ইহা আমার শততম পোষ্ট............আমি ব্যাট হাতে ভার্চুয়াল গ্যালারির চারপাশে অভিবাদন জানাচ্ছি, সবাই তালিয়া মারেন
ব্যাস.......!! ঠিক আছে, অনেক তালি মেরেছেন....এবার থামেন............
অনেকদিন থেকেই ইচ্ছা করছিল একশত নম্বর পোষ্টটা লিখে ফেলি, মাগার কিসমত তথৈবচ.........গত কয়েক সপ্তা ধরে লেখার কিছুই মাথায় আসছিল না; মানে মাথা একে বারে ফকফকা হয়ে ছিল
কোরবান স্কুলে পড়ে। ক্লাসে তার পারফর্মেন্স খুবই ভাল। তবে একটা সমস্যা আছে। বাংলা ক্লাসে টিচার তাকে যে রচনাই লিখতে দিক না কেন সে কুমিরের রচনা লেখে। তার মনে হয় ঐ একটাই রচনা ভাল করে মুখস্ত করা আছে।
একদিনের ঘটনা, স্যার ক্লাসে গরুর রচনা লিখতে দিয়েছে। কোরবান লিখেছে:
'গরু একটি উপকারী প্রানী। গরুর দুটি পা, দুটি লেজ আর একটি কান আছে। ঘাস গরুর প্রধান খাদ্য। তাই বলে কেউ গরুকে ঘাস খাওয়াতে নদীর ধারে বেধে রাখবেন না, কেননা নদীতে কুমির আছে।
আর আমরা জানি কুমির একটি হিংস্র প্রানী। কুমিরের চারটি পা, একটি লেজ এবং মুখ ভর্তি ধারালো দাত আছে। সারা গায়ে কাটা কাটা কাটা কাটা.....' ইত্যাদি ইত্যাদি।
---------------------
যদি এইটুকুই ঘটনা হতো তাহলেও টিচার অতটা বিরক্ত হতেন না। কিন্তু আরেকদিন টিচার লিখতে দিয়েছে বাড়ির রচনা। কোরবান লিখলো:
' বাড়িতে আমরা মা-বাবা, ভাই-বোন নিয়ে বসবাস করি। বাড়ি আমাদের নিরাপদ আশ্রয়। তাই নদী-নালার ধারে বাড়ি বানানো উচিৎ নায়। কেননা নদীতে কুমির আছে।
আর আমরা জানি কুমির একটি হিংস্র প্রানী। কুমিরের চারটি পা, একটি লেজ এবং মুখ ভর্তি ধারালো দাত আছে। সারা গায়ে কাটা কাটা - কাটা কাটা.....' ইত্যাদি ইত্যাদি।
--------------------
নিত্য কোরবানের এহেন আচরনে টিচার খুবই ত্যাক্ত-বিরক্ত। তাই তিনি ঠিক করলেন কোরবানকে এমন একটি রচনা লিখতে দিবেন যেখানে সে কোনভাবেই কুমির প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসতে না পারে। সেইমত অনেক চিন্তা ভাবনা করে একদিন ক্লাসে তিনি রচনা লিখতে দিলেন। বিষয়: পলাশীর যুদ্ধ। কোরবান খুব সুন্দর হস্তাক্ষরে রচনা লিখে নিয়ে আসলো:
রচনা: পলাশীর যুদ্ধ
ভূমিকা: পলাশীর যুদ্ধ বাংলার ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এই যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী ইংরেজ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয় এবং বাংলা পরাধীন হয়ে পড়ে। বিশাল আকারের নবাব বাহিনীর জন্য এই যুদ্ধ জয় করা কোন ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরকে বিশ্বাস করে যেন খাল কেটে কুমির ডেকে আনলেন।
আর আমরা জানি কুমির একটি হিংস্র প্রানী। কুমিরের চারটি পা, একটি লেজ এবং মুখ ভর্তি ধারালো দাত আছে। সারা গায়ে কাটা কাটা কাটা কাটা.....' ইত্যাদি ইত্যাদি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



