প্রযুক্তির বাজারে এখন চলছে তুমুল বিকিকিনি। ২০০২-৩ থেকে এখন পর্যন্ত যতগুলো মোড় ঘোরানো টেকনলজী কম্পানী বাজারে এসেছিল, তাদের দেখে আইটি বুমের একটা আশা করেছিলাম। কিন্তু দুচার বছর না ঘুরতেই দেখলাম প্রায় সবাই ই বিকিয়ে গেল। গুগল তুলে নিল ব্লগার, রাইটলি, পিকাসা, অর্কুট আর ইউটিউব। ইয়াহু জলদি করল ফ্লিকার এক করে নিতে। ইবে খেয়ে নিল পেপ্যাল আর গামট্রিকে। আমাজন থাকতে দিল না এলেক্সাকে। আইটি বাবল বার্স্টের আধা যুগ পরে দেখছি ঘুরেফিরে সেই পরিচিত মুখগুলোই। বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে এপল আর নেক্সটটেকের গল্পটা। সেটা মনে হয় আরেকদিন শোনাব আপনাদেরকে।
এই তুমুল বিকিকিনির মধ্যেই চলছে চুপিচুপি গুপ্তহত্যা। বড়ো কম্পানীগুলো বিশাল টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছে আগের ছোট কোম্পানীর ইউজারবেস। আর দেখা যাচ্ছে টেকওভারের আগ পর্যন্ত তারা নিজেরাই সেই সার্ভিস দিচ্ছিল। তাই পয়সা ছিটিয়ে যখন ইউজারবেস আর টেকনলজী দুটোই চলে আসছে, তখন আর নিজের সার্ভিসের পিছনে পয়সা নষ্ট করার উৎসাহ আর ধরে রাখা মুশকিল। তাই ইউটিউব কিনে নিয়ে যখন ইন্টিগ্রেশনের কাজ প্রায় শেষের দিকে, তখন গুগল নিজের গুগল ভিডিওর পেইড কন্টেন্টের অংশটা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে দিল। আর গুগল ভিডিও যদিও টেকনলজী আর ব্যাবহারের সুবিধার দিক থেকে ইউটিউবের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল, কিন্তু ব্যাবহারকারী কম হবার কারণে তাকে এখন চুপিচুপি সরে পড়ে পিছনের সিটে বসে আংগুল চুষতে হচ্ছে।
একই ঘটনা গুগল আনসারস। গুগলের প্রশ্নোত্তরের অসাধারণ একটা সার্ভিস ছিল যেখানে ওজনদার প্রশ্ন করে মানুষ টাকা খরচ করে ভাল মানের গবেষণা করা জবাব পেত। কিন্তু ইয়াহুর প্রশ্নোত্তরের ঠেলায় (যেটা বিরক্তিকর রকমের বাজে) আর কাজ করবে না বলে ঘোষনা দিয়ে দিল। তবে আগের সাওয়াল জবাবগুলো এখনো দেখা যাবে।
ফ্লিকার এসে খুন করে দিল সেই প্রাচীন ইয়াহু ফটোজ সার্ভিসকে। এখন ফ্লিকার নাও নাহলে মর। মাঝে মধ্যেই স্ক্রীনের দিকে তাকালে নিজেকে বুড়ো বুড়ো মনে হয়। মনে হয় অনেক বেশী দেখে ফেলেছি পৃথিবীর। আর কত দেখব। চুপচাপ লিঙ্কটিতে ক্লিক করলাম। অনুরোধ করলাম করজোড়ে, মেরোনা আমায়, বাঁচতে দাও নতুন পৃথিবীতে। ইয়াহু ফটোর বদলে ফ্লিকারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


