টেমসপাড়ের লিপুজিন
১৩ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৯
ঢাকার নিবাসী নিজামুদ্দিন আউলিয়াকে সব্বাই হয়ত চিনেন না, নামও হয়ত শোনেননি অনেকেই। যদি বলা হয় বাংলাদেশী ইন্টার্ন্যাশনাল গাড়ী ডিজাইনার লিপু, তাহলে মনে হয় অনেকেই একনামে চিনে ফেলবেন এই জিনিয়াস গাড়ী ডিজাইনারকে। লিপুর সাথে নামে পরিচয় মনে হয় বহু আগের এক ইত্যাদির ফীচারের মাধ্যমে। তারপের মনেও নাই ভূলেও গেছি। কদিন আগে সচলে লিঙ্ক পেয়েছিলাম একটি প্রোগ্রামের যেখানে এক ব্রিটিশ সিনিয়র মেকানিকের সাথে একত্রে ঢাকা কার শোর জন্য লিপু দুটি গাড়ি ডিজাইন করে। বাংলা ব্যাঙ্গারস নামে দুই পর্বের এই অনুষ্ঠানটি ডিসকভারী চ্যানেল কভার করে।
ইউটিউবে ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলাম ঘটনা সেখান থেকে অনেকদূরই গড়িয়েছে। ডিসকভারী চ্যানেল লিপুর পার্ফরম্যান্স দেখে এতই চমৎকৃত হয়, যে তারা প্রস্তাব দেয় লিপুকে লন্ডনে চলে আসার, আর বার্নি ফাইনম্যান নামে সেই মেকানিককে প্রস্তাব দেয় তার চাকুরি থেকে অবসর নিয়ে লিপুর সাথে লন্ডনী কায়দায় গাড়ী মডিফিকেশনের গ্যারেজ খুলতে। তাদের দুজনি ঝুঁকিপূর্ন এই প্রস্তাবে রাজী হয়ে যায় আর তাতেই শুরু হয় ইতিহাসে ওয়ান এন্ড অনলি এংলো-বাংলাদেশী কার প্রোডাকশন কোম্পানী।
ইউটিউবে ঘেঁটে দেখলাম লন্ডন চপশপ নামের এই প্রোগ্রামটি পুরোটুকুই অনলাইনে দেখা যায়। তাই একদিন বসে সারাদিনে এগারো পর্ব দেখে শেষ করলাম। প্রতি পর্বেই তাদেরকে মিশন হিসেবে তিন হফতা টাইম দেয়া হয়, এর মধ্যে ভাঙ্গাচোরা কোন একটি গাড়ি কিনে সেটিকে মডিফাই করে সুপারকারে পরিনত করাই থাকে চ্যালেঞ্জ। কমৎকার কমেন্ট্রি আর ক্যামেরাওয়ার্কস। দেখে মজাই পাবেন।
তবে লন্ডনের সিরিজ দেখতে গিয়ে লিপুর গ্যারেজের লোকেশন বের করে ফেললাম। যদিও সরাসরি দেখায়নি ঠিকানা, তবে বেথনাল গ্রীন রেলস্টেশনের থেকে যে খুব বেশী দূরে হবেনা সেটি একটু দেখেই বুঝে ফেললাম। তাই একদিন সময় করেই চলে গেলাম ঘটনা সারেজমিনে দেখার জন্য। ট্রেন থেকে নেমে দু-চারটা গাড়ির গ্যারেজে খোঁজে নিতেই বের হয়ে গেল বসের আস্তানা। দেখলাম দ্বিতীয় সিজনের জন্য লিপু অলরেডী কাজ করছে। গ্যারেজের কর্মীদের মধ্যে দেখলাম কিছু পরিবর্তন হয়েছে। প্রথম পর্বে লিপুর ভাই দীপু উড়ে এসেছিল ভাইকে সাহায্যের জন্য, সে ফিরে গেছে দেশে। নতুন কিছু প্রোফেশনালরা এসেছে। আর প্রথম বছরে চ্যালেঞ্জ ছিল তিন সপ্তাহে নতুন গাড়ি বানানো, যেটি বাস্তবতার দিক থেকে প্রায় অসম্ভব কাজ। যদিও লিপুর টীম প্রতি বারই শেষ মিনিটে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে, তবুও কোয়ালিটি প্রোডাক্টের জন্য আরেকটু সময় লাগে। তাই এবছর প্রতি গাড়িতে দুমাসের মত সময় দেয়া হচ্ছে টীমকে। আমি যখন গেছি তখন তারা কাজ শেষ করেছে ডজ ভাইপার আর মুস্ট্যাঙ্গের হাইব্রিড একটা মডেলের ওপরে আর কাজ চলছিল ক্ল্যাসিক একটা রোভারের বডিওয়ার্কের ওপরে।
বাংলাদেশে নাকি ডিসকভারীতে প্রথম সিজন দেখাচ্ছে লন্ডন চপশপের। কেউ জানেন নাকি?
বাই দা ওয়ে, লিপুর গ্যারেজের কিছু স্পাইশট ব্লগের পাঠকদের সাথে শেয়ার করলাম।।
-------------------------------------------------------------
মুক্তিযুদ্ধের সংকলনটির লিঙ্ক বইমেলাতেও এখন
ফিরে দেখা একাত্তর
-------------------------------------------------------------
মেলবর্ন থেকে কিছু বংলাদেশের দোকানপাটের ছবি পেলাম। সবাইকে আমন্ত্রণ
মেলবর্নী বাংলাদেশ
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল, নেট কালেকশন বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: অফিশিয়াল সিরিজ অহনো রিলিজ হয় নাই, এখন স্পাইশট ছাড়া আর কি বলা যায়
আকাশচুরি বলেছেন:
ওয়াও!!!
মানবী বলেছেন:
জিনিয়াস লিপুকে নিয়ে "বাংলা ব্যাঙ্গারস্" প্রোগ্রামটি বেশ কয়েক বছর আগে দেখেছিলাম। অসাধারন প্রতিভা! সেসময় তিনি প্রবাসী হতে বার বার অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। দেশে তাঁর মতো প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব না হলেও দেশ ছাড়তে চাননি!গাড়ি নিয়ে ভাঙ্গা গড়ার চমৎকার সব খেলার সাথে সাথে লিপুর আরেকটি প্রতিভা আছে, তিনি যে কোন রকমের বাদ্য যন্ত্র বাজাতে জানেন কোন প্রকার পশিক্ষন ছাড়া। জীবনে প্রথম দেখা বাদ্য যন্ত্র কিছুক্ষন পর্যবেক্ষন করে অনায়াসে তাতে সুর তুলতে জানেন!!! যেটুকু মনে পড়ে, বেশ ভালো গান জানেন তিনি!
অসামান্য প্রতিভাধর বাংলাদেশি লিপু সম্পর্কে পোস্টের জন্য ধন্যবাদ ফরিদ।
লেখক বলেছেন: আরো অজানা তথ্য শেয়ার করায় আপনাকেও ধন্যবাদ
ফরিদ বলেছেন:
লিপুর আন্তর্জাতিক এক্সপোজার এবং একই সাথে বাংলাদেশ ত্যাগে আমি ব্যাক্তিগতভাবে অত্যান্ত খুশি হয়েছি। প্রথমত এমন বেশকিছু শিল্প বা ক্ষেত্র আছে যেখানে সংশ্লিষ্ট স্থানে না গেলে আপনার এক কথায় ফিউচার লিমিটেড। সেদিক থেকে লন্ডন বাংলাদেশের গ্যারেজের তুলনায় আইডিয়া ব্রিডিং গ্রাউন্ড। লিপুর ডিজাইন তার মহাখালীর গ্যারেজ থেকে এস্টিন মার্টিনের প্রোডাকশন লাইনে যাবার যতটুকু সম্ভাবনা ছিল এখন তার তুলনায় আমি বলব পঞ্চাশ গুণ বেশী।
মানবী বলেছেন:
"লিপুর আন্তর্জাতিক এক্সপোজার এবং একই সাথে বাংলাদেশ ত্যাগে আমি ব্যাক্তিগতভাবে অত্যান্ত খুশি হয়েছি।"- লিপুর আন্তর্জাতিক এক্সপোজারে শুধু খুশি নই, আমি অত্যন্ত গর্বিত একজন বাংলাদেশী হিসেবে।
তাঁর বাংলাদেশ ত্যাগে আনন্দিত তবে তা কিছুটা মনখারাপ মাখা! এমন একজন প্রতিভার মূল্যায়ন কেন আমরা করতে পারিনা! বিভিন্ন কারনে হয়তো এই অপারগতা যুক্তিপূর্ণ তারপর ও চেষ্টা তো করা যেতো!
লিপুর মতো প্রতিভা বিরল, এবং এই অসাধারন প্রতিভাবান ব্যক্তিটি বিভিন্ন প্রলোভন সত্ত্বেও যেভাবে দেশের মাটি আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন তা সত্যি বিস্ময়কর!!!
ফরিদ বলেছেন:
আরেকটি বিষয় হল, লিপুর লন্ডনের যেই ক্রিয়েটিভ গ্যারেজ এটির আধা মালিকানা লিপুর। তাই আমি মনে করি মাল্টি বিলিয়ন ডলার কোম্পানীর পাতি কর্মচারী হবার চেয়ে এখন লিপুর অবস্থান অনেক সম্মানজনক। স্যার লিপুর মেজাজ উঠলে যেরকমভাবে ইংরেজ আর পোলিশ কর্মচারীদের তুলোধুনো করে সেটা একটা বিরাট দেখার জিনিষ
আরিফুর রহমান বলেছেন:
সুইট!!


















