সবাক বলেছেন :
যে যে কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা অনৈতিক ।। সিরিয়াস আলোচনামূলক পোস্ট
১১ ই জুলাই, ২০১০ রাত ৮:২৩
যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার নিন্দা জানিয়ে পোস্ট শুরু করলাম। প্রথমেই বলি আমি বর্তমানে বিশ্বাসী। অতীতকে মনে রাখি না, কারণ অতীততো অতীতই। সে আমার কেউ না। বর্তমান আমার সাথে থাকে, সে আমার সাথী, জীবনের রুকন। আমি বর্তমানকেই ভালোবাসি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে আমার অবস্থান। এর পেছনে অবশ্যই যুক্তি আছে এবং তা বরাবরই শক্তিশালী। নিম্নে কারণগুলো উল্লেখ করলাম :
সামাজিক কারণ :
==>> বাংলাদেশে মোট সংখ্যার একটি বৃহত অংশ মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের বেশভুষা অনেকটা যুদ্ধাপরাধীদের মতো। এমনিতেই দেশের মেয়েরা মাদ্রাসায় শিক্ষিতদের বিয়ে করতে রাজি হয় না, তার উপর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর বরাবরই এ গেটআপের মানুষদের প্রতি অনাস্থার পরিমান আরো বাড়বে। কারণ দেশের বেশিরভাগ মাদ্রাসা ছাত্র এবং শিক্ষক ইসলামী রাজনীতির সাথে জড়িত। এখানে অবশ্যই মানবিকতা জড়িত।
==>> যেসব মানুষ ধর্মকর্ম করে না, কিন্তু যারা পুত্র সন্তান জন্ম নেয়ার পর আজান দেয় এবং বিশেষ প্রয়োজনে বাড়িতে মিলাদ, খতম ইত্যাদি আচার করে থাকে, তাদের বিশেষ অসুবিধার কারণ হবে। বিচারের সময় এবঙ পরে দেখা যাবে বেশিরভাগ হুজুর পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলে যেতে শুরু করবে।
অর্থনৈতিক কারণ :
==>> বাংলাদেশ হুজুরমুক্ত হওয়া মানে দেশের এক তৃতীয়াংশ দরিদ্র মানুষের সংখ্য কমে আসা। তখন দেশে বিদেশী সাহায্য আসা কমে যাবে এবং সম্পদ লাভে প্রার্থনার জন্য মসজিদে আসা মুসল্লীর সংখ্যা কমে যাবে। এতে করে দেশের মসজিদ ব্যবসায় ধ্বস নামবে। সুতরাং রাষ্ট্র প্রচুর বৈদিশক মুদ্রা এবং হালাল চাঁদা থেকে বঞ্চিত হবে।
রাজনৈতিক কারণ :
==>> এমনিতেই দেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ছাড়া অন্য কোন শক্তিশালী রাজনৈতিক দল নেই। তার উপর ইসলামী দলগুলো হারিয়ে গেলে নাস্তিক্যবাদী দলগুলো লাইম লাইটে চলে আসবে। যার ফলে চীন কিংবা রাশিয়া বাংলাদেশ দখলের সম্ভাবনা ঘনিয়ে আসবে।
সাংস্কৃতিক কারণ :
==>> দেশের সংস্কৃতি বিশেষ স্থান দখল করে আছে ইসলামী সংস্কৃতি। যার অংশ হিসেবে আছে ওয়াজ মাহফিল। একে কেন্দ্র করে জীবীকা নির্বাহ করে হাজার হাজার জনগোষ্ঠী। এসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাদের কর্ম হারিয়ে ফেলবেন। কারণ ওয়াজের শিরোমনি আল্লামা সাঈদীর ফাঁসি হয়ে গেলে কিইবা আর থাকলো।
এতো গেলো মোটা দাগে সমষ্টিগত কিছু কারণ। কিন্তু আরো কিছু বিষয় আছে, যাতে নজর দেয়া খুব জরুরী। আমরা যদি দেখি তাদের বিচার কারা করছে- উত্তর আসবে আওয়ামী লীগ অধিষ্ঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিচার বিভাগ। আসলে এই সরকার কতটুকু যোগ্যতা রাখে এ ধরনের বিচার করতে? এটা একটা বড়ো প্রশ্ন।
দেশের শীর্ষ আলেমদের বিচার করার জন্য অবশ্যই ইসলামী সরকার প্রয়োজন। নইলে এ বিচারে বড়ো ধরনের পাপ হবার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং কোন ইসলাম সরকার প্রতিষ্ঠার পর এধরনের বিচারে হাত দেয়া উচিত। যেহেতু জামায়াতে ইসলামীই একমাত্র অগ্রগামী ইসলামী রাজনৈতি দল, সেহেতু তাদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া হৌক এবং তাদেরকে দিয়ে এ বিচার সম্পন্ন করা হোক।
একজন আওয়ামী ভক্ত হিসেবে এ প্রস্তাবনা রাখলাম। কারণ আমি চাই না আমার প্রিয় দল ইসলামী মতাদর্শের না হয়েও ইসলামের খলিফাদের বিচার করে কঠিন পাপের ভাগী হোক।
পোষ্ট শেষ।
আল্লাহ হাফেজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



