somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাচীনকালে আমার মা রুটি বানাইতেন

১১ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকালকার দিনে বেড়ানোর মানুষজন কমে যাচ্ছে। আগেকারদিনের প্রধান বিনেদোনগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বেড়াতে যাওয়া, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব আরো চেনাজানা কলিগ সবকিছু তো ছিলই। আজকালকার ব্যাস্ত নাগরিক জীবনে বেড়ানোর ঝোঁক মনে হয় আগের চেয়ে কিছু কমেই গেছে। কিন্তু তারপরেও একেবারেই মনে হয় উঠে যায়নি। বেড়ানোর সাথের আবশ্যিক অংশ হল নাশতা। এই একই টপিকে সুগৃহিনীদের স্বর্গসুখ আর কাঁচা গৃহিনীদের দূঃস্বপ্ন। পিচ্চিকালে দেখা যেত যেই বাসার নাশতা মজা সেই বাসাতেই বারবার যাবার ব্যাপারে আমাদের বিশেষ আগ্রহ ছিল, আর যেসব বাসায়র রান্না মুখে দিয়ে কোনরকম মুখ সোজা রেখে কোঁত করে গিলে, 'ভাবীর হাতের রান্না তো অসাধারণ' ধরণের কমেন্ট করতে হয়, সেসব বাড়িতে বেড়ানোর ব্যাপারে ছোটরা কেন বড়দেরও স্পষ্ট অনাগ্রহ টের পেতাম।

প্রসঙ্গ এইজন্য টানলাম, যে কিছুদিন আগ পর্যন্তও আমরা মোটামুটি আত্মনির্ভরশীল প্রজন্ম হিসেবে ছিলাম। মতলব ডোমেস্টিক নিডস এর একটা বড় অংশ দেখা যেত বাসা থেকেই পূরণ করার মত ট্রেনিং ছিল। নানা এক ধাক্কায় আধমনি মাছ নিয়ে আসলেও সেটা নানুই কুটে ফেলতে পারতেন। হলুদ মরিচ বাসার পাটাতেই নিয়মিত গুঁড়ো হত। আর বাসার পর্দা আর বালিশের কভার মা-ই সেলাই করতেন।

আমার প্রজন্মের দিকে তাকালে ভয়াবহ রকমের অপদার্থ মনে হয়। এই ধারাটি প্রথমে মনে হয় শুরু হয়েছিল গুঁড়ো মশলা দিয়ে। গৃহিনীদের আর হলুদ শুকিয়ে, পাটায় গুঁড়ো করে রাঁধতে হবেনা, এখন মশলাই গুঁড়ো হিসেবে পাওয়া যাবে। এখন পাটায় মশলা গুঁড়ো করা প্রায় প্রাচীন টেকনোলজী হয়ে গেছে। আমি শুনেছি, সেই ষাটের দশকে নানু সেই মাটির চুলোয় মহা টেকনিক করে পাউরুটি বানাতেন ইস্ট আর বেকিং পাউডার দিয়ে। এখন বাসায় পাউরুটির কথা বললে যেকোন গৃহিনী উলটে পড়ে যাবে। সোজা হিসেব, পাউরুটি তো বেকারী থেকে আসবে সেটি আবার বাসায় কি?

কয়েক বছর আগে মনে হয় বাংলাদেশে আসল রেডিমেট পরোটা। শুরুর দিকে "মালেশিয়ান রুটি পরোটা" নাম দিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল, আজকাল মনে হয় দেশেই একগাদা প্রোডাকশন শুরু হয়ে গেছে। লন্ডনে দেখলাম আমাদের সামনেই রেডিমেড চপ কাটলেটের পাশাপাশি সিঙ্গাড়া, সমুচা আরো মেলা জিনিষ বাজারে এসে বাজার ভরিয়ে ফেলল। এখন যেই বাসাতেই বেড়াতে যাই, সেখানেই একই জিনিষ। ভাবে বোঝা গেছে পরোটা বানানোর স্কিল আর হোমমেড সিঙ্গারা সমুচা অতিদ্রুত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কারণ বেশিরভাবগ সময়েই যখনই কোন জিনিষকে কমার্শিয়ালাইজ করে ফেলা হয়, তখনি কমার্শিয়াল এফিশিয়েন্সির কাছে ডোমেস্টিক প্রোসেস মার খেয়ে যায়।

কদিন আগেই পড়ছিলাম, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে বেশীর থেকে বেশী আমেরিকান পরিবার সম্পুর্ণ রেডিমেড খাবার আর ফাস্টফুডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। (কারণগুলো আমাদের জন্যও একটু ভাবার কারণ আমরা তেনাদেরই কপি করি কিনা)। প্রথমত ফাস্টফুডের কোম্পানীগুলো এতই এফশিয়েন্ট হয়ে উঠেছে, যে যেই খাবার রেডিমেড বা বাইরে তৈরি পাওয়া যায় বিশ ডলারে সেটির জন্য তিন দোকান ঘুরে বাজারসদাই করে, তারপরে দুইঘন্টা ধরে রান্না করার পরে হিসাবে তার চেয়ে খর্চা বেশীই পড়ে। দ্বিতীয়তঃ অনেক পরিবারেরই গৃহিনী বলতে আমরা যা বুঝি তার গঠনটা আর নেই, স্কুল কলেজ পড়াশোনা, সেই সাথে বাড়ি থেকে ফরেভার আউট আর সেখান থেকেই সঙ্গী-সঙ্গীনি জুটিয়ে নিয়ে জীবন ফলে সংসারের ট্রেনিং অনেক সময়েই নেয়া হয়না, আর সবাই কাজ করছে মানেই হল সবারই কামাই আর খর্চা করার স্বাধীনতা। তৃতীয়তঃ আলসেমী তো আছেই।

বাইরের রেডী খাবার মানেই মুনাফার উদ্দেশ্যে তৈরি আর মূনাফার জন্য বাজারের আরো দশ ব্র্যান্ডের সাথে মারপিট আর স্বাদ বাড়ানোর চিরন্তন সহজ বুদ্ধি হল ক্যালোরী আর ফ্যাট বাড়ানো। এই স্লো টিকিং টাইমবোম্বের চেয়ে বড় বিভীষিকা আমেরিকার জন্য (ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য আর আজকালকার এশিয়ার সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোও খুব পিছিয়ে নেই)। আজকালকার 'সন্ত্রাসী'দের ঘটে আরেকটু বুদ্ধি থাকলে আমেরিকার সাথে যুদ্ধমুদ্ধ না করে একটু অপেক্ষা করলেই পারে। কারণ যেহারে গোলালু হচ্ছে পুরো দেশ, বেলুনের মত ফেটে পড়তে খুব বেশী বাকি নাই বুঝি।

ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না পাটা আর বেলনী কি আমাদের চোখের সামনেই জাদুঘরে চলে যাবে কিনা। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে আমি বলব আমাদের প্রজন্মের কাছে টিকে যাবার হালকা সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।


[লেখা শুরু করেছিলাম কি যেন বিষয় নিয়ে, এইটা যে ক্যামনে মোটকা এমেরিকান দিয়ে শেষ হল বুঝলাম না। স্যরি :(]
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৭:৫৭
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×