ঘরে জন্মে আর পাবলিকের অভিশপ্ত শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষা নিয়ে। প্রাইভেট ওলারা আজ সুযোগ বুঝে আমায় মূর্খ, মানসিক রোগী ডাকে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29100002 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29100002 2010-02-17 23:54:34
আসুন মা, মাটি, মানুষের জন্য এক মুহূর্ত প্রার্থনা করি
সত্যিই তো স্রষ্টা খুব নিষ্ঠুর। দেবতুল্য শিশু জন্মদানে তার কোন ভূমিকা নেই। তিনি আছে শুধু মানুষ বধের নেশায়। ভূমিকম্প আর ঘূর্ণিঝড়ের মত দুর্যোগ গুলো স্রষ্টা বেছে বেছে দাস অধ্যুষিত হেইতি বা হতভাগা বাংলার মাটিতেই ঘটান। হয়ত পুরনো কোন পাপ যেটা প্রকৃতিও সহ্য করেনি, দুর্যোগ দানো হয়ে ছিন্ন ভিন্ন করেছে গরীবের ঘর। বঞ্চিত, ছিন্নমূল, অভুক্ত মানুষের আবার কী পাপ, স্রষ্টাই ভাল বলতে পারবেন।

অথবা ইজরায়েলি হায়েনারা শিশুদের সামনে মানুষ হত্যার মহড়া দেখায়, হয়তবা ঝোকের বশে শিশুও হত্যা করে। আমারদের অসহায় বিবেক অদৃশ্য স্রষ্টাকে হাতড়ে খোজে, কল্পিত স্রষ্টার নিরাবতায় আমাদের অবিশ্বাসের চোয়াল অভিমানে, দুঃখে, ক্ষোভে শক্ত হয়ে আসে। অথবা কোন ব্যাভিচারিনীর পাপের ফসল সদ্য ভূমিষ্ঠ পরিত্যক্ত শিশুটিকে কাক ঠোকরে খায়।

আমরা স্রষ্টার অবিচার দেখি, খুব চাক্ষুস। কিন্তু দেখিনা কীভাবে লক্ষ কোটি নেফ্রন সুস্থ থেকে অলৌকিক দৈব শক্তিতে বাঁচিয়ে রেখেছে, দেখিনা কীভাবে যুগের পর যুগ ফুসফুসকে কার্বন করে ধূমপান করে যাবার পরেও মুক্ত বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছি, বিজ্ঞান বিশ্বাসী স্টিফেন হকিং দেখেননি ডাক্তার সেই ২৫ শে তার মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে দিলেও তিনি ৫০ এর পরেও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন শুধু তার অসাধারণ কীর্তি দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করতে। আমরা দেখিনা বিষাক্ত বর্জ্য-বাতাসে মরণ ব্যাধি কর্কট রোগের প্রবল ঝুকি নিয়ে বছরের পর বছর বেঁচে আছি, ঘর বাধছি, স্বপ্ন দেখছি।

এমন ঘর বাধার স্বপ্ন হয়তো আবু বকরেরও ছিল, অভাব-অনটনের রাক্ষসের সামনে দাড়িয়ে হলেও প্রকৃতির নিয়মে হয়তো সে কাউকে ভালবাসার স্বপ্ন দেখতো। কোন পারলৌকিক পুরস্কারের বিনিময়ে স্রষ্টা তাকে অকালে তুলে নিয়েছেন। নিষ্ঠুর নিয়তির পক্ষে এর চেয়ে ভাল সান্তনা-সাফাই গাওয়া যায়না। এক কোটি মমতা মাখা শিশুর মাঝে হঠাৎ একজনকে স্রষ্টা তুলে নিয়ে যান তার দেবালয়ে। প্রগতিশীল মানুষ ঘৃণা-অবজ্ঞা ভরে যে "নিয়তিকে" ফেলে দিয়েছিল সেটিই আবার জাপটে ধরে মানুষকে, শূণ্য করে বাবা-মার কোল।

একজন অদৃশ্য নিষ্ঠুর স্রষ্টার কাছে আমরা কতটা অসহায়, আমাদের আর্তনাদ হয়তবা বহু বছর পরে তার কাছে পৌছে, শাস্তি পায় পরবর্তী প্রজন্ম, অন্য কোন জনপদ। এতটা অদৃশ্য দানবীয় শক্তির সামনে দম্ভ করে, হুংকার দিয়ে, আকাশের দিকে ঘেন্নার থুথু ছিটিয়ে কতটুকু লড়া যায়? সে কোন নিয়তি নিয়ন্তা হোক, হোক অদৃশ্য স্রষ্টা বা হোক প্রকৃতির কোন দৈব দুর্ঘটনা, মানুষ হয়ে আমাদের প্রার্থনা করাতে কোন বাধা নেই। অদৃশ্য তুমি যেই থাকো আমাদের পাপ ক্ষমা করো, নিজেদের পাপ দেখে ভুল শোধরাবার যোগ্যতা দাও, মরণব্যাধির অভিশাপ থেকে বাঁচাও, আকস্মিক মৃত্যু-দুর্ঘটনার শোক ও ধাক্কা সইবার ক্ষমতা দাও।

আমরা আজ ভীষণ নতজানু, নিরুপায় ও নিরুদ্দেশ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29091150 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29091150 2010-02-04 12:20:04
বিলম্বিত প্রহরে কিছু ঘুম ছোটা প্রশ্ন
কিংবা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া কোন এক দৃশ্যের পর চূড়ান্তভাবে প্রস্তরীভূত হয়ে যায় মন। মার সাথে রিক্সায় করে ঈদের শপিং করে ফিরছিল। পথিমধ্যে চলন্ত মটর সাইকেলে ছিনতাইকারী মায়ের হাতের ব্যাগ ধরে টান দিয়ে চলে যায়। পিচ ঢালা রাস্তায় ছিটকে পড়ে মা। মাথায় ভীষণ আঘাতের নিয়ে আই সি ইউতে কিছুদিন কাটানোর পরে ঠিক ঈদের দিন সকালে মারা যায় মা টি।

মাঝে মাঝে মনে পড়ে বাবার কথা, ফোনে কথা হয়না বহুদিন। হ্যা কেমন আছো? ভাল আছি বলার পর আর কিছু বলার থাকেনা। প্রচন্ড পরিশ্র্রমী বাবার ভীষণ কার্পণ্য ও অসামাজিকতা আমাকে আর দশজনের সামনে বিব্রত করতো ভীষণ। বাবার টাকা পয়সা আর উপার্জনের খোটা দেয়াটা সে সময় ভয়ংকর শোনাতো, বাপের হোটেলে বসে বাপের অন্ন ধ্বংস করছি এমন একটা অপরাধবোধ গ্রাস করতো সব সময়। তাই, বাবার সামনে কখনও খেতে বসতাম না। পঞ্চম ও অষ্টম দুটোতেই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া বাবদ সব টাকা মার হাতে তুলে দিতাম। মার ছিড়ে যাওয়া পুরনো শাড়ির আচলে রান্নার ঝোল লেগে থাকত প্রায়শই, ওটা দিয়েই চোখ মুছতেন। ঈদের নামায পড়ে এসেই লেখক বাবা ব্যস্ত হয়ে পড়তেন সাদা কাগজে কলম পিষার কাজে , বাসায় কোন মেহমান আসতোনা। এ বয়সে বাবা কাগজ কলম নিয়ে পড়ে আছেন, আমাদের মত ছাত্রদের কি করা উচিৎ? উপার্জনরত পরিশ্রমী বাবার সামনে আনন্দ করে বেড়ানো তো অসভ্যতা হয়ে যায়।

মন খারাপ কাটাতে মাঝে মাঝে রেল লাইনের ধারে একা একা হটাতে চলে যেতাম, বাসায় ফিরলেই বাবার প্রশ্ন, "কোথায় গিয়েছিলি? নিজে ইনকাম করবি, নিজের পয়সায় নিজের মত চলবি।" বাপের অন্ন হালাল করতে নিজেকে অনুভূতি শূণ্য যান্ত্রিক পশু বানিয়ে ফেলি। সেই বাপ এখন তার মানসিক রোগী, অসামাজিক জীব ছেলেটিকে নিয়ে গর্ব করে, যাক ছেলেটা আমার মতই পরিশ্রমী হয়েছে। আমি আমার সমস্ত বন্ধু সঙ্গ, শৈশব-কৈশোরের খেলার মুহূর্ত গুলো , কিংবা পরীক্ষা শেষে ঈদ আনন্দ গুলোর বিনিময়ে এখন বাপের দোয়া পাই, বাবা আমাকে স্মরণ করেন। সেই দোয়ার জোরে হয়ত আমি আজ তার কথা মত নিজের কামাই করে নিজেরটা খাই। কিন্তু বাবার বাড়িতে গিয়ে বাবার সামনে বসে সেই পুরনো অপ্রস্তুত, বিব্রত সন্তান কী বাপের অসামাজিকতার মূল্যে কেনা ভাত গুলো খেতে পারবে, বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিকভাবে চারটা কথা বলতে পারবে? বাপের টাকা, সম্পত্তিকে অন্যের মনে করে সেদিকে কোন লোভ বা অধিকারের আশা রাখিনা, এ অনুভূতির অর্জনটাই বা গর্ব ভরে ক'জন বলতে পারে?

বাস্তবতা জ্ঞান শূণ্য হবার কারণে জানিনা অন্যের বাবারা কেমন, হয়ত কম বেশি আমার বাবার মতই। বাবাদের হয়ত এমন হওয়াটাই বেশি মানায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29088549 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29088549 2010-01-30 21:14:35
সংসার ধর্ম
প্রবল ব্যস্ততার টোপে পড়ে মার্কিন প্রবাসী এক মেয়েকেই বিয়ে করেন ৩৫ বছর বয়সে, ধনাঢ্য বাবা মার এক মাত্র সন্তান মেয়েটি। ধর্ম মতে গুণে গুণে ৫০ হাজার ডলার দেন মোহর পরিশোধ করে বিয়ে করেন। প্রথম পরিচয় পর্বটা ছিল চমকপ্রদ। ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় পর্ব শেষে কফির আধ খাওয়া মগটি ফেলে একটু তফাতে গিয়েছিলেন আরিফ। ফিরে এসে দেখেন কফির মগ শূণ্য । খানিকটা বিচলিত হয়ে আশে পাশে তাকাতেই দেখেন মেয়েটি সলজ্জ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

বিয়ের এক বছরের মাথায় খুলে যায় ভাল লাগার স্বার্থপর মুখোশ। শপিং পাগল মেয়েটি এটা সেটা যখন তখন কিনে খানিকটা ঋণগ্রস্থ করে ফেলে আরিফকে। এরি মাঝে তাদের একটি সন্তান হয়। দুগ্ধ পোষ্য শিশুকে ফেলে রেখে আবার সেই শপিং, বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা-পার্টি। আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের চাপ সামলে পরম মমতায় লালন পালন করেছে তার শিশু সন্তানটিকে। ঘটনা চক্রে একদিন বেড়ে ওঠা সন্তানটি তার মাকে ধূমপান করতে দেখে বাবাকে বলে দেয়। আরিফ তার স্ত্রীর কাছে কৈফিয়ত চাইলে সন্তানের সামনে স্বামীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করে। জন্মদাত্রীর অলৌকিক অনাগ্রহের কারণে সন্তানকে নিজের কাছেই আগলে রাখতেন আরিফ । মাঝে আরিফের বাবা মারা গেলে স্ত্রী তার শ্বশুরের অন্ত্যষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর কোর্স করার জন্য ভর্তি হয়, স্বামী হিসেবে আরিফ সমস্ত খরচ দিয়ে গিয়েছে, যদিও বহু বছর যাবত তারা একই ছাদের নিচে কিন্তু আলাদা ঘরে বসবাস করে।

পশ্চিমে মানুষের বিয়ে ভীতির শেকড় সন্ধান করতে গেলে থমকে যেতে হয়। সম্পদশালী ছেলেকে বিয়ে করার জন্য মেয়েরা ঘুর ঘুর করতে থাকে। বিশ্বাস ও ভালবাসার টোপে ফেলে বিয়ে করে ঠিক এক বছরের মাথায় একটি ঘটনা ঘটিয়ে ডিভোর্স চেয়ে বসে। ডিভোর্সের সাথে সাথে স্বামীর সঞ্চিত-অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি অর্ধেক তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর আইনত অধিকারে চলে যায়। এমন কি সন্তানের উপর পুরো অধিকার পায় মা। সে সম্পত্তি নিয়ে নতুন পুরুষ শিকারে নামে মেয়েরা। সংসার ধর্মে বিশ্বাসী পুরুষ প্রতারিত হয়ে স্ত্রী, ভালবাসা, সন্তান, সম্পত্তি সবই হারায় । পোষা কুকুর-বিড়ালের সাথে সখ্যতা গড়ে মরার আগ পর্যন্ত।

আরিফের শ্বশুর তার মেয়েকে সমস্ত ইন্ধন জুগিয়েছে ডিভোর্স চাইতে। আদালতে শুনানি চলছে। মেয়েটি ডিভোর্সের সাথে সাথে পেয়ে যেতে চাচ্ছে আরিফের দুটি বাড়ির একটির মালিকানা ও তাদের একমাত্র সন্তানটি। সুদীর্ঘ ৫ বছর ধরে একই ছাদের নিচে থেকে কেউ কারো মুখ দেখেনা, আরিফ তবুও নির্বিকারভাবে স্ত্রীর খোর পোশ দিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি আরিফের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর করা মামলা-শুনানি বাবদ সমস্ত খরচ আরিফ নিজেই বহন করছে। নিজের টাকায় নিজের বিরুদ্ধে মামলার মত বিরল বিষয় জানা নেই। সেই দিনের চুরি করে কফি খাওয়া সলজ্জ মেয়েটির সাথে আরিফ আজকের রক্ত চোখের আগ্রাসী মার-উন্মুখ স্ত্রী টিকে ঠিক মেলাতে পারেনা। দুঃসহ যন্ত্রণা, আতঙ্ক নিয়ে শত্রুর সাথে বছরের পর বছর বসবাস করে যাচ্ছে আরিফ, সংসার ধর্ম টিকিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে , শুনে যাচ্ছে স্ত্রীর একের পর এক কুৎসিত-মিথ্যে অভিযোগ গুলো। আদালতে প্রাথমিক রায়ে আরিফ নির্দোষ প্রমাণিত হবার পর স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়জনের সাথে ফোনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল সে।

আরিফ এখন ভীষণ ঋণগ্রস্থ, মামলার টাকা জোগাতে একটা বাড়িও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ৫০ এ পা দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধণ্য গবেষক- শিক্ষক তার মাত্র ১৫ বছরের সংসার ধর্মের অভিশাপ টেনে চলেছে। এ ধর্ম পালন তাকে কিছু দেয়নি বরং লুটে নিয়ে ভালবাসার অনুভূতি গুলো, এতকালের পরম যত্নে আগলে বড় করা সন্তানের মুখ গুলো, হয়ত তার জীবনের তুচ্ছ অর্জন ধন-সম্পত্তি গুলোও।

আরিফ এখন স্রষ্টার কাছে বিচার চায়, ফোনে তার কান্না ভেজা কন্ঠ শব্দ শূণ্য হয়ে থাকে বহু ক্ষণ । আসন্ন বার্ধক্য, পর্বত প্রমাণ ঋণের বোঝা আর তেড়ে আসা নিঃসঙ্গ দিন যাপনের দুঃস্বপ্ন নিয়ে তার ভাববার সময় কোথায়? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29083865 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29083865 2010-01-23 00:12:28
আহ! কতদিন বাড়ি যাবার জন্য ব্যাগ গোছাই না
বছর ঘুরে সেই পুরনো ল্যাবে পড়ে থেকে যন্ত্রগণক আর কল কব্জা নাড়তে থাকি, বাইরে তুষারপাত হয়। ল্যাবের শেষ ছেলেটিও হ্যাপি হলিডেইজ বলে বিদায় নিয়ে ল্যাব শূণ্য, নিস্তব্দ করে চলে যায়। কেউ কেউ বান্ধবীকে বাহুবন্দী করে বহু দূর অভিসারে চলে যায়। জনাথনের চোখেমুখে বাড়ি যাবার আনন্দ ঝিলিক দেখে দীর্ঘ শ্বাস চাপা হিংসার অনুভূতি হয়। ঈদের ছুটি এলেই সেই রাত জেগে ব্যাগ গোছানো, খুব ভোরে ওঠে হলের বেডিং গুটিয়ে ব্যাগ কাধে বেরিয়ে পড়া। ল্যাব থেকে বেরিয়ে যাবার প্রাক্কালে জনাথন বলল,

-ডোন্ট ইউ শেয়ার গিফটস ইন ক্রিসমাস?
-নট রিয়েলি, আই ডোন্ট নো হোয়েদার ইট হ্যাজ এনি থিং টু ডু উইথ রিলিজিয়ন...
-এনিওয়ান ক্যান গিফট ইন ক্রিসমাস.....
-ওয়েল, মেই বি আই হ্যাভ নো ওয়ান হেয়ার টু শেয়ার ক্রিসমাস গিফট, পসেব্লি ব্যাক এট মাই হউম কান্ট্রি আই ক্যান মেইক ইট। <img src=" style="border:0;" />

জনাথন ভুলেও কখনও প্রশ্ন করেনি আমি কোন দেশ থেকে এসেছি, সে ধরেই নেয় আমি ভারতীয়। আমাকে শুধাল, ক্রিসমাসের প্ল্যান কি, থার্টি ফাস্র্ট নাইটের আতশবাজী দেখতে যাব কিনা? ভিতরের বিমর্ষতাকে খুব করে গোপন করে হেসে বললাম,
-আই এ্যাম নট গোইং এনিহোয়ার, আই উইল বি হেয়ার। আই এ্যাম স্পেন্ডিং মোর টাইম ইন মাই প্রোজেক্ট টু লিভ ফর মাই কান্ট্রি আর্লি।

জানি দেশে ফিরলে আমার প্রবাস জীবনের মুহূর্তগুলো ঘোর লাগা স্বপ্নের মত মনে হবে, হয়ত রিক্সায় চড়লে সহসাই কোন ছিনতাইকারীর হাতে ঘড়ি, ওয়ালটে, সেল ফোন হারাবো, কিংবা দূর পাল্লার কোন বাস উল্টিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ব, দিনভর ভিক্ষাবৃত্তি শেষে রাতে গরমে ঘরে ফিরে লোড শেডিং এর কারণে কলে পানি আসার অপেক্ষা করব, হোটেলের টাউফয়েড, জন্ডিসের জীবাণু মাখানো ডাল-ভাত খেয়ে জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকবো, হয়তবা বমিও করব।

জনাথন খানিকটা অবাক হয়।

-আই আন্ডার স্ট্যান্ড ইয়োর পয়েন্ট, বাট ইউ ক্যান সেল ইউর ডিগ্রি হেয়ার এজ ওয়েল এন্ড হ্যাভ ফার বেটার চান্স টু লিভ এন্ড আর্ন।

-জনাথন, হাউ ডু ইউ ফিল হোয়েন এ পেইনফুল সেমিস্টার এন্ডস উইথ এ ক্রিসমাস ব্রেইক এন্ড মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি হোয়েন ইউ গেট এ গ্রেইট টাইম এন্ড চান্স টু মিট ইয়োর ফ্যামিলি?


জনাথন আর কথা না বাড়িয়ে হাসি মুখ দেখিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে যায়। আমি বাইরে ক্রিসমাস বেলের শব্দ পাই, ক্রিসমাস ট্রির আলোকসজ্জা দেখি রাস্তায় একলা হেটে হেটে, আরেকটি নববর্ষের আতশবাজীর অপেক্ষায় থাকি। ওরা সবাই তাদের ঈদে বাড়িমুখো হয় প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে, আমি আমার পুরনো মেসে একলা বেওয়ারিশ জীবের মত পড়ে থাকি। গুনগুন করে ঘরে ফেরার গান গাইতে গিয়ে কষ্টে চোখ মুখ শক্ত হয়ে আসে।

সত্যিকার অর্থে সেই গান গাইবার দুর্লভ, বিস্মৃতপ্রায় মুহূর্তটির জন্য এভাবে অনিশ্চিত, অনন্ত প্রহর অপেক্ষায় থাকতে হবে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29063467 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29063467 2009-12-22 07:19:34
আমার পাউরুটি কলার ছোট্ট টং দোকান
কী সূত্র ধরে আদর্শের মাপ জোক করে আমি বুঝিনা। ধুর, মেয়েরা কী কখনও প্রস্তাব দেয় নাকি, তুই না বেটা ছেলে, কী করলি জীবনে , কায়দা করে বলে দেখ আমরা পিছে আছি। তার ঠিক এক বছর আগে জামিলের কথা মনে আছে, কাঁদতে কাঁদতে হলের জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলছিল তার পছন্দের কলমদানি, বই, গ্লাস, মগ। বিপরীত লিঙ্গের অসম্মতির কথা জেনে মানসিক ভারসাম্য হারানো মানুষ, আহ্। আমার ঘর কোন দিন পুড়েনি, পোড়ার সুযোগ দিইনি, কিন্তু পাশের গোয়ালের গরুকে পুড়তে দেখে এখন সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ডর করে।

চাকুরি করি, নিজের মত চলি খাই, দাই, হাটাহাটি করি, কী দরকার এসব ঝামেলায় জড়ানোর। সাঈফও শেষ মেষ ওর কাছে ছ্যাকা খেল, পুরো পাড়ায় ছড়িয়ে গেল গপ্পো, এভাবে তো সমাজে টেকা মুস্কিল। ওর প্রত্যাখ্যানের তালিকাটা যেমন দীর্ঘ, তেমনি আলোচিত। সেখানে আমার মত ছাই পাশ ছেলে, তোরা সব নিজের চরকায় তেল দে তো! কয়েকজন মিলে আবার বাজির টাকাও তুলে ফেলল, বি এ ম্যান! তুই হারলেও ক্ষতি নেই, তোর সামাজিক সম্মানহানি আমরা এই বাজির টাকা দিয়ে পুষিয়ে দিব। তুই খালি আমাদের আত্মবিশ্বাসের মর্যাদা রাখ। বার বার কানের কাছে একজনের নাম শুনলে খানিকটা দুর্বল হওয়া স্বাভাবিক।কেউ একজন চেচিয়ে উঠল, শী ইজ ওয়েটিং ফর ইয়োর সিগন্যাল ম্যান, জাস্ট মেইক ইয়োর এপ্রোচ ইউ কাউয়ার্ড!

সুন্দরী, শিল্প-সাহিত্য কলায় অন্যন্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে সামনের সারিতে, বিয়ের বাজারে তো তার মেলা দর। নিজের বেতনের টাকায় নিজের পেট চলেনা, সংসার ধর্মের অঞ্জলি কেনার টাকা কই? সে কি পারবে আমার সাথে বসে আমার ছোট্ট টং দোকানে শুকনো পাউরুটি চায়ে ভিজিয়ে নাস্তা করতে, প্রতি ঈদে সস্তা জর্জেট শাড়ি পরে আত্ম সম্মান নিয়ে মাথা উচু করে সমাজে বাস করতে, সে কি পারবে কোন শীতের সকালে শাল গায়ে গ্রামের কোন কর্দমাক্ত গলিতে বসে অনাথ শিশুদের বর্ণমালা শিখাতে, শুধু মাত্র মৌলিক অধিকার গুলো নিয়ে সঙ্গীকে ভালবেসে সুখী হতে ? বোহেমিয়ানরা বন্ধুর মত এক সাথে থাকবে, একে অপরকে ভালবাসবে, সমাজ-লোকাচারের রঙ ঢঙ তাদের টানবেনা, ভদ্রলোক সাজার মত ভন্ডামি থাকবেনা।

উত্তর গুলোর আন্দাজ ছিল বলেই অতি উৎসাহী বন্ধুদের ভিড় ঠেলে একলা পায়ে হেটে আমার টং দোকানে ফিরে যাই। দাগ পড়ে যাওয়া সেই পুরনো নোংরা চায়ের কাপে চুমুক দিই, গুটি শুটি হয়ে শীতের সকালে রোদের অপেক্ষা করতে থাকি, আড্ডা দিই ঘাম বেচে খাওয়া মানুষ গুলো সাথে। মাস খানেক বাদেই বন্ধুদের হাত ঘুরে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হবার নিমন্ত্রণ পত্র আসে। সামাজিক মানুষের ভীড়ে একটা অসুস্থ অসামাজিক জীব নব বধূকে দেখে হাসি মুখে জানতে চাইছে তার অনুভূতির কথা,

-কেমন লাগছে?

আমার কুৎসিত মুখের উপর একবার চোখ পড়তেই সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। সেই ঘুরিয়ে নেয়া সুন্দর মুখের মাঝে অস্বস্তি জনিত অবজ্ঞা বা আমার সুযোগ হারানোর দায়ে অভিমানের ছাপ ছিল কিনা আর দেখা হয়ে উঠলনা। কিন্তু খুবই অন্যায় ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে কত গুলো গানের কথা কানে বাজতে থাকল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29056407 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29056407 2009-12-10 05:59:32
ইংরেজি ভাষা শেখার যন্ত্রণা ও ঝক্কি!-২ ইংরেজির তালিম দেয়া, এ পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। ১২ বছরে শেখা ইংরেজির সাথে সাইফুরস, জি আরই , টোফেল মিলিয়ে বঙ্গ সন্তান যখন ইংরেজদের দেশে যায়, তখনও ইংরেজি ভাষাটা আবার নতুন করে রপ্ত করা লাগে, এখানে ঐ জাতের যন্ত্রণাকর অভিজ্ঞতা দেয়া হল।]

পাগলের ইংরেজি ম্যাড ম্যান খুব আরামেই বলি। চলনসই ইংরেজি হল Crazy Guy । Appreciate শব্দটির অর্থ অনেকদিন পর্যন্ত জানতাম প্রশংসা করা, আসলে এটার প্রকৃত অর্থ কৃতজ্ঞতা জানানো। আজ থেকে বিশ বছর বাদে....Twenty years down the road... এ ধরনের ইংরেজি দেশের কোথাও শিখানো হয়না বলেই জানি। পর নিন্দা করার ইংরেজি speaking ill of others জানতাম, সেটা এখন backbiting জানি। শুধু বান্ধবীর সাথে ডেটিং এ যাওয়াটা হ্যাঙ্গ আউট জানতাম। এরা দেখি আতেল ছেলে ঘন ঘন ঐমুক প্রফের অফিসে Hang out করে বলে বাণী দিল!

কথায় কথায় sooner than later বা better late than never চল বেশি। কথায় কথায় screwed up, pissed off, messed up, he came up with whole bunch of ideas, but none of those really made sense (অর্থহীন)। গোটা কয়েক বুঝাতে bunch of, গুটি কতক লাইন বুঝাতে take those chunk of lines or code out of your article ..এ ধরনের চলন সই কিন্তু প্রায় নিয়ম না মানা ইংরেজি দেশে মনে হয়না চর্চা হয়। টাকার ব্যাগকে মানি ব্যাগ বলে জানি, কিন্তু ওটাকে wallet ছাড়া কেউ মানি ব্যাগ বলেনা।যেকোন ধরনের ট্যাবলেটকে pill বলে, চেইন শপের ট্রলি গুলোকে cart বলে।

কোন কিছু সমাধান, ঠিক করা, সারানোর ব্যাপারে try to fix this, ঘেটে ঘুটে কিছু বের করা, হিসবে কষে দেখা বলতে try to figure it out। sounds good, does it make sense to all of you, One way or other the solution should converge to...ভিত্তিহীন বুঝাতে baseless, pointless শব্দ দুটোর ব্যবহার প্রচুর। যৌক্তিক বুঝাতে rational। কাউকে কোন কিছু ব্যাখ্যা করার পর double check করতে বলে, Do you know what I mean?

কারো দরজা দিয়ে ভিতরে ঢোকার ইংরেজি সেদিন এক মহিলা বলল, Would you mind if someone pops inside, when you are not in? ঐমুক রাস্তা ধরে এগাও, Cut that road until you reach a sign board ..! If you have time after lunch, could you please drop by my office ?(আমার অফিসে একটু ঘুরে যেতে পারবে?)।

স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক শিখিয়ে ছিলেন, আমি ট্রেন ধরবোর ইংরেজি। I shall avail myself of the train। এখানে এসব কিছু আতলামি নাই। Take or catch the bus or train বললেই যথেষ্ট। আবার পরে দেখা হবে, See you around , আমি পথে আছি, I am on my way ...home/office (আসতেছি), তুমি কেন এসেছ এখানে (What Brings you here?), হাসছ কেন (what makes you laugh!) একটু বাকা ধরনের চলনসই ইংরেজি। Is there any way I can help you? চুল কাটানোর ইংরেজি to get a hair cut জানতাম না আগে। He is taking courses (পড়ছে), He is teaching courses(পড়াচ্ছে)। প্রথম প্রথম প্রশ্ন করত, what are you taking? (কোন বিষয় নিয়ে পড়ছ!)। You know the one who has black hair in the class?

জিআর ই তে ব্যবহৃত শব্দ গুলো ধরলে ওরাই হা করে থাকে অনেক সময়। জনাথন নামের একজন সেদিন আমাকে শুধায়, পারপেচুয়াল মানে কি! আমি অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, May I have attention of our guest, please!। However মত সাধারণ শব্দ থাকতে অনেকে ব্রিটিশ আতলামি করে নেভা(র)দিলেস ব্যবহার করে। Pain in the ass (পথের কাটা, যন্ত্রণাকর ব্যক্তি বুঝাতে), He is picky (খুতখুতে), Approachable (যার কাছে সহজে যাওয়া যায়), She is uncomplicated (সহজ-সরল মেয়ে), This is a Rajshai bound train , Destination Irshordi Station , Please take all your belonging before leaving the train!

I dont have any spare change (খুচরা), I have spare coins(খুচরা পয়সা), Please keep the change (ওয়েটার আপনার বিল নিবার পর যে ভাঙ্গতি টাকা ফেরত দেয় সেটি আপনি টিপস হিসেবে দিলেন!), হোটেল দোকানের ক্যাশিয়ার যেখানে বসে থাকে ওটাকে টিল বলে। এই মামা এদিকে আসেন, কী কী আছে কন! (Excuse me there! What do you suggest for dinner tonight ? .....Some hot spicy chicken, you would love it, but that would cost extra five dollars. ). Sounds fair, So far so good, I will go for it then। পা মচকানোর ইংরেজি sprain জাতীয় কিছু জানতাম, সেদিন শুনি I twisted my leg।কথায় কথায় perfect, thats great, cool, awesome, take care, crazy , you must be kidding me তো আছেই। কোন কিছু নষ্ট হয়ে যাওয়ার ইংরেজি এতকাল damaged, out of order শিখে আসলাম, এখন শুনি ওরা বলে This device is broken, 30% of them broke down before the warranty expired ।


I asked Saif to meet me in person but he never showed up. May be too shy to hook up with the crowd.

(আর চালানোর ইচ্ছা নাই)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29048166 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29048166 2009-11-23 01:24:54
ইংরেজি ভাষা শেখার যন্ত্রণা ও ঝক্কি!
কোন স্কটিশকে যদি বলেন, "টিয়ার্স" (চোখের পানি), সে শুনবে "ডিয়ারস" (হরিণ)। তাকে বলতে হবে , "ঠিয়ার্স"। ব্রিটিশরা দুপ দাপ ট্যাগ কোয়েশ্চেন ব্যবহার করে, আমেরিকানদের প্রায় ভুলেও ব্যবহার করতে দেখা যায়না। লিভারপুলে শুনতাম, "লেটস প্লেই সুগা (র) বোল, শ্যাল উই!", "ব্রিং মি এ ক্যাব, উইল ইউ!", "ইটস কোয়াইট কোল্ড আউট হেয়ার, ইঝেন্ট ইট!" আপনি ব্রিটিশদের মত "র" উহ্য রেখে আমেরিকায় ভাব ফলাতে নিলেন তো মরেছেন। আমেরিকানরা ধুম করে আপনার শব্দের উচ্চারণ শুনে বলবে, "হাউ ডু ইউ স্পেল দ্যাট!" এখন তাকে বানান করে শব্দটি আবার শুনিয়ে দিন। গুড হ্যাভেন্স শব্দটি ব্রিটিশদের বাইরে শোনা যায়না। আমেরিকানদের ইংরেজি অনেক ভোতা, ব্রিটিশদের অনেক ধারাল!

আমেরিকানরা কাপল অফ আদার থিঙ্কস টু ডিসাইড..., টেকিং দ্যা এডভানটেজ অফ দি ফ্যাক্ট দ্যাট.., "আই ওয়াজ ওয়ান্ডারিং..হোয়েদার ইউ ক্যান ডু মি এ ফেভার .."....আই উইল ক্যাচ ইউ আপ দেয়ার..."গেট" আর "মেক" শব্দ দুটো দিয়ে অসংখ্য বাক্য ও ভাব প্রকাশ করতে পারে। সেদিন এক পোলা বলল, "ইফ আই এ্যাম আন্ডার দি ওয়েদার..." (যদি আমি অসুস্থ্য বোধ করি....), বুঝেন ঠেলা! ফোন রেখে দেয়ার ইংরেজি যে হ্যাঙ্গ আপ, সেটা দেশে থাকতেই জানতাম। ব্রিটিশরা আবার ফেইভা (র), ঠেইকিং, ফুউউড (ফুড) ...শব্দের শেষের 'র' বাদ দিয়ে একটা টানা "ই" বা "ও" দিয়ে উচ্চারণ করে।

ব্রিটিশ এক পোলার মুখে প্রথম ব্রাদার শব্দটি শুনে হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। স্পষ্ট শুনলাম প্রভা বলল! আমাদের দেশের অনেক ইংরেজি শিক্ষককে শুনেছি, টাইনি শব্দটাকে টিনি উচ্চারণ করছেন। আইটারেশন শব্দটা বাঙালি ছাড়া কারো মুখে কোখাও শুনলাম না, সবাই একটা ইটারেইশন লিখে ও পড়ে। চায়নিজদের ইংরেজি ভয়াবহ। থ্যাঙ্ক ইউকে স্যাংক ইউ , ওয়ান হয়ে যায় ওয়াং....এল, টি, ডি, টিএইচ ওয়ালা শব্দ একদম উচ্চারণ করতে পারেনা। আরব আর ইউরোপীয়ান গুলো ডোন্টকে দোন্ত, ট্রাইকে ত্রাই বলে। ভারতীয়রা আরো কড়কড়ে ধরনে ইংরেজি বলে, যেন মুখ বুট নিয়ে চিবাচ্ছে। র এর জায়গায় মোটা করে ড়!

বাংলা ভাষার বর্ণমালা সমৃদ্ধ দেখে যে কোন ভাষার সঠিক উচ্চারণ ভঙ্গি রপ্ত করতে আমাদের তেমন বেগ পেতে হয়না।

(হয়তো বা চলবে)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29047052 http://www.somewhereinblog.net/blog/blood_fuelledblog/29047052 2009-11-21 02:07:30