যাদের কম্পিউটার আছে তারা মোটামুটি ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যাবহার করেন, যারা কিঞ্চিত আঁতেল তারা ফায়ারফক্স নিয়ে ঘাঁটেন, আর যারা রীতিমত তারছিড়া তারা সাফারি আর অপেরা নিয়ে দিনযাপন করেন। এই তারছিড়াদের জন্য কদিন আগেই গুগল বের করল গুগল ক্রোম নামের নতুন ব্রাউজারটি। ক্রোম বের হবার সাথে সাথেই ব্লগে পোস্টের ঝড় বয়ে গেছিল। এই দুদিন আগে বেটা থেকে বেটার হয়ে অফিশিয়াল রিলিজ বের হল ক্রোমের। মাঝখানের সময় ? ঠিক ১০০ দিন। তার মাঝে আপডেট? ১৫ বার। ফায়ারফক্সও লজ্জা পাবে ডেভেলাপমেন্ট স্পীডের কাছে, আর পুরোটাই পর্দার আড়ালে কোন বিরক্তিকর ইয়েস নো নাই।
মজার তথ্যঃ ক্রোম বেটা রিজিজের প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ইউজারবেসের প্রায় ১% দখল করে ফেলে ক্রোম। আইই বা ফক্সের জন্য রীতিমত ভীতিকর একটি সংখ্যা আর অপেরা আর সাফারির জন্য স্বপ্ন। অনেকেই মনে করেছিলেন এই এলোরে এই দখল করে ফেললরে। কিন্তু সপ্তাহ আর মাস ঘুরতেই সেই সংখ্যাটি বেশ নিচে নেমে আসে। কারণ যেই প্রত্যাশা নিয়ে সবাই ক্রোমে হাত দিয়েছিল তা পূরণ করতে ব্যার্থ হয় এই নতুন গুগলশিশু।
বেটা থাকা অবস্থাতেই সপ্তাহদুয়েক আগে আবার নামিয়েছিলাম ক্রোম। মূল যেখানে কমতি মনে হল, তা হল প্লাগইন প্ল্যাটফর্মের অভাব। প্লাগইনের কাসুন্দি ঘাঁটলে চলে যেতে হবে গুগল টুলবারের দিকে। ঠিক এখন না, এখনকার ব্যাবহারকারীদের অনেকেই তখনো অফলাইনে, সেই দুহাজার সালের শেষের দিকে টুলবার বের করে গুগল । কি ছিল তাতে? প্রথমত, আমার মনে আছে পপআপ ব্লকার (তখনো গুগল পাব্লিক হয়নি, আর এডসেন্স আবিষ্কার করেনি)। বিরক্তিকর পপআপ এলেই টিক করে শব্দ করে টুলবার আটকে দিত আর কাউন্টার বাড়ত। কার মেশিন কদ্দিনের পুরনো সেটাপ আমরা বুঝতাম তার পপআপ কাউন্ট দেখে। আর ছিল সার্চ ইঞ্জিনে না গিয়েই টুলবার থেকে সরাসরি সার্চ মোটামুটি এইই। আর এতেই কোটি ব্যাবহারকারীর ব্রাউজারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ে গুগল। (কারো মনে পড়ে? পুরো এক বছর ইয়াহুর সার্চ ইঞ্জিন ছিল গুগল ? সেই পয়সা দিয়েই নিজেরা মিনি সার্চ টেকনোলজী থেকে একলাফে মাঝারী গোছের মহীরূহে পরিণত হয়)। সেখান থেকে ইয়াহু আর মাইক্রোসফট থেকে শুরু করে প্রায় সব টেক কোম্পানীই তাদের ব্রাউজার এক্সটেনশন শুরু করে। আর মোজিলার ওপেন কোডকে ব্যাবহার করে রীতিমত টুলবার সহ ফায়ারফক্স নামানোর জন্য পয়সা দেয়া শুরু করে গুগল। আর ফায়ারফক্সের জনপ্রিয়তারও একটি মূল চালিকা হল হ্যান কাজ নেই যার জন্য ফায়ারফক্সের দুচারটা প্লাগিন নেই। কিন্তু এদ্দিন বেটা থাকার অবস্থায় ক্রোমের কোন প্লাগইন এর সুযোগ ছিলনা।
এখনকার ক্রোমের ফীচারলিস্টের দিকে তাকালে আমি বলব গুডসাইডে হল ফাঁকা ইন্টারফেস, বেশ ফাস্ট রেন্ডারিং, প্রতিটি ট্যাবকে আলাদা প্রসেস হিসেবে ধরা তাতে একটা ট্যাব ধরা খেলে বাকিগুলো টিকে থাকে, আর ফ্লিপসাইডে আছে, ফাঁকা ইন্টারফেস ফলে অনেক কিছুই নাই, প্লাগইনের অভাব, প্রতি প্রসেস নিজস্ব থ্রেডে রান করে ফলে ম্যালা মেমোরি খায় আর সব সাইট এখনো চেনেনা ক্রোমরে ফলে অপেরার মত আনসাপোর্টেড ব্রাউজারের ক্যাচাল, ইউনিকোড বাংলায় এখনো পার্ফেক্ট না।
গুগলের ক্রোম পুরোটাই ওপেন সোর্স প্রোজেক্ট হিসেবে ডেভেলাপমেন্ট চলছে। ফলে বাগগুলোও চটজলদি ধরা পড়ছে। ফায়ারফক্সের এখনকার জনপ্রিয়তা আর টেক ডেভেলাপমেন্টে গুগলের ইঞ্জিনিয়ারদের ম্যালা কন্ট্রিবিউশন আছে। তাই এবার পুরো লড়াইটাই গুগল এখন নিজের মাঠে নিয়ে আসতে চায়। কারণ অন্য সবার আগেই গুগল জানে, যে নেক্সট প্ল্যাটফর্ম কোন অপারেটিং সিস্টেম না বলে কোন ব্রাউজার বলাই ভাল, কারণ, নেটকানেক্টেড জেনারেশনের প্রায় সব অপারেশনই চলে ওভার দি ব্রাউজার। ডেস্কটপ এপ্লিকেশন আর নেট ইউটিলিটির মাঝখানের পার্থক্যটুকু খুব জলদি হারিয়ে যাচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং এর যুগে। তাই ব্রাউজার যার ইউজার তার আর ব্রাউজার মানেই সার্চ আর সার্চ মানেই পয়সা। সহজ ফর্মুলা, গ্যারান্টীড সাকসেস।
সম্পূর্ণ ব্রাউজার দিয়েই অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে চলে তার একটি ছোট উদাহরণ এখানে। প্রসঙ্গত এখানের ব্যাবহৃত ব্রাউজার ক্রোম।
http://www.thinkgos.com/
গুগলের ওপেন স্টেটমেন্ট যা ছিল যে, আমরা ওপেন সোর্স প্রজেক্ট, তাই আমরা আশা করব সকলে এতে অংশগ্রহণ করবে আর এই প্রোজেক্টের ফলে যে নতুন প্রযুক্তিগুলো তৈরি হবে তা ধীরে ধীরে অন্য ব্রাউজারগুলোও ব্যাবহার করবে। এক কথায় তালগাছ যারই হোক, আইন আমার। তবে আশা করছি একজন ব্যাবহারকারী হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতা খারাপ হবেনা।
ক্রোম, যার কম্প্যাটিবিলিটি আর ডিফল্ট ওএস বেজ এখনো ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ধারে কাছেও না, যার প্লাগইনের চয়েস বলতে কিছুই নেই ফায়ারফক্সের তুলনায় আর এসিড টেস্ট আর পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট এখনো অপেরার চেয়ে অনেক পিছিয়ে, আর সাফারির মত যার নিজস্ব ডিফল্ট ওএস নেই, তারপরেও আমি নতুন এই ব্রাউজারের আগমনকে স্বাগতমই জানাচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুতই ফাংশনাল ফীচার রিচ ব্রাউজারে পরিণত হবে গুগলের ক্রোম। তাই ক্রোমিয়াম অরণ্যে প্লাগইনের ফুল ফোটার অপেক্ষায় আছি পথ চেয়ে।
[কার্টুনের থীমটা বেশ মনে ধরেছে, যেই বেসিক রঙগুলোকে মাইক্রোসফট ব্যাবহার করে উইন্ডোজ এর লোগোর জন্য সেগুলোকেই চ্যিঁড়েচ্যাপ্টা করে ক্রোম]
ক্রোমিয়াম অরণ্যে প্লাগইন ফুলের অপেক্ষায়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।