somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ও ভাইডু! চার্চের ঠিকানাটা দ্যান, মসজিদ বানামু B-) B-) B-)

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কয়দিন আগে মশকরা করে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম রোজার মাসে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকারের প্রতি সম্মান, সহিষ্ণুতা ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় স্থাপনা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপরে। বেশ অনেকেই যথেষ্ট সহনুভূতিশীল কমেন্ট করেছিলেন এর ওপরে। তাই ভাবলাম বাস্তবতার নিরিখে আর বিপরীত দিক থেকে বিষয়টি দেখা গেলে কেমন হয়।

বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তাই সেটি মাথায় রেখেই দুটি ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিত নিজের ব্যাক্তিগত আইডিয়ার দিক থেকে দেখলে কেমন হয়। প্রথমত, মুসলিম দেশে অমুসলিম স্থাপনার নির্মাণ। এইখানে আমি একটু কনফিউজড হয়ে যাই। হিন্দু ধর্মের বর্তমান রূপে মন্দিরের রিচুয়ালগুলোর কোন স্ট্যান্ডার্ড আর ইউনিভার্সাল কোন ফর্ম্যাট আছে কিনা আমার জানা নেই। এক আছে বিভিন্ন পার্বণে বড়ধরণের পূজোগুলো আর আছে দৈনন্দিন পূজাপাঠ। সেখানেও অনেক কিছুই আবার পূরোহিত আর ব্রাহ্মণদের উপস্থিতি আর কর্মকান্ডের ওপরে সীমাবদ্ধ। তাই নিজের মনেই ভাবছিলাম, মনে করি ধানমন্ডী লেকের সেই 'শেরখাজা'র লেকখেকো বাদশাহী প্যালেসকে যদি মন্দিরে রূপান্তরিত করা হয়, তাহলে কারা হবে তার পূজারী, কারা হবে নিয়মিত দর্শনার্থী আর কারা উপকৃত হবে সেখান থেকে। কারণ যেখানে নির্দিষ্ট জনগোষ্টীর যথেষ্ট পরিমাণে আবাস থাকেনা সেখানে নতুন ভিন্নধর্মীয় স্থাপনা তেমন একট সফল হয়না। দুটি ভিন্ন কারণে এই ট্রেন্ড আমি আগানোর কারণ দেখিনা, প্রথমত দিন বদলের সাথে সমপেশার একত্রে বসবাস করার প্রবণতা দিন দিন কমতে থাকবে। ফলে আগের মত, কুমোরপাড়া বা ঘোষপাড়া নতুক করে হবেনা আর যেগুলো আছে সেগুলোও দিনে দিনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে থাকবে আর বিচ্ছিন্ন হলে যাবার যায়গা একটিই সেটি হল কোন মুসলিম মেজরিটি এলাকায় বসবাস করা। ফলে নো চান্স ফর নিউ মন্দির। আর দ্বিতীয় পরিস্থিতি হল, যখন নতুন বসতিগুলো স্থাপন হয়, যেমন বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পগুলো, সেখানে দিব্যি এক দুটো মসজিদের প্রভিশন রাখা হয়, একই চিত্র ঢাকার নতুন স্কাইস্ক্র্যাপারগুলোর, সেখানেও মন্দিরের চান্স সামান্যই। কারণ যেখানে ধর্মীয় স্থাপনার জন্য একটিই প্লট বা একটা ফ্লোর বরাদ্দ সেখানে মেজরিটির কথাই শোনা হবে। একই সাথে যেমন আগের পোস্টে বলেছিলাম, ধীরে ধীরে পৌরণিক সনাতন ধর্মের বিশুদ্ধ অন্তঃপ্রাণ অনুসারীর সংখ্যা কমছেই। একই অবশা বৌদ্ধ, খ্রীষ্টীয় আর অন্যান্য উপজাতীয় ধর্মের ক্ষেত্রেও। শুধু চার্চের ক্ষেত্রে বলব টাকার জোরে অনেক কিছুই হয়। বাকিটা জনগণ বুঝে নেবেন।

এইবারে আসল প্রসঙ্গে আসি। আমরা যারা ঠনঠনে পকেটে সাত সমুদ্দর তের নদী পার হই, তাদের গল্পটাও শোনা দরকার। এক্ষণ নিজের তরফ থেকে বিলাতী গল্পটা শোনানো যেতে পারে। এই সাহেব সুবোদের দেশে এখনো সত্তর ভাগের ওপর মানুষজন নিজেরে খ্রীষ্টীয় বলে চিহ্নিত করে থাকেন। মাগার হফতায় একদিন চার্চে যাওয়া মত ডেডিকেটেড ভক্তের সংখ্যা দিনদিন কমেই যাচ্ছে। সর্বোচ্চ ১০% থেকে শুরু করে ২-৩% পর্যন্ত এলাকাভেদে সপ্তাহে এক আধবার চার্চে বেড়াতে যান। লন্ডনে সংখ্যাটা মনে হয় ৬%। এখন তামাশা হল, জাম্বু সাইজের চার্চগুলো বাঁচিয়ে রাখতে, একটু ঝেড়েপূঁছে, তেলপানি দিয়ে রাখতে যেই পয়সাটা লাগে সেটা বিশজনে একজনের ক্যাযুয়াল ভিজিটে ওঠে না। আর যা পয়সা ওঠে তারও একটা বড় অংশ চলে যায় আফ্রিকা আর এশিয়ার অন্ধকারে বসবাসকারীদের সত্যের আলো দেখাতে। ফলাফল যা হবার তাইই। একটার পরে একটা চার্চ বন্ধ হয়ে যায়। অথবা চার্চ থেকে বিক্রী হয়ে কমিউনিটি সেন্টার, দোকানপাট অথবা কনসার্ট হলে কনভার্ট হয়ে যায়। আর যেগুলো টিকে থাকে সেগুলোরও বেশীরভাগই টিমটিমিয়ে শেষ নিঃশ্বাসের অপেক্ষা করে। শুধু আমার অভিজ্ঞতায়, কালোদের এলাকার চার্চগুলো বেশ জমজমাট হয়, তবে হেলেল্লুইয়া আর কোয়ার প্র্যাক্টিসের মাঝখানে কদ্দুর স্পিরিচুয়ালিটি আছে বুইঝা পারিনা।

তবে বিলেতের জমজমাট ফেইথগ্রুপ হইল মুস্লিম। সারা দুনিয়া থিকা ফাঁকফোকর দিয়া যা মানুষজন ঢুইকা পড়ে তার মেজরিটি হইল মুসলিম। আর বেশিরভাগই আইসা দেখে এই দেশে টিকা থাকবার লাইগা হয় এক্কারে য্যাসা দেশ এয়সা ভেস মতলব ফুল সাহেব হওন লাগব আর নাইলে সেইটারে ফুল ফাইট দেওন লাগব। তাই সাধারণ চায়েস হিসেবে রিলিজিওন এডপ্টেশনের রেট অনেক। আর দেখা যায়, বাপ মায়ে এইদেশী জেনারেশনরে নিয়া আরো বেশী চিন্তিত। পোলায় যেন আঠারো হইলেই বাই ড্যাডি আইয়্যাম গোইং অথবা হাই ড্যাডি মিট মাই গার্লফ্রেন্ড, দিস ইজ লুসি শুনতে না হয় তাই পিচ্চি থাকতেই হাই পাওয়ারের রিলিজিয়াস ট্যাবলেট গেলানো শুরু করে। ফলে দেখা যায়, বাপে নিজের টাইমে সিগ্রেট নিয়া লেডিস কলেজের সামনে হাঁটাহাঁটির রেকর্ড থাকলেও পুলাপাইনরে দিবি সাইজ কইরা ফেলে। ফলে ষাটের দশকে লন্ডনে গোটা দশেক মসজিদ থাকলেও এই কদিনে এখন মনে হয় শ-পাঁচেক ছাড়িয়ে গেছে। প্লাস প্রতি দু-তিন মাস পরে পরেই পিচ্চিপাচ্চি নতুন মসজিদ আর জামাতখানার খবর পাওয়া যায়। মানুষজন যথেষ্ট কষ্ট করে, পয়সা জমিয়ে, একে অন্যের সাথে উৎসাহিত করে, কখনো নিজের বাড়ি বা দোকানই ছেড়ে দিয়ে মসজিদের ব্যাবস্থা করে।

খুব কম মসজিদই আছে যেগুলো বানানোই হয়েছে মসজিদের কথা চিন্তা করে। বেশীরভাগই রেসিডেনশিয়াল বাড়ি, অথবা দোকান অথবা কোন ফ্যাক্টরি অথবা ওয়ারহাউজকে কিনে নিয়ে সেটিকে সাজিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে সাহেবের দেশে আরেক ভেজাল হল, মসজিদ কেনার চেয়ে অনেক মুশকিল হল মসজিদের জন্য পারমিশন বের করা। বিষয়টি জটীল এবং অনেক সময়েই প্রচন্ড টাইম কনজিউমিং। আর কোন এলাকায় মসজিদ বানানোর জন্য অনুমতি চাইলেই সরকারের পক্ষ থেকে এলাকায় সার্ভে করা হয়। আর আশপাশের সব বাসা আর দোকানে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়, যে তোমাদের এলাকায় একটি মসজিদ স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে, তোমাদের মতামত কি? স্বভাবতই, অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় জবাব আসে, আমাদের মসজিদের খুব একটা দরকার নেই। তখন কাউন্সিল জানিয়ে দেয়, দেখো বাবারা তোমরা চাইছ এলাকায় মসজিদ বসাতে, কিন্তুক এলাকার লোকজনের মসজিদের খুব একটা দরকার নাই, তাই তোমরা রাস্তা মাপো। এই এক সার্ভেতে সব প্ল্যান প্রোগ্রাম, টাকা জমানো, সব বাতিল।

এখন মজা হল, কোন স্থাপনা যদি আগে থেকেই উপাসনার স্থান হিসেবে চিহ্নিত থাকে, সেখানে কোন ধর্মাবলম্বীরা উপাসনা করবে সেটি ঠিক করা জরুরী নয়। তাই আমাদের জন্য মসজিদ হিসেবে চার্চের চেয়ে ভাল কোন চয়েস নাই। একই বিল্ডিং আগে এখানে খ্রীষ্টীয় উপাসনা হত, এখন সেখানে মুস্লিম উপাসনা হয়, সরকারের মাথা গলানোর অধিকার নেই। তাই কোন চার্চের শেষ বাতি জ্বললেই দেখা যায় সেটার দাম দস্তুর নিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু হয়ে গেছে। আর মজার ট্র্যাজেডী হল, যখন কোন স্থাপনা উপাসনার জন্য চিহ্নিত হয়, সেখানে আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা সহজ নয়। ফলে হয় চার্চের তালা ঝুলায়ে রাখ, অথবা অন্য গ্রুপের কাউরে যেই দাম দেয় সেই দামে দিয়া দাও। ফলে চার্চগুলো দাঁতে দাঁত কষে, গরগর করে মাগার আমরা মহানন্দে মসজিদ বানায়ে আল্লাবিল্লা করি।

আশেপাশে কোন চার্চ আছে নাকি? লালবাতি জ্বলে এখন ভূতের বাসা হয়ে আছে? সিস্টেম কইরা মসজিদ বানায়ে লন। ইট ওয়ার্ক্স!
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×