এইবারে দেশে গিয়েই দেখি আলাদিনের চেরাগের যাদুতে মুশকিল আসান। মতলব,ঠিক আলাদিন না, চিঙ্কি ঝিং লিং বা এইরকম কারো যাদুতে। ঘরে ঘরে সবখানেই দেখলাম সাদা এলইডির লাইটের ছড়াছড়ি। আর বাংলাদেশের মত যায়গার প্রেক্ষিতে মনে হল এর চেয়ে চমৎকার টেকনলজি হওয়া মুশকিল।
LED এলইডি বা লাইট এমিটিং ডায়োডের সাথে আমাদের পরিচয় অনেক দিন ধরেই। ছোটখাটো কাজের জন্য কম পাওয়ারের সূচক আলো হিসেবে অনে দিন ধরেই ব্যাবহার হচ্ছে। কম উদাহরণ হল, আমাদের কম্পিউটারের পাওয়ার আর হার্ডডিস্কের ইউজ দেখানোর জন্য যে ছোটখাটো লাল আর হলুদ বাতি জ্বলে ওঠে সেগুলো এলইডি। কিন্তু মূলত এরকম লাল, হলুদ বা ভিন্নরঙ্গা বাতিরই ছড়াছড়ি ছিল খুব অল্পদিন আগে পর্যন্ত।
প্রায় বছর তিনচার আগে একদিন পড়ছিলাম যে বিজ্ঞানীরা সাফল্যের সাথে বাণিজ্যিকভাবে চলার মত শূভ্র আলোর এলইডি তৈরি করেছেন। আর সেটাকে বেশ হৈচৈ নিয়ে লেখা হচ্ছিল আর ভাব দেখে মনে হচ্ছিল সেই এলিডি দিয়েই সারা দুনিয়ার সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা যাবে। সেই সময় তেমন একটা বড়ো কিছু মনে হয়নি। আর সাধারণত টেকনলজী আবিষ্কারের পর হাতে আসতে বেশ একটা লম্বা সময়ই লাগে। যেমন 'নেক্সট জেনারেশন' আইপি সিস্টেম IPv6 ডিজাইন করা হয়েছে ১৯৯২ সালে! কিন্তু এখনো সেটার রেগুলার ইউজ শুরু হয়নি। তাই আমিও আইডিয়া করেছিলাম 'সাদা এলিডি' দেখতে দেখতে রিটায়ারের বয়স হয়ে যাবে।
খুব অবাক হয়ে দেখলাম, চিঙ্কি ভাইদের কল্যাণে সম্পুর্ণ ঢাকা শহর সাদা এলইডি দিয়ে কমাসেই দিব্যি ছেয়ে গেছে। সব বাড়িতেই কমবেশী এলইডির লাইট চলে এসেছে। ছোটখাটো রিচার্জেবেল টর্চ, তাতে পিচ্চি একগাদা এলইডির লাইট থাকে আর থাকে সম্ভবত মাঝারিগোছের একটা লিথিয়াম ব্যাটারী আর চার্জিং ইউনিট। ব্যাস, টর্চ বা চার্জলাইট হিসেবে ব্যাবহার কর, চার্জ শেষ হয়ে গেলে আবার চার্জ করে নাও।দামেও শস্তা, আলোও ভাল। আমার মনে হল, প্রতিবছর কেরসিন আর মোমবাতিজনিত দূর্ঘটনা, খরচ আর বারবার কেনার ঝামেলা থেকে ঢাকাবাসীর যা খরচ হয়, সেটি হিসেব করলে প্রতিমাসেই এই বাতিগুলো কয়েক কোটি টাকার সাশ্রয় করে দিচ্ছে।
এলইডি, ফ্লুরোসেন্ট আর নরমাল লাইটবাল্বের মাঝেখানের কম্পারিজন আর কাজিয়া নিয়ে আর তেনা পেচাইলামনা, কারো আগ্রহ থাকলে গুগল ভাইরে জিগাইলেই হইব। তবে আম্রিকার ডোমেস্টিক এনার্জি কনজাম্পশনের বড়ো অংশ যায় লাইটিং, তারপরে হিটিং/কুলিং তারপরে মনে হয় গ্যাজেট। তাই লাইটিং এ ১% এনার্জি ইম্প্রুভমেন্ট করতে পারলেও দেখা যায় কোটী টাকার বেপার।
ছবিঃ শাপলার মোড়ের ফুটপাথে নয়া টেকনলজী
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


