somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জগিং করা

১০ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুই-তিন দিন ধইরা স্বাস্থ্য সচেতন হইয়া গেছি। সকালে চন্দ্রিমা উদ্যানে যাই জগিং করতে। একলা যাইতে ভাল লাগেনা, তাই প্রতিদিন চেষ্টা করি কোন একজন ফ্রেন্ডরে জোগাড় করতে। প্রথম দিন যারে নিয়া গেছিলাম সে আজকে যাইবো না, সকালে ফোন করছি, সে কান্দে.........কয় 'দোস্ত আইজকা শইলডা ভাল লাগতাছেনা, আইতে পারুম না' । সকাল ৯টা পযর্ন্ত নাকি ওর শইল খারাপ থাকবো!! আমিও চালাক কম না, আগের দিন বুঝছি অর মতি গতি ভাল না, কয় খালি ঘুম পাইতাছে! তাই কাইল আমি আরেকজন ফ্রেন্ডরে পটাইয়া রাখছি জগিং করতে যাওনের লেগা ;) প্রথমে যাইতে চায় না; আমি কইলাম দেখ, এখন এই বয়সে তোমার ওজন ৯৫ থেকা ১০০ কেজিতে ওঠানামা করে, শরীর পুরা ঝুইল্যা গেছেগা। বেশি দেরি করা লাগবো না, ৩০-৩৫ বছর বয়স হইতে দাও, ওজনের লেগা এমনিতেই ডাইবেটিস আর কি কি অসুখ আছে অইগুলা বাজাইবা। তহন হেই বয়সে ভারী শরীল নিয় দৌড়াদৌড়ি করতে হইবো। আগে থেকা প্র্যাকটিস কর, কামে দিবো। এই ভাবে নানা ভয়-ভীতি দেখানো পর রাজি হইছে আইতে।

সকালে চন্দ্রিমা উদ্যানে বিরাট কারবার, লোকে লোকারণ্য! বাগানডা সাজাইছে সুন্দর কইরা, ঘুরাঘুরি করতে ভালই লাগে। কিন্তু মজার ঘটনা হইল বাগানের আশে পাশে তখন হেন জিনিষ নাই যে পাওয়া যায় না। ওইখানে বিভিন্ন বয়সের রোগীরাই বেশি হাটা হাটি করতে যায়, বিশেষ কইরা হার্টের রোগী, ডায়বেটিসের রোগী, প্রেসারের রোগী, অধিক ওজনের রোগী ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের কথা বিবেচনা করে সেখানে ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার, ওজন ইত্যাদি সবকিছুই মাপার সুবিধা আছে। যারা সকালে বাজারটাও এখনথিকা করতে চান হেগো লেগা লেকের কোনায় রাস্তার ওপর বসে ভ্রাম্যমাণ বাজার। শাক-সবজি, মাছ-দুধ কোন কিছুরই কমতি নাই। আমি ভাবছিলাম সাত সকালে উদ্যান একটু খালি থাকবো, কিসের কি, এত গমগমা অবস্থা দেইখা আমার টাসকি খাওনের অবস্থা।

যাইহোক, উদ্যানে গেছি জগিং করতে, সেইটার কথা বলি। লেকের ধার দিয়া, বাগানের ভিতর সবাই সমানে হাটা হাটি করতাছে। দৌড়াইতে কষ্ট লাগে বেশি, তাই লোকজন দৌড়ায় কম। জায়গায় জায়গায় অনেকে মাইক দিয়া একদল মানুষরে ব্যায়াম শিখাইতাছে - "এভাবে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বসে পড়ুন, এবার কোমর দুলাতে দুলাতে উঠে দাড়ান; হ্যা....এই ভাবে!"। এককোনায় কারাতে শিখায়, একসময় আমিও কারাতে শিখছি - তাই বুঝলাম এইহানে যে ব্যাডায় শিখায় হে একটা ভন্ড। হুদাই ড্রেস পরাইয়া কতগুলা পোলাপাইনরে লইয়া ফালাফালি করতাছে। খানিক্ষণ হাটাহাটির পর দোস্তরে কইলাম চল একটু ওয়ার্মআপ করি। দুইজনে সেইমত বাগানে খানিকক্ষণ লাফালাফি করলাম। তারপর ইচ্ছা হইলো দৌড় দিমু, যদিও বাসে উঠার সময় ছাড়া এম্নি অনেকদিন দৌড়াইনা। দোস্তে কয় তুমি দৌড়াও! আমি অরে আরো একদফা ছবক দিলাম। একজন ইয়া মোটা লোক গাছ ধইরা ঝুলতাছিল, আমি তারে দেখাইয়া কইলাম তোমার দশা ওনার মত হইবো। ধমক খাইয়া হে রাজি হইলো। ঠিক করলাম জিয়ার মাজারের চারপাশ এক চক্কর দিমু, আমি বাড়াইয়া কইতে চাইছিলাম - পরে মনে হইলো বেশি হইয়া যাইবো। দৌড় শুরুর পর আমি লম্বা লম্বা পা দিয়া মুহুর্তেই বেশ আগাইয়া গেলাম, হের পর দেহি দম শ্যাষ। তারপরও মান সম্মানে খাতিরে স্লো দৌড়াইতে লাগলাম। একটু পর দোস্ত দেহি আমার পাশে পাশে দৌড়াইতাছে। আধা আধি দৌড়ানে পর আর পারি না। কিন্তু আমার দোস্ত দৌড়াইতেছে এজন্য আমিও থামাইতে পারতাছি না। মনে মনে কই হালায় কি পুরাটুক দৌড়াইবো নাকি??! মনে বাসনা ও থাইমা যাক, হের পর আমি থামামু, অরে কিছু ছবকও দিমু, কিন্তু অর সে লক্ষণ দেখা গেল না। বাধ্য হইয়া আমারও পুরাটাই দৌড়াইতে হইলো :(
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:২২
১৬টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×